খেলাধুলা

১৫ বছরের ছেলেদের কাছে ৭-১ গোলে হেরে গেল সুইজারল্যান্ড নারী দল | ইউরো ২০২৫ প্রস্তুতি ম্যাচ ফাঁস
ফাঁস হয়ে গেল ১৫ বছরের ছেলেদের কাছে নারী জাতীয় দলের ৭-১ গোলে হারের খবর

নিউজ ডেস্ক

June 25, 2025

শেয়ার করুন

ফাঁস হয়ে গেল ১৫ বছরের ছেলেদের কাছে নারী জাতীয় দলের ৭-১ গোলে হারের খবর

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৫ |

নারী ইউরো ২০২৫ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল স্বাগতিক সুইজারল্যান্ড নারী জাতীয় ফুটবল দল। তবে এমন প্রস্তুতির মধ্যেই ঘটেছে অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা—একটি স্থানীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ছেলেদের দলের কাছে তারা ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে! আর সেই ফল ফাঁস হয়ে গেছে একটি টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে।

কারা খেলেছে, কীভাবে হারলো?

সুইস সুপার লিগের ক্লাব এফসি লুজার্নের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামে সুইস নারী জাতীয় দল। ম্যাচে মাঠে ছিলেন সুইজারল্যান্ডের তারকা ফুটবলার আলিসা লেমানআলাইয়াহ পিলগ্রিম। তবে কিশোরদের দাপটের সামনে জাতীয় দল যেন ছিল অসহায়।
তিনটি ৩০ মিনিটের অর্ধে গঠিত ম্যাচে সাতবার বল জালে পাঠায় লুজার্নের ছেলেরা
জাতীয় দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আলাইয়াহ পিলগ্রিম।

কীভাবে ফাঁস হলো ম্যাচ?

এই ম্যাচটি ছিল বন্ধ দরজার ভিতরে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচ, যার ফল গোপন রাখার কথা ছিল। কিন্তু লুজার্ন দলের একজন কিশোর ফুটবলার ম্যাচের একটি ভিডিও টিকটকে আপলোড করে দেন। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। সরানোর আগেই এটি ৭০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়ে যায়।

ফুটবল ফেডারেশন কী বলছে?

ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হলে সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বাধ্য হয়ে বিবৃতি দেয়। মুখপাত্র সভেন মিকোসে বলেন:

“এ ধরনের ম্যাচের উদ্দেশ্য মূলত শারীরিক প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জন। ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ম্যাচের গতি ও তীব্রতা আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুরূপ হওয়াটাই প্রধান লক্ষ্য।”

এই প্রথম নয়—এর আগেও জাতীয় নারী দল চতুর্থ বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগের অনূর্ধ্ব-১৫ দলগুলোর বিপক্ষে খেলেছে। এর মধ্যে একটি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতলেও অন্যটিতে তারা হেরেছিল।

ইউরো প্রস্তুতির অবস্থা

আগামী ২ জুলাই ইউরো ২০২৫ আসরে প্রথম ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। এর আগে তাদের আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে চেকিয়ার বিপক্ষে।

তবে এই হারের খবর সামনে আসায় জাতীয় দলের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

পাঠকের জন্য প্রশ্ন:
আপনার কি মনে হয়, এই ধরনের ম্যাচ নারীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, না কি এটা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে?

প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

June 15, 2026

শেয়ার করুন

বিনোদন ও সংস্কৃতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনে এবার এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো পুরো বাংলাদেশ। কানাডার টরন্টোর বিখ্যাত বিএমও স্টেডিয়ামে (BMO Field) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী মঞ্চে বিশ্ববাসীর সামনে সগৌরবে উন্মোচিত হলো বাংলাদেশের নাম, সংস্কৃতি আর লাল-সবুজের আবেগ। কোটি বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এই অনন্য দৃশ্যায়ন কেবল একটি সাধারণ পারফরম্যান্স ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সির সির’ গানে মাতলো বিশ্বমঞ্চ: সঞ্জয় দেবের ম্যাজিক

এই বিশেষ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত গায়ক, সংগীত পরিচালক ও ডিজে সঞ্জয় দেব (Sanjoy Deb)। ফিফার উদ্যোগে নির্মিত বিশ্বকাপের নতুন থিম সং ‘সির সির’ (Sir Sir) লাইভ পরিবেশন করেন তিনি।

মঞ্চে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতেন মরোক্কান বংশোদ্ভূত বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি র‍্যাপ সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ভেজেড্রিম (Vegedream)। এই তিন আন্তর্জাতিক তারকার সুর, তাল এবং চমৎকার পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে উপস্থিত হাজারো দর্শক এবং টিভির পর্দায় থাকা কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে এক অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা তৈরি করে।

                  ┌────────────────────────────────────────┐
                  │   'সির সির' থিম সং পরিবেশনকারী ত্রয়ী   │
                  └───────────────────┬────────────────────┘
                                      │
             ┌────────────────────────┼────────────────────────┐
             ▼                        ▼                        ▼
┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐
│       সঞ্জয় দেব       ││      নোরা ফাতেহি       ││       ভেজেড্রিম        │
│  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত   ││   মরোক্কান বংশোদ্ভূত   ││    ফরাসি র‍্যাপ তারকা  │
│ সংগীত পরিচালক ও ডিজে  ││      বলিউড শিল্পী       ││                        │
└────────────────────────┘└────────────────────────┘└────────────────────────┘

পোশাকের ক্যানভাসে বাংলাদেশ: কারিগরদের পরিচয়

পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে সঞ্জয় দেবের পরিহিত বিশেষ জ্যাকেটটি। প্রবাসে থেকেও নিজের শিকড় ও দেশকে কতটা উঁচুতে তুলে ধরা যায়, সঞ্জয় তাঁর পোশাকের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন। পারফরম্যান্সের সময় তিনি বারবার নিজের জ্যাকেটের দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় জানান দিচ্ছিলেন।

তাঁর এই বিশেষ কস্টিউমের হাতায় ও ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল—

  • রয়েল বেঙ্গল টাইগার: সুন্দরবনের অহংকার ও সাহসিকতার প্রতীক।
  • জাতীয় প্রতীক ও ফুল: বাংলাদেশের জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীকসমূহ।
  • লাল-সবুজ পতাকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের লাল-সবুজ অনুপ্রেরণা।

ফ্যাশনের পেছনের দক্ষ হাতসমূহ:

অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, আন্তর্জাতিক মানের এই পোশাকে বাংলাদেশের রূপকথা আঁকলেন কে? এই মাস্টারপিসটির পেছনে কাজ করেছে একদল দক্ষ আন্তর্জাতিক ফ্যাশন এক্সপার্ট:

  • মূল নকশাকার (Designer): ছায়া কুমার (Chaya Kumar)
  • এমব্রয়ডারি শিল্পী (Embroidery): জন কিম (John Kim) — যিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতার কাজে জ্যাকেটে প্রাণ দিয়েছেন।
  • স্টাইলিস্ট (Stylist): জেসমিন প্যাটেল (Jasmine Patel) — যার নিখুঁত স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে পোশাকটি বিশ্বমঞ্চের উপযোগী হয়ে ওঠে।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন

দীর্ঘ সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং বিশ্বমানের প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে আজ সঞ্জয় দেব বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন। তিনি কেবল গানই গাননি, বরং কোটি বাঙালির আবেগ আর দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর এই অনন্য অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক বিরাট জয়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে সঞ্জয় দেব এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

নির্ভরযোগ্য বিনোদন রিসোর্স (Sources)

১. ফিফা মিডিয়া ও ইভেন্ট কাভারেজ ২০২৬ (FIFA Official Event Insights): টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লাইভ পারফরম্যান্স এবং অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাক ‘সির সির’ রিলিজ নোটস।

২. আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও স্টাইলিং রিভিউ (Global Styling Archives): শিল্পী সঞ্জয় দেবের কস্টিউম ডিজাইন টিম (ছায়া কুমার, জন কিম ও জেসমিন প্যাটেল) সংক্রান্ত গ্লোবাল আপডেট।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬, আন্তর্জাতিক বিনোদন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাফল্য গাথা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

ডিক অ্যাডভোকাট

নিউজ ডেস্ক

May 13, 2026

শেয়ার করুন

খেলাধুলা ডেস্ক | ঢাকা
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন নেদারল্যান্ডসের প্রখ্যাত ফুটবল কোচ ডিক অ্যাডভোকাট (Dick Advocaat)। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের (Curaçao) প্রধান কোচ হিসেবে পুনর্নিযুক্ত হয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়ানোর বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিতে যাচ্ছেন ৭৮ বছর বয়সী এই ডাচ মাস্টারমাইন্ড।

ভেঙে যাচ্ছে অটো রেহাগেলের ১৬ বছরের রেকর্ড
আগামী ১৪ জুন হিউস্টনে জার্মানির বিপক্ষে কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক প্রথম ম্যাচের দিন ডিক অ্যাডভোকাটের বয়স হবে ৭৮ বছর ২৬০ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ৭১ বছর ৩১৭ দিন বয়সে গ্রিস দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা জার্মান কিংবদন্তি অটো রেহাগেলের (Otto Rehagel) দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেবেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক ৫ জন কোচের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

কোচের নামদলের নামবিশ্বকাপের বছরবয়স
ডিক অ্যাডভোকাটকুরাসাও২০২৬৭৮ বছর ২৬০ দিন
অটো রেহাগেলগ্রিস২০১০৭১ বছর ৩১৭ দিন
অস্কার তাবারেজউরুগুয়ে২০১৮৭১ বছর ১২৫ দিন
লুই ফন গালনেদারল্যান্ডস২০২২৭১ বছর ১২৩ দিন
চেজারে মালদিনিপ্যারাগুয়ে২০০২৭০ বছর ১৩০ দিন

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও ডাচ মিডিয়ার বিশ্লেষণ
ডিক অ্যাডভোকাটের অধীনেই গত বছর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। জনসংখ্যা ও আয়তনের বিচারে কুরাসাওই বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ। তবে দল কোয়ালিফাই করার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়ের গুরুতর অসুস্থতার কারণে পারিবারিক কারণে কোচের পদ থেকে আকস্মিক ইস্তফা দেন অ্যাডভোকাট।

তার পরিবর্তে গত মার্চে আরেক ডাচ কোচ ফ্রেড রুটেনকে (Fred Rutten) দায়িত্ব দেয় কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন (FFK)। কিন্তু রুটেনের অধীনে খেলা প্রীতি ম্যাচগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-১ এবং চীনের কাছে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় দল। ডাচ গণমাধ্যম ও ফুটবলভিত্তিক জনপ্রিয় পোর্টাল Goal.com-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের পর কুরাসাওয়ের ‘প্লেয়ার কাউন্সিল’ সরাসরি ফেডারেশন সভাপতি গিলবার্ট মার্টিনার সাথে বৈঠক করে রুটেনের কোচিং পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং অ্যাডভোকাটকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। একই সাথে দলের মূল স্পন্সর কোরিণ্ডন এয়ারলাইন্সের (Corendon Airlines) মালিক আতিলে উসলু হুমকি দেন, অ্যাডভোকাটকে না ফেরালে তারা বার্ষিক ১ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ফাণ্ডিং প্রত্যাহার করে নেবেন। ফলশ্রুতিতে গত রবিবার (১০ মে) পদত্যাগ করতে বাধ্য হন রুটেন।

ফেডারেশন প্রধানের বক্তব্য
বিশ্বখ্যাত সংবাদসংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক টেলিফোন বার্তায় কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশনের (FFK) সভাপতি গিলবার্ট মার্টিনা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “রুটেনের পদত্যাগের পর আমরা দ্রুতই ডিক অ্যাডভোকাটের সাথে যোগাযোগ করি। তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনি বিশ্বকাপে দলের দায়িত্ব নিতে সানন্দ সম্মতি জানিয়েছেন”। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা চাপের বিষয়টি কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে মার্টিনা ডাচ টকশো ও গণমাধ্যমগুলোকে জানান, “কোচ পরিবর্তনের সময় ড্রেসিংরুমে কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থেই অ্যাডভোকাটকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে”।

বিশ্বকাপে কঠিন মিশন
২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে কুরাসাও খেলবে ‘গ্রুপ ই’ (Group E)-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নামার আগে আগামী ৩০ মে হ্যাম্পডেন পার্কে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি হাই-ভোল্টেজ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কুরাসাওয়ের ডাগআউটে পুনরুত্থান ঘটবে ‘লিটল জেনারেল’ খ্যাত ডিক অ্যাডভোকাটের।


তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা:
১. বিশেষ প্রতিবেদন: The Guardian Sport
২. পরিসংখ্যান ও রেকর্ড বিশ্লেষণ: The Athletic / Opta Stats
৩. সাক্ষাৎকার ও স্পন্সর আপডেট: The Daily Star / Goal.com Report
৪. আন্তর্জাতিক সংবাদ সংগ্রহ: Reuters / bdnews24

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ফাঁসি

নিউজ ডেস্ক

May 7, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা: বিচারিক দণ্ড কার্যকর বা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ফাঁসিতে মৃত্যুর বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জটিল এবং মুহূর্তের মধ্যে শরীরের একাধিক জৈবিক সিস্টেম অকেজো হয়ে যাওয়ার একটি সমন্বিত ফলাফল। সাধারণত সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, ফাঁসির দড়িতে ঝোলার পর ঠিক কোন শারীরিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে? ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করে মূলত ছয়টি প্রধান ঘাতক প্রক্রিয়া।

১. সারভাইকাল ভার্টিব্রা ও সুষুম্না শীর্ষক (মেডুলা) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

মানবদেহের গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা বা সারভাইকাল ভার্টিব্রা-র ওপর যখন হঠাৎ তীব্র চাপ পড়ে, তখন দ্বিতীয় কশেরুকাটির (Axis) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হ্যাংম্যানস ফ্রাকচার’। এর ফলে মস্তিষ্কের ঠিক নিচে থাকা মেডুলা অবলংগাটা বা সুষুম্না শীর্ষকের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অংশটি শরীরের হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, যা মুহূর্তেই অকেজো হয়ে যায়।

২. মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া

আমাদের ঘাড়ের দুই পাশে থাকা ক্যারোটিড ধমনি মস্তিষ্কে তাজা রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফাঁসিতে ঝোলার ফলে এই ধমনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। মাত্র ২ থেকে ৫ কেজি চাপের ফলেই এই ধমনি দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হতে পারে। ফলে সেকেন্ডের মধ্যে শুরু হয় সেরেব্রাল হাইপোক্সিয়া (মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব), যা ব্রেন টিস্যুগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়।

৩. শ্বাসনালী বা এয়ারওয়ে অবরুদ্ধ হওয়া

ফাঁসি দেওয়ার সময় মাথার বিশেষ অবস্থানের কারণে বাতাস চলাচলের পথ বা ট্রাকিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুস অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না এবং শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়া শুরু হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যাসফিক্সিয়া (Asphyxia)

৪. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও নার্ভাস সিস্টেমের ধাক্কা

ঘাড়ের কাছে ক্যারোটিড সাইনাস নামক একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থাকে। এটি সরাসরি হৃদপিণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু বা ভেগাস নার্ভের (Vagus Nerve) সাথে যুক্ত। ফাঁসিতে ঝোলার সময় এই সাইনাসে প্রচণ্ড চাপ পড়লে হৃদপিণ্ড হঠাৎ করে পাম্প করা বন্ধ করে দেয়, যাকে বলা হয় রিফ্লেক্স কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট

৫. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও টিস্যু মৃত্যু

জুগুলার শিরা যা মস্তিষ্ক থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে ফিরে আসে, সেটিও দড়ির চাপে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে দূষিত রক্ত জমে যায় এবং টিস্যুগুলো মারা যেতে শুরু করে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের সচেতনতা লোপ পায় এবং মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞের অভিমত

প্রতিরক্ষা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক ফাঁসির ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা (Drop) থেকে নিচে ফেলা হয় যাতে ঘাড়ের হাড় (Cervical Fracture) দ্রুত ভেঙে যায় এবং মৃত্যু যন্ত্রণাহীন হয়। এর বিপরীতে ড্রপ ছাড়া ফাঁসির ক্ষেত্রে মৃত্যু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে কারণ সেখানে শ্বাসরোধ হয়ে মরতে বেশি সময় লাগে।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি টেক্সটবুক এনালাইসিস ২. ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি ও কার্ডিওলজি রিসার্চ ২০২৬ ৩. আন্তর্জাতিক ফরেনসিক সায়েন্স জার্নাল ও ল্যাব রিপোর্ট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ