ইতিহাস

মিশেল আফলাক: আরব জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক স্থপতি ও বাথ পার্টির জনক
মিশেল আফলাক

নিউজ ডেস্ক

November 23, 2025

শেয়ার করুন

মিশেল আফলাক—২০শ শতকের আরব রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে যাঁর নাম অবধারিতভাবে উচ্চারিত হয়। বাথবাদ বা Ba’athism-এর কেন্দ্রে থাকা মতাদর্শ, “ঐক্য – স্বাধীনতা – সমাজতন্ত্র (Unity, Liberty, Socialism)”-এর তাত্ত্বিক স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে আজও স্মরণ করা হয়। আরব জাগরণের নতুন ভাষা ও আরব পরিচয়ের রাজনৈতিক পাঠ তিনি যে রূপে গড়ে দিয়েছিলেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে পুরোপুরি বদলে দেয়।


জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

  • জন্ম: ৯ জানুয়ারি ১৯১০, দামেস্ক
  • পরিবার: মধ্যবিত্ত, অরথডক্স খ্রিস্টান
    শৈশবে ধর্মীয় সত্তা তাঁর মধ্যে গভীরভাবে রোপিত থাকলেও তিনি খুব দ্রুত রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক প্রশ্নে স্বাধীন মনোভাব গড়ে তোলেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি প্যারিসে যান, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন শেষে তাঁর মানসিক যাত্রা রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে মোড় নেয়। ১৯৩০-এর দশকের প্যারিস ছিল আরব ছাত্র ও চিন্তাবিদদের মিলনমেলা—এখানেই আরব জাতীয়তাবাদের নতুন ঢেউ জন্ম নিচ্ছিল।

তরুণ আফলাক এই ঢেউ-এর কেন্দ্রে থেকে আরব পরিচয়, ভাষা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন নিয়ে ভাবনার গভীর তল খুঁজে পান।


সাহিত্যিক পরিচয় থেকে রাজনীতির অগ্নিশিখা

১৯৩২ সালে সিরিয়ায় ফিরে এসে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে ঢোকেননি।
১৯৩২–১৯৩৬ সময়কে গবেষকেরা তাঁর “সাহিত্যিক পর্যায়” হিসেবে গণ্য করেন। তিনি কবিতা ও প্রবন্ধে সমালোচকদের মন জয় করেন এবং “চিন্তাশীল কবি” হিসেবে পরিচিতি পান।

কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত তাঁকে টেনে আনে সংগ্রামের কেন্দ্রে।
শুরুতে তিনি কমিউনিস্ট রাজনীতিতে যুক্ত হন; তবে সিরিয়ান-লেবানিজ কমিউনিস্ট পার্টি যখন ঔপনিবেশিক ফরাসি নীতিকে সমর্থন করে, তখন আফলাক ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। এই বিচ্ছেদই তাঁর সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


বাথ পার্টির জন্ম (১৯৪৩)

আফলাক ও সালাহ আদ-দীন আল-বিতার ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাথ পার্টি

পার্টি তিনটি লক্ষ্যে দাঁড়িয়েছিল—

  1. আরব বিশ্বের রাজনৈতিক ঐক্য
  2. উপনিবেশিক শক্তি থেকে স্বাধীনতা
  3. সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজতন্ত্র

আফলাক বিশ্বাস করতেন—
“আরবত্ব হলো দেহ, যার আত্মা ইসলাম।”
তিনি খ্রিস্টান হয়েও বলেছিলেন, ইসলাম ধর্ম যখন আরব সভ্যতার আত্মস্থ ভরকেন্দ্র, তখন আরব জাতীয় পুনর্জাগরণের আলোচনায় ইসলামকে বাদ দিয়ে পরিচয় তৈরি করা যায় না।

তাঁর ভাবনা ছিল একদিকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা, অন্যদিকে ইসলামকে সভ্যতার উৎস হিসেবে সম্মান — যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি।

আরব ঐক্যের স্বপ্ন — এবং ব্যর্থতা

১৯৫৮ সালে সিরিয়া ও মিশরের একীকরণের প্রকল্প United Arab Republic তৈরিতে আফলাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নাসেরবাদ ও বাথবাদ একই স্বপ্ন থেকে জন্মালেও দুই ধারার রাজনৈতিক ইগো সংঘর্ষের ফলে এই প্রকল্প ১৯৬১ সালেই ভেঙে পড়ে।

এর পর বাথপার্টির ভেতর বিভাজন শুরু হয় এবং ১৯৬৩ সালে সিরিয়ায় বাথ পার্টি ক্ষমতায় এলেও আফলাক খুব গুরুত্ব পেলেন না — বরং তাঁকে একধরনের “ঐতিহাসিক প্রতীক” করে রাখা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দূরে রাখা হয়।

মতবিরোধ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে তিনি বাধ্য হয়ে ইরাকে চলে যান


ইরাক অধ্যায়: আফলাক আবার কেন্দ্রস্থলে

ইরাকে বাথ পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের পর আফলাক আবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
বিরাট এক বিদ্রূপ—
যে পার্টি তিনি গড়েছিলেন, তার সিরিয়ান শাখা তাকে উপেক্ষা করেছিল, কিন্তু ইরাকি শাখা তাঁকে প্রতীকী ও বৌদ্ধিক নেতা হিসেবে মর্যাদার আসনে বসায়

আফলাক পুঁজিবাদ ও কমিউনিজম—দুই মতাদর্শেরই সমালোচক ছিলেন। তাঁর মতে—
রাষ্ট্র ও ধর্ম আলাদা থাকা উচিত, কিন্তু ধর্মকে অস্বীকার করলে জাতিগত পরিচয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি নাস্তিকতার তীব্র সমালোচক ছিলেন, তবে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার ঘোর বিরোধী।


ইসলাম গ্রহণ বিতর্ক

ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন দাবি করেন—

মৃত্যুর আগে মিশেল আফলাক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

আর তাঁর ছেলে ইয়াদ স্বীকার করেন—

বাবা ১৯৮০ সালে ধর্মান্তরের ব্যাপারে চিন্তা করেছিলেন।

প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু ১৯৮৯ সালে আফলাক মৃত্যুবরণ করলে সাদ্দাম তাঁকে পূর্ণ ইসলামি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করান এবং নিজে কফিন বহন করেন—এটিও বিতর্ককে আরও জোরালো করে।


মৃত্যু

  • মৃত্যু: ২৩ জুন ১৯৮৯
  • স্থান: ভ্যাল দি গ্রেস সামরিক হাসপাতাল, প্যারিস
  • দাফন: বাগদাদ

মূল্যায়ন: আফলাককে কীভাবে দেখা হয়?

সমালোচক ও সমর্থক — দুই পক্ষই এখনো তাঁর সম্পর্কে একমত হতে পারে না।
তবে তিনটি জায়গায় তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না:

মূল্যায়নের ক্ষেত্রআফলাকের ভূমিকা
আরব জাতীয় পরিচয়ের রাজনৈতিক ভাষা“এক আরব জাতি” ধারণাকে প্রথম স্পষ্ট তাত্ত্বিক কাঠামো দিতে সক্ষম হন
ধর্ম বনাম রাজনীতির সম্পর্কধর্মকে সংস্কৃতির পরিচয় হিসেবে গ্রহণ, কিন্তু ধর্মতন্ত্র প্রত্যাখ্যান
আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিইরাক ও সিরিয়ার আধুনিক ক্ষমতার রাজনীতির আদর্শিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিতে প্রভাবশালী

তিনি একদিকে আরব ঐক্যের আদর্শ নির্মাতা, অন্যদিকে সেই স্বপ্ন বাস্তবে পুনরাবৃত্ত ব্যর্থতার প্রমাণ—দুটি রূপই তাঁর নামের সঙ্গে চিরকাল থেকে যাবে।


উপসংহার

মিশেল আফলাক মূলত রাজনীতিবিদ নন—
তিনি ছিলেন চিন্তার মানুষ।
একটি সভ্যতার আত্মপরিচয় কীভাবে গঠিত হয়—তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা তিনি করেছেন সারাজীবন।
সাফল্য ও ব্যর্থতা মিলিয়ে তাঁর জীবন আজও প্রমাণ করে—
মতাদর্শ তৈরি করা যত কঠিন, বাস্তব ক্ষমতার রাজনীতির সাথে সেটাকে টিকিয়ে রাখা তার চেয়েও কঠিন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

৫জি প্রযুক্তি

নিউজ ডেস্ক

August 9, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদন — আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। ১৯৬০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের আবহে শুরু হওয়া একটি সামরিক গবেষণা প্রকল্প থেকে আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হাই-স্পিড ৫জি নেটওয়ার্ক—ইন্টারনেটের এই রূপান্তর মানব ইতিহাসের অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের উৎপত্তি, বিকাশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তির বর্তমান চিত্র এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ইতিহাস

ইন্টারনেটের উদ্ভব কোনো একক বিজ্ঞানীর হাত ধরে হয়নি; বরং এটি বহু দশক ধরে বিজ্ঞানের ধারাবাহিক গবেষণার ফল।

[ কোল্ড ওয়ার / ARPANET (১৯৬৯) ] ──► [ TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪) ] ──► [ WWW ও পাবলিক ইন্টারনেট (১৯৯১) ]

ক. আর্পানেট (ARPANET): বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক

  • উৎপত্তি: ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ ‘Advanced Research Projects Agency’ (ARPA) স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পারমাণবিক হামলায় অক্ষত থাকতে পারে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ARPANET তৈরি করে।
  • প্রথম বার্তা (২৯ অক্টোবর, ১৯৬৯): আর্পানেটের মাধ্যমে প্রথম বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বার্তাটি ছিল “LOGIN”, তবে “LO” লেখার পরই সিস্টেম ক্র্যাশ করে। এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক বার্তা।
  • প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching): পল বারান ও লিওনার্ড ক্লেইনরক উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন রুটে গন্তব্যে পাঠানো শুরু হয়।

খ. ইন্টারনেটের জনক ও WWW-এর উন্মোচন

  • TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪): ভিন্টন সার্ফ (Vint Cerf) ও বব কান (Bob Kahn) আবিষ্কার করেন TCP/IP প্রোটোকল, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে একত্রিত করার ভাষা জোগায়। তাদের ‘ইন্টারনেটের জনক’ বলা হয়।
  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (১৯৮৯-১৯৯১): স্যার টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) উদ্ভাবন করেন WWW (World Wide Web) এবং HTML ল্যাঙ্গুয়েজ। ১৯৯১ সালে ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করা হয়।

২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে রূপান্তর শুরু হয় ধাপে ধাপে:

সময়কালপ্রযুক্তির ধরনবিবরণ ও মাইলফলক
১৯৯২ – ১৯৯৪অফলাইন ইমেইল (UUCP)‘ড্রিক আইসিটি’ প্রথম অফলাইন ইমেইল চালু করে। মেসেজ জমা রেখে দিনে কয়েকবার বিদেশের সার্ভারে ডায়াল-আপ করা হতো।
৬ জুন, ১৯৯৬অনলাইন ইন্টারনেটISN (Information Services Network)-এর মাধ্যমে দেশে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু হয় (bangla.net)। ভি-স্যাটভিত্তিক ৬ কেবিপিএস গতির ডায়াল-আপ কানেকশনে মিনিটে খরচ হতো ৩ টাকা।
২০০৬ (মে)সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 4)বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার যুগে প্রবেশ করে।

৩. বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল ও ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা (২০২৬ হালনাগাদ)

বর্তমানে দেশের ক্রমবর্ধমান ডেটা চাহিদা মেটাতে এবং একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে:

                          [ বাংলাদেশের মোট ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ]
                                            │
      ┌─────────────────────────────────────┼─────────────────────────────────────┐
      ▼                                     ▼                                     ▼
[ SEA-ME-WE 6 (সরকারি) ]            [ BPCS Consortium (বেসরকারি) ]               [ বাঘা-১ (Bagha-1) ]
(অতিরিক্ত ১৩.২ Tbps যুক্ত)           (কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর রুটে ৫১ Tbps)             (ব্যাকআপ ও সাইবার নিরাপত্তা)
  1. তৃতীয় সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 6): সরকারি প্রতিষ্ঠান BSCCL-এর অধীনে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত এই ক্যাবলটি কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের সাথে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশে ১৩.২ টিবিপিএস (Tbps) নতুন ব্যান্ডউইথ যুক্ত করবে।
  2. প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS Consortium): নোኪያ (Nokia)-র ইকুইপমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি কনসোর্টিয়াম সিঙ্গাপুরের সাথে সরাসরি নিজস্ব ক্যাবল বসাচ্ছে। এর ফলে দেশে ৫১ টিবিপিএস (Tbps) সক্ষমতা বাড়বে এবং লেটেন্সি কমে মাত্র ৩৩ মিলি-সেকেন্ডে নামবে।
  3. বাঘা-১ (Bagha-1): সিডিনেট (CdNet) ও মার্কিন USTDA-এর অর্থায়নে অতিরিক্ত সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ চলছে, যা দেশের সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ নিশ্চিত করবে।

৪. বাংলাদেশে ৫জি (5G) প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে:

  • বাণিজ্যিক কভারেজ: গ্রামীণফোন ও রবি বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৪৪০টিরও বেশি নির্দিষ্ট লোকেশনে (বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও বাণিজ্যিক এলাকা) ৫জি সেবা সচল করেছে। টেলিটকও তাদের অবকাঠামো প্রস্তুত করছে।
  • নতুন স্পেকট্রাম পরিকল্পনা: বিটিআরসি (BTRC) ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ কভারেজের জন্য ৩.৫ গিগাহার্টজ (GHz) ব্যান্ডের নতুন তরঙ্গ বরাদ্দের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে।

৫জি বিস্তারের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রবর্তমান চিত্র ও বাধা
৫জি হ্যান্ডসেটের অভাবস্থানীয় বাজারে উৎপাদিত ফোনের মাত্র ৪.৭৪% ৫জি সমর্থিত। এখনও ৬১% ফিচার ফোন এবং ৩৪% ৪জি হ্যান্ডসেট ব্যবহার হচ্ছে।
শিল্প খাতের ইকোসিস্টেমস্মার্ট পোর্ট, কৃষি ও অটোমেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার গড়ে উঠতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ সচল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ৫০,০০০ জিবিপিএস (Gbps) ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের খরচ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত শক্ত হবে।

১. আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের ইতিহাস ও আর্পানেট (ARPANET)

  • আর্পানেট ও প্রথম বার্তার ইতিহাস:
    • উৎস: US Defense Advanced Research Projects Agency (DARPA)UCLA Computer Science Department Archive
    • তথ্য: ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (UCLA)-র অধ্যাপক লিওনার্ড ক্লেইনরক (Leonard Kleinrock) ও তার দল প্রথম “LOGIN” বার্তাটি পাঠাতে গিয়ে “LO” লেখার পর সিস্টেম ক্র্যাশ করে।
  • TCP/IP ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW):
    • উৎস: Internet Hall of Fame এবং CERN (European Organization for Nuclear Research)
    • তথ্য: ১৯৭৪ সালে ভিন্টন সার্ফ ও বব কান কর্তৃক TCP/IP প্রোটোকল আবিষ্কার এবং ১৯৮৯-১৯৯১ সালে স্যার টিম বার্নার্স-লি কর্তৃক WWW আবিষ্কারের মাধ্যমে পাবলিক ইন্টারনেট উন্মুক্ত হয়।

🇧🇩 ২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

  • প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট ও ISN (১৯৯৬):
    • উৎস: বাংলাদেশ টেলিকম বা রেজিস্টার্ড আইএসপি আর্কাইভ এবং তৎকালীন সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রযুক্তি আর্কাইভ।
    • তথ্য: ১৯৯৬ সালের ৬ জুন ‘ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক’ (ISN)-এর মাধ্যমে bangla.net ডোমেইনে ভি-স্যাট (VSAT) প্রযুক্তিতে ডায়াল-আপ ৬ কেবিপিএস ইন্টারনেটের প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়।
  • প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE 4 (২০০৬):
    • উৎস: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (BSCCL) প্রেস রিলিজ।
    • তথ্য: ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফাইবার অপটিক ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন চালু করে।

📡 ৩. বাংলাদেশে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তি (২০২৬)

  • SEA-ME-WE 6 ও বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS):
    • উৎস: BSCCL অফিসিয়াল রিপোর্ট এবং BTRC (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) বিজ্ঞাপিত নীতিমালা ও নোটিফিকেশন।
    • তথ্য: সি-মি-উই ৬ ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যান্ডউইথ সংযোজন এবং বেসরকারী খাতের বিপিসিএস কনসোর্টিয়াম ও নোকিয়ার (Nokia) মধ্যে অবকাঠামোগত চুক্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
  • বাংলাদেশে ৫জি স্পেকট্রাম ও কভারেজ রিপোর্ট:
    • উৎস: BTRC Annual/Periodic Reports এবং মোবাইল অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক)-এর অফিসিয়াল নেটওয়ার্ক আপডেট।
    • তথ্য: দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহর ও নির্দিষ্ট হটস্পটে ৫জি কভারেজ প্রদান এবং বিটিআরসি কর্তৃক হ্যান্ডসেট উৎপাদন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান (যেখানে দেশের মোট চাহিদার অধিকাংশ এখনো ৪জি ও ফিচার ফোন নির্ভর)।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শীর্ষ ধনী

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা

র‍্যাঙ্কনামদেশমোট সম্পদ (USD)আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি)
ইলোন মাস্ক (Elon Musk)যুক্তরাষ্ট্র~$৮৩৯ বিলিয়নটেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X
ল্যারি পেজ (Larry Page)যুক্তরাষ্ট্র~$২৫৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)যুক্তরাষ্ট্র~$২৩৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
জেফ বেজোস (Jeff Bezos)যুক্তরাষ্ট্র~$২২৪ বিলিয়নআমাজন (Amazon)
মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)যুক্তরাষ্ট্র~$২২২ বিলিয়নমেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook)
ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)যুক্তরাষ্ট্র~$১৯০ বিলিয়নওরাকল (Oracle)
বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault)ফ্রান্স~$১৭১ বিলিয়নএলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর)
জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)যুক্তরাষ্ট্র~$১৫৪ বিলিয়নএনভিডিয়া (Nvidia)
ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)যুক্তরাষ্ট্র~$১৪৯ বিলিয়নবার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
১০আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)স্পেন~$১৪৮ বিলিয়নইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara)

শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়

১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
  • বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।

২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
  • বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
  • বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
  • বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।

৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
  • বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।

৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
  • বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
  • বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।

১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
  • বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।

২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ

  1. টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
  2. ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
  3. জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ভারতীয় সংবিধান

নিউজ ডেস্ক

August 5, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক আইনি ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট শত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতের শক্তি হলো এর সুসংগঠিত সংবিধান। ভারতীয় সংবিধান দেশের নাগরিকদের কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতাই দেয়নি, বরং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বাঁধনেও আবদ্ধ করেছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভারতীয় নাগরিকেরা সংবিধানের অধীনে কী কী অধিকার ভোগ করেন এবং তাঁদের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো কী, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সংবিধানে স্বীকৃত ৬টি মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)

ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় খণ্ডে (Part III) নাগরিকদের ৬টি প্রধান মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তি কেড়ে নিতে পারে না:

মৌলিক অধিকারসংবিধানের অনুচ্ছেদপ্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
১. সাম্যের অধিকারঅনুচ্ছেদ ১৪ – ১৮আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
২. স্বাধীনতার অধিকারঅনুচ্ছেদ ১৯ – ২২বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন তৈরি, দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াত এবং জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১)
৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকারঅনুচ্ছেদ ২৩ – ২৪মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম (বেগার খাটা) এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারঅনুচ্ছেদ ২৫ – ২৮প্রত্যেক নাগরিক পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ধর্ম পালন, চর্চা এবং প্রচার করার পূর্ণ স্বাধীনতা পান।
৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকারঅনুচ্ছেদ ২৯ – ৩০যেকোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি রক্ষা এবং নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে।
৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকারঅনুচ্ছেদ ৩২কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে আপিল করে আইনি সুরক্ষার আদেশ (Writ) পেতে পারেন।

২. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার

  • সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার: ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক স্বাধীনভাবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
  • নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগঠন গঠন: সংবিধানে প্রদত্ত অনুচ্ছেদ ১৯(১)(c) অনুসারে নাগরিকেরা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন এবং পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
  • তথ্য জানার অধিকার (RTI Act, 2005): ২০০৫ সালে পাস হওয়া ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ আইনের মাধ্যমে নাগরিকেরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তথ্য, খরচ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিবরণ জানতে চাইতে পারেন, যা প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনে।

৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদসমূহ

নাগরিক অধিকার যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের দ্বারা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ভারতের বিচার বিভাগকে (সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টসমূহ) সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখা হয়েছে।

ভারতের প্রধান সাংবিধানিক পদসমূহ:

  • রাষ্ট্রপতি: ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
  • প্রধানমন্ত্রী: দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান।
  • প্রধান বিচারপতি (CJI): বিচার বিভাগের প্রধান ও সংবিধানের রক্ষক।

৪. সংবিধানের চতুর্থ খণ্ড: নাগরিকদের ১০টি মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties)

সংবিধানের অংশ IV (Part IV-A) এর অনুচ্ছেদ ৫১A (Article 51A)-তে দেশের নাগরিক হিসেবে কিছু মৌলিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে:

  • রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য (51A-a): জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
  • দেশপ্রেম ও অখণ্ডতা (51A-b/c): ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।
  • জনসেবা ও প্রতিরক্ষা (51A-d): প্রয়োজনে দেশের জন্য জনসেবায় উৎসর্গ হওয়া।
  • নৈতিকতা ও ভাতৃত্ববোধ (51A-e): ধর্মীয় ও ভাষাগত বিভেদ ভুলে ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
  • সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা (51A-f): দেশের ঐতিহ্য ও মিশ্র সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো।
  • পরিবেশ রক্ষা (51A-g): বোন, নদী, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা।
  • বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও মানবিকতা (51A-h): বিজ্ঞানমনস্কতা ও সংস্কারমুখী চিন্তা বিকাশ করা।
  • সম্পদের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও জনসম্পত্তি রক্ষা (51A-i): সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং সহিংসতা ত্যাগ করা।
  • উৎকর্ষতার চেষ্টা (51A-j): ব্যক্তিগত ও যৌথ কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া।
  • শিক্ষার প্রতি আগ্রহ: ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।

শেষ কথা

ভারতীয় সংবিধান কেবল একটি শাসন পরিচালনাকারী দলিল নয়; এটি নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। অধিকার ভোগ এবং কর্তব্যের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আজ ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং গতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে টিকে রয়েছে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ