ইতিহাস

স্বদেশি থেকে মুক্তিযুদ্ধ: ঢাকার ‘সাধনা ঔষধালয়’-এর শতবর্ষী ইতিহাস ও আজকের বাস্তবতা
স্বদেশি থেকে মুক্তিযুদ্ধ

নিউজ ডেস্ক

September 29, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্লেষণ প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার দিননাথ সেন রোডের দুই একর জায়গাজুড়ে এক সময় ধোঁয়া উঠত দেশি আয়ুর্বেদিক ওষুধের কারখানায়। নাম—সাধনা ঔষধালয় (ঢাকা)। স্বদেশি আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় ১৯১৪ সালে রসায়নবিদ যোগেশচন্দ্র ঘোষ যে প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, তা একদিকে যেমন উপমহাদেশজুড়ে ‘দেশি শিল্প’-এর প্রতীক, তেমনি ১৯৭১-এর গণহত্যায় প্রতিষ্ঠাতার প্রাণহানির বেদনাময় দলিল। আজ, আধুনিকায়নের চাপে উৎপাদন কমে এলেও প্রতিষ্ঠানের ‘মানুষকেন্দ্রিক’ ঐতিহ্য—দোকান বন্ধ থাকলেও কর্মীদের বেতন দেওয়া—এখনও আলোচনায়।

স্বদেশি ঢেউ থেকে জন্ম

বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)–পরবর্তী স্বদেশি আন্দোলন দেশি শিল্পে যে জোয়ার তোলে, তার প্রতিফলনেই জন্ম নেয় বেঙ্গল কেমিক্যালসসহ অসংখ্য উদ্যোগ; একই ধারায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সাধনা ঔষধালয়’। প্রতিষ্ঠাতা যোগেশচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে এম.এসসি. (১৯০৮), ভাগলপুর কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯১২-এ জগন্নাথ কলেজে যোগ দেন; ১৯১৪-তে ঢাকায় আয়ুর্বেদিক ওষুধের প্রথম আধুনিক ল্যাব হিসেবে ‘সাধনা’ চালু করেন।

বিস্তার, পণ্য, রপ্তানি

‘সাধনা’ দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে—ড্যাশামূলারিষ্ঠ, চ্যবনপ্রাশ, ‘সারিবাদি সালসা’, বিউটি ক্রিমসহ নানা পণ্য বাজার দখল করে। ব্রিটিশ-উত্তর ভারত, আসাম-বিহারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দোকান/এজেন্সি, এমনকি আফ্রিকা, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকাতেও রপ্তানির চিহ্ন মেলে—ঐতিহাসিক প্রতিবেদনগুলোতে এই বিস্তারের বর্ণনা আছে।

মুক্তিযুদ্ধে রক্তাক্ত অধ্যায়

ঢাকার গেন্ডারিয়ার ৭১ নম্বর দিননাথ সেন রোডে অবস্থিত কারখানায় ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল পাকিস্তান বাহিনী হামলা চালায়; ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার’ অভিযোগে ৮৪ বছর বয়সী যোগেশচন্দ্রকে তার দপ্তরেই গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি ১৯৬৪-র দাঙ্গার সময় বহু প্রতিবেশীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন—বাংলাপিডিয়ার নথিতে এ তথ্য সংরক্ষিত। ১৯৯১-র ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তার নামে স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশিত হয়।

যুদ্ধোত্তর পুনর্জাগরণ ও পারিবারিক তত্ত্বাবধান

স্বাধীনতার পর পুত্র ডা. নরেশচন্দ্র ঘোষ ‘সাধনা’কে আবার চালু করেন; পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠাতার নাতনিরা (পৌত্রীরা) কলকাতা থেকে এসে তত্ত্বাবধান করেন—২০১৪ সালের ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রিপোর্টে এমনই চিত্র। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠাতার পৌত্রী নীলা ঘোষ দূর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছেন—পরিবহন ব্যয়ের জটিলতায় আন্তর্জাতিক রপ্তানি প্রায় বন্ধ।

‘মানুষকেন্দ্রিক’ ঐতিহ্য: দোকান বন্ধ, তবু বেতন

২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০১২ পর্যন্ত সরকারি জিএমপি (GMP) মানদণ্ডে আধুনিকায়নের প্রয়োজনে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মীদের বেতন চলেছে—ম্যানেজমেন্টের সাক্ষ্যভিত্তিক এই তথ্য ২০২০-এর একাধিক অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে মেলে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তিরিশসহ ভারতজুড়ে কখনও দেড়শোর কাছাকাছি দোকানের উল্লেখও আছে; তবে আজ বহু দোকান বছরের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।

মূল্যনীতি ও উত্তরাধিকার সংকট

পুরোনো গ্রাহকশ্রেণির জন্য ‘কম দামে’ ওষুধ রাখার প্রবণতা, জমি-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা—এসব কারণেই ব্যবসা সঙ্কুচিত হয়েছে বলে মাঠরিপোর্টগুলো ইঙ্গিত করে। একাধিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠাতার পৌত্রী শীলা ঘোষ-এর ‘কম মুনাফায়ও মানুষের পাশে’ থাকার অবস্থানের কথা এসেছে।

কেন আজও ‘সাধনা’ গুরুত্বপূর্ণ

  • ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার: স্বদেশি শিল্পায়নে ঢাকার অবদান—বেসরকারি উদ্যোগে দেশি ওষুধশিল্পের আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন।
  • সামাজিক প্রতিশ্রুতি: আর্থিক মন্দায়ও কর্মীদের পাশে থাকার নজির—বাংলাদেশ-ভারতজুড়ে অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত।
  • শহর-ইতিহাসের অংশ: গেন্ডারিয়ার পরিচয়ের সঙ্গে ‘সাধনা’ আজও জড়িয়ে আছে; ঐতিহ্যবাহী প্রাচীরলেখা ও কারখানা-প্রাঙ্গণ স্থানীয় ইতিহাসচর্চার উপাদান।

বিশ্লেষণ

সাধনা ঔষধালয় দেখায়—দেশি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান (পি.সি. রায়-এর প্রভাবিত ধারায়) ও উদ্যোক্তা-মনোভাব একত্র হলে ঢাকায়ও বিশ্ববাজারের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়া যায়। আজকের চ্যালেঞ্জ তিনটি: (১) পূর্ণ জিএমপি মানদণ্ডে আধুনিকায়ন, (২) উত্তরাধিকার-শাসন ও পেশাদার ম্যানেজমেন্ট, (৩) বাজার-বহুমুখীকরণ—দেশে ই-কমার্স ও প্রতিবেশী বাজারে সীমিত রপ্তানির রূপরেখা। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেরিটেজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করলে (রাষ্ট্র/স্থানীয় সরকার) সংরক্ষণ ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সূত্র

  1. Banglapedia – Ghosh, Jogesh Chandra (এন্ট্রি: ঠিকানা, শিক্ষা, ১৯৭১-এর ৪ এপ্রিল হত্যাকাণ্ড, ১৯৯১-এর ডাকটিকিট)।
  2. The Daily Star (2014): “The Science of Life” (যুদ্ধোত্তর পুনরুজ্জীবন, নাতনিদের তত্ত্বাবধান, কারখানার ভেতরের চিত্র)।
  3. JagoNews24 (2020): “হাল ধরার হাত নেই, হারিয়ে যাচ্ছে ‘সাধনা’” (২০০৮-২০১২ জিএমপি-জনিত বিরতি, তবু বেতন; ভারতজুড়ে দোকানসংখ্যা)।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাইবার

নিউজ ডেস্ক

August 10, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদন — যুক্তরাজ্যভিত্তিক ই-গভর্ন্যান্স একাডেমি (e-Governance Academy Foundation) কর্তৃক প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সূচকে (National Cyber Security Index – NCSI) ইসরাইল, সাইপ্রাস ও কানাডার মতো প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ৩২তম অবস্থানে উঠে এসেছে। সার্কভুক্ত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটিই শীর্ষ অবস্থান।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক হ্যাকিং প্রযুক্তির দেশ ইসরাইল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই সূচকে কীভাবে এগিয়ে গেল? এর নেপথ্য কারণ, নতুন প্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য সাইবার আইনি প্রতিকার পাওয়ার উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. সাইবার সুরক্ষায় ইসরাইলের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ: আসল কারণসমূহ

সাধারণ মানুষের ধারণা হতে পারে যে সাইবার সুরক্ষায় এগিয়ে থাকার অর্থ হলো বাংলাদেশের হ্যাকিং বা আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বেশি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। NCSI সূচকটি মূলত কোনো দেশের বেসামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার প্রস্তুতি মূল্যায়ন করে।

                  [ NCSI মূল্যায়ন পদ্ধতি (Civilian Preparedness) ]
                                         │
      ┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
      ▼                                  ▼                                  ▼
[ বেসামরিক আইনি কাঠামো ]        [ জাতীয় সাইবার ট্র্যাকিং ও ড্রিল ]     [ আন্তর্জাতিক সাইবার সহায়তা ]
 (BGD e-Gov CIRT-এর ভূমিকা)       (নিয়মিত সাইবার ড্রিল অনুশীলন)       (ITU নির্দেশিকা বাস্তবায়ন)

ক. সূচকের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (NCSI Criteria)

NCSI সূচকটি কোনো দেশের সাইবার আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা (যেমন: পেগাসাস স্পাইওয়্যার বা স্পাই গোয়েন্দা প্রযুক্তি) পরিমাপ করে না। এটি দেখে—একটি দেশ তার নিজস্ব সরকারি ডেটা, স্পর্শকাতর অবকাঠামো এবং জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে কী ধরনের আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে।

খ. BGD e-Gov CIRT ও নিয়মিত সাইবার ড্রিল

বাংলাদেশে সরকারি প্রযুক্তি শাখা বিজিডি ই-গভ সার্ট (BGD e-Gov CIRT) সরকারি ডেটাবেজ সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত ‘সাইবার ড্রিল’ অনুশীলন এবং ২৪/৭ মনিটরিং পরিচালনা করে। ১২টি মূল মানদণ্ডের প্রতিটিতে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে বাংলাদেশে মোট পয়েন্ট ৬৭.৫৩ অর্জন করেছে।

গ. ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও ইসরাইলের সীমাবদ্ধতা

  • নিয়মিত আক্রমণ ও লিক: ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার কারণে বিশ্বজুড়ে সাইবার হ্যাকার (Hacktivist) গ্রুপগুলোর প্রধান টার্গেট থাকে ইসরাইল। ফলে তাদের সাইবার স্পেসে ডেটা লিক বা সার্ভিস বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ঘটে, যা সূচকে তাদের নেতিবাচক রেটিং দেয়।
  • সামরিক বনাম বেসামরিক মনোযোগ: ইসরাইল তাদের শক্তি মূলত সামরিক গোয়েন্দা শাখা (যেমন: Unit 8200)-তে ব্যয় করে। ফলে তাদের সাধারণ সরকারি পোর্টালগুলোর প্রতিরক্ষামূলক স্কোরে ঘাটতি তৈরি হয়।

২. ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’: মূল সংস্কার ও ধারাসমূহ

পূর্ববর্তী বিতর্কিত ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’ (CSA) এবং ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ (DSA)-এর ব্যাপক সংস্কার ঘটিয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের মূল দর্শন হলো—স্বাধীন মতপ্রকাশকে সুরক্ষিত রাখা এবং কেবল প্রকৃত সাইবার অপরাধ দমন করা।

                            [ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ ]
                                         │
      ┌──────────────────────────────────┴──────────────────────────────────┐
      ▼                                                                     ▼
[ ৯টি বিতর্কিত ধারা সম্পূর্ণ বাতিল ]                                [ বলবৎ থাকা সাইবার অপরাধসমূহ ]
• মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক সমালোচনা                                      • ধারা ১৭: গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় অনুপ্রবেশ
• মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় প্রতীক অবমাননার ধারা                           • ধারা ১৮: কম্পিউটার হ্যাকিং ও ভাইরাস
• অনলাইনে মিথ্যা তথ্য বা মানহানি মামলা                               • ধারা ১৯ ও ২০: ডেটা চুরি ও ডিজিটাল জালিয়াতি

বাতিলকৃত বিষয়াবলী:

  1. স্বাধীন চিন্তার সুরক্ষা: অনলাইনে সরকারের সমালোচনা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা সাংবাদিকতার কারণে ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারের বিধান সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।
  2. অতীতের মামলা রদ: পুরনো আইনের বিতর্কিত ধারায় চলমান সমস্ত তদন্ত ও মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ করা হয়েছে।

জামিন সুবিধা ও পরোয়ানাহীন গ্রেপ্তারে কড়াকড়ি:

নতুন আইনে অধিকাংশ অপরাধকে জামিনযোগ্য করা হয়েছে এবং বিনা পরোয়ানায় পুলিশের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা হ্রাস করে আর্থিক জরিমানাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

৩. ডিজিটাল হয়রানি বা আক্রমণের শিকার হলে আইনি প্রতিকার গাইড

ইন্টারনেটে ছবি বিকৃতি, ব্ল্যাকমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া আইডি হ্যাক বা আর্থিক সাইবার অপরাধের শিকার হলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

ধাপ ১: ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ

  • অপরাধমূলক পোস্ট, মেসেজ বা চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং স্ক্রিন রেকর্ড নিন।
  • অপরাধীর প্রোফাইল বা আপত্তিকর কন্টেন্টের ওয়েব লিংক (URL) কপি করে রাখুন।

ধাপ ২: আইনি সহায়তা সংস্থা ও হেল্পলাইন

সংস্থা / প্ল্যাটফর্মযোগাযোগের মাধ্যমকাজের ক্ষেত্র
জরুরি কল (টোল ফ্রি)১৩২১ অথবা ৯৯৯যেকোনো সাইবার জরুরি অবস্থায় তাৎক্ষণিক নির্দেশনা।
CID সাইবার পুলিশ সেন্টার০১৭৩০৩৩৬৪৩১
(Facebook: Cyber Police Center, CID)
আর্থিক প্রতারণা, হ্যাকিং ও জটিল সাইবার অপরাধ।
DMP সাইবার ক্রাইম বিভাগ০১৭৬৯৬৯১৫২২
(Facebook: Cyber Crime Investigation Division, CTTC)
ফেক আইডি, ব্ল্যাকমেইল ও ব্যক্তিগত আইডি হ্যাক।
Police Cyber Support for Women (PCSW)ইমেইল: cybersupport.women@police.gov.bd
(Facebook: Police Cyber Support for Women – PCSW)
নারীদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল (সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়)।

মূল বক্তব্য

কাগুজে সূচকে বাংলাদেশ ইসরাইলের চেয়ে এগিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে দেশের সাইবার স্পেস সম্পূর্ণ নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা। তবে এটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বেসামরিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো, সচেতনতা ও নীতিগত আইনি সংস্কারে বাংলাদেশ একটি সঠিক ও সময়োপযোগী বিশ্বমানের কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Mac Infinity

নিউজ ডেস্ক

August 9, 2026

শেয়ার করুন

সিঙ্গাপুর, ২০২৬ — দৈনন্দিন কাজ, পেশাগত প্রেজেন্টেশন কিংবা ফ্রিল্যান্সিং—যেকোনো কাজের জন্যই ম্যাকবুক (MacBook) একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিপণ্য। তবে অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে ডিসপ্লে ফেটে যাওয়া, ব্যাকলাইটের গোলযোগ, স্ক্রিনে রঙিন হরিজন্টাল লাইন কিংবা হঠাৎ ব্ল্যাক স্ক্রিন হয়ে যাওয়া অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য অন্যতম প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ। ২০২৬ সালে এসে সিঙ্গাপুরের প্রিমিয়াম সার্ভিসিং মার্কেটে ম্যাকবুক স্ক্রিন প্রতিস্থাপনের খরচ, সঠিক রিপেয়ার সেন্টার বাছাই এবং উন্নত প্রযুক্তির প্যানেল পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন M-Series প্রসেসর (M1, M2, M3 এবং M4) যুক্ত ম্যাকবুকগুলোতে ব্যবহৃত Liquid Retina এবং Liquid Retina XDR (120Hz ProMotion) প্রযুক্তির কারণে অফিশিয়াল ও থার্ড-পার্টি সার্ভিস সেন্টারের খরচে বিশাল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে ম্যাকবুক স্ক্রিন রিপেয়ারের আনুমানিক মূল্য তালিকা (২০২৬)

স্ক্রিন মেরামতের মোট খরচ নির্ভর করে ম্যাকবুকের নির্দিষ্ট মডেল, স্ক্রিনের আকার এবং ডিসপ্লে টেকনোলজির ওপর। নিচে সিঙ্গাপুরের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (SGD – সিঙ্গাপুর ডলার) একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

ম্যাকবুক মডেলের বিভাগস্বাধীন প্রিমিয়াম স্পেশালিস্ট (Mac Infinity)অফিশিয়াল অ্যাপল সার্ভিস সেন্টার (Out-of-Warranty)
MacBook Air (M1, M2, M3 – 13″ & 15″)$280 – $480 SGD$650 – $850 SGD+
MacBook Pro 13″ / 14″ (M1/M2/M3/M4 Series)$350 – $650 SGD$800 – $1,100 SGD+
MacBook Pro 15″ / 16″ (Pro & Max Series)$450 – $850 SGD$1,000 – $1,400 SGD+
Legacy Models (Intel Processors)$200 – $380 SGD$500 – $700 SGD+

টেকনিক্যাল নোট: ড্যামেজ যদি কেবল নিচের বর্ডার গ্লাসে (Bezel Baffle Glass) সীমিত থাকে এবং ভেতরের মূল LCD বা OLED প্যানেল অক্ষত থাকে, তবে সম্পূর্ণ ডিসপ্লে না বদলে কেবল গ্লাস স্ট্রিপ পরিবর্তনের মাধ্যমে আরও কম খরচে সমাধান পাওয়া সম্ভব।

অফিশিয়াল অ্যাপল স্টোর বনাম স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সেন্টার: কোনটি বেছে নেবেন?

অ্যাপলের অফিশিয়াল সার্ভিস সেন্টারে (যেমন: Orchard Road, Marina Bay Sands বা AASP) ওয়ারেন্টির বাইরে স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্ট করানো বেশ ব্যয়বহুল। এর প্রধান কারণ অ্যাপল সাধারণত কেবল ডিসপ্লে প্যানেল না বদলে পুরো টপ-কেস অ্যাসেম্বলি একসঙ্গে পরিবর্তন করে।

অন্যদিকে, Mac Infinity-এর মতো সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন অ্যাপল সার্ভিস সেন্টারে মেরামত করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা ৩টি মূল সুবিধা পাচ্ছেন:

  1. ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত বাজেট সাশ্রয়: মূল উপাদানের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সার্ভিস প্রদান।
  2. এক্সপ্রেস সেম-ডে সার্ভিস (Same-Day Repair): অ্যাপল স্টোরে ৩ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হলেও স্বাধীন সেন্টারে মাত্র ১ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্ট সম্পন্ন হয়।
  3. শতভাগ ডেটা সুরক্ষা (Zero Data Loss): অফিশিয়াল প্রক্রিয়ায় অনেক সময় মাদারবোর্ড রিসেট বা ড্রাইভ ফরম্যাট করার বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে স্পেশালিস্ট সেন্টারে সরাসরি ফিজিক্যাল স্ক্রিন হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করায় ড্রাইভের ডাটা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।

কেন সিঙ্গাপুরে স্ক্রিন রিপেয়ারের জন্য ‘Mac Infinity’ সেরা পছন্দ?

সিঙ্গাপুরের আইটি হাব যেমন—মিলেনিয়া ওয়াক (Millenia Walk), ফু নান (Funan) এবং ওয়েস্টগেটে (Westgate) অবস্থিত Mac Infinity অ্যাপল ডিভাইস মেরামতের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত নাম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

  • গ্রেড-এ ও অরিজিনাল কোয়ালিটি পার্টস: ডিসপ্লের কালার একুরেসি, ট্রু টোন (True Tone) সমর্থন এবং ব্রাইটনেস লেভেল মূল ডিসপ্লের মতোই বজায় থাকে।
  • অ্যাডভান্সড মাইক্রো-সোল্ডারিং ও সেন্সর ক্যালিব্রেশন: কেবল পার্টস বদলানো নয়, প্রয়োজনে ব্যাকলাইট ফ্লেক্স ক্যাবল বা ডিসপ্লে বোর্ডের জটিল গোলযোগও তারা সোল্ডারিংয়ের মাধ্যমে সমাধান করে।
  • স্বচ্ছ সার্ভিস চুক্তি ও ওয়ারেন্টি: কাজ শুরুর আগেই গ্রাহককে চূড়ান্ত খরচের এস্টিমেট দেওয়া হয় এবং মেরামতকৃত পার্টসের ওপর সুনির্দিষ্ট সার্ভিস ওয়ারেন্টি প্রদান করা হয়।

ডিভাইস সার্ভিসে দেওয়ার আগে জরুরি ৩টি পদক্ষেপ

  1. Find My Mac নিষ্ক্রিয় করা: সার্ভিসিং প্রক্রিয়ার সুবিধার জন্য অ্যাপল আইডি থেকে Find My অপশনটি সাময়িকভাবে অফ করে নিন।
  2. মডেল নম্বর সংরক্ষণ: ডিভাইসের নিচে খোদাই করা মডেল নম্বরটি (যেমন: A2337, A2442, A2992 ইত্যাদি) টেকনিশিয়ানকে জানালে নির্ভুল বাজেট পাওয়া যায়।
  3. গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের নিরাপত্তা: যদিও স্ক্রিন বদলে ডাটা মোছার কোনো ঝুঁকি নেই, তবুও সুরক্ষার স্বার্থে টাইমল্যাপস বা টাইম মেশিনে ব্যাকআপ রাখা ভালো।

আপনার ম্যাকবুকের ডিসপ্লে সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি সমস্যার জন্য সরাসরি ভিজিট করতে পারেন Mac Infinity Singapore-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে।

৫জি প্রযুক্তি

নিউজ ডেস্ক

August 9, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদন — আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। ১৯৬০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের আবহে শুরু হওয়া একটি সামরিক গবেষণা প্রকল্প থেকে আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হাই-স্পিড ৫জি নেটওয়ার্ক—ইন্টারনেটের এই রূপান্তর মানব ইতিহাসের অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের উৎপত্তি, বিকাশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তির বর্তমান চিত্র এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ইতিহাস

ইন্টারনেটের উদ্ভব কোনো একক বিজ্ঞানীর হাত ধরে হয়নি; বরং এটি বহু দশক ধরে বিজ্ঞানের ধারাবাহিক গবেষণার ফল।

[ কোল্ড ওয়ার / ARPANET (১৯৬৯) ] ──► [ TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪) ] ──► [ WWW ও পাবলিক ইন্টারনেট (১৯৯১) ]

ক. আর্পানেট (ARPANET): বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক

  • উৎপত্তি: ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ ‘Advanced Research Projects Agency’ (ARPA) স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পারমাণবিক হামলায় অক্ষত থাকতে পারে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ARPANET তৈরি করে।
  • প্রথম বার্তা (২৯ অক্টোবর, ১৯৬৯): আর্পানেটের মাধ্যমে প্রথম বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বার্তাটি ছিল “LOGIN”, তবে “LO” লেখার পরই সিস্টেম ক্র্যাশ করে। এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক বার্তা।
  • প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching): পল বারান ও লিওনার্ড ক্লেইনরক উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন রুটে গন্তব্যে পাঠানো শুরু হয়।

খ. ইন্টারনেটের জনক ও WWW-এর উন্মোচন

  • TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪): ভিন্টন সার্ফ (Vint Cerf) ও বব কান (Bob Kahn) আবিষ্কার করেন TCP/IP প্রোটোকল, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে একত্রিত করার ভাষা জোগায়। তাদের ‘ইন্টারনেটের জনক’ বলা হয়।
  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (১৯৮৯-১৯৯১): স্যার টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) উদ্ভাবন করেন WWW (World Wide Web) এবং HTML ল্যাঙ্গুয়েজ। ১৯৯১ সালে ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করা হয়।

২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে রূপান্তর শুরু হয় ধাপে ধাপে:

সময়কালপ্রযুক্তির ধরনবিবরণ ও মাইলফলক
১৯৯২ – ১৯৯৪অফলাইন ইমেইল (UUCP)‘ড্রিক আইসিটি’ প্রথম অফলাইন ইমেইল চালু করে। মেসেজ জমা রেখে দিনে কয়েকবার বিদেশের সার্ভারে ডায়াল-আপ করা হতো।
৬ জুন, ১৯৯৬অনলাইন ইন্টারনেটISN (Information Services Network)-এর মাধ্যমে দেশে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু হয় (bangla.net)। ভি-স্যাটভিত্তিক ৬ কেবিপিএস গতির ডায়াল-আপ কানেকশনে মিনিটে খরচ হতো ৩ টাকা।
২০০৬ (মে)সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 4)বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার যুগে প্রবেশ করে।

৩. বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল ও ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা (২০২৬ হালনাগাদ)

বর্তমানে দেশের ক্রমবর্ধমান ডেটা চাহিদা মেটাতে এবং একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে:

                          [ বাংলাদেশের মোট ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ]
                                            │
      ┌─────────────────────────────────────┼─────────────────────────────────────┐
      ▼                                     ▼                                     ▼
[ SEA-ME-WE 6 (সরকারি) ]            [ BPCS Consortium (বেসরকারি) ]               [ বাঘা-১ (Bagha-1) ]
(অতিরিক্ত ১৩.২ Tbps যুক্ত)           (কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর রুটে ৫১ Tbps)             (ব্যাকআপ ও সাইবার নিরাপত্তা)
  1. তৃতীয় সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 6): সরকারি প্রতিষ্ঠান BSCCL-এর অধীনে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত এই ক্যাবলটি কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের সাথে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশে ১৩.২ টিবিপিএস (Tbps) নতুন ব্যান্ডউইথ যুক্ত করবে।
  2. প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS Consortium): নোኪያ (Nokia)-র ইকুইপমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি কনসোর্টিয়াম সিঙ্গাপুরের সাথে সরাসরি নিজস্ব ক্যাবল বসাচ্ছে। এর ফলে দেশে ৫১ টিবিপিএস (Tbps) সক্ষমতা বাড়বে এবং লেটেন্সি কমে মাত্র ৩৩ মিলি-সেকেন্ডে নামবে।
  3. বাঘা-১ (Bagha-1): সিডিনেট (CdNet) ও মার্কিন USTDA-এর অর্থায়নে অতিরিক্ত সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ চলছে, যা দেশের সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ নিশ্চিত করবে।

৪. বাংলাদেশে ৫জি (5G) প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে:

  • বাণিজ্যিক কভারেজ: গ্রামীণফোন ও রবি বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৪৪০টিরও বেশি নির্দিষ্ট লোকেশনে (বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও বাণিজ্যিক এলাকা) ৫জি সেবা সচল করেছে। টেলিটকও তাদের অবকাঠামো প্রস্তুত করছে।
  • নতুন স্পেকট্রাম পরিকল্পনা: বিটিআরসি (BTRC) ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ কভারেজের জন্য ৩.৫ গিগাহার্টজ (GHz) ব্যান্ডের নতুন তরঙ্গ বরাদ্দের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে।

৫জি বিস্তারের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রবর্তমান চিত্র ও বাধা
৫জি হ্যান্ডসেটের অভাবস্থানীয় বাজারে উৎপাদিত ফোনের মাত্র ৪.৭৪% ৫জি সমর্থিত। এখনও ৬১% ফিচার ফোন এবং ৩৪% ৪জি হ্যান্ডসেট ব্যবহার হচ্ছে।
শিল্প খাতের ইকোসিস্টেমস্মার্ট পোর্ট, কৃষি ও অটোমেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার গড়ে উঠতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ সচল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ৫০,০০০ জিবিপিএস (Gbps) ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের খরচ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত শক্ত হবে।

১. আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের ইতিহাস ও আর্পানেট (ARPANET)

  • আর্পানেট ও প্রথম বার্তার ইতিহাস:
    • উৎস: US Defense Advanced Research Projects Agency (DARPA)UCLA Computer Science Department Archive
    • তথ্য: ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (UCLA)-র অধ্যাপক লিওনার্ড ক্লেইনরক (Leonard Kleinrock) ও তার দল প্রথম “LOGIN” বার্তাটি পাঠাতে গিয়ে “LO” লেখার পর সিস্টেম ক্র্যাশ করে।
  • TCP/IP ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW):
    • উৎস: Internet Hall of Fame এবং CERN (European Organization for Nuclear Research)
    • তথ্য: ১৯৭৪ সালে ভিন্টন সার্ফ ও বব কান কর্তৃক TCP/IP প্রোটোকল আবিষ্কার এবং ১৯৮৯-১৯৯১ সালে স্যার টিম বার্নার্স-লি কর্তৃক WWW আবিষ্কারের মাধ্যমে পাবলিক ইন্টারনেট উন্মুক্ত হয়।

🇧🇩 ২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

  • প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট ও ISN (১৯৯৬):
    • উৎস: বাংলাদেশ টেলিকম বা রেজিস্টার্ড আইএসপি আর্কাইভ এবং তৎকালীন সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রযুক্তি আর্কাইভ।
    • তথ্য: ১৯৯৬ সালের ৬ জুন ‘ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক’ (ISN)-এর মাধ্যমে bangla.net ডোমেইনে ভি-স্যাট (VSAT) প্রযুক্তিতে ডায়াল-আপ ৬ কেবিপিএস ইন্টারনেটের প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়।
  • প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE 4 (২০০৬):
    • উৎস: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (BSCCL) প্রেস রিলিজ।
    • তথ্য: ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফাইবার অপটিক ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন চালু করে।

📡 ৩. বাংলাদেশে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তি (২০২৬)

  • SEA-ME-WE 6 ও বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS):
    • উৎস: BSCCL অফিসিয়াল রিপোর্ট এবং BTRC (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) বিজ্ঞাপিত নীতিমালা ও নোটিফিকেশন।
    • তথ্য: সি-মি-উই ৬ ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যান্ডউইথ সংযোজন এবং বেসরকারী খাতের বিপিসিএস কনসোর্টিয়াম ও নোকিয়ার (Nokia) মধ্যে অবকাঠামোগত চুক্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
  • বাংলাদেশে ৫জি স্পেকট্রাম ও কভারেজ রিপোর্ট:
    • উৎস: BTRC Annual/Periodic Reports এবং মোবাইল অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক)-এর অফিসিয়াল নেটওয়ার্ক আপডেট।
    • তথ্য: দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহর ও নির্দিষ্ট হটস্পটে ৫জি কভারেজ প্রদান এবং বিটিআরসি কর্তৃক হ্যান্ডসেট উৎপাদন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান (যেখানে দেশের মোট চাহিদার অধিকাংশ এখনো ৪জি ও ফিচার ফোন নির্ভর)।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ