গল্প
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নওগাঁ: ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সম্রাট শাহজাহানের তাজমহলের কথা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে বাংলার নিভৃত পল্লী নওগাঁর ধামইরহাটে লুকিয়ে আছে এক অন্যরকম প্রেমগাথা। রূপকথার গল্পের মতো মনে হলেও, কথিত পাল বংশের রাজা চান্দিলাল পাল তাঁর প্রিয়তমা রানির জীবন বাঁচাতে ৩৬৫টি পুকুর খনন করে এক অবিস্মরণীয় নজির স্থাপন করেছিলেন। ১৯০০ সালের পুরনো নথি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের পর্যটন সম্ভাবনা—সবক্ষেত্রেই এই ‘চকচান্দিরা’ গ্রামটি আজও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
৩৬৫ পুকুরের নেপথ্যে এক অলৌকিক প্রেম
অষ্টাদশ শতাব্দীর এই লোকগাঁথা অনুযায়ী, রাজা চান্দিলাল পাল তাঁর দ্বিতীয় রানিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। হঠাৎ রানি এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে রাজ্যের কোনো কবিরাজই তাঁকে সুস্থ করতে পারছিলেন না। অবশেষে এক দক্ষ হাকিমের পরামর্শে রাজা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। হাকিমের বিধান ছিল— ৩৬৫টি পুকুর খনন করে রানিকে প্রতিদিন একটি নতুন পুকুরে স্নান করাতে হবে।
স্ত্রীর প্রতি অগাধ ভালোবাসায় রাজা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রজাদের সহায়তায় পুকুর খনন শুরু করেন। প্রতিদিন একটি করে পুকুর খনন হতো আর রানি সেখানে স্নান করতেন। এভাবে এক বছর পর রানি পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। আজও নওগাঁর ধামইরহাটের ইসবপুর ইউনিয়নের চকচান্দিরা গ্রামে এই পুকুরগুলোর অস্তিত্ব রাজার সেই ভালোবাসার সাক্ষ্য দিচ্ছে।
‘দুই সতিনের পুকুর’ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯০০-২০২৬)
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রানি সুস্থ হওয়ার পর দুই রানিকে নিয়ে রাজা সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন। তাঁদের স্নানের জন্য আলাদা দুটি পুকুর ছিল যা আজও ‘দুই সতিনের পুকুর’ নামে পরিচিত।
- ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান: বিগত এক শতাব্দী ধরে এই পুকুরগুলো স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় হয়ে আছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকের গেজেটিয়ারগুলোতেও এই অঞ্চলের প্রাচীন নিদর্শনের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ২০২৪-২০২৫ এর সংস্কার: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন এলাকাগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সাল জুড়ে বন বিভাগ এই পুকুর পাড়গুলোতে বিশাল বনায়ন কর্মসূচি পালন করেছে।
- ২০২৬: পর্যটন সম্ভাবনা: আজ ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে চকচান্দিরা গ্রামে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বন বিভাগের নিজস্ব সবুজ বনায়ন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বনের পাখির কলরব আর শান্ত দিঘিগুলোর পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করছে।
বক্তাদের ভাষ্য ও বর্তমান অবস্থা
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তারা বাপ-দাদাদের কাছ থেকে এই গল্প শুনে আসছেন। তবে একটি বিষয় নিয়ে সবার আক্ষেপ রয়ে গেছে।
- স্থানীয়দের দাবি: “৩৬৫টি পুকুর দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো অনুন্নত। রাস্তাঘাট ভালো হলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হতে পারতো।”
- বিশ্লেষকদের মতে: “১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই পুরাকীর্তিগুলো অবহেলিত। ২০২৬ সালে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হলে নওগাঁর এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা প্রয়োজন।”
উপসংহার: ইতিহাসের পাতায় চান্দিলাল পাল
রাজা চান্দিলাল পাল হয়তো শাহজাহানের মতো শ্বেতপাথরের তাজমহল গড়েননি, কিন্তু ৩৬৫টি পুকুর খনন করে প্রকৃতির মাঝে যে তাজমহল তিনি তৈরি করেছেন, তা অতুলনীয়। ভালোবাসার জন্য মানুষ কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, নওগাঁর এই পুকুরগুলো তার এক জীবন্ত প্রমাণ। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়িত্ব এই অমূল্য সম্পদকে সংরক্ষণ করা।
বিশ্লেষণ: ঐতিহাসিকভাবে পাল বংশের শাসনের সাথে এই গল্পের যোগসূত্র পাওয়া যায়। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এটি লোকজ বিশ্বাস, কিন্তু ৩৬৫টি পুকুরের বাস্তব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এর পেছনে বিশাল কোনো রাজকীয় উদ্যোগ ছিল। এটি কেবল প্রেমগাথা নয়, বরং প্রাচীন বাংলার জলাশয় ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য উদাহরণ।
সূত্র: নওগাঁ জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক গাইড, স্থানীয় মৌখিক ইতিহাস ও লোকগাঁথা, বন বিভাগ রিপোর্ট (২০২৫-২৬), এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন জেলা প্রতিনিধি প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের সময় ও তারিখ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:৩৭ স্থান: ঢাকা / অনলাইন ডেস্ক
বাঘ নাকি সিংহ—বনের প্রকৃত রাজা কে? সুপ্রাচীন মেসোপটেমীয় ও মিশরীয় সভ্যতা থেকে শুরু করে রোমান কলোসিয়াম হয়ে আজকের ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। প্রাচীন রাজারা সিংহকে শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখলেও কলোসিয়ামের লড়াইয়ে বাঘের জয়ের ইতিহাসও কম নয়। শারীরিক গঠন, সামাজিক আচরণ, শিকারের পদ্ধতি এবং শক্তির বিচারে এই দুই মহারথীর চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে এক অবিশ্বাস্য সমীকরণ সামনে আসে।

সামাজিক আচরণ ও জীবনযাত্রার ফারাক বাঘ ও সিংহের প্রধান পার্থক্য তাদের সামাজিক জীবনযাত্রায়। সিংহ থাকে খোলা সাভানায় এবং তারা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। তাদের দলকে বলা হয় ‘প্রাইড’ (Pride)। একটি প্রাইডে সাধারণত ৩-৪টি পুরুষ সিংহ এবং একাধিক স্ত্রী সিংহ থাকে। পুরুষ সিংহদের মূল কাজ দল রক্ষা করা, আর শিকারের মূল দায়িত্ব পালন করে সিংহীরা। শিকারের পর পুরুষ সিংহ আগে আহার গ্রহণ করে, যা এক ধরনের ‘রাজকীয়’ আধিপত্যের রূপক।

অন্যদিকে বাঘ হলো একাকী ও সীমানা-সচেতন (Territorial) প্রাণী। একটি পুরুষ বাঘের টেরিটরি ৬০ থেকে ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বাঘ নিজ এলাকায় একা শিকার করে এবং নিজের প্রয়োজন নিজেই মেটায়। তবে সিংহদের মতো স্বার্থপর না হয়ে পুরুষ বাঘ অনেক সময় স্ত্রী বাঘ ও শাবকদের আগে আহারের সুযোগ দেয়।
চেহারা ও রাজকীয়তার প্রতীক দর্শনের বিচারে সিংহকে ‘রাজকীয়’ মনে হওয়ার প্রধান কারণ তার ঘাড় ও পিঠজুড়ে বিস্তৃত ঘন কেশর। এই কেশর অনেকটা রাজমুকুট এবং রাজকীয় শালের অনুভূতি দেয়। যুগে যুগে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের প্রতীক, কোট অফ আর্মস এবং জাতীয় পতাকায় (যেমন: ব্রিটিশ, ফিনিশ, সাফাভিদ বা মৌর্য সাম্রাজ্য) সিংহকে স্থান দেওয়ার প্রধান কারণ এর গম্ভীর ও আভিজাত্যপূর্ণ চেহারা। তবে গর্জনের দিক থেকে বাঘ বেশ এগিয়ে। বাঘের গর্জন সিংহ অপেক্ষা অনেক বেশি ভারী ও তীব্র।
শারীরিক সক্ষমতা ও শিকারের কৌশল গায়ের জোর, ওজন এবং শারীরিক সক্ষমতায় বাঘ সিংহকে স্পষ্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলে দেয়।
- ওজন ও আকৃতি: একটি পূর্ণবয়স্ক আফ্রিকান পুরুষ সিংহের গড় ওজন ১৯০ কেজি। অন্যদিকে, সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের ওজন এর চেয়েও বেশি এবং সাইবেরিয়ান টাইগারের ওজন ৩০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, যা সিংহের চেয়ে অন্তত ১১০ কেজি বেশি।
- কামড়ের জোর (Bite Force): সিংহের কামড়ের জোর প্রতি বর্গইঞ্চিতে ৬৫০ পাউন্ড, যেখানে বাঘের কামড়ের জোর প্রায় ১০৫০ পাউন্ড।
- থাবার শক্তি ও লাফ: বাঘের থাবা সিংহের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি চওড়া এবং বাঘের পেছনের পা বেশি শক্তিশালী হওয়ায় তারা দুই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে একসাথে দুটি থাবা ব্যবহার করতে পারে। বাঘ ৩০ ফুট পর্যন্ত লাফ দিতে পারে, যেখানে সিংহ পারে ২৫ ফুট।
- একাকী শিকারের দক্ষতা: বাঘ তার ওজনের পাঁচ গুণ বড় প্রাণী (যেমন: ১ টন ওজনের ভারতীয় গোর বা গৌড়) একা শিকার করতে সক্ষম। কিন্তু একটি সিংহ একা এত বড় প্রাণী শিকার করতে পারে না; তারা সাধারণত দলবদ্ধভাবে নিজস্ব ওজনের দ্বিগুণ আকারের প্রাণী শিকার করে।
মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ী কে? ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মুখোমুখি যুদ্ধে বাঘের জেতার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বাঘের পেশিবহুল শরীর, উচ্চ বুদ্ধিমত্তা (সার্কাসের ট্রিকস শেখার গতি সিংহের চেয়ে অনেক দ্রুত) এবং ক্ষিপ্রতা তাকে সুবিধা দেয়। তবে সিংহের ঘন কেশর একটি প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে তার ঘাড় ও গলার ধমনীকে রক্ষা করে, যা বাঘের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য থাকে। তা সত্ত্বেও, সংগৃহীত অধিকাংশ প্রত্যক্ষদর্শী রেকর্ড অনুযায়ী বাঘ ও সিংহের লড়াইয়ে বাঘের পাল্লাই বেশি ভারী থেকেছে।
তবে আসল ‘পশুরাজ’ কে এবং কেন? বাঘ শক্তিতে, ক্ষিপ্রতায় এবং বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও ‘পশুরাজ’ বা ‘বনের রাজা’ খেতাবের দিক থেকে সিংহই এগিয়ে থাকে। এর মূল কারণ কেবল শারীরিক শক্তি নয়, বরং ‘মনুষ্য রাজতন্ত্রের’ সাথে এর আচরণের মিল।
রাজার মতো সিংহও একা থাকে না, প্রাইড বা অনুসারী পরিবেষ্টিত থাকে। রাজাদের মতো সিংহও অন্যের শিকারে ভাগ বসায়, সাম্রাজ্য বা প্রাইড দখলের জন্য প্রাণপণ লড়াই করে এবং নিজের স্থান ধরে রাখতে নির্মম পদক্ষেপ নেয়। বিপরীতে বাঘ একজন অনন্য যোদ্ধা বা দক্ষ একক শিকারী হলেও রাজার মতো সামন্ততান্ত্রিক বিলাসী জীবনযাপন করে না। তাই গায়ের জোরে বাঘ সেরা হলেও, রাজকীয় ভাবমূর্তি ও স্বভাবের বিচারে সিংহই ‘পশুরাজ’ পদের মূল দাবিদার।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন / সাহিত্য ও সংস্কৃতি / বই পর্যালোচনা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | সাহিত্য ও কন্টেন্ট বিশ্লেষক
বই কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তার জগৎ বদলে দেয়, কল্পনাশক্তি বাড়ায় এবং জীবনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখায়। শৈশবের ক্লাসিক অ্যাডভেঞ্চার থেকে শুরু করে আধুনিক ক্যারিয়ার গঠন কিংবা মনোবিজ্ঞান—প্রতিটি বইয়েরই রয়েছে নিজস্ব প্রভাব।

পাঠকদের পছন্দ, কালজয়ী প্রভাব এবং পেশাগত উন্নতির ওপর ভিত্তি করে সেরা কিছু বইয়ের শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পড়ার সহজ মাধ্যম নিচে তুলে ধরা হলো।
১. কালজয়ী বইয়ের মাস্টার ক্যাটাগরি ও প্রভাব
[ বইয়ের ধারা ও মানসিক প্রভাব ]
│
┌──────────────────────────────────────┼──────────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ১. কালজয়ী গল্প ও অ্যাডভেঞ্চার ] [ ২. ইতিহাস ও বাস্তব দলিল ] [ ৩. আত্মউন্নয়ন ও দক্ষতা ]
• আবেগ, কল্পনা ও জীবনসংগ্রাম • অতীত সচেতনতা ও সমাজভাবনা • ক্রিয়েটিভিটি, ফোকাস ও মাইন্ডসেট
শেখায় (যেমন: ট্রেজার আইল্যান্ড)। বিকাশ করে (যেমন: একাত্তরের দিনগুলি)। তৈরি করে (যেমন: অ্যাটমিক হ্যাবিটস)।
২. সেরা বইয়ের শ্রেণিবিন্যাস ও সংকলন
| বইয়ের বিভাগ | উল্লেখযোগ্য বই ও লেখক | কেন পড়া উচিত / মূল উপজীব্য |
| কিশোর ক্লাসিক ও অ্যাডভেঞ্চার | ট্রেজার আইল্যান্ড – রবার্ট লুইস স্টিভেনসন আঙ্কল টমস কেবিন – হারিয়েট বিচার স্টোয়ে | শৈশবের কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি, অবিচারের বিরুদ্ধে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত করা। |
| বাংলা সাহিত্য ও জীবনবোধ | পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় হ য ব র ল – সুকুমার রায় | গ্রামীণ জীবনের চমৎকার চিত্রায়ন এবং বাংলা রসবোধের অনন্য অভিজ্ঞতা। |
| মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস | জোছনা ও জননীর গল্প – হুমায়ূন আহমেদ একাত্তরের দিনগুলি – জাহানারা ইমাম | বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বাস্তব ও মর্মস্পর্শী ইতিহাস বোঝা। |
| আত্মউন্নয়ন ও পার্সোনাল গ্রোথ | অ্যাটমিক হ্যাবিটস – জেমস ক্লিয়ার দ্য অ্যালকেমিস্ট – পাওলো কোয়েলহো | প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনা এবং জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া। |
| মনোযোগ ও ডিজিটাল পেশা | ডোপামিন ডিটক্স – থিবো মেরিস | স্ক্রিনটাইম ও ডিজিটাল ডিসট্র্যাকশন কমিয়ে কাজে ফোকাস ধরে রাখা। |
৩. অনলাইন থেকে ফ্রি বই পড়ার গাইডলাইন

অনলাইনে বিশাল ই-বুক লাইব্রেরি BDeBooks ব্যবহার করে সহজেই যেকোনো সময় বাংলা অনুবাদ ও বিশ্বসাহিত্যের বই পড়া যায়।
[ BDeBooks ব্যবহারের সহজ ৩টি ধাপ ]
│
┌───────────────────────────────┼───────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ১. ব্রাউজ ও সার্চ ] [ ২. ফরম্যাট নির্বাচন ] [ ৩. ফ্রি ডাউনলোড ]
• লেখক (A-Z) বা জনরা • মোবাইল বা ট্যাবলেটের জন্য • কোনো রেজিস্ট্রেশন বা
অনুযায়ী বই খুঁজুন। PDF / EPUB ফরম্যাট। ফি ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড।
প্ল্যাটফর্মের প্রধান সুবিধাসমূহ
- বিশাল সংগ্রহ: প্রায় ১১,০০০+ বাংলা এবং ১৮,০০০+ ইংরেজি বইয়ের ই-বুক এখানে সাজানো আছে।
- ক্যাটাগরি: উপন্যাস, গল্প, ইতিহাস, ইসলামি বই থেকে শুরু করে আত্মউন্নয়নমূলক সব ধরনের বই ফ্রিতে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
৪. সাহিত্য পর্যালোচনা ও ইনসাইডার টিপস
- মার্কেটিং ও হিউম্যান সাইকোলজি: যাঁরা প্রযুক্তি, কন্টেন্ট বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাথে যুক্ত, তাঁদের জন্য গল্প ও ইতিহাস পড়া অত্যন্ত কার্যকর। এটি মানুষের আচরণ ও মনস্তত্ত্ব (Human Psychology) বুঝতে গভীর সাহায্য করে।
- ফোকাস ধরে রাখা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং কাজের স্ট্রিমলাইন বজায় রাখে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনার শেষ কথা: সেরা বইয়ের তালিকা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভালো বইয়ের প্রভাব সর্বজনীন। একটি ভালো ক্লাসিক উপন্যাস যেমন মানুষের অনুভূতির রূপায়ণ ঘটায়, তেমনি একটি বাস্তবমুখী আত্মউন্নয়নমূলক বই জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রচ্ছদ নিবন্ধ ও ডেসপ্যাচ
- প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ১১:১৫ (বিএসটি)
- গবেষণা ও পরিকল্পনা: গবেষণা ও সত্যতা যাচাই বিভাগ (Fact-check & Research Desk)
- সম্পাদনায়: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
- বিভাগ: ইতিহাস ও বিশ্ব সংস্কৃতি / বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক ফাইল
নরবলি কী? এর ইতিহাস কেমন?
বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় যেসব বিষয় মনুষ্যত্বকে কলঙ্কিত করেছে, ‘নরবলি’ সেগুলোর মাঝে নিঃসন্দেহে শীর্ষস্থানীয়। সেই খ্রিস্টপূর্ব সময়কাল থেকে শুরু করে এই একবিংশ শতকেও পাওয়া গেছে নরবলির বিভিন্ন নমুনা। তেমনই কিছু ইতিহাস নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এ লেখাটি।
১. কার্থেজ
প্রাচীন বিশ্বে অন্যতম সমৃদ্ধিশালী এবং একইসাথে ক্ষমতার অধিকারী ছিলো কার্থেজের অধিবাসীরা। কিন্তু এরপরও তাদের মাঝে এমন কিছু অদ্ভুত রীতিনীতি প্রচলিত ছিলো যা তৎকালীন অনেকের কাছেই বেশ বর্বর হিসেবে ঠেকতো। এর মাঝে অন্যতম ছিলো শিশুবলি দেয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তেই তারা সেসব করতো। আরেকদিক দিয়ে ঘৃণ্য এ কাজটি তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। কার্থেজের ধনী লোকেরা তাদের সম্পত্তির সুরক্ষার জন্য নিজেদের সন্তানদেরকে দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতো।
Source: Dennis Jarvis/Flickr
অনেকেই অনুমান করে থাকেন ৮০০ থেকে ১৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত (এ সময় রোমানরা কার্থেজ দখল করে নেয়) কার্থেজের আনুমানিক ২০,০০০ শিশুকে হত্যা করা হয়েছিলো ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলি দিতে গিয়ে। তবে এ মতের বিরোধীতাও করে থাকেন অনেক ঐতিহাসিক। তাদের মতে সেই শিশুদের অনেকে প্রাকৃতিক কারণেই মারা গিয়েছিলো।
২. ইসরায়েল
বিশেষজ্ঞদের মতে, নরবলি প্রচলিত ছিলো প্রাচীন ইসরায়েলেও। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের শিশুদেরকে পুড়িয়ে এ বলিদানের কাজটি সারতো। আর যে দেবতার উদ্দেশ্যে এমনটি করা হতো, তার নাম ছিলো মলোখ। তবে তাদের সবাই যে এমনটা করতো সেটা না। এক গুপ্ত সংঘের সদস্য, যারা মলোখকে তাদের দেবতা হিসেবে মানতো, তারাই এমনটা করে থাকতো।
Source: TopTenz
তবে এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে থাকেন অনেক ইতিহাসবিদই। তাই আজও এর সত্যতা রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।
৩. এট্রুস্কান সভ্যতা
প্রাচীন ইতালির বেশ সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান এক সভ্যতার নাম এট্রুস্কান। টুস্কানি, পশ্চিম আম্ব্রিয়া ও উত্তর লাজিওতে ছিলো তাদের বসবাস। মূলত কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমেই জীবিকা উপার্জন করতো তারা। কার্থেজ ও গ্রীসের সাথে তাদের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় ছিলো। পাশাপাশি বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যও তাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতো।
Source: TopTenz
এমন একটি সভ্যতার মাঝেও যে নরবলির মতো বিষয়টি প্রচলিত থাকবে, তা অনেক ইতিহাসবিদই মানতে চান নি। তবে ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের একদল প্রত্নতত্ত্ববিদের গবেষণায় সেটারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। টার্কুইনিয়াতে তারা এমন কিছু বলি দেয়া মানুষের কবরের সন্ধান পেয়েছিলেন। এদের মাঝে ছিলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা যারা অসুস্থ, নিম্ন সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন কিংবা ভিনদেশী ছিলো।
৪. চীন
নরবলির বিষয়টি প্রাচীন চীনে বেশ সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এর সবচেয়ে বেশি বিস্তৃতি ঘটেছিলো শ্যাং রাজবংশের শাসনামলে। তখন অবশ্য এত বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত নরবলির দুটো উদ্দেশ্য ছিলো- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খতম করা এবং স্রষ্টার মনোরঞ্জন করা।
Source: Chinese Cultural Relics
চীনের সেই নরবলিগুলো হতো তিন রকমের। মাটিতে গর্ত করে উৎসর্গ করা হতো যুবকদের। তাদের সবারই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা থাকতো, সাথে থাকতো না নিজেদের ব্যবহার্য কোনো জিনিসও। বিভিন্ন স্থাপনায় বলি দেয়া হতো শিশুদের। তাদের মৃত্যুটা কার্যকর করা হতো বেশ মর্মান্তিক উপায়ে। কিছুটা আলাদা জায়গায় বলি দেয়া হতো কিশোরী ও তরুণীদের। অবশ্য প্রথম দু’শ্রেণীর মতো তাদের মৃতদেহের করুণ অবস্থা হতো না। দুর্ভাগা সেই কিশোরী ও তরুণীদের মৃতদেহের সৎকার ঠিকমতোই করা হতো।
৫. হাওয়াই
এককালে হাওয়াইয়ের অধিবাসীরা মনে করতো নরবলি দেয়ার মাধ্যমে তারা যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার দেবতা ‘কু’-এর আশীর্বাদ লাভ করতে পারবে, প্রতিপক্ষকে হারাতে পারবে নানা যুদ্ধে। এ আশায় তাদের মন্দিরগুলোতে চলতো নরবলি, যেটিকে তারা বলতো ‘হেইয়াউ’। সাধারণত বিভিন্ন প্রতিপক্ষ গোত্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি, যারা যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন, তাদেরকেই বলি দেয়ার জন্য বেছে নেয়া হতো।
Sourcce: TopTenz
এজন্য সেই দুর্ভাগাকে কোনো কাঠের ফ্রেমে প্রথমে উল্টো করে ঝোলানো হতো। তারপর তাকে এমনভাবে পেটানো হতো যে তাতেই বেচারার প্রাণপাখি উড়াল দিতো। অতঃপর লোকটির নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা হতো। বলি কিন্তু ততক্ষণে মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। এবার সেই মৃতদেহ হয় রান্না করা হতো কিংবা কাঁচা খাওয়া হতো। খাদকদের মাঝে থাকতেন পুরোহিত ও গোত্রপতিরা।
৬. মেসোপটেমিয়া
বর্তমান ইরাকের অধিকাংশ, কুয়েত, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তুর্কি-সিরীয় ও ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এককালে মেসোপটেমিয়ার অংশ ছিলো। এখানকার অধিবাসীদের মাঝেও নরবলির প্রথা প্রচলিত ছিলো। রাজসভার সভাসদবর্গ, যোদ্ধা ও চাকরদেরকে তাদের মালিকের সাথে কবর দেয়া হতো যেন পরকালেও তারা তাদের মালিকের সেবা-যত্ন করতে পারে। যোদ্ধাদের সাথে তাদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দেয়া হতো, অপরদিকে চাকরদের মাথায় শোভা পেতো পাগড়ি।
অনেকদিন ধরেই ঐতিহাসিকেরা মনে করতেন এই লোকগুলোকে মারতে বিষ ব্যবহার করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে এ ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দুর্ভাগা সেই মানুষগুলোকে মারতে তাদের মাথায় বর্শা ঢুকিয়ে দেয়া হতো!
৭. অ্যাজটেক
নরবলির পেছনে অ্যাজটেকদের দর্শন ছিলো বেশ অদ্ভুত। তারা মনে করতো তাদের দেয়া এই নরবলিই সূর্যকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করবে! বলির শিকার হওয়া মানুষের রক্তকে তারা বেশ পবিত্র মনে করতো। তাদের বিশ্বাস ছিলো এই রক্ত তাদের সৌরদেবতা হুইতজিলোপোখ্তলির রাগ প্রশমন ও পুষ্টির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়।
Source: More Than A Magazine | Sia Magazin
অ্যাজটেকদের নরবলি দেয়ার প্রথাটা ছিলো বেশ ভয়াবহ। এতে স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি যুদ্ধবন্দীদেরও ব্যবহার করা হতো। কখনো কখনো বলি দিতে চাওয়া মানুষটিকে প্রথমে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো মন্দিরে। সেখানে অবস্থানরত পুরোহিত লোকটির গলা থেকে শুরু করে একেবারে পেট পর্যন্ত চিরে ফেলতেন! এরপর লোকটির হৃদপিণ্ড উৎসর্গ করা হতো দেবতার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা হতো।
৮. মিশর
Source: The Ancient Egypt Site
এককালে প্রাচীন মিশরেও প্রচলিত ছিলো নরবলির এ প্রথা। সেখানে একজন দাস বা ফারাওয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীকে তার সাথে কবর দেয়া হতো যেন মৃত্যু পরবর্তী জীবনেও তিনি তার মনিবের সেবা করে যেতে পারেন। ইজিপ্টোলজিস্ট জর্জ রেইজনার জানিয়েছেন, রাজা জার ও আহার কবরগুলো তাদের ভৃত্যদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলো। সেই ভৃত্যদের সাথে দেয়া হয়েছিলো বিভিন্ন দরকারি জিনিসপত্র যাতে পরকালে মনিবের সেবা করতে কোনোরুপ অসুবিধা না হয়!
৯. ইনকা
ইনকা সভ্যতার লোকেরা স্রষ্টার সন্তুষ্টির নিমিত্তে নরবলি দিতো। এজন্য তারা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতো শিশুদের। প্রায়ই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতো ইনকা সাম্রাজ্য। তারা মনে করতো কেবলমাত্র নরবলির মাধ্যমেই এসব দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করতে প্রাণ হারাতে হতো ইনকা শিশুদের।
ইনকা শিশুদের মমি; Source: Scientific Reports Gómez Carballa et al
আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, তাদের সমাজে এমন অনেক শিশুও ছিলো যাদের বড় করার উদ্দেশ্যই ছিলো কেবল বলি দেয়া! এসব শিশুদের বলির ব্যাপারকে ইনকারা ‘সবচেয়ে পবিত্র বলি’ হিসেবে মনে করতো। তারা বিশ্বাস করতো মৃত্যুর পর এ শিশুরা অনেক সুন্দর এক জীবনের অধিকারী হবে। অবশ্য মৃত্যুর আগে তাদের সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করা হতো। তাদেরকে দেয়া হতো পছন্দসই খাবার, এমনকি মিলতো সম্রাটের সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্যও।
১০. ফিজি
যদিও আজকের লেখায় উল্লেখ করা প্রতিটি বর্ণনাই বেশ কষ্টদায়ক, তবে ফিজির ঘটনাটি আরো বেশিই কষ্টদায়ক। সেখানে এককালে নিয়ম ছিলো স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রীকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে হবে। সেখানকার নানা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বেশ গুরুত্বের সাথেই এ নিয়মটি অনুসরণ করতো। তারা বিশ্বাস করতো স্ত্রীর কর্তব্য হলো ইহকালের পাশাপাশি পরকালেও স্বামীকে সঙ্গ দেয়া। এজন্য স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে তার সকল স্ত্রীকেই বলির শিকার হতে হতো।
বিধবা এ সকল নারীকে বলা হতো ‘থোথো’, যার অর্থ ‘স্বামীর কবরের গালিচা’! আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো নারীদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করার দায়িত্বটি পালন করতো তাদের আপন ভাইয়েরা। সেটা না করতে পারলে অন্তত নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী তাকে অবশ্যই হওয়া লাগতো।
১১. ডাহোমে
Source: Wikimedia Commons
পশ্চিম আফ্রিকার পুরনো এক রাজ্যের নাম ছিলো ডাহোমে। সেখানে বার্ষিক এক উৎসবের নাম ছিলো জোয়েতানু। জোয়েতানুতে নানা ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলো নরবলি। এজন্য বেছে নেয়া হতো দাস-দাসী ও বিভিন্ন যুদ্ধবন্দীদের। জীবিত ও মৃত রাজাদের সম্মানার্থে সংঘটিত এ নরবলি কার্যকর করা হতো মূলত শিরশ্ছেদের মাধ্যমে। এটা এতই বহুল প্রচলিত এক চর্চা ছিলো যে, শুধুমাত্র এক রাজার শাসনামলেই আনুমানিক ৭,০০০ লোক এ জোয়েতানুর নরবলিতে মারা যায় বলে জানা গেছে।
১২. মায়া
Source: More Than A Magazine | Sia Magazin
প্রাচীনকালে মায়া সভ্যতার লোকেরাও এ প্রথা অনুসরণকারীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলো। বিশেষ কোনো উপলক্ষে তারা এমনটা করতো। নরবলিগুলো মাঝে মাঝে দেয়া হতো মন্দিরে। দুর্ভাগারা অধিকাংশ থাকতো বিভিন্ন যুদ্ধবন্দী। চিচেন ইৎজাতে নরবলি দেয়ার সময় বৃষ্টির দেবতা চাকের সম্মানার্থে বন্দীদের গায়ে নীল রঙ মাখা হতো। এরপর তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হতো কোনো কুয়ায়।
১৩. সতীদাহ
সতীদাহ প্রথার অস্তিত্ব ছিলো আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেই। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন নারী বিধবা হবার পর স্বামীর সাথে সহমরণে চিতায় যাবার বিষয়টিকেই বলা হয় সতীদাহ। নারী কখনো যেতেন স্বেচ্ছায়, কখনো বা জোরপূর্বক তাকে পাঠানো হতো। বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে অমানবিক এ প্রথার অবসান ঘটে।
Source: Hindu Human Rights Worldwide
তবে এখনো এর অস্তিত্ব একেবারে মিলিয়ে যায় নি। ২০০৬ সালে বিবিসির এক খবরে জানা যায়, ভারতের মধ্যপ্রদেশের তুসলিপার গ্রামের চল্লিশ বছর বয়স্কা এক নারী স্বামীর মৃত্যুর পর সতীদাহ প্রথার মাধ্যমে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তবে কেউ তাকে বাধ্য করে নি। তিনি নিজেই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
৪. সম্পাদকীয় মতামত: অন্ধবিশ্বাস বনাম আধুনিক মানবিক চেতনা
সম্পাদকীয় মন্তব্য:
নরবলির ইতিহাস কেবল অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংসতার বিবরণ নয়; এটি মূলত মানবীয় চেতনার বিবর্তনের দলিল। প্রাচীন কার্থেজের আগুনে শিশুবলি থেকে শুরু করে অ্যাজটেকদের ছাতি চিরে হৃদপিণ্ড উপড়ে ফেলা কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশের সতীদাহ প্রথা—প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও আইনের শাসন ছাড়া অন্ধবিশ্বাস কীভাবে মানুষকে পশুর চেয়েও হিংস্র করে তুলতে পারে।
আধুনিক যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কুসংস্কারের বশে যে বিচ্ছিন্ন বলিদানের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সচেতনতার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আধুনিক সভ্যতার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানুষের জীবনের পবিত্রতা রক্ষা ও অন্ধত্বের শিকল ভাঙা।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Sources & Citation):
- National Geographic & British Museum Archaeological Records on Human Sacrifice.
- Gómez Carballa et al., Scientific Reports (Inca Ice Mummies DNA Analysis).
- Journal of Chinese Cultural Relics & Shang Dynasty Historical Archives.
- George Reisner, Early Dynastic Egypt Burial Research (Harvard University).
- BBC News Reports & Historical Archives on Sati Abolition and Thuggee Cult Elimination.
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



