ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আইয়ুব খান নির্মিত বাইতুল মোকাররম মসজিদ
ঢাকার কেন্দ্রস্থলে নির্মিত বাইতুল মোকাররম মসজিদটি তার উন্নত স্থাপত্যশৈলী এবং আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির জন্য বিশিষ্ট। মসজিদটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশাল এবং আধুনিক উপাসনালয় তৈরি করা। এটি শুধু এক ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদটি এখন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম সুন্দর মসজিদ হিসেবে পরিচিত।
১৯৬৭ সালে বাইতুল মোকাররম মসজিদ এবং তার সংলগ্ন মার্কেট
১৯৬৭ সালে বাইতুল মোকাররম মসজিদটির সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তার আশেপাশে একটি মার্কেটও নির্মিত হয়। এই মার্কেটটি শুধুমাত্র মসজিদের প্রার্থনা কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং ঢাকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এরও গুরুত্ব রয়েছে। বাইতুল মোকাররম মসজিদ ও তার সংলগ্ন মার্কেটটি ঢাকার অন্যতম ব্যবসায়িক ও ধর্মীয় গন্তব্যস্থল হয়ে ওঠে।
এটির স্থাপত্যশৈলী
বাইতুল মোকাররম মসজিদটি ইসলামী স্থাপত্যের আধুনিক উদাহরণ। এর স্থাপত্যে ব্যবহার করা হয়েছে বিশাল কলাম এবং মিনার, যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে, মসজিদটির কেন্দ্রীয় গম্বুজটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং তা শহরের আকাশে একটি প্রশস্ত ও ঐতিহ্যবাহী চেহারা প্রদান করে। মসজিদটির ভিতরের ডিজাইনও আধুনিক এবং শুদ্ধ ইসলামী শিল্পকলা অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
সুত্র:
- বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাইতুল মোকাররম মসজিদ – ইতিহাস ও গুরুত্ব
- ঢাকা শহরের স্থাপত্যকলা, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপত্য
- ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, বাইতুল মোকাররম মসজিদ ও সংলগ্ন মার্কেটের ভূমিকা
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ নিবন্ধ: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইতিহাসের প্রতিটি মোড়ে যখনই কোনো জাতি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে, তখনই একটি ধ্রুব সত্য উন্মোচিত হয়েছে—দেশপ্রেম কোনো সমানুপাতিক আবেগ নয়। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংকটের সময় মানুষের ভূমিকা নির্ধারিত হয় তার ‘শিকড়’ এবং ‘সম্পদ’-এর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে। আপনার সেই ‘অসম্ভব যুদ্ধের’ কল্পনার আয়নায় যদি আমরা বর্তমান সমাজকে দেখি, তবে দেশপ্রেমের এক রূঢ় ও নগ্ন সত্য বেরিয়ে আসে।
১. এলিট সিন্ডিকেট: যখন পরাধীনতাই ‘রোমান্টিক মিলন’

উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ-শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর একটি বড় অংশের কাছে ‘দেশ’ কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়, বরং একটি ‘বিজনেস ডিল’।
- বুদ্ধিজীবীদের বয়ান: যুদ্ধের সময় তারা সরাসরি পক্ষ না নিয়ে ‘মানবিকতা’ বা ‘ঐতিহাসিক ঐক্যের’ দোহাই দিয়ে পরাধীনতাকে জাস্টিফাই করে। তারা দুই বাংলার মিলনকে ‘সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ’ বা ‘মৃত নেতার অপূর্ণ স্বপ্ন’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করে।
- আমলাতান্ত্রিক স্বার্থ: তাদের কাছে রাষ্ট্র মানে কেবল একটি নিয়োগকর্তা। পতাকা বদলালে যদি মুম্বাই বা দিল্লিতে বড় পদের সুযোগ থাকে, তবে তারা সেই পতাকাকেই স্যালুট দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
২. মধ্যবিত্তের দোদুল্যমানতা ও ভার্চুয়াল যুদ্ধ

মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজ সবসময়ই একটি নিরাপদ দূরত্বের সমর্থক।
- ভার্চুয়াল রেজিস্ট্যান্স: তারা ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার বদলে কিংবা টুইটারে হ্যাশট্যাগ (#SaveTheCountry) দিয়ে যুদ্ধ জয়ের চেষ্টা করে।
- সুবিধাবাদ: প্রবাসী মধ্যবিত্তরা দূর থেকে আবেগী স্ট্যাটাস দেয়, কিন্তু নিজের নিরাপদ জীবন বিপন্ন করে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেয় না। তাদের কাছে দেশপ্রেম একটি ‘ইমোশনাল কন্টেন্ট’ মাত্র।
৩. সম্মুখ সারির লড়াকু: অবহেলিতরাই কেন শেষ ভরসা?

কেন সেই গ্রাম থেকে আসা ছাত্রটি বা গার্মেন্টস শ্রমিকটিই বন্দুক হাতে তুলে নেয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের ‘অস্তিত্বের শিকড়ে’।
- অন্য কোনো অপশন নেই: যার বিদেশে বাড়ি নেই, যার ব্যাংকে কোটি টাকা নেই, তার পালানোর কোনো জায়গা নেই। এই মাটির এক ইঞ্চি অধিকার হারানো মানে তার বেঁচে থাকার সবটুকু হারানো।
- লুঙ্গি পরা স্বাধীনতা: ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যেমনটি আমরা দেখেছি, সেই লুঙ্গি পরা কৃষক বা খালি গায়ের মেহনতি মানুষগুলোর কাছে দেশপ্রেম কোনো থিওরি নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি। তারা রণকৌশল বোঝে না, কিন্তু তারা মাটি আগলে রাখতে জানে।
৪. সেবার নামে শোষণ: ক্রাইসিস ক্যাপিটালিজম

যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে একদল ‘সুযোগসন্ধানী স্বেচ্ছাসেবক’ তৈরি হয়। যারা শুরুতে ত্রাণ বিলি করলেও, পরে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপরই চড়াও হয়। এটি যুদ্ধের এক অন্ধকার দিক, যেখানে সমাজবিরোধীরা ‘দেশ বাচাও’ শ্লোগানের আড়ালে অপরাধতন্ত্র চালায়।
সারসংক্ষেপ: কে কোথায় থাকে?
| সামাজিক শ্রেণী | সংকটের সময় ভূমিকা | মূল চালিকাশক্তি |
| উচ্চবিত্ত/এলিট | বিদেশে পলায়ন বা সমঝোতা | মূলধন রক্ষা |
| বুদ্ধিজীবী | আদর্শিক বিভ্রান্তি তৈরি | ব্যক্তিগত আখের গোছানো |
| মধ্যবিত্ত | সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা | দোদুল্যমানতা ও ভয় |
| নিম্নবিত্ত/মেহনতি | সম্মুখ সমরে সশস্ত্র লড়াই | অস্তিত্ব ও মাটির টান |
উপসংহার
দেশপ্রেম আসলে কোনো ‘পেইড সার্ভিসে’র বিষয় নয়। এটি এমন এক আগুন যা কেবল তাদের হৃদয়েই জ্বলে, যাদের পা এই মাটির ধুলোয় মিশে থাকে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য একদল থাকে, আর জাতীয় পতাকাকে রক্তের বিনিময়ে রক্ষা করার জন্য অন্য একদল।
আপনার এই বিশ্লেষণটি কেবল একটি কল্পনা নয়, এটি শোষিত শ্রেণীর পক্ষ থেকে ক্ষমতার বলয়ের প্রতি এক বিশাল চপেটাঘাত।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ নিবন্ধ: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান বা ‘Sociology’ আজ একটি স্বতন্ত্র এবং পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান হলেও এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে হাজার বছরের পুরনো মানব চিন্তায়। সমাজবিজ্ঞানের এই উৎপত্তির পথটি পরিক্রমা করলে দেখা যায়, এটি কোনো আকস্মিক আবিষ্কার নয়, বরং মহান দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের নিরলস গবেষণার ফসল।
১. প্রাচীন ভিত্তি: হামুরাবি থেকে এরিস্টটল

সমাজচিন্তার প্রথম লিখিত দলিল হিসেবে ধরা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দের হামুরাবি সনদ-কে, যেখানে প্রাচীন ব্যাবিলনীয় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়মাবলীর চিত্র পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর ‘Republic’ এবং এরিস্টটল তাঁর ‘Politics’ গ্রন্থে আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ব্যবচ্ছেদ করেন। প্লেটোর কল্পনা এবং এরিস্টটলের বাস্তববাদই পরবর্তী সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছে।
২. মধ্যযুগ ও রেনেসাঁ: ইবনে খালদুন ও ম্যাকিয়াভেলি

মুসলিম মনীষী ইবনে খালদুন-কে আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘মুকাদ্দিমা’-তে তিনি ইতিহাসের গতি-প্রকৃতি এবং সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। অন্যদিকে ইতালীয় দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলি তাঁর ‘Prince’ গ্রন্থে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তবমুখী সম্পর্কের অবতারণা করে আধুনিক সামাজিক চিন্তার পথ প্রশস্ত করেন।
৩. বিজ্ঞানের ছোঁয়া: ভিকো ও মন্টেস্কু

ইতালীয় দার্শনিক ভিকো তাঁর ‘The New Science’ গ্রন্থে সমাজ বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক রূপদান করেন। তিনি সমাজকে দেবতা, যোদ্ধা ও মানুষের—এই তিন যুগে বিভক্ত করেন। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর ‘The Spirit of the Laws’ গ্রন্থে দেখান কীভাবে ভৌগোলিক পরিবেশ একটি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
৪. সমাজবিজ্ঞানের জন্ম ও অগাস্ট কোঁৎ

সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেন ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ। ১৮৩৯ সালে তিনি ‘Sociology’ শব্দটি উদ্ভাবন করেন। কোঁৎ সমাজ বিশ্লেষণের জন্য ‘Positive Philosophy’ বা দৃষ্টবাদের অবতারণা করেন এবং সমাজকে তিনটি স্তরে (ধর্মতান্ত্রিক, দার্শনিক ও দৃষ্টবাদী) ব্যাখ্যা করেন। এজন্যই তাঁকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
৫. আধুনিক বিকাশে ত্রিমূর্তি: মার্কস, ডুরখেইম ও ওয়েবার

সমাজবিজ্ঞানকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন এই তিন দিকপাল:
- কার্ল মার্কস: ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ ও শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের মাধ্যমে তিনি সমাজের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দেন।
- এমিল ডুরখেইম: তিনি সমাজ গবেষণায় বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির সূচনা করেন। বিশেষ করে তাঁর ‘শ্রম বিভাজন’ ও ‘আত্মহত্যা’ তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানে মাইলফলক হয়ে আছে।
- ম্যাক্স ওয়েবার: তিনি ব্যক্তিকে সমাজ গবেষণার একক হিসেবে চিহ্নিত করেন। আমলাতন্ত্র ও নেতৃত্বের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
এক নজরে সমাজচিন্তার বিবর্তন:
| চিন্তাবিদ | বিখ্যাত গ্রন্থ/তত্ত্ব | মূল অবদান |
| হামুরাবি | হামুরাবি সনদ | বিশ্বের প্রথম লিখিত সামাজিক আইন। |
| ইবনে খালদুন | আল মুকাদ্দিমা | সমাজতাত্ত্বিক ইতিহাসের ব্যাখ্যা। |
| অগাস্ট কোঁৎ | Positive Philosophy | সমাজবিজ্ঞানের নামকরণ ও জন্মদান। |
| কার্ল মার্কস | Das Kapital | শ্রেণিসংগ্রাম ও বস্তুবাদী ব্যাখ্যা। |
| হার্বার্ট স্পেনসার | Principles of Sociology | সমাজকে জীবদেহের সাথে তুলনা (অর্গানিক থিওরি)। |
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):
সমাজবিজ্ঞানের এই ক্রমবিকাশ প্রমাণ করে যে, মানুষের সামাজিক আচরণ কেবল কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলে। অগাস্ট কোঁৎ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা বর্তমান ২০২৬ সালে এসে আরও জটিল ও প্রযুক্তি নির্ভর হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল সোশিওলজি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬
“তেরোশত নদী শুধায় আমাকে…”—পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের কবিতার এই পঙক্তিটি আমাদের শৈশব থেকেই পরিচিত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা কত? প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর নিয়ে খোদ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যেই রয়েছে বিশাল মতভেদ। কোনো সংস্থা বলছে ২৩০, কেউ বলছে ৪০৫, আবার কেউ বলছে সংখ্যাটি ৭০০-এর অধিক। কেন এই বিতর্ক? কেন আজ পর্যন্ত আমরা একটি সঠিক পরিসংখ্যান হাতে পেলাম না?
১. বিভিন্ন সংস্থার পরস্পরবিরোধী পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে নদী নিয়ে কোনো সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ গবেষণা না হওয়ায় বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো): ২০০৫ সালে পাউবো তাদের এক প্রকাশনায় নদীর সংখ্যা বলেছিল ৩১০টি। মাত্র ছয় বছর পর ২০১১ সালে পুনরায় গবেষণার পর তারা জানায় এই সংখ্যা ৪০৫টি।
- বাংলাপিডিয়া ও শিশু বিশ্বকোষ: সরকারি অনলাইন তথ্যকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ এবং শিশু একাডেমি প্রকাশিত ‘শিশু বিশ্বকোষে’ নদীর সংখ্যা বলা হয়েছে ৭০০-এর অধিক।
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন: সম্প্রতি নদী রক্ষা কমিশনও নদীর একটি বিশাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে, যেখানে সংখ্যাটি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
২. ২৩০ টি নদীর বহুল প্রচলিত তথ্যের উৎস কী?

সাধারণ মানুষের মাঝে ২৩০টি নদীর তথ্যটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। মূলত স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যপুস্তকগুলোতে এই সংখ্যাটি ব্যবহৃত হতো। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ডিজিটাল ম্যাপিং বলছে, এই সংখ্যাটি বর্তমানে অনেক বেশি।
৩. বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিকদের দৃষ্টিতে নদীর সংখ্যা

গবেষকদের লেখনীতেও নদীর সংখ্যার ভিন্নতা ফুটে উঠেছে:
- অশোক বিশ্বাস তাঁর ‘নদীকোষ’ গ্রন্থে বলেছেন ৭০০+ নদী।
- মোকারম হোসেন ও মোঃ ইনামুল হক তাঁদের পৃথক গ্রন্থে নদীর সংখ্যা উল্লেখ করেছেন ১০০০-এরও বেশি।
- মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন বাংলাদেশে ১০০০-এর অধিক নদী বিদ্যমান।
৪. আঞ্চলিক ভিত্তিতে নদীর বিন্যাস (পাউবো ২০১১ অনুযায়ী)
পাউবো-র ৪০৫টি নদীর হিসাব অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
- উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল: ১১৫টি
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: ১০২টি
- উত্তর-পূর্বাঞ্চল: ৮৭টি
- উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চল: ৬১টি
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: ২৪টি
- পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চল: ১৬টি
৫. আন্তঃসীমান্তীয় নদী: ৫৭ নাকি আরও বেশি?

ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা সাধারণভাবে ৫৭টি হিসেবে স্বীকৃত (যার মধ্যে ৫৪টি ভারত থেকে এবং ৩টি মিয়ানমার থেকে আসা)। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ছোট-বড় অনেক ছড়া ও পাহাড়ি ঢল হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):
নদীর সংখ্যা নিয়ে এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো ‘নদী’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অভাব। অনেক খাল বা মরা নদীকে কেউ নদী বলছেন, আবার কেউ বলছেন না। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ দখলের কারণে অনেক নদী ম্যাপ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, আবার পলি জমে নতুন নতুন শাখা নদী তৈরি হচ্ছে। একটি সঠিক নদী-শুমারি বা ন্যাশনাল রিভার এটলাস (National River Atlas) প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



