প্রযুক্তি

ওয়াইফাই কি আপনার ফোনের ব্যাটারির ‘নিঃশব্দ ঘাতক’? প্রযুক্তির বিবর্তনে ব্যাটারি সাশ্রয়ের চ্যালেঞ্জ
ওয়াইফাই

নিউজ ডেস্ক

January 2, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আধুনিক যুগে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না, আর স্মার্টফোনের প্রাণ হলো ইন্টারনেট। আমরা অনেকেই ফোনের ওয়াইফাই (Wi-Fi) সারাক্ষণ অন করে রাখি। কিন্তু আপনি কি জানেন, অপ্রয়োজনে ওয়াইফাই অন রাখা আপনার ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ করে দিচ্ছে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াইফাই অন থাকা মানেই আপনার ডিভাইসটি অনবরত কোনো রাউটার বা নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়, যা ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

কেন ওয়াইফাই অন রাখলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়?

যখন আপনার ফোনের ওয়াইফাই অন থাকে কিন্তু কোনো পরিচিত নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকে না, তখন ফোনটি প্রতি মুহূর্তে ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘স্ক্যানিং’ মোডে থাকে। অর্থাৎ, এটি অনবরত আশেপাশে কোনো ওয়াইফাই রাউটার আছে কি না তা খুঁজতে থাকে। এই যে নিরন্তর খোঁজা বা সিগন্যাল আদান-প্রদান—এতে ফোনের প্রসেসর এবং ওয়াইফাই চিপ সচল থাকে, যার ফলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে।

বিশেষ করে আপনি যখন ভ্রমণে থাকেন বা রাস্তা দিয়ে চলেন, তখন ফোনটি শত শত রাউটার খুঁজে পায় এবং সেগুলোতে লগ-ইন করার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাটারি ‘ড্রেইন’ হওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়।

১৯০০ থেকে ২০২৬: যোগাযোগ ও জ্বালানির বিবর্তন

যোগাযোগ প্রযুক্তির এই দীর্ঘ যাত্রায় শক্তি বা ব্যাটারির ব্যবহার সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা এক বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখতে পাই:

  • ১৯০০-এর দশক: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ওয়্যারলেস বা তারবিহীন যোগাযোগের ধারণা ছিল আদিম পর্যায়ের। তখন বিশাল আকারের ব্যাটারি ব্যবহার করে রেডিও বা টেলিগ্রাফ চালানো হতো, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।
  • ১৯৭০-১৯৯০: ১৯৭৩ সালে প্রথম মোবাইল ফোন আবিষ্কৃত হয়। সেই ফোনের ব্যাটারি ছিল বিশাল ও ভারী, কিন্তু টক-টাইম ছিল মাত্র ২০-৩০ মিনিট। তখন থেকেই শুরু হয় ‘কম শক্তিতে বেশি সেবা’র লড়াই।
  • ২০০০-২০২৪: ওয়াইফাই প্রযুক্তি আসার পর স্মার্টফোনের বিপ্লব ঘটে। কিন্তু লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা এখনো আমাদের ভোগায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও দেখা গেছে, তথ্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখতে মানুষের কাছে ব্যাটারি ব্যাকআপ বা পাওয়ার ব্যাংক কত জরুরি ছিল।
  • ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালে এসে আমরা এখন ৫জি (5G) এবং ওয়াইফাই-৭ (Wi-Fi 7) এর যুগে দাঁড়িয়ে। বর্তমানের স্মার্টফোনগুলো অনেক বুদ্ধিমান হলেও ওয়াইফাই অন রাখলে ব্যাটারি ক্ষয়ের সমস্যাটি এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: কীভাবে ব্যাটারি বাঁচাবেন?

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:

১. অপ্রয়োজনে ওয়াইফাই বন্ধ রাখা: যখন আপনি বাসার বাইরে বা ওয়াইফাই জোনের বাইরে থাকবেন, তখন সেটি বন্ধ রাখুন।

২. অটো-স্ক্যানিং অফ করা: অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘Wi-Fi Scanning’ অপশনটি বন্ধ করে দিলে ফোন আর ব্যাকগ্রাউন্ডে নেটওয়ার্ক খুঁজবে না।

৩. স্মার্ট কানেক্টিভিটি: অনেক ফোনে এখন এমন ফিচার আছে যা পরিচিত নেটওয়ার্ক পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াইফাই অন করে দেয়, এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

একনজরে প্রযুক্তির শক্তি ব্যবহার (১৯০০-২০২৬)

সময়কালযোগাযোগের মাধ্যমশক্তির উৎস/চ্যালেঞ্জ
১৯০০-১৯২০টেলিগ্রাফ/রেডিওবিশাল লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি।
১৯৮০-এর দশকএনালগ মোবাইল ফোনভারী ব্যাটারি, স্বল্প চার্জ।
২০১০-২০২০৪জি/ওয়াইফাইস্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া।
২০২৬ (বর্তমান)৫জি/স্মার্ট আইওটিওয়াইফাই ও ব্লুটুথ অন রাখলে চার্জ ক্ষয়।

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগের ধরন বদলেছে, কিন্তু ব্যাটারি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরায়নি। তাই ফোনের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।


সূত্র: ১. গুগল টেকনোলজি এনালাইসিস ও স্মার্টফোন হার্ডওয়্যার গাইড।

২. আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ও টেলিকমিউনিকেশন হিস্ট্রি আর্কাইভ।

৩. স্মার্টফোন ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা (২০২৫-২৬)।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শীর্ষ ধনী

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা

র‍্যাঙ্কনামদেশমোট সম্পদ (USD)আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি)
ইলোন মাস্ক (Elon Musk)যুক্তরাষ্ট্র~$৮৩৯ বিলিয়নটেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X
ল্যারি পেজ (Larry Page)যুক্তরাষ্ট্র~$২৫৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)যুক্তরাষ্ট্র~$২৩৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
জেফ বেজোস (Jeff Bezos)যুক্তরাষ্ট্র~$২২৪ বিলিয়নআমাজন (Amazon)
মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)যুক্তরাষ্ট্র~$২২২ বিলিয়নমেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook)
ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)যুক্তরাষ্ট্র~$১৯০ বিলিয়নওরাকল (Oracle)
বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault)ফ্রান্স~$১৭১ বিলিয়নএলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর)
জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)যুক্তরাষ্ট্র~$১৫৪ বিলিয়নএনভিডিয়া (Nvidia)
ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)যুক্তরাষ্ট্র~$১৪৯ বিলিয়নবার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
১০আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)স্পেন~$১৪৮ বিলিয়নইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara)

শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়

১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
  • বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।

২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
  • বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
  • বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
  • বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।

৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
  • বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।

৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
  • বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
  • বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।

১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
  • বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।

২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ

  1. টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
  2. ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
  3. জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বেগ শূন্য

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

কোনো বস্তুকে যখন খাড়া বা সোজা ওপরের দিকে ছুঁড়ে মারা হয়, তখন তা একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পর মুহূর্তের জন্য থমকে যায় এবং পুনরায় নিচে নামতে শুরু করে। এই দিক পরিবর্তনের ঠিক আগের মুহূর্তে বস্তুটির উল্লম্ব বেগ হয়ে যায় শূন্য ($0$)

গতিবিদ্যা (Kinematics), নিউটনের গতির সূত্র এবং শক্তি সংরক্ষণশীলতা—এই তিন উপায়ে বিষয়টির পিছনের পদার্থবিজ্ঞান সহজে অনুধাবন করা যায়।

১. অভিকর্ষজ ত্বরণ ও গতিপথের পরিবর্তন

পৃথিবী তার কেন্দ্রমুখী আকর্ষণের মাধ্যমে সব বস্তুকে নিচের দিকে টানে, যা অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g \approx 9.8 \text{ m/s}^2$) হিসেবে কাজ করে।

[ ঊর্ধ্বমুখী বেগ (v > 0) ]  ──► মন্দন (-g) ──►  [ সর্বোচ্চ বিন্দু (v = 0) ]  ──► ত্বরণ (+g) ──►  [ নিম্নমুখী বেগ (v < 0) ]
  • ঋণাত্মক ত্বরণ (মন্দন): বস্তুটি যখন ওপরের দিকে ওঠে, তখন গতির দিক থাকে ওপরের দিকে, কিন্তু অভিকর্ষীয় ত্বরণের দিক থাকে নিচের দিকে। এই বিপরীতমুখী ত্বরণের কারণে প্রতি সেকেন্ডে বস্তুটির বেগ $9.8 \text{ m/s}$ হারে কমতে থাকে।
  • দিক পরিবর্তন বিন্দু: বেগের মান কমতে কমতে এক পর্যায়ে শূন্যে পৌঁছায়। ওপরের দিকে যাওয়া (ধনাত্মক বেগ) থেকে নিচে নামার (ঋণাত্মক বেগ) সন্ধিক্ষণে বেগ অবশ্যই $0$ এর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয়।

২. গতিবিদ্যার সমীকরণ ও গাণিতিক প্রমাণ

গতিবিদ্যার তৃতীয় সমীকরণটি লক্ষ্য করি:

$$v^2 = u^2 – 2gh$$

যেখানে:

  • $u$ = প্রাথমিক নিক্ষেপণ বেগ (Initial Velocity)
  • $v$ = শেষ বেগ (Final Velocity)
  • $g$ = অভিকর্ষজ ত্বরণ ($9.8 \text{ m/s}^2$)
  • $h$ = সর্বোচ্চ উচ্চতা (Maximum Height)

বস্তুটি যখন সর্বোচ্চ উচ্চতায় $h_{max} = \frac{u^2}{2g}$ পৌঁছায়, তখন সমীকরণে $h$-এর মান বসিয়ে পাই:

$$v^2 = u^2 – 2g \left( \frac{u^2}{2g} \right)$$

$$v^2 = u^2 – u^2 = 0$$

$$\therefore v = 0$$

৩. সোজা নিক্ষিপ্ত বস্তু বনাম প্রাসের গতি (Projectile Motion)

সোজা ওপরের দিকে মারা বস্তু এবং কোণ করে মারা প্রাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উচ্চতার বেগের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে:

ক) সোজা ওপরের দিকে নিক্ষিপ্ত বস্তু (1D Motion)

  • উল্লম্ব বেগ ($v_y$): সর্বোচ্চ বিন্দুতে $0$ হয়।
  • অনুভূমিক বেগ ($v_x$): অনুভূমিক কোনো উপাদান না থাকায় $0$ হয়।
  • মোট বেগ ($v$): সম্পূর্ণ শূন্য ($v = 0$)।

খ) কোণ করে নিক্ষিপ্ত বস্তু বা প্রাস (2D Projectile Motion)

  • উল্লম্ব বেগ ($v_y$): অভিকর্ষজ বলের কারণে কমতে কমতে সর্বোচ্চ উচ্চতায় $0$ হয়।
  • অনুভূমিক বেগ ($v_x$): বাতাসে বাধা না থাকলে অনুভূমিক দিকে কোনো বল কাজ করে না। তাই অনুভূমিক বেগ $v_x = u \cos\theta$ অপরিবর্তিত থাকে।
  • মোট বেগ ($v$): সর্বোচ্চ বিন্দুতে মোট বেগ কিন্তু শূন্য নয়, বরং তা অনুভূমিক বেগের সমান হয় ($v = u \cos\theta$)।

৪. শক্তি সংরক্ষণশীলতা নীতি (Conservation of Energy)

শক্তির রূপান্তর বিবেচনা করলেও এই নীতিটি সুস্পষ্ট হয়:

  1. ভূমি থেকে নিক্ষেপের মুহূর্তে: বস্তুর মোট যান্ত্রিক শক্তি থাকে সম্পূর্ণ গতিশক্তি ($E_k = \frac{1}{2}mv^2$) এবং বিভবশক্তি থাকে শূন্য ($E_p = 0$)।
  2. উপরে ওঠার সময়: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে এবং তা বিভবশক্তিতে ($E_p = mgh$) রূপান্তরিত হয়।
  3. সর্বোচ্চ উচ্চতায়: সমস্ত গতিশক্তি সম্পূর্ণরূপে বিভবশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় ($E_k \to 0$)। গতিশক্তি শূন্য হওয়ার অর্থই হলো সেই মুহূর্তে বেগ $v = 0$।

সোজা নিক্ষেপ ও প্রাসের গতিবিদ্যার তুলনা

বৈশিষ্ট্যসোজা ওপরের দিকে নিক্ষেপকোণ করে নিক্ষেপ (প্রাস)
সর্বোচ্চ বিন্দুতে উল্লম্ব বেগ ($v_y$)$0$$0$
সর্বোচ্চ বিন্দুতে অনুভূমিক বেগ ($v_x$)$0$$u \cos\theta$ (ধ্রুবক)
সর্বোচ্চ বিন্দুতে মোট বেগ ($v$)$0$$u \cos\theta$
সর্বোচ্চ বিন্দুতে ত্বরণ ($a$)$g$ (নিচের দিকে)$g$ (নিচের দিকে)

সংক্ষেপে

সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বস্তুটির ওপরের দিকে ওঠা থেমে যায়। গতিপথের দিক পরিবর্তনের ঠিক এই মুহূর্তে বস্তুটির উল্লম্ব বেগ শূন্য হয়, যদিও অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) তখনও নিচের দিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্রিয়াশীল থাকে।

রোলেক্স ঘড়ি

নিউজ ডেস্ক

August 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সুইস ঘড়ির জগতে রোলেক্স (Rolex) কেবল একটি সময় দেখার যন্ত্র নয়; এটি অভিজাত্য, সফলতা এবং অতুলনীয় প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক প্রতীক। বিশ্বজুড়ে প্যাটেক ফিলিপ, ভ্যাশেরন কন্সটান্টিন বা ওমেগার মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ড থাকলেও, ব্র্যান্ড ভ্যালু ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে রোলেক্সের স্থান সবার শীর্ষে।

একটি সাধারণ কোয়ার্টজ (ব্যাটারিচালিত) ঘড়ি যেখানে খুবই অল্প দামে পাওয়া যায়, সেখানে একটি রোলেক্স ঘড়ির দাম কয়েক লাখ থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে আসল রহস্য কী? কেন রোলেক্সের দাম এত আকাশচুম্বী?

১. রোলেক্স ঘড়ি এত দামি হওয়ার প্রধান প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ

[ নিজস্ব গবেষণা ও R&D ল্যাব ]
           │
           ├───► ৯০৪এল স্টেইনলেস স্টিল : ক্ষয়রোধী ও দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বলতা
           │
           ├───► নিজস্ব ৩ ধরনের সোনা : ১৮ ক্যারেট ইয়েলো, হোয়াইট ও এভাররোজ গোল্ড
           │
           ├───► শতভাগ ম্যানুয়াল অ্যাসেম্বলি : অভিজ্ঞ কারিগরদের নিখুঁত ছোঁয়া
           │
           └───► কঠোর ওয়াটারপ্রুফিং পরীক্ষা : ১০% থেকে ২৫% অতিরিক্ত চাপে পরীক্ষা

ক) ৯০৪এল (904L) স্টেইনলেস স্টিলের ব্যবহার

সাধারণ বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ডগুলো যেখানে ‘316L’ স্টিল ব্যবহার করে, সেখানে রোলেক্স ব্যবহার করে অত্যন্ত প্রিমিয়াম, দামি ও কঠিন 904L স্টেইনলেস স্টিল। এই স্টিল অত্যন্ত ক্ষয়রোধী, মরিচানিরোধক এবং এটি পলিশ করার পর যে উজ্জ্বলতা দেয়, তা বছরের পর বছর একই রকম থাকে। তবে এটি প্রসেসিং করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় রোলেক্সকে বিশেষ যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি তৈরি করতে হয়েছে।

খ) নিজস্ব সায়েন্টিফিক ল্যাব ও তিন ধরনের সোনা

রোলেক্সের নিজস্ব একাধিক অ্যাডভান্সড ল্যাবরেটরি রয়েছে, যেখানে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ও গ্যাস স্পেকট্রোমিটারের সাহায্যে ধাতু এবং লুব্রিকেন্ট নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করা হয়। এছাড়া, তারা কোনো বাইরের প্রতিষ্ঠান থেকে সোনা কেনে না; নিজেদের গোপন ফাউন্ড্রিতে ১৮ ক্যারেটের ইয়েলো, হোয়াইট এবং বিশেষ ‘এভাররোজ’ (Everose) গোল্ড তৈরি করে।

গ) ১০০% হাতে তৈরি (Manual Assembly) ও দক্ষ কারিগর

রোলেক্স ঘড়ির ভেতরের শত শত জটিল ও সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ (যেমন—ক্যালিবার ৪১ ৩০) সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞ কারিগররা সম্পূর্ণ নিজ হাতে জোড়া লাগান। যে দেশে শ্রমের মূল্য বিশ্বে সবচেয়ে বেশি, সেখানে হাজার হাজার ঘণ্টার নিখুঁত হাতের কাজে প্রতিটি ঘড়ি প্রস্তুত করা হয়।

ঘ) কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও ‘অয়েস্টার’ ওয়াটারপ্রুফ টেস্ট

একটি রোলেক্স ঘড়ি তৈরি হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। বাজারে ছাড়ার আগে প্রতিটি ঘড়িকে চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও ওয়াটারপ্রুফিং পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাধারণ ঘড়িকে তার নির্ধারিত ক্ষমতার ১০% বেশি চাপে এবং ডাইভিং ঘড়িগুলোকে অন্তত ২৫% অতিরিক্ত পানির চাপে পরীক্ষা করা হয়। এরপর ২৪ ঘণ্টার নিখুঁত ফটোগ্রাফিক টেস্টের মাধ্যমে ১ মিলিমিটারের অমিল থাকলেও তা পুনরায় কারখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রোলেক্স ও অন্যান্য ঘড়ির প্রযুক্তির পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য / উপাদানসাধারণ কোয়ার্টজ ঘড়িসাধারণ মেকানিকাল ঘড়িরোলেক্স (Rolex)
শক্তি উৎসব্যাটারি ও ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটস্প্রিং ও মেকানিকাল গিয়ারউচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সুইং স্প্রিং ও স্বয়ংক্রিয় ক্যালিবার
ব্যবহৃত স্টিলসস্তা সংকর বা সাধারণ স্টিল316L স্টেইনলেস স্টিল৯০৪এল (904L) হাই-গ্রেড স্টিল
সেকেন্ডের কাঁটার গতিপ্রতি সেকেন্ডে লাফিয়ে চলে (Ticking)কিছুটা মসৃণ গতিঅত্যন্ত মসৃণ ঘূর্ণন (Sweeping Motion)
তৈরির পদ্ধতিরোবোটিক ও গণ-উৎপাদনআংশিক হাত ও মেশিন১০০% কারিগরের হাতে সংযোজিত ও ফিনিশিং
পুনর্বিক্রয় মূল্য (Resel Value)ব্যবহারের সাথে সাথে কমে যায়তুলনামূলক কমসময়ের সাথে সাধারণত বৃদ্ধি পায় (বিনিয়োগ মূল্য)

২. আসল ও নকল রোলেক্স ঘড়ি চেনার উপায়

বর্তমান বাজারে রোলেক্সের কিছু “সুপার ক্লোন” বা প্রথম শ্রেণির নকল ঘড়ি পাওয়া যায়, যা সাধারণ চোখে চেনা কঠিন। তবে সূক্ষ্ম নজর দিলে আসল ঘড়ির ৫টি বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত হওয়া যায়:

  1. সেকেন্ডের কাঁটার গতি (Sweeping Motion): আসল রোলেক্সের সেকেন্ডের কাঁটা কখনো ‘টিক-টিক’ করে লাফিয়ে চলে না। এটি ডায়ালের ওপর দিয়ে অত্যন্ত মসৃণভাবে ভেসে চলে।
  2. ওজন ও ধাতুর সান্দ্রতা: ৯০৪এল স্টিল, খাঁটি সোনা বা প্ল্যাটিনাম ব্যবহারের কারণে আসল রোলেক্স ঘড়ি হাতে নিলে বেশ ভারী অনুভব হয়।
  3. সাইক্লোপস লেন্স (Cyclops Lens): ডায়ালে তারিখ দেখার লেন্সটি তারিখের সংখ্যাকে ঠিক ২.৫ গুণ বড় করে দেখায়। নকল ঘড়িতে তারিখ ঝাপসা দেখায় বা লেখা বড় হয় না।
  4. মাইক্রো-খোদাই ও সিরিয়াল নম্বর: ঘড়ির ডায়ালের রিঙে বা কেসের পাশে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সিরিয়াল নম্বর খোদাই করা থাকে, যা ল্যাব টেস্ট বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করা যায়।
  5. ডায়ালের ফিনিশিং: ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখলে আসল রোলেক্সের লেখা, লোগো ও বর্ডারগুলোতে বিন্দুমাত্র কালির দাগ বা আঁকাবাঁকা অংশ থাকবে না।

৩. প্রিমিয়াম ও বিলাসবহুল ঘড়ির পরিচর্যার নিয়ম

একটি মেকানিকাল রোলেক্স ঘড়ি সঠিকভাবে যত্ন নিলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকে। ঘড়ি ভালো রাখার সেরা পদ্ধতিসমূহ:

  • নিয়মিত সার্ভিসিং: মেকানিকাল মেকানিজমের তেল ও লুব্রিকেন্ট শুকিয়ে যাওয়া রোধ করতে প্রতি ৩ থেকে ৫ বছর পর পর অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে সার্ভিসিং করান।
  • চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) থেকে দূরে রাখা: রেফ্রিজারেটর, স্পিকার, ল্যাপটপ বা ফোনের শক্তিশালি চুম্বক ঘড়ির মেকানিকাল স্প্রিংয়ের গতি এলোমেলো করে দিতে পারে।
  • ক্রাউন (Crown) লক রাখা: ঘড়ির সময় মেলানোর পর স্ক্রু-ডাউন চাবি বা ক্রাউনটি শক্ত করে আটকে দিন, যাতে ভেতরে পানি বা ধূলিকণা প্রবেশ করতে না পারে।
  • নিয়মিত পরিষ্কার করা: ব্যবহারের পর মাইক্রোফাইবার নরম কাপড় দিয়ে ঘাম মুছে রাখুন। ওয়াটারপ্রুফ মডেল হলে হালকা সাবান-পানির স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করা যায়।
  • সঠিক সংরক্ষণ (Watch Winder): দীর্ঘ দিন ঘড়ি না পরলে এটিকে মূল বক্সে অথবা একটি ‘ওয়াচ উইন্ডার’ (Watch Winder)-এর ভেতর রাখুন, যা ঘড়িকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল রাখে।

উপসংহার

রোলেক্স কেবল একটি সময় দেখার বস্তু নয়, এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উন্নত ধাতুবিদ্যা এবং শত বছরের মানব প্রজ্ঞার এক অনন্য নিদর্শন। এর আকাশচুম্বী দামের পেছনে রয়েছে শতভাগ নিখুঁত হওয়ার নিশ্চয়তা এবং সময়ের সাথে মান বৃদ্ধি পাওয়ার আর্থিক নিরাপদ বিনিয়োগ মূল্য।

তথ্যসূত্র (References)

  1. Rolex Official Research & Materials: 904L Steel & Everose Gold Metallurgy Department. rolex.com
  2. Swiss Watchmaking Industry Standards: COSC (Contrôle Officiel Suisse des Chronomètres) Certification Guidelines.
  3. Journal of Horology & Mechanical Engineering: Comparative Analysis of Caliber 4130 and Mechanical Complications.

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ