অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬: ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহ শুরু, কাটবে সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ নিশ্চিত করতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার থেকে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল আমদানি ও সরবরাহ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১.৮ লাখ টন ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ডিপোগুলোতে পৌঁছাবে। এতে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে।
জ্বালানি সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা
জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ পরিকল্পনার অধীনে সরকার অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে আসা এই ডিজেল উচ্চমানের এবং পরিবেশবান্ধব।
বর্তমানে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে তেলবাহী ট্যাংকার আসতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আসা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাইপলাইনের সুফল সরাসরি পাবেন দেশের কৃষক ও পরিবহন মালিকরা। নৌপথ বা রেলপথে তেল পরিবহনে যে সিস্টেম লস এবং অতিরিক্ত খরচ হতো, পাইপলাইনে তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিজেলের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারে আরও সমন্বয় করা সম্ভব হতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই জ্বালানি নীতি নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কেবল অর্থনীতির চাকা সচল রাখে না, এটি নাগরিকের মানবাধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করে। সামাজিক সমতা বজায় রাখতে হলে জ্বালানির ন্যায্য মূল্য এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই পাইপলাইন প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ঝুঁকি হ্রাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এক নতুন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন—বাংলাদেশের রাজনীতি এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ ভূখণ্ড। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশ এখন আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার সমান্তরালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল ব্যয়, ইউরেনিয়ামের জটিল বিজ্ঞান এবং নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার জোয়ার।

ইউরেনিয়ামের রহস্য: রূপপুর কি হিরোশিমা হবে?
প্রকৃতিতে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় এক অদ্ভুত অনুপাতে। আকরিক থেকে পাওয়া ১০০ ভাগ ইউরেনিয়ামের মধ্যে মাত্র $0.7\%$ হলো $U-235$, যা শক্তির মূল উৎস। বাকি $99.3\%$ হলো $U-238$, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর নয়। যখন এই $U-235$ এর ঘনত্ব ৩ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তখন একে বলা হয় Low Enriched Uranium (LEU)। রূপপুরের রিঅ্যাক্টরে এই $LEU$ ব্যবহার করে বোরন ‘কন্ট্রোল রড’-এর সাহায্যে এক নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এটি অনেকটা চুলার আঁচ নিয়ন্ত্রণের মতো; রড নামালে বিক্রিয়া কমে, তুললে বাড়ে।
বিপরীতে, ১৯৪৫ সালের হিরোশিমায় ব্যবহৃত ‘লিটল বয়’ বোমাটিতে ছিল $93\%$ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না বলেই এক সেকেন্ডের কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ে সূর্যের কেন্দ্রের সমান তাপ উৎপন্ন হয়ে ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। পদার্থবিজ্ঞানের গাণিতিক নিয়মে রূপপুরের জ্বালানি দিয়ে বোমা বানানো অসম্ভব, তবে রিঅ্যাক্টরে উৎপন্ন হওয়া Plutonium নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজরদারি সবসময়ই থাকে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: প্রান্তিক মানুষের জন্য সুরক্ষা কবচ
বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এরই মধ্যে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে উন্নয়নের সম-অংশীদার।” এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সকল অফিস ও শিল্প কারখানায় ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
স্মার্ট কৃষিতে ড্রোন ও এআই বিপ্লব
একই দিনে সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, সরকার ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ চালুর মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই খাতে রূপান্তর করছে। কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন এবং ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির শ্বেতপত্র
উন্নয়নের এই আবহের মাঝেই রূপপুর প্রকল্পের বিশাল ব্যয় (১২ বিলিয়ন ডলার) এক বড় দুশ্চিন্তার নাম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের নির্মাণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই ‘মেগা বোঝা’ এখন বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
রাজনীতিতে নৈতিকতার বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, নাহিদ ইসলাম নিজে সরাসরি দুর্নীতি না করলেও স্বজনপ্রীতি ও উপদেষ্টা পদে থেকে রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠনের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে, রোমানিয়া সরকার অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি।
সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (২৯ এপ্রিল অধিবেশন), মার্কিন দূতাবাস ঢাকা, বাংলাদেশ দূতাবাস (রোমানিয়া) এবং ঐতিহাসিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির অধিকারের লড়াই ২০২৬ সালে এসে পারমাণবিক শক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মুখোমুখি। একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর আধুনিক পরিকল্পনা যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি রূপপুর প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি এবং নীতিনির্ধারকদের নৈতিক পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলাদেশকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হবে আগামীর স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: BDS Bulbul Ahmed
বিভাগ: অর্থনীতি / সমাজ / ফিচার
উৎস: পালসবাংলাদেশ (আর্থ-সামাজিক পর্যালোচনা)
বাংলাদেশ কেন গরীব? এই প্রশ্নটি যতটা সহজ, এর উত্তর ঠিক ততটাই গভীর। দারিদ্র্য কেবল পকেটে টাকা না থাকা নয়; বরং এটি একটি ঐতিহাসিক শৃঙ্খল, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং বারবার আছড়ে পড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ নাম। তবে মুদ্রার অন্য পিঠ বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ কেবল দারিদ্র্যের সংজ্ঞা বদলায়নি, বরং বিশ্বের সামনে উন্নয়নের এক বিস্ময়কর মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. শূন্য থেকে শুরু করার গল্প

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়, তখন দেশটির কোষাগার ছিল শূন্য। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল রাস্তাঘাট, কারখানা আর অবকাঠামো। একটি দেশ যখন জন্ম নেয় ‘ঘর ভাঙা’ অবস্থায়, তখন তাকে দাঁড়াতে সময় নিতেই হয়। আপনি যেমনটি বললেন, বাংলাদেশ একটু দেরিতে শুরু করেছে, আর এই শুরুটাই ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং।
২. জনঘনত্ব ও সম্পদের অসম বণ্টন

বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা হলো এর আয়তনের তুলনায় বিশাল জনসংখ্যা। সীমিত জায়গায় এত বেশি মানুষের সংস্থান করতে গিয়ে সম্পদের ওপর চাপ পড়ে আকাশছোঁয়া। সুযোগ পেলে ‘শর্টকাট’ খোঁজা বা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি উন্নতির গতিতে কিছুটা ব্রেক ধরলেও, এই জনসংখ্যাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিতে (Human Resource) রূপান্তরিত হচ্ছে।
৩. উন্নয়নের তিনটি শক্তিশালী স্তম্ভ

বাংলাদেশ গরীব তকমা ঝেড়ে ফেলার জন্য তিনটি প্রধান অস্ত্রের ওপর ভর করে দৌড়াচ্ছে:
- গার্মেন্টস শিল্প: বিশ্বজুড়ে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এখন একটি আস্থার নাম। লাখ লাখ নারী শ্রমিকের হাতে বোনা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।
- রেমিট্যান্স: প্রবাসী যোদ্ধারা দিনরাত বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে যে টাকা পাঠাচ্ছেন, তা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে।
- গ্রামীণ অর্থনীতি: ক্ষুদ্রঋণ আর নারীদের কর্মসংস্থান গ্রামের চিত্র বদলে দিয়েছে। গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার এই গল্পগুলোই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
৪. শর্টকাট বনাম পরিশ্রমের সংস্কৃতি
আমাদের মধ্যে অনেক সময় কাজের চেয়ে কথা বেশি বলার অভ্যাস বা নিয়মের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা থাকলেও, মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। ক্ষেত মজুর থেকে শুরু করে রিকশাচালক—সবার লড়াকু মানসিকতা বাংলাদেশকে বারবার খাদের কিনারা থেকে তুলে এনেছে।
এক নজরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা
| পর্যায় | অবস্থা |
| ১৯৭১ – ১৯৯০ | পুনর্গঠন ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। |
| ১৯৯০ – ২০১০ | গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ভিত তৈরি। |
| ২০১০ – ২০২৬ | অবকাঠামো উন্নয়ন (মেগা প্রজেক্ট) এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি। |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১। |
বিডিএস ডিজিটাল এডিটোরিয়াল ইনসাইট (Editorial Insight)
বাংলাদেশ এখন আর কেবল ‘বটমলেস বাস্কেট’ নয়। দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের বড় বড় অনেক দেশ আজ বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। হ্যাঁ, আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু আমাদের উদ্যম আর জিদ হিমালয় সমান। আপনার ভাষায়— “এই দৌড়টাই আসল গল্প”। বাংলাদেশ দৌড়াচ্ছে এবং ইনশাআল্লাহ, গন্তব্যে পৌঁছাবেই।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূর করতে আমাদের কোন অভ্যাসটি সবার আগে পরিবর্তন করা উচিত বলে আপনি মনে করেন? কমেন্টে জানান।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: আন্তর্জাতিক / বিশেষ প্রতিবেদন
উৎস: (উইকিলিকস ও জিও-পলিটিক্যাল আর্কাইভ অবলম্বনে)
ইতিহাস বিজয়ীরা লেখে, কিন্তু সত্য লুকিয়ে থাকে ফাঁস হওয়া নথিতে। ২০১১ সালের ২রা এপ্রিল হিলারি ক্লিনটনের উপদেষ্টা সিডনি ব্লুমেনথালের সেই ই-মেইলটি আজ যেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘ক্রাইম ডকুমেন্ট’। সেখানে পরিষ্কার লেখা ছিল—লিবিয়া আক্রমণের মূল কারণ লিবিয়ার গণতন্ত্র বা বাকস্বাধীনতা ছিল না, বরং ছিল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ভল্টে থাকা ১৪৩ টন সোনা।
১. ‘গোল্ড দিনার’ ও ডলারের একাধিপত্যে আঘাত

গাদ্দাফি স্বপ্ন দেখতেন ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আফ্রিকা’র। তিনি চেয়েছিলেন আফ্রিকান দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রা ‘গোল্ড দিনার’ চালু করতে, যাতে তেল-গ্যাস কেনাবেচায় মার্কিন ডলারের মুখাপেক্ষী হতে না হয়। এটি ছিল নব্য উপনিবেশবাদের মূলে কুঠারাঘাত। আজও আফ্রিকার ১৪টি দেশের জিডিপির সিংহভাগ অর্থ ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়—গাদ্দাফি এই ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক দাসত্বের শিকল ভাঙতে চেয়েছিলেন বলেই তিনি পশ্চিমাদের এক নম্বর টার্গেটে পরিণত হন।
২. বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য: যখন পানি ছিল ফ্রি!

গাদ্দাফির সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রজেক্ট ছিল ‘গ্রেট ম্যান-মেড রিভার’ (GMR)। সাহারা মরুভূমির নিচ থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন ৬৫ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি সরবরাহ করতেন। লিবিয়ার নাগরিকদের পানির জন্য কোনো বিল দিতে হতো না। পশ্চিমা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর ‘পানির ব্যবসা’র জন্য এটি ছিল এক বিরাট হুমকি।
৩. লিবিয়ার সেই সমৃদ্ধি বনাম বর্তমান ধ্বংসস্তূপ

- নবদম্পতিকে অনুদান: ঘর গোছানোর জন্য দেওয়া হতো ৫০ হাজার ডলার।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: লিবিয়ার শিক্ষার হার ছিল আফ্রিকার সর্বোচ্চ এবং চিকিৎসা ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি।
- ডিজিটাল মুক্তি: ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ‘র্যাসকম’ (RASCOM) স্যাটেলাইট বানিয়ে পুরো আফ্রিকাকে ইউরোপের স্যাটেলাইট ভাড়ার বোঝা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন গাদ্দাফি।
৪. সাদ্দাম থেকে বাশার আল-আসাদ: একই গল্পের পুনরাবৃত্তি

সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করা হলো ‘গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের’ মিথ্যা অজুহাতে, যা পরে মার্কিন সিনেট রিপোর্টেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের চেষ্টা করা হলো কারণ তিনি কাতার থেকে ইউরোপ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন বসাতে ‘না’ বলেছিলেন। ২০২৬-এর এই সময়ে এসে যখন আমরা খামেনিকে হত্যার খবর শুনি, তখন সেই একই পুরনো ‘পরমাণু বোমা’র ধুয়া তোলা হয়। আসলে সত্য হলো সম্পদ দখল আর ডলারের সাম্রাজ্য রক্ষা করা।
পাশ্চাত্যের প্রক্সি ওয়ার ও টার্গেট লিস্ট (এক নজরে)
| নেতা / দেশ | অজুহাত (ফ্রন্ট পেজ) | আসল কারণ (লুকানো সত্য) |
| সাদ্দাম হোসেন (ইরাক) | গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র (WMD)। | তেলের নিয়ন্ত্রণ ও ডলার বর্জন। |
| মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া) | মানবাধিকার লঙ্ঘন। | ১৪৩ টন সোনা ও ‘গোল্ড দিনার’। |
| বাশার আল-আসাদ (সিরিয়া) | শিয়া-সুন্নি সংঘাত। | কাতার-ইউরোপ গ্যাস পাইপলাইন। |
| ইরান (বর্তমান) | পারমাণবিক বোমা। | আঞ্চলিক আধিপত্য ও খনিজ সম্পদ। |
বিডিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যানালাইসিস (Editorial Insight)
ধর্ম, মানবাধিকার বা পরমাণু বোমা—এগুলো স্রেফ ফ্রন্ট পেজ স্টোরি। ভেতরের আসল সত্য হলো পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ আর ডলারের একাধিপত্য। আজ আমরা যখন সাম্প্রদায়িক ফতোয়া বা ছোটখাটো ধর্মীয় ইস্যুতে বিভেদ তৈরি করছি, ঠিক সেই সুযোগেই বড় বড় শক্তিগুলো লাশের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি আসলেই বড় সত্যগুলো দেখতে পাচ্ছি, নাকি ‘ফতোয়া’র বেড়াজালে আসল অপরাধীদের আড়াল করে দিচ্ছি?
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: লিবিয়া বা ইরাকের বর্তমান অবস্থা দেখে কি আপনার মনে হয় তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ সেখানে শান্তি এনেছে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



