অর্থনীতি

স্বর্ণের দাম ২০২৬: বাংলাদেশে প্রতি ভরিতে কমলো ৫০০০ টাকা, স্বস্তি ক্রেতাদের মাঝে
স্বর্ণের দাম ২০২৬ বাংলাদেশ - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দাম ২০২৬: বাংলাদেশে প্রতি ভরিতে কমলো ৫০০০ টাকা, স্বস্তি ক্রেতাদের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ায় স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর ইতিহাসে আজ সবথেকে বড় পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS) আজ সকালে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৫,০০০ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই দাম আজ বুধবার বিকেল থেকেই সারাদেশে কার্যকর হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে। এর সুফল সরাসরি পাচ্ছেন বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারা।

নতুন মূল্য তালিকা ও বাজুসের সিদ্ধান্ত

স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর নতুন সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী: ১. ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১,০৫,০০০ টাকায় (পূর্বের দাম থেকে ৫,০০০ টাকা কম)। ২. ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১,০০,০০০ টাকায়। ৩. ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৮৬,০০০ টাকায়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, “আমরা চাই বাজার স্থিতিশীল থাকুক। ক্রেতারা যাতে ন্যায্য মূল্যে স্বর্ণ অলঙ্কার কিনতে পারেন, সেজন্যই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে দাম কমানো হয়েছে।” বিশেষ করে সামনে বিয়ের মৌসুম হওয়ায় এই দরপতন সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বাজার পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। দেশের বড় বড় জুয়েলারি শোরুমগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, দাম কমার ঘোষণার পর থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বাজার দর পরিবর্তন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর এই পতন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় সুযোগ। স্বর্ণ কেবল বিলাসিতার বস্তু নয়, এটি একটি আপদকালীন সম্পদ। বাজার নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টের আয়ের সঠিক বিনিয়োগ করতে পারে। এটি সামাজিক সমতা ও মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিকাশ

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash) সিকিউরিটি গাইডলাইন, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) 

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে অনলাইন শপিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিনব সব সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণা। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন লোভনীয় অফার বা চতুর ফিশিংয়ের ফাঁদে পড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। গুগলের ২০২৬ সালের সর্বশেষ ইউজার সেফটি ও সিকিউরিটি গাইডলাইন অনুযায়ী, অনলাইন শপিং ও বিকাশ ব্যবহার করার সময় জালিয়াতি চক্রকে ধরার ৭টি পাকা ও প্রমাণিত উপায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: 

১. অস্বাভাবিক মূল্যছাড় এবং “অবাস্তব” অফার (Too Good to be True)
প্রতারক চক্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো লোভ। বাজারে যে প্রোডাক্টটির আসল দাম ৫,০০০ টাকা, কোনো পেজ বা ওয়েবসাইটে যদি সেটি মাত্র ১,৫০০ টাকায় ‘অফারের’ নামে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেখেন, তবে শুরুতেই সতর্ক হন। আইফোন, প্রিমিয়াম গ্যাজেট বা ব্র্যন্ডেড পোশাকের ক্ষেত্রে এই ধরনের অবাস্তব ছাড় মূলত ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলার প্রথম ধাপ। 

২. শুধু ‘অ্যাডভান্স ফুল পেমেন্ট’ বা অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া
বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) বা কন্ডিশনাল ডেলিভারির সুবিধা দেয়। কিন্তু কোনো নতুন বা স্বল্প পরিচিত পেজ যদি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার আগেই বিকাশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা বা অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম পরিশোধ করার জন্য অনবরত চাপ দিতে থাকে, তবে বুঝতে হবে এখানে বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে। নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান কাস্টমারকে পেমেন্টের জন্য বারবার তাগাদা দেয় না। 

৩. ভুয়া বিকাশ কল এবং পিন/ওটিপি (PIN/OTP) চাওয়া
বিকাশ প্রতারণার অন্যতম সাধারণ পদ্ধতি হলো গ্রাহককে ফোন করে বলা যে, “আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি, আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে গেছে” অথবা “ভুল করে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে, ওটিপি (OTP) কোডটি বলুন।” মনে রাখবেন, বিকাশের কোনো কর্মকর্তা বা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি কখনোই আপনার ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কিংবা ৪ বা ৫ ডিজিটের গোপন পিন (PIN) নম্বর জানতে চাইবে না। কেউ এটি চাইলেই নিশ্চিতভাবে সে একজন প্রতারক। 

৪. ভুয়া এসএমএস (Fake SMS) ও স্পুফিং লিংকের ব্যবহার
অনেক সময় প্রতারকেরা হুবহু বিকাশের মেসেজ ফরম্যাট নকল করে আপনার ফোনে বার্তা পাঠায়, যাতে লেখা থাকে “You have received TK. 5,000″। এই মেসেজগুলো কিন্তু আপনার আসল বিকাশ অ্যাপের ব্যালেন্স বাড়ায় না। এছাড়া ‘বিকাশ বোনাস’ বা ‘সরকারি অনুদান’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ফিশিং লিংক পাঠানো হয়। কোনো লিংকে ক্লিক করে আপনার বিকাশ নম্বর এবং পিন সাবমিট করার আগে অবশ্যই ওয়েবসাইটের ইউআরএল (URL) চেক করুন। বিকাশের আসল ওয়েবসাইট লিংক সবসময় https://www.bkash.com/ দিয়ে শুরু হয়। 

৫. ফেসবুক পেজের লাইক, কমেন্ট ও রিভিউ সেকশন হাইড বা অফ থাকা
অনলাইন শপিং পেজটি আসল নাকি নকল তা চেনার একটি সহজ উপায় হলো তাদের রিভিউ সেকশন। প্রতারক চক্রের পেজগুলোতে সাধারণত কাস্টমার রিভিউ অপশন বন্ধ থাকে এবং পোস্টের কমেন্ট সেকশন হাইড (Hide) বা লিমিটেড করা থাকে, যাতে প্রতারিত হওয়া অন্য ভুক্তভোগীরা সেখানে নেতিবাচক মন্তব্য করতে না পারেন। এছাড়া পেজের ‘Page Transparency’ অপশনে গিয়ে পেজটি কবে তৈরি হয়েছে এবং এর আগে কতবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তা দেখে এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা যায়। 

৬. ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে (Personal Number) ‘সেন্ড মানি’ করার তাগিদ
যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রফেশনাল অনলাইন শপের নিজস্ব ‘বিকাশ মার্চেন্ট’ (Merchant Account) অ্যাকাউন্ট থাকে, যেখানে গ্রাহক ‘মেক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন। কিন্তু বিক্রেতা যদি কোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট না দেখিয়ে আপনাকে বারবার পার্সোনাল নম্বরে ‘সেন্ড মানি’ বা ‘ক্যাশ ইন’ করতে বলে, তবে সাবধান হোন। পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হলেও সেই টাকা ট্র্যাক করা বা রিফান্ড পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। 

৭. লাইভ চ্যাটে ফেসবুক আইডির সত্যতা এবং ট্র্যাকিং আইডি না দেওয়া
পণ্য অর্ডার করার পর যদি তারা কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের (যেমন- সুন্দরবন, স্টিডফাস্ট, পাথao) মেমো বা ট্র্যাকিং আইডি দিতে টালবাহানা করে অথবা বারবার কুরিয়ারে বুকিং দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত ‘প্রসেসিং ফি’ দাবি করে, তবে ধরে নেবেন আপনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জালিয়াতি চক্র সাধারণত টাকা পাওয়ার পরপরই গ্রাহকের ফেসবুক আইডি বা ফোন নম্বর ব্লক করে দেয়। 

প্রতারিত হলে তাৎক্ষণিক করণীয় ও আইনি প্রতিকার:
১. বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭: যদি ভুলবশত কোনো প্রতারককে টাকা পাঠিয়ে দেন বা ওটিপি শেয়ার করে ফেলেন, তবে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে সরাসরি বিকাশের হটলাইন নম্বর ১৬২৪৭-এ কল করে আপনার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে লক করুন এবং যে নম্বরে টাকা গেছে সেটি রিপোর্ট করুন।
২. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP): অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে মেমো, চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং পেমেন্ট প্রুফসহ ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
৩. সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন: বিকাশ বা অনলাইন শপিং জালিয়াতির শিকার হলে নিকটস্থ থানায় জিডি (GD) করুন এবং ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজে বা সরাসরি হ্যালো সিটি (Hello CT) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সাইবার ক্রাইম টিম এই ধরনের অপরাধীদের আইপি ও লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আজকের ডলার রেট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা। 

বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো: 

  • মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। 
  • ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। 
  • মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। 

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন: 

  • Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা। 
  • Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা। 
  • Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা। 
  • Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা। 

৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)। 

  • রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন। 
  • হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

স্বর্ণের দাম

নিউজ ডেস্ক

November 2, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ২ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বিজ্ঞপ্তি, রয়টার্স-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন

২ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২,২০,৮৫৮ টাকা। বাজুস ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বাড়িয়ে এই দর নির্ধারণ করেছে। টানা দুই দফা কমার পর এটি প্রথম বৃদ্ধি। বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের দাম বাড়ায় দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই মূল্যতালিকা বহাল থাকবে।

এই লেখায় পাবেন সর্বশেষ ভরিদর, রুপার দাম, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি, দাম ওঠানামার কারণ এবং স্বর্ণ কেনাবেচার আগে জানা দরকার এমন নিয়ম।

আজকের স্বর্ণের দাম (ভ্যাটসহ)

গত কয়েক দিনে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিদর:

তারিখপরিবর্তন২২ ক্যারেট (প্রতি ভরি)
৩০ অক্টোবর ২০২৬১,৬৩৩ টাকা কমেছে২,২৩,০৭৪ টাকা
৩১ অক্টোবর ২০২৬৫,৪৮২ টাকা কমেছে২,১৭,৫৯২ টাকা
২ নভেম্বর ২০২৬৩,২৬৬ টাকা বেড়েছে২,২০,৮৫৮ টাকা

অন্য মানের সর্বশেষ প্রকাশিত দর (৩১ অক্টোবরের সমন্বয় অনুযায়ী):

মানপ্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম)
২১ ক্যারেট২,০৭,৭৯৪ টাকা
১৮ ক্যারেট১,৭৮,৪৫৯ টাকা
সনাতন পদ্ধতি১,৪৫,৮০০ টাকা

নোট: ২ নভেম্বরের সমন্বয়ে আমরা শুধু ২২ ক্যারেটের দর যাচাই করতে পেরেছি। বাকি মানের দর বাজুসের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হালনাগাদ হবে।

চলতি বছর বাজুস মোট ১৩১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ৬৩ বার বেড়েছে, ৬৭ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় হয়েছে। দাম ঘন ঘন বদলায় বলে কেনার দিন সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

আজকের রুপার দাম

বাজুসের সর্বশেষ প্রকাশিত রুপার দর (৩০ অক্টোবরের সমন্বয়):

মানপ্রতি ভরি
২২ ক্যারেট৩,৬৭৪ টাকা
২১ ক্যারেট৩,৫০০ টাকা
১৮ ক্যারেট৩,০৩৩ টাকা
সনাতন পদ্ধতি২,২৭৪ টাকা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার অবস্থা

গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক দিনে প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমে যায়। এতে দাম ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন স্তরে নামে এবং প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে চলে যায়।

সোমবার বাজারে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুরে স্পট মার্কেটে স্বর্ণ ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩,৯০৭.৯৪ ডলারে লেনদেন হয়। ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন ফিউচার মূল্য ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৩,৯১৬.৭০ ডলারে ওঠে। স্পট রুপার দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫০.১৬ ডলার হয়েছে।

দাম ওঠানামার কারণ কী

নিচের কারণগুলো সংবাদ প্রতিবেদন ও বিশ্লেষকদের বক্তব্যভিত্তিক। কোনো একক কারণকে নিশ্চিত ব্যাখ্যা ধরা ঠিক হবে না।

প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে পতন ও বিক্রির চাপ। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর পড়ায় বিনিয়োগকারীরা মার্জিন কলের চাপে পড়েন। নগদ জোগাড় করতে অনেকে স্বর্ণ বিক্রি করেন, যা শুক্রবারের পতনের একটি কারণ বলে ধরা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম কমা। দোহায় ইরানের প্রতিনিধিদের আলোচনার খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে। এতে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা কমে এবং স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়ায়।

মার্কিন সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা। ফেডারেল রিজার্ভ গত সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। তবে গত শুক্রবার তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা আরও সুদ বাড়ানোর পক্ষে প্রকাশ্যে মত দেন। স্বর্ণ থেকে সুদ আয় হয় না, তাই সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা সাধারণত স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করে।

স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দর। বাজুস জানিয়েছে, দেশে দাম সমন্বয়ে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দরও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাই দেশের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় সরবরাহ ও চাহিদার ওপরও নির্ভর করে।

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেছেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজার জটিল পরিস্থিতিতে আছে। কারিগরি কারণে সৃষ্ট বিক্রির চাপ ও তারল্যসংকটের শঙ্কা স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি আকর্ষণকে আপাতত আড়াল করে রেখেছে।

কয়েক মাসের তুলনা

  • দেশের বাজার: ৫ মে ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২,৪০,৩৩৭ টাকা। ২৫ আগস্ট দর ছিল ২,৪৭,৭৪৩ টাকা। আজকের দর আগস্টের চেয়ে প্রায় ২৭ হাজার টাকা কম (আমাদের হিসাব)।
  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণ: ৪ জুন স্পট স্বর্ণ ছিল প্রতি আউন্স ৪,৪৬৪.৬৯ ডলার। আজকের দরের সঙ্গে তুলনায় পতন প্রায় ১২.৫ শতাংশ (আমাদের হিসাব)।
  • বিশ্ববাজারে রুপা: ৪ জুন স্পট রুপা ছিল প্রতি আউন্স ৭৩.৪৪ ডলার। আজকের ৫০.১৬ ডলারের সঙ্গে তুলনায় পতন প্রায় ৩২ শতাংশ (আমাদের হিসাব)।

স্বর্ণ কেনাবেচার আগে যা জানা দরকার

বাজুসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী:

  • ভ্যাট: ঘোষিত দামে ভ্যাট আগে থেকেই যুক্ত আছে। তাই ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা ভ্যাট নেওয়া নিষিদ্ধ।
  • মজুরি: গহনার নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি আলাদা হয়। তাই একই মানের গহনার চূড়ান্ত দাম দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
  • পুরোনো গহনা বদল: মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ মূল্য কর্তন হবে।
  • পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি: ১৮ শতাংশ মূল্য কর্তন হবে। কোনো ক্ষেত্রেই আলাদা ভ্যাট কাটা যাবে না।
  • রশিদ: ক্যারেট, ওজন, মজুরি ও ভ্যাট উল্লেখ করা বিক্রয় রশিদ নিন এবং সংরক্ষণ করুন।

অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য পড়তে পারেন: এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলনা এবং স্বর্ণের দাম ও পুরোনো সোনা বিক্রির নিয়ম।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আজ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
২ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ ২,২০,৮৫৮ টাকা।

এক ভরি কত গ্রাম?
এক ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম।

দেশে স্বর্ণের দাম কে ঠিক করে?
বাজুস স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দর ও বৈশ্বিক বাজারের গতিবিধি বিবেচনা করে দাম সমন্বয় করে এবং বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কেন কমেছে?
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে পতন, বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ এবং মার্কিন সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা এর পেছনে রয়েছে।

হালনাগাদ লগ

  • ২ নভেম্বর ২০২৬, [সময় বসান]: বাজুসের সকাল ১০টার সমন্বয় অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের দর যুক্ত করা হয়েছে। অন্য মানের দর পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হালনাগাদ হবে।

তথ্যসূত্র

দাবিত্যাগ: স্বর্ণ ও রুপার দাম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। কেনাবেচা বা বিনিয়োগের আগে বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন এবং প্রয়োজনে আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলুন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ