ফটোগ্রাফি

নাইলন শাড়ি আর ফাউন্টেন পেন: আজও কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী উত্তম-সুচিত্রা জুটি?
উত্তম-সুচিত্রা

নিউজ ডেস্ক

January 30, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিনোদন ডেস্ক: ‘নাইলন শাড়ি, ফাউন্টেন পেন উত্তম কুমারের পকেটে সুচিত্রা সেন’

অজ্ঞাত কবির এই দুই লাইনের অনুকবিতাটি আজও বাঙালির নস্টালজিয়াকে উসকে দেয়। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে, যেখানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আর সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা, সেখানেও ‘রোমান্টিক জুটি’ বললেই কেন অবধারিতভাবে এই দুটি নামই সবার আগে আসে? উত্তরটি সহজ—বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন ছিলেন ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’।

৫০ দশকের বিপ্লব ও রূপোলি পর্দার রসায়ন

বাংলার সিনেমার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের শুরু থেকে থিয়েটার নির্ভর অভিনয়ের যে চল ছিল, তাকে ভেঙে ১৯৫০-এর দশকে সিনেমার রোমান্টিসিজমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন এই জুটি। ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ দিয়ে যে যাত্রার শুরু, তা ১৯৭৮ সালে ‘প্রণয় পাশা’ পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। দীর্ঘ এই তিন দশকে তারা একসাথে ৩৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সপ্তপদীর সেই চিরন্তন দৃশ্য

সিনেমা বিশেষজ্ঞ ও দর্শকদের স্মৃতিতে আজও অমলিন ‘সপ্তপদী’র সেই বিখ্যাত দৃশ্য। সুচিত্রার মুখে বারবার উড়ে আসা চুলগুলো উত্তম কুমারের সরিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা এবং শেষে সুচিত্রার ঠোঁটের ফাঁকে চুলটি পুরে ফেলা—এমন নান্দনিক ও স্বাভাবিক দৃশ্য আজও বিরল। কৃষ্ণেন্দু আর রিনা ব্রাউনের সেই সংলাপ, ঘাসের ডগা দিয়ে উত্তমের ঠোঁটে সুচিত্রার আলতো ছোঁয়া—যৌবন ও প্রেমের এক অকল্পনীয় মুহূর্ত তৈরি করত পর্দা জুড়ে।

সেন্সর আর পর্দার আড়ালের বন্ধুত্ব

তৎকালীন দেশের সেন্সর বোর্ডের কঠোরতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই জুটিকে কখনও বড় পর্দায় চুম্বনরত অবস্থায় দেখা যায়নি। তবে তাদের রসায়ন ছিল এতটাই প্রগাঢ় যে, কোনো শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়াই তারা দর্শকদের মনে উত্তেজনার ঢেউ তুলতেন। শোনা যায়, ব্যক্তিগত জীবনেও তাদের বন্ধুত্ব ছিল কিংবদন্তি সমতুল্য। সুচিত্রা সেন কখনও কখনও কৌতুক করে উত্তমকে ফোন করে বলতেন, “তোকে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে।” তবে সেই সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার। স্বয়ং উত্তম কুমার স্বীকার করেছিলেন, “সুচিত্রা পাশে না থাকলে আমি কখনোই উত্তম কুমার হতে পারতাম না।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: একটি বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট

১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ ছিল, তখন থেকে আজ ২০২৬ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত হাই-ডেফিনিশন সিনেমা পর্যন্ত—বাঙালি দর্শকদের রুচি অনেক বদলেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কিংবা ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতিতে যে স্বকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত ফসল ছিল এই জুটি।

আজকের ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও যখন আমরা নতুন কোনো জুটির মাদকতা খুঁজি, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হতে হয়। উত্তম কুমার প্রয়াত হয়েছেন ৩৮ বছরের বেশি সময় আগে, আর সুচিত্রা সেন ২০১৪ সালে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তাদের অমর সৃষ্টিগুলো আজও ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

উপসংহার

উত্তম-সুচিত্রা জুটি শুধু একটি সিনেমার জুটি নয়, এটি একটি যুগের প্রতীক। তারা জানতেন কীভাবে রোমান্টিক বাতাবরণ তৈরি করতে হয়। আজও বর্ষার দুপুরে বা নির্জন সন্ধ্যায় বাঙালির ঘরে যখন বেজে ওঠে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, তখন মনে হয় সময় যেন থমকে আছে সেই সাদা-কালো যুগেই।


সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা আর্কাইভ, উত্তম কুমারের সাক্ষাৎকার (১৯৭৮), চলচ্চিত্র বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন (যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন)।

বিশ্লেষণ: এই নিবন্ধটি মূলত উত্তম-সুচিত্রা জুটির চিরকালীন জনপ্রিয়তার মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাঝেও কেন এই জুটি এখনো শাশ্বত, তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ইরান-মার্কিন

নিউজ ডেস্ক

September 6, 2026

শেয়ার করুন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-মার্কিন সংঘাত সংঘাতের সপ্তম মাসে পদার্পণ করে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটগুলোর একটি তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক স্থবিরতা কেবল আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ট্রাজেক্টরি বদলে দেয়নি, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নজিরবিহীন অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।

৪. সরকারের বর্তমান উদ্ধার ও সংকট মোকাবিলা পরিকল্পনা (বাংলাদেশ)

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও স্পট মার্কেট এলএনজির আকাশচুম্বী মূল্য এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্টি হওয়া দেশীয় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার একাধিক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:

  • আঞ্চলিক ও শহরভিত্তিক বিকল্প লোডশেডিং নীতি: গ্রাম ও শহরের বিদ্যুৎ বণ্টনের অসামঞ্জস্য দূর করতে রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও উচ্চ-ব্যবহার এলাকায় কৃত্রিম লোডশেডিং আরোপ করা হচ্ছে, যাতে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলের কৃষিসেল ও উৎপাদনশীল খাতে দেওয়া সম্ভব হয়।
  • বিকল্প উৎস থেকে স্পট এলএনজি ও জ্বালানি ক্রয়: কাতার কন্টিনজেন্সি জারি করায় বিকল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী ও খোলা বাজার (Spot Market) থেকে উচ্চ মূল্যে (প্রতি MMBtu ২৪-২৮ ডলার) এলএনজি আমদানির জরুরি তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
  • শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস অগ্রাধিকার ডাইভারশন: দেশের সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সাময়িকভাবে সংকুচিত বা বন্ধ রেখে সেই অপব্যবহৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (RMG) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবগুলোতে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
  • সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত সংযোগ: জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে বাসা-বাড়ি ও শিল্পকারখানায় সৌর প্যানেল (Solar Rooftop) স্থাপনে শুল্ক ছাড় ও বিশেষ উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে, যা আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

২০২৬ জ্বালানি সংকট: বিশ্ববাজার ও বাংলাদেশের চিত্র

সূচক ও খাতসংকট পূর্ববর্তী পরিস্থিতি২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের বর্তমান অবস্থা
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল (আন্তর্জাতিক)~$৭০ / ব্যারেল$৯৬.২৮ – $৯৬.৯০ / ব্যারেল
ডিজেলের দাম (মার্কিন খুচরা)~$৩.৫০ / গ্যালন$৫.৮৫ / গ্যালন (রেকর্ড উচ্চতা)
বাংলাদেশ গ্যাস সরবরাহ~৩,৮০০ mmcfd (চাহিদা)২১০০ – ২৪০০ mmcfd (৩৬% ঘাটতি)
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতিস্বাভাবিক উদ্বৃত্ত/নিয়ন্ত্রিত৩,০০০ – ৩,৫০০ মেগাওয়াট দৈনিক ঘাটতি

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ও অর্থনৈতিক প্রভাব

চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি (Stagflation) আরও সুসংহত হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করার বিকল্প নেই।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বলিউড

নিউজ ডেস্ক

September 5, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)

বিভাগ (Category): বিনোদন / বলিউড

প্রকাশের তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তথ্যসূত্র (Sources): টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া, বলিউড সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট

বলিউডে অভিনেত্রীদের সাফল্য যেমন রঙিন ও জমকালো, তেমনই তাঁদের ক্যারিয়ারে বিতর্কের ছায়াও কম নয়। নব্বইয়ের দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য—বিভিন্ন যুগে একাধিক অভিনেত্রী তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।

মন্দাকিনী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড বিতর্কের কালো ছায়া

নব্বইয়ের দশকে বলিউড এবং মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যকার অন্ধকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হলো ‘মন্দাকিনী-দাউদ ইব্রাহিম বিতর্ক’। ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের কালজয়ী সিনেমা রাম তেরি গঙ্গা মইলি দিয়ে রাতারাতি আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনেত্রী মন্দাকিনীর ক্যারিয়ার এই একটি বিতর্কের কালো ছায়ায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

এই হাই-প্রোফাইল বিতর্কের মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার নির্মম পরিণতি নিচে আলোচনা করা হলো:

১. শারজার সেই একটি ছবি ও তোলপাড় (১৯৯৪-৯৫)

এই চর্চিত বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন। স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসা আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ও ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের ঠিক পাশে বসা মন্দাকিনীর একটি ছবি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।

  • এই একটি ছবি রাতারাতি ভারতের গণমাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
  • চারিদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, দুবাইয়ের রাজকীয় বাংলোয় মন্দাকিনী ও দাউদ একসাথে থাকছেন এবং ডনের ক্ষমতার জোরেই তিনি বলিউডে কাজ পাচ্ছেন। এমনকি তাদের সন্তান হওয়ার গুজবও রটেছিল।

২. আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়ায় ক্যারিয়ারের পতন

ছবিটি ফাঁসের পর বলিউডের সমীকরণ মন্দাকিনীর জন্য পুরোপুরি বদলে যায়।

  • প্রযোজক-পরিচালকদের অনাগ্রহ: আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং পুলিশের ঝামেলার ভয়ে প্রথম সারির বড় প্রযোজক ও পরিচালকেরা মন্দাকিনীকে সিনেমায় কাস্ট করা বন্ধ করে দেন।
  • সহ-অভিনেতাদের আতঙ্ক: গুঞ্জন ছিল যে, মন্দাকিনীকে সিনেমায় প্রধান চরিত্র না দেওয়ায় দাউদ ইব্রাহিম এক চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হুমকি ও হত্যার ছক কষেছিলেন। এমন এক ভীতি তৈরি হয়েছিল যে, সহ-অভিনেতারাও (যেমন মিঠুন চক্রবর্তী) তাঁর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে ভয় পাচ্ছিলেন।
  • ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জোরদার ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা, যার পর তিনি রূপালী পর্দা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান।

৩. ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ ও চূড়ান্ত বিচ্ছেদ

১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের মূল মাস্টারমাইন্ড বা সন্দেহভাজন হিসেবে দাউদ ইব্রাহিমের নাম আসার পর এই বিতর্ক আইনি ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে রূপ নেয়। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (সিবিআই) আন্ডারওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেনের খোঁজে মন্দাকিনীকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক তথ্য বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে সামাজিক ও পেশাগতভাবে তাঁর চারপাশের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

৪. মন্দাকিনীর আত্মপক্ষ সমর্থন ও নতুন জীবন

মন্দাকিনী সবসময়ই দাউদের সাথে কোনো রোমান্টিক বা অবৈধ সম্পর্কের কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করে এসেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:

“শুধুমাত্র সামাজিক অনুষ্ঠানেই দাউদের সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং সম্পর্কের দাবিগুলি ভিত্তিহীন। আমি চাই না মানুষ দাউদের সঙ্গে আমার নাম জড়াক।”

বলিউডের এই কালো অধ্যায় এবং গ্ল্যামারের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালে মন্দাকিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন বেছে নেন। তিনি একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও চিকিৎসক ড. কাগয়ুর রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে তিব্বতি ভেষজ চিকিৎসা কেন্দ্র ও যোগব্যায়াম শিক্ষার মাধ্যমে একটি শান্ত ও সাধারণ জীবন অতিবাহিত করছেন।

আধুনিক বলিউডে শীর্ষ সমালোচিত অভিনেত্রীদের তালিকা

আধুনিক বলিউডে (বিশেষ করে গত এক দশকের প্রেক্ষাপটে) তীব্র সমালোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ট্রোলের মুখোমুখি হওয়া শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকা নিচে তাদের সমালোচিত হওয়ার মূল কারণসহ উল্লেখ করা হলো:

  • কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut):
    • মূল কারণ: তিনি আধুনিক বলিউডের সবচেয়ে বিতর্কিত অভিনেত্রী। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে “মুভি মাফিয়া” আখ্যা দেওয়া, করণ জোহরকে “স্বজনপোষণের পতাকাবাহী” বলা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক মন্তব্য করার কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন।
  • আলিয়া ভাট (Alia Bhatt):
    • মূল কারণ: তারকা সন্তান (মহেশ ভাটের মেয়ে) হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি “নেপো কিড” বা স্বজনপোষণের (Nepotism) সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে সমালোচিত হয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর পর এই সমালোচনা তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়, যার ফলে তাঁর ‘সড়ক ২’ সিনেমার ট্রেলারটি ইউটিউবে অন্যতম সর্বোচ্চ ‘ডিজলাইক’ পাওয়া ভিডিওর রেকর্ড গড়ে।
  • দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone):
    • মূল কারণ: বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু ও পোশাক বিতর্কের কারণে তিনি বারবার বয়কট সংস্কৃতির মুখে পড়েছেন। ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় ঐতিহাসিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা নিয়ে রাজপুত গোষ্ঠীর মৃত্যুর হুমকি এবং ‘পাঠান’ সিনেমার ‘বেশরম রং’ গানে গেরুয়া রঙের পোশাক পরা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভের মুখোমুখি হন তিনি।
  • কারিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor Khan):
    • মূল কারণ: সাইফ আলী খানকে বিয়ে করার পর তাঁর দুই সন্তানের নাম (তৈমুর ও জাহাঙ্গীর) রাখা নিয়ে তীব্র সামাজিক ও ধর্মীয় ট্রোলিংয়ের শিকার হন। এছাড়া রামায়ণের ‘সীতা’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক দাবি করার গুঞ্জন ছড়ালে নেটিজেনরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করে।
  • সানি লিওন (Sunny Leone):
    • মূল কারণ: প্রাক্তন পর্ন তারকা হওয়ার অতীত পটভূমির কারণে বলিউডে মূলধারার অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে রক্ষণশীল সমাজ ও দৃষ্টিভঙ্গিগত তীব্র কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে (যেমন ‘মধুবন’ গান) পারফর্ম করার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার বয়কটের ডাক দেওয়া হয়।
  • অনন্যা পাণ্ডে ও জাহ্নবী কাপুর (Ananya Panday & Janhvi Kapoor):
    • মূল কারণ: এই নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা প্রধানত তাঁদের অভিনয় দক্ষতার ঘাটতি এবং “স্ট্রাগল” সংক্রান্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য করার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রোলিং ও স্বজনপোষণ বিতর্কের মুখোমুখি হন।

সমাপনী মূল্যায়ন

অতীত ও বর্তমানের বিতর্কের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অতীতে মন্দাকিনীর ঘটনা ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড ও ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আজও আলোচনায় আসে। অন্যদিকে বর্তমান যুগে কঙ্গনা, আলিয়া বা দীপিকাদের মুখোমুখি হতে হয় সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং, স্বজনপোষণ বিতর্ক ও সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সালমান শাহ

নিউজ ডেস্ক

August 15, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: অপরাধ ও বিচার / চলচ্চিত্র অঙ্গন

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ০১:১৫ (বিএসটি)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ আদালত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘ ৩০ বছর পর হত্যা মামলায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ভোররাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন-কে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

পরবর্তীতে তাঁকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর বর্তমানে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছে সিআইডি।

১. মামলার চার্ট ও মূল আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ (পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হত্যা) ধারায় দায়ের করা এই হত্যা মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

                        [ সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের ভূমিকা ]
                                            │
         ┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
         ▼                                  ▼                                  ▼
[ মূল পরিকল্পনাকারী (Masterminds) ]      [ পেশাদার আঘাতকারী চক্র ]         [ আলামত লোপাট ও সহায়তা ]
• সামিরা হক (স্ত্রী)                • আশরাফুল হক ডন (৪ নম্বর আসামি)  • লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি/মধ্যস্থ)
• আজিজ মোহাম্মদ ভাই (ব্যবসায়ী)      • ডেভিড, জাভেদ ও ফারুক           • রাবেয়া সুলতানা রুবি (বিউটি পার্লার)
                                    • রেজভি আহমেদ ফরহাদ               • আব্দুস ছাত্তার ও সাজু

প্রধান প্রধান চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ:

  1. ১২ লাখ টাকার কিলিং কন্ট্রাক্ট: রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ও অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সামিরা হক যৌথভাবে ডন ও তার সহযোগীদের ১২ লাখ টাকার চুক্তি দিয়েছিলেন।
  2. আক্রোশ ও হোটেল সোনারগাঁও-এর ঘটনা: সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের পাশাপাশি মৃত্যুর কিছুদিন আগে সোনারগাঁও হোটেলের এক পার্টিতে সামিরাকে আড়ালে নেওয়ার চেষ্টা করলে সালমান প্রকাশ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে চড় মারেন। এর জেরেই তীব্র আক্রোশ তৈরি হয়।
  3. ক্লোরোফর্ম ও বিষাক্ত ইনজেকশন: ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ তারিখে সালমান শাহর বাসায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে খুনিরা প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে তাঁকে অচেতন করে এবং পরবর্তীতে বিশেষ বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
  4. আত্মহত্যার নাটক ও ফ্যানের সাথে ঝুলানো: মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সিলিং ফ্যানে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয় এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও পরিবারকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

২. আসামিদের অপরাধভিত্তিক ভূমিকার তুলনামূলক তালিকা

আসামি / পক্ষএজাহার অনুযায়ী ভূমিকাবর্তমান আইনি অবস্থা
আশরাফুল হক ডনশারীরিক শক্তি প্রয়োগ, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও আলামত নষ্টগ্রেফতার (৯ আগস্ট ২০২৬), জামিন না মঞ্জুর ও সিআইডি হেফাজতে
সামিরা হক ও আজিজ ভাইপ্রধান পরিকল্পনাকারী, চুক্তি প্রদান ও অনৈতিক আক্রোশদেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সিআইডির রেড অ্যালার্ট ও পলাতক
লতিফা হক লুসিজামাতার প্রতি পারিবারিক আক্রোশ থেকে পেশাদার খুনিদের সাথে চুক্তি মধ্যস্থতাপলাতক, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি
রাবেয়া সুলতানা রুবিহত্যা সংঘটনে সহায়তা, ঘরের ভেতর থেকে আলামত দ্রুত সরিয়ে ফেলাঅভিযুক্ত আসামি (সাবেক লাইভ ভিডিওতে খুনের দাবি করেছিলেন)
রেজভি, ডেভিড ও ফারুকজোরপূর্বক চেপে ধরা, বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ ও পাহারা দেওয়া১৬৪ ধারায় পূর্বে স্বীকারোক্তি ও আসামি

৩. সিআইডি (CID)-র বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া ও সময়রেখা

                            [ সিআইডির বর্তমান পদক্ষেপসমূহ ]
                                           │
         ┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
         ▼                                 ▼                                 ▼
[ ডনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ]          [ সীমান্তে রেড অ্যালার্ট ]             [ ৩০ আগস্টের ডেডলাইন ]
• জামিন নামঞ্জুরের পর ডনকে          • সামিরা ও আজিজ ভাইসহ বাকি          • আদালতের নির্দেশে আগামী ৩০ আগস্টের
  মুখোমুখি করে তথ্য যাচাই।           ১০ জনের দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা।     মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট পেশ।

৪. লন্ডন থেকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর ক্ষোভ ও দাবি

অভিনেতা ডন গ্রেফতারের খবরে লন্ডন থেকে গভীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী:

  • “প্রকৃতির নিয়মে ডন ধরা পড়েছে”: নীলা চৌধুরী বলেন, “সালমানকে আত্মহত্যা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডন আমার ছেলের মৃত্যুর পর তার নামে অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করেছিল, আজ স্রষ্টার বিচারে সে ধরা পড়েছে।”
  • সরকারের প্রতি আলটিমেটাম: ১৫ আগস্ট লন্ডনে ভক্তদের মানববন্ধনে যুক্ত হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ডন গ্রেফতার কেবল শুরু; সামিরা হক বা আজিজ মোহাম্মদ ভাই যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। তাঁরা পালালে তার পুরো দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে।
  • ৩০ আগস্ট নিরপেক্ষ চার্জশিটের দাবি: তিনি আকুতি জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে তিনি একমাত্র বিচারের আশায় বেঁচে আছেন। সিআইডি যেন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পেশ করে।

শেষ কথা:

১৯৯৭ সালের সিআইডি রিপোর্ট, ২০১৪ সালের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ২০২০ সালের পিবিআই রিপোর্ট—তিনটি সংস্থাই পূর্বে যেটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলে দাবি করেছিল, আদালত তা বাতিল করে মামলাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা মামলা’ (৩০২ ধারা) হিসেবে চালুর নির্দেশ দেওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ৩০ আগস্ট সিআইডি আদালতে কী রিপোর্ট পেশ করে, সেদিকেই এখন পুরো দেশের নজর।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ