ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ

আগামী বছর স্মার্টফোনসহ সকল গ্যাজেটের দাম বাড়াচ্ছে 'র‍্যাম': এআই-এর চাহিদা বাড়ায় মেমোরি সংকটে বৈশ্বিক বাজার
স্মার্টফোন

নিউজ ডেস্ক

December 15, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: সাধারণত বিশাল স্ক্রিন, উন্নত ক্যামেরা ও স্টোরেজ সক্ষমতার ওপর স্মার্টফোনের দাম নির্ভর করলেও, আগামী বছর থেকে ডিভাইসের মেমোরি বা র‍্যাম একটি নতুন প্রধান উপাদান হিসেবে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু স্মার্টফোন নয়, ট্যাবলেট ও স্মার্টওয়াচের মতো অন্যান্য ডিভাইসের দামও একই কারণে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এআই ডেটা সেন্টারে নির্মাতাদের মনোযোগ

এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো—বিশ্বের বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। এআইয়ের ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় মেমোরি উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে। এই বাড়তি চাহিদাই মেমোরির দাম বাড়িয়ে তুলছে।

  • সংকটের তীব্রতা: কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সিনিয়র বিশ্লেষক ইয়াং ওয়াং বলেন, “এখন পুরো বাজারই এক মারাত্মক চাপের মধ্যে, সবদিকেই সংকট।”
  • মূল্যবৃদ্ধি পূর্বাভাস: কাউন্টারপয়েন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেমোরির দাম আগামী বছরের শুরুতে আরও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (আইডিসি) জানিয়েছে, মেমোরি সংকটের কারণে ২০২৬ সালে স্মার্টফোন বাজার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।

টেক জায়ান্টদের বিনিয়োগের প্রভাব

এআইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে মেটা (ফেসবুক), মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো টেক জায়ান্টগুলো ডেটা সেন্টার ও অবকাঠামো সম্প্রসারণে জোরেশোরে বিনিয়োগ শুরু করেছে। ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের অবকাঠামোতে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

বিশ্লেষক ইয়াং ওয়াং বলেন, এই পরিস্থিতিতে মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রন ও স্যামসাং তাদের উৎপাদনের দৃষ্টি ডেটা সেন্টারের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের পণ্যের জন্য মেমোরি বরাদ্দ কমে গেছে।

মাইক্রন সম্প্রতি জানিয়েছে, এআইয়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ব্যবহার হওয়া মেমোরির ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে। স্যামসাংয়ের মেমোরি বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জায়েজুন কিম গত অক্টোবরেই মোবাইল ও পিসির মেমোরি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

সস্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে কঠিন প্রভাব

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্স জানিয়েছে, মেমোরির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচ ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

আইডিসির সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর নাবিলা পোপাল মনে করছেন, এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সস্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে, কারণ এই ফোনগুলোর লাভের মার্জিন সাধারণত অনেক কম। তিনি বলেন, “সস্তা এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর দাম বৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।”

পোপালের হিসেবে, স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য আগামী বছর ৪৬৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে রেকর্ড ৫৭৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে

তবে পোপাল ও ওয়াং উভয়েই আশাবাদী যে আগামী বছরের শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে, ফলে বাড়তি চাপ থাকবে না এবং স্মার্টফোনের দামও কমবে।


সূত্র (References)

  • সিএনএন (CNN)-এর প্রতিবেদন।
  • কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ (Counterpoint Research)-এর বিশ্লেষণ।
  • ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (IDC)-এর প্রতিবেদন।
  • ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানি (McKinsey & Company)-এর প্রতিবেদন।
  • মাইক্রন (Micron) এবং স্যামসাং (Samsung)-এর নির্বাহী কর্মকর্তাদের বক্তব্য।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারীর নাম

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভারত ইন্টারনেটের দাম

নিউজ ডেস্ক

June 24, 2026

শেয়ার করুন

টেলিকম ও প্রযুক্তি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সস্তা বা কম মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। তবে ভারতে ইন্টারনেট বা মোবাইল ডাটা যে আগে থেকেই এত কম দামে পাওয়া যেত, তা কিন্তু নয়। আজকের এই সস্তা ইন্টারনেটের পেছনে রয়েছে একটি বড় বাণিজ্যিক যুদ্ধ এবং এক অবিশ্বাস্য “ডিজিটাল বিপ্লব”-এর ইতিহাস।

আজ থেকে ১০ বছর আগের ভারতের চিত্র আর আজকের ভারতের ডাটা খরচের চিত্র আকাশ-পাতাল তফাত। কীভাবে এই পরিবর্তন এলো, তা জানতে হলে এর পেছনের ইতিহাসটি জানা প্রয়োজন:

প্রথম অধ্যায়: এক দশক আগের সেই চড়া দামের দিনগুলো

২০১৬ সালের আগের কথা ভাবলে দেখা যাবে, ভারতে তখন ১ GB (গিগাবাইট) মোবাইল ডাটা কিনতে গ্রাহকদের খরচ করতে হতো প্রায় ২৫০ রুপি এবং যার মেয়াদ থাকত মাত্র ১ মাস।

কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য তখন ২৫০ রুপি দিয়ে রিচার্জ করে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে চলতে হতো, যাতে ১ GB ডাটা দিয়ে পুরো মাস পার করা যায়। সেই হিসাবে গড়ে একজন ব্যবহারকারী দৈনিক মাত্র ৩৪ MB (মেগাবাইট) ডাটা খরচ করার সুযোগ পেতেন (অর্থাৎ ১ রুপিতে মিলত মাত্র ৮.০৯ মেগাবাইট ডাটা)।

তখন বাজারে থাকা শীর্ষ অপারেটর—ভোডাফোন (Vodafone), এয়ারটেল (Airtel), আইডিয়া (Idea) এবং সরকারি বিএসএনএল (BSNL) প্রায় একই সিন্ডিকেট রেটে মোবাইল ডাটা বিক্রি করত। কোনো প্রতিযোগিতা না থাকায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল ইন্টারনেট, যার ফলে ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারত বৈশ্বিক তালিকায় অনেক পিছিয়ে ছিল।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ এবং ‘জিও’ (JIO) নামক সুনামি

ভারতের টেলিকম খাতের পুরো ইতিহাস এক ধাক্কায় বদলে যায় ৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (Reliance Industries) পক্ষ থেকে মুকেশ আম্বানি বাজারে নিয়ে আসেন নতুন মোবাইল নেটওয়ার্ক ‘জিও’ (JIO)

মার্কেটে নেমেই জিও যে ধামাকা অফার দেয়, তা বিশ্ব টেলিকম ইতিহাসের একটি রেকর্ড:

  • দেড় বছর ফ্রি ডাটা: নতুন প্রোভাইডার হিসেবে এসে ‘ওয়েলকাম অফার’-এর অধীনে সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে টানা প্রায় দেড় বছর গ্রাহকদের সম্পূর্ণ ফ্রি ডাটা এবং ভয়েস কল প্রদান করে জিও।
  • হাই-স্পিড ৪জি (4G): সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দৈনিক ৪জি স্পিডে ১ থেকে ৪ জিবি পর্যন্ত ডাটা দেওয়া হতো, যার গড় স্পিড ছিল ৩-৪ Mbps (মেট্রো শহরগুলোতে যা ২০-৩০ Mbps পর্যন্ত উঠত)।

মাত্র ৮৩ দিনে ৫০ মিলিয়ন গ্রাহক!

বিনামূল্যে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পাওয়ার এই আকর্ষণে পুরো ভারতের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। চালুর মাত্র ৮৩ দিনের মধ্যে জিও-র কাস্টমার সংখ্যা ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) ছাড়িয়ে যায় এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (মাত্র ৫ মাস)-এর মধ্যে তা ১০০ মিলিয়নে পৌঁছায়। বর্তমান সময়ে এসে বিশ্বব্যাপী জিও-র গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি), যা গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল নেটওয়ার্ক।

বাণিজ্যিক যুদ্ধ এবং আজকের ৪ টাকার ইন্টারনেট

জিও-র এই ওয়েলকাম অফারের জোয়ারে টিকতে না পেরে সাধারণ মানুষ ভোডাফোন, আইডিয়া, এয়ারটেল ছেড়ে দলে দলে জিও-তে চলে যেতে থাকে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানিগুলোও তাদের ডাটার রেট বা দাম ব্যাপকভাবে কমানো শুরু করে।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন জিও-র ফ্রি অফার শেষ হয় এবং তারা পেইড প্ল্যান চালু করে, তখনও তারা বাজারের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকমের কম রেটে ডাটা দেওয়া অব্যাহত রাখে। ফলস্বরূপ, শুরু হয় এক চরম প্রাইস ওয়ার (Price War)। আইডিয়া ও ভোডাফোন দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে একসঙ্গে মার্জ হয়ে ‘Vi’ নাম ধারণ করে।

বর্তমান পরিস্থিতি:

এই তীব্র প্রতিযোগিতার সুফল পাচ্ছে ভারতের সাধারণ জনগণ। আগে যেখানে ১ GB ডাটার দাম ছিল ২৫০ রুপি, আজ ভারতের ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১.৫ GB থেকে ২ GB ডাটা অনায়াসে ব্যবহার করছেন। বর্তমান হিসাবে ১ রুপিতে প্রায় ২৩০ MB ডাটা পাওয়া যায়। অর্থাৎ, আগের সেই ২৫০ রুপির ১ GB ডাটার মূল্য বর্তমান বাজারে নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪০ রুপিতে!

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

মুকেশ আম্বানির জিও মূলত একটি সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক ফানেল তৈরি করেছিল। প্রথমে ফ্রি দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে ইন্টারনেটে অভ্যস্ত করা এবং পরবর্তীতে নামমাত্র মূল্যে তা ধরে রাখা—এই স্ট্র্যাটেজির কারণেই আজ ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও খুব সহজে ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে যুক্ত হতে পেরেছে।

আন্তর্জাতিক টেলিকম আপডেট, প্রযুক্তির ইতিহাস, স্মার্টফোন ট্রিকস এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

আপনার জন্য একটি ফলো-আপ প্রশ্ন: ভারতের মতো বাংলাদেশের টেলিকম বাজারেও ইন্টারনেটের দাম কমাতে বা এমন কোনো ডিজিটাল বিপ্লব আনতে আমাদের দেশের অপারেটরদের কোন পদক্ষেপটি নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

সাইবার সুরক্ষায় বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

June 23, 2026

শেয়ার করুন

টেলিকম ও প্রযুক্তি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্স (এনসিএসআই)-এ বাংলাদেশের ৩২তম অবস্থানে উঠে আসা এবং ইসরাইলকে টপকে যাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জাতীয় পরিকাঠামো সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া কিছু সুনির্দিষ্ট মেগা প্রজেক্ট।

নিচে এই সাফল্যের পেছনের আরও কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল দিক তুলে ধরা হলো:

১. বিজিডি ই-গভ সার্ট (BGD e-Gov CIRT)-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাংলাদেশের সাইবার আকাশ সুরক্ষার মূল প্রাচীর হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (BGD e-Gov CIRT)। এই দলের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পারফরম্যান্স ও অর্জনগুলো লক্ষ্যণীয়:

  • ওআইসি সার্ট (OIC-CERT) সাইবার ড্রিল: ওআইসিভুক্ত দেশের ২১টিরও বেশি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাইবার ড্রিলে বিজিডি ই-গভ সার্ট দল শতভাগ স্কোর করে ২য় স্থান অর্জন করেছিল। এই বৈশ্বিক মহড়ায় সাফল্যই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সাইবার ডিফেন্স টিম আন্তর্জাতিক মানের।
  • ২৪/৭ রিয়েল-টাইম মনিটরিং: দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (CII) যেমন—ব্যাংক, পাওয়ার গ্রিড এবং সরকারি ডেটা সেন্টারগুলোকে যেকোনো ধরনের ম্যালওয়্যার ও সাইবার হামলা থেকে বাঁচাতে এই টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি ও আগাম সতর্কবার্তা (Situational Alert) জারি করে আসছে।

২. ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (CII) বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষা

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিভাগ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (CII) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এগুলোর সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে:

  • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের নিরাপত্তা: সম্প্রতি পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোর (যেমন- WZPDCL) জন্য অ্যাডভান্সড সাইবার সিকিউরিটি হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং এবং ইনসিডেন্ট হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বিল্ড-আপ করা হচ্ছে।
  • আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার ড্রিল: ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের হ্যাকিং প্রতিরোধে প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ সাইবার ড্রিল বা কৃত্রিম হ্যাকিং মহড়া পরিচালনা করা হয়, যা ব্যাংকিং সেক্টরের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে।
  • ন্যাশনাল আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম: দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল সক্ষমতা যাচাই করতে একটি নির্দিষ্ট রেটিং সিস্টেমের প্রবর্তন করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো দূর করতে সাহায্য করছে।

৩. একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারশিপ এবং তরুণ জনবল তৈরি

সাইবার সিকিউরিটিতে টেকসই অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বড় বিনিয়োগ করছে:

  • মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (MIST)-এর সাথে কোলাবোরেশন: দেশের ডিফেন্স ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলীদের জন্য ‘ন্যাশনাল সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ওপর উচ্চতর ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
  • মূল ফোকাস এরিয়া: নেটওয়ার্ক ডিফেন্স (Network Defence), সিকিউরিটি আর্কিটেকচার (Security Architecture) এবং সাইবার সিকিউরিটি অপারেশনস (Cybersecurity Operations)—এই তিন ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পেশাদারী কাজের দূরত্ব কমিয়ে আনা হচ্ছে।

৪. ইসরাইল কেন পিছিয়ে পড়ল আর বাংলাদেশ কেন এগিয়ে গেল?

পাঠকদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, পেগাসাসের (Pegasus) মতো শক্তিশালী স্পাইওয়্যার তৈরি করা দেশ ইসরাইল এই সূচকে বাংলাদেশের পেছনে কেন? এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো:

  • আক্রমণাত্মক বনাম সুরক্ষামূলক সক্ষমতা: ইসরাইল সাইবার জগতে তাদের “অফেনসিভ” বা আক্রমণাত্মক সক্ষমতার (যেমন- হ্যাকিং টুলস, স্পাইওয়্যার তৈরি) জন্য পরিচিত। কিন্তু এনসিএসআই (NCSI) সূচকটি তৈরি করা হয় সম্পূর্ণ ডিফেনসিভ বা “সুরক্ষামূলক” সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে।
  • সরকারি সদিচ্ছা ও পলিসি: বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল আইডেন্টিটি সুরক্ষা, সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (CSA) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুরক্ষার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুবিন্যস্ত করেছে। অন্যদিকে ইসরাইল ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনবরত সাইবার যুদ্ধের মুখে থাকায় তাদের পরিকাঠামো প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

এনসিএসআই (NCSI) সূচকের ১২টি মূল ইন্ডিকেটর বা পরিমাপক

বাংলাদেশ যে ১২টি সূচকে ভালো করে এই গৌরবময় অবস্থান অর্জন করেছে, তার কয়েকটি প্রধান পরিমাপক হলো:

১. জাতীয় সাইবার নীতি ও কৌশল (Cyber Security Policy)

২. সাইবার হুমকি ও ঘটনা বিশ্লেষণ ক্ষমতা (Cyber Threat Analysis)

৩. গুরুত্বপূর্ণ সেবা সুরক্ষা (Protection of Essential Services)

৪. ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও ই-সিগনেচার নিরাপত্তা (E-ID & Trust Services)

৫. সাইবার অপরাধ দমন আইনি কাঠামো (Fight Against Cybercrime)

৬. সামরিক ও বেসামরিক সাইবার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট (Military Cyber Operations)

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই যাত্রায় সাইবার আকাশের এই অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বৈশ্বিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি সাইবার সুরক্ষিত জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে এই অর্জন এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।

সাইবার সিকিউরিটি, জাতীয় নিরাপত্তা, টেলিকম অফার এবং সমসাময়িক প্রযুক্তির যেকোনো নিখুঁত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

আপনার জন্য একটি ফলো-আপ প্রশ্ন: সাইবার অপরাধ ও হ্যাকিং থেকে আপনার ফেসবুক, ইমেইল বা ব্যক্তিগত ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে আপনি কি কোনো অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি টিপস (যেমন- টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা ফিশিং প্রোটেকশন) সম্পর্কে জানতে চান?

ওয়াইফাই

নিউজ ডেস্ক

June 23, 2026

শেয়ার করুন

টেলিকম ও প্রযুক্তি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬

স্মার্টফোনের যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ইন্টারনেট বা মোবাইল ডাটা। তবে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে এই ডাটা বা ‘এমবি’ (MB) আসলে কীভাবে কাজ করে, কীভাবে এটি ফোন থেকে দ্রুত কেটে যায়, কিংবা ওয়াইফাই থেকে এটি সিমে জমা করা সম্ভব কি না।

আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তিগতভাবে সচেতন করতে মোবাইল ডাটার ভেতরের বিজ্ঞান এবং ডাটা সেভ করার কার্যকরী উপায়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ওয়াইফাই থেকে কি এমবি মোবাইলে রিজার্ভ বা জমা করা যায়?

এর সরাসরি উত্তর হলো—না, ওয়াইফাই থেকে এমবি মোবাইলের সিম বা ইন্টার্নাল স্টোরেজে (Phone Memory) টেনে এনে জমা করে রাখা সম্পূর্ণ অসম্ভব। ওয়াইফাই কেবল একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের লাইভ ইন্টারনেট সংযোগ বা নেটওয়ার্ক শেয়ারিং মাধ্যম। ওয়াইফাই চালানোর সময় আপনার ফোনের নিজস্ব কোনো মোবাইল ডাটা খরচ হয় না। তবে আপনি চাইলে অফলাইনে ব্যবহারের জন্য ওয়াইফায়ের লাইনে থাকা অবস্থায় মুভি, গান, গুগল ম্যাপস বা প্রয়োজনীয় কোনো ফাইল ডাউনলোড করে মেমোরিতে সেভ করে রাখতে পারেন।

⚠️ভুয়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকুন: > ইউটিউব বা ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় কিছু ভুয়া ভিডিও ও অ্যাপের টিউটোরিয়াল দেখা যায়, যেখানে দাবি করা হয়—”ওয়াইফাই থেকে এমবি মোবাইলে জমা করুন”। এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং প্রতারণামূলক। এগুলো মূলত আপনার ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার ফাঁদ (Phishing Trap)।

২. মোবাইল ডাটা কীভাবে কাজ করে এবং ‘এমবি’ (MB) কী?

ক) মোবাইল ডাটা যেভাবে কাজ করে:

মোবাইল ডাটা মূলত বেতার তরঙ্গের (Radio Waves) মাধ্যমে কাজ করে। আপনি যখন ফোনে ফেসবুক, ইউটিউব বা কোনো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করেন, তখন আপনার ফোন থেকে একটি সিগন্যাল বাতাসে ভেসে নিকটের মোবাইল টাওয়ারে (Cell Tower) পৌঁছায়। টাওয়ার সেই সিগন্যালকে মাটির নিচের অত্যন্ত দ্রুতগতির অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের মূল সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। সার্ভার থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি ঠিক একই উপায়ে উল্টো পথে বাতাসে ভেসে তরঙ্গ আকারে আপনার ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।

খ) ‘এমবি’ বা মেগাবাইট আসলে কী?

ইন্টারনেট অপারেটররা আপনাকে আনলিমিটেড বাতাস বা বেতার তরঙ্গ বিক্রি করতে পারে না। তাই তারা ইন্টারনেটে আদান-প্রদান করা তথ্যের আকার মেপে চার্জ বা টাকা কেটে নেয়। এই তথ্যের পরিমাপের আন্তর্জাতিক এককই হলো এমবি। কম্পিউটারের ভাষার হিসাবটি নিচে দেওয়া হলো:

  • ১ বাইট (Byte) = ৮ বিট (Bit) [ক্ষুদ্রতম একক]
  • ১ কিলোবাইট (KB) = ১০২৪ বাইট
  • ১ মেগাবাইট (MB) = ১০২৪ কিলোবাইট
  • ১ গিগাবাইট (GB) = ১০২৪ মেগাবাইট

সহজ কথায়, একটি সাধারণ মানের ছবি দেখতে ১ থেকে ৩ এমবি খরচ হয়। আবার এক মিনিট ইউটিউব ভিডিও দেখতে ৫ থেকে ১৫ এমবি পর্যন্ত ডাটা লাগতে পারে। এটি মূলত আপনি কতটুকু তথ্য ডাউনলোড বা আপলোড করছেন তার একটি ডিজিটাল পরিমাপ।

৩. ফোনের অতিরিক্ত ডাটা (MB) খরচ কমাতে করণীয়

যদি আপনার ফোনের এমবি দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তবে আপনার ফোনের সেটিংসে কিছু জরুরি পরিবর্তন এবং সাধারণ কিছু অভ্যাস তৈরি করা উচিত। নিচে ৫টি কার্যকর উপায় দেওয়া হলো:

১. সেটিংসে ডাটা সেভার (Data Saver) চালু করুন

আপনার অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘Data Saver’ বা ‘Low Data Mode’ অপশনটি চালু করুন। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপগুলোর অপ্রয়োজনীয় ডাটা খরচ এক ধাক্কায় বন্ধ করে দেবে। এছাড়া ফোনে একটি দৈনিক বা মাসিক ডাটা লিমিট (Data Limit) সেট করে রাখতে পারেন, যা সীমা পার হলে আপনাকে সতর্ক করবে।

২. অ্যাপসের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ (Off) করুন

অনেক অ্যাপ (যেমন- গেমস, শপিং অ্যাপ বা অন্যান্য টুলস) স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজে নিজে আপডেট বা নোটিফিকেশন আনার কারণে আপনার অজান্তেই ডাটা কেটে নেয়। এজন্য ফোনের Settings > Apps-এ যান। যেসব অ্যাপের ইন্টারনেট সবসময় প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ‘Background Data’ অপশনটি বন্ধ করে দিন।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ার অটো-প্লে ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল

  • ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম: এই অ্যাপগুলোর সেটিংসে গিয়ে ‘Media’ বা ‘Data Usage’ অপশনে যান। সেখানে ‘Data Saver’ চালু করুন এবং ভিডিওর ক্ষেত্রে ‘Never Autoplay Videos’ বা ‘Autoplay on Wi-Fi only’ সিলেক্ট করুন।
  • ইউটিউব: ভিডিও দেখার সময় ভিডিও রেজোলিউশন (Quality) ‘Auto’ বা ‘4K’ না রেখে ম্যানুয়ালি 360p বা 480p সিলেক্ট করুন। এতে প্রায় ৬০% ডাটা সাশ্রয় হবে।

৪. গুগল প্লে স্টোর ও ক্লাউড অটো-আপডেট বন্ধ করুন

প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের সেটিংসে গিয়ে ‘Auto-update apps’ অপশনটি পরিবর্তন করে ‘Over Wi-Fi only’ করে দিন। এতে মোবাইল ডাটা চালু থাকা অবস্থায় অ্যাপগুলো নিজে নিজে আপডেট হয়ে আপনার মেগাবাইট শেষ করবে না। একই সাথে গুগল ফটোজ বা আইক্লাউড ব্যাকআপের সেটিংসও ‘Only on Wi-Fi’ করে রাখুন।

৫. ওয়াইফাই জোনে অফলাইন ডাউনলোডের অভ্যাস

যখন আপনি বাসা বা অফিসের ওয়াইফাই জোনে থাকবেন, তখন আপনার প্রয়োজনীয় ইউটিউব ভিডিও, স্পোটিফাই মিউজিক বা গুগল ম্যাপসের (Google Maps) নির্দিষ্ট রুট অফলাইনে ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করে রাখুন। এর ফলে বাইরে গেলে মোবাইল ডাটা অন না করেই আপনি সেগুলো অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করলেও সঠিক সেটিংস না জানার কারণে অনেক সময় আমাদের অতিরিক্ত অর্থ বা ডাটা অপচয় হয়। উপরের টেকনিক্যাল সেটিংসগুলো অ্যাপ্লাই করলে আপনার মোবাইল ডাটার খরচ প্রায় অর্ধেক কমে আসবে।

টেলিকম অফার, স্মার্টফোন ট্রিকস, সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তির যেকোনো নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত তথ্য সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

আপনার জন্য একটি ফলো-আপ প্রশ্ন: আপনি বর্তমানে কোন মোবাইল অপারেটরের (যেমন- জিপি, রবি, বাংলালিংক) সিম ব্যবহার করছেন? আপনার সিমের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সাশ্রয়ী বা কম খরচের ইন্টারনেট প্যাকের কোড জানতে চান কি?

১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ