ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ব্রিটিশ সরকারের ১৯১২ সালের রাজকীয় ঘোষণার পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন। তৎকালীন সময়ে কোনো ছাত্রী সরাসরি ভর্তি না হলেও পরবর্তীতে প্রথম ছাত্রী হিসেবে লীলা নাগ ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ইতিহাস গড়েন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন: মূল উদ্যোক্তাদের তালিকা
অনেকেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা একক কোনো ব্যক্তি, তবে মূলত এটি ছিল যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। প্রতিষ্ঠার পেছনে ৩ জন মুসলিম নেতার অবদান সবচেয়ে বেশি:
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ: তিনিই প্রথম পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি তোলেন।

- নবাব স্যার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আর্থিক সহায়তা এবং ব্রিটিশদের সাথে লবিংয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক: রাজনৈতিক ও আইনিভাবে ব্রিটিশ সরকারকে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
শুরুর দিকের অনুষদ, বিভাগ ও শিক্ষক সংখ্যা
১৯২১ সালের ১ জুলাই যখন “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাস শুরু হয়, তখন এর অ্যাকাডেমিক কাঠামো ছিল অত্যন্ত গোছানো:
- অনুষদ ও বিভাগ: শুরুতে এর অনুষদ (Faculty) ছিল মাত্র ৩টি—কলা (Arts), বিজ্ঞান (Science) এবং আইন (Law)। আর মোট বিভাগ ছিল ১২টি।
- শিক্ষক ও হল সংখ্যা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (VC) ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ। শুরুর দিকে শিক্ষক ছিলেন ৬০ জন এবং শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হল ছিল মাত্র ৩টি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল)।
প্রথম শিক্ষাবর্ষের (১৯২১) মূল পরিসংখ্যান ম্যাট্রিক্স
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষাবর্ষের (১৯২১ সালের ১ জুলাই) মূল পরিসংখ্যান নিচে ম্যাট্রিক্স বা ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
মূল পরিসংখ্যান ম্যাট্রিক্স (১৯২১)
| সূচক / খাত | বিবরণ ও সংখ্যা |
|---|---|
| মোট অনুষদ (Faculties) | ৩টি (কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) |
| মোট বিভাগ (Departments) | ১২টি |
| মোট ছাত্র সংখ্যা (Students) | ৮৭৭ জন (মতান্তরে ৮৪৭ জন) |
| ছাত্রী সংখ্যা (Female Students) | ১ জন (লীলা নাগ) |
| মোট শিক্ষক সংখ্যা (Teachers) | ৬০ জন |
| আবাসিক হল/ছাত্রাবাস (Halls) | ৩টি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল) |
| প্রথম উপাচার্য (Vice-Chancellor) | স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ (পি. জে. হার্টগ) |
অনুষদ ও বিভাগসমূহের বিস্তারিত বিভাজন
- কলা অনুষদ (৮টি বিভাগ): সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, এবং অর্থনীতি ও রাজনীতি.
- বিজ্ঞান অনুষদ (৩টি বিভাগ): পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, এবং গণিত.
- আইন অনুষদ (১টি বিভাগ): আইন বিভাগ.
এই ক্ষুদ্র অবকাঠামো ও পরিসংখ্যান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অথবা এর প্রথম সমাবর্তন (১৯২৩) সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে নিচে লিখে জানাতে পারেন।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এসইও এক্সপার্ট হিসেবে সাধারণ জ্ঞানের এই ডাটাগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি দেখেছি—বিভিন্ন পরীক্ষায় একক নাম হিসেবে ‘নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’ অপশনে বেশি থাকে। তবে স্যার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর অবদানও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জমিদারির অংশ পর্যন্ত বাজি রেখেছিলেন। তাই কপি-পেস্ট করে পাবলিশ করার আগে অপশনগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): ইতিহাস, রাজনীতি ও বায়োগ্রাফি
- প্রকাশের তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): প্রখ্যাত রাজনৈতিক ইতিহাস নথিপত্র, আর্কাইভাল রেকর্ড ও পারিবারিক ইতিহাস গাইড।
একটি পরিবারের বা ব্যক্তির পৈতৃক শিকড়, জন্মস্থান, কর্মস্থল, স্থায়ী বসবাস এবং মৃত্যুর পর সমাহিত হওয়ার স্থান—এই বিষয়গুলো ইতিহাস ও জীবনযাত্রার ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় নির্দেশ করে। চাকরি, ব্যবসা, রাজনীতি কিংবা দেশভাগের মতো ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনধারা স্থানান্তরিত হওয়া ইতিহাসজুড়ে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের পারিবারিক ইতিহাস এবং তাঁর দাদা-দাদির করাচিতে সমাহিত হওয়ার মূল কারণও এই ঐতিহাসিক ও পেশাগত পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
১. পৈতৃক শিকড় ও পরিবারের ধারাবাহিকতা

বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক পরিবার মূলত বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
- পৈতৃক মূল রূপরেখা: জিয়াউর রহমানের নিজের দাদা মৌলভী কামালউদ্দিন মণ্ডল বগুড়ার মহিষাবান এলাকা থেকে বাগবাড়ীতে আগমন করেন এবং মেহেরুন্নিসাকে বিয়ে করেন। তিনি বাগবাড়ী মাইনর স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- জিয়াউর রহমানের জন্ম: ১৯৩৬ সালে জিয়াউর রহমান বগুড়ার বাগবাড়ীতেই জন্মগ্রহণ করেন।
- মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন: জিয়াউর রহমানের বাবা মনসুর রহমান ছিলেন পেশায় একজন রসায়নবিদ এবং তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
২. দেশভাগ, চাকরি ও করাচিতে স্থানান্তরের প্রেক্ষাপট
মনসুর রহমান ব্রিটিশ আমলে কলকাতার একটি সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- দেশভাগের প্রভাব (১৯৪৭): ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হলে মনসুর রহমান সরকারি চাকরি সূত্রে এবং পরিবারসহ তৎকালীন পাকিস্তানের নতুন রাজধানী করাচিতে স্থানান্তরিত হন।
- জিয়াউর রহমানের শৈশব ও শিক্ষা: জিয়াউর রহমানও তখন বাবার কর্মস্থল সূত্রে করাচিতে যান এবং সেখানেই তাঁর স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কবরের অবস্থান: ১৯৪৭ সালের পর মনসুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খাতুন (তারেক রহমানের দাদা ও দাদি) করাচীতেই স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁদের দাফন করাচিতে সম্পন্ন হয়।
৩. ইতিহাসে পৈতৃক শিকড় ও দাফনের স্থানের বৈচিত্র্যের নজির

পৈতৃক শিকড় বা জন্মভূমি এক জায়গায়, কিন্তু জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে দাফন বা শেষ শয্যা অন্য দেশে হওয়া ইতিহাসে কোনো বিরল ঘটনা নয়। মানব ইতিহাসের হাজার বছর ধরে যুদ্ধ, রাজনৈতিক নির্বাসন, সাম্রাজ্য বিস্তার, পেশাগত কারণ এবং দেশভাগের মতো ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন বৈচিত্র্য দেখা গেছে।
| ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব | পৈতৃক শিকড় / জন্মস্থান | শেষ জীবন / সমাহিত হওয়ার স্থান |
| কাজী নজরুল ইসলাম | চুরুলিয়া, বর্ধমান (ভারত) | ঢাকা, বাংলাদেশ |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পূর্ববঙ্গের জমিদারি অঞ্চল (শিলাইদহ/শাহজাদপুর) | কলকাতা, ভারত |
| শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক-এর পরিবার: শিকড় বাকেরগঞ্জ (বরিশাল), চাচার কবর কলকাতায় | বরিশাল | বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের পৈতৃক শিকড় বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল (তৎকালীন বাকেরগঞ্জ) অঞ্চলে হলেও তাঁর চাচা ও ওস্তাদ ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দি সুরাওয়ার্দীর মতো পরিবারের অনেক সদস্যের কর্মজীবন ও শেষ শয্যা হয়েছিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার রাজধানী কলকাতায়। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী এবং বড় শহরের কেন্দ্রিকতার কারণে এটি ঘটেছিল। |
| মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ | গুজরাট (ভারত) | করাচি, পাকিস্তান |
| হযরত ইব্রাহিম (আ.) | মেসোপটেমিয়া (ইরাক) | হেবরন (ফিলিস্তিন/ইসরায়েল) |
ইতিহাসের পাতা থেকে পৈতৃক শিকড় ও দাফনের স্থানের বৈচিত্র্যের আরো ৪ টি উল্লেখযোগ্য নজির নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর: পৈতৃক শিকড় দিল্লি, দাফন ইয়াঙ্গুন (মিয়ানমার)
মুঘল রাজবংশের পৈতৃক শিকড় ছিল ভারতের দিল্লি এবং আগ্রা কেন্দ্রিক। তবে সিপাহি বিদ্রোহের (১৮৫৭) পর ব্রিটিশরা শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বর্তমান ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমার) নির্বাসিত করে। ১৮৬২ সালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং ব্রিটিশরা অত্যন্ত গোপনে একটি গ্যারিসনের কাছে তাঁকে সমাহিত করে। বর্তমান যুগেও তাঁর মাজার মিয়ানমারে একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান।
২. বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন: পৈতৃক শিকড় জার্মানি, শেষকৃত্য নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
সর্বকালের অন্যতম সেরা এই বিজ্ঞানীর পৈতৃক শিকড় ও জন্ম ছিল জার্মানিতে। তবে ১৯৩০-এর দশকে নাৎসি বাহিনীর উত্থান এবং ইহুদি নিধনের প্রেক্ষাপটে তিনি জার্মানি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে নিউ জার্সির প্রিন্সটনে তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো জাঁকজমকপূর্ণ কবর না বানিয়ে মৃতদেহ পুড়িয়ে ছাই বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
৩. কার্ল মার্ক্স: পৈতৃক শিকড় জার্মানি, দাফন লন্ডন (যুক্তরাজ্য)
সমাজতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা কার্ল মার্ক্সের পৈতৃক শিকড় ও জন্ম ছিল জার্মানির প্রুশিয়ায়। তাঁর বৈপ্লবিক রাজনৈতিক লেখার কারণে তিনি জার্মানি, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম থেকে বহিষ্কৃত হন। জীবনের শেষ তিন দশক তিনি লন্ডনে কাটান এবং ১৮৮৩ সালে সেখানেই মারা যান। লন্ডনের বিখ্যাত হাইগেট সেমেটারিতে (Highgate Cemetery) তাঁর সমাধি অবস্থিত।
৪. মুঘল সম্রাট বাবর: পৈতৃক শিকড় ফারগানা (উজবেকিস্তান), জন্ম ও মৃত্যু ভারত, চূড়ান্ত দাফন কাবুল (আফগানিস্তান)
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের পৈতৃক শিকড় ছিল মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তানের ফারগানা উপত্যকায়। তিনি ভারত জয় করে সাম্রাজ্য গড়েন এবং ১৫৩০ সালে ভারতের আগ্রায় মারা যান। প্রথমে তাঁকে আগ্রার আরামবাগে দাফন করা হলেও, তাঁর পূর্ব ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তীতে তাঁর দেহাবশেষ আফগানিস্তানের কাবুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং “বাগ-ই-বাবর” (বাবরের বাগান) নামক স্থানে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করা হয়।
এই বৈচিত্র্যের মূল কারণগুলো কী কী?
- ভূ-রাজনৈতিক সীমানা পরিবর্তন: ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ বা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার মতো ঘটনার কারণে বহু মানুষের পৈতৃক ভিটা এক দেশে আর বর্তমান নাগরিকত্ব বা শেষ ঠিকানা অন্য দেশে পরিণত হয়েছে।
- পেশাগত স্থানান্তর: ব্রিটিশ আমল বা পাকিস্তান আমলে চাকুরিসূত্রে এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে গিয়ে স্থায়ী হয়েছেন এবং সেখানেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
- রাজনৈতিক নির্বাসন: ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা যুদ্ধের কারণে ইতিহাসের বহু রাজপরিবার বা রাজনৈতিক নেতাকে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে এবং সেখানেই সমাহিত হতে হয়েছে।
মূল নির্যাস
পৈতৃক শিকড়, জন্মস্থান, বসবাসের স্থান, কর্মস্থল, মৃত্যুর স্থান এবং সমাহিত হওয়ার স্থান—এই ছয়টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কোনো ব্যক্তির পরিবারের কেউ ভিন্ন দেশে সমাহিত হওয়া মানে এই নয় যে তাঁর ঐতিহাসিক বা পারিবারিক পৈতৃক শিকড় বদলে গেছে। তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও বগুড়া তাঁর বংশানুক্রমিক পৈতৃক মাটি, আর করাচীতে তাঁর দাদা-দাদির সমাহিত হওয়াটা ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং সরকারি চাকরির ঐতিহাসিক স্থানান্তরের একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদনের শিরোনাম: মহান মুক্তিযুদ্ধ: প্রথম শহীদ, বীরশ্রেষ্ঠদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা
- প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় ঐতিহ্য
- প্রকাশের তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও জাতীয় ইতিহাস মহাফেজখানা।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, কোটি মানুষের ত্যাগ এবং হাজারো অকুতোভয় সেনানী ও সাধারণ মানুষের বীরত্বগাথার ঐতিহাসিক মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বরের চূড়ান্ত বিজয়—বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে রয়েছে রক্তঝরা ইতিহাস।
১. স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তিম সূচনা: প্রথম শহীদ শঙ্কু সমজদার

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ—বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারা দেশে তখন তীব্র অসহযোগ আন্দোলন ও সর্বাত্মক হরতাল চলছিল। সেদিন রংপুরের কাচারি বাজার থেকে স্বাধিকারের দাবিতে বের হওয়া এক উত্তাল মিছিলে যোগ দিয়েছিল কৈলাশ রঞ্জন স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শঙ্কু সমজদার।
মিছিলটি আলমনগর ও জাহাজ কোম্পানির মোড় অতিক্রম করার সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী অ-বাঙালিদের অতর্কিত গুলিতে রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। ঘটনাস্থলেই অকাতরে প্রাণ ঢেলে দেন কিশোর শঙ্কু। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি-ই মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ ও প্রথম শিশু শহীদ। পরবর্তীতে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে এই ঐতিহাসিক মর্যাদা প্রদান করা হয়।
২. সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতীক: সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন মহান সন্তানকে দেওয়া হয় দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’।
- প্রথম ও শেষ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ: মুক্তিযুদ্ধে সর্বপ্রথম শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হলেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআর) ল্যান্স নায়ক মুন্সী আব্দুর রউফ (৮ এপ্রিল, ১৯৭১)। তবে সাধারণ জ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রে অপশনে তাঁর নাম না থাকলে সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে (১৮ এপ্রিল, ১৯৭১) বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শত্রুর মুখোমুখি যুদ্ধে শহীদ হন সর্বশেষ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর (১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১)।
সাত বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষেপিত পরিচিতি ও সমাধিস্থল
| নাম ও পদবি | বাহিনী ও সেক্টর | শাহাদাতের তারিখ | চিরনিদ্রায় শায়িত যেখানে |
| ল্যান্স নায়ক মুন্সী আব্দুর রউফ | ইপিআর (১ নং সেক্টর) | ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ | বুড়িঘাট, নানিয়ারচর, রাঙামাটি |
| সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল | সেনাবাহিনী (২ নং সেক্টর) | ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ | দরুইন গ্রাম, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান | বিমানবাহিনী | ২০ আগস্ট, ১৯৭১ | মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, ঢাকা |
| ল্যান্স নায়ক নূর মোহাম্মদ শেখ | ইপিআর (৮ নং সেক্টর) | ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ | কাশীপুর, শার্শা, যশোর |
| সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান | সেনাবাহিনী (৪ নং সেক্টর) | ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ | মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, ঢাকা |
| ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার-১ মোহাম্মদ রুহুল আমিন | নৌবাহিনী (১০ নং সেক্টর) | ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ | বাগমারা, রূপসা, খুলনা |
| ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর | সেনাবাহিনী (৭ নং সেক্টর) | ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ | সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
৩. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ঐতিহাসিক শাহাদাত

পাকিস্তানের রিসালপুর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন ৭ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর। ডিসেম্বরের শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শত্রুমুক্ত করার অভিযানের নেতৃত্ব দেন তিনি।
১৪ ডিসেম্বর সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক দোতলা ভবন থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি ভারী মেশিনগান থেকে অবিরাম গুলি বর্ষণ হচ্ছিল, যা মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এগুনো অসম্ভব করে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর এক হাতে এসএমজি এবং অন্য হাতে গ্রেনেড নিয়ে বুক ডলে হামাগুড়ি (ক্রলিং) দিয়ে শত্রুর বাঙ্কারের একদম কাছে পৌঁছে যান। প্রখর নিশানায় গ্রেনেড ছুঁড়ে শত্রুর মেশিনগান পোস্টটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক সেই মুহূর্তেই পাশের ভবন থেকে এক পাকিস্তানি স্নাইপারের বুলেট তাঁর কপালে এসে বিদ্ধ হয়। দেশের এই অকুতোভয় বীর বাঙ্কারের সামনেই শাহাদাতবরণ করেন, যার পরদিনই (১৫ ডিসেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়।
৪. রণাঙ্গনের অবিশ্বাস্য সব বীরত্বগাথা

- নৌ-কমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’: ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে খালি গায়ে, পায়ে ফিন্স ও বুকে লিম্পেট মাইন বেঁধে সাঁতরে গিয়ে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একযোগে হামলা চালান বীর নৌ-কমান্ডোরা। তাঁদের গুঁড়িয়ে দেওয়া ২৬টি ধান ও অস্ত্রবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় বিশ্ব।
- ঢাকার বুকে আতঙ্কের নাম ‘ক্র্যাক প্লাটুন’: ঢাকার তরুণ গেরিলা যোদ্ধাদের গঠিত ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ অবরুদ্ধ রাজধানীতে একের পর এক দুঃসাহসিক অপারেশন চালায়। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বড় বড় নিরাপত্তা চৌকিতে তাদের সফল গ্রেনেড হামলা পাকিস্তানি বাহিনীকে সার্বক্ষণিক আতঙ্কে রাখত।
- অস্ত্র হাতে নারীদের প্রতিরোধ: তারামন বিবি (বীর প্রতীক) সরাসরি রণাঙ্গনে শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন। ডা. সিতারা বেগম ফিল্ড হাসপাতাল পরিচালনা করে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছেন এবং অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেও কাঁকন বিবি বিশটিরও বেশি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: ইথারের তরঙ্গে ‘চরমপত্র’ (এম আর আখতার মুকুল) এবং উদ্দীপনামূলক দেশাত্মবোধক গানগুলো ছিল রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের জন্য আসল অক্সিজেন।
- বিদেশী বন্ধুদের অবদান: জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়। এছাড়া বাটা সু কোম্পানির অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তা ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড গোপনে অস্ত্র ও তথ্য দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন, যিনি একমাত্র বিদেশী হিসেবে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।
উপসংহার
বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো উপহার ছিল না; এটি ছিল সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী ও অকুতোভয় সেনাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক লাল-সবুজ পতাকা। আজ আমরা যে স্বাধীন দেশে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, তা শঙ্কু সমজদার থেকে শুরু করে সাত বীরশ্রেষ্ঠ এবং ৩০ লাখ শহীদের মহান আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতি ও দর্শন
- প্রকাশের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, বিবিসি (BBC), দ্য সেন্ট্রাল তিব্বতান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CTA) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আর্কাইভ।
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (GPA-5) না পেলে কিংবা দেশের শীর্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে জীবন বুঝি সেখানেই থমকে যায়। কিন্তু এই চেনা ধারণার বাইরে গিয়ে জিপিএ-৩.৫৭ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন এক বাঙালি তরুণ। তিনি আর কেউ নন, নরসিংদীর মনোহরদীর ছেলে ড. আল ইমরান (Al Emran)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে প্রথমে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

আজকের এই কন্টেন্টে আমরা জানবো কীভাবে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি মুছে একজন সাধারণ ছাত্র থেকে তিনি আজকের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন।
১. শৈশবের স্বপ্ন এবং শুরুর ধাক্কা
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আল ইমরানের। বাবা ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই জোছনা রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ইমরান ভাবতেন, মানুষ কীভাবে চাঁদে গেল? আমিও কি কোনোদিন পারবো?
কিন্তু তার এই বড় স্বপ্নের পথে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৪ সালে খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাত্র জিপিএ ৩.৫৭ পেয়ে এসএসসি এবং ২০০৬ সালে জিপিএ ৪.৪ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। রেজাল্ট কম থাকার কারণে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে (BUET) ভর্তি পরীক্ষাই দিতে পারেননি তিনি।
২. অনার্সে এসে নিজেকে বদলে ফেলা
বুয়েটে পরীক্ষা দিতে না পেরে ইমরান ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। তবে সেখানেও এক বছর পড়ার পর নিজের মূল ভালো লাগার জায়গা খুঁজে পেতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন ইমরান। যে ছেলেটি স্কুল-কলেজে সাধারণ মানের ছাত্র ছিলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন! অনার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৬৯ এবং মাস্টার্সে ৩.৯৭।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিল, কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখেছিল
মাস্টার্স শেষ করার পর আল ইমরানের তীব্র ইচ্ছা ছিল নিজের বিভাগেই (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার। এজন্য তিনি একাধিকবার আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়নি।
এই প্রত্যাখ্যান ইমরানকে মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত করেছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। দেশে সুযোগ না পেয়ে তিনি চোখ ফেরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির চেয়ে গবেষণার বাস্তব যোগ্যতা অনেক বেশি শক্তিশালী।
৪. পিএইচডি এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি
২০১৭ সালে ইমরান পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। Auburn University থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস (University of Arkansas) থেকে স্পেস অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স-এ সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল স্যাটেলাইট ডাটা, মেশিন লার্নিং এবং ল্যাবরেটরি এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহ (Mars) ও প্লুটোর (Pluto) পৃষ্ঠের গঠন উন্মোচন করা। তার এই অসাধারণ গবেষণাপত্রগুলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।
৫. নাসার দরজা জয় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ড. আল ইমরান বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে (JPL) পোস্টডক্টরাল ফেলো (Planetary Astronomer) হিসেবে যোগ দেন। যে তরুণকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি তখন নাসায় বসে বুধ, মঙ্গল, ইউরোপা এবং শনির উপগ্রহের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন!

সর্বশেষ ২০২৬ সালের আপডেট:
নাসায় ৩ বছর সফলভাবে কাজ করার পর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ড. আল ইমরান আরও একধাপ এগিয়ে যান। তিনি বর্তমানে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ Aerospace Systems Engineer III এবং Planetary Scientist হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি চাঁদের মাটিতে স্পেস রিসোর্স বা খনিজ সম্পদের অবস্থান মূল্যায়ন করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লুনার মিশনে (Lunar Mission) কাজ করছেন।
ড. আল ইমরানের জীবন থেকে আমাদের কী শেখার আছে?

ড. আল ইমরানের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্পটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য কয়েকটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা দেয়:
- জিপিএ বা ভর্তি পরীক্ষা জীবনের শেষ কথা নয়: স্কুল-কলেজের রেজাল্ট খারাপ মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
- প্রত্যাখ্যানই নতুন পথের জন্ম দেয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে শিক্ষক হিসেবে না নেওয়ায় সেদিন হয়তো তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানই আজ তাকে নাসা ও ব্লু অরিজিনের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
- দক্ষতা ও গবেষণার শক্তি: সার্টিফিকেট বা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করা এবং একাগ্রচিত্তে নিজের লক্ষ্যে লেগে থাকাটাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।
উপসংহার
ড. আল ইমরান প্রমাণ করেছেন যে, সততা, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে নরসিংদীর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্ব কাঁপানো মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব। তার এই গল্প আমাদের প্রতিটি হতাশ তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



