বিশ্ব
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিনোদন ডেস্ক: বয়স যেখানে অনেকের কাছে কেবল একটি সংখ্যা, রজনীকান্তের কাছে তা যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সিঁড়ি। ৭৩ বছর বয়সে যখন সমসাময়িক অনেক অভিনেতা অবসরে কিংবা পর্দার আড়ালে চলে যান, সেখানে তিনি আজও দাপুটে ‘হিরো’। সাদা দাড়ি, পাকা চুল আর মাথার টাক লুকিয়ে নয়, বরং নিজের ব্যক্তিত্ব আর অভিনয়ের জাদুতে তিনি আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে ‘থালাইভা’।
সংগ্রাম থেকে সিংহাসন: ১৯০০-২০২৬ প্রেক্ষাপট
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ শতকের শুরুর দিকে যখন সবাক চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়, তখন থেকেই অভিনয়ের ব্যাকরণ ছিল সুন্দর চেহারা। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে সেই ধারণা ভেঙে দেন শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। সামান্য এক বাস কন্ডাকটর থেকে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি হয়ে ওঠেন আজকের ‘সুপারস্টার রজনীকান্ত’। ১৯৫০ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা ১৯০০ পরবর্তী ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিবর্তনে এক বিশেষ অধ্যায়। ২০২৪-২৫ সালেও তাঁর জনপ্রিয়তার পারদ যেখানে আকাশচুম্বী, ২০২৬-এর আধুনিক সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও তাঁর অভাব অনুভব করবে।
রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক ও বক্স অফিস
৭০ বছর বয়সে প্রথম দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে একটি সিনেমার জন্য ১০০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘জেইলার’ বিশ্বজুড়ে ৬০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই এক সিনেমা থেকেই তিনি পারিশ্রমিক ও লভ্যাংশ মিলিয়ে প্রায় ২১০ কোটি রুপি আয় করেছেন—যা এশীয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
উন্মাদনা ও স্টাইল: যখন অফিস ছুটি থাকে
রজনীকান্ত মানেই এক আলাদা উন্মাদনা। ভারতে, বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে তাঁর সিনেমা মুক্তির দিন অনেক বেসরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা করা হয়। তাঁর চশমা ঘোরানো, সিগারেট জ্বালানো কিংবা হাঁটার স্টাইল আজও অনন্য। বর্তমান প্রজন্মের অনেক অভিনেতা তাঁর স্টাইল অনুকরণ করেই নিজেদের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশেও ‘রোবট’ মুভির মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা নতুন মাত্রা পায়।
উপসংহার
রজনীকান্ত কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। শূন্য থেকে শিখরে ওঠার এক মহাকাব্য। ৭৩তম জন্মদিনে এই ‘সোয়্যাগ কিং’-এর জন্য রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর এই জয়যাত্রা আগামী ২০২৬ সাল এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি এন্টারটেইনমেন্ট, ফোর্বস ইন্ডিয়া, আইএমডিবি এবং বিনোদন বিশ্লেষণী আর্কাইভ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দ্রুত পরিবর্তনশীল ই-কমার্স জগতে পণ্যের ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি বা ছবির মান সরাসরি বিক্রি বা সেলস নির্ধারণ করে। অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় ক্রেতারা শারীরিকভাবে পণ্য স্পর্শ করতে বা সরাসরি পরীক্ষা করতে পারেন না। এর মানে হলো, আপনার লিস্টিং ইমেজ বা পণ্যের ছবিগুলোকেই ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন, ভ্যালু তৈরি এবং সেলস নিশ্চিত করার ১০০% দায়িত্ব নিতে হয়।
বহু বছর ধরে ব্র্যান্ডের ভিজ্যুয়ালের জন্য হাই-এন্ড কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফিই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে ঐতিহ্যবাহী বা ট্র্যাডিশনাল ফটোশুটের সাথে আসে বিশাল লজিস্টিক ঝামেলা: ফিজিক্যাল প্রোটোটাইপ বা স্যাম্পল শিপিং করা, স্টুডিও স্পেস ভাড়া নেওয়া, দামি যন্ত্রপাতি ব্যাকআপ রাখা এবং লম্বা সময় ধরে পোস্ট-প্রোডাকশন এডিটিংয়ের খরচ বহন করা।
ঠিক এখানেই আগমন ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং সার্ভিসের (3D Product Modeling Services)।

ফটোশুটের বদলে ডিজিটাল ৩ডি সিজিআই (CGI – Computer-Generated Imagery) মডেলিং বেছে নিয়ে বর্তমান ই-কমার্স ব্র্যান্ড, অ্যামাজন সেলার এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনাররা তাদের প্রোডাক্ট ক্যাটালগ তুলনামূলক দ্রুত, কম খরচে এবং নিখুঁতভাবে স্কেল করতে পারছেন।
আসুন দেখে নেওয়া যাক ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং কীভাবে কাজ করে, কেন এটি প্রথাগত ফটোগ্রাফির চেয়ে বেশি আরআই (ROI) বা লাভ এনে দেয় এবং কীভাবে এটি ডিজিটাল রিটেল ইন্ডাস্ট্রিকে বদলে দিচ্ছে।
৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং সার্ভিস আসলে কী?

৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং সার্ভিস হলো একটি বিশেষ কম্পিউটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে কোনো ফিজিক্যাল বা বাস্তব পণ্যের গাণিতিকভাবে নিখুঁত, ত্রিমাত্রিক (3D) ডিজিটাল রূপ তৈরি করার প্রক্রিয়া।
ফিজিক্যাল ক্যামেরা এবং স্টুডিও লাইটিংয়ের ওপর নির্ভর করার বদলে, ৩ডি আর্টিস্টরা CAD ফাইল, স্কেচ বা পণ্যের সঠিক মাপ ব্যবহার করে একদম শুরু থেকে ডিজিটাল অ্যাসেট তৈরি করেন। ৩ডি মডেলটি তৈরি হয়ে গেলে, আর্টিস্টরা এতে বাস্তবসম্মত টেক্সচার, মেটেরিয়াল (যেমন: ব্রাশড অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাট প্লাস্টিক বা লেদার) এবং ফিজিক্যাল লাইটিং যুক্ত করে চমৎকার ফটো রিয়ালিস্টিক ৩ডি রেন্ডার তৈরি করেন।
৩ডি মডেলিংয়ের মূল ডেলিভারিবলসমূহ:
- হাইপার-রিয়ালিস্টিক স্টিল রেন্ডার (Still Renders): ওয়েবসাইট ক্যাটালগ, অ্যামাজন লিস্টিং এবং প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য নিখুঁত প্রোডাক্ট ইমেজ।
- ৩৬০-ডিগ্রি প্রোডাক্ট অ্যানিমেশন: ইন্টারঅ্যাক্টিভ এবং ঘূর্ণায়মান প্রোডাক্ট ভিউ, যা ক্রেতাকে পণ্যের প্রতিটি কোণ ঘুরিয়ে দেখার সুবিধা দেয়।
- এক্সপ্লোডেড ভিউ অ্যানিমেশন (Exploded View): পণ্যের ভেতরের যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং ফিচার বা অ্যাসেম্বলি প্রসেস ফুটিয়ে তোলার অ্যানিমেটেড ব্রেকডাউন।
- লাইফস্টাইল সিন স্ট্যাজিং (Lifestyle Staging): কোনো বাস্তব স্টুডিও সেট না বানিয়েই সুন্দর, কাস্টম-ডিজাইন করা ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্টে পণ্য উপস্থাপন।
৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং বনাম ট্র্যাডিশনাল ফটোগ্রাফি: ROI-এর তুলনা

বিশ্বখ্যাত রিটেল ব্র্যান্ডগুলো কেন স্টুডিও ফটোগ্রাফি ছেড়ে ডিজিটাল ৩ডি সিজিআইয়ের দিকে ঝুঁকছে? চলুন মূল বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা যাক:
| বিজনেস ম্যাট্রিক | ট্র্যাডিশনাল স্টুডিও ফটোগ্রাফি | ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং সার্ভিস |
| ফিজিক্যাল স্যাম্পলের প্রয়োজন? | হ্যাঁ (স্যাম্পল তৈরি ও শিপিং করতে হয়) | না (CAD ফাইল বা স্কেচ থেকেই তৈরি সম্ভব) |
| কাজ শেষের সময় (TAT) | কয়েক সপ্তাহ (লজিস্টিকস, সেটআপ, রি-শুট) | মাত্র কয়েক দিন (দ্রুত ডিজিটাল পরিবর্তন ও রেন্ডার) |
| কালার/ভেরিয়েন্ট চেঞ্জ | খরচ অনেক বেশি (প্রতিটি কালারের আলাদা শুট) | নূন্যতম খরচ (১-ক্লিকে ডিজিটাল টেক্সচার পরিবর্তন) |
| কোয়ালিটি ও কন্ট্রোল | লাইটিং ও স্টুডিওর সীমাবদ্ধতার ওপর নির্ভর | লাইটিং, অ্যাঙ্গেল ও রিফ্লেকশনের ওপর ১০০% কন্ট্রোল |
| ক্যাটালগ স্কেলিং | ধীরগতির ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল | দ্রুত এবং বাজেট-ফ্রেন্ডলি |
ই-কমার্সে ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিংয়ের ৪টি বড় সুবিধা
১. ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের আগেই প্রোডাক্ট লঞ্চ
প্রথাগত রিটেল ব্যবসায়, প্রি-অর্ডার বা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের জন্য ছবি তুলতে গেলে কারখানায় প্রোটোটাইপ তৈরি ও শিপিং হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো।
কিন্তু ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিংয়ের সাহায্যে, উৎপাদন শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগেই আপনি সরাসরি CAD ডিজাইন বা কনসেপ্ট ড্রয়িং থেকে স্টুডিও-গ্রেড মার্কেটিং ভিজ্যুয়াল তৈরি করতে পারবেন। এতে আপনি খুব সহজেই মার্কেট ডিমান্ড টেস্ট, ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন এবং প্রি-সেলস শুরু করতে পারবেন।
২. কম খরচে আনলিমিটেড প্রোডাক্ট ভেরিয়েন্ট
আপনি যদি এমন কোনো পণ্য বিক্রি করেন যার ১৫টি আলাদা কালার অপশন বা মেটেরিয়াল ফিনিশ রয়েছে, তবে স্টুডিওতে সেগুলোর আলাদা ছবি তুলতে প্রচুর সময় ও অর্থ অপচয় হয়।
৩ডি এনভায়রনমেন্টে মূল ৩ডি ডিজিটাল মডেল তৈরি হয়ে গেলে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কালার বা টেক্সচার পরিবর্তন করা সম্ভব। ফিজিক্যাল শুটের তুলনায় অনেক কম খরচে আপনি সম্পূর্ণ কালার ক্যাটালগ রেডি করে ফেলতে পারবেন।
৩. দামি স্টুডিও সেটের ঝামেলা দূর
একটি লাক্সারি লাইফস্টাইল শুট সেটআপ করা—যেমন কোনো আধুনিক পেন্টহাউসে সোফা রাখা বা হাই-এন্ড কিচেনে অ্যাপ্লায়েন্স দেখানো—সেট ডিজাইন এবং প্রপস ভাড়ার পেছনে হাজার হাজার ডলার খরচ করায়।
ডিজিটাল ৩ডি রেন্ডারিং আপনাকে কাস্টম ও ফটো-রিয়ালিস্টিক ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট (যা ৩ডি রুম সেট নামে পরিচিত) তৈরি করার সুবিধা দেয়। ফলে বাস্তবে স্টুডিওতে না গিয়েই আপনি ম্যাগাজিন-কোয়ালিটির লাইফস্টাইল ছবি পেয়ে যান।
৪. জটিল প্রোডাক্টের জন্য নিখুঁত প্রিসিশন
কিছু নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট—যেমন জটিল যন্ত্রপাতি, স্বচ্ছ কাঁচের পাত্র, হাই-এন্ড ইলেকট্রনিক্স বা জুয়েলারি—ক্যামেরা দিয়ে শুট করার সময় বাজে রিফ্লেকশন বা লেন্স ডিস্টরশনের কারণে সঠিক চেহারা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
উন্নত ৩ডি রেন্ডারিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ডিজিটাল লাইটিংকে গাণিতিকভাবে হিসাব করে সঠিক অ্যাঙ্গেল, রিফ্লেকশন এবং মেটেরিয়াল টেক্সচার ফুটিয়ে তোলা হয়, যা নিখুঁত ছবি নিশ্চিত করে।
কীভাবে ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং অ্যামাজন ও মার্কেটপ্লেসে সেলস বাড়ায়?

অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ইবে-র মতো ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসগুলোর ছবি সংক্রান্ত কঠোর নিয়মনীতি রয়েছে। লো-রেজোলিউশন বা অস্পষ্ট ছবি ব্যবহার করলে ক্লিক-থ্রু রেট (CTR) কমে যায় এবং প্রোডাক্ট রিটার্ন রেট বেড়ে যায়।
আপনার ক্যাটালগ ৩ডি রেন্ডারিং সার্ভিসে আপডেট করলে তা সরাসরি আপনার রেভিনিউ বাড়াতে সাহায্য করে:
- কনভার্সন রেট বাড়ায়: শার্প ৩৬০-ডিগ্রি ভিউসহ ফটো-রিয়ালিস্টিক ৩ডি ভিজ্যুয়াল ক্রেতাদের নিশ্চিন্তে “Add to Cart” বাটনে ক্লিক করার আত্মবিশ্বাস দেয়।
- প্রোডাক্ট রিটার্ন কমায়: অনলাইন কেনাকাটায় পণ্য ফেরত দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডেলিভারি পাওয়া আসল পণ্যটি লিস্টিং ইমেজের মতো না হওয়া। ৩ডি মডেল পণ্যের সঠিক ডাইমেনশন, টেক্সচার এবং মেটেরিয়ালের গভীরতা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে, যা ক্রেতার প্রত্যাশার সাথে মিলে যায়।
- Amazon A+ কন্টেন্ট ও ইনফোগ্রাফিক্স সমৃদ্ধ করে: ক্লিন ৩ডি কাটআউটের ফলে ডিজাইন টিম খুব সহজেই Amazon A+ কন্টেন্ট পেজের জন্য কলআউট টেক্সট, ডায়মেনশন লাইন এবং ফিচার ডায়াগ্রাম যুক্ত করতে পারে।
গ্রাফিক্স পিক্সেলস (Graphics Pixels)-এর ৩ডি মডেলিং প্রসেস

Graphics Pixels–এ আমরা ডিজিটাল পোস্ট-প্রোডাকশন এবং ৩ডি ভিজ্যুয়াল তৈরির কাজকে অত্যন্ত সহজ করে তুলেছি:
১. ব্রিফ ও CAD/রেফারেন্স জমা: আপনার CAD ফাইল, টেকনিক্যাল ড্রয়িং বা সাধারণ স্মার্টফোনে তোলা ছবি নির্দিষ্ট মাপসহ আমাদের পাঠান।
২. ৩ডি মেশ কনস্ট্রাকশন: আমাদের দক্ষ ৩ডি আর্টিস্টরা নিখুঁত জ্যামিতিক মাপে ডিজিটাল ওয়্যারফ্রেমিং মডেল তৈরি করেন।
৩. মেটেরিয়াল ও টেক্সচার প্রয়োগ: আমরা ফ্যাব্রিকের বুনন, মেটাল ক্যারেট, কাঠের দানা বা কাঁচের স্বচ্ছতা মিলিয়ে একদম আসল রূপ দিই।
৪. লাইটিং ও ক্যামেরা সেটআপ: গভীরতা, কনট্রাস্ট এবং প্রিমিয়াম লুক আনতে আমরা ভার্চুয়াল স্টুডিও লাইটিং সেটআপ করি।
৫. ফটো-রিয়ালিস্টিক রেন্ডারিং ও ফাইনাল টাচ: আমাদের টিম ছবিগুলোকে আল্ট্রা-হাই রেজোলিউশনে রেন্ডার করে এবং ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেসে ব্যবহারের জন্য ফাইনাল কালার ক্যালিব্রেশন সম্পন্ন করে।
শেষ কথা: আজই আপনার ব্র্যান্ড ভিজ্যুয়াল স্কেল করুন
২০২৬ সাল এবং তার পরবর্তী সময়ে ই-কমার্সে টিকে থাকতে হলে ভিজ্যুয়াল নমনীয়তা, কাজের গতি এবং সাশ্রয়ী বাজেটের ওপর জোর দিতে হবে। শুধু ফিজিক্যাল ক্যামেরা শুটের ওপর নির্ভর করলে ব্র্যান্ডকে দ্রুত স্কেল করা সম্ভব নয়।
প্রফেশনাল ৩ডি প্রোডাক্ট মডেলিং এবং রেন্ডারিং সার্ভিস ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি স্টুডিওর বাড়তি খরচ কমাতে পারবেন, প্রোডাক্ট লঞ্চের সময় বাঁচাতে পারবেন এবং চমৎকার সব ভিজ্যুয়ালের সাহায্যে ভিজিটরদের ক্রেতায় রূপান্তর করতে পারবেন।
আপনার প্রোডাক্টের ছবিগুলোকে ফটো-রিয়ালিস্টিক ৩ডি অ্যাসেটে রূপান্তর করতে প্রস্তুত?
আজইGraphics Pixels-এর ৩ডি সার্ভিসসমূহএক্সপ্লোর করুন অথবা আপনার ক্যাটালগের কাস্টম কোটের জন্য আমাদের পোস্ট-প্রোডাকশন টিমের সাথে যোগাযোগ করুন!
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।
ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা
| র্যাঙ্ক | নাম | দেশ | মোট সম্পদ (USD) | আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি) |
| ১ | ইলোন মাস্ক (Elon Musk) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$৮৩৯ বিলিয়ন | টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X |
| ২ | ল্যারি পেজ (Larry Page) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২৫৭ বিলিয়ন | গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet) |
| ৩ | সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২৩৭ বিলিয়ন | গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet) |
| ৪ | জেফ বেজোস (Jeff Bezos) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২২৪ বিলিয়ন | আমাজন (Amazon) |
| ৫ | মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২২২ বিলিয়ন | মেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook) |
| ৬ | ল্যারি এলিসন (Larry Ellison) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৯০ বিলিয়ন | ওরাকল (Oracle) |
| ৭ | বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault) | ফ্রান্স | ~$১৭১ বিলিয়ন | এলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর) |
| ৮ | জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৫৪ বিলিয়ন | এনভিডিয়া (Nvidia) |
| ৯ | ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৪৯ বিলিয়ন | বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway) |
| ১০ | আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega) | স্পেন | ~$১৪৮ বিলিয়ন | ইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara) |
শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়
১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

- মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
- বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।
২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
- বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
- বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
- বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
- বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
- বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।
৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
- বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।
৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
- বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
- বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।
১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
- বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।
২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ
- টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
- ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
- জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছর পূর্তিতে (৫ই আগস্ট ২০২৬) নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (Foreign Correspondents’ Club of South Asia) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে সরাসরি যুক্ত হয়ে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে (বিজয়ের মাসে) বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই ভার্চুয়াল ভাষণকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
১. শেখ হাসিনার ভাষণের মূল বক্তব্য ও রাজনৈতিক দাবি

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা মূলত অডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন (যদিও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ভিডিওতে উপস্থিত ছিলেন)। তার বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো ছিল:
- স্বদেশে ফেরার দৃঢ় ঘোষণা: নিজের বিরুদ্ধে থাকা মৃত্যুদণ্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আইনি সাজার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি জানান যে ভয় বা গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা তাকে দেশে ফেরা থেকে আটকাতে পারবে না। ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন।
- আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি: তিনি দাবি করেন তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায় নিপীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা আইনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
- ঘটনার নিজস্ব ব্যাখ্যা: ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
- ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালের মতো সংকটের সময়ে ভারত আবারও পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানান।
২. গণমাধ্যম বিশ্লেষণ: CNA এবং অধ্যাপক আলী রীয়াজের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNA-এ প্রচারিত বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ (Professor Ali Riaz) শেখ হাসিনার এই ভাষণ ও তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রদান করেন:
[ শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বাস্তবতার তুলনা (CNA Expert Analysis) ]
│
├───► ১. অডিও বক্তব্য ও অবস্থান গোপনের কৌশল : সরাসরি ফেস না করার চেষ্টা
│
├───► ২. কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার প্রচেষ্টা : দলীয় দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটানোর উদ্যোগ
│
├───► ৩. গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে অসত্য দাবি : ১,৪০০ শহীদের আন্তর্জাতিক তথ্য উপেক্ষা
│
└───► ৪. আইনি সীমান্ত ও প্রত্যর্পণ বাস্তবায়ন : ভারত সরকারের অনুমতি ও হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা
ক) অডিও বার্তার রহস্য ও নিরাপত্তা কৌশল
ভিডিওতে যুক্ত না হয়ে শুধু অডিওতে বক্তব্য দেওয়া সম্পর্কে ড. আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন [04:07], তিনি এখনো সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে চলছেন এবং এটি তার অবস্থান সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হতে পারে।
খ) সমর্থকদের চাঙ্গা করার শেষ প্রচেষ্টা
অধ্যাপক আলী রীয়াজ মনে করেন [05:23], এই বক্তব্যটি মূলধারার জনগণের চেয়ে তার দলের হতাশ সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া। টানা দুই বছর ধরে দলীয় নিষেধাজ্ঞা ও শীর্ষ নেতাদের বিদেশে পালিয়ে থাকার পর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই তিনি বারবার দেশে ফেরার দাবি করছেন।
গ) ১,৪০০ শহীদের রক্ত ও আন্তর্জাতিক তদন্ত
শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ‘বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন’ উল্লেখ করে ড. রীয়াজ বলেন [06:21], জাতিসংঘের তদন্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অডিও রেকর্ডিং যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে তিনি নিজেই এই গণহত্যা পরিচালনা করেছিলেন [06:39]। ফলে আন্দোলনকে কেবল ‘সহিংসতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা তার কাল্পনিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
ঘ) ডিসেম্বরে ফেরার আইনি অসম্ভবতা
একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা চাইলেই টিকিট কেটে বিমানে চড়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন না [09:04]।
- তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই [09:18]।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে তার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (Extradition) চেয়েছে।
- ফলে তিনি দেশে ফিরতে চাইলে ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করতে হবে [09:42]।
৩. বাংলাদেশের কঠোর প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক টানাফোড়েন

শেখ হাসিনার এই প্রেস কনফারেন্সের পর বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে:
- সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান: একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার একে বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমেত্বর প্রতি চরম অপমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে [00:46]।
- গণমাধ্যমে প্রচার নিষেধাজ্ঞা: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণে বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যম যেন তার এই বক্তব্য বা উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- নয়াদিল্লির অবস্থান: ভারত সরকার এই ইভেন্ট থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে জানিয়েছে যে এটি একটি বেসরকারি মিডিয়া ক্লাবের (Foreign Correspondents’ Club) আয়োজন ছিল এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের সরাসরি নীতিগত কোনো সম্পর্ক নেই [01:07]।
শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান ও বাস্তবতার তুলনা
| উপাদান | আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান | বাস্তব চিত্র ও প্রভাব |
| ট্রাইব্যুনালের রায় | ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত [01:28]। | আপিলের নির্দিষ্ট ৩০ দিন সময়সীমার মধ্যে কোনো আপিল না করায় রায়টি চূড়ান্ত আইনি অবস্থানে রয়েছে [10:07]। |
| দুর্নীতি মামলা | ২১ বছরের কারাদণ্ড ঘোষিত। | অন্যান্য আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলা চলমান। |
| প্রত্যর্পণ আবেদন | বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের আইনি দাবি জানানো হয়েছে [01:21]। | ভারত সরকারের আইনি পর্যালোচনার কথা জানানো হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ ঝুলন্ত রয়েছে। |
| দেশে ফেরার পথ | স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আইনগত পথ বন্ধ [10:22]। | বাংলাদেশে অবতরণ করা মাত্রই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠাতে বাধ্য। |
উপসংহার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ফিরব বলার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও, আন্তর্জাতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে এটি অত্যন্ত জটিল ও প্রায় অসম্ভব। বর্তমান আইনি কাঠামো, সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক নির্দেশনার কারণে প্রত্যর্পণ চুক্তি ব্যতীত তার দেশে ফেরার আর কোনো বৈধ পথ উন্মুক্ত নেই।
তথ্যসূত্র (References)
- CNA News Analysis & Video Report: Expert on the significance of ousted Bangladesh leader Hasina’s virtual address (Airing Date: August 6, 2026). watch on YouTube
- Illinois State University: Prof. Ali Riaz’s Analysis on Bangladesh Political Crisis and Extradition Laws.
- Ministry of Foreign Affairs, Bangladesh: Press Statement regarding the Virtual Address from New Delhi (August 2026).
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



