টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স

টিন কেন ঢেউখেলানো হয়? সাধারণ পাতের চেয়ে এটি কেন বেশি মজবুত? জানুন আসল কারণ!
টিন

নিউজ ডেস্ক

March 27, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও টেকনোলজি এনালিস্ট)

শহর কিংবা গ্রাম—ঘরের চালে টিনের ব্যবহার আমরা সবাই দেখি। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন টিন সবসময় ঢেউখেলানো (Corrugated) হয়? সাধারণ সমতল বা প্লেইন টিন ব্যবহার করলে কি কোনো সমস্যা হতো? আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এই ঢেউয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে চমৎকার এক প্রকৌশল বিদ্যা বা ইঞ্জিনিয়ারিং।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কেন টিন ঢেউখেলানো হয় এবং এর ফলে আমাদের কী কী সুবিধা হয়।

১. শক্তির জাদুকরী ভারসাম্য (Structural Strength)

একটি সাধারণ পাতলা লোহার পাত বা প্লেইন টিন আপনি সহজেই হাত দিয়ে বাঁকাতে পারবেন। কিন্তু সেই একই টিন যখন ঢেউখেলানো আকারে তৈরি করা হয়, তখন এর মজবুতি বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • কেন এমন হয়? ঢেউ থাকার ফলে টিনের লম্বালম্বি অংশে একটি কৃত্রিম ‘গভীরতা’ (Depth) তৈরি হয়। এটি একটি বিমের মতো কাজ করে। ওপর থেকে ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি বা বাতাসের চাপ পড়লে ঢেউয়ের কারণে সেই ভার পুরো টিনে ছড়িয়ে পড়ে। আপনি ঠিকই ধরেছেন—১ ফিট জায়গার জন্য প্লেইন টিন যেখানে ১ ফিট লাগে, সেখানে ঢেউখেলানো টিনের জন্য প্রায় ২ ফিট টিন ভাঁজ হয়ে থাকে, যা একে কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী করে তোলে।

২. বৃষ্টির পানির সুশৃঙ্খল পথ (Efficient Drainage

সমতল টিনে পানি পড়লে তা চারদিকে অগোছালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে টিনের জোড়ার মুখ দিয়ে ঘরের ভেতর পানি ঢোকার ঝুঁকি থাকে।

  • মিনি-নালা হিসেবে কাজ: টিনের প্রতিটি ঢেউ একেকটি ছোট নালার মতো কাজ করে। ফলে বৃষ্টির পানি অত্যন্ত দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। এতে টিনের ওপর পানি জমে থাকে না, যা মরিচা (Rust) পড়া রোধ করে এবং টিনের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

আরও পড়ুন:জ্বালানি নিরাপত্তায় ৩ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার: ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বড় সিদ্ধান্ত।


৩. তাপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিফলন (Thermal Performance)

ঢেউখেলানো পৃষ্ঠতল সমতল পৃষ্ঠের চেয়ে বেশি জায়গা (Surface Area) জুড়ে থাকে।

  • সূর্যের আলো প্রতিফলন: সূর্যের আলো যখন ঢেউয়ের ওপর পড়ে, তখন এটি বিভিন্ন কোণে প্রতিফলিত (Reflect) হয়। সমতল টিনের মতো সবটুকু তাপ সরাসরি লম্বভাবে ঘরের ভেতর প্রবেশ করতে পারে না। ফলে টিনের তৈরি ঘর তুলনামূলক কম উত্তপ্ত হয়। এছাড়া ঢেউয়ের কারণে চালের নিচে বাতাসের চলাচলের জন্য সামান্য ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা প্রাকৃতিক ইনসুলেশন হিসেবে কাজ করে।

৪. ওজনে হালকা কিন্তু বহনে সহজ

ঢেউখেলানো টিন ওজনে হালকা হওয়ায় এটি বহনে সুবিধা এবং ঘরের কাঠামোর ওপর কম চাপ ফেলে। অথচ এর ঢেউয়ের কারণে এটি অনেক ভারী ভার সইতে পারে। একারণেই এটি সস্তা ও টেকসই নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

বিশেষ বিশ্লেষণ:বিষ্যৎ বাংলাদেশ কি আবারও অদৃশ্য স্বৈরাচারের পথে? ভূ-রাজনীতি ও রূপপুর প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণ!


উপসংহার: আধুনিক স্থাপত্যে ঢেউখেলানো টিন

১৮২০-এর দশকে প্রথম এই Corrugated Iron বা ঢেউখেলানো টিন আবিষ্কৃত হয়। তখন থেকেই এটি স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক। সুতরাং, টিনের এই ঢেউ কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং এটি আমাদের ঘরকে ঝড়-বৃষ্টি ও তাপ থেকে রক্ষা করার এক বৈজ্ঞানিক ঢাল।


তথ্যসূত্র ও গুগল এনালাইসিস (References):

  • Civil Engineering Portal: Structural benefits of corrugated metal sheets.
  • Architecture Digest: History and evolution of roofing materials.
  • Physics Today: The science of reflection and structural load on curved surfaces.
  • বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: বাংলাদেশে টিনের ঘর ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিকোলা টেসলা

নিউজ ডেস্ক

April 28, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]

বিভাগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / ইতিহাস

উৎস: (প্রথম আলো ও ঐতিহাসিক আর্কাইভের সহায়তায়)

১৮৯৩ সালের শিকাগো ওয়ার্ল্ড ফেয়ার। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ এক মায়াবী আলোয় ঝলমল করছে। মানুষ বিস্ময়ে দেখছে ‘পরিবর্তী বিদ্যুৎ’ বা এসি কারেন্টের জাদু। যার হাত ধরে এই আলোকসজ্জা, তিনি ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় এবং প্রতিভাবান বিজ্ঞানী— নিকোলা টেসলা। এডিসনের সমবিদ্যুৎ (DC) যখন জঞ্জাল আর সীমাবদ্ধতায় আটকে ছিল, তখন টেসলা পৃথিবীকে দেখালেন চিকন তারে মাইলকে মাইল বিদ্যুৎ পাঠানোর স্বপ্ন।

১. মেধাবী ছাত্র থেকে ‘ডিগ্রিহীন’ প্রকৌশলী

১৮৫৬ সালে বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার এক গ্রামে জন্ম নেওয়া টেসলা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য। গণিতের জটিল ইন্টিগ্র্যাল ক্যালকুলাস তিনি মুখে মুখেই সমাধান করে ফেলতেন। হাইস্কুলের চার বছরের কোর্স শেষ করেছিলেন মাত্র তিন বছরে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় টেসলা দাবি করেন, কমিউটেটর ছাড়াই ডায়নামো তৈরি সম্ভব। তাঁর এই অদম্য জেদ আর অধ্যাপকদের সাথে মতভেদের কারণে শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি ছাড়াই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়।

২. এডিসনের সাথে সংঘাত ও ‘আমেরিকান কৌতুক’

১৮৮৪ সালে টেসলা যখন নিউইয়র্কে টমাস আলভা এডিসনের কোম্পানিতে যোগ দেন, তখন সূচিত হয় বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দ্বৈরথ। এডিসনের ডিসি জেনারেটরের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ সফলভাবে শেষ করার পর টেসলাকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫০ হাজার ডলার দিতে অস্বীকার করেন এডিসন। এডিসন রসিকতা করে বলেন, “তুমি আমেরিকান কৌতুক বোঝোনি।” এই অভিমানে টেসলা পদত্যাগ করেন এবং শুরু হয় ‘কারেন্ট ওয়ার’ বা বিদ্যুতের যুদ্ধ।

৩. বিনা তারে বিদ্যুৎ ও টেসলা কয়েল

টেসলার সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল তারবিহীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন। ১৮৯৩ সালের প্রদর্শনীতে তিনি দেখান, কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই একটি বাতি জ্বালানো সম্ভব। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়্যারলেস সিস্টেম’, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী বিনা তারে বিদ্যুৎ ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। যদিও অর্থের অভাবে তাঁর ‘ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার’ প্রকল্প সফল হয়নি, তবে আজকের রেডিও এবং ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ভিত্তি সেই টেসলা কয়েল।

৪. ৩০০ পেটেন্টের অধিকারী এক নিঃস্ব জাদুকর

রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে আমরা মার্কনিকে চিনলেও, মার্কনি টেসলার ১৭টি পেটেন্ট ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৪৩ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট টেসলাকেই রেডিওর প্রকৃত উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এক্স-রে থেকে শুরু করে রিমোট কন্ট্রোল নৌকা, এমনকি আজকের হেলিকপ্টারের আদি ধারণা—সবই ছিল টেসলার মস্তিষ্কের অবদান। অথচ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন দারুণ অর্থকষ্টে। শেষ জীবনে নিউইয়র্কার হোটেলের একটি কক্ষে পায়রাদের সাথে সময় কাটিয়ে ১৯৪৩ সালে তিনি মারা যান।

৫. টেসলার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞানীরা ১৯৬০ সালে চৌম্বক ক্ষেত্রের এককের নাম দিয়েছেন ‘টেসলা’। আজ যখন আমরা বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা শুনি, সেই বিখ্যাত ‘Tesla’ কোম্পানির নামটিও এই মহান বিজ্ঞানীর প্রতি সম্মান জানিয়ে রাখা। আজকের স্মার্ট দুনিয়া যে বেতার তরঙ্গে চলে, তার প্রতিটি স্পন্দনে মিশে আছে নিকোলা টেসলার নাম।


এক নজরে নিকোলা টেসলা

বিষয়তথ্য
জন্ম১০ জুলাই ১৮৫৬, ক্রোয়েশিয়া।
আবিষ্কারএসি বিদ্যুৎ, ইন্ডাকশন মোটর, টেসলা কয়েল, রেডিওর মূল নকশা।
পেটেন্ট সংখ্যাপ্রায় ৩০০টি।
সম্মাননাচৌম্বক ক্ষেত্রের একক ‘টেসলা’ (T)।
মৃত্যু৭ জানুয়ারি ১৯৪৩, নিউ ইয়র্ক।

বি.ডি.এস ডিজিটাল এডিটোরিয়াল ইনসাইট: নিকোলা টেসলার জীবন আমাদের শেখায় যে, উদ্ভাবন কেবল ব্যবসার জন্য নয়, বরং মানবজাতির কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। টেসলা হয়তো ব্যবসা বোঝেননি, কিন্তু তিনি ভবিষ্যৎ বুঝেছিলেন। তাঁর সেই ভবিষ্যৎ আজ আমাদের বর্তমান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সোনা

নিউজ ডেস্ক

April 26, 2026

শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও ইতিহাস ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: বিজ্ঞান / পৃথিবী ও মহাকাশ

সোনা—যুগ যুগ ধরে আভিজাত্য এবং শক্তির প্রতীক। কিন্তু আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে আমরা যে সোনা খনি থেকে তুলে আনি, তা আসলে এই পৃথিবীতে তৈরি হয়নি? এমনকি আমাদের সূর্যও সোনা তৈরি করার মতো শক্তিশালী নয়। সোনার প্রতিটি কণা আসলে মহাকাশ থেকে আসা এক ‘উপহার’।

১. মহাজাগতিক কারখানায় সোনা উৎপাদন (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা)

বিজ্ঞানীদের মতে, সোনা তৈরি হয় মহাকাশে এক প্রলয়ংকরী ঘটনার মাধ্যমে। আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে যখন দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের (Neutron Stars) মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছিল, তখন সেখানে যে চরম তাপমাত্রা ও চাপের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকেই সোনার পরমাণু গঠিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে পৃথিবীর সৃষ্টির সময় মহাকাশ থেকে উল্কাপাতের মাধ্যমে এই সোনা পৃথিবীর গভীরে জমা হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে এই সোনা মাটির ওপরের স্তরে বা নদীর তলদেশে চলে আসে।

২. ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ড রাশ: ইতিহাস বদলে দেওয়া এক আবিষ্কার

সোনার মহাজাগতিক ইতিহাসের পর এবার আসা যাক মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত সোনা আবিষ্কারের গল্পে। ১৮৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার কলোমায় ঘটেছিল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

  • আবিষ্কারক: জেমস ডব্লিউ মার্শাল।
  • ঘটনা: মার্শাল তখন জন সাটারের হয়ে আমেরিকান নদীর তীরে একটি করাতকল (Sutter’s Mill) তৈরির তদারকি করছিলেন। হঠাৎ নদীর তলদেশে তিনি চকচকে কিছু দেখতে পান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি ছিল বিশুদ্ধ সোনা।
  • ফলাফল: এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভিড় জমায়, যা ইতিহাসে ‘ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ড রাশ’ (১৮৪৮–১৮৫৫) নামে পরিচিত।

৩. সোনা কেন এত দামি?

সোনা লোহা বা তামা মতো পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না বলেই এটি অত্যন্ত দুর্লভ। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত উত্তোলিত সমস্ত সোনাকে যদি এক করা হয়, তবে তা মাত্র ২০ থেকে ২১ মিটারের একটি ঘনক (Cube) তৈরি করবে। অর্থাৎ এটি সত্যিই সীমিত।


সোনা সংক্রান্ত কিছু অবাক করা তথ্য

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
পারমাণবিক সংখ্যা৭৯ (Au)
উৎসনিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষ ও সুপারনোভা বিস্ফোরণ।
প্রথম বড় আবিষ্কার১৮৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সাটার মিলে।
ব্যবহারগয়না, ইলেকট্রনিক্স এবং মহাকাশযানের যন্ত্রপাতিতে।

উপসংহার

জেমস মার্শাল যখন ১৮৪৮ সালে নদীর ধারে সেই প্রথম সোনার টুকরোটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন, তিনি হয়তো জানতেন না যে তিনি আসলে মহাকাশের একটি অংশকে ছুঁয়ে দেখছেন। সোনার এই মহাজাগতিক যাত্রা আজও আমাদের অবাক করে।

বিডিএস ফ্যাক্ট: আপনি বর্তমানে যে সোনার আংটি বা গয়নাটি পরে আছেন, তার পরমাণুগুলো কয়েক কোটি বছর আগে মহাকাশের কোনো এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে তৈরি হয়েছিল!

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আয়রন ডোম কী

নিউজ ডেস্ক

April 17, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

বর্তমান বিশ্বে সমরাস্ত্র প্রযুক্তির অন্যতম বিস্ময় হলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’। ফিলিস্তিনের গাজা বা লেবানন থেকে ছোড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়ে এটি ইসরায়েলের প্রধান সামরিক শক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট, মর্টার এবং ড্রোন থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতেই এই ব্যবস্থার উদ্ভব।

১. প্রেক্ষাপট ও উদ্ভাবন

২০০৬ সালে লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষের পর ইসরায়েল এ ধরনের একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ইসরায়েলি সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ইসরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এটি তৈরি করে। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল গাজা থেকে আসা একটি রকেট সফলভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। এই প্রজেক্টে ইসরায়েল ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে।

২. আয়রন ডোম কীভাবে কাজ করে?

এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এটি মূলত তিনটি ধাপের মাধ্যমে কাজ করে:

  • সনাক্তকরণ (Detection): একটি শক্তিশালী রাডার সিস্টেম সব সময় আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। কোনো রকেট বা বস্তু ছোড়া হলেই রাডার দ্রুত সেটিকে সনাক্ত করে তার গতিপথ ট্র্যাক করে।
  • বিশ্লেষণ (Analysis): রাডার থেকে পাওয়া তথ্য চলে যায় একটি ‘কন্ট্রোল সিস্টেমে’। সেখানে কম্পিউটার হিসাব করে দেখে রকেটটি কোথায় আঘাত করতে পারে। যদি দেখা যায় রকেটটি কোনো জনবসতি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করবে, তবেই এটি ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেয়। আর যদি রকেটটি কোনো ফাঁকা জায়গায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য সেটিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
  • প্রতিরোধ (Interception): ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হলে সিস্টেমের ‘লঞ্চার’ থেকে একটি তামির (Tamir) ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছোড়া হয়। এটি বাতাসের মধ্যেই আগত রকেটটির কাছে গিয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং রকেটটিকে চুরমার করে দেয়।

৩. বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা

  • সাফল্যের হার: এটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার পরিসীমায় ৯০ শতাংশেরও বেশি রকেট রুখতে সক্ষম।
  • আবহাওয়া: ঝড়, বৃষ্টি বা কুয়াশা—যেকোনো পরিস্থিতিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এটি কাজ করে।
  • একযোগে একাধিক টার্গেট: যদি একসাথে শত শত রকেট ছোড়া হয়, তবে আয়রন ডোমের বিভিন্ন ইউনিট জালের মতো একে অপরের সাথে সমন্বয় করে গুরুত্ব অনুসারে রকেটগুলো ধ্বংস করতে পারে।
  • পাল্টা আক্রমণ: যেখান থেকে রকেট ছোড়া হয়েছে, তার সঠিক অবস্থান এটি কয়েক সেকেন্ডে বের করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল সিস্টেমে পাঠিয়ে দেয়, ফলে দ্রুত সেখানে পাল্টা বিমান হামলা চালানো সম্ভব হয়।

৪. বর্তমান সক্ষমতা

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ১০টি আয়রন ডোম ব্যাটারি মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটারিতে ৩ থেকে ৪টি লঞ্চার থাকে এবং প্রতিটি লঞ্চারে ২০টি করে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল থাকে। এছাড়াও মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার রকেটের জন্য ইসরায়েল ‘ডেভিডস স্লিং’ নামক আরেকটি উন্নত ব্যবস্থা ব্যবহার করে। সম্প্রতি আমেরিকাও তাদের নিজস্ব সুরক্ষার জন্য ইসরায়েল থেকে এই আয়রন ডোম প্রযুক্তি ক্রয় করেছে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: আয়রন ডোম কোনো জাদু নয়, বরং নিখুঁত গণিত ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে হামাস একসাথে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে এই সিস্টেমের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে, যা আধুনিক সমরাস্ত্র বিজ্ঞানে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


এক নজরে আয়রন ডোম:

বৈশিষ্ট্যতথ্য
তৈরি কারকরাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস।
কার্যকর শুরু২০১১ সাল।
সাফল্যের হার৯০% এর বেশি।
কভারেজ রেঞ্জ৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার।
ইন্টারসেপ্টর মিসাইলতামির (Tamir)।

তথ্যসূত্র (Source):

  • আইডিএফ (IDF): ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রযুক্তিগত রিপোর্ট।
  • রাফায়েল ডিফেন্স: অফিসিয়াল সিস্টেম স্পেসিফিকেশন।
  • বিবিসি ও টাইমস: প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ