স্বাস্থ্য

স্ট্রোকের জরুরি সতর্কতা: সাধারণ ও অস্বাভাবিক লক্ষণসমূহ এবং কখন জরুরি সেবা নেবেন
স্ট্রোক

নিউজ ডেস্ক

December 6, 2025

শেয়ার করুন


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

স্ট্রোক একটি জীবনঘাতী চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, যা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ বা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেলে ঘটে। মস্তিষ্ক অক্সিজেন ও শর্করা থেকে বঞ্চিত হলে দ্রুত কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে, যা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, অক্ষমতা বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। স্ট্রোক প্রধানত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা গেলেও, এর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কারণে লক্ষণগুলো সম্পর্কে সকলের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

আপনার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে স্ট্রোকের প্রকারভেদ এবং আরও কিছু বিরল লক্ষণ যুক্ত করে এই প্রতিবেদনটি সাজানো হলো।

স্ট্রোকের প্রধান প্রকারভেদ

স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরনের হয়, উভয়ই মস্তিষ্কের রক্তনালীতে সমস্যা সৃষ্টি করে:

১. ইসকেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke): এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রকারভেদ। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে প্লাক (ফ্যাট বা কোলেস্টেরল) জমে বা রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হলে এটি ঘটে।

২. হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke): মস্তিষ্কের কোনো দুর্বল রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হলে এটি হয়, যা মস্তিষ্কের কোষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং তাদের কার্যকারিতা বন্ধ করে দেয়।

স্ট্রোকের সাধারণ সতর্কতা (FAST)

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো শনাক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে FAST পদ্ধতিটি অত্যন্ত পরিচিত এবং এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে ১ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো জরুরি:

অক্ষরের ব্যাখ্যালক্ষণ
F (Face Drooping)মুখের দুর্বলতা: হাসতে গেলে মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া।
A (Arm Weakness)হাতের দুর্বলতা: দুটি হাত তুলতে অক্ষমতা বা একটি হাত নিচে পড়ে যাওয়া।
S (Speech Difficulty)কথার অস্পষ্টতা: কথা জড়িয়ে যাওয়া, স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা বা ভুল শব্দ ব্যবহার করা।
T (Time to Call)সময়: অবিলম্বে জরুরি সেবার জন্য ফোন করা।

স্ট্রোকের অস্বাভাবিক বা বিরল লক্ষণসমূহ

সাধারণ লক্ষণগুলো ছাড়াও স্ট্রোকের কিছু কম পরিচিত লক্ষণ রয়েছে, যা প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে এবং রোগীরা জরুরি সহায়তা নিতে বিলম্ব করেন।

  • সংবেদনশীলতার পরিবর্তন: শরীরের একপাশে হঠাৎ অসাড়তা, ঝাঁকুনি বা পিন-এন্ড-নিডল (Pins and Needles) সংবেদনশীলতা দেখা দেওয়া।
  • ভারসাম্যহীনতা: হঠাৎ করে অস্থির চলাফেরা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া অথবা মাথা ঘোরা (Vertigo) অনুভব করা, যা সেরিবেলাম (Cerebellum) অংশে স্ট্রোকের ইঙ্গিত দিতে পারে।
  • তীব্র বমি বা বমি বমি ভাব: কোনো সুস্পষ্ট গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ছাড়াই হঠাৎ তীব্র বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: এক বা দুই চোখেই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা।
  • তীব্র মাথাব্যথা: হঠাৎ করে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া (বিশেষত হেমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে), যাকে অনেক রোগী “জীবনের সবচেয়ে খারাপ মাথাব্যথা” বলে বর্ণনা করেন।
  • হঠাৎ বিভ্রান্তি: কথা বুঝতে না পারা, ভুল জায়গায় ভুল জিনিস রাখা বা পরিবেশ সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া।

কখন জরুরি সেবা নেবেন?

স্ট্রোকের অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো অন্য অনেক সাধারণ রোগের কারণেও হতে পারে। তবে, যদি এই লক্ষণগুলো হঠাৎ, তীব্র এবং অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা যায়, তবে তা উপেক্ষা না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে “সময়ই হলো মস্তিষ্ক” (Time is Brain), কারণ যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, মস্তিষ্কের ক্ষতি তত কম হবে।

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

যেহেতু স্ট্রোকের অনেক কারণ জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব:

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তের শর্করা (গ্লুকোজ) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে ফলমূল, সবজি ও শস্যদানা বেশি খাওয়া।
  • শারীরিক কার্যকলাপ: নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
  • ধূমপান পরিহার: ধূমপান পুরোপুরি ত্যাগ করা, কারণ এটি রক্তনালীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সূত্র (Source)

১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)।

২. নিউরোলজি ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণা।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ**

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

জোঁক

নিউজ ডেস্ক

June 4, 2026

শেয়ার করুন

লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬

বর্ষাকালে বা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে হাঁটতে গিয়ে পায়ে জোঁক লাগেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। জোঁক দেখলেই সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের আতঙ্ক বা অস্বস্তি কাজ করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, যাকে আমরা ক্ষতিকর বা রক্তচোষা ভাবছি, সেই জোঁক আসলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক পরম বন্ধু? শুধু তাই নয়, এই ছোট্ট প্রাণীটির শারীরিক গঠন এবং বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াটি যেকোনো কল্পবিজ্ঞানকেও হার মানায়।

আজ জোঁকের শরীরের ভেতরের এমন কিছু জানা-অজানা বিস্ময়কর তথ্য এবং এর অবিশ্বাস্য ওষুধি গুণাবলী নিয়ে পালস বাংলাদেশ-এর পাঠকদের জন্য বিশেষ আয়োজন।

রক্ত চোষার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ওষুধি জাদু

একটি প্রাপ্তবয়স্ক জোঁক সাধারণত এক কামড়ে ২ থেকে ১৫ মিলিলিটার পর্যন্ত রক্ত শুষে নিতে পারে। তবে রক্ত চোষার চেয়ে বড় বিষয় হলো, রক্ত চোষার সময় জোঁক তার মুখ থেকে এক বিশেষ ধরণের লালা মানুষের রক্তে মিশিয়ে দেয়। এই লালার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল ম্যাজিক:

  • রক্তের দুষ্টি দূরীকরণ: জোঁকের লালায় হিরুডিন (Hirudin), ক্যালিক্রেইন ও ক্যালিনের মতো অত্যন্ত কার্যকরী কিছু প্রাকৃতিক উৎসেচক বা এনজাইম থাকে। এগুলো রক্তে প্রবেশ করে রক্তের ভেতরের ক্ষতিকর উপাদান বা দুষ্টি দূর করতে সরাসরি সাহায্য করে।
  • জীবাণু ধ্বংসকারী প্রোটিন: জোঁকের শরীর থেকে ‘ডেস্টাবিলেস’ (Destabilase) নামের এক ধরণের বিশেষ প্রোটিন মানুষের দেহে প্রবেশ করে, যা শরীরের ভেতরে থাকা বহু জেদি ও ক্ষতিকর জীবাণুকে নিমেষেই মেরে ফেলে।
  • নতুন রক্ত সঞ্চালন ও সুগার নিয়ন্ত্রণ: শরীরের কোনো অংশে ক্ষত বা পচন ধরলে জোঁক সেখানকার দূষিত রক্ত দ্রুত শুষে নেয় এবং ওই অংশে নতুন ও সুস্থ রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। এমনকি এটি রক্তে শর্করার (Sugar) মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
  • বাতের ব্যথা বা জয়েন্ট পেইন উপশম: জয়েন্ট পেইনে বা বাতের ব্যথায় দারুণ কাজ করে আধুনিক ‘জোঁক থেরাপী’। ব্যথার জায়গায় কিছুক্ষণ জোঁক রাখলে সেখানকার রক্ত সরবরাহের দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং ব্যথা কমে যায়।

জোঁক সম্পর্কে ৫টি অবিশ্বাস্য ও অজানা তথ্য

জোঁক সম্পর্কে ৫টি অবিশ্বাস্য এবং অত্যন্ত চমৎকার তথ্য নিচে দেওয়া হলো, যা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অজানা:

১. এদের শরীরে ৩২টি মস্তিষ্ক রয়েছে

জোঁকের শরীর বাইরে থেকে দেখতে একটি একক অংশ মনে হলেও, এর অভ্যন্তরীণ গঠন ৩১ বা ৩২টি খণ্ডে বিভক্ত। প্রতিটি খণ্ডের নিজস্ব গ্যাংগ্লিয়ন বা স্নায়ু কেন্দ্র রয়েছে, যা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এই অনন্য স্নায়ুতন্ত্রের কারণে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন যে, একটি জোঁকের শরীরে ৩২টি মস্তিষ্ক রয়েছে।

২. এদের মুখে শত শত ধারালো দাঁত থাকে

রক্ত চোষার জন্য জোঁকের সাধারণত তিনটি চোয়াল থাকে। প্রতিটি চোয়ালে প্রায় ১০০টি করে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ধারালো দাঁত থাকে। অর্থাৎ, একটি জোঁকের মুখে প্রায় ৩০০টি দাঁত থাকে। এরা যখন কামড় দেয়, তখন চোয়ালগুলো করাতের মতো চামড়া কেটে রক্ত বের করে আনে।

৩. কামড়ালেও কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না

জোঁক যখন কামড় দেয় বা রক্ত চোষে, তখন মানুষ বা প্রাণী সাধারণত কোনো ব্যথা টের পায় না। এর কারণ হলো, জোঁকের লালা রসে এক ধরণের প্রাকৃতিক অবশকারী উপাদান (Anesthetic) থাকে। কামড়ানোর সাথে সাথে এরা ওই স্থানটি অবশ করে দেয়, যাতে শিকার টের না পায় এবং তারা শান্তিতে রক্ত চোষা শেষ করতে পারে।

৪. রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না (হিরুডিন)

জোঁকের লালায় ‘হিরুডিন’ (Hirudin) নামক একটি বিশেষ প্রোটিন থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় (Anticoagulant)। এর ফলে জোঁক যতক্ষণ কামড়ে ধরে রাখে, রক্ত তরল থাকে এবং অবিরত প্রবাহিত হতে থাকে। এমনকি জোঁক শরীর থেকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও হিরুডিনের কারণে বেশ কিছুক্ষণ ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয় না।

৫. এক পেট রক্ত খেয়ে এরা এক বছর না খেয়ে থাকতে পারে

জোঁক তাদের শরীরের ওজনের চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি রক্ত একবারে চুষে নিতে পারে। এদের পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত ধীরগতির। একবার পেট পুরে রক্ত খাওয়ার পর সেই রক্ত হজম করতে এবং তা থেকে শক্তি পেতে এদের কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ফলে মাত্র একবার রক্ত খেয়ে এরা অনায়াসে এক বছর পর্যন্ত না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।


আধুনিক চিকিৎসায় ‘জোঁক থেরাপি’ (Leech Therapy)

আধুনিক চিকিৎসায় ‘জোঁক থেরাপি’ (যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হিরুডোথেরাপি’ বা Hirudotherapy নামে পরিচিত) একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং স্বীকৃত পদ্ধতি। বিশেষ করে প্লাস্টিক সার্জারি, মাইক্রোসার্জারি এবং রক্তনালীর ব্লকেজ দূর করতে সার্জনরা বিশ্বজুড়ে জীবন্ত জোঁক ব্যবহার করছেন। ২০০৪ সালে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) জোঁককে একটি ‘মেডিকেল ডিভাইস’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়।

আধুনিক চিকিৎসায় জোঁক থেরাপির মূল ভূমিকা এবং মেকানিজম নিচে দেওয়া হলো:

১. প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জারি (Plastic & Reconstructive Surgery)

কাটা আঙুল, কান বা স্তন জোড়া লাগানোর মতো জটিল মাইক্রোসার্জারির পর ধমনী (Artery) রক্ত সরবরাহ করলেও অনেক সময় শিরাগুলো (Veins) ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে ক্ষতস্থানে রক্ত জমে নীল হয়ে যায় এবং কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে (Venous Congestion)।

  • এই সময় ওই স্থানে জোঁক বসানো হয়।
  • জোঁক জমে থাকা দূষিত রক্ত চুষে নিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে এবং নতুন টিস্যু বা কোষকে বাঁচিয়ে তোলে।

২. রক্ত জমাট বাঁধা রোধ (Blood Clot Prevention)

জোঁকের লালা রসে ‘হিরুডিন’ (Hirudin) এবং ‘ক্যালিন’ (Calin) নামক এনজাইম থাকে। এগুলো মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট বা রক্ত জমাট-রোধী উপাদান। জোঁক কামড়ানোর ফলে এই উপাদানগুলো রক্তনালীতে প্রবেশ করে রক্তকে তরল রাখে এবং ক্ষতিকর ক্লট বা চাকা তৈরিতে বাধা দেয়।

৩. রক্তনালী প্রসারিত করা ও রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি

জোঁকের লালায় এক ধরণের ‘ভাসোডিলেটর’ (Vasodilator) উপাদান থাকে, যা মানুষের রক্তনালীগুলোকে চওড়া বা প্রসারিত করে। এর ফলে আক্রান্ত স্থানে এবং তার আশেপাশে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়, যা দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।

৪. ব্যথানাশক ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ

জোঁকের লালায় প্রাকৃতিক অবশকারী উপাদান (Anesthetic) এবং প্রদাহ-রোধী (Anti-inflammatory) উপাদান থাকে। এটি বাতের ব্যথা (Osteoarthritis) এবং জয়েন্টের ক্রনিক প্রদাহ বা ফোলা ভাব কমাতে দারুণ কাজ করে। অনেক দেশে হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসায় সরাসরি জোঁক থেরাপি দেওয়া হয়।

৫. কার্ডিওভাসকুলার ও ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার

হৃদরোগ বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের কারণে যাদের রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়, তাদের চিকিৎসায় জোঁকের লালা থেকে তৈরি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে পচন ধরা (Diabetic Foot Ulcer) রোগীদের ক্ষেত্রে জোঁক থেরাপি দিয়ে অঙ্গটি কেটে ফেলা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।

সতর্কতা ও মেডিকেল জোঁক

চিকিৎসায় সাধারণ পুকুর বা ডোবার জোঁক কখনোই ব্যবহার করা হয় না। এর জন্য গবেষণাগারে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত পরিবেশে চাষ করা বিশেষ প্রজাতির জোঁক (Hirudo medicinalis) ব্যবহার করা হয়। সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানো রোধ করতে একটি জোঁক কেবল একজন রোগীর ক্ষেত্রেই একবারই ব্যবহার করা হয় এবং ব্যবহারের পর তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

মেডিকেল গ্রেড জোঁক এবং সাধারণ বুনো জোঁকের মধ্যে এই পার্থক্য এবং কঠোর নিয়মগুলো মেনে চলার প্রধান কারণগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকি এড়ানো

পুকুর, খাল-বিল বা ডোবার বুনো জোঁক নানাবিধ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী (Parasite) বহন করে। বিশেষ করে এদের অন্ত্রে Aeromonas hydrophila নামক একটি ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। বুনো জোঁক সরাসরি মানুষের ক্ষতস্থানে বসালে এই ব্যাকটেরিয়া রক্তে প্রবেশ করে মারাত্মক সংক্রমণ, গ্যাংগ্রিন বা সেপসিস (Sepsis) তৈরি করতে পারে।

২. ল্যাবরেটরিতে নিয়ন্ত্রিত চাষ (Biosecure Environment)

মেডিকেল জোঁক বা Hirudo medicinalis সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়। এদের নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় যেন এদের শরীরে কোনো প্যাথোজেন বা রোগজীবাণু না থাকে। ফলে এগুলো মানুষের চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি নিরাপদ হয়।

৩. ‘একবার ব্যবহারযোগ্য’ বা সিঙ্গেল-ইউজ নীতি

সিরিঞ্জের সুই বা ব্লেডের মতো মেডিকেল জোঁককেও চিকিৎসায় ‘সিঙ্গেল-ইউজ’ (Single-use) বা একবার ব্যবহারযোগ্য ডিভাইস হিসেবে গণ্য করা হয়।

  • একজন রোগীর রক্ত চোষার পর সেই জোঁকের লালা ও পাকস্থলীতে ওই রোগীর রক্তের কণা থেকে যায়।
  • ওই একই জোঁক যদি অন্য কাউকে কামড়ায়, তবে প্রথম রোগীর শরীর থেকে এইচআইভি (HIV), হেপাটাইটিস বি বা সি-এর মতো রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ দ্বিতীয় রোগীর শরীরে সংক্রমিত হতে পারে।

৪. ব্যবহারের পর মানবিক ও নিরাপদ ধ্বংসকরণ

চিকিৎসা শেষে জোঁকগুলোকে সাধারণত ৭০% অ্যালকোহল বা বিশেষ জীবাণুনাশক দ্রবণে ডুবিয়ে অত্যন্ত দ্রুত ও ব্যথাহীনভাবে মেরে ফেলা হয় (Euthanasia)। এরপর সেগুলোকে ‘বায়োমেডিকেল বর্জ্য’ (Biomedical Waste) হিসেবে হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপদে পুড়িয়ে বা মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে পরিবেশ বা অন্য কোনো প্রাণী সংক্রমিত না হয়।

বিজ্ঞানের এই কঠোর স্বাস্থ্যবিধির কারণেই আজ প্রাচীন ‘রক্তমোক্ষণ’ বা ব্লাডলেটিং পদ্ধতিটি আধুনিক প্লাস্টিক সার্জারিতে এত নিরাপদ ও সফলভাবে অবদান রাখছে।

জোঁকের কামড়ে লবণ দিলে কেন এরা মারা যায়, তার আসল বৈজ্ঞানিক কারণ হলো অসমোসিস (Osmosis) বা অভিস্রবণ প্রক্রিয়া

লবণ কীভাবে জোঁকের ওপর কাজ করে, তা নিচে সংক্ষেপে বুলেটের মাধ্যমে দেওয়া হলো:

  • আর্দ্র চামড়া: জোঁকের ত্বক অত্যন্ত পাতলা এবং সবসময় ভেজা বা আর্দ্র থাকে।
  • লবণের আক্রমণ: জোঁকের গায়ে লবণ দিলে লবণের ঘনত্ব বাইরের দিকে অনেক বেড়ে যায়।
  • জলবিয়োজন: অভিস্রবণ নিয়মানুযায়ী, ভেতরের কম ঘনত্বের পানি চামড়া ভেদ করে বাইরে চলে আসে।
  • কোষের মৃত্যু: মুহূর্তের মধ্যে জোঁকের শরীরের সমস্ত পানি শোষিত হয়ে কোষগুলো সংকুচিত হয়ে যায়।
  • তাৎক্ষণিক মৃত্যু: তীব্র ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার কারণে জোঁক ছটফট করে মারা যায়।

এটি মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং একটি নিখুঁত ভৌত প্রক্রিয়া (Physical Process)

আপনার মন্তব্য জানান: জোঁকের ১০টি চোখ কিংবা ৩২টি মস্তিষ্কের এই অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক তথ্যটি আপনার কাছে কেমন লাগলো? জোঁক থেরাপি সম্পর্কে আপনার কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা মতামত থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।

প্রকৃতির এমন সব নিখুঁত বিস্ময়, জীবজগতের জানা-অজানা রোমাঞ্চকর তথ্য, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের নিত্যনতুন আবিষ্কারের বিবরণ নিয়মিত পড়তে ভিজিট করুন পালস বাংলাদেশ | pulsebangladesh.com

ফাঁসি

নিউজ ডেস্ক

May 7, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা: বিচারিক দণ্ড কার্যকর বা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ফাঁসিতে মৃত্যুর বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জটিল এবং মুহূর্তের মধ্যে শরীরের একাধিক জৈবিক সিস্টেম অকেজো হয়ে যাওয়ার একটি সমন্বিত ফলাফল। সাধারণত সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, ফাঁসির দড়িতে ঝোলার পর ঠিক কোন শারীরিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে? ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করে মূলত ছয়টি প্রধান ঘাতক প্রক্রিয়া।

১. সারভাইকাল ভার্টিব্রা ও সুষুম্না শীর্ষক (মেডুলা) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

মানবদেহের গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা বা সারভাইকাল ভার্টিব্রা-র ওপর যখন হঠাৎ তীব্র চাপ পড়ে, তখন দ্বিতীয় কশেরুকাটির (Axis) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হ্যাংম্যানস ফ্রাকচার’। এর ফলে মস্তিষ্কের ঠিক নিচে থাকা মেডুলা অবলংগাটা বা সুষুম্না শীর্ষকের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অংশটি শরীরের হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, যা মুহূর্তেই অকেজো হয়ে যায়।

২. মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া

আমাদের ঘাড়ের দুই পাশে থাকা ক্যারোটিড ধমনি মস্তিষ্কে তাজা রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফাঁসিতে ঝোলার ফলে এই ধমনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। মাত্র ২ থেকে ৫ কেজি চাপের ফলেই এই ধমনি দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হতে পারে। ফলে সেকেন্ডের মধ্যে শুরু হয় সেরেব্রাল হাইপোক্সিয়া (মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব), যা ব্রেন টিস্যুগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়।

৩. শ্বাসনালী বা এয়ারওয়ে অবরুদ্ধ হওয়া

ফাঁসি দেওয়ার সময় মাথার বিশেষ অবস্থানের কারণে বাতাস চলাচলের পথ বা ট্রাকিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুস অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না এবং শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়া শুরু হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যাসফিক্সিয়া (Asphyxia)

৪. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও নার্ভাস সিস্টেমের ধাক্কা

ঘাড়ের কাছে ক্যারোটিড সাইনাস নামক একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থাকে। এটি সরাসরি হৃদপিণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু বা ভেগাস নার্ভের (Vagus Nerve) সাথে যুক্ত। ফাঁসিতে ঝোলার সময় এই সাইনাসে প্রচণ্ড চাপ পড়লে হৃদপিণ্ড হঠাৎ করে পাম্প করা বন্ধ করে দেয়, যাকে বলা হয় রিফ্লেক্স কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট

৫. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও টিস্যু মৃত্যু

জুগুলার শিরা যা মস্তিষ্ক থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে ফিরে আসে, সেটিও দড়ির চাপে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে দূষিত রক্ত জমে যায় এবং টিস্যুগুলো মারা যেতে শুরু করে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের সচেতনতা লোপ পায় এবং মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞের অভিমত

প্রতিরক্ষা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক ফাঁসির ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা (Drop) থেকে নিচে ফেলা হয় যাতে ঘাড়ের হাড় (Cervical Fracture) দ্রুত ভেঙে যায় এবং মৃত্যু যন্ত্রণাহীন হয়। এর বিপরীতে ড্রপ ছাড়া ফাঁসির ক্ষেত্রে মৃত্যু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে কারণ সেখানে শ্বাসরোধ হয়ে মরতে বেশি সময় লাগে।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি টেক্সটবুক এনালাইসিস ২. ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি ও কার্ডিওলজি রিসার্চ ২০২৬ ৩. আন্তর্জাতিক ফরেনসিক সায়েন্স জার্নাল ও ল্যাব রিপোর্ট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নিউজ ডেস্ক

April 5, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: একাত্তরের ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা বাংলাদেশ সম্পর্কে হেনরি কিসিঞ্জার যখন ১৯৭৪ সালে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (Bottomless Basket) মন্তব্য করেছিলেন, তিনি তখন এই ভূখণ্ডের মানুষের টিকে থাকার অদম্য জেদকে চিনতে পারেননি। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন আমরা আমাদের কৃতিত্ব খুঁজি, তখন অট্টালিকা বা জিডিপির চেয়েও বড় হয়ে ধরা দেয় আমাদের ‘সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট’ বা প্রতিকূলতায় টিকে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা।

১. ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বনাম কিসিঞ্জারের আমেরিকার পোশাক জোগানদাতা

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন চরম খাদ্য সংকট ও অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত, তখন পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের সক্ষমতা নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু সেই ‘উন্নাসিক’ দেশগুলোই আজ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার।

  • ঐতিহাসিক তুলনা: এটি অনেকটা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মতো। বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছিলেন, “কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না,” আজ কোটি কোটি শ্রমিকের সুঁই-সুতার কারুকাজ বিশ্বকে সেই বার্তাই দিচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়, সেখানে বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

২. খানা-খন্দ ভরা পথে ‘শর্টকাট’হীন যাত্রা

আমাদের উন্নয়ন কোনো ‘সুগার ড্যাডি’ বা দাতা সংস্থার দয়ায় হয়নি। আমরা এক পা এগিয়েছি তো দুই পা পিছিয়েছি, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি।

  • ব্যক্তিত্বের তুলনা: এই সংগ্রামী পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সেই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আপসহীন লড়াইকে। ভাসানী যেমন প্রান্তিক মানুষের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন, আমাদের অর্থনীতিও আজ কৃষকের ঘাম আর প্রবাসী শ্রমিকের রেমিট্যান্সে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ধীরগতিতে আগাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের নিজেদের রক্তের ও ঘামের।

৩. নারী শ্রমিকের নীরব বিপ্লব ও সামাজিক বিবর্তন

গত তিন দশকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর যে নারী জাগরণ ঘটিয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল।

  • সামাজিক প্রেক্ষাপট: কয়েক প্রজন্ম আগে যেখানে নারী ছিল চার দেয়ালের বন্দি, আজ তারা কেবল পরিবারের ভরণপোষণ করছে না, বরং একটি শিক্ষিত প্রজন্মের জন্ম দিচ্ছে। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও গ্রাম সরকার গঠনের দর্শনের একটি আধুনিক প্রতিফলন বলা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় শক্তিতে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল। মায়েরা যা করতে পারেননি, কন্যারা আজ তা করে দেখাচ্ছেন—এটাই আমাদের আসল ‘সোশ্যাল সলিডারিটি’।

৪. পোলিও নির্মূল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ জয়

এক সময় মানুষ কলেরায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতঙ্গের মতো মরত। আজ সেই চিত্র পাল্টেছে।

  • তুলনামূলক বিশ্লেষণ: আমেরিকার মতো উন্নত দেশ যখন বড় কোনো ঝড়ে এক মাস ধরে বিলাপ করে, বাংলাদেশ তখন এক সপ্তাহের মধ্যে দুর্যোগ সামলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরে। পোলিও নির্মূলের সাফল্য আমাদের সেই সক্ষমতার প্রমাণ, যা উন্নত বিশ্বের অনেক দেশকেও ঈর্ষান্বিত করে।

৫. মৌলবাদ বনাম অসাম্প্রদায়িকতার দীর্ঘ লড়াই

আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা এখনো পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক বা অতিথিপরায়ণ হতে পারিনি। প্রতিটি অর্জনের আড়ালে নতুন নতুন সমস্যা, যেমন—মৌলবাদ ও অসহিষ্ণুতা দাঁড়িয়ে আছে।

  • ঐতিহাসিক যোগসূত্র: এটি অনেকটা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মতো। আমরা যখনই কোনো সংকটের সমাধান করি, তখনই একটি নতুন প্রতিপক্ষ সামনে দাঁড়ায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এ দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত অন্ধকারকে জয় করেছে।

বিডিএস অ্যানালাইসিস: বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের গর্বের খুব বেশি কিছু নেই—এই স্বীকারোক্তিটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা যখন আবেগ ছেড়ে বাস্তবতাকে মেনে নিই, তখনই উন্নতির প্রকৃত পথ খোলে। আমাদের গর্ব আমাদের ‘জেদ’। আমরা শান্তিপ্রিয় বা অসাম্প্রদায়িক হওয়ার চেষ্টায় আছি, আমরা নিখুঁত নই—কিন্তু আমরা লড়াকু। এই লড়াইটাই আমাদের অস্তিত্বের পরিচয়।


আমাদের গর্ব ও সংগ্রামের তুলনামূলক চিত্র

অর্জনের ক্ষেত্রঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটবর্তমান বাস্তবতা (২০২৬)
অর্থনীতিতলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ (১৯৭৪)বিশ্বের ২য় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক।
নারীর অবস্থানঅশিক্ষা ও পর্দাপ্রথা (১৯৭০-এর দশক)শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারী প্রজন্মের উত্থান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মৃত্যু (১৯৭০)বিশ্বখ্যাত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা।
জনস্বাস্থ্যরোগ-শোকে গণমৃত্যুপোলিও নির্মূল ও গড় আয়ু বৃদ্ধি।
রাজনৈতিক চেতনাঅধিকার আদায়ের লড়াই (১৯৫২, ১৯৭১)জুলাই বিপ্লব ও রাষ্ট্র সংস্কারের সংকল্প।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ