প্রযুক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি ক্ষুদ্র দেহকাঠামোতে ধারণ করেছিলেন সমুদ্রসম প্রজ্ঞা। ভাষাবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন—সবখানেই ছিল তার অবাধ বিচরণ।
বহুভাষাবিদ শহীদুল্লাহ
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সর্বমোট ২৪টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন, যার মধ্যে ১৮টি ভাষায় ছিল তাঁর পাণ্ডিত্য। বাংলা, উর্দু, ফারসি, আরবি, ইংরেজি, অসমিয়া, ওড়িয়া, মৈথিলী, হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, মারাঠি, কাশ্মীরি, নেপালি, সিংহলি, তিব্বতি, সংস্কৃত ও পালি—এসব ভাষায় তিনি শুধু মৌলিক জ্ঞান অর্জনই করেননি, বরং পাঠ্যক্রম রচনা, অনুবাদ এবং গবেষণাতেও অবদান রেখেছেন।
শিক্ষাজীবন ও গবেষণা
- জন্ম: ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই, চট্টগ্রামের ২৪ পরগনায় (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) [কিছু সূত্রে নাটোর উল্লেখ আছে]।
- ১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ।
- ১৯২৮ সালে সরস্বতী নদী নিয়ে তার গবেষণার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন বহু বছর।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস”, যা এখনও বাংলা ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্য ইতিহাস গবেষণার অন্যতম নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।
স্মৃতিচিহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে অবস্থিত “ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল” তাঁর নামেই প্রতিষ্ঠিত। ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটি শুধু একটি আবাসিক হল নয়, বরং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীক।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই এই বিদ্বান মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তবে তার গবেষণা, লেখনী ও প্রজ্ঞা আজও প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
সূত্র
- বাংলা একাডেমি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসচর্চা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্কাইভস
- Banglapedia – National Encyclopedia of Bangladesh
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এক নতুন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন—বাংলাদেশের রাজনীতি এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ ভূখণ্ড। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশ এখন আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার সমান্তরালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল ব্যয়, ইউরেনিয়ামের জটিল বিজ্ঞান এবং নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার জোয়ার।

ইউরেনিয়ামের রহস্য: রূপপুর কি হিরোশিমা হবে?
প্রকৃতিতে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় এক অদ্ভুত অনুপাতে। আকরিক থেকে পাওয়া ১০০ ভাগ ইউরেনিয়ামের মধ্যে মাত্র $0.7\%$ হলো $U-235$, যা শক্তির মূল উৎস। বাকি $99.3\%$ হলো $U-238$, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর নয়। যখন এই $U-235$ এর ঘনত্ব ৩ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তখন একে বলা হয় Low Enriched Uranium (LEU)। রূপপুরের রিঅ্যাক্টরে এই $LEU$ ব্যবহার করে বোরন ‘কন্ট্রোল রড’-এর সাহায্যে এক নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এটি অনেকটা চুলার আঁচ নিয়ন্ত্রণের মতো; রড নামালে বিক্রিয়া কমে, তুললে বাড়ে।
বিপরীতে, ১৯৪৫ সালের হিরোশিমায় ব্যবহৃত ‘লিটল বয়’ বোমাটিতে ছিল $93\%$ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না বলেই এক সেকেন্ডের কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ে সূর্যের কেন্দ্রের সমান তাপ উৎপন্ন হয়ে ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। পদার্থবিজ্ঞানের গাণিতিক নিয়মে রূপপুরের জ্বালানি দিয়ে বোমা বানানো অসম্ভব, তবে রিঅ্যাক্টরে উৎপন্ন হওয়া Plutonium নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজরদারি সবসময়ই থাকে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: প্রান্তিক মানুষের জন্য সুরক্ষা কবচ
বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এরই মধ্যে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে উন্নয়নের সম-অংশীদার।” এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সকল অফিস ও শিল্প কারখানায় ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
স্মার্ট কৃষিতে ড্রোন ও এআই বিপ্লব
একই দিনে সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, সরকার ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ চালুর মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই খাতে রূপান্তর করছে। কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন এবং ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির শ্বেতপত্র
উন্নয়নের এই আবহের মাঝেই রূপপুর প্রকল্পের বিশাল ব্যয় (১২ বিলিয়ন ডলার) এক বড় দুশ্চিন্তার নাম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের নির্মাণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই ‘মেগা বোঝা’ এখন বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
রাজনীতিতে নৈতিকতার বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, নাহিদ ইসলাম নিজে সরাসরি দুর্নীতি না করলেও স্বজনপ্রীতি ও উপদেষ্টা পদে থেকে রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠনের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে, রোমানিয়া সরকার অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি।
সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (২৯ এপ্রিল অধিবেশন), মার্কিন দূতাবাস ঢাকা, বাংলাদেশ দূতাবাস (রোমানিয়া) এবং ঐতিহাসিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির অধিকারের লড়াই ২০২৬ সালে এসে পারমাণবিক শক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মুখোমুখি। একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর আধুনিক পরিকল্পনা যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি রূপপুর প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি এবং নীতিনির্ধারকদের নৈতিক পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলাদেশকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হবে আগামীর স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিজ্ঞান ও ইতিহাস ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: বিজ্ঞান / পৃথিবী ও মহাকাশ
সোনা—যুগ যুগ ধরে আভিজাত্য এবং শক্তির প্রতীক। কিন্তু আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে আমরা যে সোনা খনি থেকে তুলে আনি, তা আসলে এই পৃথিবীতে তৈরি হয়নি? এমনকি আমাদের সূর্যও সোনা তৈরি করার মতো শক্তিশালী নয়। সোনার প্রতিটি কণা আসলে মহাকাশ থেকে আসা এক ‘উপহার’।

১. মহাজাগতিক কারখানায় সোনা উৎপাদন (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা)

বিজ্ঞানীদের মতে, সোনা তৈরি হয় মহাকাশে এক প্রলয়ংকরী ঘটনার মাধ্যমে। আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে যখন দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের (Neutron Stars) মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছিল, তখন সেখানে যে চরম তাপমাত্রা ও চাপের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকেই সোনার পরমাণু গঠিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে পৃথিবীর সৃষ্টির সময় মহাকাশ থেকে উল্কাপাতের মাধ্যমে এই সোনা পৃথিবীর গভীরে জমা হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে এই সোনা মাটির ওপরের স্তরে বা নদীর তলদেশে চলে আসে।
২. ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ড রাশ: ইতিহাস বদলে দেওয়া এক আবিষ্কার

সোনার মহাজাগতিক ইতিহাসের পর এবার আসা যাক মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত সোনা আবিষ্কারের গল্পে। ১৮৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার কলোমায় ঘটেছিল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা।
- আবিষ্কারক: জেমস ডব্লিউ মার্শাল।
- ঘটনা: মার্শাল তখন জন সাটারের হয়ে আমেরিকান নদীর তীরে একটি করাতকল (Sutter’s Mill) তৈরির তদারকি করছিলেন। হঠাৎ নদীর তলদেশে তিনি চকচকে কিছু দেখতে পান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি ছিল বিশুদ্ধ সোনা।
- ফলাফল: এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভিড় জমায়, যা ইতিহাসে ‘ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ড রাশ’ (১৮৪৮–১৮৫৫) নামে পরিচিত।
৩. সোনা কেন এত দামি?

সোনা লোহা বা তামা মতো পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না বলেই এটি অত্যন্ত দুর্লভ। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত উত্তোলিত সমস্ত সোনাকে যদি এক করা হয়, তবে তা মাত্র ২০ থেকে ২১ মিটারের একটি ঘনক (Cube) তৈরি করবে। অর্থাৎ এটি সত্যিই সীমিত।
সোনা সংক্রান্ত কিছু অবাক করা তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| পারমাণবিক সংখ্যা | ৭৯ (Au) |
| উৎস | নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষ ও সুপারনোভা বিস্ফোরণ। |
| প্রথম বড় আবিষ্কার | ১৮৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সাটার মিলে। |
| ব্যবহার | গয়না, ইলেকট্রনিক্স এবং মহাকাশযানের যন্ত্রপাতিতে। |
উপসংহার
জেমস মার্শাল যখন ১৮৪৮ সালে নদীর ধারে সেই প্রথম সোনার টুকরোটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন, তিনি হয়তো জানতেন না যে তিনি আসলে মহাকাশের একটি অংশকে ছুঁয়ে দেখছেন। সোনার এই মহাজাগতিক যাত্রা আজও আমাদের অবাক করে।
বিডিএস ফ্যাক্ট: আপনি বর্তমানে যে সোনার আংটি বা গয়নাটি পরে আছেন, তার পরমাণুগুলো কয়েক কোটি বছর আগে মহাকাশের কোনো এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে তৈরি হয়েছিল!
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদন: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী কেবল একজন বক্তা নন, বরং তিনি একজন আধুনিক ইসলামি গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণার গভীরতা

মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার পর তিনি মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (IIUM) থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইসলামের প্রয়োগ।
- পিএইচডি (PhD): তিনি মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার একটি বড় অংশ ছিল কুরআনিক সায়েন্স এবং আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সাথে এর সম্পর্ক।
- ভাষাগত দক্ষতা: তিনি বাংলা ছাড়াও ইংরেজি এবং আরবি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন, যা তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন দক্ষ বক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২. কেন তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা? (The Unique Factor)

আজহারী সাহেবের আলোচনার স্টাইল প্রথাগত বক্তাদের চেয়ে ভিন্ন হওয়ার কয়েকটি কারণ:
- তথ্যনির্ভর আলোচনা: তিনি কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং ইতিহাসের তথ্যসূত্র ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিয়ে কথা বলেন। তাঁর আলোচনায় প্রায়ই আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে কুরআনের আয়াতের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
- তরুণদের মনস্তত্ত্ব: তিনি বর্তমান সময়ের তরুণদের সমস্যা যেমন—ডিপ্রেশন, বিয়ে, ক্যারিয়ার এবং মাদকাসক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি ‘পাওয়ার অব পজিটিভিটি’ এবং ‘উত্তম চরিত্র’ গঠনের ওপর জোর দেন।
- ডিজিটাল রিচ: বাংলাদেশে ইসলামি প্রচারের ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার ভিডিওগুলো সিনেমাটিক কোয়ালিটিতে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়, যা ভিজ্যুয়াল মিডিয়াতে ইসলামি বিষয়বস্তুকে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করেছে।
৩. মানবিক ও সংস্কারমূলক কাজ
তিনি কেবল মাহফিলেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি তাঁর বয়ানের মাধ্যমে যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অনেক সময় তাঁর মাহফিলের অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষকে সাহায্য করার আহ্বান জানান এবং নিজে প্রত্যক্ষভাবে বিভিন্ন মানবিক কাজে যুক্ত থাকেন।
৪. বর্তমান অবস্থান: প্রবাসী জীবন ও বিশ্বব্যাপী দাওয়াত
ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত কারণে তিনি বর্তমানে বিদেশে (প্রধানত মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যে) অবস্থান করলেও প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি দেশের মানুষের সাথে অবিচ্ছিন্ন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন বড় বড় কনফারেন্সে তিনি বর্তমানে গেস্ট স্পিকার হিসেবে আমন্ত্রিত হন।
বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস (Sources for Verification):
- অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া: তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল (Mizanur Rahman Azhari)।
- বিশ্ববিদ্যালয় রেকর্ড: মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (IIUM)-এর গ্র্যাজুয়েট ডাটাবেজ।
- গণমাধ্যম: বিবিসি বাংলা এবং আল-জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত ফিচার ও সাক্ষাৎকার।
- প্রকাশিত বই: তাঁর লেখা বা তাঁর সম্পাদিত বিভিন্ন ইসলামি প্রকাশনা।
বিডিএস সম্পাদকীয় মন্তব্য: মিজানুর রহমান আজহারীর এই বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে তাঁর শিক্ষা ও বিনয় বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক ও উচ্চশিক্ষিত হয়েও ইসলামের দাওয়াতের কাজকে আরও সুন্দরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



