অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতির মহাস্থপতি সাইফুর রহমান: কেন তিনি ইতিহাসের সেরা অর্থমন্ত্রী?
সাইফুর রহমান বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী?

নিউজ ডেস্ক

January 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে অনেক যোগ্য ব্যক্তি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু যখনই প্রশ্ন আসে—সবচেয়ে সেরা এবং যোগ্য অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন? তখন নির্দ্বিধায় একটি নামই সবার আগে উঠে আসে; তিনি হলেন এম. সাইফুর রহমান। ১২ বার বাজেট পেশ করার অনন্য রেকর্ডধারী এই মানুষটি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এবং আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাতা।

কেন তিনি অনন্য? তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

সাইফুর রহমান পেশায় ছিলেন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ১৯৬২ সালে পেশাজীবী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। তাঁর মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ মেলে যখন ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনে প্রাইভেট সেক্টর থেকে একমাত্র সদস্য হিসেবে তিনি মনোনীত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালেও তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ছিলেন।

  • রেকর্ডধারী বাজেট প্রণেতা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বার্ষিক বাজেট পেশ করার বিরল কৃতিত্ব তাঁর।
  • ভ্যাট (VAT) প্রবর্তন: ১৯৯১ সালে তাঁর আমলেই বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট (VAT) প্রবর্তিত হয়, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৯৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনের গভর্নর নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া তিনি এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: বাঙালি অর্থনীতির বিবর্তন

বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি ও বঞ্চনার ইতিহাস এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ শাসনের সময়ে এ অঞ্চলের সম্পদ পাচার হতো লন্ডনে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণে পূর্ব বাংলার অর্থনীতি ছিল পঙ্গু।

  • ১৯৭১ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: স্বাধীনতার পর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আশি ও নব্বইয়ের দশকে সাইফুর রহমান মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবর্তন করে দেশের বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করেন।
  • ২০০৫ ও একুশে পদক: ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়।
  • ২০২৪-২০২৬ এর বর্তমান অর্থনীতি: ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বড় ধরণের সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করতে নীতিনির্ধারকরা আজও সাইফুর রহমানের প্রবর্তিত অনেক অর্থনৈতিক মডেলকে অনুসরণ করছেন।

বিশ্লেষকদের চোখে সাইফুর রহমান

বিশ্লেষকদের মতে, সাইফুর রহমান কেবল বাজেট দেননি, তিনি কৃচ্ছ্রতা সাধনের মাধ্যমে দেশের অর্থ সাশ্রয় করতে শিখিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত অডিট ফার্ম ‘রহমান, রেহমান অ্যান্ড হক’ আজ বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উক্তি

  • সাইফুর রহমান (বাজেট বক্তৃতায়): “আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু আমাদের ইচ্ছাশক্তি অসীম। আমরা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
  • বিডিএস বুলবুল আহমেদ (বিশ্লেষণ): “১৯০০ সালের শোষিত অর্থনীতি থেকে ২০২৬ সালের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতি—এই দীর্ঘ যাত্রায় সাইফুর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শনই ছিল বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।”

সূত্র: বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় আর্কাইভ, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন প্রতিবেদন (১৯৯৪), একুশে পদক গেজেট এবং বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির অর্থনৈতিক গবেষণা সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দরিদ্র জেলা

নিউজ ডেস্ক

July 17, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রতিবেদন | ময়মনসিংহ

প্রতিবেদক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ আপডেট: ১৮ জুলাই, ২০২৬ (রাত ১২:০৫ মিনিট)

ঢাকা/ময়মনসিংহ: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ অফিসিয়াল ‘দারিদ্র্য মানচিত্র’ (Poverty Map) এবং উপজেলাভিত্তিক সমীক্ষায় দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য ও আঞ্চলিক বৈষম্যের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৯.২ শতাংশ। তবে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে এই হারের বিশাল তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে দেশের দরিদ্রতম জেলা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে ঢাকা বিভাগেরই মাদারীপুর জেলা (দারিদ্র্যের হার ৫৪.৪%), অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাটের মতো উপজেলাগুলোতে উচ্চ দারিদ্র্য ও জরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাঝেও শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে এই অবহেলিত জনপদগুলোকে বদলে দেওয়ার বৃহৎ মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

১. দেশের শীর্ষ ১০ দরিদ্র জেলা ও বিত্তশালী অঞ্চলের তুলনামূলক চিত্র

বিবিএস-এর সর্বশেষ দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০টি দরিদ্র জেলার তালিকা এবং তাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ দরিদ্র জেলা (BBS ২০২৬)

ক্রমিকজেলার নামদারিদ্র্যের হার (%)প্রশাসনিক বিভাগ
১.মাদারীপুর৫৪.৪%ঢাকা
২.নরসিংদী৪৩.৭%ঢাকা
৩.পিরোজপুর৪৩.৩%বরিশাল
৪.কিশোরগঞ্জ৪২.৯%ঢাকা
৫.চাঁপাইনবাবগঞ্জ৪২.১%রাজশাহী
৬.কুড়িগ্রাম৪১.০% (প্রায়)রংপুর
৭.দিনাজপুর৩৯.৫% (প্রায়)রংপুর
৮.বান্দরবান৩৮.২% (প্রায়)চট্টগ্রাম
৯.মাগুরা৩৭.০% (প্রায়)খুলনা
১০.লালমনিরহাট৩৬.৪% (প্রায়)রংপুর

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান: দেশের একক কোনো উপজেলা হিসেবে দরিদ্রতম হলো মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলা (দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ ৬৩.২%)। বিভাগীয় ভিত্তিতে দেশের সবচেয়ে দরিদ্রতম বিভাগ বরিশাল (২৬.৬%)। বিপরীতে, দেশের সবচেয়ে কম দারিদ্র্যপীড়িত বা বিত্তশালী জেলা হলো নোয়াখালী (দারিদ্র্যের হার মাত্র ৬.১%) এবং দেশের সবচেয়ে ধনী একক এলাকা ঢাকার পল্টন (দারিদ্র্যের হার মাত্র ১%)।

২. ময়মনসিংহ জেলা ও ধোবাউড়া উপজেলার আর্থ-সামাজিক চালচিত্র

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্যমতে, সামগ্রিকভাবে ময়মনসিংহ জেলার দারিদ্র্যের হার প্রায় ২২ শতাংশ এবং গোটা বিভাগের হার ২২.৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিভাগে দারিদ্র্য কিছুটা কমলেও উপজেলাভিত্তিক চিত্র বেশ উদ্বেগজনক।

  • হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার সংকট: ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলা হচ্ছে জেলার সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা, যেখানে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫৯.৬%, যা দেশের শীর্ষ ১০টি দরিদ্র উপজেলার অন্যতম। ঠিক তার পাশেই অবস্থিত ধোবাউড়া উপজেলা, যার সার্বিক দারিদ্র্যের হার ৪৪ শতাংশ। এটি বিবিএস কর্তৃক অতি-উচ্চ দারিদ্র্যসীমা (Very High Poverty Incidence) হিসেবে চিহ্নিত।
  • অর্থনীতির মূল উৎস: ধোবাউড়ার প্রায় ৭২% পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজ এবং দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। ভৌগোলিক অবস্থান ও বড় শিল্পকারখানা না থাকায় এখানে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি ধীর। বিপরীতে, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন বা শহরাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক কম (প্রায় ২৬%)।

৩. ধোবাউড়ার শিক্ষাব্যবস্থা ও কলসিন্দুরের বৈশ্বিক খ্যাতি

দুর্গম ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে ধোবাউড়া উপজেলার গড় সাক্ষরতার হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৬৫%-এ উন্নীত হয়েছে (পূর্বে যা প্রথাগতভাবে মাত্র ২৯.৪% থেকে ৩০% ছিল)।

  • লিঙ্গভিত্তিক সাক্ষরতা: ধোবাউড়ায় পুরুষ সাক্ষরতার হার ৬৮% এবং নারী সাক্ষরতার হার ৬২%।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান: উপজেলায় ৩টি সাধারণ কলেজ, ১টি কারিগরি স্কুল ও কলেজ, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি জুনিয়র হাই স্কুল, ৬টি মাদ্রাসা এবং ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৪৩টি সরকারি ও ৪৪টি বেসরকারি/এনজিও পরিচালিত) শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছে।

কলসিন্দুরের প্রমিলা ফুটবল বিপ্লব

ধোবাউড়া উপজেলার শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় গৌরব নিয়ে এসেছে কলসিন্দুর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ (EIIN: 111388)। এই প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ’-এ একাধিকবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অনূর্ধ্ব ও মূল দলের অনেক তারকা ফুটবলারই এই প্রত্যন্ত কলসিন্দুর গ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ধোবাউড়া আদর্শ সরকারি কলেজ (EIIN: 111386) এবং ধোবাуড়া বহুমুখী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (EIIN: 111360) এই অঞ্চলের শিক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত।

৪. যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান সংকট ও ২০২৬-২৭ এর মহাপরিকল্পনা

ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে ১৭২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধোবাউড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রধানত সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলটি একটি বড় যাতায়াত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান বেইলি সেতু ধসের সংকট

২০২৬ সালের জুন মাসে ধোবাউড়া-তারাকান্দা প্রধান সড়কের গোয়াতলা বাজার এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি সেতুটি বালুবোঝাই ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এর ফলে জেলা সদরের সাথে ধোবাউড়ার সরাসরি প্রধান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং বর্তমানে যাত্রীদের ভেঙে ভেঙে সিএনজি (ভাড়া প্রায় ১৫০ টাকা) বা বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে চিনামাটির পাহাড় ও গারো পাহাড় সংলগ্ন সীমান্তবর্তী রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এলজিইডি (LGED) ও ইউপির নতুন উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৬-২৭)

এই জরাজীর্ণ দশা কাটাতে এবং গ্রামীণ জনপদকে মূল সড়কের সাথে যুক্ত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ২০ workbench-২৭ অর্থবছরে নতুন বরাদ্দ ও পাকা রাস্তার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:

  1. ৬নং ঘোষগাঁও ইউনিয়ন: এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে ঘোষগাঁও-ধোবাউড়া মেইন রোড সংস্কারের পিচ ঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। ঘোষগাঁও বাজার ভিআইপি রোড থেকে নাসারেথ সড়ক পর্যন্ত এডিপি (ADP) তহবিল থেকে নতুন বাজেট পাস হয়েছে এবং হাজংপাড়া কান্দাবাড়ির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় ইটের সলিং (HBB) ও আরসিসি ঢালাই শুরু হয়েছে।
  2. ধোবাউড়া সদর ইউনিয়ন: উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান প্রজেক্ট (UTMIDP)-এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকার কাঁচা রাস্তাগুলোকে আরসিসি ও বিসি করকার্পেটিংয়ের মাধ্যমে পাকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিআর/কাবিখা প্রকল্পের অধীনে মাটি ভরাট ও গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে।
  3. ভেদিকুড়া সীমান্ত এলাকা ও পর্যটন পরিকল্পনা: দৃষ্টিনন্দন ভেদিকুড়া (Vedikura) সীমান্ত অঞ্চলকে একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র ও বাণিজ্যিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিশেষ ‘সীমান্ত সড়ক’ (Border Road) নেটওয়ার্কে একে যুক্ত করার কারিগরি জরিপ সম্পন্ন করেছে এলজিইডি ময়মনসিংহ জোন। এখানকার কাঁচা রাস্তাগুলোকে পর্যায়ক্রমে টেকসই বিটুমিনাস কার্পেটিং (BC) রাস্তায় রূপান্তর এবং পাহাড়ি ঢল থেকে সড়ক রক্ষায় সুরক্ষামূলক গাইড ওয়াল ও আরসিসি ড্রেনেজ ব্যবস্থার নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভবিষ্যত লক্ষ্য: এই প্রকল্পগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ধোবাউড়ার ৩৪০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার সিংহভাগই টেকসই পাকা সড়কে রূপান্তর হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা এবং ভেদিকুড়ার পর্যটন খাতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব আনবে।

তথ্যের উৎস ও রেফারেন্স (Sources & References)

দেশের সার্বিক দারিদ্র্য সূচক, জেলাভিত্তিক উন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো এবং ময়মনসিংহের সমসাময়িক লাইভ নিউজ আপডেট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল নিউজ পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার যেকোনো নিউজ পোর্টাল, সরকারি-বেসরকারি প্রজেক্ট প্রোফাইল কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের প্রফেশনাল ও শতভাগ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট রাইটিং সেবার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমার নিজস্ব সাইট bdsbulbulahmed.com-এ (আমার ৬ বছরের কাজের ট্র্যাক রেকর্ড ও সফল প্রজেক্টের প্রমাণ দেখতে সরাসরি আমার গুগল ড্রাইভ পোর্টফোলিও লিংক ভিজিট করতে পারেন)।

‘ফার্মের মুরগি

নিউজ ডেস্ক

July 17, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ লাইভ আপডেট | ঢাকা

প্রতিবেদক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

প্রকাশের তারিখ: ১৭ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬ (রাত ১১:৩০ মিনিট)

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো একক মন্তব্যের জেরে ডিজিটাল ও অফলাইন প্রতিরোধের মুখে কোনো মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পতনের ঘটনা বিরল। তবে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া অভূতপূর্ব এক ‘ডিজিটাল-নেটিভ’ ছাত্র আন্দোলনের মুখে ঠিক এই নাটকীয় পতনের সাক্ষী হলো দেশ। ২০০১ সালের ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ আন্দোলনের অবিসংবাদিত নায়ক ও নবগঠিত মন্ত্রিসভার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে শেষপর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অতিবৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তাঁর করা একটি অবমাননাকর মন্তব্য এবং এর জেরে জেন-জি (Gen-Z) তরুণদের গড়ে তোলা ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

১. জন্ম, উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক উত্থান: জিরো টলারেন্সের ‘হেলিকপ্টার মিলন’

১ জানুয়ারি ১৯৫৬ (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) অথবা ২৬ মার্চ ১৯৫৭ সালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবু নাসের মুহাম্মদ এহসানুল হক মিলন। শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ (MBA) এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি লাভ করেন।

তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ভিপি (VP) হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে প্রবাসেও দলের হাল ধরেন।

‘নকল মুক্ত পরীক্ষা আন্দোলন’ (২০০১-২০০৬)

২০০১ সালে চাঁদপুর-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। সে সময় দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে (এসএসসি ও এইচএসসি) প্রাতিষ্ঠানিক নকলের এক ভয়াবহ কালচার তৈরি হয়েছিল। ড. মিলন এর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল রুখতে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট ব্যবহার করে আকস্মিক হানা দিতে শুরু করেন, যার ফলে দেশজুড়ে তিনি “হেলিকপ্টার মিলন” বা “নকল ধরার মন্ত্রী” হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি ও প্রশংসা কুড়ান। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নকল সরবরাহকারীদের কারাদণ্ড দিয়ে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক বড় কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছিলেন।

২. ২০২৬ সালের ‘ফার্মের মুরগি’ বিতর্ক ও অডিও ফাঁস

দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পার করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় পুনরায় শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. মিলন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি এক চরম সংকটের মুখে পড়েন।

২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে অতিবৃষ্টি ও তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। এই সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শারীরিক সহনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি কথিত ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। উক্ত ফোনালাপে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বা ‘ব্রয়লার মুরগি’-র সাথে তুলনা করেন। এই অবমাননাকর মন্তব্যটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্মের (Gen-Z) আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত লাগে।

৩. ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ: জেন-জি জেনারেশনের ডিজিটাল স্ট্রাইক

শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হীনম্মন্যতায় না ভুগে তরুণরা একটি অভিনব ও হাইপার-ভাইরাল ব্যঙ্গাত্মক অস্ত্রে রূপান্তর করে। ফেসবুকে রাতারাতি আত্মপ্রকাশ করে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ (Broiler Chicken Party) নামক একটি প্রতীকী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

আন্দোলনের ডিজিটাল ও অফলাইন ইমপ্যাক্ট বিশ্লেষণ:

  • Meme Warfare (মেমে যুদ্ধ): শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর অডিও ক্লিপ ব্যবহার করে হাজার হাজার রিলস, টিকটক, কার্টুন এবং স্যাটারিকাল ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকের অ্যালগরিদমকে সম্পূর্ণ ডোমিনেট করে ফেলে। তাদের প্রধান অনলাইন স্লোগান ছিল—“We are not insulted, We are awakened” (আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত)
  • ভার্চুয়াল থেকে রাজপথ: এই অনলাইন ক্ষোভ দ্রুততম সময়ে অফলাইন তথা রাজপথে রূপ নেয়। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধকালে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে থাকে—“তুমি কে আমি কে, ফার্মের মুরগি!”
  • জাতীয় সংহতি: এই প্রতীকী দলটির প্রভাব এতটাই সুদূরপ্রসারী ছিল যে, জাতীয় নাগরিক কমিটির ভেরিফাইড আঞ্চলিক পেজগুলোও এই ভার্চুয়াল আন্দোলনের অনুসারী হিসেবে যুক্ত হয়ে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।

৪. জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত পতন: ১৩ জুলাইয়ের পদত্যাগ

ডিজিটাল স্পেসে তৈরি হওয়া এই অভূতপূর্ব ঝড়ের তীব্রতা সরকারের উচ্চমহলকে কাঁপিয়ে দেয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ড. মিলন প্রথমে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

তবে ক্ষমা চাওয়ার পরও ডিজিটাল স্পেসে তার পদত্যাগের দাবি ‘টপ ট্রেন্ডিং’ হিসেবে বহাল থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে আন্দোলনের মাত্র কয়েক দিনের মাথায়, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত/পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

সারসংক্ষেপ: ২০০১ সালে ড. মিলন যে জেনারেশনের ওপর ভর করে ‘নকলের বিরুদ্ধে’ সফলতা পেয়েছিলেন, ২০২৬ সালে এসে পরিবর্তিত ডিজিটাল যুগের নতুন জেনারেশনের (জেন-জি) ‘মেমে কালচার’ ও রিয়েল-টাইম অ্যাক্টিভিজমের শক্তির কাছে তাকে নতি স্বীকার করতে হলো।

তথ্যের উৎস ও রেফারেন্স (Sources & References)

চলমান ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা ব্যবস্থার সমসাময়িক পরিস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতির নিরপেক্ষ ও লাইভ নিউজ আপডেট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল নিউজ পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার যেকোনো নিউজ পোর্টাল, এডুকেশন ব্লগ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের প্রফেশনাল ও শতভাগ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট রাইটিং সেবার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমার নিজস্ব সাইট bdsbulbulahmed.com-এ (আমার ৬ বছরের কাজের ট্র্যাক রেকর্ড ও সফল প্রজেক্টের প্রমাণ দেখতে সরাসরি আমার গুগল ড্রাইভ পোর্টফোলিও লিংক ভিজিট করতে পারেন)।

টাকা

নিউজ ডেস্ক

July 15, 2026

শেয়ার করুন

অর্থনীতি ও মুদ্রা নিরাপত্তা |

পালস বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অন্যতম প্রধান প্রতীক হলো তার নিজস্ব মুদ্রা। আমাদের নিত্যদিনের লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ‘টাকা’ শব্দটি এসেছে প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা বা সংস্কৃত শব্দ ‘টঙ্কা’ থেকে, যা কালক্রমে ‘টাকা’ রূপ ধারণ করে। অনেকেই হয়তো ভাবেন বাংলাদেশের টাকা অন্য কোনো উন্নত দেশ থেকে ছাপিয়ে আনা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দেশেই টাকা তৈরি করে।

বাংলাদেশের টাকা কোথায়, কেন এবং কীভাবে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে তৈরি করা হয়, তার আদ্যোপান্ত এবং আসল নোট চেনার বৈজ্ঞানিক উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. বাংলাদেশের টাকা কোথায় বানানো হয়?

বাংলাদেশের সব ধরনের কাগজের নোট এবং সরকারি স্ট্যাম্প তৈরি করা হয় গাজীপুরের শিমুলতলীতে অবস্থিত ‘দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ (The Security Printing Corporation)-এ। সাধারণ মানুষের কাছে এটি দেশের একমাত্র ‘টাঁকশাল’ (Mint) নামে পরিচিত।

১৯৮৯ সালে গাজীপুরের এই বিশেষায়িত ও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কাজ শুরু করে। এর আগে বাংলাদেশের টাকা ছাপানোর জন্য সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইংল্যান্ডের মতো বিদেশী মুদ্রণালয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো।

২. দেশে টাকা বানানোর মূল কারণসমূহ

কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে নিজস্ব টাঁকশাল স্থাপন করা হলো? এর পেছনে প্রধান ৪টি কারণ রয়েছে:

  1. অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও খরচ কমানো: দেশের বাইরে থেকে টাকা ছাপিয়ে আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হতো। গাজীপুরে নিজস্ব টাঁকশাল স্থাপনের ফলে বাংলাদেশ এই বিশাল খরচ সম্পূর্ণভাবে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে।
  2. নিরাপত্তা ও পরম গোপনীয়তা: মুদ্রা ছাপানো যেকোনো দেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। দেশে টাকা ছাপানোর ফলে ডিজাইনের প্লেট, জলছাপের ডাই এবং বিশেষ কালির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
  3. মুদ্রার চাহিদা ও স্থায়িত্ব রক্ষা: বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি পুরোনো, ছেঁড়া, ফাটা বা নষ্ট নোট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয় এবং তা পুড়িয়ে বা কেটে ধ্বংস করা হয়। বাজারে টাকার সরবরাহ সচল রাখতে সমপরিমাণ নতুন নোট তাৎক্ষণিকভাবে ছাপাতে নিজস্ব টাঁকশাল সার্বক্ষণিক কাজ করে।
  4. জাল নোট প্রতিরোধ: নিজস্ব ছাপাখানা থাকায় আধুনিক বিশ্বমানের নিরাপত্তা প্রযুক্তি নোটে যুক্ত করা সহজ হয়, যা দেশীয় জালিয়াত চক্রের পক্ষে নকল করা অসম্ভব।

৩. টাকা তৈরির নিখুঁত প্রক্রিয়া ও বাজারে আসার ধাপসমূহ

গাজীপুরের টাঁকশালে টাকা তৈরি থেকে শুরু করে আমাদের পকেটে আসা পর্যন্ত কাজটি ৩টি ধাপে সম্পন্ন হয়:

[কাগজ ও কালি আমদানি] ➔ [ইন্টাগ্লিও ও নম্বর প্রিন্টিং] ➔ [বাংলাদেশ ব্যাংক ভল্ট] ➔ [বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এটিএম] ➔ [জনসাধারণ]

ক. উৎপাদন প্রক্রিয়া (Printing Phase):

  • বিশেষ কটন পেপার: টাকা তৈরির কাগজ সাধারণ কাগজ নয়, এটি মূলত বিশেষ কটন বা তুলার মণ্ড থেকে তৈরি পেপার, যা সহজে পানিতে ভেজে না বা ছিঁড়ে যায় না। এই কাগজ এবং বিশেষ ওভিআই (OVI) কালি আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার দিতে হয়, যা দেশে পৌঁছাতে প্রায় ৯-১০ মাস সময় লাগে।
  • ইন্টাগ্লিও মুদ্রণ ও কাটিং: প্রথমে অফসেট মেশিনে সাধারণ জলছাপসহ ব্যাকগ্রাউন্ড প্রিন্ট হয়। এরপর ইন্টাগ্লিও (Intaglio) নামক বিশেষ মেশিনে ত্রিমাত্রিক বা উঁচু-নিচু নকশা এবং সবশেষে ইউনিক সিরিয়াল নম্বর বসানো হয়। ১০ থেকে ১০০ টাকার নোট ছাপতে প্রায় ১৭ দিন এবং ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে ২৬ দিনের মতো সময় লাগে।

একটি দারুণ তথ্য: বর্তমানে প্রতিটি ১০০০ টাকার নোট ছাপতে সরকারের খরচ হয় প্রায় ৫.০০ টাকা এবং ৫০০ টাকার নোটে খরচ হয় প্রায় ৪.৭০ টাকা

খ. বাজারজাতকরণ (Distribution Phase):

ছাপানো শেষে নতুন নোটগুলো কঠোর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ভল্টে এবং সারা দেশের সোনালী ব্যাংকের বিশেষ চেস্ট (ভল্ট) শাখাগুলোতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো (যেমন- ব্র্যাক, ডাচ-বাংলা ইত্যাদি) তাদের চেকের বিপরীতে টাকা সংগ্রহ করে এটিএম বুথ বা কাউন্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়।

৪. আসল ও নকল টাকা চেনার প্রধান ৪টি বৈজ্ঞানিক উপায়

বাংলাদেশ ব্যাংক জাল নোটের বিস্তার রোধে উচ্চ মূল্যমানের ব্যাংক নোটগুলোতে (যেমন: ৫০০ ও ১০০০ টাকা) বিশ্বমানের কিছু সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত করেছে। খালি চোখে আসল নোট চেনার পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. জলছাপ (Watermark):

নোটটি আলোর বিপরীতে ধরলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বা সাম্প্রতিক সিরিজের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মুখ স্পষ্ট ফুটে ওঠে। এর ঠিক পাশেই ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’-এর মনোগ্রাম এবং নোটের সংখ্যাগত মূল্যমান (যেমন: ৫০০ বা ১০০০) অত্যন্ত উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে, যা সাধারণ আলোতে দেখা যায় না।

২. হলোগ্রাফিক নিরাপত্তা সুতা (Security Thread):

নোটের বাম পাশে ৪ মিমি (৫০০ টাকার নোটে) এবং ৫ মিমি (১০০০ টাকার নোটে) চওড়া একটি ধাতব সুতা কাগজের ভেতরে গেঁথে দেওয়া থাকে। নোটটি নাড়াচাড়া করলে এই সুতার রঙ লাল থেকে সোনালি বা সবুজ রঙে পরিবর্তিত হয় এবং এর ওপর ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ ও সংখ্যাটি স্পষ্টভাবে খোদাই করা থাকে। জাল টাকায় এটি আঠা দিয়ে লাগানো থাকে, যা নখ দিয়ে টানলেই উঠে আসে।

৩. খসখসে বা উঁচু লেখা (Intaglio Printing):

নোটের সামনের মূল ছবি (যেমন: স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনার), ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখা এবং টাকার অংকটি বিশেষ কালিতে উঁচু করে ছাপা হয়। হাত দিয়ে স্পর্শ করলে এই অংশগুলো স্পষ্ট খসখসে লাগবে। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চেনার জন্য ১০০ টাকার নোটে ৩টি, ৫০০ টাকার নোটে ৪টি এবং ১০০০ টাকার নোটে ৫টি ছোট গোল বিন্দু বা ডট থাকে যা হাত দিলেই উঁচু অনুভূত হয়।

৪. রঙ পরিবর্তনশীল কালি (OVI – Optically Variable Ink):

নোটের ওপরের ডানদিকের কোণায় অংকে লেখা মূল্যমানটি (500 বা 1000) একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক কালিতে ছাপা হয়। সরাসরি তাকালে এটি যে রঙের দেখাবে, নোটটি কিছুটা কোণাকুণি বা বাঁকা করে ধরলে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙে (যেমন: সোনালি থেকে সবুজ বা ম্যাজেন্টা থেকে সবুজ) রূপান্তরিত হবে।

তথ্যের উৎস ও রেফারেন্স (Sources & References)

অর্থনীতি, মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার এমন সব আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল সাধারণ জ্ঞান এবং সচেতনতামূলক গাইডলাইন নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। আপনি যদি আপনার তথ্যভিত্তিক সাইট, কর্পোরেট পোর্টাল বা ব্লগের জন্য শতভাগ ইউনিক ও এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট রাইটিং সেবা চান, তবে সরাসরি ভিজিট করতে পারেন আমার নিজস্ব সাইট bdsbulbulahmed.com-এ

৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ