উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ

সুকুমার রায়ের চিত্রকলায় ‘বাঁ-হাতি’ রহস্য: এক অজানা শৈল্পিক প্যাটার্ন
সুকুমার রায়

নিউজ ডেস্ক

March 13, 2026

শেয়ার করুন

“শিশু সাহিত্যিক” সুকুমার রায় সম্পর্কে নয়, আমি বরং চিত্রকার সুকুমার রায় সম্পর্কে কিছু বলি, থুড়ি লিখি।

পুত্র সত্যজিতের মতই সুকুমার রায়ের আঁকার হাতও বেশ চালু ছিল। তবে সুকুমার তেমন ডিটেল ছবিটবি এঁকেছেন বলে শুনি নি। তিনি বরং নিজের লেখার সাথে অলঙ্করণ হিসেবে কার্টুন ধাঁচের ছবি এঁকেছেন। আসুন এর কয়েকটা দেখে যাক ।

হাতুড়ে কবিতার ডাক্তার

গুড় গুড় গুড় গুড়িয়ে হামা খাপ পেতেছেন গোষ্টমামা

চোর ধরা কবিতার ‘ঢাল নিয়ে খাড়া আছি আড়ালে’ পাহারাদার

আরও রয়েছে, ক্রমশঃ প্রকাশ্য। কিন্তু এই ছবিগুলোর মধ্যে একটা বিচিত্র ব্যাপার খেয়াল করেছেন কি? কাঁচিধারী ডাক্তার, তীরন্দাজ ও পাহারাদার সকলেই ন্যাটা অথবা বাঁ-হাতি!

সুকুমার রায়ের আঁকা ছবিতে বাঁহাতি মানুষের ছড়াছড়ি! বিশ্বাস না হয় খুঁজে দেখুন!! এরকম আরও হিন্ট রয়েছে, যেমন –

লড়াই খ্যাপার ছাতা …

… পালোয়ানের হাতের গদা, এ সবই বাঁ হাঁতে ধরা। এগুলো একলা একলা হয়তো অতটা অর্থপূর্ণ নয়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে একটা প্যাটার্ণ তৈরি করে।

সুকুমারের আঁকা অনেক ছবিতেই এমন মানুষ আছেন যিনি ডানহাতি না বাঁ-হাতি তা পরিস্ফুট নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবে ডানহাতি এমন একজনকেই মনে করতে পারছি। বোম্বাগড়ের রাজার ক্রিকেটার পিসী যদি সুইচ-হিটে পটু না হয়ে থাকেন তবে তিনি নিয্যস ডানহাতি!

…যদিও ফুটওয়র্কটা ন্যাটা ব্যাটসম্যানের মতো।

কেন এই প্যাটার্ন গুরুত্বপূর্ণ?

সুকুমার রায়ের সমসাময়িক শিল্পীদের কাজে বাঁ-হাতের এমন ব্যাপক ব্যবহার খুব একটা দেখা যায় না। সেদিক থেকে বিচার করলে, সুকুমার ছিলেন একাধারে শিল্পী ও একজন ‘পর্যবেক্ষক’। তিনি হয়তো তাঁর আঁকা ছবিগুলোর মাধ্যমে পাঠকদের ধাঁধায় ফেলতে চাইতেন—”ছবিতে কী ঘটছে লক্ষ্য করেছ?”

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

সুকুমার রায়ের শিল্পসত্তার এই বাঁ-হাতি রহস্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি তাঁর সৃজনশীল মেধার একটি সূক্ষ্ম স্বাক্ষর। তিনি যে প্রচলিত ধাঁচের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন, তাঁর আঁকা ছবিগুলো তারই প্রমাণ। আজকের পাঠকদের কাছে সুকুমারের এই শিল্পকর্মগুলো কেবলই অলঙ্করণ নয়, বরং এক নতুন গবেষণার খোরাক।


বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সাহিত্য, শিল্প ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর বিবর্তন

নিউজ ডেস্ক

May 1, 2026

শেয়ার করুন

সংস্কৃতি প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬

ঢাকা: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোগো কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক নয়, বরং এর প্রতিটি রেখায় মিশে আছে এদেশের ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা এবং মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফায় পরিবর্তিত হয়েছে এই লোগো। আজ আমরা আলোকপাত করব সেই বিবর্তনের ধারায়।

১. ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের লোগো

১৯২১ সালে যাত্রা শুরুর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোতে ব্রিটিশ ছাপ স্পষ্ট ছিল। তখন লোগোতে ছিল চাঁদ-তারা ও স্বস্তিকা (卐) চিহ্ন। এর ট্যাগলাইন ছিল ইংরেজিতে— “Truth Shall Prevail”। তবে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর এবং পাকিস্তান আমলের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বস্তিকা চিহ্নটি বাদ দেওয়া হয়। সেখানে আরবি হরফে বই এবং বাংলার চিরচেনা নদী-নৌকার দৃশ্য সংযোজন করা হয়েছিল।

২. ১৯৭২: জয়নুল আবেদীনের সেই পেন্সিল স্কেচ

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন উপাচার্য শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের শরণাপন্ন হলে তিনি লোগোর একটি পেন্সিল খসড়া বা স্কেচ তৈরি করে দেন। তিনি নিজে গ্রাফিক ডিজাইনার না হওয়ায় তাঁর ছাত্র এবং যোগ্য উত্তরসূরি শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরীকে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার দায়িত্ব দেন। এই লোগোতেই প্রথমবারের মতো বাংলা লিপি এবং ‘শিক্ষাই আলো’ স্লোগানটি যুক্ত করা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল ‘সূর্যরশ্মিতে শাপলা’।

৩. ১৯৭৩: বর্তমান লোগো ও শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী

১৯৭২ সালের লোগোটি সর্বজনীনভাবে পছন্দ না হওয়ায় ১৯৭৩ সালে পুনরায় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী বর্তমান লোগোটি তিনটি অংশে সাজান:

  • ওপরের অংশ: একটি প্রজ্বলিত প্রদীপের আলো এবং তার ওপরে লেখা ‘শিক্ষাই আলো’।
  • ডান পাশ: একটি সজাগ চোখ। শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরীর মতে, এই চোখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সচেতন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতীক। চোখের মনিতে স্থান পেয়েছে বাংলা স্বরবর্ণের প্রথম অক্ষর ‘অ’
  • বাম পাশ: জাতীয় ফুল শাপলা, যা আমাদের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতীক।

৪. কারিগর পরিচিতি: একুশে পদকপ্রাপ্ত সমরজিৎ রায়চৌধুরী

এই লোগোর রূপকার সমরজিৎ রায়চৌধুরী ১৯৩৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ছিলেন। ৪৩ বছর শিক্ষকতার পর ২০০৩ সালে তিনি অবসর নেন। কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো নয়, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করা শিল্পীদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। শিল্পকলায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে তিনি ‘একুশে পদক’ লাভ করেন।


উপসংহার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর প্রতিটি অংশ আমাদের শিক্ষা ও চেতনার ধারক। ১৯২১ থেকে ১৯৫২, আর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩—এই পরিবর্তনের প্রতিটি বাঁক আসলে আমাদের জাতীয় পরিচয় নির্মাণের এক একটি ধাপ। বর্তমানের এই লোগোটি আগামী বহু শতাব্দী ধরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সংগ্রামের আলো হয়ে পথ দেখাবে।


তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্কাইভ, শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরীর সাক্ষাৎকার এবং চারুকলা অনুষদ রেকর্ড। সংগ্রহ ও উপস্থাপনা: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক

বিস্তারিত তথ্যের জন্য: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

জর্জ ওয়াশিংটন

নিউজ ডেস্ক

May 1, 2026

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬

ওয়াশিংটন ডি.সি: আজ থেকে ২৩৭ বছর আগে, ১৭৮৯ সালের ৩০ এপ্রিল আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন। শতভাগ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া এই মহামানব কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একটি নতুন জাতি ও দর্শনের স্থপতি। আজ আমরা জানব ‘ফাদার অফ দ্য নেশন’ খ্যাত এই মহান নেতার জীবন ও সংগ্রামের গল্প।

১. জন্ম ও শৈশব: প্রতিকূলতার মাঝে বেড়ে ওঠা

১৭৩২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়ার এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ ওয়াশিংটন। বাবা অগাস্টিন ওয়াশিংটন এবং মা ম্যারি বলের জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। মাত্র ১১ বছর বয়সে পিতৃহারা হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর জন্য সীমিত হয়ে পড়ে। তবে গৃহশিক্ষকের কাছে পাঠ এবং প্রবল ইচ্ছা শক্তিকে সম্বল করে তিনি পরিবারের ব্যবসার হাল ধরেন। ১৭৫৯ সালে তিনি মার্থা ড্যান্ড্রিজের (লেডি ওয়াশিংটন) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

২. সামরিক জীবন: অকুতোভয় এক যোদ্ধা

ছোটবেলা থেকেই সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ওয়াশিংটন ভার্জিনিয়া মিলিশিয়ার মেজর হিসেবে সামরিক জীবন শুরু করেন। ফরাসিদের দখল থেকে ভার্জিনিয়া মুক্ত করতে তাঁর অসামান্য রণকৌশল গভর্নরকে মুগ্ধ করেছিল। তাঁর পরিশ্রম ও সাহসিকতার কারণে তিনি দ্রুত পদোন্নতি পান এবং ভার্জিনিয়া সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

৩. স্বাধীনতার নায়ক: ব্রিটিশ শাসনের অবসান

জর্জ ওয়াশিংটনকে বলা হয় আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল কারিগর। ১৭৭৫ থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তিনি ‘কন্টিনেন্টাল আর্মি’র সর্বাধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অন্যায় কর আরোপের বিরুদ্ধে ১৩টি উপনিবেশের এই লড়াইয়ে ওয়াশিংটনের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্বই ছিল মূল চাবিকাঠি। ইয়র্কটাউন অভিযান থেকে শুরু করে বোস্টন অভিযান—প্রতিটি রণাঙ্গনে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

৪. হোয়াইট হাউসের প্রথম সারথি

স্বাধীনতার পর ১৭৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ওয়াশিংটন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল হলে ১৭৮৯ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর সততা ও নিরপেক্ষতার কারণে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদেও শতভাগ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন, যা মার্কিন ইতিহাসে আজও এক অনন্য রেকর্ড।

৫. শাসনকাল ও উত্তরাধিকার

৩০ এপ্রিল ১৭৮৯ থেকে ৪ মার্চ ১৭৯৭ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর সময়ে বার্ষিক বেতন ছিল ২৫ হাজার ডলার। তিনি বিশ্বাস করতেন ক্ষমতার চিরস্থায়ীত্ব গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, তাই দুই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর এই আদর্শই পরবর্তীকালে মার্কিন সংবিধানে দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।


উপসংহার: জর্জ ওয়াশিংটন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল কৃষক, দক্ষ সেনাপতি এবং নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক। আজ যখন আমরা ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথা বলি, তখন অবলীলায় ফিরে আসে প্রথম সেই মানুষটির নাম, যাঁর হাত ধরে আধুনিক গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয়েছিল। তিনি চিরকাল তাঁর কর্মে ও আদর্শে সারা বিশ্বের মুক্তিপাগল মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।


তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল আর্কাইভস ইউএসএ, হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। লিখন ও গবেষণা: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক

বিস্তারিত তথ্যের জন্য: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

জাফর সরেশওয়ালা

নিউজ ডেস্ক

April 30, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশে তার ভাবমূর্তি নিয়ে কট্টর ও নমনীয়—উভয় ধরণের মতবাদই প্রচলিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে ‘মুসলিম বিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, পর্দার আড়ালে তার সাথে মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভারতের প্রভাবশালী মুসলিম নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠতা এক ভিন্ন বার্তা দেয়।

জাফর সরেশওয়ালা: মোদী-মুসলিম সেতুবন্ধনের নায়ক নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত আহমেদাবাদ-ভিত্তিক মুসলিম ব্যবসায়ী জাফর সরেশওয়ালা। তিনি কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং ইসলামের কঠোর অনুসারী ‘তাবলিগী জামাত’-এর একজন সক্রিয় সদস্য। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকেই তিনি মোদীর অন্যতম সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হন।

সরেশওয়ালা আহমেদাবাদ-ভিত্তিক একটি মুসলিম পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আধুনিক বিশ্বের মধ্যে ব্যবধান ঘুচিয়ে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে একটি ‘মুসলিম উপদেষ্টা গ্রুপ’ গঠন করেন, সরেশওয়ালা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি সাচার কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং শিশুদের বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার (RTE) আইনের একজন প্রধান প্রবক্তা।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও জিএসটি সরেশওয়ালা ভারতের গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)-এর অন্যতম সমর্থক ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই কর ব্যবস্থা ব্যবসায়িক খরচ কমিয়ে ভারতীয় ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। জিএসটি কাউন্সিলের মিটিংগুলোতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন ভারতের ব্যবসায়িক মহলে সমাদৃত হয়েছে।

বিদ্বেষ নাকি কূটনীতি? সমালোচকরা প্রায়ই দাবি করেন মোদী মসজিদে যান না। তবে ইতিহাস ভিন্ন কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী কেবল ভারতের ভেতরেই নয়, রাষ্ট্রীয় সফরে বিভিন্ন মুসলিম দেশে গিয়ে মসজিদে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মিসরের আল-হাকিম মসজিদ থেকে শুরু করে ওমানের সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ—সর্বত্রই তার পদচারণা ছিল। এমনকি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলো তাকে তাদের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করেছে।

তথ্য ও বিশ্লেষণের অভাব বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের একটি বড় অংশ নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে কেবলমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধারণা পোষণ করে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘ব্যাবাম (Vyapam) কেলেঙ্কারি’র মতো বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা দুর্নীতির খবর অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। ফলে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে কেবল ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ তকমা দিয়েই অনেক আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে।

উপসংহার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে জাফর সরেশওয়ালার এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ইমেজ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালনার নীতি সব সময় এক নয়। সরেশওয়ালা বর্তমানে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন, যা অনেকের কাছে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোদীর উদ্যোগগুলোর প্রতি তার সমর্থন আগামী দিনগুলোতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আরও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: জাফর সরেশওয়ালা আর্কাইভ, উইকিপিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংবাদ।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ