টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স

ঢাকা শহরে পথচলতি নিরাপত্তা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রতিকার গাইড
চুরি, ছিনতাই

নিউজ ডেস্ক

July 27, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ অপরাধ ও নাগরিক নিরাপত্তা রিপোর্ট

লেখক/সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মেগাসিটি ঢাকায় দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তেই সচেতন থাকা জরুরি। ভিড়ভাট্টা, গণপরিবহন, নির্জন সড়ক কিংবা বাসা-বাড়ি—একটু অসাবধানতার সুযোগ পেলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির মতো অপরাধী চক্র।

আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা থেকে শুরু করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার শিকার হলে তাৎক্ষণিক কী আইনি পদক্ষেপ নেবেন—তার এক পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।

অংশ ১: দৈনন্দিন যাতায়াতে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধ কৌশল

১. গণপরিবহন ও রাস্তায় চলার সময়

  • স্মার্টফোন ব্যবহারে চরম সতর্কতা: বাসের জানালার পাশে বা রিকশায় বসে সচরাচর ফোন ব্যবহার করবেন না। চলন্ত বাইক বা রিকশা থেকে ফোন ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
  • সচেতন কান ও নজর: রাস্তায় চলাচলের সময় হেডফোন কানে দিয়ে গান শোনা বা ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকুন। এতে পেছনে কোনো ধাবমান গাড়ি বা ব্যক্তির গতিবিধি টের পাওয়া যায় না।
  • আলোকিত রাস্তা ব্যবহার: রাতে বা ভোরে চলাচলের জন্য অলিগলি এড়িয়ে মূল ও আলোকিত সড়ক বেছে নিন।

২. ব্যাগ ও পরিধেয় বস্তুর নিরাপত্তা

  • ব্যাগ রাখুন বুকের সামনে: ভিড়যুক্ত স্থান (যেমন: নিউমার্কেট, ফার্মগেট, গুলিস্তান) বা গণপরিবহনে ব্যাকপ্যাক বা কাঁধের ব্যাগ সামনে বুকের দিকে জড়িয়ে রাখুন।
  • মানিব্যাগ ও অলংকার: প্যান্টের পেছনের পকেটে মানিব্যাগ না রেখে সামনের গভীর পকেটে রাখুন। সাধারণ যাতায়াতের সময় মূল্যবান অলংকার বা ঘড়ি প্রদর্শন এড়িয়ে চলুন।

৩. রিকশা, সিএনজি ও রাইড শেয়ারিং

  • ব্যাগ রাখার সঠিক স্থান: রিকশায় যাতায়াতের সময় ব্যাগটি রাস্তার দিকের অংশে না রেখে ভেতরের দিকে বা দুজন যাত্রীর মাঝখানে রাখুন।
  • সিএনজি সিকিউরিটি: সিএনজিতে উঠে দুই পাশের সেফটি গ্রিল ঠিকমতো লক করা আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন।
  • অজ্ঞাত খাবার পরিহার: অজ্ঞান বা মলম পার্টির হাত থেকে বাঁচতে অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো ধরনের খাবার, ডাব বা জুস খাওয়া থেকে শতভাগ বিরত থাকুন।

অংশ ২: বাসা-বাড়ি ও ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা

  • স্মার্ট এক্সেস ও সিসিটিভি: ভবনের প্রধান গেট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল লক নিশ্চিত করুন।
  • লক ব্যবস্থা: রাতে বা বাসা খালি রেখে বাইরে যাওয়ার সময় জানালার গ্রিল ও ছাদের দরজা নিশ্চিতভাবে লক করুন।
  • পরিচয় যাচাই: পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কুরিয়ার কর্মী, সার্ভিসিং টেকনিশিয়ান বা অপরিচিত কাউকে ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকতে দেবেন না।

অংশ ৩: অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে করণীয় ও আইনি পদক্ষেপ

যদি কোনো কারণে চুরি বা ছিনতাইয়ের শিকার হতেই হয়, মাথা ঠান্ডা রেখে দ্রুত আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন:

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                          জিডি (GD) বনাম মামলা (FIR)                      │
├──────────────────────┬──────────────────────────────────────────────────┤
│ অভিযোগের ধরন          │ করণীয়                                            │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────┤
│ ডকুমেন্টস বা ফোন হারানো│ সাধারণ ডায়েরি বা জিডি (General Diary)           │
│ অস্ত্র প্রদর্শন/মারধর  │ সরাসরি মামলা বা এজাহার (First Information Report) │
└──────────────────────┴──────────────────────────────────────────────────┘

১. লিখিত আবেদনে যা উল্লেখ করতে হবে

  • ফোন চুরির ক্ষেত্রে: হ্যান্ডসেটের ব্র্যান্ড, মডেল, রঙ এবং অবশ্যই ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর
  • ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে: সুনির্দিষ্ট স্থান, সময়, অপরাধীদের সংখ্যা, সম্ভাব্য বয়স, পরনের পোশাক এবং পালানোর দিক।

২. ঘরে বসে অনলাইন জিডি (Online GD) করার ধাপ

১. গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘Online GD’ অ্যাপ ইনস্টল করুন অথবা onlinegd.police.gov.bd পোর্টালে যান।

২. আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, মোবাইল নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।

৩. ‘হারানো’ ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে মোবাইলের মডেল ও IMEI নম্বরসহ বিস্তারিত বিবরণ পূরণ করুন।

৪. আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত ডিজিটাল কপিটি সংরক্ষণ করুন।

৩. ঘটনার পর জরুরি ৩টি কাজ

১. জিডি/মামলার রসিদ: থানা থেকে সিল ও স্বাক্ষরসহ জিডি নম্বরযুক্ত কাউন্টারপার্ট বুঝে নিন।

২. তদন্ত কর্মকর্তা: দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টরের (SI) নাম ও নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগে থাকুন।

৩. সিম লক ও ব্যাকআপ: দ্রুত কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে চুরি হওয়া সিমটি লক করে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নতুন সিম (Re-issue) তুলুন।

অংশ ৪: মোবাইলের IMEI নম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ থানা ডিরেক্টরি

১. কিভাবে বের করবেন আপনার ফোনের IMEI নম্বর?

  • ডায়াল কোড: যেকোনো সচল ফোনে *#06# ডায়াল করলে স্ক্রিনে IMEI ভেসে উঠবে।
  • প্যাকেজিং বক্স: ফোনের আসল বক্সের গায়ে বা ক্রয় রসিদে (Cash Memo) এটি প্রিন্ট করা থাকে।
  • গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস: অ্যান্ডয়েড ফোনে জিমেইল দিয়ে লগইন থাকা অবস্থায় Google Find My Device পেজে গিয়ে ‘Information’ (i) আইকনে ক্লিক করলেই IMEI পাওয়া যাবে।

২. জরুরি নম্বর ও থানা কন্টাক্ট লিস্ট

জাতীয় জরুরি সেবা: যেকোনো বিপদে বা তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য বিনামূল্যে ডায়াল করুন ৯৯৯ (National Emergency Service)।

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                      প্রধান থানাসমূহের কন্টাক্ট নম্বর                     
├──────────────────────────┬──────────────────────────────────────────────┤
│ থানা / অফিস               │ কন্টাক্ট নম্বর                               
├──────────────────────────┼──────────────────────────────────────────────┤
│ রমনা মডেল থানা (DMP)      │ OC: 01320-039492 / 01713-373125              
│                          │ T&T: +880-2-9350468                          
├──────────────────────────┼──────────────────────────────────────────────┤
│ মিরপুর মডেল থানা (DMP)    │ OC: 01713-373167                             
│ পল্লবী থানা (মিরপুর)     │ OC: 01320-101090                             
│ দারুস সালাম থানা          │ OC: 01713-398334                            
├──────────────────────────┼──────────────────────────────────────────────┤
│ উত্তরা পূর্ব থানা (DMP)   │ OC: 01842-888817 / 01713-373161              
│ উত্তরা পশ্চিম থানা (DMP)  │ OC: 01713-373406                             
├──────────────────────────┼──────────────────────────────────────────────┤
│ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা  │ OC: 01320-107991                             
│ ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি   │ T&T: +880-91-54100                           
└──────────────────────────┴──────────────────────────────────────────────┘

শেষ কথা

সম্পদের চেয়ে জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রথম প্রাধান্য। কোনো অস্ত্রধারীর মুখোমুখি হলে অযথা প্রতিরোধ না করে নিরাপদে সরে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা গ্রহণ করুন। সচেতন থাকুন এবং তাৎক্ষণিক জরুরি সেবার সহায়তা নিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ইলিয়াস হোসেন

নিউজ ডেস্ক

July 27, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের গণমাধ্যম, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম ইলিয়াস হোসেন। তিনি মূলত একুশে টেলিভিশনের (ETV) জনপ্রিয় অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’-এর প্রধান উপস্থাপক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে দেশে রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মুখে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে কন্টেন্ট তৈরি করা প্রভাবশালী ‘নিউজফ্লুয়েন্সার’ (Newsfluencer)।

তার জীবনের বিভিন্ন দিক, পারিবারিক প্রেক্ষাপট, পেশাজীবন, আয়ের উৎস, বিতর্ক এবং সমালোচনা নিচে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো:

১. ব্যক্তিগত পরিচয় ও পারিবারিক জীবন

ইলিয়াস হোসেনের জন্ম বাংলাদেশের এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে। তার পারিবারিক জীবনের বিশদ তথ্য সাধারণ পাবলিক ডোমেইনে অত্যন্ত সীমিত ও গোপন রাখা হয়েছে:

  • বাবা-মা ও ভাইবোন: তার ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা এবং দেশে অবস্থানরত পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে ইলিয়াস হোসেন নিজের মা, বাবা, ভাইবোনদের পরিচয় প্রকাশ্য মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন।
  • পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: পারিবারিকভাবে মধ্যবিত্ত ব্যাকগ্রাউন্ডের হলেও ছাত্রজীবনেই তিনি মিডিয়া ও সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহী হন এবং দেশে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।

২. পেশাজীবন ও একুশে টেলিভিশন (ETV) অধ্যায়

ইলিয়াস হোসেন বাংলাদেশে মূলত একুশে টেলিভিশনের (ETV) অপরাধবিষয়ক বিশেষ অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’-এর মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

  • অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ক্যামেরার সামনে সোজাসাপ্টা ও তীব্র ভঙ্গিতে গিয়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেট, ভেজাল কারবারি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও অপরাধ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করতেন।
  • পরিচিতি: তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো সাধারণ দর্শকদের মাঝে বেশ সমাদৃত হয় এবং খুব দ্রুত তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

৩. দেশত্যাগ ও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় (২০১৫ – বর্তমান)

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

  • দেশ ত্যাগের মূল কারণ: তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অনিয়ম, সরকারের প্রতি সমালোচনা এবং স্পর্শকাতর অনুসন্ধানী রিপোর্টের কারণে একাধিক প্রভাবশালী মহল তার ওপর বিরাগভাজন হয়। গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি এবং জীবনের নিরাপত্তার শংকায় ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
  • রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Political Asylum) আবেদন করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

৪. আয়-ব্যয় ও আয়ের প্রধান উৎস

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন সময়ে ইলিয়াস হোসেন মূলধারার চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট সৃষ্টিকে নিজের প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

আয়ের উৎস:

১. ইউটিউব মনিটাইজেশন (YouTube Revenue): তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ২ মিলিয়নেরও বেশি (২০ লাখ+) সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। তার অধিকাংশ ভিডিও লাখ লাখ ভিউ পায়, যা মার্কিন ভিত্তিক ইউটিউব মনিটাইজেশন থেকে মোটা অঙ্কের আয়ের উৎস।

২. ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন: ফেসবুক পেজেও দীর্ঘ সময় তার ব্যাপক ফলোয়ারশিপ ছিল, যেখান থেকে ওয়াচ-টাইম ও ভিউ-ভিত্তিক ইনকাম আসতো (সম্প্রতি মেটা কর্তৃক পেজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত)।

৩. স্পন্সরশিপ ও বিজ্ঞাপন: প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রচারণা ও লাইভ শো স্পন্সরশিপ থেকেও ইনকাম হয়।

৪. সুপার চ্যাট ও ফ্যান ফান্ডিং: ইউটিউব লাইভ টকশো চলাকালীন বিভিন্ন অনুসারীদের পাঠানো ‘সুপার চ্যাট’ ও ডোনেশনের মাধ্যমে আয়।

ব্যয় ও জীবনযাপন:

আমেরিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যন্ত বেশি। স্টুডিও সেটিং, ডিজিটাল স্ট্রিম ইক্যুইপমেন্ট, গবেষণা দল এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ মূলত তার এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর আয় দিয়েই পরিচালিত হয়।

৫. সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব (সমর্থন বনাম সমালোচনা)

ইলিয়াস হোসেনকে ঘিরে বাংলাদেশের নেটিজেন ও রাজনীতির মাঠে স্পষ্ট দুটি চরমপন্থী ধারা লক্ষ করা যায়:

১. সমর্থকদের চোখে (ইতিবাচক মূল্যায়ন)

  • সাহসী ও বিকল্প কণ্ঠস্বর: দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সেন্সরশিপের মুখে যেখানে মূলধারার গণমাধ্যম সংবেদনশীল বিষয়গুলো এড়িয়ে যায়, সেখানে ইলিয়াস হোসেন বিকল্প ও সংবেদনশীল তথ্য তুলে ধরেন।
  • ক্ষমতার জবাবদিহিতা: বিভিন্ন অরাজকতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সোজাসাপ্টা সোচ্চার হওয়ায় এক বিরাট অংশ তাকে সাহসের প্রতীক মনে করে।

২. সমালোচক ও বিশ্লেষকদের চোখে (নেটিবাচক মূল্যায়ন)

  • তথ্য প্রমাণের ঘাটতি ও চমকপ্রদ শিরোনাম: তার ভিডিওগুলোতে অনেক সময় তথ্যপ্রমাণের অভাব, সেনসেশনালিজম (Sensationalism) বা সস্তা ভিউ বাড়ানোর ‘ক্লিকবেইট’ (Clickbait) কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
  • উগ্র ভাষা ও গালাগালি: উপস্থাপনায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, তীর্যক, কদর্য ভাষা প্রয়োগ ও কুরুচিপূর্ণ ভঙ্গিমা ব্যবহারের জন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত।
  • ধর্মীয় ও আকিদাগত বিতর্ক: অতি সম্প্রতি বিভিন্ন আলেম সমাজ, ধর্মীয় দল এবং নবীদের মানবিক বৈশিষ্ট্য/আকিদাগত বিষয়ে সংবেদনশীল বক্তব্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সিংহভাগ আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
  • প্রোপাগান্ডা ও উসকানি: উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার কারণে মেটা (Meta) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ বন্ধ করে দেয়।

৬. দেশে-বিদেশে আইনি বিতর্ক ও মামলার চিত্র

ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে একাধিক আলোচিত আইনি ঘটনা ঘটেছে:

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                       ইলিয়াস হোসেনের প্রধান আইনি ঘটনাবলী                    │
├──────────────────────┬──────────────────────────────────────────────────────┤
│ বিচারিক বিষয়         │ বর্তমান অবস্থা / বিবরণ                                │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────────┤
│ সিডিএ/ডিজিটাল মামলা   │ সাবেক PBI প্রধানের করা মামলায় ২০২৫ সালে খালাস পান।   │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────────┤
│ NYPD নিউইয়র্ক ঘটনা   │ ২০২৪ সালে প্রবাসীর করা অভিযোগে সাময়িক আইনি জটিলতা।     │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────────┤
│ মেটা (Meta) অ্যাকশন  │ উসকানিমূলক পোস্টের দায়ে ২০২৫ সালে ফেসবুক পেজ বন্ধ। │
└──────────────────────┴──────────────────────────────────────────────────────┘

সারসংক্ষেপ

ইলিয়াস হোসেন মূলত একজন সফল সাবেক টেলিভিশন রিপোর্টার, যিনি রাজনৈতিক আশ্রয় ও নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ব্যক্তিগত প্রতিভা ও সোজাসাপ্টা কথা বলার কৌশলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করলেও—অতিরঞ্জিত তথ্যপ্রমাণ, কুরুচিপূর্ণ শব্দচয়ন, ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য এবং বিতর্কিত কন্টেন্ট কাঠামোর কারণে বস্তুনিষ্ঠ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার নিরিখে তিনি এক চরম বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিবেচিত।

বিমানবাহিনীর ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

July 27, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ এভিয়েশন ও প্রতিরক্ষা সামরিক বিশ্লেষণ

উপস্থাপনায়: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আকাশজয়ের গল্প মানবসভ্যতার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়গুলোর একটি। কাঠের ফ্রেমের প্রাথমিক বিমান থেকে শুরু করে আজকের হাইপারসনিক ইঞ্জিন এবং চতুর্থ/পঁচিশ প্রজন্মের আধুনিক ফাইটার জেট—এভিয়েশন প্রযুক্তির এই দ্রুত বিবর্তন বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

নিচে বিমানের আবিষ্কার, জেট ইঞ্জিনের বৈজ্ঞানিক রূপরেখা, বিভিন্ন ইঞ্জিনের প্রকারভেদ এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (BAF) বিদ্যমান সক্ষমতা ও প্রযুক্তির একটি বিস্তারিত তথ্যকোষ তুলে ধরা হলো।

১. বিমানের আবিষ্কার ও সূচনালগ্ন

বিশ্বের প্রথম সফল মোটরচালিত ও নিয়ন্ত্রিত বিমান আবিষ্কার করেন আমেরিকান দুই ভাই—উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইট (Wright Brothers)

  • ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর।
  • স্থান: কিটি হক, উত্তর ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র (Kitty Hawk, North Carolina)।
  • প্রথম উড্ডয়ন: তাদের নির্মিত ঐতিহাসিক বিমান ‘রাইট ফ্লাইয়ার’ (Wright Flyer) মাত্র ১২ সেকেন্ডে ১২০ ফুট পথ পাড়ি দিয়েছিল। বিমানের প্রথম পাইলট ছিলেন অরভিল রাইট।

২. জেট ইঞ্জিনের আবিষ্কার ও জেট এজের (Jet Age) সূচনা

প্রপেলার ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিমানের গতি দ্বিগুণ করতে আগমন ঘটে জেট ইঞ্জিনের।

  • উদ্ভাবক: ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার ফ্রাঙ্ক হুইটল (Sir Frank Whittle) ১৯৩০ সালে প্রথম জেট ইঞ্জিনের পেটেন্ট করেন। অন্যদিকে, জার্মানির বিজ্ঞানী হ্যান্স ভন ওহাইন (Hans von Ohain) স্বাধীনভাবে আরেকটি সফল ডিজাইন তৈরি করেন।
  • প্রথম জেট বিমান: হ্যান্স ভন ওহাইনের ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে ১৯৩৯ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্বের প্রথম জেট চালিত বিমান ‘হেইঙ্কেল হি ১৭৮’ (Heinkel He 178) সফলভাবে আকাশে ওড়ে।
  • সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োগ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৪৪) জার্মানির Messerschmitt Me 262 প্রথম ফাইটার জেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু হয় যাত্রীবাহী বিমানে জেট ইঞ্জিনের ব্যবহার, যা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে বিপ্লব ঘটায়।

৩. জেট ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে?

জেট ইঞ্জিন মূলত স্যার আইজ্যাক নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র—“প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে” (Action and Reaction)—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                       জেট ইঞ্জিনের ৪টি প্রধান ধাপ                         │
├──────────────┬──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ধাপ          │ কার্যপদ্ধতি                                               │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ১. Intake    │ সামনের পাখা দিয়ে প্রচুর বাতাস ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।   │
│ ২. Compression│ কম্প্রেসর ব্লেড দিয়ে বাতাসকে তীব্র সংকুচিত করা হয়।    │
│ ৩. Combustion│ সংকুচিত বাতাসে জ্বালানি মিশিয়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।│
│ ৪. Exhaust   │ পেছনের নজেল দিয়ে তীব্র গতিতে উত্তপ্ত গ্যাস বের হয়ে ধাক্কা তৈরি করে।│
└──────────────┴──────────────────────────────────────────────────────────┘

৪. বিভিন্ন প্রকার জেট ইঞ্জিন ও সেগুলোর ব্যবহার

গঠন ও কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে জেট ইঞ্জিনকে প্রধানত ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়:

ইঞ্জিনের ধরনপ্রধান বৈশিষ্ট্যব্যবহার
টার্বোজেট (Turbojet)প্রাথমিক ও সাধারণ ক্রুড প্রযুক্তি, বেশি শব্দ ও জ্বালানি খরচ।পুরোনো ফাইটার জেট ও রকেট।
টার্বোফ্যান (Turbofan)সামনে বড় ফ্যান থাকে, বাইপাস এয়ার প্রডিউস করে। কম শব্দ ও অত্যন্ত সাশ্রয়ী।আধুনিক কমার্শিয়াল বোয়িং/এয়ারবাস ও modern ফাইটার।
টার্বোপ্রপ (Turboprop)জেট শক্তির ৯০% দিয়ে বাইরের প্রপেলার বা পাখা ঘোরানো হয়।কম দূরত্বের আঞ্চলিক যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান।
টার্বোশ্যাফট (Turboshaft)শক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনাল শ্যাফটের সাহায্যে রোটর ব্লেড ঘোরানো হয়।প্রধানত হেলিকপ্টার এবং কিছু যুদ্ধজাহাজ/ট্যাংক।
র‌্যামজেট (Ramjet)কোনো চলন্ত পার্টস নেই; উচ্চগতিতে বাতাস ভেতরে এসে সংকুচিত হয়।মিসাইল ও সুপারসনিক ড্রোন।
স্ক্যামজেট (Scramjet)শব্দের চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি গতিতে সুপারসনিক কমবাশ্চন ঘটায়।হাইপারসনিক মিসাইল ও আধুনিক মহাকাশযান।

৫. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে (BAF) ব্যবহৃত বিমান ও ইঞ্জিন প্রযুক্তি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তাদের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা, পরিবহন এবং অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করতে ৪ ধরণের আধুনিক ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকে:

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                    বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফ্লিট ও ইঞ্জিন                    │
├──────────────────┬─────────────────────────────┬────────────────────────┤
│ ইঞ্জিনের ধরন     │ বিমানের নাম                  │ উৎস দেশ                │
├──────────────────┼─────────────────────────────┼────────────────────────┤
│ ১. টার্বোজেট     │ চেংডু এফ-৭ (Chengdu F-7)    │ চীন                    │
│ ২. টার্বোফ্যান   │ মিগ-২৯ (MiG-29B/UB)         │ রাশিয়া                │
│                  │ ইয়াক-১ ৩০ (Yak-130)        │ রাশিয়া                │
│                  │ কে-৮ডব্লিউ (K-8W Trainer)  │ চীন / পাকিস্তান         │
│ ৩. টার্বোপ্রপ   │ সি-১৩০জে (C-130J Hercules)  │ আমেরিকা                │
│                  │ অ্যান্টনভ অ্যান-৩২ (An-32)   │ রাশিয়া                │
│ ৪. টার্বোশ্যাফট │ এমআই-১৭/১৭১ (MiG Mi-171SH)  │ রাশিয়া                │
│                  │ বেল-২১২ (Bell 212)          │ আমেরিকা                │
│                  │ এডব্লিউ-১৩৯ (AW139)           │ ইতালি                  │
└──────────────────┴─────────────────────────────┴────────────────────────┘

বিশেষ সংযোজন: প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিজস্ব ইউনিটে UAV বা ড্রোন অ্যাসেম্বলি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

৬. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও ফোর্সেস গোল (Forces Goal)

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আকাশ সুরক্ষার মূল চালিকাশক্তি হলো এর মাল্টিরোল ফাইটার ও ইন্টারসেপ্টর ফ্লিট:

  • মিগ-২৯বিএম (MiG-29BM): এটি রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের অত্যন্ত চটপটে একটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট। বর্তমানে বেলারুশের আধুনিকীকরণের পর এর সার্ভিস লাইফ ও রাডার ক্যাাপাবিলিটি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • এফ-৭ বিজিআই (F-7BGI): এটি চীনে নির্মিত একটি অল-ওয়েদারInterceptor ফাইটার। এর আধুনিক এভিওনিক্স, গ্লাস ককপিট এবং গাইডেড ওয়েপন ক্যাাপাবিলিটি পয়েন্ট ডিফেন্সের জন্য বেশ উপযোগী।
  • ভবিষ্যৎ আধুনিকীকরণ: বিমানবাহিনী আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের (4.5 Generation) ফাইটার জেট যুক্ত করার প্রক্রিয়া বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে চীনের Chengdu J-10CE এবং ইউরোপের Eurofighter Typhoon ক্রয়ের আলোচনা ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া অগ্রগতির তালিকায় রয়েছে।

৭. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান মিসাইল ও মারণাস্ত্র

আকাশপথে শত্রু ধ্বংস এবং বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে BAF-এর যুদ্ধবিমানগুলোতে বেশ কিছু লেটেস্ট মিসাইল ও বোমা যুক্ত রয়েছে:

ক) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (Air-to-Air Missiles)

  • R-77 (RVV-AE): বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) রাডার-গাইডেড মিসাইল, যা ৮০-১০০ কিমি দূরের শত্রুর বিমান ধ্বংস করতে পারে (মিগ-২৯বিএম)।
  • R-73E: বিশ্বখ্যাত শর্ট-রেঞ্জ হিট-সিকিং (Heat-seeking) মিসাইল, যা মুখোমুখি ডগফাইটে শত্রুর ইঞ্জিনের উত্তাপ ট্র্যাক করে আঘাত হানে।
  • PL-5E II / PL-9C: চীনের তৈরি আধুনিক ইনফ্রারেড গাইডেড শর্ট-রেঞ্জ মিসাইল (এফ-৭বিজিআই)।

খ) আকাশ থেকে ভূমিতে ও সমুদ্রে আক্রমণের অস্ত্র (Air-to-Surface)

  • Kh-31A: রাশিয়ার তৈরি মারাত্মক দ্রুতগতির সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল। সমুদ্রসীমার প্রতিরক্ষায় এটি মিগ-২৯ এর একটি অন্যতম গেম-চেঞ্জার অস্ত্র।
  • KAB-500KR: লেজার ও টিভি-গাইডেড স্মার্ট পিন-পয়েন্ট প্রিসিশন বোমা।
  • LS-6 (500lb): জিপিএস এবং স্যাটেলাইট গাইডেড গ্লাইড বোমা, যা দূর থেকেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম (এফ-৭বিজিআই)।

সারসংক্ষেপ

রাইট ব্রাদার্সের মাত্র ১২ সেকেন্ডের ঐতিহাসিক যাত্রা থেকে শুরু করে আজকের সুপারসনিক ও হাইপারসনিক যুগ—এভিয়েশন সায়েন্স আধুনিক প্রতিরক্ষার মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও তাদের আধুনিক ফ্লিট, ৪.৫ জেনারেশনের ফাইটার জেট সংযোগ এবং স্যাটেলাইট গাইডেড অস্ত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আধুনিক ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

অ্যান্ড্রয়েড ও স্যামসাং

নিউজ ডেস্ক

July 25, 2026

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে সব মানুষের হাতেই একটি করে স্মার্টফোন থাকে। তবে অনেকেই ফোনের বেশিরভাগ অ্যাডভান্সড ফিচার সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। বিশেষ করে নতুন সিকিউরিটি, সিক্রেট ফোল্ডার ও এআই (AI) প্রযুক্তির কারণে অ্যান্ড্রয়েড এবং স্যামসাং ফোনগুলো এখন কেবল কল বা ব্রাউজিংয়ের মাধ্যম নয়—বরং এটি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল টুল।

আপনার দৈনন্দিন ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ ও সুরক্ষিত করতে নিচে ১৫টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ গোপন বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো—

ডিজিটাল সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি সম্পর্কিত গুরুত্বপূণ ৫টি ফিচার

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                    সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি হাইলাইটস                       │
├──────────────────────────┬──────────────────────────────────────────────┤
│ ফিচার                    │ মূল গুরুত্ব/কাজ                              │
├──────────────────────────┼──────────────────────────────────────────────┤
│ এআই থিফট ডিটেকশন লক     │ ফোন চুরি বা ছিনতাই হলে নিজে থেকেই লক হয়ে যাওয়া │
│ প্রাইভেট স্পেস / সিকিউর ফোল্ডার│ আলাদা পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপস ও ফাইল সম্পূর্ণ লুকানো│
│ অ্যাপ পিনিং              │ নির্দিষ্ট একটি অ্যাপে স্ক্রিন লক করে রাখা     │
│ প্রাইভেট স্ক্রিন রেকর্ড   │ রেকর্ড করার সময় ওটিপি/পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অদৃশ্য রাখা│
│ ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর │ দূর থেকেই হারানো ফোনের লোকেশন দেখা ও ডেটা মুছে ফেলা│
└──────────────────────────┴──────────────────────────────────────────────┘

১. এআই থিফট ডিটেকশন লক (Theft Detection Lock)

ফোন হঠাৎ কেউ হাত থেকে নিয়ে দৌড়ে বা বাইকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফোনের সেন্সর ও এআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মুহূর্তের মধ্যে গতি পরিবর্তন চিহ্নিত করে নিজে থেকেই ফোনটিকে তাৎক্ষণিক লক করে দেয়।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security & Privacy > Theft Protection অপশনে গিয়ে Theft Detection Lock সার্ভিসটি চালু রাখুন।

২. প্রাইভেট স্পেস / সিকিউর ফোল্ডার (Private Space / Secure Folder)

এটি কোনো সাধারণ অ্যাপ হাইডার নয়, বরং মূল ফোনের ভেতরে সম্পূর্ণ আলাদা একটি এনক্রিপ্টেড সুরক্ষিত ড্রাইভ। মূল ফোনের পাসওয়ার্ডের চেয়ে ভিন্ন পাসওয়ার্ড দিয়ে এখানে গোপন ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়া চালানো যায়।

  • চালু করার নিয়ম: অ্যান্ড্রয়েডে Settings > Security & Privacy > Private Space অথবা স্যামসাং ফোনে Settings > Security & Privacy > Secure Folder সার্ভিস থেকে এটি সেটআপ করুন।

৩. প্রাইভেট স্ক্রিন রেকর্ডিং (Partial Screen Recording)

পুরো স্ক্রিন রেকর্ড না করে আপনি কেবল একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের কাজ রেকর্ড করতে পারবেন। এছাড়া স্ক্রিন রেকর্ডিং চলাকালীন কোনো ওটিপি (OTP), পাসওয়ার্ড বা নোটিফিকেশন আসলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লার বা অদৃশ্য থাকবে।

  • চালু করার নিয়ম: স্ক্রিন রেকর্ডার অন করার সময় Record Single App অপশন বেছে নিন।

৪. অ্যাপ পিনিং (App Pinning)

বাচ্চা বা অন্য কাউকে শুধু একটি অ্যাপ (যেমন: ইউটিউব) ব্যবহার করতে দিতে চাইলে অ্যাপটি স্ক্রিনে ‘পিন’ করে দিন। ব্যাক বাটনে চাপ দিয়ে তিনি গ্যালারি বা অন্য অ্যাপে ঢুকতে পারবেন না।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security > Advanced > App Pinning চালু করে Recent Apps মেনু থেকে অ্যাপের আইকনে চেপে Pin সিলেক্ট করুন।

৫. ফাইন্ড মাই ডিভাইস / ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (Find My Device)

ফোন ভুল করে কোথাও ফেলে আসলে বা হারিয়ে গেলে জিপিএস ব্যবহার করে দূর থেকেই অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এমনকি সাইলেন্ট থাকা ফোন বাজানো কিংবা সব তথ্য মুছে ফেলা সম্ভব।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security > Device Administrators থেকে Find My Device চালু রাখুন এবং কোনো দুর্ঘটনায় [android.com/find](https://android.com/find) ওয়েবসাইটে লগইন করুন।

দ্রুত কাজ ও প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে ৫টি দারুণ ট্রিকস

৬. নোটিফিকেশন হিস্ট্রি (Notification History)

জরুরি কোনো নোটিফিকেশন বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দুর্ঘটনাবশত সোয়াইপ করে মুছে ফেললে তা ফের পাওয়া সম্ভব।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Notifications > Notification History অপশন চালু রাখলে গত ২৪ ঘণ্টার সব নোটিফিকেশন সময় অনুযায়ী জমা থাকে।

৭. লাইভ ক্যাপশন (Live Caption)

ভিডিও বা অডিও প্লে করার সাথে সাথেই স্ক্রিনে সাবটাইটেল ভেসে ওঠে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এর জন্য কোনো ইন্টারনেট সংযোগ বা ডেটার প্রয়োজন হয় না।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Accessibility > Live Caption অন করে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

৮. স্প্লিট স্ক্রিন ও অ্যাপ পেয়ার (Split Screen & App Pair)

স্ক্রিনের ওপর-নিচে দুটি অ্যাপ এক সাথে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া যে দুটি অ্যাপ বেশি ব্যবহৃত হয় (যেমন: ইউটিউব ও নোটস) সেগুলোর জোড়া বানিয়ে ‘App Pair’ হিসেবে হোমস্ক্রিনে শর্টকাট বানিয়ে রাখা যায়।

  • চালু করার নিয়ম: Recent Apps মেনু থেকে যেকোনো অ্যাপের আইকনে ট্যাপ করে Split Screen ও পরবর্তীতে Save App Pair সিলেক্ট করুন।

৯. ডেভেলপার অপশনে অ্যানিমেশন স্পিড বাড়ানো (Speed Up Android)

স্লো ফোন দ্রুত ফাস্ট করার জন্য এটি একটি ক্লাসিক ট্রিক।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > About Phone-এ গিয়ে Build Number-এ ৭ বার ট্যাপ করে Developer Options সচল করুন। ভেতরে ঢুকে Window animation scale, Transition animation scale এবং Animator duration scale-এর মান 1x থেকে কমিয়ে 0.5x অথবা Animation Off করে দিন।

১০. স্মার্ট লক (Smart Lock / Extend Unlock)

বাড়িতে বা নিরাপদ স্থানে থাকা অবস্থায় বারবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা প্যাটার্ন লক খোলার ঝামেলা নেই।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security > Smart Lock-এ গিয়ে Trusted Places-এ নিজের বাড়ির লোকেশন যুক্ত করে রাখুন।

স্যামসাং গ্যালাক্সি ফ্ল্যাগশিপের ৫টি সুপার-পাওয়ারফুল ট্রিকস

স্যামসাং গ্যালাক্সি (বিশেষ করে S সিরিজ ও Ultra) ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ৫টি স্পেশাল অ্যাডভান্সড ফিচার:

  1. সেপারেট অ্যাপ সাউন্ড (Separate App Sound): ব্লুটুথ স্পিকারে মিউজিক অ্যাপের গান বাজবে, কিন্তু ফেসবুকের রিলস বা গেমের সাউন্ড বাজবে ফোনের নিজস্ব স্পিকারে (Settings > Sounds and vibration > Separate app sound)।
  2. অবজেক্ট ও রিফ্লেকশন ইরেজার (AI Eraser): ছবির অপ্রয়োজনীয় মানুষ, বস্তু বা কাঁচের ওপাশ থেকে নেওয়া ছবির ওপর পড়া আলোর প্রতিচ্ছবি (Reflection) গ্যালারির এডডিট অপশনের Object Eraser দিয়ে নিমেষেই মুছে ফেলা যায়।
  3. এস পেন এয়ার অ্যাকশন (S Pen Air Actions): আল্ট্রা সিরিজের S Pen বাতাসে হাত ঘুরিয়ে বা বাটনে চাপ দিয়ে রিমোটের মতো ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা, জুম করা বা মিউজিক নেক্সট করা যায়।
  4. স্যামসাং ডেক্স মোড (Samsung DeX): ফোনটিকে টাইপ-সি ক্যাবল দিয়ে যেকোনো টিভি বা মনিটরে যুক্ত করলেই ফোনটি ফুল ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিণত হয়।
  5. স্মার্ট রুটিনস (Modes and Routines): ফোনকে স্বয়ংক্রিয় করার টুল—যেমন রাত ১১টা বাজলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইলেন্ট হওয়া, ডার্ক মোড অন হওয়া ও চার্জিং স্পিড ধীর করে ব্যাটারি প্রোটেকশন চালু করা।

সংক্ষিপ্ত পরামর্শ: ফোনের ব্র্যান্ড এবং অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন অনুযায়ী সেটিংসের নাম সামান্য ভিন্ন হতে পারে। কাঙ্ক্ষিত নামটি ফোনের সেটিংস সার্চ বারে লিখলেই সহজে অপশনটি খুঁজে পাবেন।

১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ