উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইতিহাসের দুই প্রান্তে সেতুবন্ধন
যারা সিলেট হয়ে মেঘালয় ভ্রমণে যান, তারা প্রায় সবাই ডাউকি সীমান্ত অতিক্রম করেন। আবার যারা জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টে যান, তারা ভারতের সীমান্তে উমগট নদীর ওপর ঝুলন্ত একটি সেতু দেখতে পান। এই সেতুটি শুধু পর্যটনের আকর্ষণ নয়—এটি ইতিহাসের অংশ। নির্মাণ হয়েছিল ১৯৩২ সালে, আর এর প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন সিলেটের সন্তান আবিদ রেজা চৌধুরী।
এই সেতুই ছিল তৎকালীন শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) ও শিলং—দুই শহরের মধ্যে প্রথম সরাসরি সড়ক সংযোগের প্রতীক। প্রায় এক শতাব্দী পরে, তারই পুত্র অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আরেকটি সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন—পদ্মা সেতু, যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ডাউকি সেতুর জন্মকথা: রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণা
১৯১৯ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং সফরে গেলে তৎকালীন শ্রীহট্টবাসীরা তাঁকে সিলেটে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যাত্রাপথে।
তখন উমগট নদীর উপর কোনো সেতু ছিল না, এমনকি ঘোড়ার গাড়ি বা মোটর চলাচলের পথও অনুপস্থিত। নদী পার হতো মানুষ মানুষের পিঠে চড়ে। কবিগুরু এমনভাবে যাত্রা করতে রাজি হননি। ফলে তিনি ঘুরপথে ট্রেনে করে সিলেট আসেন গৌহাটি–বদরপুর–লাতু (শাহবাজপুর)–কুলাউড়া রুটে।
এই ঘটনার পরেই শিলং–সিলেট সরাসরি সড়ক নির্মাণের আলোচনা শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশে তৎকালীন প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী, সিলেটের বুরুঙ্গা গ্রামের বসন্ত কুমার দাস, বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন। তাঁর প্রচেষ্টায় প্রকল্পের বাজেট অনুমোদিত হয়।
প্রকৌশলী আবিদ রেজা চৌধুরী: এক কিংবদন্তির সূচনা
সেতুর নকশা ও নির্মাণের দায়িত্ব পড়ে তখনকার তরুণ প্রকৌশলী আবিদ রেজা চৌধুরীর ওপর, যিনি শিলংয়ে কাজ করছিলেন। তাঁর পরিবারিক মূল ছিল করিমগঞ্জে, পরে তাঁরা স্থায়ী হন বড়লেখার শাহবাজপুরে।
১৯৩০ সালে তাঁর নকশা ও নির্দেশনায় উমগট নদীর ওপর শুরু হয় সেতু নির্মাণ। ১৯৩২ সালে উদ্বোধন হয় ডাউকি সেতু—একটি লৌহ কাঠামোর ঝুলন্ত সেতু, যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সেতুটি সংযুক্ত করেছে খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়শ্রেণি, এবং সিলেট-শিলং সড়কপথকে করে তুলেছে আসাম প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক রুট।
এক শতাব্দী পর আরেক প্রজন্মের সেতু
প্রায় ৯০ বছর পর, আবিদ রেজারই পুত্র অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী (১৯৪৩–২০২০) বাংলাদেশের আরেকটি ঐতিহাসিক সেতু প্রকল্পে প্রধান পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—পদ্মা সেতু, উদ্বোধন ২০২২ সালে।
তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধ্যাপক, পরবর্তীতে বুয়েট উপাচার্য, এবং দেশের নাগরিক প্রকৌশলের পথিকৃৎ। তাঁর প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার ফলেই পদ্মা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয় দেশীয় অর্থায়নে—যা বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
দুই সেতু, দুই ইতিহাস
| সেতুর নাম | নদী | নির্মাণ সাল | প্রধান ব্যক্তি | দায়িত্ব | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|---|
| ডাউকি সেতু | উমগট নদী | ১৯৩২ | আবিদ রেজা চৌধুরী | প্রধান প্রকৌশলী | পশ্চিম জয়ন্তিয়া জেলা, মেঘালয় (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত) |
| পদ্মা সেতু | পদ্মা নদী | ২০২২ | অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী | প্রধান পরামর্শক | মুন্সিগঞ্জ–শরীয়তপুর জেলা, বাংলাদেশ |
দুই প্রজন্মের এই সেতুবন্ধন শুধু পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, বরং বাংলার প্রকৌশল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। একজন ব্রিটিশ ভারতের নাগরিক হিসেবে শুরু করেছিলেন; অপরজন স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতার প্রতীক হয়ে শেষ করেছেন।
শ্রদ্ধা দুই কীর্তিমানকে
একজন সেতু নির্মাণ করে মানুষকে যুক্ত করেছিলেন পর্বত ও নদীর দুই প্রান্তে, আরেকজন সেতু নির্মাণ করে যুক্ত করেছেন বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে নতুন যুগে।
তাদের দুজনের কাজই—একটি ১৯৩২ সালে, অন্যটি ২০২২ সালে—দুই সময়ের মধ্যবর্তী প্রকৌশল-ইতিহাসের প্রতীকী সেতুবন্ধন।
মানুষের চলাচলের পথ সহজ করে দেওয়া এই দুই কীর্তিমান পিতা-পুত্রকে শ্রদ্ধা।
সূত্র
- “History of Dawki Suspension Bridge,” The Shillong Chronicle, 2024.
- “Padma Bridge: Bangladesh’s Dream Made Real,” The Daily Star, 2022.
- “Engineer Abid Reza to Professor Jamilur Reza: Two Generations of Bridge Builders,” Prothom Alo Features, 2023.
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক আইনি ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট শত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতের শক্তি হলো এর সুসংগঠিত সংবিধান। ভারতীয় সংবিধান দেশের নাগরিকদের কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতাই দেয়নি, বরং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বাঁধনেও আবদ্ধ করেছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভারতীয় নাগরিকেরা সংবিধানের অধীনে কী কী অধিকার ভোগ করেন এবং তাঁদের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো কী, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সংবিধানে স্বীকৃত ৬টি মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)

ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় খণ্ডে (Part III) নাগরিকদের ৬টি প্রধান মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তি কেড়ে নিতে পারে না:
| মৌলিক অধিকার | সংবিধানের অনুচ্ছেদ | প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ |
| ১. সাম্যের অধিকার | অনুচ্ছেদ ১৪ – ১৮ | আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। |
| ২. স্বাধীনতার অধিকার | অনুচ্ছেদ ১৯ – ২২ | বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন তৈরি, দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াত এবং জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১)। |
| ৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৩ – ২৪ | মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম (বেগার খাটা) এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| ৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৫ – ২৮ | প্রত্যেক নাগরিক পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ধর্ম পালন, চর্চা এবং প্রচার করার পূর্ণ স্বাধীনতা পান। |
| ৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৯ – ৩০ | যেকোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি রক্ষা এবং নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে। |
| ৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার | অনুচ্ছেদ ৩২ | কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে আপিল করে আইনি সুরক্ষার আদেশ (Writ) পেতে পারেন। |
২. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার
- সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার: ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক স্বাধীনভাবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
- নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগঠন গঠন: সংবিধানে প্রদত্ত অনুচ্ছেদ ১৯(১)(c) অনুসারে নাগরিকেরা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন এবং পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
- তথ্য জানার অধিকার (RTI Act, 2005): ২০০৫ সালে পাস হওয়া ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ আইনের মাধ্যমে নাগরিকেরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তথ্য, খরচ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিবরণ জানতে চাইতে পারেন, যা প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনে।
৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদসমূহ

নাগরিক অধিকার যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের দ্বারা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ভারতের বিচার বিভাগকে (সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টসমূহ) সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখা হয়েছে।
ভারতের প্রধান সাংবিধানিক পদসমূহ:
- রাষ্ট্রপতি: ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- প্রধানমন্ত্রী: দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান।
- প্রধান বিচারপতি (CJI): বিচার বিভাগের প্রধান ও সংবিধানের রক্ষক।
৪. সংবিধানের চতুর্থ খণ্ড: নাগরিকদের ১০টি মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties)

সংবিধানের অংশ IV (Part IV-A) এর অনুচ্ছেদ ৫১A (Article 51A)-তে দেশের নাগরিক হিসেবে কিছু মৌলিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য (51A-a): জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
- দেশপ্রেম ও অখণ্ডতা (51A-b/c): ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।
- জনসেবা ও প্রতিরক্ষা (51A-d): প্রয়োজনে দেশের জন্য জনসেবায় উৎসর্গ হওয়া।
- নৈতিকতা ও ভাতৃত্ববোধ (51A-e): ধর্মীয় ও ভাষাগত বিভেদ ভুলে ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
- সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা (51A-f): দেশের ঐতিহ্য ও মিশ্র সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো।
- পরিবেশ রক্ষা (51A-g): বোন, নদী, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা।
- বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও মানবিকতা (51A-h): বিজ্ঞানমনস্কতা ও সংস্কারমুখী চিন্তা বিকাশ করা।
- সম্পদের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও জনসম্পত্তি রক্ষা (51A-i): সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং সহিংসতা ত্যাগ করা।
- উৎকর্ষতার চেষ্টা (51A-j): ব্যক্তিগত ও যৌথ কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া।
- শিক্ষার প্রতি আগ্রহ: ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
শেষ কথা
ভারতীয় সংবিধান কেবল একটি শাসন পরিচালনাকারী দলিল নয়; এটি নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। অধিকার ভোগ এবং কর্তব্যের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আজ ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং গতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে টিকে রয়েছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতি ফিচার | পালস বাংলাদেশ
১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর—এই তিনটি গ্রাম কিনে যে আধুনিক কলকাতা নগরের গোড়াপত্তন করেছিল, পরবর্তীতে তা হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রাণকেন্দ্র। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার হাতে নিলে কলকাতাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হয়।

লন্ডনের আদলে গড়ে ওঠা এই শহরে একে একে তৈরি হয় রাজকীয় লাটভবন, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ। বিদ্যাচর্চা, চিকিৎসা ও সংস্কৃতিতে কলকাতা তখন গোটা এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ স্থানে। কিন্তু এত ঐতিহ্য ও প্রাচুর্য সত্ত্বেও ১৯১১ সালে ব্রিটিশরা কেন তাদের প্রিয় রাজধানী কলকাতা ছেড়ে প্রাচীন মোগলদের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতে স্থানান্তর করেছিল? এবং ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতই বা কেন সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখল?
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এর নেপথ্যে ছিল ভৌগোলিক কৌশল, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য বিপ্লবী অধ্যায়।
১. রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণসমূহ

১.১ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান (Geographical Advantage)
কলকাতা ছিল ভারতের পূর্ব প্রান্তের এক কোণে অবস্থিত। বিশাল ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চল শাসন করা এবং সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এটি ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক ছিল না। পক্ষান্তরে, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত দিল্লি থেকে পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারত সরকারও দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এই কেন্দ্রীয় অবস্থানকেই বহাল রাখে।
১.২ বেয়াড়া কলকাতা ও স্বদেশী আন্দোলনের উত্তাপ
ব্রিটিশদের আসল বিপদ শুরু হয় ‘বাংলা নবজাগরণ’-এর পর। অনুগত কেরানি তৈরি করতে গিয়ে ব্রিটিশরা উল্টো উপহার পেল একঝাঁক শিক্ষিত ও মেরুদণ্ডী বাঙালি বুদ্ধিজীবী। ১৯০৫ সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) করলে রাজপথে নেমে আসে বাঙালি। বয়কট ও স্বদেশী আন্দোলনে ব্রিটিশ অর্থনীতি কেঁপে ওঠে। কলকাতা পরিণত হয় সশস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের শক্ত ঘাঁটিতে। ফলে নিরাপদ স্থানে প্রশাসনিক কাজ চালানোর তাগিদ অনুভব করে ব্রিটিশ রাজ।
১.৩ দিল্লির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা
শতাব্দী ধরে দিল্লি ছিল মোগল সাম্রাজ্যসহ বিভিন্ন পরাশক্তি রাজবংশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় জনগণের মনস্তত্ত্ব জয় করতে এবং নিজেদের মোগলদের প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে জাহির করতে ব্রিটিশরা দিল্লিতে রাজধানী সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
২. ১৯১১ সালের রাজকীয় দিল্লি দরবার ও গোপন ঘোষণা

১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির ‘কিংসওয়ে ক্যাম্প’ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক ঐতিহাসিক রাজকীয় দরবার। এটিই ছিল একমাত্র দিল্লি দরবার যেখানে ব্রিটেনের তৎকালীন সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং সম্রাজ্ঞী কুইন মেরি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
দরবারের একেবারে শেষ মুহূর্তে রাজা পঞ্চম জর্জ আকস্মিকভাবে জোড়া ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন: ১. তীব্র গণআন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ (বাতিল) করা হলো। ২. ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী চিরতরে কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
বাঙালিকে শান্ত করতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলেও, রাজধানী কেড়ে নিয়ে কলকাতার প্রশাসনিক গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়।
৩. চাঁদনি চক ষড়যন্ত্র: ভাইসরয়ের ওপর দুঃসাহসিক হামলা (১৯১২)

বাঙালি বিপ্লবীরা এই অপমান সহজে মেনে নেননি। রাজধানী স্থানান্তরের ঠিক এক বছর পূর্তিতে ২৩ ডিসেম্বর, ১৯১২ তারিখে ঘটে এক রোমাঞ্চকর ঘটনা।
নতুন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ (Lord Hardinge) যখন বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে হাতির পিঠে চড়ে দিল্লির ঐতিহাসিক চাঁদনি চকে প্রবেশ করছিলেন, তখন নারীদের ভিড়ে মিশে থাকা তরুণ বিপ্লবী বসন্ত কুমার বিশ্বাস তাঁর দিকে শক্তিশালী একটি বোমা ছুঁড়ে মারেন।
বোমার বিস্ফোরণে হাতির চালক (মহাবত) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এই সশস্ত্র হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু ও শচীন সান্যাল।
৪. মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু: লর্ড হার্ডিঞ্জ হামলা থেকে ‘পি. এন. ঠাকুর’ ছদ্মবেশ
হামলার পরপরই পুরো দিল্লি পুলিশ তোলপাড় শুরু করলেও রাসবিহারী বসু অত্যন্ত চতুরতার সাথে ট্রেনে চেপে দেরাদুনে নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসেন। পরদিন অফিসে গিয়ে উল্টো সহকর্মীদের নিয়ে ভাইসরয়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসভা করেন! ফলে পুলিশ শুরুতে তাঁকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেনি।
- গদর বিপ্লবের ছক (১৯১৫): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গদর পার্টি’র সহায়তায় ভারতজুড়ে সেনা অভ্যুত্থানের ছক আঁকেন তিনি। কিন্তু ভেতরে থাকা গোয়েন্দার বিশ্বাসঘাতকতায় তথ্য ফাঁস হলে ১৯১৫ সালে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দূরসম্পর্কের আত্মীয় ‘পি. এন. ঠাকুর’ (P. N. Tagore) ছদ্ম নাম নিয়ে জাহাজে করে জাপানে পালিয়ে যান।
- জাপানে রাজনৈতিক আশ্রয়: জাপানেও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা পিছু ছাড়েনি। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি প্রভাবশালী নেতা তোয়ামা মিৎসুরুর আশ্রয়ে থেকে এবং জাপানি নারী তোশিকো সোমাকে বিয়ে করে ১৯২৩ সালে জাপানের নাগরিকত্ব পান রাসবিহারী বসু।
৫. আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে মেলবন্ধন (১৯৪৩–১৯৪৫)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালে জাপানে বন্দী ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে রাসবিহারী বসু গঠন করেন ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ (INA) বা আজাদ হিন্দ ফৌজ।
- ঐতিহাসিক দায়িত্ব হস্তান্তর: দূরদর্শী রাসবিহারী বসু বুঝতে পেরেছিলেন এই বিশাল আন্দোলন পরিচালনার জন্য সুভাষচন্দ্র বসুর মতো আপসহীন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ১৯৪৩ সালের ৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি সানন্দে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে তুলে দেন। নেতাজি তাঁকে আন্দোলনের ‘সর্বোচ্চ উপদেষ্টা’ পদে সম্মান জানান।
- শেষ বিদায় (১৯৪৪–১৯৪৫): দীর্ঘদিন যক্ষ্মা ও হাঁপানিতে ভোগা রাসবিহারী বসুর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতেন নেতাজি নিজে। ১৯৪৪ সালের শেষদিকে টোকিওতে মৃত্যুশয্যায় শায়িত রাসবিহারী বসুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন নেতাজি। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি এই মহান বিপ্লবী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে নেতাজি তাঁকে “পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের জনক” হিসেবে অভিহিত করেন।
৬. স্বাধীন ভারতের নতুন দিল্লি ও শিমলার ভূমিকা
দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের ঘোষণা ১৯১১ সালে হলেও, প্রখ্যাত স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স এবং হারবার্ট বেকার-এর নকশায় পরিকল্পিত আধুনিক ‘নতুন দিল্লি’ (Lutyens’ Delhi) শহর তৈরি হতে ২০ বছর সময় লাগে। ১৯৩১ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই দীর্ঘ সময়টাতে ব্রিটিশরা গ্রীষ্মকালে পাহাড়ি শহর শিমলা (Simla) থেকে তাদের প্রশাসনিক কাজ চালাত।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর স্বাধীন ভারতের হাতে আসে তৈরি করা রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন ও সচিবালয়ের মতো সুবিশাল পরিকাঠামো। একটি সদ্য স্বাধীন ও অর্থ সংকটে থাকা দেশের জন্য নতুন করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নতুন কোনো শহরে রাজধানী তৈরি করা সম্ভব ছিল না। তাই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধার্থে নতুন দিল্লিই থেকে যায় স্বাধীন ভারতের রাজধানী হিসেবে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
শাহরুখ খানকে বলিউডের “বাদশা” বা “কিং খান” বলা হয় তাঁর অসাধারণ অভিনয়জীবন, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর তাঁর বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে।

১. বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা
- গ্লোবাল আইকন: কেবল ভারত বা এশিয়ায় নয়; মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাতেও তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: খ্যাতনামা মার্কিন মিডিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাঁকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুভি স্টার” হিসেবে অভিহিত করেছিল।
২. বক্স অফিস রেকর্ড ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
- আইকনিক রোমান্টিক রাজত্ব: ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায় এবং কাভি খুশি কাভি গাম-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি একক অধিপত্য বিস্তার করেন।
- ঐতিহাসিক ব্যাক-টু-ব্যাক হিটস: চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে তিনি পরপর দুটি ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি আয়ের ব্লকবাস্টার (পাঠান ও জওয়ান) উপহার দিয়ে নিজের বক্স অফিস শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করেন।
৩. চলচ্চিত্রের বাইরে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
- রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট: তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ও সফল ভিএফএক্স (VFX) স্টুডিও এবং প্রোডাকশন হাউসের মালিক।
- আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লিগ আইপিএলের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী।
৪. শূন্য থেকে শীর্ষের গল্প
বলিউডে কোনো পারিবারিক পরিচিতি বা ‘গডফাদার’ ছাড়া, দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে কেবল নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে পৌঁছানোর গল্পটি কোটি মানুষের কাছে এক পরম অনুপ্রেরণা।
২০২৬ সালের মেগা প্রজেক্ট: ‘কিং’ (King)
শাহরুখ খানের সবচেয়ে বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’ (King) নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মূল তথ্যসমূহ:
- মুক্তির তারিখ: ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস উৎসব)।
- পরিচালনা ও প্রযোজনা: পরিচালনা করছেন বিখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ আনন্দ। প্রযোজনায় রয়েছে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স।
- কাস্টিং চমক: বড় পর্দায় এই প্রথম শাহরুখ খানের সাথে দেখা যাবে তাঁর মেয়ে সুহানা খান-কে। এছাড়া প্রধান খলনায়কের ভূমিকায় রয়েছেন অভিষেক বচ্চন এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন।
- চরিত্র ও লুক: হলিউড ক্লাসিক ‘লিয়ন: দ্য প্রফেশনাল’-এর আদলে তৈরি এই অ্যাকশন-থ্রিলারে শাহরুখকে এক ঝানু আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন বা অ্যাসাসিনের চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে তাঁর লুকে থাকবে হালকা পাকা চুল-দাড়ির স্টাইলিশ সংমিশ্রণ।
বাজেট, মিউজিক ডিল ও সম্ভাব্য পারিশ্রমিক
১. বাজেট (₹৩৫০ কোটি – ₹৪৫০ কোটি)
- স্কেল ও ভিএফএক্স: আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউটর ও ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, ৬টি বিশাল অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও হাই-এন্ড ভিএফএক্স-এর কারণে সিনেমাটির আনুমানিক বাজেট ₹৩৫০ কোটি থেকে ₹৪৫০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
- পরিচালকের বক্তব্য: ৪৫০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কিছু মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ালে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়িয়ে দেন; তবে এটি যে শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্ট তা নিশ্চিত।
২. রেকর্ড মিউজিক ডিল (₹৫০ কোটি)
- অডিও বা মিউজিক রাইটস বিক্রির জন্য জি মিউজিক (Zee Music)-এর সাথে রেকর্ড ₹৫০ কোটি টাকার চুক্তি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
- সিনেমাটির গান কম্পোজ করছেন শচীন-জিগার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM)-এর দায়িত্বে আছেন রকস্টার মিউজিক ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রবিচন্দের।
৩. তারকাদের আনুমানিক পারিশ্রমিক (এক নজরে)
| তারকার নাম | চলচ্চিত্রে ভূমিকা | আনুমানিক পারিশ্রমিক (রুপি) |
| শাহরুখ খান | প্রধান লিড (ডন/মেন্টর) | ₹১৫০ কোটি – ₹২৫০ কোটি (প্রফিট শেয়ারিং) |
| দীপিকা পাড়ুকোন | বিশেষ চরিত্র | ₹১৫ কোটি – ₹২০ কোটি |
| অভিষেক বচ্চন | প্রধান খলনায়ক (Villain) | ₹১০ কোটি |
| অনিল কাপুর | গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র | ₹৮ কোটি |
| সুহানা খান | সমান্তরাল লিড/শিষ্য | ₹১ কোটি |
| অন্যান্য (জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি) | সহকারী চরিত্র | ₹২ কোটি – ₹৫ কোটি |
(দ্রষ্টব্য: পারিশ্রমিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো ভারতীয় ট্রেড অ্যানালিস্টদের সূত্রে প্রাপ্ত, যা প্রযোজনা সংস্থা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়ে থাকে)।



