উচ্চশিক্ষা
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিভাগ: বুক রিভিউ / সাহিত্য ও সংস্কৃতি / প্রযুক্তি
প্রকাশের সময়: ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এই সময়ে পাঠকদের বই পড়ার অভ্যাসে দৃশ্যমান রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘স্পেকুলেটিভ থ্রিলার’ ও ভূরাজনীতিবিষয়ক নন-ফিকশনের চাহিদা যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী ও তরুণ পাঠকদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অ্যাডভান্সড সফটওয়্যার আর্কিটেকচার এবং গভীর মনোযোগ (Deep Focus) বজায় রাখার গাইড বইগুলোর আগ্রহ তুঙ্গে।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় বেস্টসেলার তালিকা ও বর্তমান ট্রেন্ড পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন বিভাগের সেরা বইগুলোর বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
১. আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার: ফিকশন ও নন-ফিকশন

আন্তর্জাতিক সাহিত্য এবং মূলধারার বইয়ের বাজারে বর্তমানে যেসব বই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে:
- Theo of Golden (লেখক: অ্যালেন লেভি):
অ্যালেন লেভি (Allen Levi) এর লেখা ‘Theo of Golden‘ বইটি বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক বিস্ময় বা ‘লিটারারি ফেনোমেনন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে । মূলত ২০২৩ সালে লেখক নিজে এটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষভাগে বড় প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে পুনরায় প্রকাশিত হয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়

বইটির মূল কাহিনী এবং এর বর্তমান জনপ্রিয়তার কারণ নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
কাহিনীর সারসংক্ষেপ (Plot Summary)
বইটি মূলত থিও (Theo) নামক একজন ৮৬ বছর বয়সী রহস্যময় অথচ দয়ালু বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে, যিনি দক্ষিণ আমেরিকার ‘গোল্ডেন’ (Golden) নামক একটি ছোট শহরে এসে আস্তানা গড়েন
- আর্ট বা শিল্পকলা ও মহানুভবতা: থিও স্থানীয় একটি কফি শপে গিয়ে ৯২টি পেন্সিল স্কেচ বা পোর্ট্রেট দেখতে পান, যা সেখানকার সাধারণ মানুষের ছবি। তিনি পরিকল্পনা করেন এই ছবিগুলো কিনে তাদের ‘প্রকৃত মালিক’ বা যাদের ছবি তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
- সংযোগ তৈরি: থিও প্রতিটি ব্যক্তিকে চিঠি লিখে স্থানীয় একটি ঝরনার পাশে বেঞ্চে দেখা করতে ডাকেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাদের প্রতিকৃতিটি উপহার দেন। এই ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে তিনি পুরো শহরের মানুষের জীবনের সাথে এক গভীর অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করেন
- জীবন দর্শন: থিও নিজে জীবনে অনেক দুঃখ ও বিচ্ছেদ দেখেছেন, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল মানুষকে ‘সঠিকভাবে দেখা’ (being truly seen) এবং দয়ার মাধ্যমে তাদের জীবন বদলে দেওয়া
বইটির বর্তমান অবস্থা ও সাফল্য (২০২৬ সালের অগাস্ট অনুযায়ী)
২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে এই বইটি বিশ্বব্যাপী বিক্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে:
- বেস্টসেলার: এটি নিউ ইয়র্ক টাইমস (New York Times) এবং আমাজন বেস্টসেলার তালিকার ১ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে
- বিক্রির রেকর্ড: শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এর ২৫ লক্ষাধিক (২.৫ মিলিয়ন) কপি বিক্রি হয়েছে
- সম্মাননা: বইটি বিখ্যাত ‘কেটি কুরিক বুক ক্লাব’ (Katie Couric Book Club) এবং ‘জেন হ্যাটমেকার বুক ক্লাব’-এর বাছাইকৃত বই হিসেবে মনোনীত হয়েছিল
প্রধান থিম বা বিষয়বস্তু
- দয়া ও মহানুভবতা (Kindness & Generosity): কোনো স্বার্থ ছাড়াই অন্যের উপকারের শক্তি
- মানুষের মর্যাদা (Human Dignity): সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে দেখার প্রয়োজনীয়তা
- নিরাময় ও ক্ষমা (Healing & Forgiveness): দুঃখ কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে নেওয়া।
- The Calamity Club (লেখক: ক্যাথরিন স্টকেট):
ক্যাথরিন স্টকেট (Kathryn Stockett), যিনি বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য হেল্প’ (The Help)-এর লেখক, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য ক্যালামিটি ক্লাব’ (The Calamity Club) নিয়ে ফিরে এসেছেন। এটি ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই একটি আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারে পরিণত হয়েছে

বইটির মূল কাহিনী এবং বৈশিষ্ট্য নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
কাহিনীর সারসংক্ষেপ ও প্রেক্ষাপট
বইটি ১৯৩৩ সালের মিসিসিপির অক্সফোর্ডে গ্রেট ডিপ্রেশন বা চরম অর্থনৈতিক মন্দার সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা । এটি মূলত তিনজন সাহসী মহিলার জীবন যুদ্ধের গল্প, যারা সমাজের প্রতিকূলতা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
- প্রধান চরিত্রসমূহ:
- মেগ লেফ্লেউর (Meg Lefleur): ১১ বছর বয়সী একজন এতিম মেয়ে, যাকে অনাথ আশ্রমে ‘আনঅ্যাডপটেবল’ (যাকে দত্তক নেওয়া সম্ভব নয়) হিসেবে গণ্য করা হয়
- বার্ডি ক্যালহাউন (Birdie Calhoun): ২৪ বছর বয়সী একজন তরুণী, যে তার পারিবারিক খামার রক্ষার জন্য অক্সফোর্ডে তার ধনী বোনের কাছে সাহায্য চাইতে আসে
- চার্লি (Charlie): একজন সম্পদশালী কিন্তু বর্তমানে চরম দুর্দশার শিকার নারী, যার জীবন অনেক রহস্যে ঘেরা [১২৩, ১৬২]।
বইটির প্রধান থিম ও প্রাপ্তি
- নারীদের বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতা: প্রতিকূল সময়ে নারীদের মধ্যকার অদৃশ্য বন্ধন এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গল্প এখানে ফুটে উঠেছে
- অর্থনৈতিক সংগ্রাম ও নৈতিকতা: দারিদ্র্য কীভাবে মানুষের নীতি ও মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে পারে, লেখক তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চিত্রিত করেছেন
- সাফল্য: ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী এটি টানা সাত সপ্তাহ ধরে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় অবস্থান করছে । এছাড়া আমাজন এবং গুডরিডসেও এটি এ বছরের অন্যতম সেরা বই হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে
প্রকাশনার বিবরণ
- প্রকাশকাল: মে ৫, ২০২৬
- প্রকাশক: স্পিগেল ও গ্রাউ (Spiegel & Grau)
- পৃষ্ঠা সংখ্যা: প্রায় ৬৫৬ পৃষ্ঠা (হার্ডকভার)
আপনি যদি ‘দ্য হেল্প’-এর মতো গভীর আবেগঘন এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গল্প পছন্দ করেন, তবে ‘দ্য ক্যালামিটি ক্লাব’ আপনার জন্য একটি অসাধারণ পছন্দ হবে
- Yesteryear (লেখক: ক্যারো ক্লেয়ার বার্ক):
ক্যারো ক্লেয়ার বার্ক (Caro Claire Burke) এর প্রথম উপন্যাস ‘ইয়েস্টারইয়ার’ (Yesteryear) ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত একটি বই । এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার এবং সামাজিক ব্যঙ্গাত্মক (Social Satire) উপন্যাস, যা বর্তমান সময়ের ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ (tradwife) সংস্কৃতি এবং ইনফ্লুয়েন্সার জগতের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরেছে

বইটির কাহিনী এবং মূল বিষয়বস্তু নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
মূল কাহিনী (Plot Summary)
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাটালি হেলার মিলস (Natalie Heller Mills), যিনি একজন অত্যন্ত সফল খ্রিস্টান ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ ইনফ্লুয়েন্সার
- অনলাইন জীবন: নাটালি তার লক্ষ লক্ষ ফলোয়ারদের কাছে একটি রোমান্টিক এবং আদর্শিক গ্রামীণ জীবনের ছবি তুলে ধরেন, যেখানে তিনি নিজে হাতে রুটি বানানো (Sourdough), গরুর কাঁচা দুধ সংগ্রহ করা এবং একজন বাধ্য স্ত্রীর ভূমিকা পালন করেন
- বাস্তবতা: পর্দার আড়ালে তার এই ‘আদর্শ’ জীবন আসলে একটি সাজানো নাটক। তার কাজে সাহায্য করার জন্য দুজন ন্যানি (Nanny), ভিডিও প্রডিউসার এবং আধুনিক সব যন্ত্রপাতি রয়েছে, যা তিনি ফলোয়ারদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন
- ঘটনাচক্রে পরিবর্তন: একদিন সকালে নাটালি হঠাত নিজেকে ১৮৫৫ সালের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় আবিষ্কার করেন । সেখানে কোনো ন্যানি বা আধুনিক সুবিধা নেই। তিনি বুঝতে পারেন না এটি কোনো রিয়েলিটি শো, সময়ের ভ্রমণ নাকি অন্য কিছু। তাকে তখন সেই কঠোর জীবনই যাপন করতে হয় যা তিনি অনলাইনে একটি ‘সৌন্দর্য’ হিসেবে বিক্রি করেছিলেন
প্রধান থিম বা বিষয়বস্তু
- অনলাইন বনাম বাস্তব জীবন: ইন্টারনেটে সাজানো পরিচয়ের সাথে প্রকৃত জীবনের যে বিস্তর ব্যবধান, তা এই বইয়ের মূল উপজীব্য
- গৃহস্থালি শ্রমের বাস্তবতা: লেখক দেখিয়েছেন যে ঘরোয়া কাজগুলো যখন অনলাইনে দেখা হয় তখন তা সুন্দর মনে হয়, কিন্তু ১৮৫৫ সালের প্রেক্ষাপটে সেই কাজগুলোই ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং বাধ্যতামূলক ।
- অতীতের প্রতি মিথ্যা মোহ (Nostalgia): মানুষ প্রায়ই অতীতের জীবনকে সহজ ও সুন্দর বলে কল্পনা করে। এই বইটি সেই কল্পনাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং অতীতের নিষ্ঠুরতা ফুটিয়ে তোলে
বইটির বর্তমান জনপ্রিয়তা ও সাফল্য
- বেস্টসেলার: ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশের পরপরই এটি নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় স্থান করে নেয়
- বুক ক্লাব: এটি বিখ্যাত ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ (Good Morning America) বুক ক্লাবের পছন্দের বই হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে
- চলচ্চিত্র: প্রকাশের আগেই বইটির চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বত্ব (Film Rights) অ্যামাজন এমজিএম (Amazon MGM) কিনে নিয়েছে, যেখানে অ্যান হ্যাথাওয়ের (Anne Hathaway) অভিনয় করার কথা রয়েছে
বইটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে; কেউ এটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও আকর্ষণীয় বলেছেন, আবার কেউ কেউ এর বিষয়বস্তুকে বেশ বিতর্কিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন
- Regime Change (লেখক: ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান):
বিখ্যাত সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান (Maggie Haberman) এবং জোনাথন সোয়ান (Jonathan Swan)-এর লেখা ‘Regime Change: Inside the Imperial Presidency of Donald Trump’ ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত এবং বেস্টসেলার বই ২০২৬ সালের ২৩ জুন সাইমন অ্যান্ড শুস্টার (Simon & Schuster) থেকে প্রকাশিত এই বইটি প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যে ৫ লক্ষাধিক কপি বিক্রি হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছে

বইটির মূল বিষয়বস্তু এবং আপনার আগ্রহের সাথে এর সম্পর্ক নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
বইটির মূল কাহিনী ও বিষয়বস্তু
বইটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের একটি নিবিড় এবং বিস্ফোরক বিবরণ ।
- ক্ষমতার রূপান্তর: লেখকরা দেখিয়েছেন কীভাবে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে সব ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক বাধা বা ‘guardrails’ ভেঙে ফেলে একটি ‘ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি’ গড়ে তুলেছেন
- গোপন তথ্য: প্রায় ১০০০ সাক্ষাতকারের ওপর ভিত্তি করে লেখা এই বইটিতে ওভাল অফিস এবং সিচুয়েশন রুমের ভেতরে ঘটা বিভিন্ন গোপন ঘটনা—যেমন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে
- আনুগত্য ও পরিবর্তন: অভিজ্ঞ আমলা বা জেনারেলদের বদলে কীভাবে শুধুমাত্র অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে প্রশাসন সাজানো হয়েছে এবং এর ফলে আমেরিকান গণতন্ত্রের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বইটির প্রধান উপজীব্য
আপনার ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট ও আগ্রহ
আপনার ইমেইল ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, আপনি এই বইটি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই কিছুটা অবগত আছেন:
- আপনার ইনবক্সে ‘Regime Change’ শিরোনামের একটি নিবন্ধ রয়েছে, যেখানে লেখক বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
- বইটি বর্তমানে আপনার পড়ার তালিকায় আছে কিনা তা সরাসরি কোথাও উল্লেখ না থাকলেও, আপনি নিয়মিত ভূ-রাজনৈতিক (যেমন: রাশিয়া-ইউক্রেন বা ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্ব) এবং আধুনিক এআই প্রযুক্তি বিষয়ক নিবন্ধ পড়েন, যা এই বইটির বিষয়বস্তুর সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক
প্রাপ্তি ও সমালোচনা
- সাফল্য: এটি ২০২৬ সালের নন-ফিকশন বিভাগে সর্বাধিক বিক্রিত বই হওয়ার পথে রয়েছে এবং এটি নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় টানা শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে
- প্রশংসা: ডেভিড রেমনিক (The New Yorker) এবং টিনা ব্রাউন-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই বইটির সংবাদিকতাপূর্ণ গভীরতার প্রশংসা করেছেন । জোন স্টুয়ার্ট এবং অ্যান্ডারসন কুপারের মতো ব্যক্তিত্বরা এটিকে বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পাঠ হিসেবে বর্ণনা করেছেন
আপনি যদি বর্তমান সময়ের জটিল রাজনীতি এবং আমেরিকার প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তবে এই বইটি আপনার জন্য একটি চমৎকার সংগ্রহ হতে পারে।
২. সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি এবং বাংলা সাহিত্যের স্থান
বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় পাঠকদের কাছে বাংলা ধ্রুপদী উপন্যাসগুলোর আবেদন সমানভাবে বজায় রয়েছে।
[ পাঠকদের চাহিদার প্রধান ধারা ]
│
┌────────────────────────┴────────────────────────┐
▼ ▼
[ সায়েন্স ফিকশন ও থ্রিলার ] [ ধ্রুপদী বাংলা সাহিত্য ]
• Automatic Noodle (অ্যানালি নেউইটজ) • শেষ বিকেলের মেয়ে (জহির রায়হান)
• Dungeon Crawler Carl (ম্যাট ডিনিম্যান) • মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও জীবনের আশ্রয়
- Automatic Noodle (অ্যানালি নেউইটজ): ভবিষ্যৎ পৃথিবীর রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটদের সামাজিক টিকে থাকার গল্প নিয়ে এটি লেখা।
- Dungeon Crawler Carl (ম্যাট ডিনিম্যান): মহাজাগতিক ও এলিয়েন প্রেক্ষাপটে তৈরি সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার একটি বই।
- বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন রূপ: আধুনিক থ্রিলারের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যে জহির রায়হানের ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’-র মতো ক্লাসিক রচনার আবেদন প্রাসঙ্গিক। মানবমনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দিনশেষে জীবনের আশ্রয় খুঁজে পাওয়ার মূল ভাবনাটি যেকোনো যুগের পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
৩. প্রযুক্তিবিদদের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল ও ক্যারিয়ার গাইড
প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে এবং ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে পেশাজীবীরা নির্দিষ্ট কিছু বইকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন:
| বইয়ের শিরোনাম | লেখক / গবেষক | বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য (Core Concept) |
| AI Engineering | Chip Huyen | এআই মডেলকে ল্যাব থেকে বাস্তব উৎপাদন (Production) পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তিগত গাইড। |
| Co-Intelligence | Ethan Mollick | কর্মক্ষেত্রে এআই-কে সহকর্মী বা সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়ানোর উপায়। |
| Atomic Habits | James Clear | ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জীবনের লক্ষ্য অর্জনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। |
| The Let Them Theory | Mel Robbins | অন্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ না করে নিজের মূল কাজ ও মানসিক শান্তিতে ফোকাস করার টিপস। |
৪. আঞ্চলিক বাজার ও দেশীয় পছন্দ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট)
বাংলাদেশের দেশীয় বইয়ের বাজারে বর্তমানে আইটি, এআই, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিবিষয়ক বইগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রীত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি: আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান বুঝতে ওয়াসেকুল হকের ‘বাংলাদেশকে ঘিরে চীন ভারত আমেরিকার দ্বন্দ্ব ও কৌশল’ বইটি পাঠকেরা সংগ্রহ করছেন।
- ফ্রিল্যান্সিং ও স্কিল উন্নয়ন: আইটি খাতে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), কোডিং এবং এআই টুল ব্যবহারের ওপর লেখা ব্যবহারিক টিউটোরিয়াল বইগুলোর চাহিদা শীর্ষে।
উপসংহার: আপনার পাঠ অভ্যাসের উদ্দেশ্য যদি হয় আনন্দ লাভ, তবে ধ্রুপদী সাহিত্য বা সায়েন্স ফিকশন বেছে নেওয়া যৌক্তিক; আর যদি লক্ষ্য হয় দক্ষতা ও ক্যারিয়ারের আধুনিকায়ন, তবে টেকনিক্যাল ও মাইন্ডসেট বিষয়ক বইগুলো হতে পারে আপনার নিত্যসঙ্গী।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ: BDS Bulbul Ahmed
নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় ও তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
স্থান: ঢাকা
২০২৭ সালের সম্ভাব্য সরকারি ছুটির তালিকায় দীর্ঘ ছুটির চমৎকার কিছু সুযোগ রয়েছে, যা আগেভাগে ভ্রমণ ও ঈদযাত্রার পরিকল্পনা করার জন্য দারুণ কার্যকরী। ২০২৭ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা দুটোই সপ্তাহের মাঝামাঝি বা সাপ্তাহিক ছুটির কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় একটু কৌশল খাটালে লম্বা ছুটির মেলবন্ধন তৈরি করা সম্ভব।
২০২৭ সালের সম্ভাব্য প্রধান সরকারি ছুটির তালিকা
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ধর্মীয় ছুটিগুলো ছাড়া ২০২৭ সালের সম্ভাব্য প্রধান ছুটির দিনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| তারিখ | দিবস | বার |
|---|---|---|
| ২৪ জানুয়ারি | শবে বরাত * | রবিবার |
| ২১ ফেব্রুয়ারি | শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | রবিবার |
| ০৬ মার্চ | শবে কদর * | শনিবার |
| ০৯ – ১১ মার্চ | ঈদুল ফিতর * | মঙ্গলবার – বৃহস্পতিবার |
| ২৬ মার্চ | স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস | শুক্রবার |
| ১৪ এপ্রিল | বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) | বুধবার |
| ০১ মে | মে দিবস | শনিবার |
| ১৬ – ১৮ মে | ঈদুল আজহা * | রবিবার – মঙ্গলবার |
| ২০ মে | বুদ্ধ পূর্ণিমা | বৃহস্পতিবার |
| ১৫ জুন | আশুরা * | মঙ্গলবার |
| ০৫ আগস্ট | জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি দিবস | বৃহস্পতিবার |
| ১৫ আগস্ট | ঈদে মিলাদুন্নবী * | রবিবার |
| ২৪ আগস্ট | শুভ জন্মাষ্টমী | মঙ্গলবার |
| ১০ অক্টোবর | বিজয়া দশমী (দুর্গাপূজা) | রবিবার |
| ১৬ ডিসেম্বর | বিজয় দিবস | বৃহস্পতিবার |
| ২৫ ডিসেম্বর | যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন) | শনিবার |
* তারকা চিহ্নিত ছুটিগুলো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং ১ দিন আগে-পরে হতে পারে।
ভ্রমণ ও ছুটির আগাম পরিকল্পনা (Holiday Hacking)
২০২৭ সালের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সামান্য কিছু নৈমিত্তিক ছুটি (CL) যোগ করে আপনি দীর্ঘ ট্যুর প্ল্যান করতে পারেন:
- মার্চের ঈদুল ফিতর মেগা ছুটি: ৯, ১০ ও ১১ মার্চ (মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি) ঈদের সম্ভাব্য ছুটি। এর আগের শুক্র ও শনিবার (৫-৬ মার্চ) এবং পরের শুক্র-শনিবার (১২-১৩ মার্চ) হিসাব করলে মাঝে শুধু ৮ মার্চ (সোমবার) এক দিন ছুটি নিলেই টানা ৯ দিনের বিশাল ছুটি পাওয়া সম্ভব।
- মে মাসের ঈদুল আজহা ও বুদ্ধ পূর্ণিমা: ১৬ থেকে ১৮ মে (রবি থেকে মঙ্গল) ঈদের ছুটি। ঠিক তার পরদিন ১৯ মে (বুধবার) কর্মদিবস এবং ২০ মে (বৃহস্পতিবার) বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি। এখানে ১৯ মে মাত্র ১ দিন ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে শুক্র-শনিবারসহ টানা ৯ দিনের ছুটি মিলবে।
- আগস্টের উইকেন্ড প্লাস: ৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে অনায়াসেই ৩ দিনের একটি শর্ট ট্যুর প্ল্যান করা যায়।
সুশৃঙ্খল ঈদযাত্রার গাইড ও ভ্রমণ নির্দেশিকা

ঈদের সময় ঢাকা ও প্রধান শহরগুলো থেকে বাড়ি ফেরার যাত্রা নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করতে নিচের গাইডলাইনটি অনুসরণ করুন:
- ১. টিকিট কাটার টাইমলাইন ঠিক করুন: বাংলাদেশ রেলওয়ে ও দূরপাল্লার বাসগুলোর অনলাইন টিকিট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে উন্মুক্ত করা হয়। মোবাইল অ্যাপ ও ব্যাংকিং গেটওয়েগুলো আগে থেকেই সচল ও রিচার্জ করে রাখুন।
- ২. অফ-পিক ডে এবং অল্টারনেটিভ রুট নির্বাচন: ঈদের ঠিক আগের ২ দিন (যেমন: ঈদুল ফিতরের জন্য ৭ ও ৮ মার্চ) মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। সম্ভব হলে সরকারি ছুটি শুরুর ১ বা ২ দিন আগে পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিন। ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য গাবতলী বা সায়েদাবাদের প্রধান পয়েন্ট এড়িয়ে বাইপাস বা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের পরিকল্পনা করুন।
- ৩. স্মার্ট ট্র্যাকিং ও হাইওয়ে রেডি: ভ্রমণের দিন গুগুল ম্যাপস কিংবা হাইওয়ে পুলিশের লাইভ ট্রাফিক আপডেট চেক করে রওয়ানা হোন। নিজের গাড়িতে ভ্রমণ করলে ব্রেক, ইঞ্জিন অয়েল এবং টায়ারের প্রেশার অন্তত ৩ দিন আগে পরীক্ষা করান।
- ৪. অগ্রিম হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং: আপনি যদি ঈদের ছুটিতে দেশের ভেতরে (যেমন: কক্সবাজার, সিলেট বা সাজেক) কিংবা দেশের বাইরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে অন্তত ২ থেকে ৩ মাস আগে হোটেল ও যাতায়াত বুকিং সম্পন্ন করুন। ঈদের সময় স্পটগুলোতে অন-অ্যারাইভাল রুম পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
২০২৭ সালে দীর্ঘ ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই পর্যটন গন্তব্য—সিলেট ও কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজানোর একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো। পাহাড়, নদী, চা-বাগান আর ঝরনার মায়াবী রূপ দেখতে চাইলে আপনার জন্য উপযুক্ত সিলেট। আর যদি মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বালুকাময় সমুদ্রসৈকত আর সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নিতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হবে কক্সবাজার।
সিলেটের জন্য ছুটির দিন ও ভ্রমণ পরিকল্পনা (৩-৪ দিনের রুট)
মার্চ বা মে মাসের টানা ছুটির যেকোনো একটি অংশকে বেছে নিয়ে আপনি মেঘ-পাহাড়ের দেশ সিলেটে কাটাতে পারেন।
- ভ্রমণের সেরা সময়: ২০২৭ সালের মার্চ মাসের ঈদুল ফিতরের মেগা ছুটি (টানা ৯ দিন) অথবা মে মাসের ঈদুল আজহার লম্বা ছুটি সিলেটে ঘোরার জন্য চমৎকার সময়। বর্ষার ঠিক আগে বা পরে সিলেটের নদী ও ঝরনাগুলো পূর্ণ যৌবনা থাকে।
- প্রধান আকর্ষণসমূহ: শহরের ভেতরেই রয়েছে উপমহাদেশের প্রাচীনতম কমার্শিয়াল চা-বাগান Malnicherra Tea Estate। এছাড়াও শহরের বাইরে সাদা পাথর (ভোলাগঞ্জ), বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জাফলং এবং পিয়াইন নদী সিলেটের মূল আকর্ষণ।
- সিলেটের ৩ দিনের সংক্ষিপ্ত রুট ম্যাপ:
- ১ম দিন: সকালে সিলেট শহরে পৌঁছে হোটেল বা রিসোর্টে ফ্রেশ হয়ে নিন। বিকেলে শহরের একদম কাছে অবস্থিত Malnicherra Tea Estate-এর চা-বাগানের মনোরম সবুজ প্রকৃতিতে সময় কাটান। সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক Ali Amjad’s Clock টাওয়ার ও কীন ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন।
- ২য় দিন: সকাল সকাল রওয়ানা দিন ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের উদ্দেশ্যে। ধলাই নদীর স্বচ্ছ নীল জল আর ওপারে ভারতের পাহাড়ের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। বিকেলে ফেরার পথে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে নৌকায় চড়ে বাংলার আমাজন ঘুরে আসুন।
- ৩য় দিন: জাফলং জিরো পয়েন্ট এবং ডাউকি নদীর ঝুলন্ত সেতু (দূর থেকে) দেখতে যান। ফেরার পথে লালাখাল রুট অথবা পিয়াইন নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করুন।
কক্সবাজারের জন্য ছুটির দিন ও ভ্রমণ পরিকল্পনা (৪-৫ দিনের রুট)
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বরাবরই যেকোনো ছুটির জন্য প্রথম পছন্দ। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের আবহাওয়া এখানে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।

- ভ্রমণের সেরা সময়: ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির উইকেন্ড অথবা মার্চের ঈদুল ফিতরের ছুটি। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারে ৩ মাসব্যাপী ট্যুরিজম কার্নিভাল চলার কারণে এই সময়ে কক্সবাজারের আবহাওয়া ও পরিবেশ থাকবে দারুণ উৎসবমুখর।
- প্রধান আকর্ষণসমূহ: সেন্ট্রাল বিচ হিসেবে পরিচিত প্রাণবন্ত Laboni Point Sea Beach, ওয়াটার স্পোর্টস ও স্ট্রিট ফুডের জন্য বিখ্যাত Sugondha Sea Beach, এবং মেরিন ড্রাইভের পাশে পাহাড় ও সাগরের মেলবন্ধন ঘেরা Himchari National Park।
- কক্সবাজারের ৪ দিনের সংক্ষিপ্ত রুট ম্যাপ:
- ১ম দিন: কক্সবাজারে পৌঁছে কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্টের যেকোনো হোটেলে চেক-ইন করুন। বিকেলে Sugondha Sea Beach-এ হেঁটে সূর্যাস্ত দেখুন এবং সন্ধ্যার পর বিচ মার্কেটে তাজা সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই বা বারবিকিউর স্বাদ নিন।
- ২য় দিন: খোলা চাঁদের গাড়ি (চান্দের গাড়ি) ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভ ধরে যাত্রা করুন। পথে Himchari National Park-এর পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সাগরের প্যানোরামিক ভিউ দেখুন। এরপর আরও সামনে এগিয়ে ইনানী বিচের পাথুরে সৈকতে কোরাল ও ক্লিয়ার ওয়াটার উপভোগ করুন।
- ৩য় দিন: অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী হলে দরিয়ানগর ন্যাচার পার্কের পাহাড়ি গুহা ও ট্রেইল ট্র্যাকিং করতে পারেন অথবা সরাসরি টেকনাফ হয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের (যদি যাতায়াত ও অবস্থান উন্মুক্ত থাকে) উদ্দেশ্যে এক দিনের ডে-ক্রুজ ট্রিপ দিতে পারেন।
- ৪র্থ দিন: সকালে Laboni Point Sea Beach-এ স্পিডবোট রাইড বা বিচ বাইকিং করতে পারেন। দুপুরের পর ঝিনুক মার্কেট ও বার্মিজ মার্কেট থেকে আচার, শুঁটকি ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের কেনাকাটা শেষ করে রাতের বাসে বা ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
ছুটি হ্যাকিং: দুই অঞ্চলের ট্রাভেল কম্প্যারিজল

ভ্রমণের বাজেট, উদ্দেশ্য এবং সঙ্গীদের ওপর ভিত্তি করে সঠিক জায়গাটি বেছে নিতে এই তুলনামূলক ছকটি দেখতে পারেন:
| বৈশিষ্ট্য | সিলেট ভ্রমণ | কক্সবাজার ভ্রমণ |
|---|---|---|
| মূল আকর্ষণ | চা-বাগান, স্বচ্ছ নদী, ঝরনা, সবুজ পাহাড় ও সোয়াম্প ফরেস্ট। | দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, মেরিন ড্রাইভ ও ওয়াটার স্পোর্টস। |
| যাতায়াত সুবিধা | ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন (উপবন, পারাবত) ও বিমান সুবিধা রয়েছে। | ঢাকা থেকে সরাসরি বাস, বিমান এবং আধুনিক ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেন। |
| বাজেট ও খরচ | কক্সবাজারের তুলনায় খাবার ও হোটেলের খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী। | পিক সিজনে (শীতকাল ও ঈদে) হোটেল ও খাবারের খরচ বেশ চড়া থাকে। |
| যাদের জন্য সেরা | যারা অ্যাডভেঞ্চার, ট্র্যাকিং ও নিরিবিলি প্রকৃতি পছন্দ করেন। | পরিবার, শিশু কিংবা বন্ধুদের নিয়ে রিলাক্স ও লাইভ নাইটলাইফ উপভোগের জন্য সেরা। |
ঈদযাত্রার বিশেষ টিপস: যেহেতু ২০২৭ সালের ছুটির দিনগুলোতে দেশের এই দুটি পয়েন্টেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকবে, তাই ট্রেনের টিকিট ওপেন হওয়ার দিনই (যাত্রার ১০ দিন আগে) টিকিট কনফার্ম করুন। বিশেষ করে কক্সবাজারের প্রধান হোটেল জোন কিংবা সিলেটের লালাখাল/শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টগুলো ভ্রমণের অন্তত ২ মাস আগে বুকিং করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): শিক্ষা, শিক্ষা বোর্ড নোটিশ ও অ্যাকাডেমিক আপডেট
- প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ (নিয়মিত আপডেটযোগ্য)
- তথ্যসূত্র (Sources): মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট, সময়সূচি এবং দিকনির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত তথ্য অনুসারে, তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৪ মার্চ ২০২৭ থেকে শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

১. এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি (Revised Schedule)
২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ১৪ মার্চ ২০২৭ তারিখ থেকে শুরু হবে এবং লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ এপ্রিল ২০২৭ তারিখে শেষ হবে।
Change block type or style
Move Image block from position 6 up to position 5
Move Image block from position 6 down to position 7
Change alignmentReplace

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বৈঠকে আগের প্রস্তাবিত সময়সূচি পরিবর্তন করে এই নতুন সংশোধিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল) এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (এসএসসি ভোকেশনাল) অধীনে অনুষ্ঠিত সকল পরীক্ষা একই তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার মূল সময়সূচি:
- তত্ত্বীয়/লিখিত পরীক্ষা শুরু: ১৪ মার্চ ২০২৭ (রবিবার)
- তত্ত্বীয়/লিখিত পরীক্ষা শেষ: ১৫ এপ্রিল ২০২৭
- পরীক্ষা শুরুর সময়: প্রতিদিন সকাল ১০:০০ টা
- ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন ও জমা: লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এবং ২২ এপ্রিল ২০২৭ তারিখের মধ্যে নম্বর অনলাইন এন্ট্রি ও জমা সম্পন্ন করতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাবলী:
১. উপস্থিতির সময়: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার আসনে আসন গ্রহণ করতে হবে।
২. পরীক্ষার ধরন: তত্ত্বীয় পরীক্ষায় প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং পরবর্তীতে সৃজনশীল/রচনামূলক (CQ) পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পরীক্ষার্থীদের মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড অবশ্যই সাথে আনতে হবে।
৪. ক্যালকুলেটর ব্যবহার: পরীক্ষায় শুধুমাত্র সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
(দ্রষ্টব্য: শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ বিষয়ভিত্তিক পিডিএফ (PDF) রুটিনটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে আপনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা আপনার সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নোটিশ বোর্ডে নজর রাখতে পারেন।)
২. ফরম পূরণ (Form Fill-up) সংক্রান্ত নির্দেশনা
২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার অফিসিয়াল সময়সূচি ও নীতিমালা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ শুরু হবে।
পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত সময়সূচি, ফি এবং বোর্ড নির্দেশিত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:
ফরম পূরণের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচি
- সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৬
- বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ: ১৬ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
- বিলম্ব ফি ছাড়া ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৪ নভেম্বর ২০২৬
- বিলম্ব ফিসহ (১০০ টাকা জরিমানা) ফরম পূরণ: ২৪ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
- বিলম্ব ফিসহ ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২৬
বোর্ড নির্ধারিত বিভাগভিত্তিক ফি
বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মোট ফি (বোর্ড ফি + কেন্দ্র ফি) নিচে দেওয়া হলো:
- বিজ্ঞান বিভাগ: ২,৪৩৫ টাকা
- মানবিক বিভাগ: ২,৩১৫ টাকা
- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ২,৩১৫ টাকা
ফরম পূরণের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে, যা ফরম পূরণের আগে জেনে রাখা জরুরি:
১. নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা: জিপিএ উন্নয়ন ও অনুত্তীর্ণ (ফেল করা) পরীক্ষার্থী ছাড়া বাকি সব নিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
২. জিপিএ উন্নয়ন (GPA Improvement) পরীক্ষার্থী: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে পাস করেছে কিন্তু জিপিএ-৫ এর কম পেয়েছে, তারা নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ পাবে। এ জন্য তাদের পূর্ণাঙ্গ ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী সব বিষয়ে
পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। জিপিএ উন্নত হলে তা গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় আগেরটি বহাল থাকবে। আবেদনের সাথে পূর্বের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।
৩. বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের নিয়ম: যেসব পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে সব বিষয়ে অংশ নিতে পারবে।
৪. চতুর্থ বিষয়ের (4th Subject) সুবিধা: ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যেসব নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ২০২৫ বা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা অনিয়মিত হিসেবে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। আর যারা আগে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে পাস করেছিল কিন্তু ১ থেকে ৪টি আবশ্যিক বিষয়ে ফেল করেছে, তারা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় সেই ফেল করা বিষয়গুলোতে পাস করলে আগের চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা বহাল থাকবে।
৫. সিলেবাস ও মূল্যায়ন:
- নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে হবে।
- অনিয়মিত এবং জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রশ্ন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।
৬. ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment): শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এনসিটিবি (NCTB) গাইডলাইন অনুযায়ী অনলাইন এন্ট্রির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। [1]
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনলাইনে ফরম পূরণের জন্য পরীক্ষার্থীদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বিস্তারিত ফি-এর বিবরণ ও নোটিশ দেখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।)
৩. সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি (Syllabus & Exam Pattern)
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সিলেবাস এবং পরীক্ষা পদ্ধতি (Exam Pattern) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এবং শিক্ষা বোর্ডসমূহের সমন্বয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নিচে ২০২৭ সালের নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস এবং পরীক্ষা পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
সিলেবাসের রূপরেখা
- নিয়মিত পরীক্ষার্থী (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ): নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ২০২৭ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের (বোর্ডের সর্বশেষ নোটিশ অনুযায়ী) ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
- অনিয়মিত ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী: যারা ২০২৫ বা ২০২৬ সালে অকৃতকার্য (ফেল) হয়েছেন কিংবা জিপিএ উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দেবেন, তাদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০২৫ বা ২০২৬ সালের পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রশ্ন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টন (Exam Pattern)
এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষা পূর্ববর্তী সনাতন ও সৃজনশীল নিয়মের সমন্বয়ে পূর্ণ ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে (যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে, সেগুলোতে লিখিত ৭৫ নম্বর ও ব্যবহারিক ২৫ নম্বর)।
পরীক্ষায় মূলত দুটি অংশ থাকবে:
১. বহুনির্বাচনি বা নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) অংশ:
- নম্বর: ৩০ নম্বর (ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়ে ২৫ নম্বর)।
- সময়: ৩০ মিনিট।
- পদ্ধতি: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর থাকবে। ওএমআর (OMR) শিটে সঠিক বৃত্তটি ভরাট করতে হবে। কোনো নেগেটিভ মার্কিং থাকবে না।
২. সৃজনশীল বা রচনামূলক (CQ) অংশ:
- নম্বর: ৭০ নম্বর (ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়ে ৫০ নম্বর)।
- সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
- পদ্ধতি: উদ্দীপক বা সিনারিও দেখে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সাধারণত ১১টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৫টি)।
বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন টেবিল
| বিভাগের নাম | বিষয়ের ধরন | সৃজনশীল (CQ) | বহুনির্বাচনি (MCQ) | ব্যবহারিক (Practical) | মোট নম্বর |
|---|---|---|---|---|---|
| সব বিভাগ | আবশ্যিক বিষয় (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত ইত্যাদি) | ৭০ | ৩০ | — | ১০০ |
| বিজ্ঞান বিভাগ | ব্যবহারিক যুক্ত বিষয় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান) | ৫০ | ২৫ | ২৫ | ১০০ |
| মানবিক ও ব্যবসায় | ব্যবহারিক ছাড়া অন্যান্য নৈর্বাচনিক বিষয় | ৭০ | ৩০ | — | ১০০ |
| কৃষি/গার্হস্থ্য | চতুর্থ বিষয় (ব্যবহারিক যুক্ত) | ৫০ | ২৫ | ২৫ | ১০০ |
পাস নম্বর ও মূল্যায়ন নীতি:
- আলাদা পাসের নিয়ম: পরীক্ষার্থীদের সৃজনশীল (CQ), বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং ব্যবহারিক (Practical) অংশে আলাদা আলাদাভাবে পাস করতে হবে। কোনো একটি অংশে ফেল করলে সামগ্রিকভাবে সেই বিষয়ে অকৃতকার্য বলে গণ্য হবে।
- পাস মার্ক: প্রতিটি অংশে নূন্যতম ৩৩% নম্বর পেয়ে পাস করতে হবে। (যেমন: ৭০ নম্বরের সৃজনশীলে পাস ২৩, ৩০ নম্বরের MCQ-তে পাস ১০)।
- ধারাবাহিক মূল্যায়ন: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর কোনো লিখিত পরীক্ষা বোর্ডে হবে না। এগুলোর নম্বর বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের (Continuous Assessment) মাধ্যমে সরাসরি বোর্ডে পাঠানো হবে।
৪. কেন্দ্রে মানতে হবে যেসব জরুরি নিয়মাবলি
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত কিছু জরুরি নিয়মাবলী অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে মানতে হবে এমন প্রধান প্রধান নিয়মগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সময় সংক্রান্ত নিয়মাবলী
• কেন্দ্রে প্রবেশের সময়: পরীক্ষা শুরুর নূন্যতম ৩০ মিনিট পূর্বে (অর্থাৎ সকাল ০৯:৩০ মিনিটের মধ্যে) পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসনে আসন গ্রহণ করতে হবে।
• দেরিতে প্রবেশ: কোনো পরীক্ষার্থী যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে, তার নাম, রোল নম্বর এবং দেরিতে আসার কারণ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষা শুরুর পর অতিরিক্ত কোনো সময় দেওয়া হবে না।
• প্রশ্নপত্র বিতরণ: পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১০ মিনিট আগে ওএমআর (OMR) শিট এবং সকাল ১০:০০ টায় বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।
ওএমআর (OMR) শিট পূরণের নিয়ম
• সঠিক বৃত্ত ভরাট: পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটে তার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড এবং প্রশ্নপত্রের সেট কোড সতর্কতার সাথে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।
• ভুল সংশোধনের নিয়ম: ওএমআর শিট কোনোভাবেই ভাঁজ করা, কাটাকাটি করা বা ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না। কোনো ভুল হলে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিদর্শকের (Invigilator) সাহায্য নিতে হবে।
নিষিদ্ধ সামগ্রী (যা কেন্দ্রে আনা সম্পূর্ণ নিষেধ)
• মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস: পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ ডিভাইস, ডিজিটাল ডায়েরি বা ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
• অননুমোদিত কাগজ: পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধরনের অতিরিক্ত কাগজ, বই বা নোটবুক পরীক্ষার হলে রাখা যাবে না।
ক্যালকুলেটর ও জ্যামিতি বক্স ব্যবহারের নিয়ম
• ক্যালকুলেটর: পরীক্ষায় শুধুমাত্র সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (Non-programmable Calculator) ব্যবহার করা যাবে। কোনো ধরনের প্রোগ্রামিং বা মেমোরি চিপযুক্ত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
• জ্যামিতি বক্স ও কলম: স্বচ্ছ বা পরিষ্কার জ্যামিতি বক্স ও ক্লিপবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। ওএমআর এবং উত্তরপত্রে লেখার জন্য শুধুমাত্র কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
• প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড: প্রতিদিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড অবশ্যই সাথে আনতে হবে। এই নথিপত্রগুলো ছাড়া কোনোভাবেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষার্থীদের জন্য সময় সূচির এই পরিবর্তন প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় এনে দিয়েছে। ৭ জানুয়ারির বদলে ১৪ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সিলেবাস ভালোভাবে শেষ করার সুযোগ পাবে। নিয়মিত আপডেট এবং বিষ ভিত্তিক সম্পূর্ণ রুটিন পেতে আমাদের এই লিংকটি বুকমার্ক করে রাখুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): ক্রীড়ার ইতিহাস, ফিটনেস ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
- প্রকাশের তারিখ: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): NABBA World Bodybuilding Archives, Indian Bodybuilding Records, এবং Historic Sport Chronicles.
বাঙালির শৌর্য, বীরত্ব এবং শারীরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্বের কথা বললেই যাঁদের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়, তাঁদের মধ্যে বিশ্বশ্রী মনোহর আইচ এবং মনতোষ রায় অন্যতম। প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লাল-সবুজের ও ব্রিটিশ ভারতের পতাকা উড়িয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন যে দৃঢ় মনোবল থাকলে উচ্চতা বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কখনো সাফল্যের অন্তরায় হতে পারে না।
১. বিশ্বশ্রী মনোহর আইচের শরীরচর্চার রুটিন (Workout Routine)

মনোহর আইচ (১৭ মার্চ ১৯১২ – ৫ জুন ২০১৬), যিনি তার মাত্র ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতা এবং অবিশ্বাস্য পেশীবহুল শরীরের জন্য বিশ্বজুড়ে “পকেট হারকিউলিস” (Pocket Hercules) নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন, ১৯৫২ সালে ভারতের জন্য দ্বিতীয় মিস্টার ইউনিভার্স (Mr. Universe) শিরোপা জয় করেন। ১০৪ বছর বছর বাঁচার পেছনে তার কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, স্টেরয়েড ও সাপ্লিমেন্টমুক্ত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক শরীরচর্চার রুটিন এবং সাধারণ জীবনযাত্রা আজীবন অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।
তার শরীরচর্চার রুটিন এবং দৈনন্দিন লাইফস্টাইলকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. প্রাথমিক জীবন ও জেলখানার কঠোর ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম (ক্যালিস্থেনিক্স)
- ১২ বছর বয়সে শুরু: শৈশবে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মনোহর আইচের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। নিজের শক্তি ফিরে পেতে মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই তিনি পুশ-আপ, স্কোয়াট, পুল-আপ, লেগ রেইজ এবং সিট-আপের মতো বডিওয়েট ব্যায়াম শুরু করেন। ওই বয়সেই তিনি প্রতি সেটে প্রায় ১০০টি করে রেপস (Reps) দিতে পারতেন。
- কারাগারে ১২ ঘণ্টার সাধনা: ১৯৪২ সালে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে যোগ দেওয়ার পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে কারাগারে বন্দি করা হয়। কারাগারে কোনো জিমের সরঞ্জাম বা ওজন (Weights) ছিল না। সেখানে তিনি দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কঠোর ফ্রি-হ্যান্ড এবং ক্যালিস্থেনিক্স ব্যায়াম করতেন, যা তার শরীরের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।
২. পাওয়ার বডিবিল্ডিং ও জিমের রুটিন (যৌবন ও প্রতিযোগিতার সময়)
পরবর্তীতে যখন তিনি পুরোদমে ওয়েট ট্রেনিং শুরু করেন, তখন আধুনিক জটিল মেশিনের চেয়ে প্রাচীন ভারতীয় ব্যায়ামপদ্ধতি এবং ভারী ‘কম্পাউন্ড এক্সারসাইজ’-এর ওপর জোর দিতেন।
- সকালের ওয়ার্কআউট: তিনি প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে টানা ৯০ মিনিট শরীরচর্চা করতেন।
- প্রিয় ব্যায়ামসমূহ: তিনি পূর্ণাঙ্গ বডি ওয়ার্কআউটের অনুসারী ছিলেন। তার মূল রুটিনে থাকত ভারী স্কোয়াট (Squats), ডন-বৈঠক (Push-ups & Squats), বেঞ্চ প্রেস (Bench Press), ওভারহেড শোল্ডার প্রেস (Overhead Press), বারবেল রো (Barbell Rows), এবং বারবেল কার্ল (Barbell Curls)।
- পাওয়ার স্টান্টের প্রস্তুতি: দাঁত দিয়ে স্টিল বাঁকানো, তরবারির ডগায় পেট ঠেকিয়ে রাখা কিংবা বুক দিয়ে লোহার রড বাঁকানোর মতো অবিশ্বাস্য সব স্টান্ট প্রদর্শনের জন্য তিনি ঘাড় ও কোর মাসল মজবুত করার বিশেষ ব্যায়াম করতেন।
৩. শেষ বয়সের রক্ষণাবেক্ষণ রুটিন (Maintenance Schedule)
- বয়স ৯০ পার হওয়ার পরও তিনি ব্যায়াম করা থামাননি। তবে শেষের দিকে হৃদযন্ত্রের মৃদু সমস্যার কারণে তিনি ভারী ওজন তোলা বন্ধ করে দেন।
- শেষ বয়সে তিনি কেবল শরীরের ফিটনেস ধরে রাখতে হালকা ওজনের ডাম্বেল এবং বেশি রেপসের ৬ থেকে ৭টি ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতেন। এমনকি ১০০ বছর পার করার পরও তিনি তার জিমের ছাত্রদের নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ব্যায়াম শেখাতেন।
ডায়েট ও লাইফস্টাইল: দীর্ঘায়ুর গোপন চাবিকাঠি
মনোহর আইচ কোনো আধুনিক প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেননি। তার সুস্থ ১০৪ বছর বাঁচার মূল রহস্য ছিল খাঁটি বাঙালি খাবার:
- খাদ্যাভ্যাস: সকালের নাস্তায় দুধ, চিঁড়ে এবং কফি। দুপুরে ও রাতে একদম সাধারণ ভাত, ডাল, নানা রকম তরকারি এবং টাটকা মাছের ঝোল। এছাড়া তার খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে দুধ, ফলমূল (আম, কাঁঠাল, ডাব) এবং শাকসবজি থাকত।
- নেশামুক্তি: তিনি জীবনে কখনো মদ্যপান বা ধূমপান করেননি।
- মানসিক প্রশান্তি: তিনি সবসময় বলতেন, “আমি কখনোই কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় দিই না। তরুণ বয়স থেকে উপার্জনের জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি সবসময় হাসিখুশি থেকেছি।”
২. এশিয়ার প্রথম মিস্টার ইউনিভার্স: মনতোষ রায়
মনতোষ রায় (২১ অক্টোবর ১৯১৭ – ২৯ জুন ২০০৫) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি বডিবিল্ডার বা শরীরচর্চাবিদ, যিনিএশিয়ার প্রথম মিস্টার ইউনিভার্স (Mr. Universe) খেতাব অর্জনের গৌরব লাভ করেন। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতায় তিনি “গ্রুপ ৩ অ্যামেচার” (শর্ট মেন ডিভিশন) বিভাগে এই বিশ্বসেরা শিরোপা জয় করেছিলেন।

তার জীবন ও কীর্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রারম্ভিক জীবন ও সাধনা
- জন্ম: ১৯১৭ সালের ২১শে অক্টোবর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী গজারিয়া গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শৈশব ও সংগ্রাম: চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া মনতোষ রায় মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই শরীরচর্চা শুরু করেন।
- গুরু: তিনি বিখ্যাত বডিবিল্ডার এবং যোগগুরু বিষ্ণুচরণ ঘোষের (মহর্ষি পরমহংস যোগানন্দের ছোট ভাই) শিষ্য ছিলেন। গুরুর ছবি সামনে রেখে দ্রোণাচার্যের একলব্যের মতো নিষ্ঠা নিয়ে তিনি প্রথম দিকে ব্যায়াম সাধনা চালিয়ে যেতেন।
বডিবিল্ডিং ক্যারিয়ার ও সাফল্য
- ১৯৩৯ সালে প্রথম প্রতিযোগিতায় নেমে সফল না হলেও তিনি দমে যাননি, বরং অনুশীলনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।
- ১৯৪২ সালে তিনি ‘ইস্ট ইন্ডিয়ান বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ এবং ১৯৪৭ সালে ‘অল ইন্ডিয়া বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন।
- মিস্টার ইউনিভার্স জয় (১৯৫১): লন্ডনের মঞ্চে তার সুগঠিত ও নান্দনিক শরীর দেখে দর্শকেরা মুগ্ধ হয়ে যান। বিশেষ করে তার ‘যীশু খ্রিস্ট’ পোজের (Jesus Christ posing routine) প্রদর্শনীটি অসম্ভব জনপ্রিয় হয়েছিল। প্রতিযোগিতা শেষে তার অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করত।
অবদান ও পরবর্তী জীবন
- মিস্টার ইউনিভার্স জেতার পর ভারতে ফিরে তিনি ‘ইন্ডিয়ান বডিবিল্ডিং ফেডারেশন’ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ল কলেজে আইন বিভাগে শরীরচর্চা ও যোগব্যায়ামের শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরচর্চার ওপর বইও লিখেছেন।
- খালি হাতে স্টিলের রড বাঁকানোর মতো অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি।
- তার মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র মলয় রায় (যিনি নিজে ৮ বারের মিস্টার ইন্ডিয়া এবং অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত বডিবিল্ডার) পিতার প্রতিষ্ঠিত মাল্টিজিমটি পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য, মলয় রায়কে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ চলচ্চিত্রে কাশীর হোটেলের সেই ব্যায়ামবীরের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল।
২০০৫ সালের ২৯শে জুন কলকাতার একটি নার্সিং হোমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৩. বাংলার শক্তিচর্চার আরেক রত্ন: গোবর গোহ
গোবর গোহ (জন্মনাম: যতীন চরণ গুহ; ১৩ মার্চ ১৮৯২ – ২ জানুয়ারি ১৯৭২) ছিলেন বাংলার শক্তিচর্চা ও কুস্তির ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি। ১৯২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অ্যাড স্যানটেলকে (Ad Santel) পরাজিত করে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্ব পেশাদার কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপ (World Light Heavyweight Championship) জয়ের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন।

শরীরচর্চা ও কুস্তির ক্ষেত্রে তার পারিবারিক ঐতিহ্য, অবিশ্বাস্য শারীরিক ক্ষমতা এবং অবদান নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
পারিবারিক ঐতিহ্য ও হাতেখড়ি
- কুস্তিগীর পরিবার: গোবর গোহ জন্মসূত্রে কলকাতার এক বিখ্যাত কুস্তিগীর পরিবারে এসেছিলেন। তার ঠাকুরদাদা আম্বিকা চরণ গুহ (অম্বু বাবু) ছিলেন বাংলার কুস্তি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, যার আখড়ায় নামী-দামী সব কুস্তিগীর তৈরি হতেন।
- প্রশিক্ষণ: শৈশবেই নিজের কাকা এবং তৎকালীন ভারতের অন্যতম সেরা কুস্তিগীর ক্ষেত্রচরণ গুহের কাছ থেকে তিনি কুস্তির প্রাথমিক পাঠ নেন। পরবর্তীতে তিনি বিখ্যাত কুস্তিগীর রহমানী পালোয়ানের কাছেও তালিম নেন।
কুস্তি ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক সাফল্য
- ইউরোপ সফর (১৯১০-১৯১৩): মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ইউরোপ সফরে যান। সেখানে ইতালি, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স এবং অস্ট্রিয়ার সেরা কুস্তিগীরদের পরাজিত করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন। ১৯১৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক প্রতিযোগিতায় তিনি তৎকালীন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জর্জ হ্যাকেনস্মিডকে (George Hackenschmidt) কুস্তির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন।
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শিরোপা (১৯২১): ১৯২০ সালে তিনি পুনরায় ইউরোপ ও আমেরিকা সফরে যান। ১৯২১ সালের ৩০ আগস্ট সান ফ্রান্সিসকোতে তৎকালীন ওয়ার্ল্ড লাইট হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন অ্যাড স্যানটেলের মুখোমুখি হন গোবর গোহ। ১ ঘণ্টা ৩ মিনিট স্থায়ী এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর তিনি স্যানটেলকে পরাস্ত করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের বেল্ট নিজের করে নেন।
- শারীরিক গঠন: ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতা এবং প্রায় ১২০ কেজি ওজনের গোবর গোহের সুগঠিত শরীর ও পেশীর সঞ্চালনা দেখে পশ্চিমা বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল।
কুস্তির নিজস্ব শৈলী ও অবদান
- ‘গোহ স্টাইল’ উদ্ভাবন: তিনি ভারতীয় কুস্তির ঐতিহ্যবাহী কৌশলগুলোর সাথে পশ্চিমা ‘ক্যাচ-অ্যাস-ক্যাচ-ক্যান’ (Catch-as-catch-can) ও গ্রেকো-রোমান শৈলীর এক চমৎকার মিশ্রণ ঘটিয়ে কুস্তির একটি সম্পূর্ণ নিজস্ব ঘরানা তৈরি করেন, যা কুস্তি মহলে ‘গোহ স্টাইল’ নামে পরিচিত ছিল।
- আখড়া প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি: ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতার হেদুয়ার কাছে (গোয়াবাগান এলাকায়) নিজের পারিবারিক আখড়াটি নতুন রূপে প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ ‘গোবর গুহ’স জিমনেসিয়াম’ নামে পরিচিত। তার এই আখড়া থেকেই তৈরি হয়েছিলেন ভারতের বহু নামী কুস্তিগীর এবং পরবর্তীতে অলিম্পিয়ানরা।
কুস্তির পাশাপাশি তিনি ফুটবল এবং সংগীতের দারুণ অনুরাগী ছিলেন। বাংলার যুবসমাজকে শক্তিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার পেছনে এই বীর কুস্তিগীরের অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯৭২ সালের ২ জানুয়ারি এই মহান ক্রীড়াবিদ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
মনোহর আইচ, মনতোষ রায় এবং গোবর গোহ—এই কিংবদন্তিরা প্রমাণ করেছেন যে শারীরিক সুস্থতা, অদম্য ইচ্ছা এবং সঠিক শৃঙ্খলার কাছে প্রতিকূল পরিস্থিতিও হার মানে। তাঁদের বর্ণাঢ্য জীবন ও প্রাকৃতিক শরীরচর্চার পদ্ধতি বর্তমান প্রজন্মের ফিটনেস প্রেমীদের জন্য এক অন্তহীন অনুপ্রেরণা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



