ঐতিহ্যবাহী স্থান ও স্থাপনা

বাংলাদেশের বৃহত্তর পাহাড় কোনটি? গারো পাহাড়ের বিস্তৃতি ও তাজিংডংয়ের উচ্চতা
বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর পাহাড় কোনটি

নিউজ ডেস্ক

December 11, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ভূমিকা: পাহাড় ও পর্বতের পার্থক্য

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতির আলোচনায় পাহাড় এবং পর্বতের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত পাহাড় বলতে এমন একটি ভূমিরূপকে বোঝানো হয় যা পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ডের উপরে প্রসারিত, অন্যদিকে পর্বত হলো অধিক উচ্চতা এবং খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ভূমির অবস্থান (সাধারণত ৬০০ মিটারের বেশি)। এই সংজ্ঞানুসারে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর পাহাড় হলো গারো পাহাড়


১. বাংলাদেশের বৃহত্তর পাহাড়: গারো পাহাড়

গারো পাহাড় একটি সুবিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চল যা আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যে বৃহত্তর।

  • ভৌগোলিক অবস্থান: এটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (মূলত ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে) এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো হিলস জেলাগুলোতে বিস্তৃত।
  • আয়তন ও প্রকৃতি: গারো পাহাড় ঘন বন-জঙ্গলে আচ্ছাদিত। এখানে প্রায় ২০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। অসংরক্ষিত বনভূমিও কম নয়।
  • উদ্ভিদ ও প্রাণী: সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান শালগাছ জন্মায়। এছাড়া সেগুন, বাঁশ ও বেতও পাওয়া যায়। বনভূমিতে বন্য হাতি, হরিণ, বাঘ, ময়না এবং ধনেশ পাখিও দেখা যায়।
  • নদ-নদী: এই পাহাড়ী অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য নদ-নদীগুলো হলো: ঝিনারী, কৃষ্ণাই, দুধনাই, গাননল, ভোগাই, নিতাই, রংরা, মহাদেও, গনেশ্বরী এবং সোমেশ্বরী।
  • জনগোষ্ঠী: এটি মূলত গারো সম্প্রদায়ের মূল বাসভূমি।
  • সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নক্রেক, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৬৫২ ফুট

২. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ: তাজিংডং (বিজয়)

যদি আয়তনের পরিবর্তে উচ্চতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি, তা জানতে চাওয়া হয়, তবে উত্তরটি হবে তাজিংডং (বিজয়)

  • স্বীকৃতি: সরকারিভাবে তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত।
  • অবস্থান: এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলার সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত।
  • উচ্চতা: সরকারি হিসেবে তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা ১,২৮০ মিটার (৪,১৯৮.৪ ফুট)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পূর্বে কেওক্রাডংকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হলেও, আধুনিক গবেষণায় তা ভুল প্রমাণিত হয়। বর্তমানে বেসরকারিভাবে সাকা হাফং পর্বতকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ দাবি করা হলেও, সরকারি স্বীকৃতি এখনো তাজিংডংয়েরই রয়েছে।


সূত্র

১. উইকিপিডিয়া (পাহাড় ও পর্বত সংক্রান্ত তথ্য)। ২. সরকারি নথি ও স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক তথ্য।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

নিউজ ডেস্ক

May 20, 2026

শেয়ার করুন

বুধবার, ২০ মে ২০২৬: পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে রূপপুর নামক এলাকায় নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ ($Rooppur\ Nuclear\ Power\ Plant$)। রাশিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিতব্য এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব আনতে যাচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রকল্পের কাজ ২০২৩-২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বৈশ্বিক করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কারিগরি জটিলতার কারণে এর সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান ২০২৬ সালের সর্বশেষ অফিশিয়াল অগ্রগতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চূড়ান্ত নির্মাণ কাজ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সময়সূচি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হয় ৩০ নভেম্বর, ২০১৭ সালে। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট করে সর্বমোট ২,৪০০ মেগাওয়াট।

  • প্রথম ইউনিট (Unit-1): এই ইউনিটের নির্মাণ কাজ ও পরমাণু জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) হস্তান্তরের মূল ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এর কমিশনিং ও পরীক্ষামূলক চালনা (Test Run) শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
  • দ্বিতীয় ইউনিট (Unit-2): প্রথম ইউনিটের কাজের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়্যাক্টর প্রেশার ভেসেলসহ প্রধান ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্যসমৃদ্ধ গভীর বিশ্লেষণ: নির্মাণ কাজ কত সালে শেষ হবে?

প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থাকলেও, বর্তমান ২০২৬ সালের বাস্তব পরিস্থিতি এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ ($PGCB$)-এর সঞ্চালন লাইন (Transmission Line) নির্মাণের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সংশোধিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন (২০২৬-২০২৭)

প্রথম ইউনিটের ভৌত অবকাঠামো ও পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের কাজ প্রায় শতভাগ শেষ। ২০২৬ সালের বর্তমান কোয়ার্টারের তথ্য অনুযায়ী, এটি এখন পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। সঞ্চালন লাইনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়া সাপেক্ষে, ২০২৬ সালের শেষভাগ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

২. দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন (২০২৭-২০২৮)

দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান কাজের গতি বজায় থাকলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা ২০২৮ সালের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটির নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ করে এটি থেকেও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ২০২৮ সালের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের দুটি ইউনিটই পুরোপুরি সচল হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প মেট্রিিক্স ও সময়সীমা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (RNPP) বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং প্রথম পারমাণবিক মেগা প্রকল্প, যা বর্তমানে উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম (Rosatom) এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পের মূল মেট্রিিক্স এবং সময়সীমা নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:

১. প্রকল্প মেট্রিক্স (Project Metrics)

  • মোট উৎপাদন ক্ষমতা: ২,৪০০ মেগাওয়াট (দুটি ইউনিট, প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট)।
  • প্রযুক্তি ও রিঅ্যাক্টর টাইপ: রাশিয়ান ৩+ প্রজন্মের VVER-1200 রিঅ্যাক্টর (যা সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড সম্পন্ন)।
  • প্রাক্কলিত মোট ব্যয়: চুক্তি অনুযায়ী ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ডলারের অবমূল্যায়ন ও টাকার মান হ্রাসের কারণে টাকার অঙ্কে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৯ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি) টাকা
  • অর্থায়ন: প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৯০% ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া (যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য), বাকি ১০% বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।
  • স্থায়িত্ব ও আয়ুষ্কাল: এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর, যা রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব।
  • জ্বালানি সরবরাহ: একবার জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫) লোড করার পর তা দিয়ে কেন্দ্রটি টানা দেড় বছর (১৮ মাস) নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।

২. বর্তমান কাজের অগ্রগতি (Current Status)

  • ১ম ইউনিট: ভৌত নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৮% সম্পন্ন। হট এবং কোল্ড রান সহ যাবতীয় প্রাথমিক পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।
  • ২য় ইউনিট: ভৌত নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৩% সম্পন্ন হয়েছে।
  • মোট খরচ: প্রকল্পের নির্ধারিত বাজেটের ৮১% এর বেশি অর্থ ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে।

৩. সংশোধিত প্রকল্প সময়সীমা (Project Timeline)

কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের (Transmission Line) বিলম্বের কারণে প্রকল্পের মূল সময়সীমা কয়েক দফা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সর্বশেষ চুক্তি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন সময়সীমা নিম্নরূপ:

  • ১ম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন (পরীক্ষামূলক): ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে এটি পূর্ণাঙ্গ ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে যাবে।
  • ১ম ইউনিটের চূড়ান্ত বাণিজ্যিক হস্তান্তর: সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী ১ম ইউনিটের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার ডেডলাইন ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬
  • ২য় ইউনিটের বাণিজ্যিক হস্তান্তর: দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ সম্পন্ন ও প্রাথমিক হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৭
  • পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প সমাপ্তি: রাশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ চুক্তির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পের সামগ্রিক আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির সময়সীমা জুন, ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৯ শতাংশ পূরণ করবে। [

ভবিষ্যৎ রূপরেখা: বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কার্বনমুক্ত অর্থনীতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে তা বাংলাদেশের বেস-লোড বিদ্যুৎ (Base-load Power) সরবরাহের প্রধান উৎসে পরিণত হবে। কয়লা বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদী এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে কোনো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হবে না, যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাংলাদেশের কার্বনমুক্ত গ্রিন এনার্জি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

পোর্টফোলিও ও যোগাযোগ: BDS Bulbul Ahmed Portfolio

বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাতীয় গ্রিড ও জ্বালানি খাতের আপডেট এবং সমসাময়িক উন্নয়ন খবরের গভীর ও প্রফেশনাল ইনফরমেশনাল কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বুয়েট

নিউজ ডেস্ক

May 5, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কেবল তার অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের জন্যই নয়, বরং তার ভৌগোলিক অবস্থানের পেছনে থাকা সুদীর্ঘ ইতিহাসের জন্যও আলোচিত। বুয়েট ক্যাম্পাসের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির সাথে যুক্ত, যা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে আইনি ও সাংস্কৃতিক আলোচনা বিদ্যমান。

ঐতিহাসিক পটভূমি: বিশাল দেবোত্তর সম্পত্তি

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকার অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা。 আদি যুগে এই মন্দিরের সীমানা এবং দেবোত্তর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশাল。 ব্রিটিশ আমল এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে পর্যন্ত মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও ধর্মীয় কাজের জন্য মাইলের পর মাইল বিস্তৃত খোলা জমি, বাগান এবং পুকুর উৎসর্গ করা হয়েছিল。

বুয়েট ক্যাম্পাসের সম্প্রসারণ ও জমি অধিগ্রহণ

১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার জনস্বার্থে এবং শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে。 এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিগ্রহণ করা হয়। বুয়েট ক্যাম্পাসের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম দিকের এলাকা এবং তৎসংলগ্ন আবাসিক হলগুলোর জমি একসময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মালিকানাধীন ছিল。

ক্ষতিপূরণ ও আইনি বিতর্ক

জমির ক্ষতিপূরণ বা বাজারমূল্য পরিশোধের বিষয়টি আজও একটি অমীমাংসিত ঐতিহাসিক অধ্যায়。

  • সরকারি নথিপত্র: তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ আইন (Land Acquisition Act)-এর অধীনে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে জমিটি নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়মানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ করা হয়。
  • অস্পষ্টতা: ঐতিহাসিকদের মতে, তৎকালীন সময়ে মন্দিরের সেবায়েতরা সেই ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছিলেন কি না বা সেই মূল্যটি তৎকালীন বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে。
  • ধর্মীয় আইনি অবস্থান: হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী, দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর করা ধর্মীয় আইনের পরিপন্থী এবং এই জমিগুলো যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বা নামমাত্র মূল্যে নেওয়া হয়েছিল。

বর্তমান বাস্তবতা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া

ঢাকেশ্বরী মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে。 ১. জমি পুনরুদ্ধার: ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দফায় দফায় প্রায় ১.৫ বিঘা জমি সরকার মন্দির কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে。 ২. অ্যাকাডেমিক অবকাঠামো: বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যাওয়া মূল ক্যাম্পাস এলাকার জমিগুলো আর ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ সেখানে এখন স্থায়ী অ্যাকাডেমিক অবকাঠামো বিদ্যমান。 ৩. বিকল্প সুবিধা: সরকার বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের উন্নয়নে অনুদান এবং বিকল্প সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে。


তথ্যসূত্র: ১. ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ঢাকেশ্বরী মন্দির সংরক্ষণ রিপোর্ট ২. ভূমি অধিগ্রহণ আইন ও দেবোত্তর সম্পত্তি বিষয়ক নথিপত্র ৩. বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঐতিহাসিক স্মারকলিপি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান?

নিউজ ডেস্ক

May 4, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ অনুসন্ধানী ডেস্ক

ঢাকা: দীর্ঘ ৫৪ বছরের স্বাধীন পথচলায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুদ্ধিজীবী মহল, বিভিন্ন টকশো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসছে— বাংলাদেশের প্রকৃত অবকাঠামোগত ভিত্তি কি পাকিস্তান আমলেই স্থাপিত হয়েছিল? ব্রিটিশদের ২০০ বছরের অবজ্ঞা এবং পরবর্তী ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলের উন্নয়নের পরিসংখ্যান বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এক নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদরা যখন বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের গোড়াপত্তন নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন উঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। সেই আলোচনার সূত্র ধরে এবং ঐতিহাসিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

১. ব্রিটিশ আমলের অবজ্ঞা ও কলকাতার ‘দাদা-বাবু’ সংস্কৃতি

১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭—এই ১৯০ বছরে ব্রিটিশরা পূর্ব বাংলাকে কেবল কাঁচামাল সংগ্রহের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে। কলকাতার প্রভাবশালী ‘দাদা-বাবু’ বা এলিট শ্রেণি কখনোই চায়নি ঢাকা বা পূর্ব বাংলা উন্নত হোক।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২১): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের শান্ত করতে ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ এটি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
    • ইতিহাস ও বিরোধিতা: এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী মহল। তাদের যুক্তি ছিল, পূর্ব বাংলার কৃষিনির্ভর মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নেই। কলকাতার তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখার্জি পর্যন্ত এর বিপক্ষে ছিলেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯২১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল ব্রিটিশ আমলের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়।

২. পাকিস্তান আমলের ২৪ বছর: উচ্চশিক্ষার মহাবিপ্লব

ইতিহাস আমাদের শেখায় পাকিস্তান ২৪ বছর শোষণ করেছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের আধুনিক উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল খাতের মেরুদণ্ড এই ২৪ বছরেই তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ইতিহাস:

পাকিস্তান আমলে মোট ৫টি বড় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়:

  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩): উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণের দাবি মেটাতে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ড. ইতরাত হোসেন জুবেরী ছিলেন এর প্রথম উপাচার্য।
  2. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬): প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর কার্যক্রম শুরু করে।
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০): দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি ঢাকার অদূরে সাভারে প্রতিষ্ঠিত হয়।
  4. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮): মূলত ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ কলেজকে ১৯৬৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়, যা আজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
  5. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১): ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা:

বর্তমানে বাংলাদেশে ৫টি প্রধান সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যার ৪টিই (৮০%) পাকিস্তান আমলের অবদান।

  • বুয়েট (BUET – ১৯৬২): ১৮৭৬ সালের সার্ভে স্কুল থেকে ১৯৬২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
  • রুয়েট (১৯৬৪), চুয়েট (১৯৬৮), কুয়েট (১৯৬৯): এই আঞ্চলিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে নির্মিত হয়। পরবর্তী ৫০ বছরে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ১টি নতুন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।

৩. চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য খাতের গোড়াপত্তন

ব্রিটিশদের ২০০ বছরে মাত্র ১টি মেডিকেল (ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ১৯৪৬) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিপরীতে পাকিস্তান আমলে ৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়।

নাম ও ইতিহাস:

  1. চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭): বন্দর নগরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কাম কলেজ।
  2. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮): উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্র।
  3. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২): ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রতিষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান।
  4. সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২): তৎকালে সিলেট মেডিকেল কলেজ নামে পরিচিত ছিল।
  5. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩): মিডফোর্ড হাসপাতালের ওপর ভিত্তি করে এটি গড়ে ওঠে।
  6. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক IPGMR – ১৯৬৬): স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণার জন্য এটি পাকিস্তান আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
  7. শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮): দক্ষিণবঙ্গের মানুষের আস্থার প্রতীক।
  8. রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০): পাকিস্তান আমলের শেষ বড় উপহার।

৪. বিশেষায়িত ও কারিগরি শিক্ষা

পাকিস্তান আমলে কারিগরি শিক্ষায় যে জোয়ার এসেছিল, তা স্বাধীনতার পরের ৫০ বছরে অনেকটা ম্লান।

  • পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে ১৭টি পলিটেকনিক করেছিল। বাংলাদেশ ৫০ বছরে করেছে ৩২টি।
  • ক্যাডেট কলেজ: ফৌজদারহাট (১৯৫৮), মির্জাপুর (১৯৬৩), ঝিনাইদহ (১৯৬৩) এবং রাজশাহী (১৯৬৫)—এই ৪টি ঐতিহাসিক ক্যাডেট কলেজ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়।
  • বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (১৯৬২): নৌ-অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ার তৈরির জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বুটেক্স – ১৯৫০): এটি ‘ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

৫. শিল্পায়ন ও ভারী অবকাঠামো

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির প্রধান শক্তিগুলো পাকিস্তান আমলের পরিকল্পনার ফসল।

  • শিল্পনগরী: তেজগাঁও, হাজারীবাগ এবং খালিশপুর শিল্প এলাকা পাকিস্তান আমলে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়।
  • আদমজী জুট মিল (১৯৫১): নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল।
  • চন্দ্রঘোনা পেপার মিল (১৯৫৩): এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কল।
  • ইস্টার্ন রিফাইনারি (১৯৬৮): দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার যা আজও সচল।
  • জাতীয় স্থাপনা: সংসদ ভবন, সচিবালয়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (বর্তমান শাহজালাল) এবং বাইতুল মোকাররম মসজিদ—প্রতিটিই পাকিস্তান আমলের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা।

৬. পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা

১৯৭১-এর যুদ্ধের পর পাকিস্তান ‘ঘাস খেয়ে হলেও’ পারমাণবিক বোমা তৈরির শপথ নিয়েছিল। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে।

  • পারমাণবিক অস্ত্র: ১৭০টি ওয়ারহেড এবং শাহীন-৩ (২৭৫০ কিমি পাল্লার) মিসাইল নিয়ে পাকিস্তান এখন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
  • বিমান বাহিনী: জেএফ-১৭ থান্ডার এবং জে-১০সি নিয়ে তারা বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী বাহিনী। সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত।
  • কূটনীতি: বর্তমানে পাকিস্তান ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘বিগ প্লেয়ার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিপরীতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নিয়ে যতটা মাতামাতি করেছে, অবকাঠামোগত স্বনির্ভরতা ও আধুনিকায়নে কি ততটা এগোতে পেরেছে? আজ সংসদে আধুনিকতা বড় নাকি চেতনা বড়—তা নিয়ে শত শত অধিবেশন পার হয়ে যাচ্ছে।

উপসংহার ও পর্যালোচনা

ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়। ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শোষণ এবং ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলের বৈষম্যের গল্প যেমন সত্য, তেমনি এই অঞ্চলের আধুনিক অবকাঠামোর গোড়াপত্তন যে পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল—তাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ব্রিটিশ আমলে যেখানে মাত্র ১২% শিক্ষিত ছিল, পাকিস্তান আমলে তা দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে।

আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের মূল্যায়ন করা উচিত, আমরা কি কেবল আগের আমলের করা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেই দায়িত্ব শেষ করছি, নাকি নতুন প্রজন্মের জন্য প্রকৃত আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পারছি?

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা: ১. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ঐতিহাসিক ডাটা। ২. ড. এম.এ. রহিম, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭৫৭-১৯৭১)। ৩. আল-জাজিরা ও এনডিটিভি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা রিপোর্ট ২০২৬। ৪. বিগত ২৬-২৮ এপ্রিল ২০২৬-এর টেলিভিশন টকশো ‘ইতিহাসের সত্য’।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ