উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ

সার্চ ইঞ্জিনের জনক অ্যালান এমটাজ: আর্কি থেকে গুগলের পথে ডিজিটাল তথ্যের বিপ্লব (১৯৯০-২০২৫)
অ্যালান এমটাজ

নিউজ ডেস্ক

December 5, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ভূমিকা: ইন্টারনেট তথ্যের ভিত্তিপ্রস্তর

আধুনিক যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ কোটি তথ্য অনুসন্ধান করে। এই বিশাল ডিজিটাল সমুদ্রে তথ্য খুঁজে পাওয়ার মূল হাতিয়ার হলো সার্চ ইঞ্জিন। কিন্তু এই জটিল প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র এক ব্যক্তি এবং একটি সাধারণ ইনডেক্সিং টুলের হাত ধরে। কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান এমটাজকে কেন সার্চ ইঞ্জিনের জনক বলা হয় এবং তাঁর আবিষ্কার কীভাবে আজকের গুগল বা বিং-এর মতো প্ল্যাটফর্মের ভিত্তি তৈরি করল, এই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হলো।

বিশ্লেষণ-১: অ্যালান এমটাজ ও আর্কি (Archie)—ইনডেক্সিং-এর সূচনা (১৯৯০)

সার্চ ইঞ্জিনের জনক হিসেবে অ্যালান এমটাজের নাম স্মরণীয় হয়ে আছে তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘আর্কি’-এর জন্য।

  • আর্কি’র উদ্ভাবন: অ্যালান এমটাজ ১৯৯০ সালে যখন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন, তখন তিনি আর্কি (Archie) নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। ‘আর্কি’ শব্দটি এসেছে ‘Archive’ (আর্কাইভ) থেকে, যেখানে ‘V’ অক্ষরটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • প্রথম ইনডেক্সিং টুল: আর্কি ঠিক আজকের ওয়েবপেজ সার্চ ইঞ্জিনের মতো ছিল না, কিন্তু এটিই ছিল ইন্টারনেটের তথ্যের জন্য প্রথম ইনডেক্সিং টুল। আর্কি ইন্টারনেটের এফটিপি (FTP) সার্ভারগুলোতে সংরক্ষিত হাজার হাজার ফাইলের নাম সংগ্রহ করে একটি ইনডেক্স তৈরি করত। এর ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই নির্দিষ্ট ফাইল খুঁজে পেত।
  • তাৎপর্য: এই ইনডেক্স তৈরি করা এবং অনুসন্ধানের ধারণাই আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনের মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করে। এ কারণেই অ্যালান এমটাজকে সার্চ ইঞ্জিন প্রযুক্তির প্রাথমিক ধারণার পথপ্রদর্শক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষণ-২: ডিরেক্টরি যুগ ও ওয়েব-এর আগমন

আর্কির পর ইন্টারনেট দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের ইনডেক্সিং-এর ধরনও পাল্টে যায়:

  • ইয়াহু! (Yahoo!, ১৯৯৪): জেরি ইয়াং এবং ডেভিড ফিলো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইয়াহু! ছিল প্রথম দিকের অন্যতম জনপ্রিয় ডিরেক্টরি-ভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন। এটি মূলত ওয়েবসাইটগুলোর একটি ক্যাটালগ তৈরি করত, যা ব্যবহারকারীদের বিষয়ভিত্তিক তথ্য খুঁজতে সাহায্য করত।

বিশ্লেষণ-৩: গুগল ও আধুনিক বিপ্লব (১৯৯৮-২০২৫)

সার্চ ইঞ্জিনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপ্লব ঘটে ১৯৯৮ সালে, যখন ল্যারি পেজ এবং সার্গেই ব্রিন গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।

  • পেজর‌্যাঙ্ক অ্যালগরিদম: গুগলের মূল সাফল্য ছিল এর পেজর‌্যাঙ্ক (PageRank) অ্যালগরিদমে। এই অ্যালগরিদম কেবল শব্দ মিলিয়ে তথ্য দিত না, বরং পেজগুলোর গুরুত্ব এবং প্রাসঙ্গিকতা পরিমাপ করত। কোনো পেজের সঙ্গে যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ পেজ লিঙ্ক করা থাকতো, তার র্যা ঙ্কিং তত উপরে আসত।
  • তথ্য পরিবেশনার নতুন মানদণ্ড: গুগলের এই পদ্ধতি সার্চের গুণগত মান এবং গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে চিরতরে বদলে দেয়।

উপসংহার: অ্যালান এমটাজের উত্তরাধিকার

অ্যালান এমটাজ তার আর্কি তৈরির মাধ্যমে ১৯৯০ সালে যে ইনডেক্সিং ধারণার বীজ বপন করেছিলেন, সেই বীজই ২০২৫ সালে এসে আজকের গুগলের মতো বৈশ্বিক তথ্য সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আর্কি ছিল প্রযুক্তির সেই প্রথম ধাপ, যা ডিজিটাল তথ্যকে সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছিল। আজ আমরা যে ডিজিটাল তথ্য মহাসড়কে বিচরণ করি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে অ্যালান এমটাজ সর্বদাই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


সূত্র

১. গুগল সার্চ বিশ্লেষণ (Google Search Analysis) ও ইন্টারনেট ইতিহাস সম্পর্কিত আর্কাইভ। ২. ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি এবং আইইইই (IEEE) জার্নালস (আর্কি সফটওয়্যার সংক্রান্ত তথ্য)। ৩. বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদন ও সংবাদপত্র।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

অ্যান্ড্রয়েড ও স্যামসাং

নিউজ ডেস্ক

July 25, 2026

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে সব মানুষের হাতেই একটি করে স্মার্টফোন থাকে। তবে অনেকেই ফোনের বেশিরভাগ অ্যাডভান্সড ফিচার সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। বিশেষ করে নতুন সিকিউরিটি, সিক্রেট ফোল্ডার ও এআই (AI) প্রযুক্তির কারণে অ্যান্ড্রয়েড এবং স্যামসাং ফোনগুলো এখন কেবল কল বা ব্রাউজিংয়ের মাধ্যম নয়—বরং এটি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল টুল।

আপনার দৈনন্দিন ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ ও সুরক্ষিত করতে নিচে ১৫টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ গোপন বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো—

ডিজিটাল সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি সম্পর্কিত গুরুত্বপূণ ৫টি ফিচার

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                    সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি হাইলাইটস                       │
├──────────────────────────┬──────────────────────────────────────────────┤
│ ফিচার                    │ মূল গুরুত্ব/কাজ                              │
├──────────────────────────┼──────────────────────────────────────────────┤
│ এআই থিফট ডিটেকশন লক     │ ফোন চুরি বা ছিনতাই হলে নিজে থেকেই লক হয়ে যাওয়া │
│ প্রাইভেট স্পেস / সিকিউর ফোল্ডার│ আলাদা পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপস ও ফাইল সম্পূর্ণ লুকানো│
│ অ্যাপ পিনিং              │ নির্দিষ্ট একটি অ্যাপে স্ক্রিন লক করে রাখা     │
│ প্রাইভেট স্ক্রিন রেকর্ড   │ রেকর্ড করার সময় ওটিপি/পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অদৃশ্য রাখা│
│ ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর │ দূর থেকেই হারানো ফোনের লোকেশন দেখা ও ডেটা মুছে ফেলা│
└──────────────────────────┴──────────────────────────────────────────────┘

১. এআই থিফট ডিটেকশন লক (Theft Detection Lock)

ফোন হঠাৎ কেউ হাত থেকে নিয়ে দৌড়ে বা বাইকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফোনের সেন্সর ও এআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মুহূর্তের মধ্যে গতি পরিবর্তন চিহ্নিত করে নিজে থেকেই ফোনটিকে তাৎক্ষণিক লক করে দেয়।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security & Privacy > Theft Protection অপশনে গিয়ে Theft Detection Lock সার্ভিসটি চালু রাখুন।

২. প্রাইভেট স্পেস / সিকিউর ফোল্ডার (Private Space / Secure Folder)

এটি কোনো সাধারণ অ্যাপ হাইডার নয়, বরং মূল ফোনের ভেতরে সম্পূর্ণ আলাদা একটি এনক্রিপ্টেড সুরক্ষিত ড্রাইভ। মূল ফোনের পাসওয়ার্ডের চেয়ে ভিন্ন পাসওয়ার্ড দিয়ে এখানে গোপন ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়া চালানো যায়।

  • চালু করার নিয়ম: অ্যান্ড্রয়েডে Settings > Security & Privacy > Private Space অথবা স্যামসাং ফোনে Settings > Security & Privacy > Secure Folder সার্ভিস থেকে এটি সেটআপ করুন।

৩. প্রাইভেট স্ক্রিন রেকর্ডিং (Partial Screen Recording)

পুরো স্ক্রিন রেকর্ড না করে আপনি কেবল একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের কাজ রেকর্ড করতে পারবেন। এছাড়া স্ক্রিন রেকর্ডিং চলাকালীন কোনো ওটিপি (OTP), পাসওয়ার্ড বা নোটিফিকেশন আসলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লার বা অদৃশ্য থাকবে।

  • চালু করার নিয়ম: স্ক্রিন রেকর্ডার অন করার সময় Record Single App অপশন বেছে নিন।

৪. অ্যাপ পিনিং (App Pinning)

বাচ্চা বা অন্য কাউকে শুধু একটি অ্যাপ (যেমন: ইউটিউব) ব্যবহার করতে দিতে চাইলে অ্যাপটি স্ক্রিনে ‘পিন’ করে দিন। ব্যাক বাটনে চাপ দিয়ে তিনি গ্যালারি বা অন্য অ্যাপে ঢুকতে পারবেন না।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security > Advanced > App Pinning চালু করে Recent Apps মেনু থেকে অ্যাপের আইকনে চেপে Pin সিলেক্ট করুন।

৫. ফাইন্ড মাই ডিভাইস / ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (Find My Device)

ফোন ভুল করে কোথাও ফেলে আসলে বা হারিয়ে গেলে জিপিএস ব্যবহার করে দূর থেকেই অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এমনকি সাইলেন্ট থাকা ফোন বাজানো কিংবা সব তথ্য মুছে ফেলা সম্ভব।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security > Device Administrators থেকে Find My Device চালু রাখুন এবং কোনো দুর্ঘটনায় [android.com/find](https://android.com/find) ওয়েবসাইটে লগইন করুন।

দ্রুত কাজ ও প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে ৫টি দারুণ ট্রিকস

৬. নোটিফিকেশন হিস্ট্রি (Notification History)

জরুরি কোনো নোটিফিকেশন বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দুর্ঘটনাবশত সোয়াইপ করে মুছে ফেললে তা ফের পাওয়া সম্ভব।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Notifications > Notification History অপশন চালু রাখলে গত ২৪ ঘণ্টার সব নোটিফিকেশন সময় অনুযায়ী জমা থাকে।

৭. লাইভ ক্যাপশন (Live Caption)

ভিডিও বা অডিও প্লে করার সাথে সাথেই স্ক্রিনে সাবটাইটেল ভেসে ওঠে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এর জন্য কোনো ইন্টারনেট সংযোগ বা ডেটার প্রয়োজন হয় না।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Accessibility > Live Caption অন করে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

৮. স্প্লিট স্ক্রিন ও অ্যাপ পেয়ার (Split Screen & App Pair)

স্ক্রিনের ওপর-নিচে দুটি অ্যাপ এক সাথে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া যে দুটি অ্যাপ বেশি ব্যবহৃত হয় (যেমন: ইউটিউব ও নোটস) সেগুলোর জোড়া বানিয়ে ‘App Pair’ হিসেবে হোমস্ক্রিনে শর্টকাট বানিয়ে রাখা যায়।

  • চালু করার নিয়ম: Recent Apps মেনু থেকে যেকোনো অ্যাপের আইকনে ট্যাপ করে Split Screen ও পরবর্তীতে Save App Pair সিলেক্ট করুন।

৯. ডেভেলপার অপশনে অ্যানিমেশন স্পিড বাড়ানো (Speed Up Android)

স্লো ফোন দ্রুত ফাস্ট করার জন্য এটি একটি ক্লাসিক ট্রিক।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > About Phone-এ গিয়ে Build Number-এ ৭ বার ট্যাপ করে Developer Options সচল করুন। ভেতরে ঢুকে Window animation scale, Transition animation scale এবং Animator duration scale-এর মান 1x থেকে কমিয়ে 0.5x অথবা Animation Off করে দিন।

১০. স্মার্ট লক (Smart Lock / Extend Unlock)

বাড়িতে বা নিরাপদ স্থানে থাকা অবস্থায় বারবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা প্যাটার্ন লক খোলার ঝামেলা নেই।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > Security > Smart Lock-এ গিয়ে Trusted Places-এ নিজের বাড়ির লোকেশন যুক্ত করে রাখুন।

স্যামসাং গ্যালাক্সি ফ্ল্যাগশিপের ৫টি সুপার-পাওয়ারফুল ট্রিকস

স্যামসাং গ্যালাক্সি (বিশেষ করে S সিরিজ ও Ultra) ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ৫টি স্পেশাল অ্যাডভান্সড ফিচার:

  1. সেপারেট অ্যাপ সাউন্ড (Separate App Sound): ব্লুটুথ স্পিকারে মিউজিক অ্যাপের গান বাজবে, কিন্তু ফেসবুকের রিলস বা গেমের সাউন্ড বাজবে ফোনের নিজস্ব স্পিকারে (Settings > Sounds and vibration > Separate app sound)।
  2. অবজেক্ট ও রিফ্লেকশন ইরেজার (AI Eraser): ছবির অপ্রয়োজনীয় মানুষ, বস্তু বা কাঁচের ওপাশ থেকে নেওয়া ছবির ওপর পড়া আলোর প্রতিচ্ছবি (Reflection) গ্যালারির এডডিট অপশনের Object Eraser দিয়ে নিমেষেই মুছে ফেলা যায়।
  3. এস পেন এয়ার অ্যাকশন (S Pen Air Actions): আল্ট্রা সিরিজের S Pen বাতাসে হাত ঘুরিয়ে বা বাটনে চাপ দিয়ে রিমোটের মতো ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা, জুম করা বা মিউজিক নেক্সট করা যায়।
  4. স্যামসাং ডেক্স মোড (Samsung DeX): ফোনটিকে টাইপ-সি ক্যাবল দিয়ে যেকোনো টিভি বা মনিটরে যুক্ত করলেই ফোনটি ফুল ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিণত হয়।
  5. স্মার্ট রুটিনস (Modes and Routines): ফোনকে স্বয়ংক্রিয় করার টুল—যেমন রাত ১১টা বাজলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইলেন্ট হওয়া, ডার্ক মোড অন হওয়া ও চার্জিং স্পিড ধীর করে ব্যাটারি প্রোটেকশন চালু করা।

সংক্ষিপ্ত পরামর্শ: ফোনের ব্র্যান্ড এবং অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন অনুযায়ী সেটিংসের নাম সামান্য ভিন্ন হতে পারে। কাঙ্ক্ষিত নামটি ফোনের সেটিংস সার্চ বারে লিখলেই সহজে অপশনটি খুঁজে পাবেন।

তেল

নিউজ ডেস্ক

July 21, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ টেকনিক্যাল ফিচার রিপোর্ট | পালস বাংলাদেশ (টেক অ্যান্ড সায়েন্স ডেস্ক)

লেখক ও রাসায়নিক কন্টেন্ট গবেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

প্রকাশের তারিখ: ২১ জুলাই, ২০২৬

আধুনিক সভ্যতার চাকা সচল রাখার প্রধান চালিকাশক্তি হলো খনিজ তেল। কিন্তু প্রকৃতি থেকে উত্তোলিত ঘন, কালো অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল (Crude Oil) সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় এই অপরিশোধিত তেলকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং শিল্প কাঁচামালে রূপান্তর করা হয়।

নিচে ১ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ক্রুড অয়েল থেকে প্রাপ্ত উপজাতের হিসাব, তেল শোধনের ৩টি মূল প্রযুক্তিগত ধাপ, এর পেছনের রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং হাই-পারফর্মেন্স অকটেন ৯৫ (Octane 95) উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান বিশ্লেষণ করা হলো।

১. ১ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ক্রুড অয়েল থেকে কী কী পাওয়া যায়?

একটি পেট্রোলিয়াম রিফাইনারিতে ১ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ করলে নির্দিষ্ট শতকরা (Percentage) হারে নিচের জ্বালানি ও উপজাত পণ্যগুলো পাওয়া যায়:

পণ্যের নাম ও শ্রেণী বিভাগপ্রাপ্তির হার (%)প্রধান ব্যবহার / প্রয়োগ
পেট্রোল (Gasoline)৪৩%হালকা যানবাহন ও মোটর বাইকের প্রধান জ্বালানি
ডিজেল (Diesel)২৭%ভারী পরিবহন, বাস, ট্রাক ও কৃষিকাজের জ্বালানি
জেট ফুয়েল (Jet Fuel / Kerosene)৯%বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের জ্বালানি
ভারী শিল্প জ্বালানি (Furnace Oil)৫%বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বড় কারখানার বয়লারের জ্বালানি
পেট্রোলিয়াম কোক ও মোম (Coke & Wax)৫%অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ও রাসায়নিক মোম তৈরিতে
এলপিজি গ্যাস (LPG)৪%বাসাবাড়ির রান্নার গ্যাস ও অটোফ্যুয়েল
বিটুমিন ও অ্যাসফল্ট (Bitumen)৪%মহাসড়ক কার্পেটিং ও কনস্ট্রাকশন কাজে
প্লাস্টিক ও রাসায়নিক কাঁচামাল২%পেট কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরিতে
লুব্রিকেন্ট ও গ্রিজ (Lubricants)১%ইঞ্জিনের ঘর্ষণ দূরীকরণে লুব্রিকেটিং অয়েল
১ ব্যারেল ক্রুড অয়েল (১৫৯ লিটার)]
 ├── ৪৩% পেট্রোল (Gasoline)
 ├── ২৭% ডিজেল (Diesel)
 ├── ৯%  জেট ফুয়েল (Jet Fuel)
 ├── ৫%  ভারী শিল্প জ্বালানি (Furnace Oil)
 ├── ৫%  পেট্রোলিয়াম কোক ও মোম
 ├── ৪%  এলপিজি (LPG Gas)
 ├── ৪%  বিটুমিন ও অ্যাসফল্ট
 ├── ২%  প্লাস্টিক ও রাসায়নিক কাঁচামাল
 └── ১%  লুব্রিকেন্ট ও গ্রিজ

২. তেল শোধনের ৩টি মূল কারিগরি ধাপ

বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ (ERL) মূল ৩টি ধাপে ক্রুড অয়েল শোধন করা হয়:

ধাপ-১: পৃথকীকরণ (Fractional Distillation)

ফুটন্ত তাপমাত্রার (Boiling Point) ভিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে অপরিশোধিত তেলকে আলাদা করা হয়।

  • উত্তপ্তকরণ: ক্রুড অয়েলকে চুল্লিতে (Furnace) প্রায় $৩৫০^\circ\text{C}$ থেকে $৪০০^\circ\text{C}$ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে বাষ্প করা হয়।
  • ডিসটিলেশন টাওয়ার: বাষ্প বহুতল বিশিষ্ট ‘আংশিক পাতন স্তম্ভে’ প্রবেশ করে। বাষ্প যত ওপরে ওঠে, তত ঠান্ডা হতে থাকে।
  • ঘনভবন: টাওয়ারের শীর্ষে হালকা উপাদান (পেট্রোল ও গ্যাস), মাঝখানে মাঝারি উপাদান (জেট ফুয়েল ও ডিজেল) এবং নিচে ভারী অংশ (বিটুমিন ও পিচ) আলাদা ট্রে-তে জমা হয়।

ধাপ-২: রূপান্তরকরণ (Conversion / Cracking)

ভারী হাইড্রোকার্বনের চাহিদা বাজারে কম থাকায় সেগুলোকে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে হালকা ও মূল্যবান পেট্রোল বা ডিজেলে রূপান্তর করা হয়।

  • ক্র্যাকিং (Cracking): উচ্চ চাপ ও অনুঘটক ব্যবহার করে বড় অণুকে ভেঙে ছোট অণুতে পরিণত করা হয়।
  • রিফর্মিং (Reforming): তেলের গাঠনিক রূপ বদলে অকটেন রেটিং বৃদ্ধি করা হয়।

ধাপ-৩: রাসায়নিক শোধন ও মিশ্রণ (Treatment & Blending)

  • ডি সালফারাইজেশন: পরিবেশ ক্ষতিকারক সালফার দূর করা হয়, যা এসিড বৃষ্টি রোধ করে।
  • ব্লেন্ডিং: বিভিন্ন এডিটিভস (Additives) মিশিয়ে নির্দিষ্ট অকটেন বা সিটেন মানের জ্বালানি তৈরি করা হয়।

৩. শোধনাগারের প্রধান রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহ

আপনার দেওয়া শোধনাগারের ৪টি প্রধান রাসায়নিক বিক্রিয়ার তথ্যগুলোকে আরও স্পষ্ট, আকর্ষণীয় এবং সহজে পঠনযোগ্য করে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

শোধনাগারের প্রধান ৪টি রাসায়নিক বিক্রিয়া

অপরিশোধিত তেলের আংশিক পাতন (Fractional Distillation) থেকে পাওয়া অংশগুলোকে সরাসরি বাণিজ্যিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, আণবিক গঠন পরিবর্তন এবং ক্ষতিকর উপাদান দূর করার জন্য শোধনাগারের ২য় ও ৩য় ধাপে মূলত নিচের ৪টি প্রধান রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়:

৩.১ ক্যাটালিটিক ক্র্যাকিং (Catalytic Cracking)

উচ্চ তাপমাত্রা ও অনুঘটকের (Catalyst) উপস্থিতিতে কম চাহিদাসম্পন্ন ভারী হাইড্রোকার্বনের বড় অণুগুলোকে ভেঙে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন হালকা অণুতে (যেমন: পেট্রোল বা গ্যাসোলিন) রূপান্তর করা হয়।

  • প্রক্রিয়া: বড় হাইড্রোকার্বন শিকল ভেঙে ছোট ও কার্যকর অনু গঠন।
  • বিক্রিয়া: ১৬টি কার্বনযুক্ত অ্যালকেন (Hexadecane) ভেঙে ৮ কার্বনযুক্ত অ্যালকেন (অকটেন) ও অ্যালকিনে রূপান্তরিত হয়:

$$\text{C}_{16}\text{H}_{34} \xrightarrow{\text{Heat / Catalyst}} \text{C}_{8}\text{H}_{18} \text{ (Octane/Petrol)} + \text{C}_{8}\text{H}_{16} \text{ (Octene)}$$

৩.২ ক্যাটালিটিক রিফর্মিং (Catalytic Reforming)

জ্বালানির গুণগত মান ও অকটেন রেটিং (Octane Rating) বৃদ্ধির জন্য এই বিক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যারোমেটাইজেশন (Aromatization) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সোজা শিকলবিশিষ্ট হাইড্রোকার্বনকে বলয় বা রিং আকৃতির অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনে রূপান্তর করা হয়।

  • প্রক্রিয়া: অ্যালকেনকে উচ্চ অকটেনযুক্ত অ্যারোমেটিক যৌগে পরিবর্তন।
  • বিক্রিয়া: নরমাল হেপ্টেন থেকে প্ল্যাটিনাম অনুঘটকের উপস্থিতিতে হাইড্রোজেন অপসারিত হয়ে উচ্চ অকটেনযুক্ত টলুইন উৎপন্ন হয়:

$$\text{C}_{7}\text{H}_{16} \xrightarrow[\text{Pressure}]{\text{Platinum Catalyst}} \text{C}_{7}\text{H}_{8} \text{ (Toluene)} + 4\text{H}_{2} \uparrow$$

৩.৩ হাইড্রোডিসালফ্যারাইজেশন (Hydrodesulfurization)

পরিবেশ দূষণ রোধ (যেমন এসিড বৃষ্টি আটকানো) এবং ইঞ্জিনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তেল থেকে ক্ষতিকর সালফার যৌগ অপসারণের জন্য এই বিক্রিয়াটি ঘটানো হয়। এটি মূলত একটি রাসায়নিক শোধন প্রক্রিয়া।

  • প্রক্রিয়া: হাইড্রোজেন যুক্ত করে সালফারকে গ্যাসে পরিণত করে আলাদা করা।
  • বিক্রিয়া: ইথানথিওলের সাথে হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় সালফার অংশটি হাইড্রোজেন সালফাইড ($\text{H}_{2}\text{S}$) গ্যাস হিসেবে আলাদা হয়ে যায়:

$$\text{C}_{2}\text{H}_{5}\text{SH} + \text{H}_{2} \xrightarrow{\text{Catalyst}} \text{C}_{2}\text{H}_{6} \text{ (Ethane)} + \text{H}_{2}\text{S} \uparrow$$

৩.৪ আইসোমারাইজেশন (Isomerization)

ইঞ্জিনের ক্ষতিকর “নকিং” (Knocking) কমাতে এবং দহন ক্ষমতা বাড়াতে শাখাহীন সোজা শিকল অ্যালকেনকে শাখাযুক্ত আইসোমারে রূপান্তর করা হয়। আণবিক সংকেত এক থাকলেও শাখাযুক্ত গঠনের কারণে এর অকটেন মান বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • প্রক্রিয়া: সোজা শিকল থেকে শাখাযুক্ত গঠন তৈরি।
  • বিক্রিয়া: অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ($\text{AlCl}_{3}$) অনুঘটকের উপস্থিতিতে নরমাল বিউটেন রূপান্তরিত হয়ে শাখাযুক্ত আইসোবিউটেন গঠন করে:

$$\text{CH}_{3}-\text{CH}_{2}-\text{CH}_{2}-\text{CH}_{3} \text{ (n-Butane)} \xrightarrow{\text{AlCl}_{3}} \text{CH}_{3}-\text{CH}(\text{CH}_{3})-\text{CH}_{3} \text{ (Isobutane)}$$

এক নজরে সারসংক্ষেপ:

  • ক্র্যাকিং: বড় অণুকে ভেঙে ছোট করা (পরিমাণ বৃদ্ধি)।
  • রিফর্মিং: গঠন বদলে অ্যারোমেটিক করা (অকটেন বৃদ্ধি)।
  • হাইড্রোডিসালফ্যারাইজেশন: সালফার দূর করা (পরিবেশ ও ইঞ্জিন সুরক্ষা)।
  • আইসোমারাইজেশন: শিকলকে শাখাযুক্ত করা (নকিং রোধ)।

৪. উচ্চ মানের অকটেন ৯৫ (Octane 95) কীভাবে তৈরি হয়?

অকটেন নম্বর হলো জ্বালানির ইঞ্জিনে সময়ের আগে অকাল-বিস্ফোরণ বা “নকিং” (Knocking) প্রতিরোধ করার ক্ষমতার মাপকাঠি। উচ্চ মানের অকটেন ৯৫ তৈরি করতে ৪টি জটিল রাসায়নিক ধাপ অনুসরণ করা হয়:

১. ক্যাটালিটিক রিফর্মিং: ন্যাফথার কম অকটেন মানকে (৬০-৭০) প্লাটিনাম ক্যাটালিস্টের মাধ্যমে টলুইন বা জাইলিনের মতো অ্যারোমেটিকে রূপান্তর করা হয়, যার অকটেন রেটিং ১০০-এর ওপরে।

২. আইসোমারাইজেশন: অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ($\text{AlCl}_{3}$) ব্যবহার করে স্বাভাবিক পেন্টেনকে আইসো-পেন্টেনে রূপান্তর করা হয়, যা বেস গ্যাসোলিনের মান বাড়িয়ে ৮০-৮৫ অকটেনে নিয়ে যায়।

৩. অ্যালকাইলেশন (Alkylation): গ্যাসীয় উপজাত (আইসোবিউটেন ও বিউটিলিন) কে সালফিউরিক এসিডের ($\text{H}_{2}\text{SO}_{4}$) উপস্থিতিতে যুক্ত করে হাই-অকটেন অ্যালকাইলেট (অকটেন মান ৯৫-১০০) তৈরি করা হয়।

৪. অকটেন বুস্টার বা এডিটিভস মিশ্রণ: চূড়ান্ত ধাপে MTBE (Methyl Tert-Butyl Ether)-এর মতো পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক এডিটিভস (যার নিজস্ব অকটেন রেটিং ১১৭) মিশিয়ে নিখুঁত RON 95 নিশ্চিত করা হয়।

৫. অকটেন ৯৫ বনাম সাধারণ পেট্রোল: পারফর্মেন্স তুলনা

তুলনার বিষয়অকটেন ৯৫ (Octane 95)সাধারণ পেট্রোল (Regular Petrol)
অকটেন রেটিং (RON)নিখুঁত ৯৫ (উচ্চ নকিং প্রতিরোধক)সাধারণত ৮৬ থেকে ৮৯
ইঞ্জিন নকিং ও শব্দউচ্চ চাপেও নকিং হয় না, ইঞ্জিন থাকে নিশব্দহাই-কম্প্রেশনে আগেভাগেই জ্বলে নকিং তৈরি করে
ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও গতিসর্বোচ্চ হর্স পাওয়ার ও মসৃণ পিক-আপ দেয়পিক-আপ কম পাওয়া যায় এবং ইঞ্জিনে কম্পন হয়
জ্বালানি সাশ্রয় (Fuel Mileage)পূর্ণাঙ্গ ও সুনিয়ন্ত্রিত দহনে মাইলেজ বেশি মেলেঅপূর্ণ দহনে জ্বালানির অপচয় হয়, মাইলেজ কম
ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব ও কালিকার্বন জমে না; প্লাগ ও ফুয়েল ইনজেক্টর পরিষ্কার থাকেস্পার্ক প্লাগ ও ভালভে দ্রুত কার্বন জমার ঝুঁকি থাকে

পরামর্শ: আপনার গাড়িটি যদি আধুনিক EFI, VVTi, Turbocharger বা উচ্চ সিসির (যেমন: অল-নিউ করোনা, এলিয়ন, প্রিমিয়ো বা যেকোনো আধুনিক SUV) হয়, তবে ইঞ্জিনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অকটেন ৯৫ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

মৌলিক রেফারেন্স ও সূত্রসমূহ

১. প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যবই (Standard Textbooks)

  • Handbook of Petroleum Refining Processes (4th Edition) — Robert A. Meyers (McGraw-Hill Professional).(বিশেষ করে Chapter 1: Catalytic Cracking এবং Chapter 4: Catalytic Reforming সেকশন)
  • Petroleum Refining: Technology and Economics (5th Edition) — James H. Gary, Glenn E. Handwerk, and Mark J. Kaiser (CRC Press).
  • Organic ChemistryMorrison & Boyd / T.W. Graham Solomons (অ্যালকেন, অ্যালকাইন ও আইসোমারাইজেশন সংক্রান্ত অধ্যায়)।

২. উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় কেমিস্ট্রি কারিকুলাম

  • উচ্চমাধ্যমিক রসায়ন (২য় পত্র): জৈব রসায়ন (Organic Chemistry) অধ্যায়ের হাইড্রোকার্বন, ক্র্যাকিং/প্যাসেজিং এবং পেট্রোলিয়ামের শোধন অংশ।
  • বাংলাদেশ টেক্সটবুক (NCTB): এইচএসসি রসায়ন ২য় পত্র — ড. গাজী মো. আহসানুল কবীর ও ড. মো. আবদুস সাত্তার (অথবা ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী)।

৩. আন্তর্জাতিক এনার্জি সংস্থাসমূহ (Online Academic & Technical Sources)

  • U.S. Energy Information Administration (EIA): Refining Crude Oil & Refining Processes guide.
  • American Petroleum Institute (API): Refining Technology and Catalytic Processing Manuals.
  • ScienceDirect / ACS Publications: Journal of Catalysis & Industrial & Engineering Chemistry Research (Hydrodesulfurization & Isomerization mechanisms).

পেপার বা আর্টিকেলে তথ্যসূত্র (Citation)

APA স্টাইল সংক্ষেপ উদাহরণ:

Meyers, R. A. (2016). Handbook of Petroleum Refining Processes. McGraw-Hill Education.

Gary, J. H., & Handwerk, G. E. (2007). Petroleum Refining: Technology and Economics. CRC Press.

বিজ্ঞান, পেট্রোকেমিক্যাল প্রযুক্তি, শিল্পখাত এবং অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে। আপনার কারিগরি ব্লগ, নিউজ পোর্টাল বা কোম্পানির জন্য প্রফেশনাল ও শতভাগ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট সেবার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন আমার পার্সোনাল পোর্টাল bdsbulbulahmed.com-এ (আমার ৬ বছরের এসইও অভিজ্ঞতা ও সফল প্রজেক্টগুলোর ডেমো দেখতে ভিজিট করুন আমার গুগল ড্রাইভ পোর্টফোলিও লিংক-এ)।

বিসিএস

নিউজ ডেস্ক

July 21, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ ইন-ডেপ্থ ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট | পালস বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রতিবেদক ও কন্টেন্ট অ্যানালিস্ট: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

ঢাকা

দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দাবিদার বাংলাদেশে বর্তমানে চারিদিকে জিপিএ-৫ আর ‘গোল্ডেন প্লাস’-এর উল্লাস। অথচ এই কৃত্রিম মেধার জোয়ারের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে দেশীয় সক্ষমতার চরম ট্র্যাজেডি। চীনের প্রকৌশলীরা পদ্মা সেতুর জটিল নির্মাণকাজ শেষ করে দিয়ে যান, জাপানের প্রকৌশলীরা উপহার দেন আধুনিক মেট্রোরেল, রাশিয়ার মেধা ও প্রযুক্তিতে মাথা তুলে দাঁড়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আর দক্ষিণ কোরিয়ার টেকনিশিয়ানরা পার্বতীপুরের খনি থেকে কয়লা তুলে আনে।

অন্যদিকে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট থেকে কোটি কোটি টাকার পাবলিক মানিতে ডিগ্রি নেওয়া প্রকৌশলীরা ল্যাব বা ফিল্ড ছেড়ে লাইব্রেরিতে বসে মুখস্থ করছেন—‘পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত?’, ‘মেট্রোরেলের পিলারের সংখ্যা কত?’, কিংবা ‘রূপপুর পাওয়ার হাউজের চুল্লির উচ্চতা কত?’—উদ্দেশ্য, বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার চেয়ারে বসা!

একদিকে মেগা প্রজেক্টে বিলিয়ন ডলারের বিদেশি নির্ভরতা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় খরচে তৈরি প্রকৌশলীদের আমলা হওয়ার এই দৌড়—আমাদের জাতীয় উন্নয়নকে ঠেলে দিচ্ছে এক নজিরবিহীন কাঠামোগত বিপর্যয়ের মুখে।

১. বিসিএসে প্রকৌশলীদের ঢল: পরিসংখ্যান কী বলে?

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)-এর সাম্প্রতিক ব্যাচগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশেষায়িত শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্যাডারে (প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র) যোগ দেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে:

  • ৪০তম বিসিএস: সাধারণ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে শুধু প্রশাসন ক্যাডারেই বুয়েটের ৫০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৭৩ জন প্রকৌশলী স্থান করে নেন।
  • ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএস: ৪১তম বিসিএসে ১৯৫ জন এবং ৪৩তম বিসিএসে ১৮৩ জন প্রকৌশলী তাঁদের মূল পেশা ছেড়ে সাধারণ ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন।
  • ৩০% কোটা দখল: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩৫তম থেকে ৪০তম বিসিএস (৩৯তম বিশেষ বিসিএস বাদে) পর্যন্ত শীর্ষ তিনটি সাধারণ ক্যাডারে মোট ১,৯৮০ জন কর্মকর্তার মধ্যে প্রায় ৩৮৭ জনই ছিলেন প্রকৌশলী ও চিকিৎসক।

গাণিতিক ও যৌক্তিক দক্ষতায় এগিয়ে থাকার কারণে তারা সাধারণ ক্যাডারের মেধা তালিকায় শীর্ষস্থানগুলো দখল করে নিচ্ছেন। কিন্তু একজন সিভিল, কেমিক্যাল বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার যখন মাঠ প্রশাসনের এসিল্যান্ড বা ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক ফাইল সামলান, তখন তাঁর দীর্ঘ ৪-৫ বছরের অর্জিত বিশেষায়িত জ্ঞান রাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ কাজে আসে না।

[আমাদের জাতীয় মেধার রূপান্তর চিত্র]
উচ্চতর কারিগরি ডিগ্রি (বুয়েট/চুয়েট/কুয়েট) 
            ↓
গবেষণা ও উপযুক্ত কাজের পরিবেশের অভাব
            ↓
সাধারণ জ্ঞানের মুখস্থনির্ভর বিসিএস প্রস্তুতি 
            ↓
প্রশাসনিক ক্যাডারে যোগদান ➔ (বিশেষায়িত মেধার চূড়ান্ত অপচয়)

২. পরনির্ভরশীলতার খতিয়ান: ৯১,৭৪৪ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান

দেশীয় শীর্ষ প্রকৌশলীরা টেকনিক্যাল ফিল্ড ছেড়ে প্রশাসনিক ক্যাডারে চলে যাওয়ায় মেগা প্রজেক্টগুলোর মূল কারিগরি সিদ্ধান্তের জন্য সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি পরামর্শক ও ঠিকাদারদের ওপর।

정 সরকারের অর্থনৈতিক টাস্কফোর্স এবং শ্বেতপত্র কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষ দেশীয় প্রকৌশলীর অভাব এবং বিদেশি কনসালট্যান্টদের ওপর অতি-নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের প্রধান মেগা প্রকল্পগুলোতে প্রায় ৭.৫২ বিলিয়ন ডলার (বা ৯১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা) অতিরিক্ত আর্থিক লোকসান ও অপচয় হয়েছে!

প্রজেক্টের খাত / সূচকপ্রাথমিক প্রাক্কলিত বাজেটসংশোধিত চূড়ান্ত বাজেটঅতিরিক্ত অপচয় ও ক্ষতি
৮টি প্রধান মেগা প্রকল্প (পদ্মা রেল সংযোগ, রূপপুর, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল ইত্যাদি)$১১.২০ বিলিয়ন \vert{} $১৮.৬৪ বিলিয়ন$৭.৫২ বিলিয়ন (৬৮% বৃদ্ধি)
প্রকল্পের বাস্তবায়নকালনির্দিষ্ট সময়গড়ে ৫ বছর অতিরিক্তবিপুল কনসালট্যান্সি ফি ও ডেডলাইন মিস
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকিতে বার্ষিক $৫ বিলিয়ন অপচয়

উন্নত দেশগুলোতে মেগা প্রজেক্টের সাথে দেশীয় নলেজ ট্র্যান্সফার (Knowledge Transfer) বাধ্যতামূলক করা হলেও, আমাদের দেশে তদারকির জন্য দক্ষ দেশীয় রিভিউ প্রকৌশলীর অভাবে বৈদেশিক ফান্ডের একটি বিশাল অংশ ‘কনসালট্যান্সি ফি’ হিসেবেই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

৩. কেন এই ‘দলবদল’? গভীরে লুকানো ৪টি মূল কারণ

১. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সামাজিক মোহ: সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কারিগরি বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের চেয়ে সাধারণ প্রশাসনিক ক্যাডারে দ্রুত পদোন্নতি, গাড়ি-বাড়ি সুবিধা, নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা এবং সামাজিক মর্যাদা অনেক বেশি।

২. বেসরকারি খাতের সীমাবদ্ধতা: দেশে ভারী শিল্প ও গবেষণাভিত্তিক বেসরকারি খাত সেভাবে বিকশিত হয়নি। ফলে অনেক মেধা পর্যাপ্ত বেতন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির অভাবে হতাশ হয়ে পড়েন।

৩. কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। এমনকি প্রকৌশল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদগুলোতেও (যেমন সচিব) প্রকৌশলীদের বদলে প্রশাসনিক ক্যাডারের আধিপত্য দেখা যায়।

৪. জিপিএ-৫-এর সনদসর্বস্ব শিক্ষা: প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ‘জিপিএ-৫’ পাওয়ার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব ও স্কিলভিত্তিক নলেজ তৈরির বদলে মুখস্থভিত্তিক পরীক্ষা জয়ের মানসিকতা তৈরি করছে।

উত্তরণের পথ: কী করা প্রয়োজন?

  • টেকনিক্যাল ক্যাডারের মর্যাদা বৃদ্ধি: প্রশাসনিক ক্যাডারের সমকক্ষ বেতন, পদোন্নতি ও নীতি-নির্ধারণী ক্ষমতা টেকনিক্যাল ক্যাডারদের প্রদান করতে হবে।
  • বাধ্যতামূলক নলেজ ট্র্যান্সফার: প্রতিটি মেগা প্রজেক্টে বিদেশি কনসালট্যান্টদের পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলীদের কোর ডিজাইনিং টিমে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  • শিক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কার: জিপিএ-৫ নির্ভর পরীক্ষা বাদ দিয়ে ল্যাব-ভিত্তিক, কোডিং, রোবোটিক্স এবং প্র্যাকটিক্যাল প্রবলেম সলভিং নির্ভর কারিগরি শিক্ষা জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদকের মতামত: জিপিএ-৫-এর বন্যায় ভাসলেও রাষ্ট্র যদি তার নিজস্ব প্রকৌশলীকে দিয়ে একটি সেতুর ডিজাইন বা পাওয়ার প্ল্যান্টের তদারকি করাতে না পারে, তবে সেই মেধা দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। সিভিল সার্ভিসের মোহ ছেড়ে প্রকৌশলীদের নিজস্ব প্রযুক্তির উদ্ভাবক বানাতে না পারলে, প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ ও মাশুল গুনেই যেতে হবে।

বিসিএসে প্রকৌশলীদের তথ্য ও পরিসংখ্যানের উৎস

  • বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC): ৩৮তম, ৪০তম, ৪১তম এবং ৪৩তম বিসিএস-এর চূড়ান্ত ফলাফল ও ক্যাডার বণ্টন সংক্রান্ত অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ ও বার্ষিক প্রতিবেদন।
  • দৈনিক প্রথম আলো (ইন-ডেপ্থ রিপোর্ট): “সাধারণ ক্যাডারে প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের আধিপত্য” এবং “বিসিএসে পেশাগত মেধার স্থানান্তর” বিষয়ক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (২০২১-২০২৪)।
  • দ্য ডেইলি স্টার (The Daily Star): “Why engineers are opting for civil services in Bangladesh” সংক্রান্ত ফিচার ও বিপিএসসির ডেটা অ্যানালিসিস।

মেগা প্রজেক্টের অপচয় ও আর্থিক লোকসানের উৎস (৭.৫২ বিলিয়ন ডলার)

  • শ্বেতপত্র প্রকাশনা কমিটি (White Paper on Bangladesh Economy): ২০২৪-২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন ‘অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন। (যেখানে মেগা প্রজেক্টের বাজেট বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও প্রাক্কলন ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়)।
  • সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD): সিপিডি কর্তৃক আয়োজিত “বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট ও অবকাঠামোগত অর্থায়ন” শীর্ষক পলিসি ব্রিফিং ও গবেষণা পত্র।
  • পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED): বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বার্ষিক অডিট ও সময়/ব্যয় বৃদ্ধির (Cost and Time Overrun) সরকারি পর্যালোচনা রিপোর্ট।

৩বিদেশে প্রকৌশলীদের সুযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার তথ্য

  • ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF): Future of Jobs Report (কারিগরি ও স্কিলভিত্তিক শিক্ষার বৈশ্বিক প্রয়োজনীয়তা)।
  • ইউনেস্কো (UNESCO Global Education Monitoring Report): দক্ষিণ এশিয়ায় জিপিএ/সনদভিত্তিক পরীক্ষা বনাম প্র্যাকটিক্যাল টেকনিক্যাল স্কিলের ব্যবধান বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা।

শিক্ষা, অর্থনীতি, জাতীয় অবকাঠামো ও ক্যারিয়ার বিষয়ক গভীরে যাওয়া ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টেক ব্লগ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের জন্য প্রফেশনাল ও শতভাগ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট সেবার জন্য সরাসরি ভিজিট করুন bdsbulbulahmed.com-এ (সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট হিসেবে ৬ বছরের অভিজ্ঞতা ও ২৫০+ প্রজেক্টের লাইভ প্রমাণ দেখুন আমার গুগল ড্রাইভ পোর্টফোলিও লিংক-এ)।

১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ