ইতিহাস

Why are QAnon believers obsessed with 4 March?

নিউজ ডেস্ক

May 16, 2024

শেয়ার করুন

In the dynamic world of WordPress, we emerge as a beacon of innovation and excellence. Our popular products, like CoverNews, ChromeNews, Newsphere, and Shopical, alongside powerful plugins such as WP Post Author, Blockspare, and Elespare, serve as the building blocks of your digital journey.

We’re passionate about quality code and elegant design, ensuring your website creation is an effortless blend of sophistication and simplicity. With unwavering support from our dedicated team, you’re never alone.

Templatespare: Create Your Dream Website with Easy Starter Sites!

A beautiful collection of Ready to Import Starter Sites with just one click. Get modern & creative websites in minutes!

Newspaper, Magazine, Blog, and eCommerce Ready

Forget About Starting From Scratch

Explore a world of creativity with 365+ ready-to-use website templates! From chic blogs to dynamic news platforms, engaging magazines, and professional agency websites – find your perfect online space!

One Click Import: No Coding Hassle! Three Simple Steps

  1. Choose a Site
    Explore a rich selection of over 350 pre-built websites. With a single click, import the site that resonates with your vision.
  2. Customize & Personalize
    Unleash your creativity! Customize your chosen site with complete design freedom. Tailor every element to build and personalize your website exactly the way you envision it.
  3. Publish & Go Live!
    With the editing and customization complete, it’s time to go live! In just minutes, your website will be ready to share with the world.

Join the AF themes family, where excellence meets ease. Explore the endless possibilities and embark on your web journey with us today!

Together, we’re shaping the future of the web.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বর্তমানে সবচেয়ে সেরা ক্যামেরা ফোন কোনগুলি

নিউজ ডেস্ক

May 21, 2026

শেয়ার করুন

স্মার্টফোনের বাজারে ক্যামেরা প্রযুক্তির উন্নয়ন এখন আকাশছোঁয়া। একটা সময় যেখানে ১ বা ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাই ছিল ভরসা, বর্তমানে সেখানে ২০০ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সিনেমাটিক ভিডিওগ্রাফি যুক্ত হয়েছে। বিখ্যাত টেক ইউটিউবার মারকেস ব্রাউনলি (MKBHD) ২০১৯ সালে আইফোন ১১ প্রো বা পিক্সেল ৪-কে সেরা বললেও, বর্তমান ২০২৬ সালের প্রযুক্তিতে সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

বর্তমানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি এবং ডিএসএলআর (DSLR) লেভেলের আউটপুটের জন্য বাজারে রাজত্ব করছে এমন সেরা ৫টি ক্যামেরা ফোনের তালিকা এবং তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো।

বর্তমান বাজারের সেরা ৫টি ক্যামেরা স্মার্টফোন

বর্তমান বাজারের (২০২৬ সাল) সেরা ৫টি ক্যামেরা স্মার্টফোনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে Huawei Pura 80 Ultra বৈশ্বিক ক্যামেরা রেটিং প্ল্যাটফর্ম DXOMARK-এর লেটেস্ট র‍্যাঙ্কিং এবং লেন্স পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বাজারের শীর্ষ ৫টি স্মার্টফোন নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: [

১. Huawei Pura 80 Ultra (সেরা ওভারঅল ক্যামেরা)

  • মূল আকর্ষণ: ১-ইঞ্চির রিট্র্যাক্টেবল (Retractable) প্রধান সেন্সর এবং এক্সমেইজ (XMAGE) ইমেজিং সিস্টেম।
  • কেন সেরা: বর্তমানে DXOMARK তালিকায় ১৭৫ স্কোর নিয়ে এটি বিশ্বের এক নম্বর ক্যামেরা ফোন। যেকোনো আলোতে ছবির নিখুঁত ডিটেইলিং, ট্রু-টু-লাইফ কালার এবং আল্ট্রা-স্পিড স্ন্যাপশট নিতে এর কোনো জুড়ি নেই।

২. Vivo X300 Pro (সেরা পোর্ট্রেট ও জুম ফটোগ্রাফি)

  • মূল আকর্ষণ: ২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ জুম লেন্স এবং ZEISS অপটিক্স।
  • কেন সেরা: পোর্ট্রেট ছবি এবং দূরপাল্লার জুমের জন্য এটি অসাধারণ। জেইস কোটিংয়ের কারণে ছবির গ্লেয়ার (빛번짐) কমে যায় এবং মানুষের গায়ের স্বাভাবিক স্কিন টোন ফুটিয়ে তুলতে এটি সবচেয়ে নিখুঁত পারফর্ম করে। [

৩. Apple iPhone 17 Pro Max (সেরা ভিডিওগ্রাফি ও সিনেমাটিক মোড)

  • মূল আকর্ষণ: আপগ্রেডেড ৪৮ মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ এবং উন্নত প্রো-রজ (ProRes) ভিডিও লকিং。
  • কেন সেরা: স্থির ছবির পাশাপাশি পেশাদার ভিডিওগ্রাফির জন্য এটি এখনো কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রথম পছন্দ। এর অ্যাকশন মোড ও সিনেমাটিক ট্র্যাকিং বাজারের যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের চেয়ে বেশি স্ট্যাবল ও স্মুথ ভিডিও দেয়।

৪. Oppo Find X9 Ultra / X8 Ultra (সেরা ডে-লাইট ও ল্যান্ডস্কেপ)

  • মূল আকর্ষণ: ডুয়াল পেরিস্কোপ ক্যামেরা এবং হ্যাসেলব্লাড (Hasselblad) কালার টিউনিং।
  • কেন সেরা: এর ডবল পেরিস্কোপ জুম সিস্টেমের সাহায্যে দূরের অবজেক্টের ম্যাক্রো এবং ল্যান্ডস্কেপ শট কোনো ডিটেইল না হারিয়েই তোলা যায়。 হ্যাসেলব্লাডের রঙের টোন ছবিকে একটি পেশাদার আর্ট বা সিনেমার মতো লুক দেয়।

৫. Samsung Galaxy S26 Ultra (সেরা এআই ফিচার ও হাই-রেজোলিউশন)

  • মূল আকর্ষণ: ২০০ মেগাপিক্সেল প্রধান সেন্সর, আপগ্রেডেড ৫x ও ৩x অপটিক্যাল জুম এবং অ্যাডাপ্টিভ ক্যামেরা এআই।
  • কেন সেরা: ২০০ মেগাপিক্সেলের কারণে ছবি ক্রপ করলেও কোয়ালিটি নষ্ট হয় না। এর নতুন এআই অবজেক্ট ইরেজার এবং নাইটোগ্রাফি এডিটিং ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ দূর করতে এবং রাতের ছবির নয়েজ কমাতে দারুণ কার্যকর।

এক নজরে ২০২৬ সালের সেরা ক্যামেরা ফোনগুলির মেট্রিিক্স

২০২৬ সালের সেরা ক্যামেরা ফোনগুলির মেট্রিিক্স এক নজরে নিচে একটি সারণি এবং সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো। ২০২৬ সালে স্মার্টফোন ফটোগ্রাফি মূলত ১-ইঞ্চি বিশাল সেন্সর, ২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপিক জুম এবং উন্নত এআই (AI) ইমেজিং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছে।

২০২৬ সালের শীর্ষ ক্যামেরা ফোনের মূল মেট্রিিক্স (তুলনামূলক সারণি)

মডেল প্রধান ক্যামেরা (Main)আল্ট্রাওয়াইড (Ultrawide)টেলিফোটো / জুম (Telephoto)বিশেষ ইমেজিং ফিচার
Xiaomi 17 Ultra৫০ MP (১-ইঞ্চি সেন্সর)৫০ MP২০০ MP মেকানিক্যাল জুমLeica কালার প্রোফাইল, রোটেটিং ক্যামেরা রিং
Samsung Galaxy S26 Ultra২০০ MP (\(f/1.4\))৫০ MP৫০ MP (5x) + ১০ MP (3x)অ্যাডাপ্টিভ অ্যাপারচার, শক্তিশালী এআই স্ট্যাবিলাইজেশন
Oppo Find X9 Ultra২০০ MP৫০ MP২০০ MP (3x) + ৫০ MP (10x)Hasselblad টিউনিং, বিশ্বের প্রথম ১০x ৫০MP অপটিক্যাল জুম
Apple iPhone 17 Pro Max৪৮ MP৪৮ MP৪৮ MP (5x অপটিক্যাল)ProRes ভিডিও, লোগো ফরম্যাট রেকর্ডিং, সিনেমাটিক মোড
Google Pixel 10 Pro XL৫০ MP৪৮ MP৪৮ MP (5x অপটিক্যাল)টেনসর জি৫ চিপ, ম্যাজিক এডিটর, সেরা নাইট সাইট
Vivo X300 Ultra৫০ MP৫০ MP২০০ MP পেরিস্কোপ জুমZEISS অপটিক্স, ট্রু-টু-লাইফ স্কিন টোন রিপ্রোডাকশন

মেট্রিিক্স ও কার্যক্ষমতার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

  • সেরা ছবির ডিটেইলিং ও প্রফেশনাল লুক (Xiaomi 17 Ultra): এর ১-ইঞ্চির বিশাল সনি সেন্সর প্রাকৃতিকভাবে ডিএসএলআর-এর মতো ডেপথ-অফ-ফিল্ড এবং বোকেহ তৈরি করতে পারে, যা যেকোনো ছোট সেন্সরের ফোনের চেয়ে নিখুঁত ছবি দেয়।
  • সেরা জুম ক্ষমতা (Oppo Find X9 Ultra ও Samsung Galaxy S26 Ultra): অপ্পো-র ২০০ মেগাপিক্সেল হ্যাসেলব্লাড টেলিফোটো এবং স্যামসাং-এর অ্যাডাপ্টিভ জুম সিস্টেম দূরবর্তী অবজেক্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী পারফর্মার।
  • সেরা ভিডিওগ্রাফি ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন (iPhone 17 Pro Max): প্রফেশনাল কালার গ্রেডিংয়ের জন্য ProRes ভিডিও এবং Log ফরম্যাট রেকর্ডিংয়ের কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এখনও অনবদ্য।
  • সেরা কম্পিউটেশনাল এআই (Google Pixel 10 Pro XL): গুগলের নতুন টেনসর জি৫ চিপ এবং অন-ডিভাইস এআই কঠিন বা মিশ্র আলোতেও নিখুঁত ব্যাকগ্রাউন্ড সেপারেশন এবং অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির সুবিধা দেয়।

আমাদের বিশ্লেষণ: আপনি যদি মূলত নিখুঁত ও প্রফেশনাল মানের ভিডিও করতে চান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে চান, তবে iPhone 17 Pro Max আপনার জন্য সেরা চয়েস। আর আপনি যদি ট্রাভেল ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন এবং দূরবর্তী জিনিসের নিখুঁত ছবি বা জুম ফিচার চান, তবে Samsung Galaxy S26 Ultra-র কোনো বিকল্প নেই।

তথ্যসূত্র ও সোর্স:

১. মারকেস ব্রাউনলি (MKBHD) এবং ডেক্সওমার্ক (DxOMark) স্মার্টফোন ক্যামেরা রেটিং গাইড (২০২৬)।

২. স্যামসাং গ্লোবাল এবং অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের অফিশিয়াল প্রোডাক্ট স্পেসিফিকেশন শিট।

প্রতিবেদক: সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বর্তমানে সবচেয়ে সেরা ক্যামেরা ফোন, প্রযুক্তির সর্বশেষ ট্রেন্ড এবং বৈশ্বিক টেক দুনিয়ার এমন তথ্যসমৃদ্ধ খুঁটিনাটি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আইসক্রিম

নিউজ ডেস্ক

May 21, 2026

শেয়ার করুন

অফিসিয়াল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (Guinness World Records) অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আইসক্রিম হলো জাপানি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড সেল্যাটো (Cellato)-র তৈরি ‘বিয়াকুয়া’ (Byakuya)। জাপানি ভাষায় যার অর্থ ‘সাদা রাত’। ২০২৩ সালে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখানো এই আইসক্রিমের মাত্র ১টি স্কুপ বা ১৩০ মিলিলিটারের একটি কাপের দাম ৮ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪০০ জাপানি ইয়েন, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকারও বেশি!

আপনি যে দুবাইয়ের স্কুপি ক্যাফের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ আইসক্রিমটির (৪৮০ ডলার বা প্রায় ৬৩,০০০ টাকা) কথা বলেছেন, সেটি একসময় রাজত্ব করলেও জাপানের এই নতুন আবিষ্কার তাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে।

কেন ‘বিয়াকুয়া’ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আইসক্রিম?

বিয়াকুয়া’ (Byakuya) পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আইসক্রিম হওয়ার মূল কারণ হলো এতে ব্যবহৃত অত্যন্ত দুর্লভ, বিলাসবহুল উপাদান এবং এর দীর্ঘ উৎপাদন প্রক্রিয়া। জাপানি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘সেলাতো’ (Cellato) উৎপাদিত এই আইসক্রিমের মাত্র ১৩০ মিলিগ্রামের একটি স্কুপের মূল্য ৮,৭৩,৪০০ জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬,৬৯৬ মার্কিন ডলার বা সাড়ে ৭ লাখ টাকারও বেশি)। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আইসক্রিম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আইসক্রিমটির আকাশচুম্বী দামের পেছনের প্রধান কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. প্রধান উপাদান: ইতালির হোয়াইট ট্রাফল (White Truffle)

  • আইসক্রিমটির মূল উপাদান হলো ইতালির আলবা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত অতি দুর্লভ ‘ফ্যান্টম হোয়াইট ট্রাফল’
  • এই বিশেষ মাশরুম জাতীয় উপাদানটির প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ১৫,১৯২ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৭-১৮ লাখ টাকা)। এটিই আইসক্রিমটির দাম এতটা বাড়িয়ে দেওয়ার মূল কারণ।

২. অন্যান্য বিলাসবহুল ফিউশন উপাদান

  • খাদ্যোপযোগী সোনার পাত (Edible Gold Leaf): আইসক্রিমটির উপরিভাগ নিখুঁতভাবে সাজানো থাকে আসল সোনার পাত দিয়ে।
  • পারমিজিয়ানো রেজিয়ানো (Parmigiano Reggiano): এটি একটি বিশেষ ইতালীয় পনির, যা আইসক্রিমটিতে একটি ভিন্ন মাত্রার স্বাদ ও সুগন্ধ যোগ করে।
  • সাকে কাসু (Sake Kasu): ঐতিহ্যবাহী জাপানি মদ্যপানের (Sake) উপাদান থেকে তৈরি এক ধরণের পেস্ট, যা আইসক্রিমটিকে অনন্য মিষ্টি ফ্লেভার দেয়।

৩. দীর্ঘ গবেষণা ও দক্ষ কারিগরি

  • ওসাকার বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ‘রিভি’ (RiVi)-র প্রধান শেফ তাদায়োশি ইয়ামাদা-র নেতৃত্বে ইউরোপীয় এবং জাপানি স্বাদের মেলবন্ধন ঘটাতে এই আইসক্রিম তৈরি করা হয়।
  • নিখুঁত স্বাদ ও টেক্সচার অর্জনের জন্য কোম্পানিটিকে দীর্ঘ দেড় বছর (১৮ মাস) ধরে অনবরত ট্রায়াল ও গবেষণা চালাতে হয়েছিল।

৪. রাজকীয় প্যাকেজিং ও হস্তশিল্পের চামচ

  • প্রতিটি আইসক্রিমের সাথে একটি হাতে তৈরি বিশেষ ধাতব চামচ (Handcrafted Metal Spoon) দেওয়া হয়。
  • এই চামচগুলো তৈরিতে জাপানের কিয়োটোর প্রাচীন মন্দির ও মঠ নির্মাণে ব্যবহৃত বিশেষ ঐতিহ্যবাহী উপাদান ও কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

এই আইসক্রিমের আকাশচুম্বী দামের মূল কারণ হলো এতে ব্যবহৃত অত্যন্ত দুর্লভ এবং বিলাসবহুল সব উপাদান। এর প্রধান ৩টি উপাদান নিচে দেওয়া হলো:

  • ইতালীয় হোয়াইট ট্রাফল (White Truffle): এতে ব্যবহার করা হয় ইতালির আলবা অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও দুর্লভ মাশরুম ‘হোয়াইট ট্রাফল’, যার প্রতি কেজির দাম প্রায় ২০ লক্ষ জাপানি ইয়েন (প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা)।
  • পাপড়ি ও গুঁড়ো সোনা: আইসক্রিমটির উপরিভাগ নিখুঁতভাবে সাজানো থাকে ২৩ ক্যারেটের ভোজ্য সোনার খাঁটি ফ্লেক্স বা পাতা দিয়ে।
  • বিশেষ জাপানি চিজ ও সাকি কাসু: এতে রয়েছে খাঁটি পারমিজান চিজ এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি পানীয় ‘সাকি’ তৈরির বিশেষ উপজাত (Sake Lees), যা আইসক্রিমটিকে দেয় এক অতুলনীয় রাজকীয় স্বাদ।

আইসক্রিমের বিবর্তনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আইসক্রিমের উৎপত্তির কোনো সুনির্দিষ্ট একক তারিখ বা আবিষ্কারক না থাকলেও, এর ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো রোমাঞ্চকর এক যাত্রা।

প্রাচীন যুগের বরফ-মিষ্টান্ন

ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে প্রথম আইসক্রিমের মতো ঠাণ্ডা খাবারের প্রচলন শুরু হয়। গ্রীক সম্রাট মহান আলেকজান্ডার (সিকান্দার) বরফের সাথে মধু ও ফলের রস মিশিয়ে খেতে পছন্দ করতেন। রোমান সম্রাট নিরো ক্লাউডিয়াস সিজারও তাঁর দাসদের পাহাড় থেকে বরফ এনে তা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে ডেজার্ট বানানোর নির্দেশ দিতেন।

আধুনিক রূপ এবং বাণিজ্যিকরণ

১৬শ শতাব্দীতে ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড এবং ইতালিতে এই রেসিপিটি দুধ ও ক্রিমের ছোঁয়ায় আধুনিক আইসক্রিমের রূপ নিতে শুরু করে। আমেরিকার ইতিহাসে আইসক্রিমের প্রথম বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছিল ১২ই মে ১৭৭৭ সালে ‘নিউইয়র্ক গেজেট’ পত্রিকায়। পরবর্তীতে ১৮১৩ সালে হোয়াইট হাউসের এক রাজকীয় ভোজে স্ট্রবেরি আইসক্রিম পরিবেশন করে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে নিয়ে যান ডলি ম্যাডিসন।

সারসংক্ষেপ: ব্ল্যাক ডায়মন্ড বনাম বিয়াকুয়া

‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ও ‘বিয়াকুয়া’ মূলত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার ফিকশন ও গেমিং ইউনিভার্সের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি চরিত্র ও উপাদান। এদের মধ্যে কোনো সরাসরি সাহিত্যিক সংঘাত না থাকলেও, পপ-কালচার এবং ফিকশনের জগতে এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শক্তির তুলনা নিচে একটি সুসংগঠিত সারণি এবং বিস্তারিত সারসংক্ষেপের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

সংক্ষেপিত তুলনা সারণি

বৈশিষ্ট্য ব্ল্যাক ডায়মন্ড (Black Diamond)বিয়াকুয়া তোগামি (Byakuya Togami)
উৎস/মাধ্যমবাংলা কমিকস (দিলীপ কুমার চট্টোপাধ্যায় ও নারায়ণ দেবনাথ)জাপানি গেম ও অ্যানিমে সিরিজ (Danganronpa)
চরিত্রের ধরনঅতি-চালাক খলনায়ক ও আন্তর্জাতিক অপরাধীঅহংকারী, বুদ্ধিমান ছাত্র এবং ‘আলটিমেট অ্যাফ্লুয়েন্ট প্রডিজি’
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীগোয়েন্দা ইন্দ্রজিৎ রায়কিয়োকো কিরিগিরি এবং মাকোতো নাएগি
মূল শক্তিছদ্মবেশ ধারণ, অপরাধের নিখুঁত ছক এবং শারীরিক শক্তিঅগাধ অর্থসম্পদ, উচ্চ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং নির্মম যৌক্তিকতা

প্রধান চারিত্রিক সারসংক্ষেপ

১. ব্ল্যাক ডায়মন্ড (ইন্দ্রজিৎ রায় সিরিজ)

  • বাঙালি কমিকসের আইকনিক ভিলেন: পত্র ভারতী থেকে প্রকাশিত এবং প্রবাদপ্রতিম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথের তুলিতে প্রাণ পাওয়া এই চরিত্রটি বাংলা কমিকস ইতিহাসের অন্যতম সেরা খলনায়ক.
  • ক্যাট অ্যান্ড মাউস খেলা: গোয়েন্দা ইন্দ্রজিৎ রায়ের সাথে তার বুদ্ধির লড়াই এবং শ্বাসরুদ্ধকর পালানোর কৌশল গল্পগুলোকে দারুণ রোমাঞ্চকর করে তোলে.
  • বৈশিষ্ট্য: সে অত্যন্ত ধূর্ত, প্রযুক্তি ও ছদ্মবেশে পারদর্শী এবং আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাতে ওস্তাদ.

২. বিয়াকুয়া তোগামি (ডাঙ্গানরোনপা সিরিজ)

  • অভিজাত ও নির্মম চিন্তাবিদ: বিয়াকুয়া তোগামি হলো জাপানি মার্ডার-মিস্ট্রি ফ্র্যাঞ্চাইজি ডাঙ্গানরোনপা-র অন্যতম প্রধান চরিত্র. সে তোগামি কর্পোরেশনের উত্তরাধিকারী।
  • দুর্বলতার অবসান: সে নিজেকে অন্য সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং তার মতে আবেগ হলো মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা.
  • বৈশিষ্ট্য: মার্ডার ট্রায়াল বা খুনের রহস্য সমাধানে সে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ প্রদর্শন করে, যদিও তার অহংকার অনেক সময় তাকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়.

মূল পার্থক্য (The Ultimate Verdict)

যেখানে ব্ল্যাক ডায়মন্ড একজন অপরাধী যে আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে বুদ্ধি খাটায়, সেখানে বিয়াকুয়া কোনো অপরাধী নয়, বরং এক চরম অহংকারী অভিজাত চরিত্রের অধিকারী যে একটি মরণখেলায় টিকে থাকার জন্য নিজের প্রখর বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে।

আমাদের বিশ্লেষণ: দুবাইয়ের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ হোক কিংবা জাপানের ‘বিয়াকুয়া’—এই আইসক্রিমগুলো আসলে শুধু খাওয়ার জন্য নয়, এগুলো ধনীক শ্রেণীর আভিজাত্য এবং রন্ধনশিল্পের চরম বিলাসিতার প্রতীক। সাধারণ মানুষের জন্য ৬০ টাকা বা ৬০০ টাকার আইসক্রিমই যেখানে অমৃত, সেখানে লাখ টাকার আইসক্রিম কেবলই দূর থেকে জানার দারুণ এক কৌতূহল!

তথ্যসূত্র ও সোর্স:

১. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (Guinness World Records Official Website) অফিশিয়াল আপডেট।

২. জাপানি লাক্সারি ব্র্যান্ড ‘Cellato’ (cellato.tokyo) প্রোডাক্ট ক্যাটালগ।

৩. বিশ্ব আইসক্রিম ইতিহাসের প্রাচীন নথি ও নিউইয়র্ক গেজেট আর্কাইভ (১৭৭৭)।

প্রতিবেদক: সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আইসক্রিম, এর রোমাঞ্চকর ইতিহাস এবং বিশ্বমঞ্চের এমন অদ্ভুত সব জানা-অজানা ট্র্যাকিংয়ের তথ্যসমৃদ্ধ কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ  ওয়েবসাইটে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শবযাত্রা

নিউজ ডেস্ক

May 21, 2026

শেয়ার করুন

১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ) বিশ্বকবির প্রয়াণের পর কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে নিমতলা ঘাট পর্যন্ত এক অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মূলত উন্মত্ত জনতার জোড়াসাঁকোর গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকা, শেষ স্নানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা, কবির চুল ও দাড়ি টেনে ছেঁড়ার চেষ্টা এবং শ্মশানে অর্ধদগ্ধ চিতাভস্ম নিয়ে কাড়াকাড়ির কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শবযাত্রা ও অন্তিম সৎকার বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত এবং আত্মগ্লানির অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরী এ কারণেই ২২শে শ্রাবণকে কেবল জাতীয় শোকের দিন নয়, বরং ‘জাতীয় গ্লানির দিন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে এই বিতর্কের পেছনে অতি-আবেগ ও কিছু যৌক্তিক বাস্তবতার মেলবন্ধন ছিল, যা ইতিহাসের পাতা ওল্টালে স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শবযাত্রা ও অন্তিম সৎকার বিতর্কিত হওয়ার মূল কারণ

সেদিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবিকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক উগ্র ও নির্লজ্জ আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণী থেকে তৎকালীন ৫টি বড় আপত্তির কথা জানা যায়:

  • ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্ষুণ্ন হওয়া: কবির শেষ স্নানের নিভৃত পারিবারিক সময়কেও উন্মত্ত জনতা গোপন থাকতে দেয়নি, তারা মেইন গেট ভেঙে ছাদে উঠে পড়ে।
  • চুল-দাড়ি ছেঁড়ার চেষ্টা: কবিকে শেষ স্পর্শ করার হুজুগে অনেকে তাঁর চুল ও দাড়ি টেনে ছেঁড়ার চেষ্টা করে, যা ঠেকাতে নন্দলাল বসুকে লাঠি হাতে পাহারায় বসতে হয়েছিল।
  • চিতাভস্ম নিয়ে হুড়োহুড়ি: নিমতলা শ্মশানে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকায় কবি সম্পূর্ণ দাহ হওয়ার আগেই একদল মানুষ চিতাভস্ম ও অস্থি সংগ্রহের জন্য কাড়াকাড়ি শুরু করে।
  • পুত্র রথীন্দ্রনাথের অনুপস্থিতি: পিতার অন্তিম সৎকারে পুত্র রথীন্দ্রনাথ মুখাগ্নি না করে কেন ভ্রাতুষ্পুত্র সৌরিন্দ্রনাথ করলেন—তা নিয়ে পরিবার ও সমাজ মহলে গভীর বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
  • ব্রাহ্ম মতের অবহেলা: বিশ্বকবি আদি ব্রাহ্মমতের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শেষকৃত্য কেন সনাতন হিন্দু মতে করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

উল্টো-পুরাণ: সজনীকান্ত দাসের প্রত্যক্ষ বিবরণ ও যৌক্তিক প্রতিরক্ষা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সজনীকান্ত দাস একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, তীব্র সমালোচক এবং ‘শনিবারের চিঠি’-র সম্পাদক হিসেবে সুপরিচিত। ‘উল্টো-পুরাণ’ তাঁর স্বকীয় চিন্তাধারার এক অনন্য নিদর্শন, যেখানে তিনি সনাতন হিন্দু পৌরাণিক আখ্যান ও চরিত্রগুলোকে সম্পূর্ণ নতুন, যৌক্তিক এবং বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন।

সজনীকান্ত দাসের ‘উল্টো-পুরাণ’-এর মূল ভাবনা ও তার যৌক্তিক প্রতিরক্ষা নিচে কয়েকটি স্পষ্ট ও সুসংগঠিত ধাপে তুলে ধরা হলো:

১. ‘উল্টো-পুরাণ’-এর মূল দর্শন ও উদ্দেশ্য

  • পরম্পরা ভাঙার সাহস: প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীতে দেবতাদের যেভাবে মহিমান্বিত করা হয়, সজনীকান্ত তার ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছেন। তিনি দেবতাদের মানবিক ত্রুটি-বিচ্যুতি, অহংকার এবং দুর্বলতাগুলোকে সামনে এনেছেন।
  • মানবিকরণ: পৌরাণিক চরিত্রগুলোকে অলৌকিক সত্তা না ভেবে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
  • সমাজ ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: রূপকের আড়ালে তিনি তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার ভন্ডামি, নৈতিক স্খলন এবং ক্ষমতার রাজনীতির সমালোচনা করেছেন।

২. যৌক্তিক প্রতিরক্ষা (Rational Defense)

সজনীকান্তের এই পুরাণ-বিরোধিতা নিছক খেয়ামাত্র ছিল না, এর পেছনে ছিল সুদৃঢ় যৌক্তিক ভিত্তি:

  • অন্ধবিশ্বাসের অবসান: পৌরাণিক দেব-দেবীদের অন্ধভাবে পূজার বদলে তাদের যুক্তির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, দেবতারাও ভুলের ঊর্ধ্বে নন।
  • সাহিত্যিক যুক্তি: সাহিত্যে প্রথাগত বা গতানুগতিক ধারাকে ভেঙে নতুনত্ব ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা। সজনীকান্ত বিশ্বাস করতেন, সাহিত্য কোনো স্থবির বিষয় নয়, এটি যুক্তি ও বিশ্লেষণের আলোয় বিকশিত হয়।
  • সমাজ সংস্কার: দেবতাদের নৈতিক দুর্বলতাগুলো তুলে ধরে তিনি পরোক্ষভাবে তৎকালীন সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতা, অন্যায় এবং অন্ধ অনুশাসনের যৌক্তিক বিরোধিতা করেছেন।

৩. দৃষ্টিভঙ্গি ও বিতর্ক

সজনীকান্ত দাসের এই দৃষ্টিভঙ্গি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। রক্ষণশীলরা একে হিন্দুধর্ম ও সংস্কৃতির অবমাননা হিসেবে দেখলেও, মুক্তচিন্তক ও বুদ্ধিজীবীরা এটিকে সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানান।

তাঁর এই সাহিত্যিক প্রয়াস ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রমাণসমূহ জানার জন্য আপনি Marxsbadi Sahitya-bitarka বা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সংক্রান্ত গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করতে পারেন। এছাড়া, বাংলা সাহিত্যের গদ্যরীতির ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Bangla Gadyaritir Itihas সহায়ক হতে পারে।

১. রথীন্দ্রনাথের মুখাগ্নি না করার আসল কারণ

‘উল্টো-পুরাণ’ বা ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখাগ্নি করতে না পারার মূল কারণ ছিল নিমতলা শ্মশানে জনজোয়ারের কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও তাঁর আকস্মিক অসুস্থতা। প্রচণ্ড ভিড়ে দমবন্ধ অবস্থায় রথীন্দ্রনাথ অচৈতন্য হয়ে পড়লে, সে সময় সুবীরেন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিগুরুর মুখাগ্নি সম্পন্ন করেন। এই ঘটনা কোনো পারিবারিক নিষেধাজ্ঞা ছিল না, বরং অনিয়ন্ত্রিত আবেগ ও চরম অব্যবস্থাপনার ফল। ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ জানতে পড়ুন Prohor

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পুলিশের তাগাদা

“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পুলিশের তাগাদা” অধ্যায় বা প্রসঙ্গটি মূলত কবি ও সমালোচক সজনীকান্ত দাসের বিখ্যাত আত্মজীবনী ‘আত্মস্মৃতি’-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯archive৪৫) উত্তাল দিনগুলোতে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রকাশনা জগতের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, এটি তারই এক প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক দলিল।

সজনীকান্ত দাসের বিবরণী থেকে এই প্রসঙ্গের মূল বিষয় ও যৌক্তিক প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ‘শনিবারের চিঠি’ ও যুদ্ধকালীন সংকট [1]

  • কাগজের তীব্র আকাল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ ভারতে কাগজের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ (Paper Control Order) জারি করা হয়। এর ফলে সজনীকান্ত দাসের আজীবন সাধনার শনিবারের চিঠি পত্রিকার প্রকাশনা চরম সংকটের মুখে পড়ে।
  • আর্থিক বিপর্যয়: যুদ্ধের বাজারে মুদ্রণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্ল্যাক-মার্কেট বা কালোবাজারির কারণে সজনীকান্তকে প্রতিনিয়ত প্রেস ও কাগজের জোগান বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হতো। [

২. পুলিশের তাগাদা ও রাজনৈতিক নজরদারি

  • সেন্সরশিপের কড়াকড়ি: বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বিরোধী কোনো লেখা বা জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে—এমন কোনো উপাদান ছাপা হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করতে তৎকালীন গোয়েন্দা বিভাগ ও লালবাজারের পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
  • সরকারি পরোয়ানা ও নোটিশ: সজনীকান্ত দাস তাঁর নির্ভীক ও ব্যঙ্গাত্মক লেখার জন্য পরিচিত ছিলেন। ফলে, সরকারি নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত কাগজ ব্যবহার বা যুদ্ধ-নীতি বিরোধী কোনো ছদ্মনামীয় লেখা প্রকাশের সন্দেহে প্রায়শই তাঁর প্রেসে ও বাড়িতে পুলিশের “তাগাদা” বা নোটিশ আসত।
  • নথিপত্র দাখিলের চাপ: প্রতি সপ্তাহে বা মাসে কতটুকু কাগজ ব্যবহৃত হচ্ছে, গ্রাহক সংখ্যা কত এবং কী ছাপা হচ্ছে—তার নিখুঁত হিসাব পুলিশের প্রেস শাখায় জমা দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত তাগিদ দেওয়া হতো।

৩. সজনীকান্তের যৌক্তিক প্রতিরক্ষা ও কৌশল

  • আইনি কূটকৌশল: সজনীকান্ত দাস কেবল একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি আইনের মারপ্যাঁচও ভালো বুঝতেন। পুলিশের এই হয়রানি ও তাগাদাকে তিনি আইনি পথেই মোকাবিলা করতেন এবং প্রমাণ করতেন যে তাঁর পত্রিকা কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত নয়।
  • রসাত্মক প্রতিরোধ: পুলিশের এই শ্বাসরুদ্ধকর তাগিদ এবং যুদ্ধকালীন ভয়ভীতিকে তিনি ‘শনিবারের চিঠি’-র পাতায় তীব্র ব্যঙ্গ ও রসাত্মক কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন, যা তৎকালীন পাঠকসমাজে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কলকাতার সেই অস্থির সময় এবং বুদ্ধিজীবীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়ন সম্পর্কে আরও গভীর ও সমকালীন রাজনৈতিক বিতর্ক বুঝতে আপনি Marxsbadi Sahitya-bitarka আকর গ্রন্থটি দেখতে পারেন।

৩. চুল ছেঁড়ার দাবির অসারতা

পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, চিকিৎসার সুবিধার্থে মৃত্যুর আগেই কবির চুল ও দাড়ি এতটাই ছোট করে ছেঁটে দেওয়া হয়েছিল যে, ভিড়ের মধ্যে তা হাত দিয়ে টেনে ছেঁড়ার কোনো বাস্তব সুযোগ ছিল না।

সারসংক্ষেপ: উগ্রতা নাকি আবেগের অতিশয্য?

আমাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ বলে, এই বিশৃঙ্খলা কোনো অসম্মান থেকে তৈরি হয়নি, বরং প্রিয় কবিকে হারানোর আকস্মিক ধাক্কা ও শেষবার দেখার তীব্র ব্যাকুলতা থেকে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল। ব্রাহ্ম ও বৈদিক সনাতন রীতির সৎকারের মূল মন্ত্র কাছাকাছি হওয়ায় ধর্মীয় বিতর্কটি অনেকটাই তাত্ত্বিক ছিল।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ