ইতিহাস

আস্তিক বনাম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র: সামাজিক শান্তি, অপরাধের হার ও সমাজতাত্ত্বিক বাস্তবতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
আস্তিক

নিউজ ডেস্ক

June 28, 2026

শেয়ার করুন

সমাজবিজ্ঞান ও ভূরাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬

একটি দেশ শান্তিময় বা অপরাধমুক্ত হওয়ার পেছনে নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাস কতটুকু ভূমিকা রাখে? বিশ্বখ্যাত ডাটাবেজ Numbeo Crime Index (2026) এবং Global Peace Index (2026)-এর সর্বশেষ উপাত্ত এবং সমাজবিজ্ঞানের জটিল তত্ত্বগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি চমকপ্রদ সত্য সামনে আসে। কোনো দেশের শান্তি বা অপরাধের হার সরাসরি মানুষের আস্তিকতা বা নাস্তিকতার ওপর নির্ভর করে না।

সাধারণ মানুষের ধারণা, ধর্মনিরপেক্ষ বা নাস্তিকপ্রধান স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোই (যেমন: আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক) পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ অঞ্চল। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ স্থিতিশীল ও কট্টর ধর্মীয় অনুশাসনপ্রধান দেশগুলোর (যেমন: কাতার, ইউএই) অভ্যন্তরীণ অপরাধের হার স্ক্যান্ডিনেভিয়ার চেয়েও অনেক কম। অর্থাৎ, অপরাধ দমনে মধ্যপ্রাচ্য সফল হয়েছে “কঠোর আইনি ও ধর্মীয় শাস্তির ভীতি” দিয়ে, আর স্ক্যান্ডিনেভিয়া সফল হয়েছে “সামাজিক নিরাপত্তা, সচেতনতা ও নাগরিক সুবিধা” নিশ্চিত করে।

ধর্মনিরপেক্ষ বনাম ধর্মীয় অনুশাসনপ্রধান দেশগুলোর সমাজতাত্ত্বিক সূচক এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ অপরাধ পরিসংখ্যানের একটি বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ক্রাইম ও সেফটি ইনডেক্স: ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান

Numbeo-র আন্তর্জাতিক অপরাধ সূচক (Crime Index) অনুযায়ী স্কোর যত কম, দেশ তত নিরাপদ। অন্যদিকে সেফটি ইনডেক্স (Safety Index) যত বেশি, নাগরিক নিরাপত্তা তত উন্নত।

অঞ্চল ও দেশক্রাইম ইনডেক্স (২০২৬)সেফটি ইনডেক্স (২০২৬)গ্লোবাল পিস ইনডেক্স র‍্যাঙ্ক (২০২৬)
স্ক্যান্ডিনেভিয়া (ধর্মনিরপেক্ষ/নাস্তিকপ্রধান)
🇮🇸 আইসল্যান্ড২৫.৫৭৪.৫১ম (বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিময়)
🇩🇰 ডেনমার্ক২৬.২৭৩.৮১১তম
🇳🇴 নরওয়ে৩৩.৩৬৬.৭উচ্চ শান্তিময় ক্যাটাগরি
🇸🇪 সুইডেন৪৭.৯৫২.১মাঝারি (গ্যাং ক্রাইম বৃদ্ধি)
মধ্যপ্রাচ্য (ধর্মীয় অনুশাসনপ্রধান)
🇶🇦 কাতার১৫.২৮৪.৮শীর্ষ নিরাপদ (উপসাগরীয় অঞ্চল)
🇦🇪 সংযুক্ত আরব আমিরাত১৪.০৮৬.০শীর্ষ নিরাপদ (বিশ্বের অন্যতম সেরা)
🇸🇦 সৌদি আরব২৩.৩৭৬.৭উচ্চ নিরাপদ (অভ্যন্তরীণ স্ট্রিট ক্রাইম)
🇸🇾 সিরিয়া / 🇾🇪 ইয়েমেন৭০.০+নিম্নসর্বনিম্নে (যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্যাটাগরি)

২. অপরাধের ধরন ও সমাজতাত্ত্বিক সূক্ষ্ম পার্থক্য

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপরাধের ধরন ও সমাজ নিয়ন্ত্রণে উভয় অঞ্চলের পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন:

ক. উপসাগরীয় মধ্যপ্রাচ্য (GCC Countries)

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে ডাকাতি, চুরি বা খুনের মতো স্ট্রিট ক্রাইম বিশ্বের সর্বনিম্ন। এর মূল কারণ:

  • শাস্তির ভীতি ও কড়া নজরদারি: কঠোর শরিয়াহ ভিত্তিক আইনি ব্যবস্থা, দ্রুত বিচার এবং সর্বত্র এআই (AI) চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা।
  • উচ্চ মাথাপিছু আয়: মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বেশি থাকায় পেটের তাগিদে অপরাধ করার প্রবণতা নেই বললেই চলে।
  • ব্যতিক্রম: সিরিয়া বা ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কিন্তু গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের তলানিতে, কারণ সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।

খ. স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল (Nordic Countries)

আইসল্যান্ড বা ডেনমার্ক সামগ্রিক মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও জীবনের স্বাধীনতায় শীর্ষে থাকলেও সুইডেনের মতো দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রাইম ইনডেক্স বেড়ে ৪৭.৯ হয়েছে।

  • কারণ ও রিপোর্টিং: সুইডেনে অভিবাসী গ্যাং কালচার ও মাদক চোরাচালান বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। তাছাড়া এই দেশগুলোতে ছোটখাটো পারিবারিক বা মানসিক হ্যারাসমেন্টও কড়া আইনি অপরাধ হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়, যা পৃথিবীর অনেক দেশে লোকলজ্জা বা আইনি শিথিলতার কারণে আড়ালেই থেকে যায়।

৩. সমাজতাত্ত্বিক তুলনামূলক চিত্র

সমাজবিজ্ঞানের ‘অস্তিত্বগত নিরাপত্তা তত্ত্ব’ (Existential Security Theory) দিয়ে আস্তিক ও নাস্তিকপ্রধান দেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করা যায়:

সমাজতাত্ত্বিক সূচকউন্নত/ধর্মনিরপেক্ষ দেশ (যেমন: ডেনমার্ক, জাপান)ধর্মীয় অনুশাসনপ্রধান দেশ (যেমন: মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া)
সর্বোচ্চ ভরসার জায়গারাষ্ট্রীয় আইন, বিজ্ঞান, প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ও সোশ্যাল ট্রাস্ট।সৃষ্টিকর্তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গোত্রীয় ব্যবস্থা।
অস্তিত্বগত নিরাপত্তারাষ্ট্রই চিকিৎসা, শিক্ষা ও বেকারত্ব ভাতার শতভাগ গ্যারান্টি দেয়, তাই অলৌকিক শক্তির কাছে প্রার্থনার মানসিক তাগিদ কমে যায়।অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক সুরক্ষার অভাবে মানুষ ধর্মের মাঝে মানসিক শান্ত ও নিরাপত্তার আশ্রয় খোঁজে।
নৈতিকতার উৎসধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ (Secular Humanism): “আমি অপরাধ করব না কারণ এটি অন্যের ক্ষতি করে এবং সমাজবিরোধী।”ঐশ্বরিক পুরস্কার ও শাস্তি (Divine Law): পাপ-পুণ্যের হিসাব এবং পরকালের জবাবদিহিতার ভীতি।
সামাজিক বন্ধনপ্রাতিষ্ঠানিক, চুক্তিভিত্তিক ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী (Individualism)।ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামষ্টিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধ।
জনমিতি ও সম্পদউচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে জন্মহার কম। জনসংখ্যা কম থাকায় সম্পদের ওপর চাপ কম এবং শান্তি বজায় রাখা সহজ।ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত কারণে জন্মহার বেশি। সীমিত সম্পদের বিপরীতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা অনেক সময় সামাজিক অপরাধের জন্ম দেয়।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

বিজ্ঞানসম্মত সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এটাই প্রমাণ করে যে, সমাজে শান্তি বজায় রাখার জন্য মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বা অধার্মিক লেবেলের প্রয়োজন নেই। আসল বিষয়টি হলো—একটি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, জেন্ডার সমতা এবং উন্নত শিক্ষা দিতে পারছে কি না। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীল দেশগুলো কঠোর আইন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে অপরাধ দমন করেছে, আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো উচ্চ সামাজিক বিশ্বাস ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সমাজবিজ্ঞান, গ্লোবাল ক্রাইম ইনডেক্স এবং সমসাময়িক বিশ্বের যেকোনো নিখুঁত ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিশ্বসাহিত্য

নিউজ ডেস্ক

August 22, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন / সাহিত্য ও সংস্কৃতি / বই পর্যালোচনা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | সাহিত্য ও কন্টেন্ট বিশ্লেষক

বই কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তার জগৎ বদলে দেয়, কল্পনাশক্তি বাড়ায় এবং জীবনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখায়। শৈশবের ক্লাসিক অ্যাডভেঞ্চার থেকে শুরু করে আধুনিক ক্যারিয়ার গঠন কিংবা মনোবিজ্ঞান—প্রতিটি বইয়েরই রয়েছে নিজস্ব প্রভাব।

পাঠকদের পছন্দ, কালজয়ী প্রভাব এবং পেশাগত উন্নতির ওপর ভিত্তি করে সেরা কিছু বইয়ের শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পড়ার সহজ মাধ্যম নিচে তুলে ধরা হলো।

১. কালজয়ী বইয়ের মাস্টার ক্যাটাগরি ও প্রভাব

                                 [ বইয়ের ধারা ও মানসিক প্রভাব ]
                                               │
        ┌──────────────────────────────────────┼──────────────────────────────────────┐
        ▼                                      ▼                                      ▼
 [ ১. কালজয়ী গল্প ও অ্যাডভেঞ্চার ]        [ ২. ইতিহাস ও বাস্তব দলিল ]           [ ৩. আত্মউন্নয়ন ও দক্ষতা ]
  • আবেগ, কল্পনা ও জীবনসংগ্রাম            • অতীত সচেতনতা ও সমাজভাবনা             • ক্রিয়েটিভিটি, ফোকাস ও মাইন্ডসেট 
    শেখায় (যেমন: ট্রেজার আইল্যান্ড)।        বিকাশ করে (যেমন: একাত্তরের দিনগুলি)।     তৈরি করে (যেমন: অ্যাটমিক হ্যাবিটস)।

২. সেরা বইয়ের শ্রেণিবিন্যাস ও সংকলন

বইয়ের বিভাগউল্লেখযোগ্য বই ও লেখককেন পড়া উচিত / মূল উপজীব্য
কিশোর ক্লাসিক ও অ্যাডভেঞ্চারট্রেজার আইল্যান্ড – রবার্ট লুইস স্টিভেনসন
আঙ্কল টমস কেবিন – হারিয়েট বিচার স্টোয়ে
শৈশবের কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি, অবিচারের বিরুদ্ধে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত করা।
বাংলা সাহিত্য ও জীবনবোধপথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
হ য ব র ল – সুকুমার রায়
গ্রামীণ জীবনের চমৎকার চিত্রায়ন এবং বাংলা রসবোধের অনন্য অভিজ্ঞতা।
মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসজোছনা ও জননীর গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
একাত্তরের দিনগুলি – জাহানারা ইমাম
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বাস্তব ও মর্মস্পর্শী ইতিহাস বোঝা।
আত্মউন্নয়ন ও পার্সোনাল গ্রোথঅ্যাটমিক হ্যাবিটস – জেমস ক্লিয়ার
দ্য অ্যালকেমিস্ট – পাওলো কোয়েলহো
প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনা এবং জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া।
মনোযোগ ও ডিজিটাল পেশাডোপামিন ডিটক্স – থিবো মেরিসস্ক্রিনটাইম ও ডিজিটাল ডিসট্র্যাকশন কমিয়ে কাজে ফোকাস ধরে রাখা।

৩. অনলাইন থেকে ফ্রি বই পড়ার গাইডলাইন

অনলাইনে বিশাল ই-বুক লাইব্রেরি BDeBooks ব্যবহার করে সহজেই যেকোনো সময় বাংলা অনুবাদ ও বিশ্বসাহিত্যের বই পড়া যায়।

                       [ BDeBooks ব্যবহারের সহজ ৩টি ধাপ ]
                                       │
       ┌───────────────────────────────┼───────────────────────────────┐
       ▼                               ▼                               ▼
 [ ১. ব্রাউজ ও সার্চ ]          [ ২. ফরম্যাট নির্বাচন ]            [ ৩. ফ্রি ডাউনলোড ]
  • লেখক (A-Z) বা জনরা            • মোবাইল বা ট্যাবলেটের জন্য        • কোনো রেজিস্ট্রেশন বা 
    অনুযায়ী বই খুঁজুন।             PDF / EPUB ফরম্যাট।              ফি ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড।

প্ল্যাটফর্মের প্রধান সুবিধাসমূহ

  • বিশাল সংগ্রহ: প্রায় ১১,০০০+ বাংলা এবং ১৮,০০০+ ইংরেজি বইয়ের ই-বুক এখানে সাজানো আছে।
  • ক্যাটাগরি: উপন্যাস, গল্প, ইতিহাস, ইসলামি বই থেকে শুরু করে আত্মউন্নয়নমূলক সব ধরনের বই ফ্রিতে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

৪. সাহিত্য পর্যালোচনা ও ইনসাইডার টিপস

  1. মার্কেটিং ও হিউম্যান সাইকোলজি: যাঁরা প্রযুক্তি, কন্টেন্ট বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাথে যুক্ত, তাঁদের জন্য গল্প ও ইতিহাস পড়া অত্যন্ত কার্যকর। এটি মানুষের আচরণ ও মনস্তত্ত্ব (Human Psychology) বুঝতে গভীর সাহায্য করে।
  2. ফোকাস ধরে রাখা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং কাজের স্ট্রিমলাইন বজায় রাখে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনার শেষ কথা: সেরা বইয়ের তালিকা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভালো বইয়ের প্রভাব সর্বজনীন। একটি ভালো ক্লাসিক উপন্যাস যেমন মানুষের অনুভূতির রূপায়ণ ঘটায়, তেমনি একটি বাস্তবমুখী আত্মউন্নয়নমূলক বই জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মূর্তি v ভাস্কর্য

নিউজ ডেস্ক

August 17, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বিশেষ নিবন্ধ / আর্ট ও কালচার / বিশ্ব চিন্তা ও দর্শন

প্রকাশের সময়: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | রাত ১১:৫০ (বিএসটি)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ বিশ্লেষণাত্বক নিবন্ধ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় সমাজব্যবস্থায় ‘মূর্তি’ এবং ‘ভাস্কর্য’—এই দুটি শব্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে এটিকে প্রযুক্তিগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা করার প্রয়াস, অন্যদিকে শিল্পকলা ও নন্দনতত্ত্বের দিক থেকে উভয়কে একই সুতোয় বাঁধার প্রবণতা দেখা যায়।

কিন্তু প্রযুক্তিগত বিজ্ঞান, চারুকলার ইতিহাস এবং সামাজিক ব্যবহারের দিক থেকে এই দুটির আসল সম্পর্ক এবং পার্থক্য কী? একটি বস্তুনিষ্ঠ ও একাডেমিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. প্রযুক্তিগত ও উপাদানভিত্তিক সংজ্ঞা: শিল্প বনাম উদ্দেশ্য

কারিগরি বা প্রযুক্তিগত দিক থেকে যেকোনো ত্রিমাত্রিক (3D) বস্তুকে, যা খোদাই করে (Carving), ছাঁচে ঢেলে (Casting) বা সংযোগের (Assembly) মাধ্যমে রূপ দেওয়া হয়, তাকে চারুকলার ভাষায় ‘ভাস্কর্য’ (Sculpture) বলা হয়।

তবে এদের মূল বিভাজনটি তৈরি হয় ‘ব্যবহারগত উদ্দেশ্য’ এবং ‘অনুকৃতি’ (Representation)-র ওপর ভিত্তি করে:

                                 [ ত্রিমাত্রিক রূপ (3D Form) ]
                                               │
                      ┌────────────────────────┴────────────────────────┐
                      ▼                                                 ▼
            [ ভাস্কর্য (Sculpture) ]                             [ মূর্তি (Statue / Idol) ]
   • উদ্দেশ্য: নান্দনিক, স্মারক, বিমূর্ত ভাব প্রকাশ।         • উদ্দেশ্য: নির্দিষ্ট অবয়বের আরাধনা, স্মৃতি বা পূজা।
   • বৈচিত্র্য: বিমূর্ত (Abstract) বা জ্যামিতিক হতে পারে।    • বৈচিত্র্য: সর্বদা নির্দিষ্ট কোনো সজীব প্রাণী/দেবী।
   • মাধ্যম: ব্রোঞ্জ, লোহা, স্ক্র্যাপ, পাথর, গ্লাস।          • মাধ্যম: নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় অনুপাত, কষ্টিপাথর, ধাতু।
  • ভাস্কর্য (Sculpture): এটি একটি বিস্তৃত পরিভাষা। ভাস্কর্য কোনো জীবন্ত সত্তার অবয়ব হতে পারে, আবার সম্পূর্ণ বিমূর্ত (Abstract) বা জ্যামিতিক নকশাও হতে পারে। এর প্রাথমিক লক্ষ্য সৌন্দর্যবর্ধন, ধারণাগত চিন্তা প্রকাশ বা ঐতিহাসিক স্মৃতি ধরে রাখা।
  • মূর্তি (Statue/Idol): মূর্তি হলো ভাস্কর্যেরই একটি নির্দিষ্ট রূপ, যা সর্বদা কোনো সজীব বস্তু, মানুষ বা কাল্পনিক দেব-দেবীর অবয়বে তৈরি হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণত ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা (Iconography) বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্তাকে স্মরণ করা।

প্রযুক্তিগত সারসংক্ষেপ: কারিগরি বিচারে “সব মূর্তোই ভাস্কর্য, কিন্তু সব ভাস্কর্য মূর্তি নয়।”

২. শিল্পকলার বৈশ্বিক বিবর্তন ও রূপান্তর

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, আদিম যুগ থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত সময়ের সাথে সাথে মূর্তি ও ভাস্কর্যের প্রয়োগে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে।

  1. প্রাগৈতিহাসিক যুগ: মানুষের তৈরি প্রথম ত্রিমাত্রিক রূপগুলো ছিল প্রাকৃতিক শক্তিকে বশ করা বা উর্বরতার প্রতীক (যেমন: অস্ট্রিয়ার ‘ভেনাস অব উইলেনডর্ফ’)। এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক মূর্তিশিল্পের আদি রূপ বলা যায়।
  2. ধ্রুপদী যুগ (গ্রিক ও রোমান): এই যুগে শিল্পকলা কেবল দেব-দেবীর পূজার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে। মানবদেহের নিখুঁত শারীরস্থান (Anatomy) ও গতিশীলতা ব্যবহার করে অলিম্পিক বিজয়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ভাস্কর্য তৈরি শুরু হয়।
  3. আধুনিক ও সমকালীন যুগ: বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভাস্কর্য কোনো সজীব আকৃতি বা মূর্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়। স্টিল, ডিজিটাল আর্ট, প্লাস্টিক ও স্ক্র্যাপ মেটালের সমন্বয়ে তৈরি বিমূর্ত ভাস্কর্য এখন আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম অনুষঙ্গ।

৩. ভারতীয় উপমহাদেশের মূর্তিশিল্প ও এর গভীর সংকেত (Iconography)

দক্ষিণ এশিয়ার মূর্তিশিল্পের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশেষ করে তিনটি প্রধান রীতিনীতিতে কারিগরি দক্ষতা ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে:

ক. গান্ধার শিল্প (গ্রেকো-রোমান ও বৌদ্ধ ধারা)

কুষাণ যুগে বিকশিত এই শিল্পে প্রথম মানবীয় অবয়বে বুদ্ধের রূপদান করা হয়।

  • প্রতীকী উপাদান: মাথায় থাকা উষ্ণীষ পরম জ্ঞান, দুই ভ্রুর মাঝে থাকা ঊর্ণা দিব্যদৃষ্টি এবং প্রসারিত কানের লতি রাজকীয় অলংকার ত্যাগের চিহ্ন বহন করে।

খ. পাল শিল্প (কষ্টিপাথর ও প্রাচীন বাংলা)

৮ম থেকে ১২ শতকে প্রাচীন বাংলায় কষ্টিপাথর (Black Basalt) ও অষ্টধাতুর মূর্তিশিল্প চরম উৎকর্ষ লাভ করে।

  • অবলোকিতেশ্বর ও বিষ্ণু: বুদ্ধের হাতে থাকা পদ্ম সংসা‌রের মোহ থেকে মুক্তির প্রতীক। অপরদিকে বিষ্ণুর হাতে থাকা সুদর্শন চক্র মহাজাগতিক কালচক্র এবং গদা মানুষের অহংকার চূর্ণ করার প্রতীক।

গ. চোল ব্রোঞ্জ শিল্প (লস্ট-ওয়াক্স প্রযুক্তি)

দক্ষিণ ভারতে ‘লস্ট-ওয়াক্স কাস্টিং’ (Lost-Wax Technique) বা মোম গলিয়ে ছাঁচ তৈরির প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত নটরাজ (শিব) মূর্তি তৈরি হয়।

  • নটরাজের রূপক: ডান হাতের ডমরু দ্বারা সৃষ্টির সূচনা, বাম হাতের অগ্নি দ্বারা রূপান্তর ও ধ্বংস, এবং পায়ের নিচে থাকা অসুরের রূপ (অপস্মার) দ্বারা মানুষের অজ্ঞতা দমনের বার্তা প্রকাশ পায়।

৪. দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা: ইসলামি আইন শাস্ত্র ও সেক্যুলার নান্দনিকতা

মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে সামাজিক মতভেদের প্রধান কারণ হলো দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য:

দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রবিশ্লেষণ ও অবস্থান
ইসলামি তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি (Aniconism)ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকহের মতে, উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘মূর্তি’ এবং কেবল প্রদর্শনী বা স্মারক হিসেবে নির্মিত যেকোনো সজীব বস্তুর (মানুষ বা প্রাণী) ‘ভাস্কর্য’—উভয়ের ক্ষেত্রে সজীব রূপ সৃষ্টির বিষয়টিকে একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। ফলে ধর্মীয় নীতি অনুসারে যেকোনো সজীব বস্তুর অবয়ব তৈরি করা থেকে বিরত থাকার বিধান দেওয়া হয়।
সেক্যুলার ও চারুকলা দৃষ্টিভঙ্গিএই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাস্কর্যকে কেবল সংস্কৃতি, নান্দনিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও নাগরিক স্থাপত্যের রূপক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে উদ্দেশ্যকে মুখ্য ধরে ধর্মীয় অনুভূতির উপাসনার সাথে অনুষঙ্গহীন শিল্পকর্মকে আলাদা হিসেবে দেখা হয়।

সামাজিক বার্তা ও উপসংহার

মূর্তি ও ভাস্কর্য—উভয়েই মানব সভ্যতার বিবর্তনের সাথে যুক্ত প্রাচীন মাধ্যম। প্রযুক্তিগতভাবে এদের নির্মাণকৌশল এক হলেও, উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের জায়গা থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় এসব ঐতিহাসিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোকে গভীরভাবে বোঝা এবং পারস্পরিক সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তার পরিচয় দেয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত ২৪ জন কালজয়ী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব | আন্তর্জাতিক অর্জন ও ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

August 16, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বিশেষ ফিচার / জাতীয় ও আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশ

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ১১:৩০ (বিএসটি)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ ফিচার ও সম্মাননা ফাইল: ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে নিজেদের মেধা, মনন ও কর্মদক্ষতার শক্তিতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বহু কৃতি সন্তান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্থাপত্য, সাহিত্য, ক্রীড়া থেকে শুরু করে সমাজসেবা—বিশ্বের প্রতিটি প্রধান ক্ষেত্রে রয়েছে বাংলাদেশীদের অসামান্য অবদান

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা তেমনই ২৪ জন কালজয়ী ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের অনুপ্রেরণাদায়ক ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:

১. রাজনীতি, সমাজসেবা ও বিশ্ব নেতৃত্ব

  • শেখ মুজিবুর রহমান:

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫), যিনি সর্বসাধারণের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং শেখ মুজিব নামে পরিচিত, ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে প্রধান নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি. তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার আদায় এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রদান করেন।

সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • জন্ম: ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ (তৎকালীন ফরিদপুর জেলা)।
  • রাজনৈতিক দল: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (শুরুতে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন ও মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন)।
  • উপাধি: ১৯৬৯ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
  • ঐতিহাসিক অবদান: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ, যা বাঙালির স্বাধীনতার মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল এবং পরবর্তীতে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
  • শাসনকাল: স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্রপতি এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • লিখিত বইসমূহ: তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য ডায়েরি ও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়াচীন
  • প্রয়াণ: ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন।
  • ড. মুহাম্মদ ইউনুস: (জন্ম: ২৮ জুন ১৯৪০) হলেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার এবং সামাজিক উদ্যোক্তা. তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) এবং সামাজিক ব্যবসা (Social Business) ধারণার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত. ২০০৬ সালে তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন. পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন.

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

  • জন্ম ও শিক্ষা: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে দরিদ্র মানুষের ওপর একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করেন, যা ১৯৮৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক নামে আত্মপ্রকাশ করে।
  • নোবেল পুরস্কার: ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিরল সম্মান অর্জন করেন.
  • আন্তর্জাতিক সম্মাননা: তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল—উভয় পদকপ্রাপ্ত বিশ্বের অল্প কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন।
  • রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব: ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৮ই আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। গণতান্ত্রিক সংস্কার সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন। [
  • রচিত বইসমূহ: তাঁর লেখা বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকার টু দ্য পুওর (Banker to the Poor), ক্রিয়েটিং এ ওয়ার্ল্ড উইদাউট পভার্টি এবং এ ওয়ার্ল্ড অফ থ্রি জিরোস
  • স্যার ফজলে হাসান আবেদ:

তিনি (২৭ এপ্রিল ১৯৩৬ – ২০ ডিসেম্বর ২০১৯) ছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য বাংলাদেশী সমাজকর্মী এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক (BRAC)-এর প্রতিষ্ঠাতা. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত. ২০১০ সালে সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রাজপরিবার তাঁকে ‘নাইটহুড’ (KCMG) উপাধিতে ভূষিত করে, যার ফলে তিনি ‘স্যার’ উপাধি লাভ করেন.

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

  • জন্ম ও শিক্ষা: তৎকালীন সিলেটের হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন. তিনি পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন. পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেভাল আর্কিটেকচারে উচ্চশিক্ষা নেন এবং চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (ACMA) হিসেবে পেশাগত ডিগ্রি লাভ করেন.
  • ব্র্যাক (BRAC) প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জের শাল্লায় ভারত থেকে ফিরে আসা যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ (BRAC) প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নয়ন সংস্থা.
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব: গ্রামীণ জনপদে ডায়রিয়া নিরাময়ে ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট) বা ‘লবণ-গুড়ের স্যালাইন’ তৈরির শিক্ষা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে শিশু মৃত্যুহার কমাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন. তাঁর ব্র্যাক স্কুল বা অ-প্রাতিষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা মডেল বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত.
  • উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার প্রসারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (BRAC University) প্রতিষ্ঠা করেন. এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ (bKash) এবং আড়ং (Aarong) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলেন.
  • আন্তর্জাতিক পুরস্কারসমূহ: তিনি ১৯৮০ সালে রমন ম্যাগসেসে পুরস্কার, ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ (বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার), এবং ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত নাইটহুড অব দ্য অর্ডার অব দ্য নেদারল্যান্ডস লায়ন-সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন. বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালে তাঁকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করে.
  • প্রয়াণ: ২০১৯ সালের ২০শে ডিসেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে (বর্তমান এভারকেয়ার হাসপাতাল) ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন.
  • আইরিন খান:

ড. আইরিন জুবাইদা খান (জন্ম: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬) হলেন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এবং কূটনীতিবিদ, যিনি বর্তমানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করে। তিনি বিশ্বমঞ্চে মানবাধিকার রক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ চার দশক ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

  • জন্ম ও শিক্ষা: ঢাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত [হার্ভার্ড ল স্কুল](wikipedia.org School) থেকে পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল ও মানবাধিকার বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করেন।
  • অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (২০০১-২০০৯): তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ৭ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই সংস্থার প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম প্রধান। তাঁর মেয়াদে নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে বিশ্বব্যাপী ঐতিহাসিক আন্দোলন শুরু হয়।
  • আইডিএলও (২০১২-২০১৯): রোমভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন (IDLO)-এর প্রথম নারী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং টেকসই উন্নয়নে আইনের শাসন প্রয়োগের ধারণা জনপ্রিয় করেন। [
  • জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক (২০২০-২০২৬): ২০২০ সালের আগস্টে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক মত প্রকাশ ও মতামতের স্বাধীনতা বিষয়ক প্রথম নারী বিশেষ প্রতিবেদক (Special Rapporteur) নিযুক্ত হন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
  • বর্তমান ভূমিকা (২০২৬): জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, এলডিসি (LDC) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।
  • পুরস্কার ও সম্মাননা: নারীদের অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি শান্তি পুরস্কার (Sydney Peace Prize)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

২. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল

ব্যক্তিত্বমূল আবিষ্কার / অবদানআন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রভাব
ফজলুর রহমান খান (এফ আর খান)টিউবুলার স্ট্রাকচারাল সিস্টেম (সিয়ার্স টাওয়ার, জেদ্দা হজ্জ টার্মিনাল)।“স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইন” হিসেবে অভিহিত।
জামাল নজরুল ইসলামমহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে গবেষণা (The Ultimate Fate of the Universe)।কেমব্রিজ থেকে প্রকাশিত বই; স্টিফেন হকিংয়ের ঘনিষ্ঠ গবেষক বন্ধু।
এম জাহিদ হাসানপ্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক; ‘ভাইল ফার্মিয়ন’ কণার অস্তিত্ব আবিষ্কার।নেক্সট-জেনারেশন কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জনক।
মাকসুদুল আলমপাট, রাবার ও হাওয়াইয়ান পেঁপে গাছের জিনোম (জীবনরহস্য) উন্মোচন।বিশ্ব কৃষি ও উদ্ভিদ জিনবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত।
আবুল হুশশাম‘সনো আর্সেনিক ফিল্টার’ উদ্ভাবন।কোটি মানুষের বিষাক্ত পানি সমস্যা সমাধান; যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত।
আতাউল করিমলাইন স্পর্শ না করে ভাসমান ট্রেন (Maglev Train) সংক্রান্ত আবিষ্কার।বিশ্বখ্যাত গবেষণাপত্র ও একাধিক উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক পেটেন্ট।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা ভাষার মূল শিকড় গবেষণা।ফরাসি সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানজনক ‘নাইট’ উপাধি।

৩. সংস্কৃতি, অস্কার, বিনোদন ও ক্রীড়া

  • নাফিস বিন জাফর: প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে অস্কার (Scientific and Technical Academy Award) বিজয়ী বিজ্ঞানী। ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ডস এন্ড’ চলচ্চিত্রে ফ্লুইড অ্যানিমেশনের জন্য তিনি এই গৌরব অর্জন করেন।
  • সাকিব আল হাসান: বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একই সাথে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
  • পার্থ প্রতিম মজুমদার: বিশ্বখ্যাত মাকুশ অভিনয় বা মাইম শিল্পী। মুকাভিনয়ে অসাধারণ অবদানের জন্য ফ্রান্স সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে।
  • শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী। তাঁর তুলির আঁচড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গতিময়তা ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক গ্যালারিতে। তিনিও ফ্রান্সের নাইট উপাধি লাভ করেন।
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন: আধুনিক দক্ষিণ এশীয় চিত্রকলার পথিকৃৎ। ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ (Famine Sketches)-এর মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক শিল্পকলায় চিরস্থায়ী স্থান করে নেন।
  • তারেক মাসুদ: আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর নির্মিত ‘মাটির ময়না’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।

৪. আন্তর্জাতিক টেক-উদ্যোক্তা ও শেফ

  • জাওয়াদ করিম: ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইউটিউব’ (YouTube)-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা। অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ও বিনোদন জগতে যা এনে দিয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
  • সালমান খান: বিশ্বজুড়ে অনলাইন শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ নিখরচা মাধ্যম ‘খান একাডেমি’ (Khan Academy)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ফ্রি অনলাইন শিক্ষা প্রযুক্তি কোটি কোটি শিক্ষার্থীর বিশ্বমানের শিক্ষা সুনিশ্চিত করেছে।
  • টমি মিয়া: যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে দক্ষিণ এশীয় রন্ধনশিল্প প্রসারের রূপকার। তাঁকে ব্রিটিশ কারি শিল্পের অন্যতম আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি বলা হয়।

৫. অবিভক্ত বাংলার কৃতি সন্তান (পৈতৃকসূত্রে বাংলাদেশী সংযোগ)

ইতিহাসের স্বাভাবিক বিবর্তনে যাঁদের কর্মক্ষেত্র পরবর্তীতে ভারতে স্থানান্তরিত হলেও তাঁদের শিকড় ও জন্মস্থান ছিল তৎকালীন এই বাংলাদেশে:

  • জগদীশ চন্দ্র বসু: বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী; গাছের প্রাণ আবিষ্কারক এবং বেতার তরঙ্গের (রেডিও) অন্যতম প্রধান অগ্রদূত।
  • সত্যেন্দ্রনাথ বোস: পদার্থবিজ্ঞানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় কোয়ান্টাম মেকানিক্সে ‘বোসন কণা’ (Boson Particle) ও বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিক্স আবিষ্কার করেন।
  • মেঘনাদ সাহা: জ্যোতির্বিজ্ঞানী; যার উদ্ভাবিত ‘সাহা আয়নীভবন সমীকরণ’ তারকার গঠন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়।
  • অমর্ত্য সেন: অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী। জনকল্যাণমূলক অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষ গবেষণায় তাঁর কাজ বিশ্বনন্দিত (তাঁর পৈতৃক নিবাস মানিকগঞ্জ)।
  • সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক: বিশ্ব চলচ্চিত্রের তিন বিখ্যাত পরিচালক। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস ছিল ময়মনসিংহে, যার চলচ্চিত্র অস্কারজয়ী বিশ্বমানের সম্পদ।

সম্পাদকীয় সারসংক্ষেপ:

বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক প্রযুক্তির যুগ পর্যন্ত—বাঙালিদের মেধা ও বিশ্বমঞ্চে তাদের নেতৃত্ব বারবার প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ থেকে শুরু করে নোবেল, অস্কার কিংবা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন—বাঙালি তার অস্তিত্ব ও সক্ষমতার ছাপ বিশ্বজুড়ে রেখে চলেছে।

তথ্যসূত্র (Sources & Archives):

  1. Nobel Prize Official Archives (Peace & Economics).
  2. Academy of Motion Picture Arts and Sciences (Scientific & Technical Awards Archive).
  3. National Academy of Sciences & Cambridge University Press Publications.
  4. ICC (International Cricket Council) Player Rankings Archives.

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ