বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
এডওয়ার্ড মাইকেল “বিয়ার” গ্রিল্স একজন ব্রিটিশ অভিযাত্রী, লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি তার ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড, যা যুক্তরাজ্যে বর্ন সার্ভাইবর: বিয়ার গ্রিল্স নামে প্রচলিত, টেলিভিশন ধারাবাহিকের কারণে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক টেলিভিশন ধারাবাহিকের সাথে যুক্ত ছিলেন। ডিসকভারি চ্যানেলের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ Man vs Wild–এর উপস্থাপক বেয়ার গ্রিলসকে (Bear Grylls) চেনে না এমন মানুষ বোধহয় খুব কমই আছেন।
বিয়ার গ্রিলস একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী

এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস। চিনেনা বা নাম শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। দুঃসাহসী ও দুর্ধর্ষ অভিযাত্রী বলতে যার নাম সবার প্রথমে আসে তিনি ডিসকভারি চ্যানেলের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানের বিয়ার গ্রিলস।
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক, দুর্গম জায়গায় কিভাবে টিকে থাকতে হয় বিয়ার গ্রিলস তা দেখিয়ে আসছেন নিজের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে। কখনো পাহাড়, কখনো সমুদ্র, কখনো মহাসাগরের কোন এক অচেনা দ্বীপে, অথবা কখনো কোন বরফাচ্ছন্ন এলাকায় ভয়ংকর পশু থেকে, অথবা বিপদ সংকুল আমাজনের মত জঙ্গল থেকে, খাদ্যাভাবে পড়ে থাকা কোন নির্জন যায়গা থেকে লড়াই করে কি করে লোকালয়ে ফিরে আসতে হয় এসব দুঃসাহসিক অভিযান গুলো দেখান নিজের জীবন বিপন্ন করে। তার এ দুঃসাহসিক অভিযানগুলো তাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার এক অন্য মাত্রায়।
(Source: The Official Bear Grylls Website)
জন্ম ও পরিচয়:
ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতিবিদ স্যার মাইকেল গ্রিলস ও লেডি গ্রিলস এর ঘরে ১৯৭৪ সালের ৭ জুন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন বিয়ার গ্রিলস। তার পূর্ণ নাম এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস। বিয়ার নামটি রাখেন তার বড় বোন লারা ফাউসেট। লারা ফাউসেট পেশায় একজন টেনিস কর্মকর্তা। চার বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ার উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডোনাঘাডি অঞ্চলে অবস্থান করেন। এরপর পরিবারের সাথে কেমব্রিজ অঞ্চলে পাড়ি জমান।
কিশোর বিয়ার গ্রিলসঃ
খুব অল্প বয়সেই বিয়ার তার বাবার কাছ থেকে নৌকা চালানো ও পর্বত আরোহণ শিখেন। বিয়ার গ্রিলসের বাবা মাইকেল গ্রিলস ছিলেন একজন দক্ষ নৌচালক। বিয়ার লুডগ্রুভ স্কুল, ইটন কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে শিক্ষা লাভ করেন। ইটন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কলেজে প্রথম পর্বতারোহণ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন বিয়ার। মাত্র ৮ বছর বয়সে বিয়ার স্কাউটে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি স্কাউটের বিশাল এক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ধর্মের প্রতি বিয়ার অসীম অনুরাগী ছিলেন। ধর্ম বিশ্বাস জীবনের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন। বিয়ার গ্রিলস খৃষ্ট ধর্ম বিশ্বাসী।
Source: Insurance for Car)
সামরিক বাহিনীতে বিয়ার:

সিকিম অঞ্চলে হিমালয়ে হাইকিং করার সময় বিয়ার ভারতীয় সেনাবাহিনী তে যোগদান করার উৎসাহ প্রকাশ করেন। তখন তিনি মাত্র স্কুল জীবন শেষ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তে যোগদান করেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে সফলতার সাথে কাজ করার পর তিনি সেনাবাহিনী থেকে ইউনাইটেড কিংডম স্পেশাল ফোর্স রিজার্ভে কাজ করেন।
প্যারাসুট দুর্ঘটনায় বিয়ার গ্রিলসঃ
স্পেশাল ফোর্সে থাকাকালীন ১৯৯৬ সালে বিয়ার জাম্বিয়ায় প্যারাসুট ট্রেনিং করাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিয়ার নিজেই ভয়াবহ প্যারাসুট দুর্ঘটনায় পতিত হন। দুর্ঘটনা এতই ভয়াবহ ছিল যে, ডাক্তার বলেছে, মেরুদণ্ডের তিনটি হাড় পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে এবং তার পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ফলে বিয়ার কে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনী ফোর্স থেকে অবসর নিতে হয়। বারো মাস বিয়ার সব কিছু থেকে দূরে থাকলেও হাল ছেড়ে দেন নি। পরিশ্রম করে গেছেন। লড়াই করে গেছেন তার ভাঙ্গা মেরুদণ্ডের বিরুদ্ধে। অবশেষে সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেড় বছর পর সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন বিয়ার গ্রিলস। মানব সেবায় অবদান রাখার জন্যে ২০০৪ সালে বিয়ার গ্রিলসকে সম্মানসূচক ল্যাফটেনেন্ট কমান্ডারের পদবী দেয়া হয়
(সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিয়ার গ্রিলস এর মাউন্ট এভারেস্ট জয় Source: Daily Mail)
সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিয়ার গ্রিলস এর মাউন্ট এভারেস্ট জয়:
খুব ছোট বেলায় বাবার কাছে পর্বতারোহণ শিখেন বিয়ার গ্রিলস। আট বছর বয়সে সিকিমে থাকাকালীন একবার তার বাবা তাকে মাউন্ট এভারেস্টের একটা ছবি উপহার দেন। তখন থেকে বিয়ার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেন। প্যারাসুট দুর্ঘটনায় আহত থাকা অবস্থায় বিয়ার মনস্থির করেন এভারেস্ট জয়ের। সুস্থ হয়েই ছুটে যান এভারেস্টের দিকে। ১৯৯৮ সালের ১৬ মে মাত্র ৩ মাস সময় নিয়ে বিয়ার মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন।
(স্ত্রী সারাহ গ্রিলস এর সাথে বেয়ার গ্রিলস; সূত্রঃ gettyimagey)
তৎকালীন ব্রিটিশ থেকে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েন বিয়ার গ্রিলস। যদিও তার রেকর্ড পরবর্তীতে ভেঙ্গে যায়। বিয়ার গ্রিলসের অদম্য ইচ্ছাই তাকে প্যারাসুট দুর্ঘটনার ১৮ মাস পরেই এভারেস্টের উঁচুতে নিয়ে যায়।
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড:
এভারেস্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ডিওডোরান্ট একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করেন। ওই বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে বিয়ার গ্রিলস টেলিভিশন জগতে প্রবেশ করেন। এরপর আরও কিছু বিজ্ঞাপন ও ডকুমেন্টারিতে কাজ করেন বিয়ার গ্রিলস। একজন দক্ষ সামরিক অফিসার ও এভারেস্ট জয়ী হিসেবে বিয়ার গ্রিলস কে যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর অ্যাডভেঞ্চার শো তৈরির আহ্বান জানান। বর্তমান বিয়ার গ্রিলস এর উত্থান, পরিচয়, জনপ্রিয়তা সব কিছুই তার অ্যাডভেঞ্চার শো এর জন্যে।
বর্তমান বিশ্বে দুঃসাহসী অভিযাত্রীর কথা বলতে গেলে বিয়ার গ্রিলস এর নাম সবার প্রথমে আসে। কখনো সুউচ্চ পাহাড়ে অথবা গভীর অরণ্যে অথবা তুষারাবৃত কোন পাহাড়ে, আবার কখনো মহাসাগরের অচেনা কোন দ্বীপে কিভাবে টিকে থাকতে হয়, উদ্ধার পেতে হয় বিয়ার গ্রিলস দেখান ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডে
(বিয়ার গ্রিলস ও নরেন্দ্র মোদি

Source: Google News)
সার্ভাইব করার জন্য বিয়ার কখনো পোকা মাকড় খাচ্ছেন, আবার কখনো মরুভূমির কড়া রোদ থেকে পরিত্রাণের জন্য নিজের প্রস্রাব মাথায় দিচ্ছেন, আবার প্রয়োজনে নিজের প্রস্রাবও খেয়ে নিচ্ছেন। কখনো ভয়ংকর জীব জন্তুর সাথে লড়াই করছেন টিকে থাকার জন্য, আবার কখনো করছেন রেটল স্নেকের মত ভয়াবহ সাপের সাথে টিকে থাকার যুদ্ধ, কখনো ভেলা বানিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন কুমীরে ভরপুর জলাশয় কিংবা নদী, কখনো সেই কুমীরের সাথেও লড়াই করতে হয়েছে তাকে, আবার কখনো নিঃস্ব হয়ে দ্বীপে খাবার খুঁজতে খুঁজতে উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভয়ংকর সাপ ধরেও খেতে হয়েছে তাকে। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কিভাবে জীবন বাঁচিয়ে ফিরে আসতে হয় লোকালয়ে, এমন হাজারো কৌশল দেখান বিয়ার গ্রিলস
(‘ম্যান ভার্সাস ওয়াইল্ড’-এ বিয়ার গ্রিলস ও রজনীকান্তকে। – ফাইল ছবি।)
‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ প্রথমে যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর এ ‘বর্ন সার্ভাইবার’ নামে শুরু হয়। পরে এটি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ নামে প্রচারিত হয়। এছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ‘আল্টিমেট সার্ভাইবার’ নামেও প্রচারিত হয়। বিয়ার গ্রিলস এর অনুষ্ঠানগুলো সারা বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তীতে ডিসকভারি চ্যানেল ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ এর স্বত্ব কিনে নিয়ে তাদের চ্যানেলে প্রচার করে। কিন্তু ২০১২ সালে ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে মতের অমিল হওয়ায় ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ তৈরি বন্ধ করে দেন।
বিয়ার গ্রিলস এর অভিযান:
পৃথিবীর দুর্গম সকল যায়গায় বিয়ার গ্রিলস অভিযান করেন। আমাজনের গভীর অরণ্য থেকে শুরু করে আফ্রিকার বালুকাময় নির্জন মরুভূমি, আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝের নির্জন কোন দ্বীপ, এমনকি তুষারাবৃত কোন পাহাড় কিংবা জঙ্গল কোন কিছুই বাদ রাখেননি বিয়ার গ্রিলস তার অভিযানে।
তার এসব দুর্গম অভিযান করতে গিয়ে তাকে অনেক সময় ভয়ংকর সব পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। সাপ, কুমির, ভাল্লুকের সাথে লড়াই ছাড়াও খাবার ও খাবার পানি ছাড়া টিকে থাকার লড়াই কখনো কখনো ভয়ংকর রূপ নিয়েছিলো। তুষারে ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে তুষারের নিচে ঢাকা পড়ার ভয় ছিল, অথবা আমাজনের বিশাল অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। এমন সব ভয় কে জয় করে দুঃসাহসী সব অভিযান সফলভাবে করে এসেছেন বিয়ার গ্রিলস।
এভারেস্ট অভিযান:
বিয়ারকে এক ব্রিটিশ সাংবাদিক সাক্ষাতকারে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সবচেয়ে ভয়ানক অভিযান কোনটি ছিল? বিয়ার নির্দিষ্ট করে না বললেও একটা অভিযানের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন, তার এভারেস্টে চূড়ায় আরোহণের ঘটনা। এভারেস্টে উঠতে গিয়ে একবার তিনি মরণ-ফাঁদে পড়েছিলেন। এভারেস্টের এক গর্তে পা ফসকে পড়ে গিয়েছিলেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে মনোবল নিয়ে চেষ্টার ফলে তার জীবনের প্রথম এত বড় দুঃসাহসিক অভিযান জয় লাভ করে ফিরে এসেছেন।
বিয়ার গ্রিলস ও ওবামাঃ
বিয়ার গ্রিলস পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম যায়গা গুলোতে টিকে থাকার লড়াই দেখিয়ে জনপ্রিয়তার এত শীর্ষে উঠেন যে, একদিন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার সাথে সার্ভাইব করতে আলাস্কার তুষারাবৃত অঞ্চলে একত্রিত হন। সেখানে বিয়ারের সাথে ওবামা পুরো একদিন অতিবাহিত করেন
(বিয়ার গ্রিলস ও ওবামা Source: intérieur de conception de maison)
নিরাপত্তা বলয় থাকলেও তারা দূর থেকে নজর রাখছে প্রেসিডেন্টের উপর। প্রেসিডেন্ট বিয়ার গ্রিলস এর সাথে নির্বিঘ্নে হাঁটছেন, কথা বলছেন আলাস্কার এক নির্জন জায়গায়। বিয়ার থেকে জেনে নিচ্ছেন এমন নির্জন জায়গায় টিকে থাকার কৌশল। বিয়ারের অভিজ্ঞতা, গল্প শুনতে শুনতে তারা আলাস্কার এক হিমবাহ অঞ্চলের পাদদেশে দিয়ে বসেন। সেখানে বিয়ার তার ব্যাগ থেকে একটা মৃত ভাল্লুক খাওয়া স্যামন মাছ বের করেন। ওবামা প্রথমে দেখে চমকে উঠেন। পরে বিয়ারের সাথেই ওই মাছ রান্না করে লাঞ্চ সেরে নেন প্রেসিডেন্ট। আগুন জ্বালানোর কৌশলও শিখে নেন বিয়ারের কাছ থেকে। হিমবাহের গলিত পানি ফুটিয়ে পান করেন দুজনে।
সেখান থেকে তারা হেটে যান এক পাহাড়ের উপরে। সেখানে প্রেসিডেন্টে ও বিয়ার গ্রিলস দুজনেই তাদের মোবাইলে সেলফি তোলেন। পারিবারিক বিষয় ছাড়াও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে কথা বলেন দুজনে। ওবামা বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। বিয়ার গ্রিলস কে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়ে ওবামা সেখানে অভিযান শেষ করেন।
(বই The Kid Who Climbed Everest)
লেখক বিয়ার গ্রিলসঃ
বিয়ার গ্রিলস তার এভারেস্ট অভিযান নিয়ে সর্বপ্রথম বই লিখেন ‘Facing Up’ নামে। তার প্রথম বই যুক্তরাষ্ট্রে ‘The Kid Who Climbed Everest’ নামে প্রকাশিত হয়। এভারেস্ট অভিযান নিয়ে তিনি আবার ‘Facing The Frozen Ocean’ নামে তার দ্বিতীয় বই প্রকাশ করেন। এরপর Born Survivor: Bear Grylls নামে আরেকটি বই প্রকাশ করেন। বিয়ার গ্রিলস সর্বমোট ১৪ টি বই প্রকাশ করেন। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে ২০১২ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনী মূলক বই Mud, Sweat and Tears: The Autobiography. এছাড়াও বিয়ার অভিযানের দিক নির্দেশনামূলক বই রচনা করেন।
বিয়ার গ্রিলস যেমন একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী, তেমনি তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুঃসাহসের সাথে, মনোবল নিয়ে এগিয়ে গেছেন। বিয়ার গ্রিলস একজন সফল মোটিভেশনাল বক্তাও। তার লেখা ও বক্তৃতায় তিনি বর্তমানে সমাজ সেবা মূলক কাজ করছেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই দুঃসাহসী উপস্থাপক সর্ম্পকে কিছু চমকপ্রদ তথ্য-
১. বেয়ার গ্রিলসের আসল নাম কিন্তু বেয়ার নয়। তার আসল না এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস।
২. তার একমাত্র বোন লারা তাকে নামে “বেয়ার” ডাকতে শুরু করেন যখন তার বয়স মাত্র ১ সপ্তাহ।
৩. ১৯৯৮ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন বেয়ার গ্রিলস। সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্ট জয় করার কারণেই তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গিনেস বুকে তার নামও উঠে যায়। অবশ্য তার এই রেকর্ড এই পর্যন্ত ৪ বার ভাঙা হয়েছে।
৪. বেয়ার কারাতে খেলায় ব্ল্যাকবেল্ট প্রাপ্ত।
৫. ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে ৩ বছর কাজ করেছেন তিনি।
৬. এই স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে থেকেই তিনি কীভাবে প্যারাসুট থেকে লাফ দিতে হবে, পানিতে ডাইভ দিতে হবে, জঙ্গলে বেঁচে থাকেতে হবে, খালি হাতে মারামারি করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে ট্রেনিং পান।
৭. এভারেস্ট জয় করার মাত্র ১ বছর আগে বেয়ার প্যারাসুট নিয়ে লাফ দিতে গিয়ে একটি দুর্ঘটনায় পড়েন। এই ঘটনায় তার মেরুদণ্ডের ৩টি হাড় ভেঙে যায়।
৮. বেয়ার গ্রিলস বইও লিখেছেন। “ফেসিং আপ” নামে তার বইটি ব্রিটেনে সেরা ১০ বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকায় বইটি The kid who climbed Mount Everest নামে প্রকাশিত হয়।
৯. বেয়ার মোট ১১টি বই লিখেছেন। এরমধ্যে বাচ্চাদের জন্য ৪টি কল্পকাহিনীর বইও রয়েছে।
১০. তার মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ঘটনা নিয়ে একটি ডিওডোরেন্ট কোম্পানি তাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করলে তিনি সর্বপ্রথম টিভিতে আসেন।
১১. তার প্রথম টিভি শো ছিল চ্যানেল ফোর-এ। নাম ছিল “এসকেপ টু দ্য লিজিয়ন”।
১২. এরপরেই তিনি ডিসকভারি চ্যানেলে “Man vs Wild” নামে একটি টিভি শো করেন যেখানে ১ ঘণ্টার ১২টি পর্ব ছিল।
সূত্র
উইকিপিডিয়া।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।
ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা
| র্যাঙ্ক | নাম | দেশ | মোট সম্পদ (USD) | আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি) |
| ১ | ইলোন মাস্ক (Elon Musk) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$৮৩৯ বিলিয়ন | টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X |
| ২ | ল্যারি পেজ (Larry Page) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২৫৭ বিলিয়ন | গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet) |
| ৩ | সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২৩৭ বিলিয়ন | গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet) |
| ৪ | জেফ বেজোস (Jeff Bezos) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২২৪ বিলিয়ন | আমাজন (Amazon) |
| ৫ | মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২২২ বিলিয়ন | মেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook) |
| ৬ | ল্যারি এলিসন (Larry Ellison) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৯০ বিলিয়ন | ওরাকল (Oracle) |
| ৭ | বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault) | ফ্রান্স | ~$১৭১ বিলিয়ন | এলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর) |
| ৮ | জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৫৪ বিলিয়ন | এনভিডিয়া (Nvidia) |
| ৯ | ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৪৯ বিলিয়ন | বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway) |
| ১০ | আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega) | স্পেন | ~$১৪৮ বিলিয়ন | ইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara) |
শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়
১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

- মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
- বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।
২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
- বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
- বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
- বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
- বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
- বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।
৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
- বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।
৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
- বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
- বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।
১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
- বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।
২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ
- টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
- ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
- জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক আইনি ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট শত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতের শক্তি হলো এর সুসংগঠিত সংবিধান। ভারতীয় সংবিধান দেশের নাগরিকদের কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতাই দেয়নি, বরং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বাঁধনেও আবদ্ধ করেছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভারতীয় নাগরিকেরা সংবিধানের অধীনে কী কী অধিকার ভোগ করেন এবং তাঁদের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো কী, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সংবিধানে স্বীকৃত ৬টি মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)

ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় খণ্ডে (Part III) নাগরিকদের ৬টি প্রধান মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তি কেড়ে নিতে পারে না:
| মৌলিক অধিকার | সংবিধানের অনুচ্ছেদ | প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ |
| ১. সাম্যের অধিকার | অনুচ্ছেদ ১৪ – ১৮ | আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। |
| ২. স্বাধীনতার অধিকার | অনুচ্ছেদ ১৯ – ২২ | বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন তৈরি, দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াত এবং জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১)। |
| ৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৩ – ২৪ | মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম (বেগার খাটা) এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| ৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৫ – ২৮ | প্রত্যেক নাগরিক পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ধর্ম পালন, চর্চা এবং প্রচার করার পূর্ণ স্বাধীনতা পান। |
| ৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৯ – ৩০ | যেকোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি রক্ষা এবং নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে। |
| ৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার | অনুচ্ছেদ ৩২ | কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে আপিল করে আইনি সুরক্ষার আদেশ (Writ) পেতে পারেন। |
২. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার
- সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার: ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক স্বাধীনভাবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
- নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগঠন গঠন: সংবিধানে প্রদত্ত অনুচ্ছেদ ১৯(১)(c) অনুসারে নাগরিকেরা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন এবং পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
- তথ্য জানার অধিকার (RTI Act, 2005): ২০০৫ সালে পাস হওয়া ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ আইনের মাধ্যমে নাগরিকেরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তথ্য, খরচ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিবরণ জানতে চাইতে পারেন, যা প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনে।
৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদসমূহ

নাগরিক অধিকার যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের দ্বারা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ভারতের বিচার বিভাগকে (সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টসমূহ) সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখা হয়েছে।
ভারতের প্রধান সাংবিধানিক পদসমূহ:
- রাষ্ট্রপতি: ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- প্রধানমন্ত্রী: দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান।
- প্রধান বিচারপতি (CJI): বিচার বিভাগের প্রধান ও সংবিধানের রক্ষক।
৪. সংবিধানের চতুর্থ খণ্ড: নাগরিকদের ১০টি মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties)

সংবিধানের অংশ IV (Part IV-A) এর অনুচ্ছেদ ৫১A (Article 51A)-তে দেশের নাগরিক হিসেবে কিছু মৌলিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য (51A-a): জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
- দেশপ্রেম ও অখণ্ডতা (51A-b/c): ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।
- জনসেবা ও প্রতিরক্ষা (51A-d): প্রয়োজনে দেশের জন্য জনসেবায় উৎসর্গ হওয়া।
- নৈতিকতা ও ভাতৃত্ববোধ (51A-e): ধর্মীয় ও ভাষাগত বিভেদ ভুলে ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
- সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা (51A-f): দেশের ঐতিহ্য ও মিশ্র সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো।
- পরিবেশ রক্ষা (51A-g): বোন, নদী, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা।
- বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও মানবিকতা (51A-h): বিজ্ঞানমনস্কতা ও সংস্কারমুখী চিন্তা বিকাশ করা।
- সম্পদের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও জনসম্পত্তি রক্ষা (51A-i): সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং সহিংসতা ত্যাগ করা।
- উৎকর্ষতার চেষ্টা (51A-j): ব্যক্তিগত ও যৌথ কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া।
- শিক্ষার প্রতি আগ্রহ: ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
শেষ কথা
ভারতীয় সংবিধান কেবল একটি শাসন পরিচালনাকারী দলিল নয়; এটি নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। অধিকার ভোগ এবং কর্তব্যের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আজ ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং গতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে টিকে রয়েছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতি ফিচার | পালস বাংলাদেশ
১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর—এই তিনটি গ্রাম কিনে যে আধুনিক কলকাতা নগরের গোড়াপত্তন করেছিল, পরবর্তীতে তা হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রাণকেন্দ্র। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার হাতে নিলে কলকাতাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হয়।

লন্ডনের আদলে গড়ে ওঠা এই শহরে একে একে তৈরি হয় রাজকীয় লাটভবন, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ। বিদ্যাচর্চা, চিকিৎসা ও সংস্কৃতিতে কলকাতা তখন গোটা এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ স্থানে। কিন্তু এত ঐতিহ্য ও প্রাচুর্য সত্ত্বেও ১৯১১ সালে ব্রিটিশরা কেন তাদের প্রিয় রাজধানী কলকাতা ছেড়ে প্রাচীন মোগলদের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতে স্থানান্তর করেছিল? এবং ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতই বা কেন সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখল?
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এর নেপথ্যে ছিল ভৌগোলিক কৌশল, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য বিপ্লবী অধ্যায়।
১. রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণসমূহ

১.১ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান (Geographical Advantage)
কলকাতা ছিল ভারতের পূর্ব প্রান্তের এক কোণে অবস্থিত। বিশাল ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চল শাসন করা এবং সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এটি ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক ছিল না। পক্ষান্তরে, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত দিল্লি থেকে পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারত সরকারও দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এই কেন্দ্রীয় অবস্থানকেই বহাল রাখে।
১.২ বেয়াড়া কলকাতা ও স্বদেশী আন্দোলনের উত্তাপ
ব্রিটিশদের আসল বিপদ শুরু হয় ‘বাংলা নবজাগরণ’-এর পর। অনুগত কেরানি তৈরি করতে গিয়ে ব্রিটিশরা উল্টো উপহার পেল একঝাঁক শিক্ষিত ও মেরুদণ্ডী বাঙালি বুদ্ধিজীবী। ১৯০৫ সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) করলে রাজপথে নেমে আসে বাঙালি। বয়কট ও স্বদেশী আন্দোলনে ব্রিটিশ অর্থনীতি কেঁপে ওঠে। কলকাতা পরিণত হয় সশস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের শক্ত ঘাঁটিতে। ফলে নিরাপদ স্থানে প্রশাসনিক কাজ চালানোর তাগিদ অনুভব করে ব্রিটিশ রাজ।
১.৩ দিল্লির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা
শতাব্দী ধরে দিল্লি ছিল মোগল সাম্রাজ্যসহ বিভিন্ন পরাশক্তি রাজবংশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় জনগণের মনস্তত্ত্ব জয় করতে এবং নিজেদের মোগলদের প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে জাহির করতে ব্রিটিশরা দিল্লিতে রাজধানী সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
২. ১৯১১ সালের রাজকীয় দিল্লি দরবার ও গোপন ঘোষণা

১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির ‘কিংসওয়ে ক্যাম্প’ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক ঐতিহাসিক রাজকীয় দরবার। এটিই ছিল একমাত্র দিল্লি দরবার যেখানে ব্রিটেনের তৎকালীন সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং সম্রাজ্ঞী কুইন মেরি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
দরবারের একেবারে শেষ মুহূর্তে রাজা পঞ্চম জর্জ আকস্মিকভাবে জোড়া ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন: ১. তীব্র গণআন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ (বাতিল) করা হলো। ২. ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী চিরতরে কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
বাঙালিকে শান্ত করতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলেও, রাজধানী কেড়ে নিয়ে কলকাতার প্রশাসনিক গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়।
৩. চাঁদনি চক ষড়যন্ত্র: ভাইসরয়ের ওপর দুঃসাহসিক হামলা (১৯১২)

বাঙালি বিপ্লবীরা এই অপমান সহজে মেনে নেননি। রাজধানী স্থানান্তরের ঠিক এক বছর পূর্তিতে ২৩ ডিসেম্বর, ১৯১২ তারিখে ঘটে এক রোমাঞ্চকর ঘটনা।
নতুন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ (Lord Hardinge) যখন বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে হাতির পিঠে চড়ে দিল্লির ঐতিহাসিক চাঁদনি চকে প্রবেশ করছিলেন, তখন নারীদের ভিড়ে মিশে থাকা তরুণ বিপ্লবী বসন্ত কুমার বিশ্বাস তাঁর দিকে শক্তিশালী একটি বোমা ছুঁড়ে মারেন।
বোমার বিস্ফোরণে হাতির চালক (মহাবত) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এই সশস্ত্র হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু ও শচীন সান্যাল।
৪. মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু: লর্ড হার্ডিঞ্জ হামলা থেকে ‘পি. এন. ঠাকুর’ ছদ্মবেশ
হামলার পরপরই পুরো দিল্লি পুলিশ তোলপাড় শুরু করলেও রাসবিহারী বসু অত্যন্ত চতুরতার সাথে ট্রেনে চেপে দেরাদুনে নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসেন। পরদিন অফিসে গিয়ে উল্টো সহকর্মীদের নিয়ে ভাইসরয়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসভা করেন! ফলে পুলিশ শুরুতে তাঁকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেনি।
- গদর বিপ্লবের ছক (১৯১৫): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গদর পার্টি’র সহায়তায় ভারতজুড়ে সেনা অভ্যুত্থানের ছক আঁকেন তিনি। কিন্তু ভেতরে থাকা গোয়েন্দার বিশ্বাসঘাতকতায় তথ্য ফাঁস হলে ১৯১৫ সালে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দূরসম্পর্কের আত্মীয় ‘পি. এন. ঠাকুর’ (P. N. Tagore) ছদ্ম নাম নিয়ে জাহাজে করে জাপানে পালিয়ে যান।
- জাপানে রাজনৈতিক আশ্রয়: জাপানেও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা পিছু ছাড়েনি। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি প্রভাবশালী নেতা তোয়ামা মিৎসুরুর আশ্রয়ে থেকে এবং জাপানি নারী তোশিকো সোমাকে বিয়ে করে ১৯২৩ সালে জাপানের নাগরিকত্ব পান রাসবিহারী বসু।
৫. আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে মেলবন্ধন (১৯৪৩–১৯৪৫)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালে জাপানে বন্দী ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে রাসবিহারী বসু গঠন করেন ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ (INA) বা আজাদ হিন্দ ফৌজ।
- ঐতিহাসিক দায়িত্ব হস্তান্তর: দূরদর্শী রাসবিহারী বসু বুঝতে পেরেছিলেন এই বিশাল আন্দোলন পরিচালনার জন্য সুভাষচন্দ্র বসুর মতো আপসহীন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ১৯৪৩ সালের ৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি সানন্দে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে তুলে দেন। নেতাজি তাঁকে আন্দোলনের ‘সর্বোচ্চ উপদেষ্টা’ পদে সম্মান জানান।
- শেষ বিদায় (১৯৪৪–১৯৪৫): দীর্ঘদিন যক্ষ্মা ও হাঁপানিতে ভোগা রাসবিহারী বসুর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতেন নেতাজি নিজে। ১৯৪৪ সালের শেষদিকে টোকিওতে মৃত্যুশয্যায় শায়িত রাসবিহারী বসুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন নেতাজি। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি এই মহান বিপ্লবী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে নেতাজি তাঁকে “পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের জনক” হিসেবে অভিহিত করেন।
৬. স্বাধীন ভারতের নতুন দিল্লি ও শিমলার ভূমিকা
দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের ঘোষণা ১৯১১ সালে হলেও, প্রখ্যাত স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স এবং হারবার্ট বেকার-এর নকশায় পরিকল্পিত আধুনিক ‘নতুন দিল্লি’ (Lutyens’ Delhi) শহর তৈরি হতে ২০ বছর সময় লাগে। ১৯৩১ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই দীর্ঘ সময়টাতে ব্রিটিশরা গ্রীষ্মকালে পাহাড়ি শহর শিমলা (Simla) থেকে তাদের প্রশাসনিক কাজ চালাত।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর স্বাধীন ভারতের হাতে আসে তৈরি করা রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন ও সচিবালয়ের মতো সুবিশাল পরিকাঠামো। একটি সদ্য স্বাধীন ও অর্থ সংকটে থাকা দেশের জন্য নতুন করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নতুন কোনো শহরে রাজধানী তৈরি করা সম্ভব ছিল না। তাই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধার্থে নতুন দিল্লিই থেকে যায় স্বাধীন ভারতের রাজধানী হিসেবে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



