অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ইকোনমিক রিপোর্ট
প্রতিনিধি/বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল প্রকল্প হলো পদ্মা বহুমুখী সেতু এবং এর সাথে যুক্ত পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (PBRLP)। এটি কেবল নদীর এপার-ওপারকে যুক্ত করেনি, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে যুক্ত করে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক রূপান্তর এনেছে।
১. উচ্চ বাজেট: কেন এই বিপুল ব্যয়?

পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০,৭৭০ কোটি টাকা (৩.০৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি)। প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় ব্যয়ের বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- নকশায় যুগান্তকারী পরিবর্তন: শুরুতে শুধু একক স্তরের সড়ক সেতুর পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে এটিকে দ্বিতল বিশিষ্ট (উপরে ৪ লেনের সড়ক এবং নিচে সিঙ্গেল ট্র্যাকিং রেল) বহুমুখী সেতুতে রূপান্তর করা হয়।
- বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নদীশাসন: খরস্রোতা প্রমত্তা পদ্মার দিক পরিবর্তন ও তীব্র ভাঙন সামলাতে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার শুধু নদীশাসন ও তীর প্রতিরক্ষায় খরচ করা হয়েছে।
- ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও বিলম্ব: বিশ্বব্যাংক সংক্রান্ত জটিলতা ও কোভিডের কারণে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় ঠিকাদারি খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার হারের পার্থক্যে বাজেট বৃদ্ধি পায়।
২. কারিগরি প্রকৌশল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময়
বিশ্বজুড়ে পদ্মা সেতু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অনন্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়:
- গভীরতম পাইলিং (১২৭ মিটার): নদীর তলদেশের নরম মাটির দরুন মাটির নিচে সর্বোচ্চ ১২৭ থেকে ১২৮ মিটার (প্রায় ৪১৭ ফুট) পর্যন্ত স্টিলের টিউবুলার পাইল ঢুকানো হয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো সেতুর জন্য গভীরতম পাইলিংয়ের রেকর্ড।
- ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং: রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সামলাতে পিলার ও স্প্যানের মাঝে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’ বসানো হয়েছে।
- ইউটিলিটি সংযোগ: সেতুর নিচের ডেকে রেললাইনের সাথে ৭৬০ মিমি ব্যাসের উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাস পাইপলাইন, ফাইবার অপটিক cables এবং ৪০০ কেভির পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইন যুক্ত রয়েছে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ পদ্মা সেতুর কারিগরি প্রোফাইল │
├─────────────────────────┬───────────────────────────────────────────────┤
│ মূল সেতুর দৈর্ঘ্য │ ৬.১৫ কিমি (ভায়াডাক্টসহ মোট ৯.৮৩ কিমি) │
│ কাঠামো │ দ্বিতল (Upper: ৪-লেন সড়ক, Lower: রেললাইন) │
│ পিলার ও স্প্যান │ ৪২টি পিলার, ৪১টি ট্রাস স্প্যান (১৫০ মিটার প্রতিটি)│
│ সর্বোচ্চ পাইলিং গভীরতা │ ১২৭-১২৮ মিটার (বিশ্ব রেকর্ড) │
└─────────────────────────┴───────────────────────────────────────────────┘
৩. পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (PBRLP)

ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটারের নতুন রেলপথ নির্মাণ বাংলাদেশের রেলের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যয়বহুল (প্রায় ৩৯,২৪৭ কোটি টাকা) প্রকল্প।
- ব্যালাস্টলেস বা পাথরবিহীন ট্র্যাক: দেশে প্রথমবারের মতো সেতুর উপর ও ভায়াডাক্টে ঝাঁকুনিমুক্ত ও শব্দহীন পাথরবিহীন রেললাইন (Ballastless Track) ব্যবহার করা হয়েছে।
- ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটারের গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে ব্রডগেজ ট্র্যাক তৈরি করা হয়েছে।
- স্টেশন নেটওয়ার্ক (২০টি স্টেশন): ঢাকা (কমলাপুর) থেকে যশোর পর্যন্ত বিস্তৃত রুটটিতে ১৪টি নতুন ও ৬টি আধুনিকায়িত জংশন রয়েছে।
ঢাকা-যশোর রুটের প্রধান স্টেশনসমূহ:
ঢাকা (কমলাপুর) ➔ গেন্ডারিয়া ➔ কেরানীগঞ্জ ➔ নিমতলা ➔ শ্রীনগর ➔ মাওয়া ➔ জাজিরা ➔ পদ্মা (শিবচর) ➔ ভাঙ্গা জংশন ➔ কাশিয়ানী ➔ নড়াইল ➔ সিঙ্গিয়া জংশন (যশোর)।
স্টেশন সুবিধা: শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য লিফট/র্যাম্প, মেটাল শেডসহ সেম-লেভেল প্ল্যাটফর্ম, এসসি ওয়েটিং লাউঞ্জ, ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কম্পিউটার-ভিত্তিক ‘রিলে ইন্টারলকড’ সিগন্যালিং সিস্টেম।
৪. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার সফল মডেল
┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐
│ জিডিপিতে বৈপ্লবিক বৃদ্ধি │ ──► │ পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস│ ──► │ টোল আয়ে স্বাবলম্বী │
│ জাতীয়: +১.২৩% │ │ ১০+ ঘণ্টা সময় সাশ্রয়, │ │ ৩,৪২৯+ কোটি টাকা রাজস্ব │
│ আঞ্চলিক: +২.৫০% │ │ কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত│ │ ১৬ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ │
└─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘
- টোল রাজস্ব আদায়: উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩,৪২৯ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে। অর্জিত টাকা থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (BBA) ইতোমধ্যে সরকার দেওয়া ঋণের ১৬টি কিস্তিতে ২,৫১৬ কোটি টাকা সফলভাবে পরিশোধ করেছে।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: পরিবহন সময় ১০ ঘণ্টার বেশি কমে যাওয়ায় যশোর-বরিশালের কৃষি ও মৎস্য পণ্য দ্রুত ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এই রুটে নতুন ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারিদ্র্যের হার প্রায় ১.০০% কমেছে।
৫. সহজে অনলাইনে টিকিট কাটার নির্দেশিকা
পদ্মা সেতু রুটের ট্রেনের টিকিট এখন ঘরে বসেই কাটতে পারেন:
- প্লাটফর্ম লগ-ইন:
eticket.railway.gov.bdওয়েবসাইটে ঢুকুন অথবা ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন। - স্টেশন নির্বাচন: ‘From’ এ Dhaka এবং ‘To’ এ আপনার গন্তব্য (যেমন: Bhanga, Jessore, Benapole) নির্বাচন করে যাত্রার তারিখ ও আসন শ্রেণী দিন।
- পেমেন্ট ও ই-টিকিট: বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংক কার্ড দিয়ে মূল্য পরিশোধ করলে ই-টিকিট ইমেইলে ও স্ক্রিনে চলে আসবে। (কাউন্টার থেকে কাটতে চাইলে যাত্রীর NID সংগে থাকা বাধ্যতামূলক। অগ্রিম টিকিট ১০ দিন আগে পাওয়া যায়)।
সারসংক্ষেপ: কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও উচ্চ বাজেটের কারণে শুরুতে সমালোচনা হলেও—পদ্মা সেতু এবং এর রেল নেটওয়ার্ক আজ দৈনিক কোটি কোটি টাকার রাজস্ব এনে দিচ্ছে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে নিজের বিনিয়োগের শতভাগ সার্থকতা প্রমাণ করছে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad) এবং রকেট (Rocket-DBBL)-এর অফিশিয়াল ট্যারিফ চার্ট ও কাস্টমার কেয়ার পলিসি নির্দেশিকা।
বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন এবং দৈনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার সিংহভাগই এখন নিয়ন্ত্রিত হয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। বিকাশ, নগদ এবং রকেট আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও, অনেক ব্যবহারকারীই এদের বিভিন্ন লেনদেন চার্জ এবং হিডেন কস্ট (গোপন খরচ) সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। কোন মাধ্যমে টাকা কাটলে আপনার খরচ সবচেয়ে কম হবে এবং কোথায় কী ধরণের অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়, তা গুগলের ২০২৬ সালের ফিন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি গাইডলাইন অনুযায়ী নিচে বিস্তারিত ও স্বচ্ছভাবে তুলনা করা হলো।
১. ক্যাশ আউট চার্জের তুলনা (Cash Out Charge Comparison)
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় খরচ হলো ‘ক্যাশ আউট’ বা এজেন্ট থেকে টাকা তোলার চার্জ। অ্যাপ (App) এবং বাটন ফোনের ইউএসএসডি (USSD) কোড ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে চার্জের তারতম্য নিচে দেওয়া হলো:
- বিকাশ (bKash):
- অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা।
- ইউএসএসডি কোড (
*247#) দিয়ে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা। - তবে বিকাশের ১টি ‘প্রিয় এজেন্ট’ নম্বর সেট করলে প্রতি হাজারে ১৪.৯০ টাকা রেটে (মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) ক্যাশ আউট করা যায়।
- নগদ (Nagad):
- অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১২.৫০ টাকা (ভ্যাটসহ ১৪.৯৭ টাকা)।
- ইউএসএসডি কোড (
*167#) ব্যবহার করলে চার্জ প্রতি হাজারে ১৪.৯৪ টাকা (ভ্যাটসহ ১৮.৫০ টাকা)।
- রকেট (Rocket):
- অ্যাপ এবং ইউএসএসডি (
*322#) উভয় মাধ্যমেই সাধারণ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১৫.০০ টাকা (ভ্যাটসহ প্রায় ১৮.০০ টাকা)। - তবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম (ATM) বুথ থেকে রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে মাত্র ৯.০০ টাকা চার্জ কাটে।
- অ্যাপ এবং ইউএসএসডি (
২. সেন্ড মানি ও পিটুপি চার্জ (Send Money Charges)
এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম:
- বিকাশ: অ্যাপের মাধ্যমে ৫টি ‘প্রিয় নম্বর’ (Prize Numbers) সেট করলে ১০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রিয় নম্বর ছাড়া অ্যাপ বা ইউএসএসডি-তে ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাট ফি কাটে।
- নগদ: নগদ অ্যাপ থেকে যেকোনো নম্বরে সেন্ড মানি করা সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে বাটন ফোনে ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে সেন্ড মানি করলে প্রতি লেনদেনে ৪.০০ টাকা প্লাস ভ্যাট চার্জ কাটে।
- রকেট: রকেটে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেন্ড মানি চার্জ প্রতি লেনদেনে ৫.০০ টাকা।
৩. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের “হিডেন কস্ট” বা গোপন খরচসমূহ

অফিশিয়াল ট্যারিফ চার্টের বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অজান্তেই টাকা কেটে নেওয়া হয়, যা নিচে উন্মোচন করা হলো:
- অ্যাপ বনাম ইউএসএসডি জালিয়াতি (নগদ): নগদের বিজ্ঞাপনে “হাজারে ১১.৪৯ টাকা” বা “১২.৫০ টাকা” ক্যাশ আউটের কথা বলা হলেও, এটি কেবল অ্যাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাটন ফোনের সাধারণ গ্রাহকেরা যখন ইউএসএসডি কোড দিয়ে টাকা তোলেন, তখন তাদের কাছ থেকে পুরো ১৮.৫০ টাকাই কেটে নেওয়া হয়, যা অনেক সাধারণ গ্রাহকই খেয়াল করেন না।
- ভ্যাট এবং ফ্র্যাকশন কস্ট (Fraction Cost): অনেক অপারেটর মূল চার্জের সাথে ১৫% সরকারি ভ্যাট আলাদাভাবে যোগ করে। যেমন নগদের ১২.৫০ টাকার সাথে ভ্যাট যুক্ত হয়ে সেটি প্রকৃতপক্ষে ১৪.৯৭ টাকা দাঁড়ায়।
- লিমিট ক্রস পেনাল্টি: বিকাশ বা রকেটে নির্দিষ্ট মাসিক লেনদেনের লিমিট (যেমন ক্যাশ আউট বা সেন্ড মানি কাউন্ট) পার হয়ে গেলে পরবর্তী লেনদেনগুলোর জন্য অতিরিক্ত পেনাল্টি চার্জ বা উচ্চতর ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
- ব্যাংক টু এমএফএস ট্রান্সফার ফি: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা আনার (Add Money) সময় বেশিরভাগ ব্যাংক ফ্রি দিলেও, কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংক কার্ড থেকে টাকা লোড করার সময় ১% থেকে ২% পর্যন্ত প্রসেসিং ফি বা হিডেন ইনভয়েস চার্জ কেটে রাখে।
৪. একনজরে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জের তুলনামূলক ছক (১,০০০ টাকার হিসাবে)
| লেনদেনের ধরণ | বিকাশ (bKash) | নগদ (Nagad) | রকেট (Rocket) |
|---|---|---|---|
| অ্যাপ ক্যাশ আউট | ৳১৮.৫০ (প্রিয় এজেন্টে ৳১৪.৯০) | ৳১৪.৯৭ (ভ্যাটসহ) | ৳১৮.০০ (ATM বুথে ৳৯.০০) |
| USSD ক্যাশ আউট | ৳১৮.৫০ | ৳১৮.৫০ (ভ্যাটসহ) | ৳১৮.০০ |
| অ্যাপ সেন্ড মানি | ফ্রি (৫টি প্রিয় নম্বরে) | সম্পূর্ণ ফ্রি | ৳৫.০০ |
| বিল পে (Bill Pay) | প্রতিষ্ঠানভেদে ৳৫ – ৳৩০ | ফ্রি থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট ফি | প্রতিষ্ঠানভেদে চার্জ প্রযোজ্য |
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ক্যাশ আউট করার ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। আপনি যদি বিকাশের নিয়মিত গ্রাহক হন, তবে আপনার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিশ্বস্ত এজেন্ট নম্বরটিকে অবশ্যই ‘প্রিয় এজেন্ট’ হিসেবে সেট করে রাখুন, এতে আপনার প্রতি হাজারে ৩.৬০ টাকা সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, আপনার আসেপাশে যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থাকে, তবে রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে বুথ থেকে টাকা তোলাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এখানে খরচ অর্ধেকেরও কম (মাত্র ৯ টাকা)। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত কাউন্টার বা লিংকে আপনার পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) শেয়ার করবেন না।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank Monthly FX), বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS), ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ রেট এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং চ্যানেল।
নভেম্বর ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের সংশোধন এবং দেশের অভ্যন্তরে রেমিট্যান্সের অফিসিয়াল রেটের কিছুটা ওঠানামা এই সপ্তাহের প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো এবং স্থানীয় বাজারে কেনাকাটার সুবিধার্থে চলতি সপ্তাহের (৮ নভেম্বর ২০২৬-এ শেষ হওয়া সপ্তাহ) ডলার, ইউরো, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং পাকা স্বর্ণের বাজারদরের একটি পূর্ণাঙ্গ সাপ্তাহিক রাউন্ডআপ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. বৈদেশিক মুদ্রার সাপ্তাহিক রাউন্ডআপ (ডলার, ইউরো ও রিঙ্গিত)
চলতি সপ্তাহে ব্যাংকিং চ্যানেল ও খোলা বাজারে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর গড় লেনদেন হার ছিল নিম্নরূপ:
- মার্কিন ডলার (USD): এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের রেট তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রলিং পেগ ও অফিশিয়াল মিড-রেট অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ক্রয়ের ক্ষেত্রে গড় রেট দিয়েছে ১২৩.৩০ – ১২৩.৫০ টাকা এবং সাধারণ আমদানিকারক ও গ্রাহকদের কাছে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪.৮০ টাকা পর্যন্ত।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম এই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ওঠানামা করেছে। বাংলাদেশি টাকায় চলতি সপ্তাহে ১ ইউরোর গড় মিড-মার্কেট রেট ছিল প্রায় ১৪০.১১ টাকা, যা ব্যাংকভেদে সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ সেলিং রেটে কেনাবেচা হয়েছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য চলতি সপ্তাহের রিঙ্গিত রেট বেশ সন্তোষজনক ছিল। ৪ থেকে ৮ নভেম্বরের লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও মোবাইল ব্যাংকিং পার্টনারদের মাধ্যমে এটি প্রবাসীরা সর্বোচ্চ ৩০.৬৬ টাকা পর্যন্ত রেটে পাঠাতে পেরেছেন।
২. পাকা স্বর্ণ ও রুপার সাপ্তাহিক বাজারদর (Gold & Silver Price)
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক এই সপ্তাহে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২,৭৪১ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ বাজারদর:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): প্রতি ভরি ২,২৬,৯২৩ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৯,৪৫৫ টাকা)।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৭১৭ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৬,০৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,৫২,০৪০ টাকা।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৩,৪৯৯ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৩,৩৮৩ টাকাতেই স্থিতিশীল রয়েছে।
৩. প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজের রেট তুলনা (১০০০ MYR হিসেবে)
এই সপ্তাহে মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীরা ১০০০ রিঙ্গিত দেশে পাঠালে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে আনুমানিক যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): গড় রেট ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,NT৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: গড় রেট ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: গড় রেট ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৪৪০ টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): গড় রেট ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৩৯০ টাকা।
বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল। যেকোনো ভূ-political বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এই রেটগুলো প্রতিদিন এমনকি প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা মূল্যবান ধাতু ক্রয়ের আগে সর্বদা সরকার অনুমোদিত ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা বাজুস-এর অফিসিয়াল লাইভ ডাটা চেক করে নিন। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা নিশ্চিত করুন এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS), যুগান্তর অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, এবং প্রবাসীর দিগন্ত বাজারদর গাইড।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনার (পাকা সোনা) সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। টানা কয়েক দফা দাম বাড়ার পর সাম্প্রতিক সংশোধনীতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ক্যারেটভেদে পাকা সোনা এবং রুপার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ও প্রতি গ্রামের অফিশিয়াল বাজারদর নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. একনজরে আজকের স্বর্ণের বাজারদর (BAJUS Gold Price)
আজকের নতুন দর অনুযায়ী ভ্যাটসহ দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পাকা স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য নিম্নরূপ:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): প্রতি ভরি ২,২৬,৯২৩ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৯,৪৫৫ টাকা)। (পূর্বের তুলনায় ভরিতে ২,৭৪১ টাকা কমানো হয়েছে)।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৭১৭ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৬,০৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,৫২,০৪০ টাকা

২. একনজরে আজকের রুপার বাজারদর (Latest Silver Price)
স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলেও দেশের বাজারে রুপা বা রৌপ্যের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাজুস নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী আজ রুপার প্রতি ভরির বাজারদর নিচে দেওয়া হলো:
- ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩,৪৯৯ টাকা।
- ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩,৩৮৩ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ২,৯১৬ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ২,২১৬ টাকা।
৩. গহনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ (ভ্যাট ও মজুরি)
বাজুস নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপরোক্ত মূল্যটি কেবল পাকা বা খাঁটি ধাতুটির মূল দাম। আপনি যদি শোরুম বা দোকান থেকে তৈরি করা কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা রৌপলঙ্কার কিনতে চান, তবে ফাইনাল বিলের সাথে নিচের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি যুক্ত হবে
- সরকারি ভ্যাট: বিক্রয়মূল্যের ওপর বাধ্যতামূলক ৫% ভ্যাট (VAT) যুক্ত হবে।
- মেকিং চার্জ বা মজুরি: অলঙ্কারের ডিজাইন ও ক্যালিবারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ভরিতে সর্বনিম্ন ৬% থেকে ১৫% পর্যন্ত (কিংবা ডিজাইনভেদে নির্দিষ্ট মজুরি) মেকিং চার্জ যোগ হবে।
- পুরাতন সোনা বিক্রয়: আপনি যদি আপনার পুরাতন স্বর্ণালঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা বিক্রি করতে চান, তবে বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী মূল দাম থেকে ১৫% থেকে ১৭% পর্যন্ত বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করা হবে।
সোনার বাজার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খবরের ওপর ভিত্তি করে এর দাম যেকোনো সময় পুনর্নির্ধারণ হতে পারে। তাই অলঙ্কার তৈরি কিংবা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দোকানে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাজুসের অফিশিয়াল লাইভ আপডেট বা নির্ভরযোগ্য জুয়েলারি মার্চেন্টদের কাছ থেকে রেটটি পুনরায় যাচাই করে নিন। সবসময় হলমার্ক ও ক্যারেট সিল (যেমন ২২ ক্যারেটের জন্য ৯১৬) যুক্ত সার্টিফাইড পাকা সোনা ক্রয়ের মাধ্যমে আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



