নির্বাচনী খবর

দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর যুক্ত হয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায়।
তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক

January 29, 2026

শেয়ার করুন

এরই মধ্যে টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে (28, January,2026) তারেক রহমান কথা বলেছেন তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু, নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের স্বার্থ দেখবেন,” বলেন রহমান। “আমি আমার দেশের স্বার্থ দেখব। তবে আমরা একে অন্যকে সাহায্যও করতে পারি। আমি নিশ্চিত, মিস্টার ট্রাম্প একজন খুবই যুক্তিসংগত মানুষ।”

চার্লি ক্যাম্পবেল / ঢাকা

এডিটর অ্যাট লার্জ

তারেক রহমানের কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশের সম্ভাব্য নেতার জন্য এটি আদর্শ পরিস্থিতি নয়। বিষয়টিতে একধরনের ব্যঙ্গও আছে, কারণ স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের কার্যত বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে তারেক রহমানের বক্তৃতা এক দশক ধরে স্থানীয় গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছিল।

“আমার শরীর এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে,” বলেন রহমান, ঢাকায় তার পারিবারিক বাড়ির বাগানে বসে টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। বাগানজুড়ে বুগেনভিলিয়া আর গাঁদা ফুল। ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফেরার পর এটি তার প্রথম সাক্ষাৎকার।

“আসলে আমি কথাবার্তায় খুব ভালো নই,” কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেন তিনি, “কিন্তু আমাকে যদি কিছু করতে বলেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”

রহমানের জন্য গত কয়েক সপ্তাহ ছিল একেবারেই ঝড়ের মতো। ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে আসেন, ঢাকার বিমানবন্দরে সারারাত অপেক্ষা করা লাখো উচ্ছ্বসিত সমর্থকের অভ্যর্থনায়। মাত্র পাঁচ দিন পরই দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান তার মা—বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে আরও বেশি মানুষ ঢল নামে।

“আমার হৃদয়ে এটা খুব ভারী,” চোখ ছলছল করে বলেন রহমান। “কিন্তু তার কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তা হলো—আপনার যখন দায়িত্ব থাকে, তখন আপনাকে সেটা পালন করতেই হবে।”

সে দায়িত্ব হয়তো তার মায়ের পথ অনুসরণ করার মতোই বড় কিছু। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রহমানই স্পষ্টভাবে এগিয়ে, যা ১৮ মাস আগে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ডাকা হয়। রহমান নিজেকে এমন এক সেতু হিসেবে তুলে ধরছেন, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি ও তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে।

সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে বহু সংকট। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল টাকার কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানি সীমিত করা হয়েছে, যা শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব চ্যালেঞ্জ এমন এক অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা এখনো পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তরুণদের বেকারত্ব ১৩.৫%—আর প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করায় নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

তবে রহমানের সঙ্গে রয়েছে বিতর্কের বোঝা। তার প্রধান পরিচয় বংশগত—খালেদা জিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক জিয়াউর রহমানের পুত্র হিসেবে তিনি সেই দ্বন্দ্বময় দ্বিদলীয় রাজনীতির এক প্রান্তের প্রতিনিধি, যা বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে (অন্য প্রান্তে শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা)।

সমর্থকদের কাছে রহমান একজন নিপীড়িত উদ্ধারকর্তা, যিনি বিপর্যস্ত মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে ফিরেছেন। সমালোচকদের কাছে তিনি এক ‘অন্ধকার রাজপুত্র’—দুর্নীতিগ্রস্ত, সুবিধাভোগী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া একজন ব্যক্তি, যার নেতৃত্বের একমাত্র যোগ্যতা জন্মসূত্রে পাওয়া।

রহমান জোর দিয়ে বলেন, তিনিই বিভক্ত দেশকে সুস্থ করার উপযুক্ত মানুষ। “আমি এখানে আছি বাবা-মায়ের ছেলে বলেই নয়,” তিনি বলেন। “আমার দলের সমর্থকরাই আমাকে এখানে এনেছে।”

বাংলাদেশিরা তার কথায় বিশ্বাস রাখতে প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে করা জরিপে তার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ৭০% সমর্থন পায়। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী পায় ১৯%।

তবু উদ্বেগ স্পষ্ট। ২০০১ থেকে ২০০৬—বিএনপির শেষ শাসনামলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টানা চার বছর বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। সংস্কারপন্থীরা আশঙ্কা করছেন, শেখ হাসিনাকে উৎখাতে নিহত প্রায় ১,৪০০ বিক্ষোভকারীর রক্ত হয়তো আরেক আত্মকেন্দ্রিক উত্তরাধিকারী জন্ম দেবে।

রহমান সব দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন, এবং অন্তর্বর্তী সরকার তার আগের দণ্ডাদেশ বাতিল করেছে। “তারা কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি,” অভিযোগকারীদের সম্পর্কে বলেন তিনি। সত্যি বলতে, হাসিনার আওয়ামী লীগ এক অনুগত গণমাধ্যমের সহায়তায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রচার করেছিল। আবার এটাও সত্য, জুলাই বিপ্লব যে বংশগত বিশেষাধিকারবিরোধী ছিল, রহমান নিজেও সেই উত্তরাধিকারী ব্যবস্থার অংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অন্যতম বড় অবদানকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশটি আবার মিয়ানমারের গণহত্যা থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগের উৎস এবং প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশ উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনে এগোচ্ছে, যা স্যামসাংয়ের মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে চীন থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল সরাতে সহায়তা করছে। তবে চীনও বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়—কারণ বঙ্গোপসাগরে এর কৌশলগত অবস্থান দক্ষিণ চীন সাগরে সম্ভাব্য অবরোধ মোকাবিলায় কাজে আসতে পারে।

আশা করা হচ্ছে, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু করেছে, তা স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার পথ রোধে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য তৈরি করবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন রয়ে গেছে—রাজনৈতিক নির্বাসনের বছরগুলোতে রহমান কি যথেষ্ট আত্মসমালোচনা ও পরিপক্বতা অর্জন করেছেন, যাতে সত্যিই তিনি জনগণের নেতা হতে পারেন?

“যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের খুবই বড় দায়িত্ব রয়েছে,” তিনি বলেন। “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।”

রহমান শান্ত স্বভাবের ও অন্তর্মুখী; কথা বলার চেয়ে শুনতেই বেশি পছন্দ করেন। লন্ডনে তার প্রিয় সময় কাটত রিচমন্ড পার্কে হাঁটাহাঁটি করে বা ইতিহাসের বই পড়ে। তার প্রিয় চলচ্চিত্র ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’।

“আমি সম্ভবত আটবার দেখেছি!”—হেসে বলেন তিনি।

তিনি এমন একজন নীতিনির্ভর মানুষ হিসেবে ধরা দেন, যিনি যেকোনো বিষয়ে তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরতে পারেন। তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খননের পরিকল্পনা করছেন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারের জন্য, প্রতিবছর ৫ কোটি গাছ লাগাতে চান ভূমি অবক্ষয় রোধে, এবং ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা তৈরির কথা ভাবছেন বায়ুদূষণ কমাতে। বর্জ্য পোড়ানো বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব—সবই তার পরিকল্পনায় আছে।

“আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০% বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে,” তিনি বলেন।

রহমানের এই টেকনোক্র্যাটিক দৃষ্টিভঙ্গি তার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ভাবমূর্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আশির দশকের মাঝামাঝি বিমান বাহিনীর একটি স্কুলে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে তার ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি; দ্বিতীয় বর্ষেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরে তিনি ব্যবসায় যুক্ত হন এবং নব্বইয়ের দশকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তিনি দ্রুতই দলের অন্যতম শক্তিশালী কৌশলবিদে পরিণত হন। কিন্তু তার এই ক্ষমতা তাকে একই সঙ্গে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত করে তোলে—সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করতেন।

অনেক বাংলাদেশির কাছে রহমান এখনো বিদ্রূপাত্মকভাবে “খাম্বা তারেক” নামে পরিচিত। কথিত আছে, একটি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে হাজার হাজার বিদ্যুতের খুঁটি (খাম্বা) একটি সহযোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে কেনা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো কখনোই বিদ্যুৎ গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়নি। রহমান এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করলেও, ২০০৮ সালে ফাঁস হওয়া একটি মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় তাকে “লুটেরা শাসনব্যবস্থা ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক” হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং বলা হয় যে তিনি “প্রকাশ্য ও ঘন ঘন ঘুষ দাবি করতেন” বলে কুখ্যাত।

২০০৭–২০০৮ সালের সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রহমান ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, অর্থপাচার এবং আওয়ামী লীগ বহরের ওপর গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার অভিযোগসহ মোট ৮৪টি মামলা ছিল। কারাগারে নির্যাতনের কারণে তার মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়, যা আজও তাকে ভোগাচ্ছে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই মূলত তিনি যুক্তরাজ্যে যান।

“শীতকালে খুব ঠান্ডা হলে আমার পিঠে ব্যথা হয়,” বলেন তিনি। “কিন্তু আমি এটাকে মানুষের প্রতি আমার দায়িত্বের স্মারক হিসেবে দেখি। ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন কষ্ট না পায়, সেজন্য আমাকে সর্বোচ্চটা দিতে হবে।”

২০১৮ সালে তার অসুস্থ মা খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হলে—যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন—রহমান বিদেশ থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করেন।

এই সময়ের বড় অংশজুড়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে। দেশটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়; ২০০৬ সালে যেখানে জিডিপি ছিল ৭১ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার আরও দমনমূলক হয়ে ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যমতে, শেখ হাসিনার শাসনের শেষ ১৫ বছরে প্রায় ৩,৫০০ মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে গুম হন। সব প্রতিষ্ঠান রাজনীতিকরণে আক্রান্ত হয়—ফলে সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ নজরদারি ও হয়রানির অভিযোগ তোলে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সূচকগুলোও নেতিবাচক হতে থাকে—জীবনযাত্রার খরচ, বৈষম্য ও যুব বেকারত্ব দ্রুত বাড়ে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল শাসকগোষ্ঠীর অনুগতদের জন্য চাকরির কোটা বাতিলের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে। কিন্তু হাসিনার কঠোর দমননীতি রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করে। রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ—কিশোর থেকে বৃদ্ধ, অধ্যাপক থেকে ভিক্ষুক—সবাই এক কাতারে।

বিক্ষোভকারীরা যখন ঢাকায় হাসিনার সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তিনি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানেই তিনি এখনো অবস্থান করছেন, ঘনিষ্ঠদের নিয়ে তার উৎখাত এবং আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন।

“ভোটারদের বিকল্প বেছে নেওয়ার অধিকার দিতে হবে,” হাসিনা টাইমকে বলেন। “বাংলাদেশে যতক্ষণ না সব বড় রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়, ততক্ষণ গণতন্ত্রের কোনো আশা নেই।”

গণতন্ত্র ক্ষয়ের বিষয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ রহমানের কাছে বিশেষভাবে বিদ্রূপাত্মক মনে হয়, কারণ তার শাসনামলে যে বিপুল রক্তপাত ঘটেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি ও পাথর হাতে থাকা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সাঁজোয়া যান ব্যবহার করেছে, এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও জনতার ওপর গুলি চালানো হয়েছে।

“যে-ই অপরাধ করুক না কেন, এই দেশে আইন আছে, নিয়ম আছে,” বলেন রহমান। “তাই তাদের শাস্তি পেতেই হবে।” নভেম্বর মাসে একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় দেয়—শেখ হাসিনা যদি কখনো বাংলাদেশে ফেরেন, তাহলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

তবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বিতর্কিত। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি রয়টার্সকে জানান, দলীয় কর্মীদের ভোট ব্যাহত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

“আমরা আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেব না,” তিনি বলেন। “আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে… শেষ পর্যন্ত সম্ভবত সহিংসতা হবে।”

এই ধরনের অস্থিরতা ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভালো করবে না। সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলাগুলোকে আওয়ামী লীগ প্রচার করছে এই প্রমাণ হিসেবে যে দেশে উগ্র ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখল করেছে। আওয়ামী লীগ ও প্রভাবশালী ভারতীয় মহল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য লবিং করছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের ওপর ২০% ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেছে, যা রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে। রহমান বলেন, তিনি বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও সম্ভাব্য ছাড় আদায়ের জন্য বোয়িং উড়োজাহাজ ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামো কেনার মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন।

“ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের স্বার্থ দেখবেন,” বলেন রহমান। “আমি আমার দেশের স্বার্থ দেখব। তবে আমরা একে অন্যকে সাহায্যও করতে পারি। আমি নিশ্চিত, মিস্টার ট্রাম্প একজন খুবই যুক্তিসংগত মানুষ।”

জুলাই বিপ্লবের স্মারক এখনো ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। দেয়ালচিত্রে শেখ হাসিনাকে শয়তানের শিং ও লুটের বস্তা দিয়ে আঁকা হয়েছে। স্লোগানে লেখা—“বাংলাদেশি পুলিশ লজ্জা করো!” এবং “এটা জেন-জি তৈরি নতুন বাংলাদেশ।”

“জুলাইয়ের পর মানুষ চেয়েছিল ব্যবস্থা বদলাতে—বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও পুলিশ যেন স্বাধীন হয়,” বলেন ২৬ বছর বয়সী ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ, যিনি ছাত্র আন্দোলনের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন। রহমান সম্পর্কে তিনি এখনো চূড়ান্ত মত দেননি, তবে ইতিবাচক।

তারেক রহমান ভালো করছেন,” তিনি বলেন। “বিএনপির মতো দল নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন। এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা যায় না, তবে এখন পর্যন্ত তিনি ভালোই করছেন।”

সংস্কারগুলোর সাফল্য নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। যেমন বিপ্লবী দেয়ালচিত্রগুলো রোদে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, তেমনি ছাত্রদের বিজয়ের উচ্ছ্বাসও অন্তর্কলহ ও বিভাজনে ম্লান হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারে কোনো রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, আর মুহাম্মদ ইউনূসের নিজস্ব সরকারি অভিজ্ঞতা না থাকায় নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিও সীমিত ছিল। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা নারীরা অন্তর্বর্তী সরকারে প্রায় উপেক্ষিত হন—ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে মাত্র একটির নেতৃত্ব পান তারা (নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন)। তাও ইসলামপন্থীদের কুরুচিপূর্ণ বিক্ষোভের মুখে পড়ে; তারা দাবি করে, লিঙ্গসমতার সুপারিশ শরিয়াহ আইনের পরিপন্থী। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবগুলো স্থগিত হয়ে যায়।

কিছু সাফল্যও এসেছে। গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ১,৯১৩টি অভিযোগ পর্যালোচনা করে এবং ১,৫৬৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে; এর মধ্যে ২৮৭ জনকে “নিখোঁজ ও মৃত” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। (প্রায় সবাই জামায়াত বা বিএনপির সদস্য ছিলেন।) সেনাবাহিনীর চাপ সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বেসামরিক আদালতেই বিচার হচ্ছে। রাজনৈতিক আলোচনাও খুলে গেছে। পশ্চিম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন অধ্যাপক মুবারশার হাসান—যিনি হাসিনার আমলে ৪৪ দিন বিচারবহির্ভূতভাবে আটক ছিলেন—স্মরণ করেন, সম্প্রতি তিনি সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার রাজনীতিকরণ নিয়ে একটি উন্মুক্ত সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।

“এরপর আমি শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছি,” তিনি বলেন। “হাসিনার আমলে এটা কল্পনাও করা যেত না।”

তবে একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটেছে। স্বেচ্ছাচারী গণপিটুনি ও দলবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে, বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অনলাইন ডক্সিং উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১২ ডিসেম্বর, যখন যুবনেতা ও নির্বাচনী প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি—ভারতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কড়া সমালোচক—ঢাকায় মুখোশধারী হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর একটি উত্তেজিত জনতা ঢাকার দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, যেগুলোকে তারা দিল্লিপন্থী বলে অভিযুক্ত করে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ছাদের ওপর বহু সাংবাদিক আটকা পড়েন। সাধারণ ধারণা হলো, জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকার কারণে জনগণের ক্ষোভ এখনো প্রবল থাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালনে আত্মবিশ্বাসী বোধ করছে না।

“আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা,” বলেন রহমান। “মানুষ যেন রাস্তায় নিরাপদ থাকে, ব্যবসা করতে নিরাপদ বোধ করে—সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহার ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। নতুন নেতা নির্বাচনের পাশাপাশি বাংলাদেশিরা একটি সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটেও ভোট দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ, এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা। সাংবিধানিক সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রিয়াজ বলেন, না ভোট “খুবই হতাশাজনক” হবে।

“তাহলে দেশ এমন এক অবস্থায় পড়ে যাবে, যেখানে আবার অতীতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।”

আওয়ামী লীগকে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচক দ্রুত উন্নত না হলে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

“দেশের সবচেয়ে বড় ও পুরোনো রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন কখনোই মুক্ত বা সুষ্ঠু হতে পারে না,” বলেন হাসিনা।

রিয়াজ এতে অনুতপ্ত নন। “এই দলটি এমন ভয়াবহ কাজ করেছে, যা কার্যত মানবতাবিরোধী অপরাধ,” তিনি বলেন। “তারা এর জন্য ক্ষমাও চায়নি। বরং মানুষকে উসকানি দিচ্ছে।”

আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়েছে কি না—এ বিষয়ে রহমান সরাসরি মন্তব্য করতে চান না। তবে নীতিগতভাবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন।

“কারণ আজ আপনি যদি একটি দল নিষিদ্ধ করেন, তাহলে কাল আমাকে নিষিদ্ধ করবেন না—এর নিশ্চয়তা কোথায়?” তিনি বলেন। “অবশ্যই, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাকে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে।”

রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশে আশাবাদ তৈরি করলেও, বিপ্লব-পরবর্তী সবচেয়ে চোখে পড়া পরিবর্তন হলো ইসলামী রাজনীতির পুনরুত্থান। বাংলাদেশের মুসলিম জনসংখ্যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের চেয়েও বেশি; পাশাপাশি প্রায় ১০% সংখ্যালঘু—হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। সংবিধান অনুযায়ী দেশটি ধর্মনিরপেক্ষ হলেও, ১৯৮৮ সালে সামরিক শাসনামলে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়। এই বৈপরীত্যই চরমপন্থীদের বিকাশের উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

হাসিনার বহু ত্রুটি সত্ত্বেও তিনি উগ্রবাদ দমনে কঠোর ছিলেন এবং এমনকি হিজড়া সুরক্ষা আইনও স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেই জামায়াতে ইসলামী—ইসলামপন্থী দলটির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষ প্রচারণার কারণে দলটি তরুণদের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বরে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভূমিধস বিজয় অর্জন করে—যা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির সূচক হিসেবে বিবেচিত। তারা আরও চারটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়েও জয়ী হয়। এনসিপিও জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছে, যার প্রতিবাদে বেশিরভাগই নারী—এমন ডজনখানেক নেতা দল ছাড়েন। প্রকাশ্যে সমকামী এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী মুনতাসির রহমানকে রক্ষণশীলদের চাপের মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

“এটা নারী ছাত্রনেত্রী, সংখ্যালঘু এবং তরুণদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক,” বলেন ঢাকাভিত্তিক নার্স ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলাম।

জামায়াতে ইসলামী তাদের সংবিধানে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য উল্লেখ করেছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা আরও চরম বক্তব্য থেকে সরে এসে নিজেদের “ফ্যাসিবাদবিরোধী” হিসেবে পুনর্ব্র্যান্ডিং করেছে। তারা সামাজিক কল্যাণে জোর দিচ্ছে এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছে। এমনকি একটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে তারা একজন হিন্দু প্রার্থীও মনোনয়ন দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক। তবে অনেক সাধারণ বাংলাদেশি ধর্মীয় ভিত্তির কারণে তৈরি হওয়া দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিতে আকৃষ্ট হয়েছেন।

জানুয়ারির শুরুতে জামায়াতের নেতা প্রকাশ করেন যে তিনি একজন জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন—যা অতীতে কল্পনাও করা যেত না। রহমান এতে বিচলিত নন।

“মানুষ শুধু এমন একটি গণতন্ত্রে ফিরতে চায়, যেখানে তারা মুক্তভাবে কথা বলতে পারে, নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে,” তিনি বলেন।

যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করা হবে একটি বড় অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ প্রায় পুরোপুরি দক্ষিণ এশিয়ার এই পরাশক্তি দিয়ে বেষ্টিত। দুই দেশের মধ্যে ২,৫০০ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর একটি। ভারতের ভূখণ্ডই বাংলাদেশের পণ্যের প্রধান স্থলপথ, পাশাপাশি তুলা, শস্য, জ্বালানি, শিল্প উপকরণ ও বিদ্যুতের বড় সরবরাহকারী দেশটি।

“আমাদের জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষা আগে,” বলেন রহমান, “তারপর আমরা সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ছেষ্টা করবো “

ভারতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং আওয়ামী লীগপন্থী প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়ায়, তরুণ বাংলাদেশিদের চোখে নয়াদিল্লি এখন প্রধান খলনায়ক।

“তারেক রহমানের মতো একজন নেতাও প্রকাশ্যে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার আহ্বান জানালে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নেন,” বলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান।

এটি প্রজন্মগত গভীর পরিবর্তনের প্রতিফলন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে ছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল—যেখানে ভারত অর্থ, অস্ত্র ও ৩,৮০০-এর বেশি সেনার প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। অথচ আজকের তরুণদের চোখে জামায়াত দুর্নীতিমুক্ত আর ভারত প্রধান শত্রু।

এই অতীত-বিচ্ছিন্নতা দেখায় যে রহমান তার পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর ভর করে বেশি দূর এগোতে পারবেন না। আজকের বাংলাদেশিরা অর্ধশতাব্দী আগের বীরত্বগাথায় আগ্রহী নয়; তারা চায় এমন একজন নেতা, যিনি কথা শোনেন, সেতুবন্ধন তৈরি করেন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা ও আস্থা গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করেন। অর্থনৈতিক স্থবিরতা চলতে থাকলে, মানুষ হয়তো হাসিনার শাসনামলের রেকর্ডকে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

“বংশগত দলগুলোকে কখনোই পুরোপুরি বাতিল করা যায় না,” বলেন কুগেলম্যান। “মাত্র দুই বছর আগেও বিএনপিকে মৃত ও সমাহিত মনে করা হচ্ছিল। এমনকি শেখ হাসিনাও হয়তো শেষ হয়ে যাননি—এখন তিনি প্রাসঙ্গিক নন, কিন্তু ভবিষ্যতে ফিরেও আসতে পারেন।”

দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে রহমান সচেতন হলেও, বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হলো বিএনপির সেই হাজারো তৃণমূল কর্মী, যারা হাসিনার আমলে নির্যাতিত হয়েছিল এবং এখন মনে করছে তারা ‘প্রাপ্য সুবিধা’ পাওয়ার অধিকারী। দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে না।

তবে রহমান যে আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন—তার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মে মাসে তিনি নিজের ও তার মাকে ব্যঙ্গ করে আঁকা একটি কার্টুন পুনরায় পোস্ট করেন এবং লেখেন—“আমাদের এজেন্ডার সঙ্গে না মিললেও নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাকে সম্মান করা জরুরি।” খালেদা জিয়ার জানাজায় তিনি হাসিনার আমলে তার মায়ের প্রতি আচরণের সমালোচনা করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি; বরং ঐক্যের আহ্বান জানান। হাসিনার “আয়রন লেডি” ভাবমূর্তির বিপরীতে রহমান ইচ্ছাকৃতভাবে নরম ও মানবিক ইমেজ গড়ছেন। যুক্তরাজ্য থেকে তার সঙ্গে আসা আদুরে কমলা রঙের সাইবেরিয়ান বিড়াল ‘জেবু’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

লন্ডনের আগের জীবনের কোন দিকটি তিনি সবচেয়ে বেশি মিস করেন—জিজ্ঞেস করা হলে রহমান এক মুহূর্তও দেরি করেন না।

“আমার স্বাধীনতা,” বলেন তিনি, পরিবারের বাড়ির চারপাশে ঘেরা ১০ ফুট উঁচু কাঁটাতারের দিকে তাকিয়ে। “এই বাড়িতে এসে এত নিরাপত্তা দেখে আমার দম বন্ধ লাগছিল।” পাড়ার দোকানে হেঁটে যাওয়া কিংবা হঠাৎ লেক্সাস চালিয়ে ফোর্ট উইলিয়াম পর্যন্ত গিয়ে মেয়ে জায়মাকে চমকে দেওয়া—এসব এখন অতীত। প্রতিদিনের ১০ হাজার পদক্ষেপ পূরণ করতে তাকে নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।

তবু রহমান অভিযোগ করছেন না। তার প্রত্যাবর্তন যে হঠাৎ কোনো আবেগী সিদ্ধান্ত নয়, বরং উদ্দেশ্য ও সংকল্পে ভরপুর—মানুষের জীবনমান উন্নত করার দৃঢ় ইচ্ছা থেকেই এসেছে—তা তিনি দেখাতে চান। বক্তব্য শেষ করতে তিনি তার আরেকটি প্রিয় সিনেমার সংলাপ উদ্ধৃত করেন—এবার এয়ার ফোর্স ওয়ান নয়, স্পাইডার-ম্যান থেকে:

“বড় ক্ষমতার সঙ্গে আসে বড় দায়িত্ব,” তিনি বলেন। “আমি এতে গভীরভাবে বিশ্বাস করি।”

-টাইম

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শাহজাহান ও মমতাজ

নিউজ ডেস্ক

September 12, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): ইতিহাস
প্রকাশের তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): মুঘল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক সংকলন, প্রথম আলো, যুগান্তর ও অন্যান্য ইতিহাসভিত্তিক প্রকাশনা

মুঘল সম্রাট শাহজাহান এবং তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বেগম মমতাজ মহলের মোট ১৪ জন সন্তান ছিল।

তাঁদের ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে মমতাজ মহল এই ১৪টি সন্তানের জন্ম দেন, যার মধ্যে ৮ জন পুত্র সন্তান এবং ৬ জন কন্যা সন্তান ছিল। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এই ১৪ জন সন্তানের মধ্যে ৭ জনই জন্মগ্রহণের সময় বা শৈশবেই মারা যান। বাকি ৭ জন সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

১৬৩১ সালে বুরহানপুরে তাঁদের ১৪তম সন্তান গওহর আরা বেগম-এর জন্ম দিতে গিয়েই মমতাজ মহলের মৃত্যু হয়।

জীবিত থাকা ৭ সন্তানের নাম:

  • জাহানারা বেগম (কন্যা)
  • দারা শিকোহ (পুত্র)
  • শাহ সুজা (পুত্র)
  • রওশন আরা বেগম (কন্যা)
  • ঔরঙ্গজেব (পুত্র – যিনি পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট হন)
  • মুরাদ বক্স (পুত্র)
  • গওহর আরা বেগম (কন্যা)

মুঘল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় হলো সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজ মহলের সন্তানদের মধ্যকার সিংহাসন দখলের রক্তাক্ত যুদ্ধ এবং মমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত তাজমহলের ইতিহাস। নিচে এই দুটি বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:


১. সন্তানদের ইতিহাস: দারা শিকোহ বনাম ঔরঙ্গজেব

শাহজাহান ও মমতাজের ৪ পুত্র (দারা শিকোহ, শাহ সুজা, ঔরঙ্গজেব এবং মুরাদ বক্স) প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলেন। ১৬৫৭ সালে সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এই চার ভাইয়ের মধ্যে দিল্লির সিংহাসন দখলের এক নৃশংস যুদ্ধ শুরু হয়, যার মূল দুই চরিত্র ছিলেন দারা শিকোহ এবং ঔরঙ্গজেব

দারা শিকোহ (জ্যেষ্ঠ পুত্র ও উত্তরাধিকারী)

  • ব্যক্তিত্ব ও স্বভাব: দারা শিকোহ ছিলেন অত্যন্ত উদারমনা, কবি, দার্শনিক এবং সুফি ভাবধারার মানুষ। তিনি হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের দর্শনের মধ্যে মিল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উপনিষদ ও ভগবদ গীতা ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন।
  • শাহজাহানের পছন্দ: জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে শাহজাহান তাঁকে অসম্ভব ভালোবাসতেন এবং নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। দারা বেশিরভাগ সময় আগ্রার দরবারে বাবার কাছাকাছি থাকতেন।
  • দুঃখজনক পরিণতি: ধর্মীয় উদারতার কারণে কট্টরপন্থী মুঘল আমির ও রাজন্যবর্গ দারার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। ১৬৫৮ সালের সামুগড়ের যুদ্ধে ঔরঙ্গজেবের চতুর রণকৌশলের কাছে দারা পরাজিত হন। পরে ঔরঙ্গজেব তাঁকে বন্দি করেন এবং ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ এনে ১৬৫৯ সালে তাঁর শিরোচ্ছেদ (মৃত্যুদণ্ড) করেন।

ঔরঙ্গজেব (ষষ্ঠ সন্তান ও পরবর্তী সম্রাট)

  • ব্যক্তিত্ব ও স্বভাব: দারা শিকোহ-এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন ঔরঙ্গজেব। তিনি ছিলেন একজন প্রখর বুদ্ধিমান, কঠোর পরিশ্রমী, অত্যন্ত দক্ষ সামরিক কমান্ডার এবং কট্টর সুন্নি মুসলিম।
  • সিংহাসন আরোহণ: সামরিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একে একে অন্য তিন ভাই—দারা শিকোহ, শাহ সুজা এবং মুরাদ বক্সকে পরাজিত ও নিশ্চিহ্ন করেন। তিনি নিজের বৃদ্ধ পিতা শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে বন্দি করে ১৬৫৮ সালে নিজেকে মুঘল সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ‘আলমগীর’ উপাধি নেন।
  • শাসনকাল: তিনি প্রায় ৪৯ বছর ভারত শাসন করেন এবং তাঁর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করেছিল।

২. তাজমহল নির্মাণের ইতিহাস

পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম এই নিদর্শনটি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, এটি ছিল সম্রাট শাহজাহানের পক্ষ থেকে তাঁর প্রয়াত স্ত্রী মমতাজ মহলের প্রতি ভালোবাসার এক অমর মহাকাব্য

নির্মাণের পটভূমি

১৬৩১ সালে দাক্ষিণাত্যের (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) বুরহানপুরে তাঁদের ১৪তম সন্তান গওহর আরা বেগমের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজ মহল মারা যান। প্রিয় বেগমের মৃত্যুতে শাহজাহান মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, ইতিহাসবিদদের মতে, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর আগে মমতাজ শাহজাহানের কাছে দুটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন—তিনি যেন আর বিয়ে না করেন এবং তাঁর জন্য এমন এক সমাধি তৈরি করেন যা বিশ্ববাসী চিরকাল মনে রাখবে। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই তাজমহল নির্মাণের সূচনা।

নির্মাণশৈলী ও তথ্য

  • সময়কাল: ১৬৩২ সালে যমুনা নদীর তীরে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং মূল সমাধিটি ১৬৪৩ সালের দিকে শেষ হলেও পুরো প্রাঙ্গণ (বাগান, মসজিদ ইত্যাদি) সম্পন্ন হতে ১৬৫৩ সাল পর্যন্ত (প্রায় ২২ বছর) সময় লেগেছিল।
  • স্থপতি ও শ্রমিক: তাজমহলের প্রধান স্থপতি ছিলেন ওস্তাদ আহমদ লাহোরি। এই বিশাল স্থাপত্যটি তৈরিতে ভারত, পারস্য (ইরান) এবং মধ্য এশিয়া থেকে আসা প্রায় ২০,০০০ শ্রমিক ও কারিগর দিনরাত কাজ করেছিলেন।
  • উপাদান: তাজমহল তৈরিতে রাজস্থানের মাকরানা থেকে আনা বিশুদ্ধ সাদা মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া চীন, তিব্বত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আনা ২৮ ধরণের মূল্যবান ও আধো-মূল্যবান মণি-মুক্তা পাথরের গায়ে খোদাই করে (Pietra Dura পদ্ধতিতে) নকশা করা হয়েছিল।
  • ব্যয়ভার: তৎকালীন সময়ে এটি নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ রুপি ব্যয় হয়েছিল, যা বর্তমান যুগের হিসাবে বিলিয়ন ডলারের সমান।

শেষ পরিণতি

১৬৬৬ সালে আগ্রা দুর্গে বন্দি অবস্থায় শাহজাহান মারা যান। বন্দিদশায় দুর্গের জানালা দিয়ে তিনি যমুনার তীরে তাজমহলের দিকে তাকিয়ে দিন কাটাতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে ঔরঙ্গজেব তাঁকে তাজমহলের ভেতরে মমতাজ মহলের কবরের ঠিক পাশেই সমাহিত করেন।

যদি ভারতের উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেখার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে টিকিট বুকিং এবং ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্যের জন্য Taj Mahal Official Website ঘুরে দেখতে পারেন।

মুঘল সামজ্যের উত্তর কোল্ডারে কিছু নেপথ্য পথ এবং তাজমহলকে একপক্ষ সবথেকে বড় বড় “কালো তাজমহ”-এর গুঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা:


১. “কালো তাজমহল” (The Black Taj Mahal) এর গুঞ্জন ও আসল রহস্য

তাজমহলের ঠিক উল্টো দিকে, যমুনা নদীর অপর পাড়ে সম্রাট শাহজাহান নিজের জন্য হুবহু একই রকম একটি কালো মার্বেল পাথরের তাজমহল বানাতে চেয়েছিলেন—এটি ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং আলোচিত গুঞ্জন।

  • গুঞ্জনের সূত্রপাত: ১৬৬৫ সালে ফরাসি পর্যটক জিন-ব্যাপটিস্ট তাভার্নিয়ার (Jean-Baptiste Tavernier) আগ্রা ভ্রমণ করেন। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে প্রথম উল্লেখ করেন যে, শাহজাহান যমুনার ওপারে নিজের জন্য একটি কালো তাজমহল নির্মাণ শুরু করেছিলেন, কিন্তু ছেলে ঔরঙ্গজেব তাঁকে বন্দি করায় সেই কাজ আর এগোতে পারেনি.
  • মাহতাব বাগ (Mahtab Bagh): তাজমহলের ঠিক বিপরীতে যমুনার ওপারে একটি বাগান রয়েছে, যার নাম ‘মাহতাব বাগ’। সেখানে খননকার্য চালিয়ে বেশ কিছু কালো মার্বেল পাথরের টুকরো পাওয়া যায়, যা এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়।
  • বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা ও সত্যতা: ১৯৯০-এর দশকে ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ (ASI) মাহতাব বাগে ব্যাপক খননকার্য চালায়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে, সেখানে পাওয়া কালো পাথরগুলো আসলে কোনো কালো মার্বেল ছিল না। সেগুলো ছিল মূল সাদা মার্বেল পাথর, যা যমুনার পানি, শৈবাল এবং দূষণের কারণে কালচে রঙ ধারণ করেছিল।
  • আসল উদ্দেশ্য: ইতিহাসবিদদের মতে, শাহজাহান কোনো কালো তাজমহল বানাতে চাননি। মাহতাব বাগটি তৈরি করা হয়েছিল এমনভাবে যাতে রাতে চাঁদের আলোয় যমুনার পানিতে মূল সাদা তাজমহলের একটি সুন্দর প্রতিচ্ছবি (Reflection) দেখা যায়।

২. তাজমহলের ভেতরের গোপন কক্ষ ও বন্ধ দরজার রহস্য

তাজমহলের মূল কাঠামোর নিচে এবং প্রাঙ্গণে বেশ কিছু বন্ধ ঘর এবং গোপন সুড়ঙ্গ রয়েছে, যা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি নিয়ে নানা ধরণের তত্ত্ব প্রচলিত আছে:

  • ভেতরের ২২টি কক্ষ: তাজমহলের মূল বেদির নিচে যমুনা নদীর দিকে মুখ করা ২২টি গোপন ঘর রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, এই কক্ষগুলোতে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি বা মুঘল আমলের গোপন নথি লুকানো আছে।
  • আসল বৈজ্ঞানিক কারণ: প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থপতিদের মতে, এই কক্ষগুলো মূলত তাজমহলের বিশাল কাঠামোর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি (Foundation) হিসেবে কাজ করে। যমুনা নদীর পানি ও মাটির আর্দ্রতা যাতে মূল মার্বেল পাথরের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য এই আর্চ বা কক্ষগুলো তৈরি করে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পাথরের ক্ষয় রুখতে এগুলো বন্ধ রাখা হয়।

৩. রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের নেপথ্য কাহিনী: ভাইদের নাটকীয় পরিণতি

দারা শিকোহ এবং ঔরঙ্গজেবের যুদ্ধ ছাড়াও, বাকি দুই ভাই—শাহ সুজা এবং মুরাদ বক্স-এর পরিণতিও ছিল অত্যন্ত নাটকীয়:

  • মুরাদ বক্সের ট্র্যাজেডি: ঔরঙ্গজেব যখন দারা শিকোহ-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন, তখন তিনি ছোট ভাই মুরাদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। ঔরঙ্গজেব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের পর মুরাদকে সাম্রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে। কিন্তু দারা পরাজিত হওয়ার পর, এক রাতে ঔরঙ্গজেব মুরাদকে মদ্যপান করিয়ে অচেতন করেন এবং বন্দি করেন। পরবর্তীতে ১৬৬১ সালে গোয়ালিয়র দুর্গে মুরাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
  • শাহ সুজার নিখোঁজ রহস্য: শাহ সুজা ছিলেন বাংলার সুবেদার (গভর্নর)। তিনি নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে আগ্রার দিকে এগিয়ে যান, কিন্তু খজওয়ার যুদ্ধে ঔরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হন। এরপর ঔরঙ্গজেবের মীর জুমলার তাড়া খেয়ে তিনি সপরিবারে বাংলার রাজমহল ও ঢাকা হয়ে আরাকান (বর্তমান মিয়ানমার) রাজ্যে আশ্রয় নেন। সেখানে আরাকানের রাজার সাথে এক দ্বন্দ্বে শাহ সুজা এবং তাঁর পুরো পরিবার নির্মমভাবে নিহত বা নিখোঁজ হন। ইতিহাসে তাঁর শেষ পরিণতি আজও একটি বড় রহস্য।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

নিউজ ডেস্ক

September 12, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): জাতীয়, আইন ও আদালত
প্রকাশের তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, বিডি২৪রিপোর্ট, সময় নিউজ, আইএএনএস

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র এবং ইসকনের (ISKCON) সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-এর গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে তাঁর মায়ের মৃত্যু ও প্যারোলে মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ নিচে পর্যায়ক্রমিক টাইমলাইন বা ঘটনাপ্রবাহ আকারে দেওয়া হলো:

১. ঘটনার সূত্রপাত ও দেশদ্রোহিতার মামলা (অক্টোবর ২০২৪)

  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৪: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে একটি বিশাল মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস.
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৪: ওই সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির আওতায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহ (Sedition) মামলা দায়ের করা হয়.

২. বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার (নভেম্বর ২০২৪)

  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিবি পুলিশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে.
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪: তাঁকে চট্টগ্রামের মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন. এই আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরের বাইরে তাঁর অনুসারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ হয় এবং ওই সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নির্মমভাবে নিহত হন. এই হত্যাকাণ্ডের পর চিন্ময় কৃষ্ণের বিরুদ্ধে আরও নতুন মামলা দায়ের করা হয়.

৩. দীর্ঘ আইনি লড়াই ও কারাবাস (২০২৫)

  • জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালত তাঁর জামিন আবেদন পুনরায় নাকচ করলে, তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন. ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন.
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫: বাংলাদেশ হাইকোর্ট তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ কয়েকটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন. কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চেম্বার আদালতে আপিল করলে জামিন আদেশটি স্থগিত (Stay) হয়ে যায়, যার ফলে তাঁর আর কারামুক্তি ঘটেনি.
  • পরবর্তীতে মোট ৬টি ফৌজদারি মামলার মধ্যে ৪টিতে জামিন পেলেও আইনি জটিলতায় প্রায় দুই বছর তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জীবন কাটান.

৪. মায়ের অসুস্থতা ও শেষ সাক্ষাৎ না পাওয়া (২০২৬)

  • জুলাই-আগস্ট, ২০২৬: চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ৭১ বছর বয়সী মা সন্ধ্যা রানী ধর দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিকিৎসাধীন ছিলেন.
  • সেপ্টেম্বরের শুরুতে: মায়ের শারীরিক অবস্থার চরম অবণতি হলে, মৃত্যুর পূর্বে অন্তত একবার সন্তানকে দেখার শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি. পরিবার থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে চিন্ময় কৃষ্ণের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও, মায়ের জীবিত অবস্থায় সেই অনুমতি মেলেনি.

৫. মায়ের মৃত্যু ও ৫ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)

  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সকাল): সন্তানকে না দেখেই সকালবেলা পুণ্ডরীক ধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা রানী ধর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন.
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (দুপুর ২:৩০ – ৪:০০): মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্যারোলের আবেদন করেন. চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (DC) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া মানবিক কারণে আইন অনুযায়ী ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ জারি করেন.
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বিকেল ৪:০০): বিকেল ৪টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়.

৬. অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পুনরায় কারাগারে প্রত্যাবর্তন

  • প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি সরাসরি হাটহাজারীর শ্রী শ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে পৌঁছান. সেখানে মায়ের মরদেহ ছুঁয়ে বিদায় জানান এবং ধর্মীয় শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন.
  • এ সময় পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির পায়ে মাথা রেখে অশ্রুসিক্ত চোখে তাঁর প্রার্থনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে. ৫ ঘণ্টার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে পুনরায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়.

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী দীর্ঘ কারাবাসকে কেন্দ্র করে তাঁর মামলার বর্তমান আইনি স্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়াগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

৭. মামলাগুলোর বর্তমান আইনি স্থিতি (Legal Status)

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতা, হত্যা এবং সহিংসতাসহ মোট ৬টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ: [

  • চারটি মামলায় জামিন: ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শুরুতেই বাংলাদেশ হাইকোর্ট তাঁকে হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো ৪টি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন
  • রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় স্থগিতাদেশ: তাঁর প্রধান মামলাটি ছিল চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ (Sedition) মামলা। এই মামলায় হাইকোর্ট প্রথমে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তা স্থগিত (Stay) করে দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হলে ২০২৬ সালের জুনে তা খারিজ হয়ে যায় এবং আদালত সরকারকে রুল জারি করে এর ব্যাখ্যা চান।
  • আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা: ২৫ নভেম্বর ২০২৪-এ তাঁর গ্রেপ্তারের পর দিন আদালত চত্বরে সংঘর্ষে সরকারি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) এবং ১০৯ (প্ররোচনা) ধারায় আনুষ্ঠানিক চার্জশিট গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। সম্প্রতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও আদালত তাঁকে এই হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর (Shown Arrested) নির্দেশ দিয়েছেন।
  • কারামুক্তি না হওয়ার কারণ: ৬টি মামলার মধ্যে ৪টিতে জামিন পেলেও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জামিন স্থগিত থাকা এবং আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চলমান থাকায় তিনি এখনো কারামুক্ত হতে পারেননি।

৮. আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার এবং সনাতন স্বত্বাধিকারী আন্দোলনের ওপর এর প্রভাব আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ভারত এবং বৈশ্বিক সনাতনী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দেয়:

ক) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA, India) এর প্রতিক্রিয়া

  • তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ: গ্রেপ্তারের পর পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কড়া ভাষায় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। তারা জানায়, “বাংলাদেশে চরমপন্থীদের দ্বারা সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ক্রমাগত হামলা ও মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনার মধ্যেই একজন শান্তিকামী ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তার ও জামিন প্রত্যাখ্যানের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
  • আইনি সুরক্ষার দাবি: ভারত সরকার ক্রমাগত বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাঁর আইনি অধিকার বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়।

খ) ইসকন (ISKCON) এর প্রতিক্রিয়া

  • প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব ও বহিষ্কারের স্পষ্টীকরণ: ঘটনার শুরুতে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল কারণ ২০২৪ সালের জুলাই-অক্টোবরের দিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইসকন বাংলাদেশ চ্যাপ্টার থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ইসকন বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে, তাঁর ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক আন্দোলনের দায়ভার ইসকন বহন করবে না।
  • আন্তর্জাতিক ইসকনের সংহতি (Solidarity): তবে আন্তর্জাতিক স্তরে ইসকন (ISKCON, Inc.) এবং এর বৈশ্বিক নেতৃত্ব চিন্ময় কৃষ্ণের পাশে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক ইসকনের পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তাঁর প্রতি পূর্ণ সংহতি ও তাঁর সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা জানানো হয়।
  • আইনি অধিকারের দাবি ও সমালোচনা: ইসকনের কলকাতা শাখার ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস একাধিক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ আদালতের জামিন নামঞ্জুরের সিদ্ধান্তকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন যে, চিন্ময় কৃষ্ণ হিন্দুদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে সোচ্চার হওয়ায় তাঁকে অন্যায়ভাবে “সন্ত্রাসী” হিসেবে চিত্রায়িত করে টার্গেট করা হচ্ছে।

গ) অন্যান্য বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা

  • গ্লোবাল হিন্দু ফেডারেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠন নিউ ইয়র্ক, লন্ডন এবং ভারতের বিভিন্ন শহরে চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার এবং আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) পক্ষ থেকে বেশ কিছু স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে。 সরকারের প্রধান অবস্থান ও যুক্তিসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

৯. সুনির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার (কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হয়নি)

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MoFA) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা সনাতনী আন্দোলনের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহী অভিযোগ (Specific Sedition Charges) রয়েছে এবং সেই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে পুলিশ আটক করেছে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে আইনের শাসন বজায় রাখতে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হবে।

২. ভারতের বিবৃতির কড়া জবাব ও কূটনৈতিক অবস্থান

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) যখন চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেপ্তার নিয়ে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়, তখন বাংলাদেশ সরকার তার তীব্র দ্বিমত পোষণ করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়:

  • ভারতের এই ধরণের মন্তব্য বানোয়াট ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর শামিল।
  • এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিপন্থী (Contrary to the spirit of friendship)
  • বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এতে বাইরের কোনো অযাচিত মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক মহলে যখন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, “বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ”

  • সরকার জানিয়েছে, দেশের সকল নাগরিক—তাঁরা যে ধর্মেরই হোন না কেন—আইনের চোখে সমান এবং সবার ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • আদালত চত্বরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনার পর সরকার দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

৪. মানবিক কারণে প্যারোলে মুক্তি প্রদান

আইনি জটিলতার কারণে জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও, সরকার মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মায়ের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন (DC) কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা আইনি জটিলতা তৈরি না করে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় আইন মেনেই তাঁকে ৫ ঘণ্টার জরুরি প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে, যাতে তিনি মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন।

সহজ কথায়, বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো—আইন সবার জন্য সমান। চিন্ময় কৃষ্ণের বিচার সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রচলিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হচ্ছে এবং একে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া অনুচিত

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক

September 10, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিনিধি : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশের সময় ও তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

স্থান: ঢাকা

ঢাকা: মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ (১৯৩৯-১৯৪৫)-এর ফলাফলে যে সামরিক শক্তিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল, তা হলো অবিভক্ত ভারতের সামরিক বাহিনী। বিশ্বজুড়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উপস্থিতি থাকলেও, যুদ্ধের ময়দানে মিত্রবাহিনীর অন্যতম মূল শক্তি ছিল ভারতীয় তরুণরা। বর্তমান ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একত্রিত হয়ে এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ইতিহাসবিদদের মতে, সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তির যুদ্ধ হলেও ভারতীয় সেনাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছে।

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী

১৯৩৯ সালে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখন অবিভক্ত ভারতীয় সাঁজোয়া বহরে সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ২ লাখের কাছাকাছি। কিন্তু ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়া নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২৫ লাক্ষে (২.৫ মিলিয়ন)।

এই বিশাল সামরিক সমাবেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—এতে কোনো বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (Conscription) ছিল না। সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই বাহিনীটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ‘অল-ভলান্টিয়ার আর্মি’ বা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডে স্থান করে নেয়।

[১৯৩৯: ২ লাখ সৈন্য] ──► স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ ──► [১৯৪৫: ২৫ লাখ সৈন্য (সর্ববৃহৎ ভলান্টিয়ার বাহিনী)]

তিন মহাদেশের রণক্ষেত্র ও বীরত্বের চিহ্ন

ভারতীয় সৈন্যরা কেবল এশিয়ার মাটিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তারা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ—এই তিন মহাদেশের বিভিন্ন দুর্গম ও প্রতিকূল যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করেছেন।

  • আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অভিযান: উত্তর আফ্রিকায় জার্মানি ও ইতালির যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে ভারতীয় সৈন্যরা কৌশলগত সাফল্য এনে দেন।
  • ইতালি অভিযান ও মন্টি ক্যাসিনো: ইউরোপের ইতালি অভিযানে মিত্রবাহিনীর জয়ে ভারতীয়দের ভূমিকা ছিল অসামান্য। বিশেষ করে রক্তক্ষয়ী ‘ব্যাটল অফ মন্টি ক্যাসিনো’ মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের পরাক্রম বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।
  • বার্মা ও ইম্ফল-কোহিমার যুদ্ধ: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিত্রবাহিনীর অবস্থান টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় সৈন্যরা বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) অভিযানে অংশ নেন। ১৯৪৪ সালে ভারতের ইম্ফল ও কোহিমার যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াই চালিয়ে তারা জাপানি বাহিনীর ভারত আক্রমণের চূড়ান্ত আগ্রাসন রুখে দেন।

যুদ্ধের ময়দানে অসাধারণ সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতীয় সৈন্যদের ৩১টি ‘ভিক্টোরিয়া ক্রস’ (ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ সম্মাননা) প্রদান করা হয়, যা সমগ্র মিত্রবাহিনীর অর্জিত মোট ভিক্টোরিয়া ক্রসের প্রায় ১৫ শতাংশ।

ক্ষয়ক্ষতি ও বাংলার ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে গিয়ে ভারতীয় বাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ৮৭,০০০ থেকে ৮৯,০০০ ভারতীয় সৈন্য শহীদ হন। এছাড়া হাজার হাজার সেনা গুরুতর আহত হন এবং একটি বিশাল অংশ শত্রু শিবিরে বন্দী হিসেবে আটক থাকেন।

সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এই যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব পড়েছিল তৎকালীন বাংলায়। যুদ্ধের রশদ ও খাদ্যসামগ্রী যুদ্ধক্ষেত্রে জোগাতে গিয়ে তৈরি হয় ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বা দুর্ভিক্ষ। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও যুদ্ধের বলি হয়ে বাংলায় প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ বেসামরিক নাগরিক অনাহারে প্রাণ হারান।

[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ] ──► রসদ ও খাদ্য স্থানান্তর ──► ১৯৪৩-এর বাংলা দুর্ভিক্ষ ──► ৩০ লাখ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু

দ্বিমুখী ধারা: ব্রিটিশ রাজ বনাম আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের অবস্থান দুটি ভিন্ন ও ঐতিহাসিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল:

১. ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনী: একটি বিশাল অংশ ব্রিটিশ পতাকাতলে থেকে মিত্রবাহিনীর হয়ে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায়।

২. আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA): অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় জাপানিদের হাতে বন্দী হওয়া হাজার হাজার ব্রিটিশ-ভারতীয় সৈন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আহবানে সাড়া দিয়ে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এ যোগ দেন। তারা অক্ষশক্তির সমর্থন নিয়ে ব্রিটিশদের হাত থেকে জন্মভূমিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরাসরি ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

স্বাধীনতার সূচনা ও ইতিহাসের মূল্যায়ন

যুদ্ধের সমাপ্তি এবং ভারতীয় সেনাদের রাজনৈতিক সচেতনতা ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভকে ত্বরান্বিত করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ কমান্ডার-ইন-চিফ ফিল্ড মার্শাল ক্লদ অচিনলেক স্বীকার করেছিলেন যে, ভারতীয় সৈন্যদের অসামান্য অবদান ছাড়া ব্রিটেন দুটি বিশ্বযুদ্ধের কোনোটিতেই জয়লাভ করতে পারত না।

স্বাধীনতার পর বহু বছর ধরে এই ইতিহাসকে কিছুটা আড়ালে রাখা হয়েছিল—কেননা রাজনৈতিকভাবে এটিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে দেখা হতো। তবে আধুনিক সামরিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্ব রাজনীতি পুনর্গঠনে এবং স্বাধীন উপমহাদেশের ভিত্তি তৈরিতে ২৫ লাখ ভারতীয় সেনার এই মহাকাব্যিক বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ছিল অন্যতম প্রধান ভিত্তিপ্রস্তর।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ