ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় মিশে আছে ত্যাগ আর বীরত্বের গল্প। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—বাঙালির প্রতিটি লড়াই ছিল একটি স্বাধীন ও শৃঙ্খল রাষ্ট্রের জন্য। সেই শৃঙ্খলার ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দলগুলোর ভেতরে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করা ৭৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করে বিএনপি আজ এক কঠোর রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা: যশোর
বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক যশোর জেলা। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর জেলা পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল। এদিন দুপুরের পরপরই যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা। যশোরেই প্রথম উঠেছিল বিজয়ী বাংলাদেশের রক্ত সূর্যখচিত গাঢ় সবুজ পতাকা। এই বিজয়ের পথ ধরেই ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত স্বাধীনতা।
মদিনা সনদ ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর: শাসন ও শোষণের ইতিহাস
শাসনতন্ত্রের ইতিহাসে ফিরে তাকালে আমরা দেখি, বিশ্বের ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান হলো মদিনা সনদ (৪৭টি ধারা)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার সেই প্রাচীন শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক। অন্যদিকে, সুশাসনের অভাবে ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬) ঘটেছিল ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, যেখানে খাদ্যের অভাবে মারা গিয়েছিল প্রায় ১ কোটি মানুষ। ইতিহাসের এই প্রতিটি ঘটনা আমাদের শিখিয়েছে—বিশৃঙ্খলা ও শোষণের পরিণাম সবসময় ভয়াবহ।
২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্র: একযোগে বহিষ্কৃত বিএনপির সকল বিদ্রোহী
ইতিহাসের সেই বিশৃঙ্খলা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী মাঠে থাকা সকল বিদ্রোহী প্রার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত বিএনপির সকল নেতার পূর্ণাঙ্গ তালিকা:
রংপুর বিভাগ: ১. আ ন ম বজলুর রশিদ (দিনাজপুর-২), ২. এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫), ৩. রিয়াদ আরাফান সরকার রানা (নীলফামারী-৪)।
রাজশাহী বিভাগ: ১. পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (নওগাঁ-৩), ২. তাইফুল ইসলাম টিপু (নাটোর-১), ৩. ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন (নাটোর-১), ৪. দাউদার মাহমুদ (নাটোর-৩), ৫. ইসফা খাইরুল হক শিমুল (রাজশাহী-৫), ৬. ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (রাজশাহী-৫), ৭. কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (পাবনা-৩), ৮. জাকারিয়া পিন্টু (পাবনা-৪)।
ঢাকা বিভাগ: ১. মোহাম্মদ দুলাল হোসেন (নারায়ণগঞ্জ-১), ২. মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর (নারায়ণগঞ্জ-২), ৩. অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম (নারায়ণগঞ্জ-৩), ৪. অ্যাড. মোহাম্মদ আলী (টাঙ্গাইল-১), ৫. লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩), ৬. অ্যাড. ফরহাদ ইকবাল (টাঙ্গাইল-৫), ৭. মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী (নরসিংদী-৫), ৮. মো. মুমিন আলী (মুন্সিগঞ্জ-১), ৯. মো. মহিউদ্দিন (মুন্সিগঞ্জ-৩)।
খুলনা বিভাগ: ১. নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (কুষ্টিয়া-১), ২. মনিরুল ইসলাম (নড়াইল-২), ৩. অ্যাড. শহিদ ইকবাল (যশোর-৫), ৪. ডা. শহীদুল আলম (সাতক্ষীরা-৩), ৫. ইঞ্জি. মাসুদ (বাগেরহাট-১), ৬. খায়রুজ্জামান শিপন (বাগেরহাট-৪)।
বরিশাল বিভাগ: ১. আব্দুস সোবহান (বরিশাল-১), ২. মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন (পিরোজপুর-২)।
ময়মনসিংহ বিভাগ: ১. রেজাউল করিম চুন্নু (কিশোরগঞ্জ-১), ২. শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫), ৩. সালমান ওমর রুবেল (ময়মনসিংহ-১), ৪. এবি সিদ্দিকুর রহমান (ময়মনসিংহ-১০), ৫. মো. মোর্শেদ আলম (ময়মনসিংহ-১১), ৬. মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (নেত্রকোনা-৩), ৭. মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ (শেরপুর-৩)।
ফরিদপুর বিভাগ: ১. লাভলু সিদ্দিকী (মাদারিপুর-১), ২. কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা (মাদারিপুর-১), ৩. মিল্টন বৈদ্য (মাদারিপুর-২), ৪. নাসিরুল হক সাবু (রাজবাড়ী-২), ৫. এম এস খান মঞ্জু (গোপালগঞ্জ-২), ৬. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (গোপালগঞ্জ-২), ৭. অ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব (গোপালগঞ্জ-৩)।
সিলেট বিভাগ: ১. আনোয়ার হোসেন (সুনামগঞ্জ-৩), ২. দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (সুনামগঞ্জ-৪), ৩. মামুনুর রশীদ চাকসু (সিলেট-৫), ৪. মহসিন মিয়া মধু (মৌলভীবাজার-৪), ৫. শেখ সুজাত মিয়া (হবিগঞ্জ-১)।
কুমিল্লা বিভাগ: ১. ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), ২. অ্যাড. কামরুজ্জামান মামুন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১), ৩. কাজী নাজমুল হোসেন তাপস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), ৪. কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), ৫. ইঞ্জি. আব্দুল মতিন (কুমিল্লা-২), ৬. আতিকুল আলম শাওন (কুমিল্লা-৭), ৭. এম এ হান্নান (চাঁদপুর-৪)।
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১. অ্যাড. মিজানুল হক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), ২. শফিকুল ইসলাম রাহী (চট্টগ্রাম-১৪), ৩. লিয়াকত আলী (চট্টগ্রাম-১৬), ৪. কাজী মফিজুর রহমান (নোয়াখালী-২), ৫. প্রকৌশলী ফজলুল আজীম (নোয়াখালী-৬), ৬. ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব (নোয়াখালী-৬)।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার
প্রথম মুক্ত জেলা যশোরের সেই বিজয়ের আনন্দ আর আজকের রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান—সবই মূলত একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র ও দল গঠনের প্রক্রিয়া। তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশে এই গণবহিষ্কার দলের ভেতর বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা হলেও, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি লড়াইকে আরও জমানো করে তুলেছে। একদিকে এনসিপি ও জামায়াতের নতুন মেরুকরণ, অন্যদিকে ধানের শীষের বিপরীতে বহিষ্কৃত হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে এক নতুন ইতিহাসের জন্মলগ্ন।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল আর্কাইভ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বিএনপি মিডিয়া সেল এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান: যানজটমুক্ত ঢাকার নতুন লিগ্যাসি শুরু
বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | পালস বাংলাদেশ ১২ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান আজ বাংলাদেশের যাতায়াত ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষরের সূচনা করল। রাজধানীর তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পেতে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রথম পাতাল রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল বা ট্রায়াল রান আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর এক অনন্য মাইলফলক।
ঢাকার পাতাল পথে নতুন দিগন্ত
আজকের এই আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান কেবল একটি যান্ত্রিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি ২০৩১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার একটি বড় পদক্ষেপ। এমআরটি লাইন-১ (MRT Line-1) প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই পাতাল রেলটি মাটির প্রায় ৩০ মিটার গভীর দিয়ে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাত্র ২৪ মিনিটে যাত্রী পৌঁছে দেবে।
প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- গতি ও সময়: ট্রায়াল রানে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১০০ কিমি গতিতে চলেছে।
- যাত্রী ধারণক্ষমতা: প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করতে পারবেন।
- পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: মাটির নিচে শব্দহীন এবং উন্নত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পন্ন আধুনিক এই কোচগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত।
কেন এই পাতাল রেল গেম-চেঞ্জার?
আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঢাকার যানজট সমস্যাকে অন্তত ৪০% কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ভোগান্তি এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে। পালস বাংলাদেশ-এর গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ কমলাপুর স্টেশনে ট্রায়াল রানের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
“আমরা এমন এক সময়ের স্বপ্ন দেখতাম যখন মাটির নিচ দিয়ে জটমুক্তভাবে যাতায়াত করব। আজ সেই স্বপ্নের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হলো।” — কড়াইল থেকে আসা এক দর্শনার্থীর মন্তব্য।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
এই প্রকল্পের ফলে কেবল সময় বাঁচবে না, বরং জ্বালানি খরচ এবং যানজটজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, এই পাতাল রেল বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেবে।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।
এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি
চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”
সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬: ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহ শুরু, কাটবে সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ নিশ্চিত করতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার থেকে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল আমদানি ও সরবরাহ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১.৮ লাখ টন ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ডিপোগুলোতে পৌঁছাবে। এতে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে।
জ্বালানি সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা
জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ পরিকল্পনার অধীনে সরকার অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে আসা এই ডিজেল উচ্চমানের এবং পরিবেশবান্ধব।
বর্তমানে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে তেলবাহী ট্যাংকার আসতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আসা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাইপলাইনের সুফল সরাসরি পাবেন দেশের কৃষক ও পরিবহন মালিকরা। নৌপথ বা রেলপথে তেল পরিবহনে যে সিস্টেম লস এবং অতিরিক্ত খরচ হতো, পাইপলাইনে তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিজেলের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারে আরও সমন্বয় করা সম্ভব হতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই জ্বালানি নীতি নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কেবল অর্থনীতির চাকা সচল রাখে না, এটি নাগরিকের মানবাধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করে। সামাজিক সমতা বজায় রাখতে হলে জ্বালানির ন্যায্য মূল্য এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই পাইপলাইন প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ঝুঁকি হ্রাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



