আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: লেখালেখির অপরিহার্য উপকরণ কলমের আবিষ্কার বহু প্রাচীন হলেও, আধুনিক কলম মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত—ফাউন্টেন পেন এবং বলপয়েন্ট কলম। এই দুটি আধুনিক কলমের আবিষ্কারকের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
ফাউন্টেন পেন (Fountain Pen)
আধুনিক ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক হলেন লুইস এডসন ওয়াটারম্যান (Lewis Edson Waterman)।
- আবিষ্কারের সাল: ১৮৮৪ সাল।
- আবিষ্কারক: লুইস এডসন ওয়াটারম্যান, যিনি ওয়াটারম্যান নামে একটি কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করেন। ফাউন্টেন পেনের নকশায় তিনিই প্রথম তরল কালি সংরক্ষণের জন্য একটি রিজার্ভার বা চেম্বার তৈরি করেন, যা লেখার সময় কালির মসৃণ প্রবাহ নিশ্চিত করে।
বলপয়েন্ট কলম (Ballpoint Pen)
বলপয়েন্ট কলমের ধারণাটি প্রথম এলেও, এর সফল বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছিলেন একজন হাঙ্গেরিয়ান সাংবাদিক।
- প্রথম ব্যবহার: ১৮৮৮ সালে জন জে লাউড নামের একজন ব্যক্তি প্রায় একই ধরনের একটি কলম ব্যবহারের জন্য পেটেন্ট করিয়েছিলেন, যেখানে কালি নিয়ন্ত্রণে ছোট বল ব্যবহার করা হয়েছিল।
- আধুনিক বলপয়েন্ট কলমের আবিষ্কারক: হাঙ্গেরিয়ান সাংবাদিক লাসজলো বাইরো (László Bíró)।
- আবিষ্কারের সাল: ১৯৩৮ সাল।
- সহযোগী: লাসজলো বাইরোর ভাই জর্জ বাইরো এই কাজে তাকে সহায়তা করেন। তারা এমন একটি কলম তৈরি করেছিলেন যা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং মসৃণভাবে লেখা যায়।
তাই বলা যায়, ১৮৮৪ সালে ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন এবং ১৯৩৮ সালে লাসজলো বাইরো আধুনিক বলপয়েন্ট কলম আবিষ্কার করেন, যা লেখার জগতে বিপ্লব এনেছিল।
সূত্র (Sources)
- কলমের ইতিহাস ও আবিষ্কার সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ভাষা ও ব্যাকরণ ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়, “ভাই, আপনার বাড়ি কোথায়?” অনেকেই উত্তর দেন, “আমার বাসা কুমিল্লায়।” দৈনন্দিন জীবনে আমরা ‘বাসা’ এবং ‘বাড়ি’ শব্দ দুটিকে বা ইংরেজিতে ‘House’ ও ‘Home’-কে সমার্থক মনে করলেও, ব্যাকরণগত এবং আবেগগত দিক থেকে এদের মধ্যে রয়েছে এক বিশাল ও সূক্ষ্ম পার্থক্য।
আমরা অনেকেই না জেনে নিজের স্থায়ী ঠিকানায় থেকেও বলে ফেলি “আমি বাসায় আছি”। চলুন খুব সহজ কিছু উদাহরণের মাধ্যমে ‘House’ (বাসা) এবং ‘Home’ (বাড়ি)-এর মধ্যকার আসল পার্থক্যটি বুঝে নেওয়া যাক।
House বা বাসা: এটি একটি কাঠামো (অস্থায়ী আবাস)

ইংরেজি শব্দ ‘House’ বা বাংলা ‘বাসা’ বলতে মূলত একটি ভৌত কাঠামো বা ইট-পাথরের তৈরি ইমারতকে বোঝায়।
- অস্থায়ী আবাস: সাধারণত আমরা আমাদের জীবিকা, পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে শহরে বা যেকোনো স্থানে যে ভাড়া বাড়িতে থাকি, ব্যাকরণগত নিয়মে সেটি হলো আমাদের ‘বাসা’। কারণ এই স্থানটি আমাদের জন্য অস্থায়ী।
- পাখিদের ক্ষেত্রে কেন ‘বাসা’ বলা হয়? খেয়াল করে দেখবেন, আমরা কখনোই বলি না “পাখির বাড়ি”, আমরা সবসময় বলি “পাখির বাসা”। এর কারণ হলো পাখিদের আবাসস্থল সম্পূর্ণ অস্থায়ী। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা ঝড়ে তাদের তৈরি করা নীড় ভেঙে যেতে পারে এবং তাদের অনবরত স্থান পরিবর্তন করতে হয়। যেহেতু তাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাই সেটি কেবলই ‘বাসা’।
Home বা বাড়ি: এটি একটি অনুভূতি (স্থায়ী আবাস)

ইংরেজি শব্দ ‘Home’ বা বাংলা ‘বাড়ি’ শুধুমাত্র একটি চার দেয়ালের ঘর নয়; এটি হলো একটি অনুভূতি এবং আমাদের স্থায়ী ঠিকানা।
- স্থায়ী আবাস: আপনার শিকড় বা রুট যেখানে, যেখানে আপনার পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করে (যেমন- আমাদের গ্রামের নিজস্ব ভিটেমাটি), সেটিই হলো আপনার ‘বাড়ি’।
- আবেগ ও ভালোবাসা: ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে— “A house is made of bricks and beams, but a home is made of hopes and dreams.” অর্থাৎ, একটি ‘House’ বা বাসা তৈরি হয় ইট-কাঠ দিয়ে, কিন্তু একটি ‘Home’ বা বাড়ি তৈরি হয় ভালোবাসা, স্বপ্ন আর আবেগ দিয়ে।
একই জিনিস কখন ‘বাসা’ আর কখন ‘বাড়ি’?
মজার ব্যাপার হলো, একই বাসস্থান বা বিল্ডিং দুইজনের কাছে দুই রকম হতে পারে।
একটি সহজ উদাহরণ: মনে করুন, আপনি ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছেন। যেহেতু এটি আপনার অস্থায়ী ঠিকানা এবং বাড়ির মালিক আপনাকে যেকোনো সময় নোটিশ দিয়ে তুলে দিতে পারেন, তাই এই ফ্ল্যাটটি আপনার জন্য একটি ‘House’ বা বাসা।
কিন্তু ওই ফ্ল্যাট বা বিল্ডিংয়ের যিনি মূল মালিক, তাঁর জন্য সেটি কিন্তু ‘Home’ বা বাড়ি। কারণ এটি তাঁর স্থায়ী সম্পত্তি এবং সেখানে তাঁর অধিকার স্থায়ী।
তাই আজ থেকে আপনি যখন নিজের গ্রামের বাড়িতে বা স্থায়ী ঠিকানায় থাকবেন, তখন আর কাউকে বলবেন না “আমি বাসায় আছি”; বরং গর্ব করে বলুন “আমি বাড়িতে আছি!”
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
সহজ কথায়, House (বাসা) হলো একটি দৃশ্যমান কংক্রিটের কাঠামো যা টাকা দিয়ে কেনা বা ভাড়া নেওয়া যায়। আর Home (বাড়ি) হলো একটি আত্মিক বন্ধন ও স্থায়ী আশ্রয়, যা কেবল পরিবার এবং ভালোবাসার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে।
বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সহজ ট্রিকস এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যের নিখুঁত গাইডলাইন সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। এই ধরনের চমৎকার ও তথ্যবহুল আরও আর্টিকেল পড়তে আপনারা চাইলে আমাদের সহযোগী ব্লগ ওয়্যারবিডি-ও চেক করতে পারেন।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
খেলার দুনিয়া ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় (GOAT) লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে চলেছেন। বর্তমানে চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসর খেলতে নেমে একের পর এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিচ্ছেন তিনি। মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মেসির ব্যক্তিজীবন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন ট্যাটু, বিশেষ করে ডানহাতের রহস্যময় ‘চোখ’ ভক্তদের মাঝে সবসময়ই এক বড় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

চলমান বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান গোল পরিসংখ্যান, নতুন ইতিহাস এবং তাঁর আবেগঘন ট্যাটুগুলোর আসল অর্থ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান অবস্থা ও রেকর্ডের খতিয়ান
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনি যে তাণ্ডব শুরু করেছেন, তা ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে:
- প্রথম দুই ম্যাচেই ৫ গোল: আর্জেন্টিনার হয়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে টুর্নামেন্ট মাতিয়ে রেখেছেন মেসি।
- বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি। এর ফলে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) টপকে পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
- ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপের বিশ্বরেকর্ড: বিশ্বের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এবং সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে।
- মাঠের কৌশল: ৩৯ বছর বয়সে এসে মেসি মাঠে অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ না করে বুদ্ধিমত্তার সাথে খেলছেন। ফিফার অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হেঁটেছেন (গড়ে ৪.৩৭ কিমি) এবং সবচেয়ে কম দৌড়েছেন, যা তাঁর এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
জুনের পরিসংখ্যান: মেসির ক্যারিয়ারের মোট ৯১৬ গোল
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসির মোট অফিশিয়াল গোল সংখ্যা এখন ৯১৬টি। গোলগুলোর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- আর্জেন্টিনা জাতীয় দল: ১২২টি গোল (যার মধ্যে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেই ৫টি)।
- বার্সেলোনা (স্পেন): ৬৭২টি গোল (ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ে জেতা ৩৫টি ট্রফিসহ)।
- প্যারিস সেন্ট জার্মেই – PSG (ফ্রান্স): ৩২টি গোল।
- ইন্টার মায়ামি (যুক্তরাষ্ট্র): ৯০টি গোল।
মেসির ডানহাতে আঁকা চোখের ট্যাটু: কী এই রহস্যময় ছবির অর্থ?

মেসির ডানহাতের বাইসেপে (কনুইয়ের ঠিক ওপরে) আঁকা বড় চোখের ট্যাটুটি প্রায়শই ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় বা কোনো গোপন প্রতীক মনে করলেও এর পেছনের কারণটি অত্যন্ত রোমান্টিক।
আন্তোনেলার চোখ (Antonela’s Eye)

এই ট্যাটুটি মূলত মেসির শৈশবের প্রেমিকা এবং বর্তমান স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো (Antonela Roccuzzo)-র চোখের হুবহু আদলে তৈরি করা হয়েছে। মেসি যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর স্ত্রীর ভালোবাসার দৃষ্টি যেন সবসময় তাঁর সাথে ছায়ার মতো থাকে—এই গভীর অনুভূতি থেকেই তিনি আন্তোনেলার চোখের নিখুঁত ট্যাটুটি নিজের ডানহাতে ধারণ করেছেন।
পরিবারপ্রেমী মেসি: শরীরের অন্যান্য আবেগঘন ট্যাটু

পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দিতে মেসি শরীরের আরও কয়েকটি অংশে বিশেষ ট্যাটু করিয়েছেন:
- মায়ের ছবি (পিঠে): তাঁর জীবনে মা ‘সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি’-র অবদানকে স্মরণে রাখতে নিজের পিঠের বাম পাশে মায়ের মুখাবয়বের একটি চমৎকার ট্যাটু করিয়েছেন।

- ছেলে থিয়াগোর হাত (পায়ে): প্রথম সন্তান থিয়াগোর জন্মের পর নিজের বাম পায়ের কাফ মাসলে (পায়ের ডিম) থিয়াগোর দুটি ছোট্ট হাতের ছাপ এবং ছেলের নাম ‘Thiago’ খোদাই করিয়েছেন।
- যীশু খ্রিস্টের প্রতিকৃতি (ডান কাঁধে): তাঁর ডান কাঁধের ওপর যীশু খ্রিস্টের একটি ট্যাটু রয়েছে, যা তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
৮টি ব্যালন ডি’অর, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড—লিওনেল মেসি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যা ছোঁয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্য অসম্ভব। মাঠের ভেতরে তিনি যেমন ইতিহাসের সেরা, মাঠের বাইরেও নিজের পরিবার ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিরিখে তিনি অনন্য।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট, মেসির গোল সংখ্যা, পয়েন্ট টেবিল এবং খেলার দুনিয়ার যেকোনো ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
খেলার দুনিয়া ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। ৪৮টি দলের এই ঐতিহাসিক ও সর্ববৃহৎ টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে। এই মেগা আসরকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিগতভাবে নিখুঁত করতে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস (Adidas) বাজারে এনেছে অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা‘ (Trionda)।

একই সাথে ফুটবলারদের পরম আরাধ্য ও স্বপ্নের ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’ তৈরিতে কী বিজ্ঞান ও উপাদান লুকিয়ে রয়েছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda)-এর নিখুঁত ব্যবচ্ছেদ

ক) নামকরণ ও রঙের তাৎপর্য
স্প্যানিশ শব্দ ‘ট্রাই’ (অর্থ তিন) এবং ‘ওন্ডা’ (অর্থ ঢেউ) থেকে যৌথভাবে ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি নেওয়া হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের তিন স্বাগতিক দেশকে নির্দেশ করে।
- ডিজাইন ও প্রতীক: বলটির মূল ভিত্তি সাদা হলেও এতে লাল, নীল ও সবুজ রঙের নিখুঁত ছোঁয়া রয়েছে, যা তিন দেশের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করে।
- সংস্কৃতির মেলবন্ধন: বলের গায়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত তারকা (Star)।
খ) বল তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও পরিবেশবান্ধব উপাদান
ট্রাইওন্ডা বলটি তৈরিতে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে:
- বাহ্যিক আবরণ (Shell): বলটির ওপরের অংশটি ১০০% পলিউরেথেন (PU) দিয়ে তৈরি। এর বিশেষ টেক্সচার্ড বা এমবসিং করা উপরিভাগ যেকোনো ভেজা বা আর্দ্র আবহাওয়াতেও ফুটবলার এবং গোলরক্ষকদের সর্বোচ্চ গ্রিপ বা বল কন্ট্রোল দেয়।
- ভেতরের স্তর (Bladder): বলের ভেতরের বাতাস ধরে রাখতে উচ্চমানের সিন্থেটিক রাবার (Butyl Rubber) ব্যবহার করা হয়েছে, যা বলের নিখুঁত গোলক আকৃতি ধরে রাখে।
- থার্মাল বন্ডিং: বলটি কোনো সুতো দিয়ে সেলাই করা নয়, বরং আধুনিক ৪-প্যানেল গঠনটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও পানি-ভিত্তিক (Water-based) আঠা দিয়ে উচ্চ তাপে জোড়া দেওয়া হয়েছে। এমনকি এর রঙে কোনো রাসায়নিক দ্রাবক ব্যবহার করা হয়নি।
গ) কানেক্টেড বল টেকনোলজি (স্মার্ট চিপ)
এটি কেবল একটি সাধারণ বল নয়, এটি একটি আস্ত ‘স্মার্ট ডিভাইস’। বলের ঠিক মাঝখানে একটি ঝুলন্ত সাসপেনশন সিস্টেমে ৫০০ হার্টজ (500Hz) মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের মুভমেন্ট ও টাচ-ডেটা সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) সিস্টেমে পাঠায়, যার ফলে অফসাইড এবং গোললাইনের নিখুঁত সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ঘ) বলের মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান
- অফিশিয়াল ম্যাচ বল: খেলোয়াড়রা মাঠে যে বলটি দিয়ে খেলছেন, তার খুচরা মূল্য প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা)।
- রেপ্লিকা সংস্করণ: সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের খেলার জন্য ৩০ থেকে ৫০ ডলারের (প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা) মধ্যে টেকডাউন সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে অ্যাডিডাসের অফিশিয়াল শোরুম এবং তাদের অনলাইন ওয়েবসাইটে।
২. ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির অন্দরমহল: এটি কি আসলেই নিরেট সোনার?

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই ট্রফিটি মূলত ১৮ ক্যারেট সোনা এবং আধা-মূল্যবান সবুজ রঙের রত্নপাথর ম্যালাকাইট (Malachite) দিয়ে তৈরি। ১৯৭১ সালে ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজানিগা এই ট্রফিটির অমর নকশা করেছিলেন, যেখানে দুজন মানুষ হাত উঁচিয়ে পুরো পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন।
ট্রফিটির গঠন ও ওজনের বিজ্ঞান:
- ১৮ ক্যারেট সোনা: ট্রফিটির মোট ওজনের একটি বড় অংশই হলো খাঁটি সোনা। এতে প্রায় ৪.৯৩ থেকে ৫ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে।
- ভেতরটা ফাঁপা (Hollow): অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে ট্রফিটি সম্পূর্ণ নিরেট সোনার কি না। আসল সত্য হলো—ট্রফিটি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাঁপা। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, এটি যদি সম্পূর্ণ সলিড বা নিরেট সোনা দিয়ে তৈরি হতো, তবে এর ওজন হতো প্রায় ৭০-৭৫ কেজি! যা একজন ফুটবলারের পক্ষে ম্যাচ জেতার পর হাত উঁচিয়ে ট্রফি উদ্যাপন করা অসম্ভব করে তুলত।
- ম্যালাকাইট রিং: ট্রফির নিচের বৃত্তাকার ভিত্তির (Base) সৌন্দর্য ও সুরক্ষা বাড়াতে সবুজ রঙের ম্যালাকাইট পাথরের দুটি আকর্ষণীয় স্তর বা রিং বসানো হয়েছে।
ট্রফির পরিমাপ (At a Glance):
- মোট ওজন: ৬.১৭৫ কেজি (১৩.৬১ পাউন্ড)।
- উচ্চতা: ৩৬.৮ সেন্টিমিটার (১৪.৫ ইঞ্চি)।
- ভিত্তির ব্যাস: ১৩ সেন্টিমিটার। এই নিচের অংশেই ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সব বিশ্বজয়ী দেশের নাম খোদাই করে লেখা থাকে।
- তৈরির স্থান: ইতালির মিলান শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘জিডিই বার্টোনি’ (GDE Bertoni) নামক একটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কারখানায় এই মহামূল্যবান ট্রফিটি অত্যন্ত নিখুঁত ঢালাই ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি আধুনিক বিজ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তি এবং শৈল্পিক সংস্কৃতির এক মহোৎসব। ট্রাইওন্ডা বলের ৫০০ হার্টজ চিপ এবং ইতালিয়ান নিখুঁত কারুকার্যের সোনার ট্রফি—এই সবকিছু মিলেই ফুটবলকে করে তুলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলা।
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর লাইভ আপডেট, খেলার সময়সূচী, প্রযুক্তির ইতিহাস এবং ক্রীড়া জগতের নিখুঁত বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।



