অর্থনীতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও বক্তাদের বক্তব্যের বিশ্লেষণ"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

October 26, 2025

শেয়ার করুন

📝 প্রতিবেদক:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ

🇧🇩 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও বক্তাদের বক্তব্যের বিশ্লেষণ

ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বক্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে গঠিত। ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বক্তাদের বক্তব্য ও তাদের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রতিবেদনে আমরা সেই সময়কালের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও বক্তাদের বক্তব্যের বিশ্লেষণ করব।

১৯৫০-এর দশক: পাকিস্তানি শাসন ও ভাষা আন্দোলন

১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকারের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাভাষী জনগণের প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, ও অন্যান্য নেতারা। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের ফলে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জন

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় Operation Searchlight পরিচালনা করে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা করে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসন শুরু হয়, এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

১৯৯১: গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে এবং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের সূচনা।

২০০১-২০০৬: রাজনৈতিক অস্থিরতা

২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসে, তবে ২০০৬ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলগুলোর আন্দোলনের ফলে ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৯-২০২৫: আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যেমন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ ইত্যাদি। তবে, রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলতে থাকে।


বক্তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রভাব

  • শেখ মুজিবুর রহমান: বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের নেতা, যিনি ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তার এই ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
  • খালেদা জিয়া: বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
  • শেখ হাসিনা: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, যিনি ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে।

সূত্র:

  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  2. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: একটি বিশ্লেষণ
  3. বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

জুনায়েদ আহমেদ পলক আটক

নিউজ ডেস্ক

April 11, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটেগরি: রাজনীতি ও জীবনদর্শন

ক্ষমতা অনেকটা বিষের মতো, যা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। আজ যে মানুষটি হাজারো কর্মীর স্লোগানে মুখরিত থাকেন, কাল সেই মানুষটিই জেলখানার নির্জন সেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় চোখের জল ফেলেন। জুনায়েদ আহমেদ পলক—এই নামটিকে নিয়ে আমি আগে কখনও লিখতে চাইনি, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট তাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম শিক্ষা হিসেবে সামনে দাঁড় করিয়েছে।

১. ক্ষমতার শীর্ষে পলক: যেখান থেকে ফেরা কঠিন

অল্প বয়সে এমপি, তারপর মন্ত্রী—তরুণ প্রজন্মের আইকন হওয়ার কথা ছিল তাঁর। গাড়ি, বাড়ি, অগাধ ক্ষমতা আর অগণিত কর্মীর ভিড়ে তিনি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে, সময়ের চাকা সব সময় একদিকে ঘোরে না। আজ সেই প্রতাপশালী মন্ত্রী জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। নেই মোবাইল, নেই প্রিয়জন, নেই দিন-রাতের সঠিক হিসাব। সঙ্গী কেবল একাকীত্ব আর ফেলে আসা দিনগুলোর অনুশোচনা।

২. ইতিহাস যখন একই বৃত্তে ঘোরে

পলকের এই করুণ দশা দেখে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কথা। এক সময় তাঁরও দাপট ছিল আকাশছোঁয়া। আজ তিনি কারামুক্ত হলেও দলের কোথাও নেই, নেই রাজনীতিতে কোনো অবস্থান। অসুস্থ শরীর নিয়ে এখন চিকিৎসার জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমতার সেই জৌলুস আজ ম্লান, কেবল টিকে আছে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার এক বিষাদময় জীবন।

৩. রাজনীতি কি তবে স্কুইড গেম?

আমরা অনেকেই নেটফ্লিক্সের বিখ্যাত সিরিজ ‘স্কুইড গেম’ দেখেছি। সেখানে হেরে যাওয়া মানে সরাসরি মৃত্যু। কিন্তু রাজনীতি নামক খেলাটি তার চাইতেও ভয়ংকর। এখানে সরাসরি মৃত্যু নেই, কিন্তু আছে ক্ষমতার বিচ্যুতি এবং সামাজিক পতন—যা একজন মানুষকে জ্যান্ত অবস্থায় তিলে তিলে মেরে ফেলে।

বিডিএস পর্যবেক্ষণ: একটাই তো জীবন! ক্ষমতার মোহে পড়ে মানুষ যখন নিজের অপকর্মের ভার বইতে পারে না, তখন পরিবার থেকে শুরু করে ইতিহাস পর্যন্ত তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়। আজকের প্রভাবশালীরা কি এই শিক্ষাটা নিচ্ছেন?


উপসংহার: আগামী দিনের জন্য শিক্ষা

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু কর্মফল চিরস্থায়ী। জুনায়েদ পলক বা বাবর সাহেবরা আজ কেবল ব্যক্তি নন, তাঁরা এক একটি উদাহরণ। যারা আজ ক্ষমতায় আছেন কিংবা আগামীতে যারা মসনদে বসবেন, তাঁদের জন্য এই পতনের গল্পগুলো এক বড় সতর্কবার্তা। জনগণের সেবক হওয়ার বদলে যখন কেউ অধিপতি হতে চান, তখন ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম তিলে তিলে মুছে যাওয়াই একমাত্র পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।

আপনার মতামত: রাজনীতির এই ভয়াবহ উত্থান-পতন নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা কী? সত্যিই কি ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়? কমেন্টে আমাদের জানান।

আরও পড়ুন:ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: ৯১টি বিল পাশ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো বন্ধু রাষ্ট্র কে

নিউজ ডেস্ক

April 9, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টেবিলে বাংলাদেশ এখন এক কুশলী খেলোয়াড়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী দর্শন—‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—নীতিকে পুঁজি করে ২০২৬ সালের জটিল বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ রাষ্ট্র আসলে কে?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাংলাদেশ সেই মানুষটির মতো, যে গ্রুপের সবার সাথেই সুসম্পর্ক রাখে। কারণ সে জানে, জীবনে কে কখন কাজে লাগবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।

১. ভারত: নাড়ির টানে বাঁধা পুরোনো বন্ধু

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কটা সেই পুরোনো দিনের। ১৯৭১ সালের কঠিন সময়ে ভারতের অবদান এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে। সীমান্ত ইস্যু বা পানি বণ্টন নিয়ে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হলেও, দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কটি সবসময়ই একটি ‘স্পেশাল’ মর্যাদা পায়। ২০২৬-এর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই ঐতিহাসিক টান অটুট রয়েছে।

২. চীন: উন্নয়নের ‘ক্যাশ-রিচ’ পার্টনার

যখনই বড় কোনো অবকাঠামো, ব্রিজ বা টানেলের কথা আসে, তখনই বাংলাদেশের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চীনের মুখ। এই বন্ধুটি বেশ হেল্পফুল এবং বড় বড় প্রজেক্টে অর্থায়নে কার্পণ্য করে না। বাংলাদেশ জানে, দেশের উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই।

৩. জাপান: নিঃস্বার্থ ও নীরব কর্মবীর

জাপান হচ্ছে সেই বন্ধু, যে খুব বেশি কথা বলে না কিন্তু একদম কাজের মানুষ। মেট্রো রেল থেকে শুরু করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর—বাংলাদেশের রূপান্তরের পেছনে জাপানের অবদান অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন। কোনো ভূ-রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে।

৪. যুক্তরাষ্ট্র: নিয়মের কড়াকড়ি ও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্র সেই বন্ধু, যে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেয় কিন্তু সাথে একগাদা ‘রুল বুক’ বা নিয়ম ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ওয়াশিংটন সবসময়ই একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (BDS Analysis):

২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশ যেভাবে সবার সাথে ব্যালেন্স করছে, তা অসাধারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি, চীন-জাপান থেকে বিনিয়োগ এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রপ্তানি সুবিধা—সবগুলোকেই বাংলাদেশ সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সোজা কথায়, বাংলাদেশ এখন ‘স্মার্ট ডিপ্লোম্যাসি’র এক সফল উদাহরণ।


তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা (Sources):

  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ): বৈদেশিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেস রিলিজ।
  • ডয়েচে ভেলে ও রয়টার্স: দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদন (এপ্রিল ২০২৬)।
  • মহাসাগরীয় ও কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান।
  • বিডিএস ডিজিটাল এজেন্সি জিওপলিটিক্যাল ডাটা ব্যাংক।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মশিউর রহমান যাদু মিয়া

নিউজ ডেস্ক

April 8, 2026

শেয়ার করুন

ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )

আজ ১২ মার্চ ২০২৬। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদের চলে যাওয়ার দিন। যিনি কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন এক বিশাল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মশিউর রহমান যাদু মিয়া—যাঁর নাম শুনলে ভেসে ওঠে এক আপসহীন নেতার ছবি, যিনি রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত সর্বত্র ছিলেন সমান তেজস্বী।

১. ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে উত্থান

১৯২৪ সালে নীলফামারীর ডিমলায় জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ছাত্রজীবনেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৬-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ—সবখানেই যাদু মিয়ার উপস্থিতি ছিল অনন্য। তিনি ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পরবর্তীকালে মওলানা ভাসানীর হাত ধরে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

২. মজলুম জননেতার সুযোগ্য উত্তরসূরি

মওলানা ভাসানীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন যাদু মিয়া। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা থাকাকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা এবং ইয়াহিয়া খানকে ‘গাদ্দার’ বলার দুঃসাহস তাঁকে গণমানুষের নায়কে পরিণত করেছিল।

৩. ফারাক্কা লং মার্চ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি

১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের মূল সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল যাদু মিয়ার কাঁধে। ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি ন্যাপের হাল ধরেন। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হন।

৪. বিএনপি গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় ‘সিনিয়র মন্ত্রী’

যাদু মিয়া ছিলেন আধুনিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম স্থপতি। ন্যাপের কার্যক্রম স্থগিত করে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৫. এক ঐতিহাসিক প্রস্থান

১২ মার্চ ১৯৭৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর চিকিৎসায় ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনা হলেও নিয়তির অমোঘ লিখন পাল্টানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন সময়ে এক বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: যাদু মিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি কেবল দল গঠন করেননি, দিয়েছেন এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দর্শন। আজকের ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটেও তাঁর সেই ‘দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি’র ঐক্যের ডাক সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন উত্তরের চরাঞ্চলের মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ, যাঁর নামানুসারে আজও টিকে আছে ‘যাদুর চর’।


মশিউর রহমান যাদু মিয়া: এক নজরে (১৯২৪-১৯৭৯)

পর্যায়রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান
জন্ম৯ জুলাই ১৯২৪, ডিমলা, নীলফামারী।
আন্দোলনতেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন।
উপাধি‘যাদু মিয়া’ নামে সমধিক পরিচিত।
সাফল্যপাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা (১৯৬২)।
অবদানফারাক্কা লং মার্চের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান (১৯৭৬)।
রাষ্ট্রীয় পদসিনিয়র মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায়), জিয়াউর রহমান সরকার।
জীবনাবসান১২ মার্চ ১৯৭৯, ঢাকা।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ