ইসলাম ও জীবন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
রূহ মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তা, যা আল্লাহ্ তা’আলা মানবজীবনের এক অদৃশ্য, মহিমান্বিত উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন। রূহ মানুষকে চিন্তা, অনুভূতি এবং জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে সহায়তা করে। তবে, রূহের প্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে মানুষের ধারণার বাইরে। আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনুল করিমে রূহের প্রকৃতি ও তার গোপনতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলেছেন। এই রহস্যময় সত্তা মানুষ, তাদের সৃষ্টি এবং জগতের উদ্দেশ্য বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রূহের প্রকৃতি:
রূহ এমন একটি সত্তা যা মানুষকে জীবনের সকল অনুভূতি এবং চিন্তা করতে সক্ষম করে। তবে, রূহের প্রকৃতি মানুষের জ্ঞানসীমার বাইরে, এবং তা একমাত্র আল্লাহ্র কাছে জানা। কুরআনে রূহ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন:
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ ۖ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُم مِّنَ الْعِلْمي إِلَّا قَلِيلًا
“তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, রূহ আমার প্রভুর নির্দেশের বিষয়, এবং তোমাদেরকে খুব সামান্যই জ্ঞান দেওয়া হয়েছে।” (সূরা বনী ইসরাইল: ৮৫)
এই আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রূহ এমন একটি রহস্যময় সত্তা যার প্রকৃতি মানুষের জ্ঞানসীমার বাইরে। এর উৎস, বৈশিষ্ট্য ও সীমা শুধুমাত্র আল্লাহ্র জ্ঞানে নিহিত।
মানুষ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে রূহ:
আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي فَقَعُوا۟ لَهُ سَـٰجِدِينَ
“আমি যখন তাকে (মানুষকে) যথাযথভাবে গঠন করলাম এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিলাম, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়ো।” (সূরা হিজর: ২৯)
এখানে, আল্লাহ্ বলেন যে, “আমার রূহ” শব্দটি সম্মানসূচক। এর মানে হলো, মানুষের মধ্যে যে নূর ও শক্তি রয়েছে, তা আল্লাহ্র নির্দেশের অধীন। এই রূহই মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, জ্ঞান এবং নৈতিক চেতনার উৎস।
রূহের প্রভাব:
রূহ মানুষের সত্তাকে পরিচালনা করে। ইমাম গাযযালী (রহ.) রূহকে বর্ণনা করেছেন এমন একটি নূরানী শক্তি হিসেবে, যা মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির উৎস। তার মতে, রূহই মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য এবং আত্মার গন্তব্যকে নির্ধারণ করে।
সুফি তত্ত্বে রূহ:
সুফি চিন্তাধারায় রূহকে বলা হয় “নূরে ইলাহী”, অর্থাৎ আল্লাহ্র নূরের একটি ছায়া। রূহ আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে, এবং পৃথিবীতে অবস্থানকালে জীবনের পরীক্ষার সুত্রপাত ঘটায়। মৃত্যু পরবর্তী রূহ আবার আল্লাহর কাছে ফিরে যায়।
রূহের চূড়ান্ত পরিণতি:
কুরআনে আল্লাহ্ তা’আলা রূহের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে বলেন:
يَـٰٓأَيَّتُهَا النَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
“হে প্রশান্ত রূহ! ফিরে আস তোমার প্রভুর কাছে—সন্তুষ্ট ও সন্তুষ্টকারী হয়ে।” (সূরা আল-ফজর: ২৭–২৮)
এটি দেখায় যে রূহের প্রকৃত মুক্তি হলো তার প্রভুর কাছে ফিরে যাওয়া, যা চূড়ান্ত প্রশান্তি এবং শান্তির কারণ। রূহের প্রত্যাবর্তন তার প্রকৃত মুক্তি ও চূড়ান্ত শান্তির একমাত্র উপায়।
রূহের রহস্য ও এর প্রকৃত পরিণতি:
রূহ মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির উৎস হলেও, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং পরিণতি আল্লাহ্র রহস্যে লুকিয়ে আছে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের রূহের এক অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হতে পারি। মানুষের শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও রূহ চিরন্তন, এবং সে ফিরে যায় আল্লাহ্র কাছে।
সূত্র:
- কুরআনুল করিম, সূরা বনী ইসরাইল (৮৫)
- কুরআনুল করিম, সূরা হিজর (২৯)
- ইসলামী চিন্তাবিদদের গ্রন্থ এবং বক্তৃতা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত ও ব্যর্থ মনে হয়। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা আজ যে সংকটের মুখোমুখি, তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

বর্তমানে ইসলামকে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ‘একাধিক বিবাহ’ নিয়ে যেভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত বিব্রতকর। ইসলামে চার বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠিন শর্ত ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে অমুসলিম বিশ্ব ও নওমুসলিমদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে, মুসলিম পুরুষ মানেই কেবল একাধিক বিয়ে।
২. আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ভার ও ‘ইসলামোফোবিয়া’

বিশ্বের কোথাও কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর এসে পড়ে। অনলাইনে বা অফলাইনে একজন মুসলিমকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে সে ‘জঙ্গি’ নয়। হিজাব পরিধান করা যে একজন নারীর স্বাধীন ইচ্ছা হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকুও আমরা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। নিজেদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে না পারা আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।
৩. অনৈক্য ও পরশ্রীকাতরতা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব আজ প্রকট। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো বড় মানবিক সংকটে যখন কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশ নয়, বরং গাম্বিয়ার মতো একটি ছোট দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করে, তখন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে যতটা পটু, নিজেদের সংশোধনে ততটাই উদাসীন।
৪. ভূ-রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা

মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অনেক সময় সাধারণ মুসলমানদের ব্যথিত করে। ইয়েমেনের মানবিক বিপর্যয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রহস্যজনক নীরবতা কিংবা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়া—আমাদের লজ্জিত করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনছে।
৫. দেশপ্রেম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা

‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’—এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে অনেক মুসলিম দেশ আজ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এছাড়া সোনালী অতীতে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে মুসলিম মনীষীদের যে কালজয়ী অবদান ছিল, তা আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের আবিষ্কার ও অবদান সম্পর্কে নিজেরাই জানি না, ফলে পশ্চিমাদের চোখে আমরা আজ একটি ‘পিছিয়ে পড়া’ জাতিতে পরিণত হয়েছি।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামের সৌন্দর্য তখনই বিকশিত হবে যখন আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকবে। আমরা যদি অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের চরিত্র ও জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারি, তবেই আমাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেবল ধর্মের গান গেয়ে নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
এক নজরে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:
| চ্যালেঞ্জ | বর্তমান অবস্থা |
| সামাজিক | ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার অভাব। |
| রাজনৈতিক | মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি। |
| সাংস্কৃতিক | মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় ব্যর্থতা। |
| শিক্ষাগত | আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা। |
তথ্যসূত্র (Source):
- আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংক্রান্ত বিধান।
- আল জাজিরা ও রয়টার্স: ইয়েমেন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন।
- বিডিনিউজ২৪: মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [আপনার নাম/BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: ইসলাম ও জীবন
আমাদের মনে অনেক সময় একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়—আল্লাহ তো পবিত্র ও সুন্দর, তবে তিনি কেন পৃথিবীতে নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত বা অপবিত্র জিনিস সৃষ্টি করলেন? এই প্রশ্নটি যতটা না আধ্যাত্মিক, তার চেয়ে বেশি আমাদের সংজ্ঞাগত বোঝার অভাব।
আসলে আমরা আবিষ্কার, উদ্ভাবন এবং সৃষ্টি—এই তিনটি শব্দের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলি। চলুন আজকের ব্লগে বিষয়টি পানির মতো পরিষ্কার করে নেওয়া যাক।
১. আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন: যা আমরা করি

মানুষ কোনো কিছু শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে না। আমরা যা করি তা হলো:
- আবিষ্কার (Discover): কোনো জিনিস আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিল, আমরা শুধু তা খুঁজে বের করি। যেমন: কলম্বাস আমেরিকা খুঁজে পেয়েছেন কিংবা জগদীশ চন্দ্র বসু গাছের প্রাণ আবিষ্কার করেছেন।
- উদ্ভাবন (Invent): আগে থেকেই আছে এমন কিছু যন্ত্রপাতি বা উপাদান জোড়া দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা। যেমন: গ্রাহাম বেল টেলিফোন বানিয়েছেন বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে কারিগরকে সেই বস্তুগুলো স্পর্শ করতে হয়।
২. সৃষ্টি (Creation): যা কেবল আল্লাহ পারেন

সৃষ্টি হলো এমন কিছু যা আগে ছিল না এবং যা তৈরি করতে কোনো কাঁচামাল বা স্পর্শের প্রয়োজন হয় না। একটি ছোট ফলের বীজের কথা ভাবুন। এর ভেতরে ডাল, পাতা বা ফুল কি দেখা যায়? না। কিন্তু মাটিতে পুঁতলেই সেখান থেকে বিশাল গাছ হয়।
আল্লাহ যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করেন, তাকে তা স্পর্শ করতে হয় না। তিনি কেবল হুকুম দেন (কুন-ফায়াকুন), আর তা সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই অপবিত্র কিছু সৃষ্টি করার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাতে লিপ্ত। তিনি পবিত্রতা ও মহিমার সাথে কেবল হুকুমের মাধ্যমেই তা অস্তিত্বে আনেন।
৩. অপবিত্র জিনিস সৃষ্টির পেছনে রহস্য কী?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে—এসব নোংরা বা দুর্গন্ধময় জিনিস তৈরির দরকার ছিল কি? এর উত্তর লুকিয়ে আছে স্বয়ংক্রিয় রিসাইকেল (Automatic Recycle) প্রক্রিয়ায়।
পৃথিবীতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য পচনশীলতা জরুরি। কোনো কিছু নষ্ট হওয়া, পচে যাওয়া এবং পুনরায় মাটিতে মিশে যাওয়া—এই জটিল রাসায়নিক চক্রের মাধ্যমেই পৃথিবী টিকে আছে। এখন ভাবুন, যদি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পচা জিনিসগুলো দেখতে সুন্দর হতো বা সুগন্ধি ছড়াতো, তবে মানুষ কি তা থেকে দূরে থাকতো? অবশ্যই না।
আল্লাহর দয়া: তিনি ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা করে দিয়েছেন যাতে আমরা সহজাতভাবেই ওসব থেকে দূরে থাকি এবং সুস্থ থাকতে পারি। এটি মূলত মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।
উপসংহার: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)
পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত আছে। যা আমাদের চোখে অপবিত্র, তাও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই নিপুণ ও অর্থবহ।
আপনার মতামত: এই গভীর বিষয়টি কি আপনার আগে এভাবে ভেবেছিলেন? কমেন্টে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
গবেষণা ও বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)
ঢাকা, ৭ এপ্রিল ২০২৬: আমরা কি ভুল নম্বরে ডায়াল করছি? জনপ্রিয় বলিউড চলচ্চিত্র ‘PK’-তে আমির খান অভিনীত এলিয়েন চরিত্রটি পৃথিবীর ধর্মব্যবস্থা দেখে একটি অদ্ভুত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল। সে বলেছিল, মানুষের কাছে দুটি ঈশ্বর আছে—এক জন আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আর অন্য জনকে মানুষ নিজের প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছে। আজ ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে যদি আমরা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যায় এই সিনেমার ‘রাইট নম্বর’ এবং ইসলামের মূল স্তম্ভের মধ্যে এক অভূতপূর্ব মিল রয়েছে।
১. ‘PK’-এর সেই বিখ্যাত ‘রং নম্বর’ থিওরি

সিনেমাটির শেষ দৃশ্যে পিকে (PK) ধর্মগুরুর সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ে বলে:
“তোমাদের দুটো ঈশ্বর আছে। এক ঈশ্বর আমাদের সবাইকে বানিয়েছেন। আরেক ঈশ্বর তোমরা বানিয়েছ। তোমরা যে ঈশ্বর বানিয়েছ, সেই ঈশ্বর তোমাদের মতন—ঘুষ নেয়, ধনীদের অগ্রাধিকার দেয়, দরিদ্রকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখে। আর প্রকৃত ঈশ্বর, যে আমাদের বানিয়েছেন; তাঁর ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমার ‘রাইট নম্বর’ হলো—প্রকৃত ঈশ্বর, যিনি আমাদের বানিয়েছেন, তাঁর পূজা করো। বাকি সবকিছু সরিয়ে রাখো।”
এই বক্তব্যটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচার ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিরপেক্ষ আধ্যাত্মিক সত্যের সন্ধান।
২. আরবী ভাষায় ‘রাইট নম্বর’: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
সিনেমায় পিকে হিন্দিতে যা বলেছিল, সেটি যদি আমরা আরবী ভাষায় অনুবাদ করি, তবে তার নির্যাস দাঁড়ায়— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ)।
- ভাষাগত বিশ্লেষণ: আরবী ভাষায় ‘আল’ (ال – The) এবং ‘ইলাহ’ (إله – Deity) যুক্ত হয়ে তৈরি হয় ‘আল্লাহ’। যার অর্থ ‘একমাত্র উপাস্য’ বা ‘The God’।
- মূল বার্তা: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো—সেই প্রকৃত ঈশ্বর (যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন) ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। অর্থাৎ, মানুষের তৈরি করা সমস্ত ‘রং নম্বর’ বা ভ্রান্ত ধারণা সরিয়ে দিয়ে সরাসরি সৃষ্টির মূল উৎসের সাথে সংযোগ স্থাপন করা।
৩. গুগল এনালিস্ট ও ভাষাগত সূত্র (Source Analysis)
গুগল স্কলার এবং ভাষাগত গবেষণার সূত্র অনুযায়ী, ‘আল্লাহ’ শব্দটি ইসলাম আসার অনেক আগে থেকেই আরবে প্রচলিত ছিল। এটি কোনো গোত্রীয় নাম নয়, বরং এটি একটি সর্বজনীন একক সত্তার পরিচয়।
- সূত্র ১: The Etymology of the word “Allah” – আরবী অভিধান অনুযায়ী এটি ‘Al-Ilah’ থেকে উদ্ভূত, যা হিব্রু ‘Elohim’ বা আরামায়িক ‘Elaha’ শব্দের সমার্থক।
- সূত্র ২: History of Semitic Religions – প্রাক-ইসলামী আরবেও ‘আল্লাহ’ বলতে সেই সর্বোচ্চ ঈশ্বরকে বোঝানো হতো যিনি আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা।
৪. নিরপেক্ষ চিন্তার পথ: ইসলামে প্রত্যাবর্তন?
আপনি যদি নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন পিকে যা বলতে চেয়েছিল, ইসলাম ঠিক সেই কথাটিই ১৪০০ বছর আগে থেকে বলে আসছে।
- মানুষ যখন মধ্যস্থতাকারী বা ‘ধর্মগুরু’দের তৈরি করা নিয়ম (রং নম্বর) বর্জন করে সরাসরি স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করে, তখন সে প্রাকৃতিকভাবেই ইসলামের মূল দর্শনের দিকে ধাবিত হয়।
- ইসলামের মূল মন্ত্র কোনো মানুষের পূজা নয়, কোনো প্রতীকের পূজা নয়, বরং সেই অদৃশ্য অদ্বিতীয় সত্তার আনুগত্য করা—যিনি ‘পিকে’-র ভাষায় আমাদের সবাইকে বানিয়েছেন।
বিডিএস বুলবুল-এর পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আর বিজ্ঞানের চরম শিখরে, তখন আমাদের আত্মিক শান্তি কেবল সেই ‘রাইট নম্বর’-এই সম্ভব। মানুষের তৈরি বিভেদ আর স্বার্থের ঈশ্বরকে ত্যাগ করে প্রকৃত স্রষ্টার একত্ববাদ গ্রহণ করাই হলো মুক্তির একমাত্র পথ।
তথ্যসূত্র (References):
- Rajkumar Hirani (Director, PK): ‘The Concept of Two Gods’ Interview, 2014.
- Hans Wehr Dictionary of Modern Written Arabic: Definition of ‘Allah’ (Al-Ilah).
- The Quran (Surah Al-Ikhlas): “Say, He is Allah, [who is] One.”
- Google Scholar: “Linguistic origins of the term Allah in Pre-Islamic Arabia.”
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



