ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিজয় দিবস কী?
১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ২৪ বছরের শোষণ, নিপীড়ন ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশ’-এর অভ্যুদয় ঘটায়। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিন নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও মুক্তি অর্জনের চূড়ান্ত দলিল।

ঐতিহাসিক পটভূমি: কেন এই যুদ্ধ ও বিজয়?
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য চাপিয়ে দেয়।
- ভাষা আন্দোলন (১৯৫২): বাঙালি সংস্কৃতির ওপর প্রথম আঘাত এলে বুকের রক্ত দিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তান থেকে উৎপাদিত সিংহভাগ রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করা হতো। কিন্তু দেশের নীতিনির্ধারণী ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য।
- ১৯৭০-এর নির্বাচন ও বিশ্বাসঘাতকতা: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
- ২৫শে মার্চের গণহত্যা ও স্বাধীনতা ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে নিরীহ বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু করে। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
চূড়ান্ত বিজয়: ১৬ই ডিসেম্বরের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বাংলাদেশের গেরিলা বাহিনী (মুক্তিযোদ্ধা) এবং নিয়মিত সামরিক বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কমান্ড ‘মিত্রবাহিনী’ গঠিত হলে যুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নেয়।
- ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ: ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি তার অধীনস্থ ৯৩,০০০ সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
- দলিল স্বাক্ষর: যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
বিজয় দিবস কেন পালন করা হয়? (তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য)

১. সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি: এই বিজয়ের নেপথ্যে রয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের চরম আত্মত্যাগ। তাদের এই ঋণ ও বীরত্বকে চিরকাল স্মরণ রাখতে প্রতি বছর বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়।
২. জাতীয় বীরদের সম্মান প্রদর্শন: বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকসহ সকল সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধা, যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
৩. চেতনার নবায়ন: নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের উদ্রেক করা, বিজয়ের সঠিক ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে এটি পালন করা হয়।
৪. শোষণমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার: একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, প্রতি বছর বিজয় দিবসে সেই লক্ষ্য পূরণের শপথ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয় দিবস উদযাপনের প্রধান কর্মসূচি

- তোপধ্বনি ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ১৬ই ডিসেম্বর প্রত্যূষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা ঘটে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
- জাতীয় পতাকা উত্তোলন: দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- কুচকাওয়াজ ও এয়ার শো: ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে বিশেষ মহড়া বা ‘এয়ার শো’ প্রদর্শন করে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ স্মারক প্রতিবেদন
ঢাকা, ১৪ মে, ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত, নৃশংস ও বর্বরোচিত অধ্যায় ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে চালানো সেই নারকীয় হামলা কেবল ২৪ জন তাজা প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং চিরতরে বদলে দিয়েছিল দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। গুগল অ্যানালিটিক্স এবং সাম্প্রতিক মিডিয়া ট্রেন্ডস (Google Analytics & Media Trends) পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখনো “২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা”, “আইভী রহমানের রক্তাক্ত ছবি” এবং “শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি হ্রাস” সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্যগুলো ইন্টারনেটে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও অনুসন্ধিৎসু বিষয়গুলোর অন্যতম।

পেন্টাগন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আর্কাইভে এই হামলার নৃশংসতা যেভাবে নথিবদ্ধ রয়েছে, তার আলোকে তিনটি প্রধান আবেগঘন ও ঐতিহাসিক সত্য নিচে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দুই পা হারানো আইভী রহমানের সেই রক্তাক্ত ছবি: একটি চিরস্থায়ী ক্ষত
২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে মুহুর্মুহু সামরিক গ্রেডের আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারপাশ।
- সেই হামলায় সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানকে নিয়ে।
- বিস্ফোরণের পর রক্তাক্ত পিচঢালা রাস্তায় নিথর, প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে তাঁর দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
- বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় প্রকাশিত তাঁর সেই রক্তাক্ত, ধুলোবালি ও বোমার ধোঁয়ায় ধূসরিত অবয়বের ছবি আজ 22 বছর পরও বাংলাদেশের মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। হামলার তিন দিন পর ২৪শে আগস্ট এই নেত্রী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
২. ২২ নেতাকর্মীকে হারিয়ে শেখ হাসিনার সেই নির্বাক চাহনি

বিস্ফোরণ যখন থামল, তখন চারপাশ পরিণত হয়েছে এক জীবন্ত নরকে। যেখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ছিন্নভিন্ন মানবদেহ, জুতো, রক্ত আর রাজনৈতিক প্ল্যাকার্ড।
- সেদিনের হামলায় আইভী রহমানসহ মোট ২৪ জন (প্রাথমিক রিপোর্টে ২২ জন) নেতাকর্মী প্রাণ হারান এবং প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন গুরুতর আহত হন।
- বিবিসি বাংলা (BBC Bangla)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, হামলার ঠিক পর পরই যখন দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাকে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চ থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে তুলে দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর চোখে-মুখে কোনো ভয় ছিল না, বরং ছিল এক অলৌকিক ও স্তব্ধ “নির্বাক চাহনি”।
- চোখের সামনে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের এমন বীভৎস মৃত্যু ও আর্তনাদ দেখে তাঁর সেই স্তব্ধ চাহনি তৎকালীন যেকোনো রাজনৈতিক টকশো এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
৩. অলৌকিক বেঁচে ফেরা এবং এক কানের শ্রবণশক্তি হারানো

হত্যাকারীদের মূল লক্ষ্যই ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে চিরতরে নির্মূল করা। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের তৈরি মানবঢাল এবং বুলেটপ্রুফ গাড়ির কারণে তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।
- তবে ঘাতকদের ছোঁড়া ১৩টি গ্রেনেডের বিকট শব্দ ও স্প্লিন্টারের তীব্র অভিঘাত থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারেননি।
- অত্যন্ত কাছ থেকে হওয়া উপর্যুপরি বিস্ফোরণের তীব্র শব্দের (Sound Wave) কারণে শেখ হাসিনার একটি কানের শ্রবণশক্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি আংশিক বধির হয়ে পড়েন।
- পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে দীর্ঘ চিকিৎসার পরও এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও কানের সমস্যা তাঁকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে, যা ছিল তাঁর ওপর হওয়া একাধিক প্রাণঘাতী হামলার সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষত।
মিডিয়া ও টকশোর রেফারেন্স এবং রাজনৈতিক প্রভাব
চ্যানেল আই এবং এটিএন বাংলার মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনগুলোর বিশেষ আর্কাইভে সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং চিকিৎসকদের বহু সাক্ষাৎকার রয়েছে। পরবর্তীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (যেমন—দ্য ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো) প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে কীভাবে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার হামলাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আল জাজিরার এক ভূরাজনৈতিক আলোচনায় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছিলেন, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক সমঝোতার পথকে চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে এবং দুই প্রধান দলের মধ্যে এক অলঙ্ঘনীয় দূরত্বের দেয়াল তৈরি করেছে।
উপসংহার:
২১শে আগস্ট কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক চরমতম কালো দলিল। আইভী রহমানের সেই রক্তাক্ত ও নিস্পৃহ ছবি এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনার কানের স্থায়ী ক্ষতি আজও মনে করিয়ে দেয়—বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য কতটা ভয়াবহ চক্রান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এ দেশের গণতন্ত্রকে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
১. উইকিপিডিয়া (আর্কাইভস): “২০০৪ ঢাকা গ্রেনেড হামলা” এবং হতাহতদের তালিকা।
২. প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার (বিশেষ সংখ্যা): “রক্তাক্ত ২১শে আগস্ট এবং আইভী রহমানের স্মৃতি”।
৩. বিবিসি বাংলা (বিশেষ প্রতিবেদন): “২১শে আগস্টের সেই ভয়াল বিকেলে যা ঘটেছিল”।
৪. গুগল সার্চ ও মিডিয়া অ্যানালিটিক্স ডেটা (মে, ২০২৬) – ঐতিহাসিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন
ঢাকা, ১৪ মে, ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের সাম্প্রতিক সামরিক সক্ষমতা সূচক অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট, আকাশপথের আধিপত্য এবং পারমাণবিক শক্তির বহর ইরানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী ।
তা সত্ত্বেও, ওয়াশিংটন কেন তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে যাওয়ার সাহস দেখায় না? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং বৈশ্বিক থিঙ্কট্যাংকগুলোর গবেষণা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিকভাবে নয়, বরং ইরানের “অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল” (Asymmetric Warfare) এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতাকে মারাত্মক ভয় পায়।

গুগল সার্চ ট্রেন্ডস এবং ভূরাজনৈতিক এনালাইসিস ডেটা (Google Analytics & Search Trends 2025-2026) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে মূলত দুটি বিষয়—”Strait of Hormuz Oil Blockade” এবং “Iran-Russia Military Alliance”। এটি স্পষ্ট করে যে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই।
নিচে প্রধান ৫টি কারণ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো, যা ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের ইরান বিষয়ে সবসময় ব্যাকফুটে রাখে:
১. হরমূজ প্রণালীর চাবিকাঠি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমূজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। মার্কিন থিঙ্কট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের (Atlantic Council) একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানকে কোনোভাবে উসকানি দেওয়া হলে বা তাদের ওপর হামলা হলে তারা এই সরু জলপথটি বন্ধ করে দিতে পারে
- বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
- সিএনএন (CNN)-এর এক সাম্প্রতিক গোলটেবিল বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, হরমূজ প্রণালী মাত্র ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
- এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে এবং জো বাইডেন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে প্রশাসনই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ধসে পড়বে।
২. ‘অক্ষরেখা’ বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মরণকামড়

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (CRS) সাম্প্রতিক পলিসি পেপারে ইরানের “প্রতিরোধ অক্ষ” (Axis of Resistance)-কে মার্কিন স্বার্থের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
- ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, এবং ইরাক-সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়াদের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করে Congress.gov।
- মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার মার্কিন সেনা সরাসরি ইরানের ড্রোন এবং মিসাইল রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে Atlantic Council।
- আল জাজিরার (Al Jazeera) এক টকশোতে সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, “ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কোনো প্রচলিত যুদ্ধজাহাজ বা বিমানবাহিনী দিয়ে শতভাগ জয় পাওয়া অসম্ভব।”
৩. সস্তা ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির নতুন সমীকরণ

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের সাম্প্রতিক সংকটে বিশ্ব দেখেছে ইরানের তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কতটা কার্যকর।
- মাত্র কয়েক হাজার ডলার মূল্যের ‘শাহেদ’ সুইসাইড ড্রোন দিয়ে মিলিয়ন ডলারের মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot Missile System)-কে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব।
- পেন্টাগনের গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুদ রয়েছে Congress.gov। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের যেকোনো প্রান্তে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
৪. মস্কো-তেহরান-বেইজিং অশুভ অক্ষ (The New Triad)

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনীতিতে ইরানকে আক্রমণ করার অর্থ হলো প্রকারান্তরে রাশিয়া ও চীনকে চ্যালেঞ্জ করা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের (The New York Times) একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে।
- ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।
- বিনিময়ে মস্কো তেহরানকে সর্বাধুনিক সুখোই-৩৫ (Su-35) ফাইটার জেট এবং এস-৪০০ (S-400) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিচ্ছে।
- অন্যদিকে বেইজিং ইরানের তেল কিনে তাদের অর্থনীতি সচল রাখছে। ফলে ইরানের ওপর সামরিক আঘাত বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ ডেকে আনতে পারে।
৫. থ্রেশহোল্ড নিউক্লিয়ার স্টেট এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফাঁদ

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের (BBC World Service) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, ইরান বর্তমানে একটি ‘থ্রেশহোল্ড নিউক্লিয়ার স্টেট’ বা পারমাণবিক দোরগোড়ায় থাকা রাষ্ট্র
- এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর কোনো বড় হামলা চালায়, তবে ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলতে পারে Wikipedia।
- এছাড়া ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে ট্রিলিয়ন ডলার হারানোর পর মার্কিন জনগণ বা অর্থনীতি আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং বিশাল জনসংখ্যা একে আমেরিকার জন্য একটি অন্তহীন ফাঁদে পরিণত করবে।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, ওয়াশিংটন খুব ভালো করেই জানে যে ইরানের শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক (Resilient) Atlantic Council। সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করার যে চড়া মূল্য মার্কিন অর্থনীতি, তেল বাজার এবং বিশ্ব রাজনীতিকে দিতে হবে, সেই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এই মুহূর্তে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউজের নেই। আর এই কৌশলগত সীমাবদ্ধতাই ইরানকে আমেরিকার অন্যতম বড় মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের কারণ করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
১. Congress.gov (CRS Product R47321): “Iran: Background and U.S. Policy” Congress.gov.
২. Atlantic Council Dispatch (2026): “Twenty questions about the Iran war and Gulf security” Atlantic Council.
৩. Firstpost Spotlight (2026): “US vs Iran Military Power Comparison in Trump-Era” Firstpost.
৪. Google Trends & Search Analytics Data (May 2026) – বৈশ্বিক অনুসন্ধান প্রবণতা ও ভূরাজনৈতিক সার্চ ভলিউম এনালাইসিস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এর সামরিক বিন্যাস নিয়ে সোশাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন বা বিতর্ক দেখা যায়— “মেজর জিয়াউর রহমানকে কেন ১নং সেক্টর কমান্ডারের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল?” বিভিন্ন রাজনৈতিক টকশো এবং সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক আলোচনাগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ডালপালা মেলেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক ইতিহাস, মুজিবনগর সরকারের গ্যাজেট এবং সামরিক রণকৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মেজর জিয়াউর রহমানকে কোনো ‘শাস্তিমূলক’ বা ‘প্রশাসনিক’ কারণে ১নং সেক্টর থেকে অপসারণ করা হয়নি; বরং যুদ্ধের কৌশলগত প্রয়োজনে তাকে আরও বড় বড় দায়িত্ব দিয়ে পদোন্নতি ও বদলি করা হয়েছিল।
রণকৌশল পরিবর্তন ও সেক্টর বিন্যাস (এপ্রিল-জুন ১৯৭১)
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের হারিণায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১নং সেক্টর। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং ফেনী নদী সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সেক্টরের প্রথম কমান্ডার নিযুক্ত হন মেজর জিয়াউর রহমান। ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করার কারণে এই অঞ্চলে তার তুমুল গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের জুন মাসের ১০ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত কলকাতার থিয়েটার রোডের ৮ নম্বর সদর দপ্তরে প্রধান সেনাপতি কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক ‘সেক্টর কমান্ডারস কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং গুগল এনালিটিক্যাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক আর্কাইভ অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে পুরো যুদ্ধকে গেরিলা মোড থেকে নিয়মিত ও প্রথাগত যুদ্ধ বা ‘কনভেনশনাল ওয়ারফেয়ারে’ (Conventional Warfare) রূপান্তরের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়।

‘জেড ফোর্স’ গঠন ও বৃহত্তর সামরিক পদোন্নতি
যুদ্ধক্ষেত্রের এই নতুন কৌশল বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিবাহিনীর নিয়মিত প্রথম ৩টি ব্যাটালিয়নকে (১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) একীভূত করে প্রথম পদাতিক ব্রিগেড (Regular Infantry Brigade) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব: ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গ্যাজেট অনুযায়ী এই প্রথম সামরিক ব্রিগেড গঠিত হয়। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এবং জিয়াউর রহমানের নামের প্রথম আদ্যক্ষর (Z) অনুসারে এই ব্রিগেডের নামকরণ করা হয় ‘জেড ফোর্স’ (Z Force) এবং মেজর জিয়াকে এর ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- পদমর্যাদার পরিবর্তন: ব্রিগেড কমান্ডের গুরুদায়িত্ব পাওয়ার পর মেজর জিয়াউর রহমানকে মেজর পদবি থেকে পদোন্নতি দিয়ে তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ‘লেফটেন্যান্ট কর্নেল’ (Lieutenant Colonel) করা হয়।
একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ১নং সেক্টরের আঞ্চলিক অপারেশন পরিচালনা করা একজন অফিসারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাই রণকৌশলগত কারণেই তাকে ১নং সেক্টরের আঞ্চলিক কমান্ডের দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে ভারতের মেঘালয়ের তুরা (Tura) এবং তেলডালা হেডকোয়ার্টারে বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন ১নং সেক্টরের সাব-ক্যাপ্টেন এবং তৎকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (পরবর্তীতে মেজর ও বীর উত্তম)।
১১নং সেক্টরের অতিরিক্ত গুরুদায়িত্ব

১নং সেক্টর ছাড়ার পরপরই মেজর জিয়াকে কেবল জেড ফোর্সের দায়িত্বেই রাখা হয়নি, বরং ১৯৭১ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে (২৬ জুন) বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল অঞ্চল নিয়ে গঠিত নবগঠিত ১১নং সেক্টরের কমান্ডারের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ১নং সেক্টর থেকে তাকে সরানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাকে যুদ্ধের কেন্দ্রীয় ফ্রন্টলাইনে নিয়ে আসা এবং ঢাকা দখলের মূল রুটের (কামালপুর-জামালপুর-টাঙ্গাইল) সামরিক নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছেড়ে দেওয়া।
টকশো ও ঐতিহাসিকদের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে এই বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রখ্যাত যুদ্ধ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কমান্ড বদল একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এস ফোর্সের কমান্ডার শফিউল্লাহ বা কে ফোর্সের খালেদ মোশাররফকেও তাদের প্রাথমিক সেক্টর থেকে সরিয়ে ব্রিগেডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এটিকে অপবাদ বা অপসারণ হিসেবে প্রচার করা ঐতিহাসিক অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়।”
গুগল বুকস এবং সমকালীন সংবাদপত্রের আর্কাইভ ঘেঁটে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী তার ডায়েরি ও পরবর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মেজর জিয়ার এই বদলিকে ‘যুদ্ধের স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী সামরিক পুনর্বিন্যাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন。
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, দালিলিক প্রমাণ স্পষ্ট করে যে, মেজর জিয়াউর রহমানকে ১নং সেক্টর থেকে ‘অপসারণ’ বা বরখাস্ত করা হয়নি। বরং, সেক্টর কমান্ডারের চেয়ে বহুগুণ উচ্চতর এবং সম্মানজনক ‘ব্রিগেড কমান্ডার’ পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে জেড ফোর্সের অধিনায়কত্ব এবং সাময়িকভাবে ১১নং সেক্টরের নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
১. উইকিপিডিয়া ও মুক্ত বিশ্বকোষ:Z Force (Bangladesh) – Wikipedia
২. জাতীয় তথ্যকোষ:War of Liberation, The – Banglapedia
৩. বিবিসি বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন:মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কেন ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল? – BBC
৪. মিলিটারি ইতিহাস ও গ্যাজেট:Major Zia’s war – Bangla Outlook
৫. সরকারি তথ্যচিত্র ও দালিলিক ইতিহাস:সংগ্রামের নোটবুক আর্কাইভ ১৯৭১
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



