বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি

শাহরুখ খান: আত্মপ্রকাশ, ‘বাদশা’ উপাধি ও গ্লোবাল রাজত্ব
শাহরুখ খান

নিউজ ডেস্ক

August 1, 2026

শেয়ার করুন

শাহরুখ খানকে বলিউডের “বাদশা” বা “কিং খান” বলা হয় তাঁর অসাধারণ অভিনয়জীবন, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর তাঁর বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে।

১. বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা

  • গ্লোবাল আইকন: কেবল ভারত বা এশিয়ায় নয়; মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাতেও তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: খ্যাতনামা মার্কিন মিডিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাঁকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুভি স্টার” হিসেবে অভিহিত করেছিল।

২. বক্স অফিস রেকর্ড ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

  • আইকনিক রোমান্টিক রাজত্ব: ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায় এবং কাভি খুশি কাভি গাম-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি একক অধিপত্য বিস্তার করেন।
  • ঐতিহাসিক ব্যাক-টু-ব্যাক হিটস: চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে তিনি পরপর দুটি ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি আয়ের ব্লকবাস্টার (পাঠানজওয়ান) উপহার দিয়ে নিজের বক্স অফিস শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করেন।

৩. চলচ্চিত্রের বাইরে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

  • রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট: তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ও সফল ভিএফএক্স (VFX) স্টুডিও এবং প্রোডাকশন হাউসের মালিক।
  • আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লিগ আইপিএলের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী।

৪. শূন্য থেকে শীর্ষের গল্প

বলিউডে কোনো পারিবারিক পরিচিতি বা ‘গডফাদার’ ছাড়া, দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে কেবল নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে পৌঁছানোর গল্পটি কোটি মানুষের কাছে এক পরম অনুপ্রেরণা।

২০২৬ সালের মেগা প্রজেক্ট: ‘কিং’ (King)

শাহরুখ খানের সবচেয়ে বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’ (King) নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

মূল তথ্যসমূহ:

  • মুক্তির তারিখ: ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস উৎসব)।
  • পরিচালনা ও প্রযোজনা: পরিচালনা করছেন বিখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ আনন্দ। প্রযোজনায় রয়েছে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স।
  • কাস্টিং চমক: বড় পর্দায় এই প্রথম শাহরুখ খানের সাথে দেখা যাবে তাঁর মেয়ে সুহানা খান-কে। এছাড়া প্রধান খলনায়কের ভূমিকায় রয়েছেন অভিষেক বচ্চন এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন
  • চরিত্র ও লুক: হলিউড ক্লাসিক ‘লিয়ন: দ্য প্রফেশনাল’-এর আদলে তৈরি এই অ্যাকশন-থ্রিলারে শাহরুখকে এক ঝানু আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন বা অ্যাসাসিনের চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে তাঁর লুকে থাকবে হালকা পাকা চুল-দাড়ির স্টাইলিশ সংমিশ্রণ।

বাজেট, মিউজিক ডিল ও সম্ভাব্য পারিশ্রমিক

১. বাজেট (₹৩৫০ কোটি – ₹৪৫০ কোটি)

  • স্কেল ও ভিএফএক্স: আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউটর ও ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, ৬টি বিশাল অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও হাই-এন্ড ভিএফএক্স-এর কারণে সিনেমাটির আনুমানিক বাজেট ₹৩৫০ কোটি থেকে ₹৪৫০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
  • পরিচালকের বক্তব্য: ৪৫০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কিছু মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ালে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়িয়ে দেন; তবে এটি যে শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্ট তা নিশ্চিত।

২. রেকর্ড মিউজিক ডিল (₹৫০ কোটি)

  • অডিও বা মিউজিক রাইটস বিক্রির জন্য জি মিউজিক (Zee Music)-এর সাথে রেকর্ড ₹৫০ কোটি টাকার চুক্তি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
  • সিনেমাটির গান কম্পোজ করছেন শচীন-জিগার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM)-এর দায়িত্বে আছেন রকস্টার মিউজিক ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রবিচন্দের

৩. তারকাদের আনুমানিক পারিশ্রমিক (এক নজরে)

তারকার নামচলচ্চিত্রে ভূমিকাআনুমানিক পারিশ্রমিক (রুপি)
শাহরুখ খানপ্রধান লিড (ডন/মেন্টর)₹১৫০ কোটি – ₹২৫০ কোটি (প্রফিট শেয়ারিং)
দীপিকা পাড়ুকোনবিশেষ চরিত্র₹১৫ কোটি – ₹২০ কোটি
অভিষেক বচ্চনপ্রধান খলনায়ক (Villain)₹১০ কোটি
অনিল কাপুরগুরুত্বপূর্ণ চরিত্র₹৮ কোটি
সুহানা খানসমান্তরাল লিড/শিষ্য₹১ কোটি
অন্যান্য (জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি)সহকারী চরিত্র₹২ কোটি – ₹৫ কোটি

(দ্রষ্টব্য: পারিশ্রমিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো ভারতীয় ট্রেড অ্যানালিস্টদের সূত্রে প্রাপ্ত, যা প্রযোজনা সংস্থা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়ে থাকে)।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বাঙালি বিজ্ঞানী

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রতিবেদক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ

বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানচিত্রে বাঙালি বিজ্ঞানীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বখ্যাত নামগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশে এমন কিছু উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী রয়েছেন, যাদের প্রাকৃতিক দূরদর্শিতা ও ল্যাবরেটরির আবিষ্কার বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে।

বিজ্ঞান চর্চাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এমন ৫ জন কৃতী ব্যক্তিত্বের বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ‘হরি ধান’-এর আসল উদ্ভাবক: কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালী (১৯২২ – ২০১৭)

পূর্বে অনেকের ধারণায় “ড. হরিপদ সরকার” নামে বিভ্রান্তি থাকলেও, অতি ফলনশীল ‘হরি ধান’-এর আসল উদ্ভাবক কোনো ডিগ্রিধারী ডক্টর ছিলেন না। তিনি ছিলেন ঝিনাইদহের সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের এক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন সাধারণ কৃষক।

আবিষ্কারের নেপথ্য ও বৈশিষ্ট্য:

  • প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection): ১৯৯২-১৯৯৬ সালের দিকে বিআর-১১ (BR-11) ধানের জমিতে একটি ব্যতিক্রমী ও শক্তিশালী ধানের গোছা লক্ষ্য করেন তিনি। সেই গোছার বীজ আলাদা করে সংরক্ষণ ও বপন করে তিনি এই নতুন জাতের বিকাশ ঘটান।
  • কম খরচে উচ্চ ফলন: এই ধানে সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগে এবং বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২২ মণ ফলন পাওয়া যায়।
  • জাতীয় স্বীকৃতি: তাঁর এই অবদান এখন ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়।

২. বৈজ্ঞানিক গবেষণার জনক’: ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা (১৯০০ – ১৯৭৭)

জৈব রসায়নবিদ, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (BCSIR) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. কুদরাত-এ-খুদা দেশের স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে শিল্পায়নের পথ দেখিয়েছিলেন।

যুগান্তকারী অবদানসমূহ:

  • পারটেক্স (Partex) ও বিকল্প জ্বালানি: পাটকাঠি থেকে শক্ত বোর্ড (Partex) এবং পাট থেকে বায়ো-ফুয়েল বা বিকল্প পেট্রোল তৈরির সফল সূত্র আবিষ্কার করেন।
  • তেলাকুচা থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ: দেশীয় ঔষধি গাছ ‘তেলাকুচা’ থেকে ১২টি আলাদা রাসায়নিক যৌগ পৃথক করেন।
  • কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭৪): স্বাধীন বাংলাদেশের ১ম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ১ম থেকে ৮ ১ম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ঐতিহাসিক সুপারিশ করেন।

৩. ‘পাটের জাদুকর’: ড. মোবারক আহমদ খান (জন্ম: ১৯৫৮)

বিজেএমসি (BJMC)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমদ খান পাট ও পলিমার কেমিস্ট্রির ওপর গবেষণা করে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ সমাধানের পথ দেখিয়েছেন।

                  [ ড. মোবারক আহমদ খানের প্রধান উদ্ভাবন ]
                                     │
     ┌───────────────────────────────┼───────────────────────────────┐
     ▼                               ▼                               ▼
 [ সোনালী ব্যাগ ]               [ জুটিন (Jutin) ]            [ পাটের হেলমেট ও টাইলস ]
• পলিথিনের পচনশীল বিকল্প        • পারটেক্সের মতোই মজবুত        • মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য
• মাটিতে ৩-৪ মাসে মিশে যায়      হালকা ও মরিচারোধী টিন          হালকা ও বুলেটপ্রুফ কভার

৪. ‘সনো ফিল্টার’ ও আর্সেনিক মুক্তি: ড. আবুল হুসাম

কুষ্টিয়ার সন্তান অধ্যাপক ড. আবুল হুসাম ভূগর্ভস্থ পানির বিষাক্ত আর্সেনিক দূর করার জন্য ‘সনো ফিল্টার’ (SONO Filter) উদ্ভাবন করেন।

  • বৈশ্বিক প্রভাব: অত্যন্ত কম খরচে তৈরি এই ফিল্টারটি লাখ লাখ মানুষকে আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানি থেকে রক্ষা করেছে।
  • আন্তর্জাতিক সম্মাননা: এই উদ্ভাবনের জন্য ২০০৭ সালে জাতীয় প্রকৌশল একাডেমি তাঁকে বিশ্বখ্যাত ‘গ্রেঞ্জার চ্যালেঞ্জ প্রাইজ’ ($1 Million) প্রদান করে।

৫. পেঁপে ও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন: ড. মাকসুদুল আলম (১৯৫৪ – ২০১৪)

ফরিদপুরের সন্তান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অণুজীব বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জীবনরহস্য উন্মোচনে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

  • ঐতিহাসিক সাফল্য: তিনি পরপর পেঁপে, রাবার এবং বাংলাদেশের প্রাণ ‘তোষা ও সাদা পাট’-এর জেনোম সিকোয়েন্স (Genome Sequence) সফলভাবে আবিষ্কার করেন।
  • কৃষি খাতে প্রভাব: এর ফলে রোগপ্রতিরোধী এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার মতো পাটের নতুন জাত উদ্ভাবনের পথ উন্মুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  1. বিসিএসআইআর অফিশিয়াল পেপার্স: ড. কুদরাত-এ-খুদার পেটেন্ট ও গবেষণা আর্কাইভ
  2. কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS): কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালীর উদ্ভাবন ও হরি ধানের ব্যাকগ্রাউন্ড
  3. ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং (USA): ড. আবুল হুসামের সনো ফিল্টার ও গ্রেঞ্জার প্রাইজ রিকগনিশন
  4. বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (BJMC): ড. মোবারক আহমদ খানের সোনালী ব্যাগ প্রজেক্ট ফাইল

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

কাজী নজরুল

নিউজ ডেস্ক

August 12, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাক

“বিদ্রোহী” কিংবা “সাম্যবাদী” পরিচয়ের বাইরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এতটাই বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় যে, সাধারণ কোনো ফ্রেমে তাঁকে বন্দি করা অসম্ভব। আমরা তাঁকে চিনি আমাদের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে, অনুধাবন করি তাঁর অগ্নিঝরা কবিতার শক্তি। কিন্তু পর্দার নেপথ্যে নারদমুনির বেশে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়, ফুটবল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে উল্লাস কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একদিনের নীরব মৌনব্রতের কথা কজনই বা জানেন?

ইতিহাসের পাতা ও নজরুল গবেষকদের অনুসন্ধানে বিদ্রোহী কবির জীবনের এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা সাধারণ পাঠকের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে।

১. আইনি জটিলতার অবসান: এখন তিনি দাপ্তরিকভাবেও ‘জাতীয় কবি’

দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে গণমানুষের হৃদয়ে ও পাঠ্যপুস্তকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট ছিল না। অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উক্ত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের ২৪ মে (কবির সপরিবারে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনের দিন) থেকেই এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাটি ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নজরুলের জাতীয় কবির খেতাব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাপ্তরিক অস্পষ্টতার চিরসংগ্রাম শেষ হয়।

২. রূপালি পর্দায় অল-রাউন্ডার নজরুল: পরিচালক, অভিনেতা ও ‘সুর ভাণ্ডারি’

১৯৩১ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কলকাতার চলচ্চিত্রে নজরুল একাধারে সফল অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন:

                  [ নজরুল: টকি সিনেমার স্বর্ণযুগ (১৯৩১-১৯৪২) ]
                                       │
     ┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
     ▼                                 ▼                                 ▼
 [ অভিনয় ]                        [ পরিচালনা ]                      [ সংগীত ]
• 'ধ্রুব' (১৯৩৪): নারদ চরিত্র     • সত্যেন্দ্রনাথের সাথে যৌথভাবে     • 'জামাই ষষ্ঠী'-তে সুর ভাণ্ডারি
• 'পাতালপুরী': খনি শ্রমিক           'ধ্রুব' চলচ্চিত্র পরিচালনা      • 'গোরা', 'বিদ্যাপতি', 'সাপুড়ে'
• 'হাল বাংলা': রসাত্মক চরিত্র    • 'বেঙ্গল টাইগার পিকচার্স'-এর প্রধান     ছবিতে বিখ্যাত কালজয়ী সুর
  • দেবর্ষি নারদ চরিত্রে আত্মপ্রকাশ: ১৯৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল স্বয়ং ‘নারদ’ চরিত্রে অভিনয় করেন। কেবল অভিনয়ই নয়, এই ছবির ১৮টির মধ্যে ১৭টি গান তাঁর লেখা ছিল এবং তিনি নিজে ৪টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
  • সুর ভাণ্ডারি: ১৯৩১ সালে নির্মিত প্রথম বাংলা সবাক ছবি ‘জামাই ষষ্ঠী’-তে সুরকার ও গায়কদের উচ্চারণ শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে সেসময় চলচ্চিত্র পাড়ায় ‘সুর ভাণ্ডারি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘গোরা’ (১৯৩৮) সিনেমার সংগীতেও তাঁর সুরের জাদুকরী ছোঁয়া ছিল।

৩. লাল-হলুদ ব্রিগেডের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক

আজকের ফুটবল উন্মাদনার বহু আগেই কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’-এর অন্ধ ভক্ত। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি ১৯৩৪ সালে ইস্টবেঙ্গল দল যখন আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ওঠে, তখন প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি একটি উদ্দীপনামূলক গানও রচনা করেছিলেন।

৪. সুস্থ অবস্থাতেও বৃহস্পতিবারের ‘মৌনব্রত’

জীবনের শেষ ৩৪টি বছর নজরুল ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick’s Disease) নামের স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক কাটিয়েছেন। তবে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী ও কবি পরিবারের স্মৃতি থেকে জানা যায়—নজরুল যখন শতভাগ সুস্থ ও চঞ্চল ছিলেন, তখনও তিনি আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) সম্পূর্ণ নীরব বা মৌনব্রত পালন করতেন। এই দিনটিতে তিনি কারো সাথে কথা বলতেন না।

৫. আসানসোলের রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের স্কুল

আমাদের জাতীয় কবির প্রতিভা বিকাশের নেপথ্যে অন্যতম অবদান ছিল এক পুলিশ অফিসারের। আসানসোলের রুটির দোকানে কাজ করা কিশোর নজরুলের অসাধারণ মেধা লক্ষ্য করে দারোগা কাজী রফিজ উদ্দিন তাঁকে নিজ দায়িত্বে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন।

পরবর্তীতে ১৯১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নজরুল ‘৪৯তম বাঙালি ব্যাটালিয়ন’-এর সৈনিক হিসেবে করাচি সেনানিবাসে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে ‘হাবিলেদার’ পদে উন্নীত হন।

৬. রবীন্দ্রনাথের সেই ঐতিহাসিক অনশন ভাঙার বার্তা

১৯২৩ সালে রাজনৈতিক কারণে হুগলি জেলে বন্দী থাকাকালীন ব্রিটিশদের অন্যায়ের প্রতিবাদে নজরুল টানা ৩৯ দিন আমরণ অনশন করেন। কবির সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন:

“GIVE UP HUNGER STRIKE. OUR LITERATURE CLAIMS YOU.”

ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ চরম হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়ে টেলিগ্রামটির গায়ে “Addressee not found” লিখে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে মাতৃসম বিরজাসুন্দরী দেবী জেলে গিয়ে লেবুর রস খাইয়ে কবির অনশন ভাঙান।

৭. অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক

১৯২৮ সালে রচিত তাঁর ‘চল চল চল’ গানটি স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর অফিশিয়াল রণসঙ্গীত (National Marching Song) হিসেবে সংরক্ষিত। তিনি একদিকে যেমন লিখেছিলেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে’, তেমনি অন্য হাতে সৃষ্টি করেছিলেন ৫০০-র বেশি কালজয়ী ‘শ্যামাসঙ্গীত’ ও ভজন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালন করতেই তিনি নিজের সন্তানদের নাম রেখেছিলেন দুই ধর্মের সংস্কৃতির সমন্বয়ে—’কাজী কৃষ্ণ মোহাম্মদ’ এবং ‘কাজী অনিরুদ্ধ’।

সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  1. সরকারি প্রজ্ঞাপন দাপ্তরিক কপি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট (২৪ ডিসেম্বর ২০২৪)
  2. জাতীয় আর্কাইভ ও নজরুল ইনস্টিটিউট: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য কর্মসংকলন
  3. চলচ্চিত্র ইতিহাস গ্রন্থ: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিবৃত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম (বাংলা একাডেমি প্রকাশনা)
  4. স্মৃতিগ্রন্থ: মোস্তফা জামান আব্বাসী লিখিত নজরুলের স্মৃতিকথা

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নোবেল পুরস্কার

নিউজ ডেস্ক

August 12, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে ‘নোবেল পুরস্কার’ বিবেচিত হলেও এর তালিকায় ‘গণিত’ বিষয়টি অনুপস্থিত। এই প্রতিবেদনে গণিতে নোবেল না থাকার কারণ, নোবেলজয়ী প্রখ্যাত গণিতবিদগণ, গণিতের জনক এবং অহিংস আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক মহাত্মা গান্ধীর নোবেল না পাওয়ার পেছনের প্রকৃত ইতিহাস বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রসহ তুলে ধরা হলো।

১. গণিতের জন্য নোবেল পুরস্কার নেই কেন?

বিজ্ঞান ও সাহিত্যের নানা শাখায় নোবেল দেওয়া হলেও গণিতের জন্য সরাসরি কোনো নোবেল পুরস্কার রাখা হয়নি।

  • বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি: আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তাঁর উইলে যেসব বিষয়ে পুরস্কারের কথা উল্লেখ করেছিলেন (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি), সেগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল মানবজাতির জন্য সরাসরি ও দৃশ্যমান ব্যবহারিক অবদান রাখা [সূত্র: Nobel Foundation Official History]। আলফ্রেড নোবেল নিজে একজন উদ্ভাবক (ডিনামাইটের আবিষ্কারক) ও প্রয়োগমুখী বিজ্ঞানী হওয়ায় গণিতের অত্যন্ত তাত্ত্বিক ও বিমূর্ত রূপকে তিনি মানবজাতির তাৎক্ষণিক কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেননি।
  • জনপ্রিয় মিথ ও সত্যতা: একটি বহুল প্রচলিত গল্প রয়েছে যে, তৎকালীন বিখ্যাত সুইডিশ গণিতবিদ গোস্তা মিটাগ-লেফলারের (Gösta Mittag-Leffler) সাথে আলফ্রেড নোবেলের ব্যক্তিগত বা প্রেমঘটিত শত্রুতা ছিল, যার ফলে নোবেল গণিতে পুরস্কার রাখেননি। তবে আধুনিক ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে এই কাহিনীর কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই [সূত্র: Mathematical Intelligencer Journal / Nobel Prize Facts]।

গণিতের সমতুল্য ‘নোবেল’ পুরস্কার:

১. ফিল্ডস মেডেল (Fields Medal): প্রতি ৪ বছরে একবার ৪০ বছরের কম বয়সী সেরা গণিতবিদদের অসাধারণ উদ্ভাবনের জন্য দেওয়া হয় [সূত্র: International Mathematical Union (IMU)]।

২. অ্যাবেল প্রাইজ (Abel Prize): নরওয়ে সরকার কর্তৃক প্রতি বছর গণিতে আজীবন অবদানের জন্য দেওয়া হয়, যা আর্থিক সম্মাননা ও মর্যাদার দিক থেকে নোবেল পুরস্কারের অবিকল সমতুল্য [সূত্র: The Norwegian Academy of Science and Letters]।

২. গণিতবিদ হয়েও নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যাঁরা

গণিতে নির্দিষ্ট নোবেল না থাকলেও জটিল গাণিতিক তত্ত্বকে অন্য বিজ্ঞানে প্রয়োগ করে কয়েকজন বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ নোবেল জয় করেছেন:

  • জন ফর্বস ন্যাশ (John Forbes Nash): ১৯৯৪ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর আবিষ্কৃত ‘গেম থিওরি’ (Game Theory) আধুনিক বাজার অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে বিপ্লব এনেছিল [সূত্র: The Nobel Prize in Economic Sciences 1994]। (তাঁর জীবন নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত চলচ্চিত্র A Beautiful Mind)।
  • বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell): তিনি মূলত একজন গণিতবিদ ও দার্শনিক ছিলেন। লজিক ও গণিতের বিখ্যাত আকরগ্রন্থ Principia Mathematica-র সহ-লেখক হওয়া সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান [সূত্র: The Nobel Prize in Literature 1950]।
  • রজার পেনরোজ (Roger Penrose): এই ব্রিটিশ গাণিতিক-পদার্থবিদ ২০২০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান। কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) সৃষ্টিতে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি অত্যন্ত জটিল গাণিতিক জ্যামিতিক পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন [সূত্র: The Nobel Prize in Physics 2020]।

৩. গণিতের জনক এবং বিভিন্ন শাখার পথিকৃৎ

গ্রীক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস (Archimedes)-কে সামগ্রিকভাবে গণিতের জনক বলা হয় [সূত্র: Encyclopaedia Britannica]।

  • কেন তিনি মূল জনক? আধুনিক ক্যালকুলাস আবিষ্কারের শত শত বছর আগেই তিনি ‘Method of Exhaustion’ ব্যবহার করে বক্ররেখার ক্ষেত্রফল এবং গোলক ও সিলিন্ডারের নিখুঁত আয়তন নির্ণয় করেছিলেন। এছাড়া জ্যামিতিক উপায়ে ‘পাই’ ($\pi$)-এর প্রায় সঠিক মান তিনি প্রথম নির্ধারণ করেন।

গণিতের প্রধান শাখাগুলোর জনক:

  • জ্যামিতির জনক: ইউক্লিড (Euclid), যাঁর লেখা Elements গ্রন্থটি আধুনিক জ্যামিতির মূল ভিত্তিমূল [সূত্র: History of Mathematics Guide]।
  • বীজগণিতের জনক: আল-খাওয়ারিজমি (Al-Khwarizmi), পারস্যের এই বিজ্ঞানীর বিখ্যাত গ্রন্থ Kitab al-Jabr থেকে ‘Algebra’ শব্দটির উৎপত্তি।
  • পাটিগণিত ও শূন্যের পথিকৃৎ: আর্যভট্ট (Aryabhata), ভারতীয় এই গণিতবিদ শূন্যের ধারণা ও দশমিক ব্যবস্থার বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখেন।

৪. মহাত্মা গান্ধী কেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাননি?

মহাত্মা গান্ধী তাঁর জীবনদ্দশায় মোট ৫ বার (১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯, ১৯৪৭ এবং ১৯৪৮ সালে) শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি জটিলতায় এই পুরস্কার পাননি [সূত্র: Nobel Prize Official Historical Records]।

            [ ১৯৩৭–১৯৩৯: ইউরোকেন্দ্ৰিক মনোভাব ও ব্রিটিশ সংঘাতের ভয় ]
                                     ↓
            [ ১৯৪৭: দেশভাগ এবং ভারত-পাকিস্তানের উত্তাল দাঙ্গা ]
                                     ↓
            [ ১৯৪৮: শর্টলিস্টের ২ দিন আগে হত্যাকাণ্ড ও আইনি বাধা ]
                                     ↓
            [ নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত: ১৯৪৮ সালে কোনো জীবিত ব্যক্তি যোগ্য নন ]

প্রধান কারণসমূহ:প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

১. ইউরোকেন্দ্রীক দৃষ্টিভঙ্গি: বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নোবেল কমিটির মানসিকতা ছিল ইউরোপ-কেন্দ্রিক। গান্ধীর অহিংস ও সত্যাগ্রহ আন্দোলন তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী প্রাতিষ্ঠানিক পলিটিক্সের বাইরে থাকায় কমিটি তা বুঝতে সময় নেয় [সূত্র: Nobel Peace Prize Nomination Archives]।

২. রাজনৈতিক সংশয় ও ব্রিটিশ প্রভাব: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় গান্ধীকে নোবেল দিলে যুক্তরাজ্যের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন শঙ্কাও নোবেল কমিটির ভেতরের একটি অংশের মধ্যে কাজ করেছিল।

৩. ১৯৪৮ সালের হত্যাকাণ্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা: ১৯৪৮ সালে তিনি যখন চূড়ান্ত শর্টলিস্টেড হন, তার মাত্র ২ দিন আগে (৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮) আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন। তৎকালীন নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী মরণোত্তর পুরস্কার পাওয়ার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক উইল, ট্রাস্ট বা অর্থ গ্রহণের উত্তরাধিকারী সংগঠন গান্ধী রেখে যাননি [সূত্র: Nobel Foundation Posthumous Rules Archive]।

৪. কমিটির অনুশোচনা: গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৪৮ সালে কাউকেই শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়নি এবং বলা হয়েছিল—”এই বছর পুরস্কার পাওয়ার মতো কোনো যোগ্য জীবিত ব্যক্তি নেই।” পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামাকে নোবেল দেওয়ার সময় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে, গান্ধীকে নোবেল না দেওয়াটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় ভুল ছিল [সূত্র: Nobel Peace Prize Presentation Speech 1989]।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ