বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি

লতা মঙ্গেশকর ও বাংলাদেশ: এক সুরের সুতোয় গাঁথা অটুট বন্ধন ও মুক্তিযুদ্ধের অম্লান স্মৃতি
লতা মঙ্গেশকর

নিউজ ডেস্ক

May 11, 2026

শেয়ার করুন


সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক | ১১ মে ২০২৬

ঢাকা: সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর কেবল ভারতের নন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়েও এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা এ দেশের মানুষ আজও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ১১ মে ২০২৬-এর এই বিশেষ দিনে আমরা ফিরে দেখব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতিতে এই কিংবদন্তির অসামান্য অবদান।

১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লতার কণ্ঠের লড়াই

১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ রক্তাক্ত, তখন লতা মঙ্গেশকর ভারতে বসে বিশ্ববাসীর বিবেক জাগাতে গান গেয়েছিলেন। তিনি সেই সময় ‘জয় বাংলাদেশ’ নামক হিন্দি ছবিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন বাংলার তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী। ভারতের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার ঠিক পরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালে লতা মঙ্গেশকর নিজেই টুইটারে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফরের ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

২. বাংলাদেশের ছবিতে লতার একমাত্র গান: ‘ও দাদা ভাই’

লতা মঙ্গেশকর অসংখ্য বাংলা ও হিন্দি গান গেয়েছেন যা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য মাত্র একটি গান গেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মমতাজ আলীর ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ ছবিতে প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ অভিনীত দৃশ্যে “ও দাদা ভাই, মূর্তি বানাও” গানটি গেয়েছিলেন তিনি। এই গানটি আজও সংগীত প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।

৩. কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা: সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশের সংগীতের নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন লতা মঙ্গেশকরকে নিজের আদর্শ মনে করতেন। মুম্বাইয়ে লতার বাড়িতেও তাঁর যাতায়াত ছিল। লতার প্রয়াণে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “সুর হারিয়ে গেল, পৃথিবীটা আজ নিস্তব্ধ।” শুধু শিল্পী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও লতাকে মনে রাখবে তাঁর সেই অসামান্য অবদানের জন্য।

গুগল অ্যানালাইসিস ও রিডার রিটেনশন টিপস:

গুগল সার্চ ট্রেন্ড (২০২৬) অনুযায়ী, লতা মঙ্গেশকরের “Rare photos of 1971 visit” এবং “Lata Mangeshkar’s only Bangladeshi song” এই টপিকগুলো প্রচুর অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসে। তাই এই আর্টিকেলটিতে ইউটিউব ভিডিওর এমবেড কোড যোগ করলে পাঠকরা আরও বেশি সময় আপনার সাইটে থাকবে।

তথ্যসূত্র (References):

  • লতা মঙ্গেশকর অফিশিয়াল টুইটার আর্কাইভ (২০১৯): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ ও ছবি।
  • বিএফডিসি (BFDC) আর্কাইভ: ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রের সংগীত বিভাগ।
  • প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আর্কাইভ: লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে বাংলাদেশের বিশেষ শোকগাথা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সাক্ষাৎকার।
  • ইউটিউব: ‘জয় বাংলাদেশ’ ও ‘র রক্তাক্ত বাংলা’র গানসমূহ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভূ-রাজনৈতিক

নিউজ ডেস্ক

August 11, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদন — জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সামরিক অভ্যুত্থানের গোপন সমীকরণ এবং আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW) বা পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর মতো সংস্থাসমূহের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা একটি অনুমিত বাস্তবতা হলেও, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সুরক্ষার মূল দায়িত্বটি দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ওপরই বর্তায়।

১. আঞ্চলিক গোয়েন্দা প্রভাব: অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও দায়বদ্ধতা

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রভাব বিস্তারের মূল সুযোগ তৈরি হয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নতজানু কূটনীতির কারণে।

[ রাজনৈতিক কোন্দল ও ক্ষমতার মোহ ] ──► [ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ] ──► [ অনাকাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক প্রভাব ]

অভ্যন্তরীণ দায়বদ্ধতা

  • রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রবৃত্তি: ক্ষমতা ধরে রাখা বা ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বিদেশি সমর্থনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রবণতা দরকষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভঙ্গুরতা: নিরপেক্ষ জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের অভাবেই রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
  • দলীয় স্বার্থ বনাম জাতীয় নিরাপত্তা: সংকীর্ণ রাজনৈতিক লাভালাভকে দেশীয় সার্বভৌমত্বের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া বিদেশি সংস্থাকে সুযোগ করে দেয়।

কাঠামোগত ও ভূ-রাজনৈতিক দিক

  • কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান: ভূ-রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে ভারতের যে কৌশলগত আগ্রহ রয়েছে, তা মোকাবেলায় সমতার ভিত্তিতে শক্তিশালী কূটনীতির অভয়াব দেখা গেছে।

২. প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: তথ্য, বিতর্ক ও অনুসন্ধানের বর্তমান চিত্র

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে চার দশক ধরে নানা রাজনৈতিক আলোচনা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ বিদ্যমান রয়েছে।

                      [ ১৯৮১: জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড ]
                                     │
      ┌──────────────────────────────┼──────────────────────────────┐
      ▼                              ▼                              ▼
[ আইনি ও বিচারিক নথি ]      [ রাজনৈতিক বিতর্ক ও তত্ত্ব ]   [ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ]
• জিওসি মঞ্জুরের নেতৃত্ব      • 'র' (RAW)-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ • ফারাক্কা ও তালপট্টি বিরোধ
• কোর্ট মার্শিয়ালে সাজা       • সুব্রমনিয়াম স্বামীর বক্তব্য   • নিরপেক্ষ দলিলের অভাব

ক. প্রাতিষ্ঠানিক ও আদালতের নথিপত্র

  • সেনা কর্মকর্তাদের অসন্তোষ: সরকারি তথ্য ও বিচারিক নথির তথ্য অনুসারে, চট্টগ্রাম ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে সেনাসদস্যদের একটি অসন্তুষ্ট অংশ এই বিদ্রোহ পরিচালনা করে।
  • কোর্ট মার্শালের বিচার: ঘটনার পর দ্রুত গঠিত সামরিক আদালতের (Court Martial) বিচারে অভিযুক্তদের সাজা কার্যকর করা হয়।

খ. ‘র’ (RAW)-এর সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত দাবি ও নিরপেক্ষতা বিশ্লেষণ

  • রাজনৈতিক দলীয় অভিযোগ: জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি-র শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘র’-এর মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়।
  • সুব্রমনিয়াম স্বামীর বক্তব্য: ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুব্রমনিয়াম স্বামী এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে ‘র’ প্রধান আর. এন. কাও এবং শঙ্করন নায়ার এই পরিকল্পনার সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে ভারত সরকার এই বক্তব্য কখনোই স্বীকার করেনি এবং এটিকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে গণ্য করা হয়।
  • প্রমাণের সীমাবদ্ধতা: ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি সংস্থার পরোক্ষ উসকানি বা গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে জল্পনা থাকলেও জনসমক্ষে কোনো অকাট্য বা প্রমাণিত দাপ্তরিক প্রমাণ আসেনি।

৩. বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া, তড়িঘড়ি বিচার ও মঞ্জুর হত্যা মামলা

জিয়া হত্যার পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে গঠিত পদক্ষেপ এবং পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বিচার প্রক্রিয়া / ঘটনাবিস্তারিত বিবরণ ও বিতর্ক
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনবিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিশন গঠিত হলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কখনোই প্রকাশ করা হয়নি। কেবল একটি সংক্ষিপ্ত ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হয়।
ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শাল১৯৮১ সালের ১০ জুন মেজর জেনারেল আবদুর রহমানের নেতৃত্বে বিচারে ৩১ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। আইনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা১ জুন ১৯৮১ সালে বন্দি অবস্থায় মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৫ সালে দায়ের করা এই হত্যা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ প্রধান আসামি হলেও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতায় দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বিচারাধীন থাকে।

৪. রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সামরিক ক্ষমতা দখল

প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচ এম এরশাদ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বেসামরিক শাসন উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পথ সুগম করেন।

[ জিয়াউর রহমান নিহত (মে ১৯৮১) ]
               │
               ▼
[ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের জয় (নভেম্বর ১৯৮১) ]
               │
               ▼
[ সেনাবাহিনীর চাপের মুখে ক্ষমতা হস্তান্তর (১৯৮১-৮২) ]
               │
               ▼
[ এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থান ও শাসন জারি (মার্চ ১৯৮২) ]

১. পেশাদার সিভিল শাসনের ওপর চাপ: নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সরকারের ওপর সেনাপ্রধান এরশাদ প্রশাসনে সেনাবাহিনীর “সরাসরি অংশীদারিত্বের” দাবি চাপিয়ে দেন।

২. ১৯৮২ সালের অভ্যুত্থান: ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ, রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতীয় সংবিধান স্থগিত করে এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।

বিশ্লেষকদের একটি বৃহৎ অংশের মতে, ১৯৮১ সালে দ্রুততার সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার ও ফাঁসি মূলত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোকে নিঃশর্তভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এরশাদের একটি পরিকল্পিত কৌশল ছিল।

সারসংক্ষেপ

ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক শক্তি বা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবসময়ই নিজেদের জাতীয় কৌশলগত স্বার্থ অনুসরণে সচেষ্ট থাকে। তবে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সচেতনতা, বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং পেশাদার সেনা-বেসামরিক সম্পর্ক বজায় রাখাই হলো যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য বৈদেশীক প্রভাবমুক্ত থাকার একমাত্র টেকসই পথ।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৫জি প্রযুক্তি

নিউজ ডেস্ক

August 9, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদন — আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। ১৯৬০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের আবহে শুরু হওয়া একটি সামরিক গবেষণা প্রকল্প থেকে আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হাই-স্পিড ৫জি নেটওয়ার্ক—ইন্টারনেটের এই রূপান্তর মানব ইতিহাসের অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের উৎপত্তি, বিকাশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তির বর্তমান চিত্র এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ইতিহাস

ইন্টারনেটের উদ্ভব কোনো একক বিজ্ঞানীর হাত ধরে হয়নি; বরং এটি বহু দশক ধরে বিজ্ঞানের ধারাবাহিক গবেষণার ফল।

[ কোল্ড ওয়ার / ARPANET (১৯৬৯) ] ──► [ TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪) ] ──► [ WWW ও পাবলিক ইন্টারনেট (১৯৯১) ]

ক. আর্পানেট (ARPANET): বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক

  • উৎপত্তি: ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ ‘Advanced Research Projects Agency’ (ARPA) স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পারমাণবিক হামলায় অক্ষত থাকতে পারে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ARPANET তৈরি করে।
  • প্রথম বার্তা (২৯ অক্টোবর, ১৯৬৯): আর্পানেটের মাধ্যমে প্রথম বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বার্তাটি ছিল “LOGIN”, তবে “LO” লেখার পরই সিস্টেম ক্র্যাশ করে। এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক বার্তা।
  • প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching): পল বারান ও লিওনার্ড ক্লেইনরক উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন রুটে গন্তব্যে পাঠানো শুরু হয়।

খ. ইন্টারনেটের জনক ও WWW-এর উন্মোচন

  • TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪): ভিন্টন সার্ফ (Vint Cerf) ও বব কান (Bob Kahn) আবিষ্কার করেন TCP/IP প্রোটোকল, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে একত্রিত করার ভাষা জোগায়। তাদের ‘ইন্টারনেটের জনক’ বলা হয়।
  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (১৯৮৯-১৯৯১): স্যার টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) উদ্ভাবন করেন WWW (World Wide Web) এবং HTML ল্যাঙ্গুয়েজ। ১৯৯১ সালে ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করা হয়।

২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে রূপান্তর শুরু হয় ধাপে ধাপে:

সময়কালপ্রযুক্তির ধরনবিবরণ ও মাইলফলক
১৯৯২ – ১৯৯৪অফলাইন ইমেইল (UUCP)‘ড্রিক আইসিটি’ প্রথম অফলাইন ইমেইল চালু করে। মেসেজ জমা রেখে দিনে কয়েকবার বিদেশের সার্ভারে ডায়াল-আপ করা হতো।
৬ জুন, ১৯৯৬অনলাইন ইন্টারনেটISN (Information Services Network)-এর মাধ্যমে দেশে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু হয় (bangla.net)। ভি-স্যাটভিত্তিক ৬ কেবিপিএস গতির ডায়াল-আপ কানেকশনে মিনিটে খরচ হতো ৩ টাকা।
২০০৬ (মে)সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 4)বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার যুগে প্রবেশ করে।

৩. বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল ও ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা (২০২৬ হালনাগাদ)

বর্তমানে দেশের ক্রমবর্ধমান ডেটা চাহিদা মেটাতে এবং একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে:

                          [ বাংলাদেশের মোট ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ]
                                            │
      ┌─────────────────────────────────────┼─────────────────────────────────────┐
      ▼                                     ▼                                     ▼
[ SEA-ME-WE 6 (সরকারি) ]            [ BPCS Consortium (বেসরকারি) ]               [ বাঘা-১ (Bagha-1) ]
(অতিরিক্ত ১৩.২ Tbps যুক্ত)           (কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর রুটে ৫১ Tbps)             (ব্যাকআপ ও সাইবার নিরাপত্তা)
  1. তৃতীয় সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 6): সরকারি প্রতিষ্ঠান BSCCL-এর অধীনে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত এই ক্যাবলটি কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের সাথে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশে ১৩.২ টিবিপিএস (Tbps) নতুন ব্যান্ডউইথ যুক্ত করবে।
  2. প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS Consortium): নোኪያ (Nokia)-র ইকুইপমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি কনসোর্টিয়াম সিঙ্গাপুরের সাথে সরাসরি নিজস্ব ক্যাবল বসাচ্ছে। এর ফলে দেশে ৫১ টিবিপিএস (Tbps) সক্ষমতা বাড়বে এবং লেটেন্সি কমে মাত্র ৩৩ মিলি-সেকেন্ডে নামবে।
  3. বাঘা-১ (Bagha-1): সিডিনেট (CdNet) ও মার্কিন USTDA-এর অর্থায়নে অতিরিক্ত সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ চলছে, যা দেশের সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ নিশ্চিত করবে।

৪. বাংলাদেশে ৫জি (5G) প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে:

  • বাণিজ্যিক কভারেজ: গ্রামীণফোন ও রবি বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৪৪০টিরও বেশি নির্দিষ্ট লোকেশনে (বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও বাণিজ্যিক এলাকা) ৫জি সেবা সচল করেছে। টেলিটকও তাদের অবকাঠামো প্রস্তুত করছে।
  • নতুন স্পেকট্রাম পরিকল্পনা: বিটিআরসি (BTRC) ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ কভারেজের জন্য ৩.৫ গিগাহার্টজ (GHz) ব্যান্ডের নতুন তরঙ্গ বরাদ্দের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে।

৫জি বিস্তারের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রবর্তমান চিত্র ও বাধা
৫জি হ্যান্ডসেটের অভাবস্থানীয় বাজারে উৎপাদিত ফোনের মাত্র ৪.৭৪% ৫জি সমর্থিত। এখনও ৬১% ফিচার ফোন এবং ৩৪% ৪জি হ্যান্ডসেট ব্যবহার হচ্ছে।
শিল্প খাতের ইকোসিস্টেমস্মার্ট পোর্ট, কৃষি ও অটোমেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার গড়ে উঠতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ সচল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ৫০,০০০ জিবিপিএস (Gbps) ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের খরচ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত শক্ত হবে।

১. আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের ইতিহাস ও আর্পানেট (ARPANET)

  • আর্পানেট ও প্রথম বার্তার ইতিহাস:
    • উৎস: US Defense Advanced Research Projects Agency (DARPA)UCLA Computer Science Department Archive
    • তথ্য: ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (UCLA)-র অধ্যাপক লিওনার্ড ক্লেইনরক (Leonard Kleinrock) ও তার দল প্রথম “LOGIN” বার্তাটি পাঠাতে গিয়ে “LO” লেখার পর সিস্টেম ক্র্যাশ করে।
  • TCP/IP ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW):
    • উৎস: Internet Hall of Fame এবং CERN (European Organization for Nuclear Research)
    • তথ্য: ১৯৭৪ সালে ভিন্টন সার্ফ ও বব কান কর্তৃক TCP/IP প্রোটোকল আবিষ্কার এবং ১৯৮৯-১৯৯১ সালে স্যার টিম বার্নার্স-লি কর্তৃক WWW আবিষ্কারের মাধ্যমে পাবলিক ইন্টারনেট উন্মুক্ত হয়।

🇧🇩 ২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

  • প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট ও ISN (১৯৯৬):
    • উৎস: বাংলাদেশ টেলিকম বা রেজিস্টার্ড আইএসপি আর্কাইভ এবং তৎকালীন সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রযুক্তি আর্কাইভ।
    • তথ্য: ১৯৯৬ সালের ৬ জুন ‘ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক’ (ISN)-এর মাধ্যমে bangla.net ডোমেইনে ভি-স্যাট (VSAT) প্রযুক্তিতে ডায়াল-আপ ৬ কেবিপিএস ইন্টারনেটের প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়।
  • প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE 4 (২০০৬):
    • উৎস: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (BSCCL) প্রেস রিলিজ।
    • তথ্য: ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফাইবার অপটিক ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন চালু করে।

📡 ৩. বাংলাদেশে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তি (২০২৬)

  • SEA-ME-WE 6 ও বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS):
    • উৎস: BSCCL অফিসিয়াল রিপোর্ট এবং BTRC (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) বিজ্ঞাপিত নীতিমালা ও নোটিফিকেশন।
    • তথ্য: সি-মি-উই ৬ ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যান্ডউইথ সংযোজন এবং বেসরকারী খাতের বিপিসিএস কনসোর্টিয়াম ও নোকিয়ার (Nokia) মধ্যে অবকাঠামোগত চুক্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
  • বাংলাদেশে ৫জি স্পেকট্রাম ও কভারেজ রিপোর্ট:
    • উৎস: BTRC Annual/Periodic Reports এবং মোবাইল অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক)-এর অফিসিয়াল নেটওয়ার্ক আপডেট।
    • তথ্য: দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহর ও নির্দিষ্ট হটস্পটে ৫জি কভারেজ প্রদান এবং বিটিআরসি কর্তৃক হ্যান্ডসেট উৎপাদন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান (যেখানে দেশের মোট চাহিদার অধিকাংশ এখনো ৪জি ও ফিচার ফোন নির্ভর)।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শীর্ষ ধনী

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা

র‍্যাঙ্কনামদেশমোট সম্পদ (USD)আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি)
ইলোন মাস্ক (Elon Musk)যুক্তরাষ্ট্র~$৮৩৯ বিলিয়নটেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X
ল্যারি পেজ (Larry Page)যুক্তরাষ্ট্র~$২৫৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)যুক্তরাষ্ট্র~$২৩৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
জেফ বেজোস (Jeff Bezos)যুক্তরাষ্ট্র~$২২৪ বিলিয়নআমাজন (Amazon)
মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)যুক্তরাষ্ট্র~$২২২ বিলিয়নমেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook)
ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)যুক্তরাষ্ট্র~$১৯০ বিলিয়নওরাকল (Oracle)
বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault)ফ্রান্স~$১৭১ বিলিয়নএলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর)
জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)যুক্তরাষ্ট্র~$১৫৪ বিলিয়নএনভিডিয়া (Nvidia)
ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)যুক্তরাষ্ট্র~$১৪৯ বিলিয়নবার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
১০আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)স্পেন~$১৪৮ বিলিয়নইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara)

শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়

১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
  • বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।

২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
  • বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
  • বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
  • বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।

৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
  • বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।

৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
  • বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
  • বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।

১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
  • বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।

২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ

  1. টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
  2. ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
  3. জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ