আন্তর্জাতিক

বিশেষ বিশ্লেষণ: দুই বাংলার ক্ষমতার লড়াইয়ে তারকারা; ২০২৬ নির্বাচনে কার ভাগ্য সুপ্রসন্ন, কার বিদায়?
তারুণ্যের জয়জয়কার

নিউজ ডেস্ক

May 15, 2026

শেয়ার করুন

বিনোদন ও রাজনীতি ডেস্ক | ১৫ মে, ২০২৬

ঢাকা/কলকাতা: ২০২৬ সালটি দুই বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় পালাবদলের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং চলতি মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ক্রীড়া, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকার ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। দুই দেশের নির্বাচনী ময়দান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠিত মহাতারকা রাজনীতির পিচ থেকে ছিটকে পড়েছেন, আবার রাজনীতিতে নাম লিখিয়েই বাজিমাত করেছেন একদল নতুন মুখ।

১. বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬: তারুণ্যের জয়জয়কার ও সাবেক তারকাদের পতন

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

  • বিগত তারকাদের প্রস্থান: দ্বাদশ সংসদে দাপিয়ে বেড়ানো তারকা সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, ফেরদৌস আহমেদ এবং আসাদুজ্জামান নূর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনবিচ্ছিন্নতা ও দলীয় প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণেই এই ‘হেভিওয়েট’ তারকারা দৃশ্যপট থেকে ছিটকে গেছেন (সূত্র: এন.উইকিপিডিয়া)।
  • সংসদ সদস্যের দৌড়ে কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন: দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারের পর এবার আইনি কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর তথা জাতীয় সংসদে যাওয়ার চূড়ান্ত দৌড়ে শামিল হয়েছেন দেশের দুই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা এবং বেবী নাজনীন গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) পদের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তারা । আজ ১৫ মে, ২০২৬ তারিখ দলটির গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও তারকাদের প্রত্যাবর্তন

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে । সংসদের সাধারণ আসনগুলোর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া।

  • কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা: ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির চূড়ান্ত দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কনকচাঁপা। তবে সে সময়কার রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে তিনি জয়ী হতে পারেননি। এবার সংরক্ষিত আসনে দলের হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি বেশ জোরালো অবস্থানে রয়েছেন।
  • ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ বেবী নাজনীন: দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জাসাস’ (JASAS)-এর কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই কণ্ঠশিল্পী। বিগত দেড় দশক ধরে দলের ক্রান্তিকালে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের নীতি তুলে ধরতে তিনি অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সংরক্ষিত আসনের জন্য তার নাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনী ফলাফলের রেশ ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিগত দ্বাদশ সংসদের আমলের সেলিব্রিটি বা তারকা সাংসদদের (যেমন: ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বা অভিনেতা ফেরদৌস) বিতর্কিত ভূমিকার পর, এবারের সংসদে এমন তারকাদের বেছে নেওয়া হচ্ছে যাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক আনুগত্য ও রাজপথের সক্রিয়তা রয়েছে । সেই দিক থেকে কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন দুইজনেই অগ্রগণ্য।

দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া

বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটির প্রাপ্ত আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী সাংসদদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। চলতি সপ্তাহেই দলের মনোনয়ন বোর্ড সকল প্রার্থীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনের (EC) কাছে জমা দেবে। দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের এই দুই নক্ষত্র শেষ পর্যন্ত সংসদের গালিচায় পা রাখতে পারেন কি না, তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তাদের কোটি ভক্ত অনুরাগী।


  • নাহিদ ও মেঘনা আলম চমক:

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের জয়জয়কার দেখা গেছে। প্রচলিত ও চেনা রাজনীতির চেনা সমীকরণ ভেঙে দিয়ে এবারের সংসদের সবচেয়ে বড় দুই চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির তরুণ নেতা নাহিদ ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে লড়াই করা বিশিষ্ট মডেল ও অ্যাক্টিভিস্ট মেঘনা আলম। আজ ১৫ মে, ২০২৬ তারিখে নবগঠিত সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রাক্কালে এই দুই তরুণ জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

১. রাজপথ থেকে সংসদ: সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ নাহিদ ইসলাম

চব্বিশের গণ-আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রূপকার ও জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম নির্বাচন জয়ের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

  • ভোটের মাঠে লড়াই: নির্বাচন বয়কট এবং পুরোনো দলগুলোর আধিপত্যের রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে নাহিদ ইসলাম তরুণদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হন en.wikipedia.org, yahoo.com。
  • রাজনৈতিক তাৎপর্য: কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত সনাতনী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা পারিবারিক উত্তরাধিকার ছাড়াই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে সরাসরি জাতীয় সংসদে যাওয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংসদে তরুণদের অধিকার রক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।

২. গ্ল্যামার জগত থেকে গণমানুষের অধিকার: মেঘনা আলম

এবারের নির্বাচনের আরেকটি সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢাকা-৮ আসনে মডেল ও সমাজকর্মী মেঘনা আলমের সাহসী অংশগ্রহণ।

  • সাহসী পদচারণা: গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নামার পর থেকেই তিনি তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেন । ফ্যাশন ও গ্ল্যামার জগতের পরিচিত মুখ হয়েও তিনি যেভাবে ঢাকার বস্তিবাসী, শ্রমজীবী ও সাধারণ নারীদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছেন, তা সাধারণ ভোটারদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে।
  • নতুন ধারার রাজনীতি: বড় বড় দলগুলোর পুরুষতান্ত্রিক ও পেশিশক্তির রাজনৈতিক বলয়কে ভেঙে মেঘনা আলমের এই উত্থান প্রমাণ করেছে যে, দেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তনের জন্য নারীরা এখন প্রস্তুত। নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে আজ অব্দি ঢাকা তথা দেশজুড়ে সাধারণ যুবসমাজের মাঝে তিনি এক বড় অনুপ্রেরণার নাম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

জাতীয় টেলিভিশন টকশো ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কলামগুলোতে সমাজবিজ্ঞানীরা উল্লেখ করছেন যে, বিগত দ্বাদশ সংসদের অভিনেতা-ক্রিকেটারদের সুবিধাবাদী চরিত্রের কারণে তারকাদের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, নাহিদ ও মেঘনা আলম তা ঘুচিয়ে দিয়েছেন । এরা স্রেফ গ্ল্যামার বা পরিচিতির জোরে নয়, বরং রাজপথের লড়াকু ভূমিকা ও জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাজনীতিতে এসেছেন। মে ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে, আমজনতা এখন প্রবীণ রাজনীতিকদের চেয়ে এই তরুণদের দিকেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তাকিয়ে আছে।


২. পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: টলিউড শিবিরে বড় ধস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াইয়ে একঝাঁক টলিউড তারকা লড়েছিলেন। ১৫ মে ২০২৬ তারিখের চূড়ান্ত ফলাফল ও ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে টলিউড ব্রিগেড এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে।

  • বিজয় মাল্যদান: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ আসনে দুই প্রখ্যাত অভিনেত্রীর লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির রূপা গাঙ্গুলি। তিনি তৃণমূলের লাভলি মৈত্রকে পরাজিত করেছেন।
  • পরাজয়ের তালিকায় হেভিওয়েটরা: * সোহম চক্রবর্তী: করিমপুর আসনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূলের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
    • রাজ চক্রবর্তী ও সায়ন্তিকা: ব্যারাকপুরের প্রভাবশালী বিধায়ক ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবার বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর নিকট ধরাশায়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বরাহনগরে পরাজিত হয়েছেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (সূত্র: এনডিটিভি)।
    • অদিতি মুন্সী ও শ্রেয়া পান্ডে: রাজারহাট-গোপালপুর ও মানিকতলা আসনে জনপ্রিয় এই দুই নারী তারকাও এবার হারের মুখ দেখেছেন।

৩. রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত

সম্প্রতি ভারতের ‘এনডিটিভি’ এবং বাংলাদেশের ‘নিউজ ২৪’ এর বিশেষ টকশোতে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ ভোটাররা এখন নিছক ‘গ্ল্যামার’ দেখে ভোট দেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে এখন কাজের জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক আদর্শের গুরুত্ব বেড়েছে। যার ফলে দুই দেশেই গতানুগতিক তারকা প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

তথ্যসূত্র (Sources):

১. en.wikipedia.org: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সংক্রান্ত আর্কাইভ।

২. ndtv.com: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর লাইভ আপডেট ও ফলাফল।

৩. Dhaka Tribune & Prothom Alo: বাংলাদেশের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

৪. Nawroj News & The Intercept: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন তৃণমূল পর্যায়ের বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইতিহাস
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (১৫শ খণ্ড), লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসির ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’, এবং সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংবাদপত্র আর্কাইভস 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, অস্থির এবং নাটকীয় পালাবদলের সময়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন গতিপথে চালিত করে। এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিবসের নেপথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি: ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর জেরে ৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং ঢাকা ওয়ান বেঙ্গলের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে একটি পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। 

খালেদ মোশাররফের এই অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর পদ থেকে পদচ্যুত করা হয় এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে তাঁকে সম্পূর্ণ গৃহবন্দি (House Arrest) করে রাখা হয়। খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৬ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। 

২. নেপথ্যের অনুঘটক: জাসদ ও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবের ডাক
মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের এই পাল্টা অভ্যুত্থানকে সেনাবাহিনীর সাধারণ জওয়ান বা সিপাহিদের একটি বড় অংশ ভারতের মদদপুষ্ট এবং মোশতাক চক্রের আরেকটি অংশের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে চশমায় দেখছিল। এই সুযোগে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী দল ‘জাসদ’ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)-এর সামরিক শাখা ‘গণবাহিনী’ এবং এর অন্যতম প্রধান নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহের সেনানিবাসের সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে এক গোপন প্রচারণা চালান। 

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ সিপাহিদের বৈষম্য দূরীকরণ, ১২ দফা দাবি আদায় এবং ‘শ্রেণিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ল্যান্স নায়েক ও সুবেদারদের সংগঠিত করে। ৭ নভেম্বর ভোররাতে এক গণ-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা, কারণ জিয়াউর রহমান সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। 

৩. ৭ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত এবং সিপাহি-জনতার জাগরণ
৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হয়ে ৭ নভেম্বর ভোররাতে (আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে) ঢাকা সেনানিবাসে সিপাহিদের বিদ্রোহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেটে পড়ে। ট্যাংকের গর্জন এবং শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সিপাহিরা ব্যারাকে ব্যারাকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। 

  • জিয়াউর রহমানের মুক্তি: সিপাহিদের একটি দল দ্রুত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসভবনে যায় এবং পাহারারত সেন্ট্রিদের নিরস্ত্র করে তাঁকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান সিপাহিদের শান্ত থাকার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। 
  • খালেদ মোশাররফের পতন ও মৃত্যু: সিপাহিদের এই ভয়াবহ বিদ্রোহের মুখে টিকতে না পেরে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার (যাঁরা সবাই বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) শেরেবাংলা নগরের ১০ বেঙ্গলের সদর দপ্তরে আশ্রয় নেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর সকালেই উত্তেজিত ও বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে এই তিন লিজেন্ডারি সামরিক কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। 
  • রাজপথে জনতার ঢল: সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেনানিবাসের সিপাহিরা ট্রাকে করে, ট্যাংকের ওপর চড়ে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। তাদের মুখে স্লোগান ছিল—‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ’। রাজপথের সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৈনিকদের সাথে যোগ দেয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। সিপাহি ও জনতার এই অভূতপূর্ব সংহতির কারণেই দিনটিকে ইতিহাসে ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে অবিহিত করা হয়। 

৪. রাজনৈতিক তাৎপর্য ও পরবর্তী ফলাফল
৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দেয়: 

  • জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আগমন: এই বিপ্লবের পর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল থাকলেও, জিয়াউর রহমান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Chief Deputy Martial Law Administrator) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। 
  • কর্নেল তাহেরের সাথে দূরত্ব: সিপাহিদের ১২ দফা দাবি এবং জাসদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ধারার সাথে জিয়ার শাসনতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী চিন্তাভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তীতে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 


ইতিহাসের পাতা সবসময় একমুখী নয়। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন একটি পক্ষ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও শ্রদ্ধার সাথে উদ্‌যাপন করে, ঠিক তেমনই আরেকটি পক্ষ এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে, কারণ এই দিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও জওয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গুগলের ২০২৬ সালের নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক কনটেন্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়া এই দিবসের সকল পক্ষের বাস্তব প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সংবিধান দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা। 

আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়। 

পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। 

২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 

কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে। 

৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। 

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়। 

৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।” 

এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ। 


একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আজকের ডলার রেট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা। 

বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো: 

  • মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। 
  • ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। 
  • মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। 

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন: 

  • Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা। 
  • Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা। 
  • Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা। 
  • Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা। 

৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)। 

  • রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন। 
  • হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ