ইসলামিক শিক্ষা
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল রঙিন গল্পের বই, খাতা-কলম কিংবা প্রিয় কোনো খেলার পুতুল—সেই ১৩ বছর বয়সে অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের (ছদ্মনাম) কোলে এখন ৭ মাসের এক ফুটফুটে অবোধ শিশুসন্তান। সে নিজেই এখনো এক নিষ্পাপ শিশু, অথচ আজ সে আরেক শিশুর মা!

অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি, সামাজিক দূরদর্শিতার অভাব এবং পরিবার ও সমাজের অসচেতনতা কীভাবে একটি অমূল্য শৈশবকে অকালে ধ্বংস করে দিতে পারে—জুঁইয়ের জীবন তারই এক জ্বলন্ত এবং নির্মম চিত্র।
যেভাবে শুরু হলো পথ হারানো

গল্পটা শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে। তখন জুঁইয়ের বয়স মাত্র ১১ বছর। চঞ্চলতা ও কৌতূহলের বশে তার হাতে ওঠে কোনো ধরনের তদারকি ছাড়া একটি স্মার্টফোন। ফেসবুকের রঙিন জগতে তার পরিচয় হয় ২২ বছর বয়সী যুবক শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সাথে।

ভার্চুয়াল জগতের মোহময় আলাপন, অবুঝ এক প্রেমের ফাঁদ এবং অপরিপক্ব বয়সের ভুল সিদ্ধান্ত জুঁইকে টেনে নিয়ে যায় এক অন্ধকার চোরাবালিতে। আইনের তোয়াক্কা না করে, বয়স লুকিয়ে এবং ভুল বুঝে অপ্রাপ্তবয়স্ক জুঁই বিয়ের পিঁড়িতে বসে।
মা হওয়ার লড়াই ও আদালতের মানবিক আদেশ
বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জুঁইয়ের কোলজুড়ে আসে এক পুত্রসন্তান। কিন্তু সংসার জীবনের ক্ষণস্থায়ী মোহ কাটাতে বেশি সময় লাগেনি। অভিযোগ ওঠে, সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক মাস পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে মাত্র ৭ মাসের দুধের শিশুকে বুক থেকে কেড়ে নিয়ে জুঁইকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আড়াই মাস ধরে নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে বুকফাটা আর্তনাদ করে ১৩ বছরের এই কিশোরী। বাধ্য হয়ে সে আইনের দরবারে কড়া নাড়ে। সম্প্রতি ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে যখন ১৩ বছরের জুঁই এসে দাঁড়ায়, তখন বিচারক থেকে শুরু করে উপস্থিত সবার চোখেই ছিল বিস্ময় আর করুণা।
আইনগত দিক এবং শিশুটির সার্বিক মানবিক কল্যাণ বিবেচনা করে আদালতের বিচারক শিশুটিকে আপাতত তার কিশোরী মায়ের জিম্মায় রাখার মানবিক নির্দেশ দেন। আড়াই মাস পর নিজের কলিজার টুকরোকে বুকে জড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বাড়ি ফেরে জুঁই।
[অবাধ স্মার্টফোন ও ফেসবুক] ➔ [অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে (১১ বছর)] ➔ [কৈশোরে মাতৃত্ব (১৩ বছর)] ➔ [আদালতের আদেশে শিশু উদ্ধার]
এই নির্মম বাস্তবতার পেছনের ৩টি প্রধান কারণ
১. অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোনের অন্ধকার দিক: সঠিক দিকনির্দেশনা ও তদারকি (Parental Control) ছাড়া শিশুদের হাতে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ফলে তারা সহজেই সাইবার অপরাধ, অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ ও সামাজিক মাধ্যমের (TikTok, Facebook) প্রলোভনে পা দিচ্ছে। ২. শৈশব ও কৈশোরের অকাল মৃত্যু: শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই মাতৃত্বের শিকার হওয়ায় কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি তারা শিক্ষাজীবন থেকেও চিরতরে ছিটকে পড়ে। ৩. আইনের প্রয়োগহীনতা ও বাল্যবিয়ে: ১৮ বছরের নিচে বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় হলেও গোপন বিবাহ ও অসচেতনতার কারণে সমাজে এখনো বাল্যবিয়ে বন্ধ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরুরি অবস্থায় বিনামূল্যে আইনি ও মানসিক সহায়তা (Help Center)
আপনার আশপাশে কেউ যদি এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি, বাল্যবিয়ে, নির্যাতন বা সাইবার ট্রমার শিকার হয়, তবে সরকারি ও বেসরকারি নিচের সেবাগুলোতে বিনামূল্যে যোগাযোগ করতে পারেন:
১. বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (Legal Support):
- জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন (১৬৪৩০): আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালিত সম্পূর্ণ ফ্রি টোল-ফ্রি নম্বর। এখানে অসচ্ছল ও ভুক্তভোগীদের সরকারি খরচে আইনজীবী ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
- চাইল্ড হেল্পলাইন (১০৯৮): ইউনিসেফ ও সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ২৪ ঘণ্টার ফ্রি সার্ভিস। শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধ বা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তারা সরাসরি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।
- জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯) ও নারী নির্যাতন সেল (১০৯): যেকোনো তাৎক্ষণিক বিপদ বা নির্যাতনের সম্মুখীন হলে দ্রুত এই নম্বরে কল করুন।
- ব্লাস্ট (BLAST): বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট সুবিধাবঞ্চিতদের বিনা মূল্যে আইনি ও কাউন্সেলিং সেবা দেয়।
২. মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং সহায়তা (Mental Health):
- জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (NIMH): ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সরকারি হাসপাতালে নামমাত্র ফি-তে দেশের শীর্ষ সাইকিয়াট্রিস্টদের পরামর্শ মিলবে।
- কান পেতে রই (01779-554391): গোপনীয়তা রক্ষা করে মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন দূর করতে ইমোশনাল সাপোর্ট দেয় (সন্ধ্যা ৬টা – রাত ১০টা)।
- সাজিদা ফাউন্ডেশন – স্বজন (09606119900): ফোন কল বা সরাসরি সেশনে স্বল্প খরচে পেশাদার সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং।
- মনের বন্ধু: প্রফেশনাল মেন্টাল হেলথ সেবাদানকারী একটি সুপরিচিত সংস্থা।
আমাদের করণীয় ও মেসেজ
জুঁই হয়তো তার সন্তানকে ফিরে পেয়েছে, কিন্তু যে মূল্যবান শৈশব ও সোনালী ভবিষ্যৎ সে হারিয়ে ফেলেছে, তা কি আর কোনোদিন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব?
আজই আপনার ঘরের কোমলমতি সন্তানের অনলাইন কার্যকলাপে নজর রাখুন। সন্তানকে মোবাইল কিনে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন না—তার বন্ধু হন, তাকে সময় দিন। আপনার একটি সচেতন সিদ্ধান্তই পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাক
“বিদ্রোহী” কিংবা “সাম্যবাদী” পরিচয়ের বাইরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এতটাই বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় যে, সাধারণ কোনো ফ্রেমে তাঁকে বন্দি করা অসম্ভব। আমরা তাঁকে চিনি আমাদের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে, অনুধাবন করি তাঁর অগ্নিঝরা কবিতার শক্তি। কিন্তু পর্দার নেপথ্যে নারদমুনির বেশে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়, ফুটবল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে উল্লাস কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একদিনের নীরব মৌনব্রতের কথা কজনই বা জানেন?
ইতিহাসের পাতা ও নজরুল গবেষকদের অনুসন্ধানে বিদ্রোহী কবির জীবনের এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা সাধারণ পাঠকের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে।
১. আইনি জটিলতার অবসান: এখন তিনি দাপ্তরিকভাবেও ‘জাতীয় কবি’
দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে গণমানুষের হৃদয়ে ও পাঠ্যপুস্তকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট ছিল না। অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
উক্ত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের ২৪ মে (কবির সপরিবারে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনের দিন) থেকেই এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাটি ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নজরুলের জাতীয় কবির খেতাব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাপ্তরিক অস্পষ্টতার চিরসংগ্রাম শেষ হয়।
২. রূপালি পর্দায় অল-রাউন্ডার নজরুল: পরিচালক, অভিনেতা ও ‘সুর ভাণ্ডারি’

১৯৩১ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কলকাতার চলচ্চিত্রে নজরুল একাধারে সফল অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন:
[ নজরুল: টকি সিনেমার স্বর্ণযুগ (১৯৩১-১৯৪২) ]
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ অভিনয় ] [ পরিচালনা ] [ সংগীত ]
• 'ধ্রুব' (১৯৩৪): নারদ চরিত্র • সত্যেন্দ্রনাথের সাথে যৌথভাবে • 'জামাই ষষ্ঠী'-তে সুর ভাণ্ডারি
• 'পাতালপুরী': খনি শ্রমিক 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র পরিচালনা • 'গোরা', 'বিদ্যাপতি', 'সাপুড়ে'
• 'হাল বাংলা': রসাত্মক চরিত্র • 'বেঙ্গল টাইগার পিকচার্স'-এর প্রধান ছবিতে বিখ্যাত কালজয়ী সুর
- দেবর্ষি নারদ চরিত্রে আত্মপ্রকাশ: ১৯৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল স্বয়ং ‘নারদ’ চরিত্রে অভিনয় করেন। কেবল অভিনয়ই নয়, এই ছবির ১৮টির মধ্যে ১৭টি গান তাঁর লেখা ছিল এবং তিনি নিজে ৪টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
- সুর ভাণ্ডারি: ১৯৩১ সালে নির্মিত প্রথম বাংলা সবাক ছবি ‘জামাই ষষ্ঠী’-তে সুরকার ও গায়কদের উচ্চারণ শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে সেসময় চলচ্চিত্র পাড়ায় ‘সুর ভাণ্ডারি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘গোরা’ (১৯৩৮) সিনেমার সংগীতেও তাঁর সুরের জাদুকরী ছোঁয়া ছিল।
৩. লাল-হলুদ ব্রিগেডের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক
আজকের ফুটবল উন্মাদনার বহু আগেই কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’-এর অন্ধ ভক্ত। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি ১৯৩৪ সালে ইস্টবেঙ্গল দল যখন আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ওঠে, তখন প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি একটি উদ্দীপনামূলক গানও রচনা করেছিলেন।
৪. সুস্থ অবস্থাতেও বৃহস্পতিবারের ‘মৌনব্রত’
জীবনের শেষ ৩৪টি বছর নজরুল ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick’s Disease) নামের স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক কাটিয়েছেন। তবে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী ও কবি পরিবারের স্মৃতি থেকে জানা যায়—নজরুল যখন শতভাগ সুস্থ ও চঞ্চল ছিলেন, তখনও তিনি আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) সম্পূর্ণ নীরব বা মৌনব্রত পালন করতেন। এই দিনটিতে তিনি কারো সাথে কথা বলতেন না।
৫. আসানসোলের রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের স্কুল

আমাদের জাতীয় কবির প্রতিভা বিকাশের নেপথ্যে অন্যতম অবদান ছিল এক পুলিশ অফিসারের। আসানসোলের রুটির দোকানে কাজ করা কিশোর নজরুলের অসাধারণ মেধা লক্ষ্য করে দারোগা কাজী রফিজ উদ্দিন তাঁকে নিজ দায়িত্বে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে ১৯১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নজরুল ‘৪৯তম বাঙালি ব্যাটালিয়ন’-এর সৈনিক হিসেবে করাচি সেনানিবাসে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে ‘হাবিলেদার’ পদে উন্নীত হন।
৬. রবীন্দ্রনাথের সেই ঐতিহাসিক অনশন ভাঙার বার্তা
১৯২৩ সালে রাজনৈতিক কারণে হুগলি জেলে বন্দী থাকাকালীন ব্রিটিশদের অন্যায়ের প্রতিবাদে নজরুল টানা ৩৯ দিন আমরণ অনশন করেন। কবির সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন:
“GIVE UP HUNGER STRIKE. OUR LITERATURE CLAIMS YOU.”
ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ চরম হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়ে টেলিগ্রামটির গায়ে “Addressee not found” লিখে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে মাতৃসম বিরজাসুন্দরী দেবী জেলে গিয়ে লেবুর রস খাইয়ে কবির অনশন ভাঙান।
৭. অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক
১৯২৮ সালে রচিত তাঁর ‘চল চল চল’ গানটি স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর অফিশিয়াল রণসঙ্গীত (National Marching Song) হিসেবে সংরক্ষিত। তিনি একদিকে যেমন লিখেছিলেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে’, তেমনি অন্য হাতে সৃষ্টি করেছিলেন ৫০০-র বেশি কালজয়ী ‘শ্যামাসঙ্গীত’ ও ভজন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালন করতেই তিনি নিজের সন্তানদের নাম রেখেছিলেন দুই ধর্মের সংস্কৃতির সমন্বয়ে—’কাজী কৃষ্ণ মোহাম্মদ’ এবং ‘কাজী অনিরুদ্ধ’।
সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
- সরকারি প্রজ্ঞাপন দাপ্তরিক কপি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট (২৪ ডিসেম্বর ২০২৪)।
- জাতীয় আর্কাইভ ও নজরুল ইনস্টিটিউট: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য কর্মসংকলন।
- চলচ্চিত্র ইতিহাস গ্রন্থ: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিবৃত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম (বাংলা একাডেমি প্রকাশনা)।
- স্মৃতিগ্রন্থ: মোস্তফা জামান আব্বাসী লিখিত নজরুলের স্মৃতিকথা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে ‘নোবেল পুরস্কার’ বিবেচিত হলেও এর তালিকায় ‘গণিত’ বিষয়টি অনুপস্থিত। এই প্রতিবেদনে গণিতে নোবেল না থাকার কারণ, নোবেলজয়ী প্রখ্যাত গণিতবিদগণ, গণিতের জনক এবং অহিংস আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক মহাত্মা গান্ধীর নোবেল না পাওয়ার পেছনের প্রকৃত ইতিহাস বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রসহ তুলে ধরা হলো।
১. গণিতের জন্য নোবেল পুরস্কার নেই কেন?

বিজ্ঞান ও সাহিত্যের নানা শাখায় নোবেল দেওয়া হলেও গণিতের জন্য সরাসরি কোনো নোবেল পুরস্কার রাখা হয়নি।
- বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি: আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তাঁর উইলে যেসব বিষয়ে পুরস্কারের কথা উল্লেখ করেছিলেন (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি), সেগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল মানবজাতির জন্য সরাসরি ও দৃশ্যমান ব্যবহারিক অবদান রাখা [সূত্র: Nobel Foundation Official History]। আলফ্রেড নোবেল নিজে একজন উদ্ভাবক (ডিনামাইটের আবিষ্কারক) ও প্রয়োগমুখী বিজ্ঞানী হওয়ায় গণিতের অত্যন্ত তাত্ত্বিক ও বিমূর্ত রূপকে তিনি মানবজাতির তাৎক্ষণিক কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেননি।
- জনপ্রিয় মিথ ও সত্যতা: একটি বহুল প্রচলিত গল্প রয়েছে যে, তৎকালীন বিখ্যাত সুইডিশ গণিতবিদ গোস্তা মিটাগ-লেফলারের (Gösta Mittag-Leffler) সাথে আলফ্রেড নোবেলের ব্যক্তিগত বা প্রেমঘটিত শত্রুতা ছিল, যার ফলে নোবেল গণিতে পুরস্কার রাখেননি। তবে আধুনিক ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে এই কাহিনীর কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই [সূত্র: Mathematical Intelligencer Journal / Nobel Prize Facts]।
গণিতের সমতুল্য ‘নোবেল’ পুরস্কার:
১. ফিল্ডস মেডেল (Fields Medal): প্রতি ৪ বছরে একবার ৪০ বছরের কম বয়সী সেরা গণিতবিদদের অসাধারণ উদ্ভাবনের জন্য দেওয়া হয় [সূত্র: International Mathematical Union (IMU)]।
২. অ্যাবেল প্রাইজ (Abel Prize): নরওয়ে সরকার কর্তৃক প্রতি বছর গণিতে আজীবন অবদানের জন্য দেওয়া হয়, যা আর্থিক সম্মাননা ও মর্যাদার দিক থেকে নোবেল পুরস্কারের অবিকল সমতুল্য [সূত্র: The Norwegian Academy of Science and Letters]।
২. গণিতবিদ হয়েও নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যাঁরা
গণিতে নির্দিষ্ট নোবেল না থাকলেও জটিল গাণিতিক তত্ত্বকে অন্য বিজ্ঞানে প্রয়োগ করে কয়েকজন বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ নোবেল জয় করেছেন:
- জন ফর্বস ন্যাশ (John Forbes Nash): ১৯৯৪ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর আবিষ্কৃত ‘গেম থিওরি’ (Game Theory) আধুনিক বাজার অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে বিপ্লব এনেছিল [সূত্র: The Nobel Prize in Economic Sciences 1994]। (তাঁর জীবন নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত চলচ্চিত্র A Beautiful Mind)।
- বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell): তিনি মূলত একজন গণিতবিদ ও দার্শনিক ছিলেন। লজিক ও গণিতের বিখ্যাত আকরগ্রন্থ Principia Mathematica-র সহ-লেখক হওয়া সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান [সূত্র: The Nobel Prize in Literature 1950]।
- রজার পেনরোজ (Roger Penrose): এই ব্রিটিশ গাণিতিক-পদার্থবিদ ২০২০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান। কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) সৃষ্টিতে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি অত্যন্ত জটিল গাণিতিক জ্যামিতিক পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন [সূত্র: The Nobel Prize in Physics 2020]।
৩. গণিতের জনক এবং বিভিন্ন শাখার পথিকৃৎ

গ্রীক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস (Archimedes)-কে সামগ্রিকভাবে গণিতের জনক বলা হয় [সূত্র: Encyclopaedia Britannica]।
- কেন তিনি মূল জনক? আধুনিক ক্যালকুলাস আবিষ্কারের শত শত বছর আগেই তিনি ‘Method of Exhaustion’ ব্যবহার করে বক্ররেখার ক্ষেত্রফল এবং গোলক ও সিলিন্ডারের নিখুঁত আয়তন নির্ণয় করেছিলেন। এছাড়া জ্যামিতিক উপায়ে ‘পাই’ ($\pi$)-এর প্রায় সঠিক মান তিনি প্রথম নির্ধারণ করেন।
গণিতের প্রধান শাখাগুলোর জনক:
- জ্যামিতির জনক: ইউক্লিড (Euclid), যাঁর লেখা Elements গ্রন্থটি আধুনিক জ্যামিতির মূল ভিত্তিমূল [সূত্র: History of Mathematics Guide]।
- বীজগণিতের জনক: আল-খাওয়ারিজমি (Al-Khwarizmi), পারস্যের এই বিজ্ঞানীর বিখ্যাত গ্রন্থ Kitab al-Jabr থেকে ‘Algebra’ শব্দটির উৎপত্তি।
- পাটিগণিত ও শূন্যের পথিকৃৎ: আর্যভট্ট (Aryabhata), ভারতীয় এই গণিতবিদ শূন্যের ধারণা ও দশমিক ব্যবস্থার বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখেন।
৪. মহাত্মা গান্ধী কেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাননি?

মহাত্মা গান্ধী তাঁর জীবনদ্দশায় মোট ৫ বার (১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯, ১৯৪৭ এবং ১৯৪৮ সালে) শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি জটিলতায় এই পুরস্কার পাননি [সূত্র: Nobel Prize Official Historical Records]।
[ ১৯৩৭–১৯৩৯: ইউরোকেন্দ্ৰিক মনোভাব ও ব্রিটিশ সংঘাতের ভয় ]
↓
[ ১৯৪৭: দেশভাগ এবং ভারত-পাকিস্তানের উত্তাল দাঙ্গা ]
↓
[ ১৯৪৮: শর্টলিস্টের ২ দিন আগে হত্যাকাণ্ড ও আইনি বাধা ]
↓
[ নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত: ১৯৪৮ সালে কোনো জীবিত ব্যক্তি যোগ্য নন ]
প্রধান কারণসমূহ:প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১. ইউরোকেন্দ্রীক দৃষ্টিভঙ্গি: বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নোবেল কমিটির মানসিকতা ছিল ইউরোপ-কেন্দ্রিক। গান্ধীর অহিংস ও সত্যাগ্রহ আন্দোলন তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী প্রাতিষ্ঠানিক পলিটিক্সের বাইরে থাকায় কমিটি তা বুঝতে সময় নেয় [সূত্র: Nobel Peace Prize Nomination Archives]।
২. রাজনৈতিক সংশয় ও ব্রিটিশ প্রভাব: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় গান্ধীকে নোবেল দিলে যুক্তরাজ্যের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন শঙ্কাও নোবেল কমিটির ভেতরের একটি অংশের মধ্যে কাজ করেছিল।
৩. ১৯৪৮ সালের হত্যাকাণ্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা: ১৯৪৮ সালে তিনি যখন চূড়ান্ত শর্টলিস্টেড হন, তার মাত্র ২ দিন আগে (৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮) আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন। তৎকালীন নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী মরণোত্তর পুরস্কার পাওয়ার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক উইল, ট্রাস্ট বা অর্থ গ্রহণের উত্তরাধিকারী সংগঠন গান্ধী রেখে যাননি [সূত্র: Nobel Foundation Posthumous Rules Archive]।
৪. কমিটির অনুশোচনা: গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৪৮ সালে কাউকেই শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়নি এবং বলা হয়েছিল—”এই বছর পুরস্কার পাওয়ার মতো কোনো যোগ্য জীবিত ব্যক্তি নেই।” পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামাকে নোবেল দেওয়ার সময় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে, গান্ধীকে নোবেল না দেওয়াটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় ভুল ছিল [সূত্র: Nobel Peace Prize Presentation Speech 1989]।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
১৯০১ সালে সর্বপ্রথম আলফ্রেড নোবেলের উইলের ওপর ভিত্তি করে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। মানবজাতির কল্যাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচটি ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথমবার এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ও বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সুইডিশ বিজ্ঞানী এবং ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তাঁর একটি উইলে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি তাঁর মোট সম্পত্তির একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৯৪%) এই পুরস্কার তহবিলের জন্য রেখে যান। উদ্দেশ্য ছিল—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য এবং শান্তিতে যারা মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বর ১৯০১ তারিখে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১৯০১ সালের প্রথম নোবেল বিজয়ীদের তালিকা
- পদার্থবিজ্ঞান: উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন (জার্মানি)

উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন (Wilhelm Conrad Röntgen) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী। ১৮৯৫ সালে তাঁর যুগান্তকারী এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর এই আবিষ্কার এবং জীবন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কারের ঘটনা
- সাল: ১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর।
- ঘটনা: জার্মানির ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ল্যাবরেটরিতে একটি ক্যাথোড রশ্মি টিউব (Cathode-ray tube) নিয়ে পরীক্ষা করার সময় তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করেন, কালো কাগজে ঢাকা টিউবটির পাশে থাকা একটি ফ্লুরোসেন্ট পর্দা জ্বলজ্বল করছে।
- নামকরণ: তিনি বুঝতে পারেন টিউব থেকে এক ধরণের অজানা অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে, যা কাগজ ভেদ করে চলে যাচ্ছে। এই রশ্মির প্রকৃতি তখন অজানা থাকায় গণিতের অজানা রাশির প্রতীক হিসেবে তিনি এর নাম দেন ‘X-ray’ বা এক্স-রশ্মি (অনেক দেশে একে ‘রন্টজেন রশ্মি’ও বলা হয়)।
২. প্রথম মানব এক্স-রে
রন্টজেন তাঁর এই আবিষ্কারের পর প্রথম মানবদেহের এক্স-রে ছবি তোলেন। সেটি ছিল তাঁর স্ত্রী আনা বার্থা রন্টজেন-এর হাতের ছবি। ছবিতে তাঁর স্ত্রীর হাতের হাড় এবং আঙুলে পরা বিয়ের আংটিটি স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল। এই ছবি দেখে তাঁর স্ত্রী অবাক হয়ে বলেছিলেন, “আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে ফেলেছি!”
৩. নিঃস্বার্থ বিজ্ঞানী
রন্টজেন তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কোনো প্যাটেন্ট (Patent) বা স্বত্ব নেননি। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর এই আবিষ্কার যেন মানবজাতির কল্যাণে বিনামূল্যে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং শিল্পকারখানায় এর ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তাঁর এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত অর্থও তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজের জন্য দান করে দিয়েছিলেন।
- রসায়ন: ইয়াকুবুস হেনরিকুস ভান্ট হফ (নেদারল্যান্ডস)

ইয়াকুবুস হেনরিকুস ভান্ট হফ (Jacobus Henricus van ‘t Hoff) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ডাচ রসায়নবিদ এবং আধুনিক ভৌত রসায়নের (Physical Chemistry) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯০১ সালে তরল পদার্থের রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং অসমোটিক চাপ সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর প্রধান অবদান এবং বিজ্ঞান জগতে তাঁর প্রভাবের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. নোবেল পাওয়ার মূল কারণ (রাসায়নিক গতিবিদ্যা ও অসমোটিক চাপ)
- রাসায়নিক গতিবিদ্যা (Chemical Dynamics): ভান্ট হফ দেখান কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বা বেগ নির্ধারিত হয় এবং কীভাবে তাপমাত্রা ও চাপ এই গতিকে প্রভাবিত করে। তাঁর তৈরি করা সমীকরণগুলো বিক্রিয়ার হার বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে।
- অসমোটিক চাপ (Osmotic Pressure): তিনি প্রমাণ করেন যে, কোনো তরল দ্রবণে দ্রবীভূত কণাগুলো (যেমন পানিতে চিনি) ঠিক গ্যাসের কণার মতোই আচরণ করে। তিনি গ্যাসের আদর্শ সমীকরণকে (\(PV=nRT\)) দ্রবণের ক্ষেত্রেও সফলভাবে প্রয়োগ করেন, যা রসায়নে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।
২. স্টেরিওকেমিস্ট্রি বা ত্রিমাত্রিক রসায়নের জনক
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অনেক আগেই, ১৮৭৪ সালে তিনি রসায়নে এক বিপ্লবী তত্ত্ব দেন। তিনি প্রথম প্রস্তাব করেন যে, কার্বন পরমাণুর চারটি যোজ্যতা বা বন্ড ত্রিমাত্রিক মহাকাশে একটি চতুস্তলক (Tetrahedron) আকৃতিতে বিন্যস্ত থাকে।
- গুরুত্ব: তাঁর এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই রসায়নের একটি সম্পূর্ণ নতুন শাখা ‘স্টেরিওকেমিস্ট্রি’ (Stereochemistry) গড়ে ওঠে। এটি ছাড়া আজকের আধুনিক ওষুধ বা মেডিসিন তৈরি করা অসম্ভব হতো।
৩. ভ্যান্ট হফ ফ্যাক্টর (\(i\))
রসায়নে তাঁর নামানুসারে ‘ভ্যান্ট হফ ফ্যাক্টর’ (van ‘t Hoff factor) ব্যবহার করা হয়। কোনো দ্রাবকে (যেমন পানিতে) কোনো লবণ বা যৌগ যোগ করলে তা কতটুকু ভেঙে যায় বা যুক্ত হয়, তা পরিমাপ করার জন্য এই ফ্যাক্টরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান: এমিল ফন বেহরিং (জার্মানি)

এমিল ফন বেহরিং (Emil von Behring) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও ব্যাকটেরিয়াবিদ। ১৯০১ সালে ডিপথেরিয়া রোগের প্রতিষেধক হিসেবে সিরাম থেরাপি (Serum Therapy) আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তৎকালীন সময়ে শিশুদের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক এক ব্যাধি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করায় তাঁকে “শিশুদের রক্ষাকর্তা” (Savior of Children) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর প্রধান অবদান এবং জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ডিপথেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সিরাম থেরাপি
- পটভূমি: উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ‘ডিপথেরিয়া’ (Diphtheria) ছিল শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার শিশু শ্বাসকষ্টে মারা যেত।
- আবিষ্কার: এমিল ফন বেহরিং এবং তাঁর সহকর্মীরা (যার মধ্যে জাপানি বিজ্ঞানী কিতাসাতো শিবাসাবুরো অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) আবিষ্কার করেন যে, ডিপথেরিয়া আক্রান্ত পশুর (যেমন ঘোড়া) রক্তে এক ধরণের প্রতিরক্ষামূলক উপাদান তৈরি হয়। তিনি এই উপাদানটির নাম দেন ‘অ্যান্টিটক্সিন’ (Antitoxin)।
- প্রয়োগ: এই অ্যান্টিটক্সিন সমৃদ্ধ সিরাম যখন আক্রান্ত কোনো শিশুর শরীরে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হতো, তখন তা ডিপথেরিয়ার মারাত্মক বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দিত। ১৮৯২ সালে প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এই সিরামের উৎপাদন শুরু হয় এবং এটি রাতারাতি ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনে।
২. নোবেল পুরস্কার অর্জন (১৯০১)
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলেই ১৯০১ সালে প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলটি তাঁর হাতে ওঠে। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, “শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সিরাম থেরাপি নিয়ে তাঁর কাজ চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে, যার মাধ্যমে রোগ ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পেয়েছে মানবজাতি।”
৩. ধনুষ্টংকার বা টিটেনাসের প্রতিষেধক
ডিপথেরিয়ার পাশাপাশি এমিল ফন বেহরিং ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস (Tetanus) রোগের অ্যান্টিটক্সিন তৈরিতেও সফল হয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের টিটেনাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে তাঁর তৈরি এই প্রতিষেধক লাখ লাখ প্রাণ রক্ষা করেছিল।
- সাহিত্য: সুলি প্রুদোম (ফ্রান্স)

সুলি প্রুদোম (Sully Prudhomme) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফরাসি কবি এবং প্রাবন্ধিক। ১৯০১ সালে তাঁর কাব্যিক রচনার বিশেষ গুণ, উচ্চ আদর্শ এবং হৃদয়ের গভীর অনুভূতির অনন্য প্রকাশের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং নোবেল জয়ের পটভূমি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার মূল কারণ
নোবেল কমিটি ১৯০১ সালে সুলি প্রুদোমকে পুরস্কৃত করার সময় তাঁর লেখার তিনটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছিল:
- উচ্চ আদর্শবাদ (High Idealism): তাঁর কবিতা কেবল বিনোদনের জন্য ছিল না, বরং এতে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ এবং আদর্শের প্রতিফলন ঘটত।
- শৈল্পিক নিখুঁততা (Artistic Perfection): তাঁর শব্দ চয়ন এবং কবিতার ছন্দ ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত ও নিখুঁত।
- হৃদয় ও বুদ্ধির সমন্বয়: তিনি তাঁর কবিতায় একদিকে যেমন গভীর মানবিক অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন, অন্যদিকে দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
২. পারনাসিয়ান আন্দোলন (Parnassian Movement)
সুলি প্রুদোম ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘পারনাসিয়ান’ সাহিত্য আন্দোলনের একজন প্রধান কবি ছিলেন। এই আন্দোলনের মূল মন্ত্র ছিল “শিল্পের জন্য শিল্প” (Art for art’s sake)। রোমান্টিক যুগের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার বিপরীতে গিয়ে তাঁরা কবিতায় নিখুঁত গঠন, সংযম এবং ধ্রুপদী সৌন্দর্যের ওপর জোর দিতেন।
৩. বিখ্যাত কবিতা ও সৃষ্টিকর্ম
- ‘লা ভাস’ (La Vase Brisé – ভাঙা ফুলদানি): এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রোমান্টিক কবিতা। একটি ভাঙা ফুলদানির উপমার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ের ভেতরের গোপন কষ্ট এবং ভাঙনের গল্প অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- দার্শনিক কাব্য: পরবর্তী জীবনে তিনি বিজ্ঞান এবং দর্শনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তাঁর ‘লা জাস্টিস’ (La Justice – ন্যায়বিচার) এবং ‘লে হ্যুরো’ (Les Bonheurs – সুখ) কাব্যগ্রন্থে মানুষের অস্তিত্ব ও মহাবিশ্ব নিয়ে গভীর দার্শনিক চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে।
৪. ঐতিহাসিক বিতর্ক
১৯০১ সালে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুলি প্রুদোমকে মনোনীত করা হলে সাহিত্য বিশ্বে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমসাময়িক অনেক লেখক এবং সমালোচক মনে করেছিলেন যে, রাশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় (যিনি ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ ও ‘আনা কারেনিনা’ লিখেছেন) এই পুরস্কারের জন্য বেশি যোগ্য ছিলেন। এমনকি সুইডেনের ৪২ জন বিশিষ্ট লেখক সুলি প্রুদোম নোবেল পাওয়ার পর টলস্টয়ের কাছে একটি দুঃখপ্রকাশ পত্রও পাঠিয়েছিলেন। তবে প্রুদোম তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থের একটি বড় অংশ তরুণ ফরাসি কবিদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনে দান করে উদারতার পরিচয় দেন।
- শান্তি: জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (সুইজারল্যান্ড) এবং ফ্রেদেরিক প্যাসি (ফ্রান্স)
জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো এবং ফ্রেদেরিক প্যাসি ১৯০১ সালে যৌথভাবে ইতিহাসের প্রথম নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন。 মানবজাতির কল্যাণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিকতা বজায় রাখার জন্য এই দুই ব্যক্তিত্বের অবদান ছিল অতুলনীয়।
তাঁদের ব্যক্তিগত অবদান এবং নোবেল জয়ের ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো:
১. জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (Jean Henri Dunant) – সুইজারল্যান্ড
জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (যাঁকে হেনরি ডুনান্ট নামেও ডাকা হয়) ছিলেন একজন সুইস ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তাঁকে মূলত রেড ক্রস-এর জনক বলা হয়।
- সলফেরিনোর যুদ্ধ (১৮৫৯): ব্যবসায়িক কাজে ইতালি যাওয়ার পথে দ্যুনো ‘সলফেরিনোর যুদ্ধ’ প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে প্রায় ৪০,০০০ সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছিল। এই ভয়াবহতা দেখে তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আহত সৈনিকদের জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সেবা করার উদ্যোগ নেন।
- রেড ক্রস প্রতিষ্ঠা (১৮৬৩): এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘এ মেমোরি অব সলফেরিনো’ নামে একটি বই লেখেন। এর ওপর ভিত্তি করেই ১৮৬৩ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি’ (ICRC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জেনেভা কনভেনশন (১৮৬৪): যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের অধিকার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর প্রচেষ্টায় প্রথম ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
২. ফ্রেদেরিক প্যাসি (Frédéric Passy) – ফ্রান্স
ফ্রেদেরিক প্যাসি ছিলেন একজন ফরাসি অর্থনীতিবিদ এবং শান্তিকামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা।
- লিগ অব পিস প্রতিষ্ঠা: তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৮৬৭ সালে ফ্রান্সে ‘লিগ অব পিস’ (Ligue internationale et permanente de la paix) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU): ১৮৮৯ সালে তিনি ব্রিটিশ শান্তিকামী র্যান্ডাল ক্রেমারের সাথে যৌথভাবে ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন’ (IPU) গঠন করেন। এটি ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রথম বড় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা আন্তর্জাতিক বিরোধগুলো যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে কাজ করত।
কেন তাঁরা যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছিলেন?
নোবেল কমিটি ১৯০১ সালে প্রথম শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সময় দুই ধরণের অবদানকে সমান গুরুত্ব দিয়েছিল:
- জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো: যুদ্ধের ময়দানে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং মানবিক নিয়ম নীতি তৈরির জন্য।
- ফ্রেদেরিক প্যাসি: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- অর্থনীতিতে নোবেল: ১৯০১ সালে অর্থনীতিতে কোনো নোবেল পুরস্কার ছিল না। ১৯৬৮ সালে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব সুইডেন এই বিভাগটি চালু করে এবং ১৯৬৯ সালে প্রথম অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া হয়।
- পুরস্কারের স্থান: শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের ওসলো থেকে এবং বাকি পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় সুইডেনের স্টকহোম থেকে।
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৩) — সাহিত্যে নোবেল
- ইতিহাস গড়া অর্জন: তিনি কেবল প্রথম বাঙালিই নন, বরং সমগ্র এশিয়ার মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
- মূল অবদান: তাঁর অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings)-এর ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। নোবেল কমিটি তাঁর লেখাকে “অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাজা এবং সুন্দর কবিতা” হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
- আরেকটি অনন্য কীর্তি: তিনি বিশ্বের একমাত্র কবি, যাঁর লেখা গান দুটি ভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়—বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ভারতের ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’।
২. অমর্ত্য সেন (১৯৯৮) — অর্থনীতিতে নোবেল
- নতুন ধারার অর্থনীতি: তিনি প্রচলিত অর্থনীতির বাইরে গিয়ে ‘কল্যাণ অর্থনীতি’ (Welfare Economics) এবং দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- মূল দর্শন: তিনি দেখিয়েছিলেন যে, দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের অভাবে হয় না, বরং খাদ্য বণ্টনের অসমতা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাবের কারণে ঘটে। তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৩. ড. মুহাম্মদ ইউনূস (২০০৬) — শান্তিতে নোবেল
- দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- মূল অবদান: ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ম বদলে দিয়ে জামানত ছাড়াই দরিদ্র মানুষকে, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনের এক নতুন মডেল তৈরি করেন। (বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন)।



