শিল্পী
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আজম খান:
বাংলাদেশের সংগীত জগতের এক অবিস্মরণীয় নাম আজম খান। তাকে বলা হয় বাংলাদেশের পপসম্রাট, কারণ তিনি আধুনিক বাংলা গানের ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আজম খানের সঙ্গীতশৈলী ও ব্যান্ডের মাধ্যমে উচ্চারণ ব্যান্ডের মাধ্যমে পপ এবং রক সংগীতকে বাংলা সংগীতের মূলধারায় নিয়ে আসেন।
আজম খানের গানের মধ্যে ছিল যুব সমাজের অস্থিরতা, স্বাধীনতা ও সামগ্রিক সমাজের প্রতিফলন। তার গানের সুর ও কথা, এমনকি তার কণ্ঠের শক্তি, সবকিছুই তাকে সঙ্গীত প্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে দিয়েছে। আজম খানের গানের মাঝে একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা ছিল যা বাংলাদেশে সংগীত সংস্কৃতির পরিবর্তন এনেছিল।
উচ্চারণ ব্যান্ড:
আজম খানের উচ্চারণ ব্যান্ড ছিল বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক পপ ব্যান্ড যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীত তৈরি করেছিল। ব্যান্ডটির সদস্যরা ছিলেন বাবু, ইশতিয়াক এবং হাবলু, যারা একসাথে বাংলা সঙ্গীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। এই ব্যান্ডের সংগীত অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। তাদের গানগুলো ছিল আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতের মিশ্রণ, যা দেশের নানা প্রান্তে যুবক শ্রেণীর মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।
মহান মুহূর্ত:
১৯৭৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তোলা একটি ঐতিহাসিক ছবি আজম খান এবং তার ব্যান্ড সদস্যদের নিয়ে। এই ছবিটি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বিনু কর্তৃক তোলা হয়, যেখানে আজম খান একদম বাম পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, এবং তার পাশেই রয়েছেন বাবু, ইশতিয়াক এবং হাবলু। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ এই ছবি শুধু সংগীত জগতের নয়, একটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজম খান এবং তার ব্যান্ডের গানগুলি শুধুমাত্র সংগীত প্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় ছিল না, বরং তারা সমাজে বিরাজমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন। তার গানের কথায় দেশাত্মবোধ, স্বাধীনতা, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধের কথা উঠে আসে, যা আজও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
ব্যান্ডের গানের জনপ্রিয়তা:
উচ্চারণ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম ছিল “বসন্ত বিলাপ”, “এই দেশের মাটি”, “খোকা”, “সকাল বেলা”, “রূপবান” এবং আরও অনেক গানের মেলডি ও লিরিকস ছিল, যা যুবসমাজের মধ্যে প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।
আজম খানের অবদান:
আজম খান শুধু সঙ্গীত জগতেই অবদান রাখেননি, বরং সমাজের বিভিন্ন দিককেও নিজের সঙ্গীতের মাধ্যমে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। তার গানের মাধ্যমে তিনি মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার মুল্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করেছিলেন।
সূত্র:
- বাংলাদেশের পপ সংগীত: এক নজরে
- আজম খানের জীবনী ও তার সংগীত জীবন
- উচ্চারণ ব্যান্ড ও বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাস
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আমাদের সমাজে যুগ যুগ ধরে একটা গৎবাঁধা ধারণা প্রচলিত আছে— “আগে পড়ালেখা শেষ করো, ভালো সার্টিফিকেট নাও, তারপর ভালো চাকরি পাবে।” কিন্তু বর্তমান যুগের বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলুন সাবিলা নূর এবং সাকিব আল হাসানের মতো সফল ব্যক্তিত্বদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক:
সাবিলা নূর (Sabila Nur): সাবিলা নূর তাঁর অভিনয় প্রতিভাকে আঁকড়ে না ধরে কেবল গতানুগতিক পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হয়তো সাধারণ দশজনের মতো একটি চাকরি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। তবে তিনি তাঁর প্যাশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং পাশাপাশি পড়াশোনাতেও নিজেকে অনন্য প্রমাণ করেছেন।

সাবিলা নূরের শিক্ষাজীবন ও অন্যান্য অর্জন:
অনন্য ফলাফল: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
গৌরবোজ্জ্বল সিজিপিএ: তিনি সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে অবিশ্বাস্য ৩.৯৭ পয়েন্ট অর্জন করেছেন।
স্বীকৃতি: পড়াশোনায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘ড. আনোয়ারুল আবেদিন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।
সামঞ্জস্য রক্ষা: তিনি শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করে পড়াশোনা ও অভিনয়—দুটোতেই অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
তাঁর এই জীবন থেকে এটি স্পষ্ট যে, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভালো লাগা বা প্যাশনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে জীবনের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলা সম্ভব।
সাবিলা নূরের ক্যারিয়ারের এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা এবং তাঁর অভিনয়ের দক্ষতার পেছনের গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে:
সাকিব আল হাসান (Sakib Al-Hasan): সাকিব আল হাসান যদি ক্রিকেটের চেয়ে শুধু গতানুগতিক পড়াশোনাকে প্রাধান্য দিতেন, তবে বাংলাদেশ আজ একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে পেত না। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর একাগ্রতাই তাঁকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

সাকিব আল হাসানের শিক্ষাজীবন ও সাফল্যের কিছু মূল দিক:
দীর্ঘ ১৪ বছরের লড়াই: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তীব্র ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা পুরোপুরি ছেড়ে দেননি এবং দীর্ঘ ১৪ বছর পর বিবিএ (BBA) সম্পন্ন করেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB): এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি তাঁর গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন।
সমাবর্তনে অংশ গ্রহণ: ২০২৩ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম সমাবর্তনে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।
ক্যারিয়ার ও স্কিলের ভারসাম্য: খেলার মাঠে শতভাগ মনোযোগ ধরে রেখেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সদিচ্ছা থাকলে দুই ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
সাকিবের এই যাত্রা তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা—নিজের মূল প্রতিভা বা স্কিলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েও কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য পূরণ করা যায়।
এই দুটি উদাহরণ প্রমাণ করে যে, টাকা বা ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বেছে নেওয়া বর্তমান যুগে একটি ভুল ইনভেস্টমেন্ট (Bad Investment)। কারণ, বর্তমান গ্লোবাল মার্কেট চলে স্কিল বা দক্ষতার ওপর, কোনো কাগজের সার্টিফিকেটের ওপর নয়।
পড়ালেখা কি তবে প্রয়োজন নেই?
পড়াশোনা অবশ্যই প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। সাবিলা নূর বা সাকিব আল হাসানের উদাহরণ এটি প্রমাণ করে না যে পড়ালেখা অপ্রয়োজনীয়, বরং এটি দেখায় যে পড়াশোনা ও মেধার সঠিক সমন্বয় কীভাবে মানুষকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যায়।

পড়াশোনা কেন প্রয়োজন এবং এটি কীভাবে আমাদের সাহায্য করে, তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনার বিকাশ
- পড়াশোনা মানুষের জ্ঞান ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করে।
- এটি সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়।
- যেকোনো পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক সক্ষমতা তৈরি করে।
২. সংকটে ব্যাকআপ বা বিকল্প পথ
- মানুষের ক্যারিয়ারে যেকোনো সময় চোট, দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় আসতে পারে।
- এমন পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একটি শক্তিশালী বিকল্প বা ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।
- সাকিব বা সাবিলা উভয়েই কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এই দূরদর্শিতা থেকেই।
৩. সামাজিক মর্যাদা ও নেটওয়ার্কিং
- উচ্চশিক্ষা সমাজে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
- বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন মানুষকে বিভিন্ন গুণী মানুষের সাথে পরিচিত হতে এবং বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সাহায্য করে।
৪. মেধা ও প্রতিভাকে শাণিত করা
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে আরও সুশৃঙ্খল ও পেশাদার রূপ দিতে সাহায্য করে।
- যেমন, সাবিলা নূরের ইংরেজি সাহিত্যের পড়াশোনা তাঁর চরিত্রের গভীরতা বুঝতে এবং অভিনয়ে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, পড়ালেখা হলো একটি শক্তিশালী ভিত্তি। শুধু পড়ালেখা করে জবের পেছনে না ছুটে, শিক্ষার আলো বুকে নিয়ে নিজের ভেতরের বিশেষ প্রতিভা বা স্কিলকে (যেমন: খেলাধুলা, অভিনয়, ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যবসা) জাগিয়ে তোলাই হলো আসল সফলতা।
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের করণীয়: পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা বা স্কিল অর্জন করা। শুধু সনাতন সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করে এখনকার প্রতিযোগিতামূলক জব মার্কেটে টিকে থাকা কঠিন।

পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনে বর্তমান যুগে একজন শিক্ষার্থীর করণীয় পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ডিমান্ডিং টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতা অর্জন
- যেকোনো একটি বিষয় বেছে নেওয়া: নিজের আগ্রহ অনুযায়ী গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিটিক্স বা কন্টেন্ট রাইটিং শিখুন।
- অনলাইন রিসোর্সের ব্যবহার: ইউটিউব, কোর্সেরা, উডেমি বা বিভিন্ন দেশীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে ফ্রি বা পেইড কোর্স করে নিজেকে দক্ষ করুন।
- এআই (AI) টুলের ব্যবহার: চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নির মতো আধুনিক এআই টুলগুলো কীভাবে নিজের কাজে ব্যবহার করতে হয় তা শিখুন। []
২. একাডেমিক পড়াশোনায় ভারসাম্য বজায় রাখা
- সিজিপিএ ঠিক রাখা: পড়াশোনা একদম ছেড়ে দেওয়া যাবে না; অন্তত একটি স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ (যেমন ৩.০০+) বজায় রাখুন।
- সময় ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিনের রুটিনে পড়াশোনা এবং স্কিল চর্চার জন্য নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে নিন।
৩. প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ দক্ষতা
- লিঙ্কডইন (LinkedIn) প্রোফাইল: ছাত্রাবস্থাতেই একটি প্রফেশনাল লিঙ্কডইন প্রোফাইল খুলুন এবং নিজের কাজের স্যাম্পল সেখানে শেয়ার করুন।
- যোগাযোগের ভাষা: বাংলা লেখার পাশাপাশি ইংরেজিতে কথা বলা এবং লেখার দক্ষতা (Communication Skill) দারুণভাবে বাড়াতে হবে।
৪. ফ্রিল্যান্সিং বা পার্ট-টাইম জব
- মার্কেটপ্লেসে কাজ: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আপওয়ার্ক (Upwork) বা ফাইভারের (Fiverr) মতো প্ল্যাটফর্মে ছোটখাটো কাজ বা ইন্টার্নশিপ করার চেষ্টা করুন।
- বাস্তব অভিজ্ঞতা: এটি পড়াশোনা শেষ করার আগেই আপনাকে কর্পোরেট বা কাজের দুনিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেবে।
৫. মেন্টর এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব: বিতর্ক ক্লাব, বিজনেস ক্লাব বা আইটি ক্লাবের সাথে যুক্ত হোন। এটি লিডারশিপ স্কিল বাড়ায়।
- মেন্টর খোঁজা: নিজের সেক্টরের অভিজ্ঞ বড় ভাই বা বিশেষজ্ঞদের অনুসরণ করুন এবং তাঁদের থেকে পরামর্শ নিন।
পড়াশোনা আপনাকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেবে, আর আপনার বাড়তি স্কিল বা দক্ষতা আপনাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
এক নজরে সার্টিফিকেট বনাম প্রাকটিক্যাল স্কিল ম্যাট্রিক্স

সার্টিফিকেট এবং প্রাকটিক্যাল স্কিল (ব্যবহারিক দক্ষতা)—দুটোরই ক্যারিয়ারে নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। নিচে একটি তুলনামূলক ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমে এক নজরে এদের পার্থক্য ও গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
| পরিমাপক (Criteria) | প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট (Degree/Certificate) | প্রাকটিক্যাল স্কিল (Practical Skill) |
|---|---|---|
| মূল সংজ্ঞা | প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পরীক্ষা পাসের প্রমাণপত্র। | বাস্তবে কোনো কাজ নিখুঁতভাবে করার যোগ্যতা। |
| ভূমিকা | চাকরির ইন্টারভিউয়ের দরজা খোলার চাবিকাঠি। | চাকরিতে টিকে থাকা এবং প্রমোশন পাওয়ার মূল হাতিয়ার। |
| অর্জনের মাধ্যম | স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় (দীর্ঘমেয়াদি)। | কোর্স, ইন্টার্নশিপ, ফ্রিল্যান্সিং ও বাস্তব কাজ (স্বল্পমেয়াদি)। |
| মূল্যায়ন পদ্ধতি | সিজিপিএ (CGPA), গ্রেড এবং পরীক্ষার নম্বর। | পোর্টফোলিও, কাজের স্যাম্পল এবং লাইভ ডেমো। |
| স্থায়িত্ব | একবার অর্জন করলে আজীবন অপরিবর্তিত থাকে। | প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হয়। |
| কর্পোরেট ভ্যালু | এন্ট্রি-লেভেল বা ফ্রেশার হিসেবে চাকরিতে ঢোকার সুযোগ বাড়ায়। | দ্রুত ক্যারিয়ার গ্রোথ এবং উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা দেয়। |
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত (The Verdict)
- সার্টিফিকেট হলো আপনার যোগ্যতার প্রাথমিক পরিচয়পত্র, যা আপনাকে লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।
- প্রাকটিক্যাল স্কিল হলো আপনার আসল শক্তি, যা আপনাকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী করে।
বর্তমান যুগের সেরা ফর্মুলা হলো: সার্টিফিকেটের শক্ত ভিত্তি + প্রাকটিক্যাল স্কিলের ধারালো অস্ত্র।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও (SEO) ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ২৫০টিরও বেশি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোতে আমি একটা বিষয় খুব স্পষ্ট দেখেছি— অনেক মাস্টার্স পাস করা তরুণ ২০-৩০ হাজার টাকার একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন, আবার ১৮-২০ বছরের একজন কলেজ পড়ুয়া তরুণ শুধুমাত্র ভালো এসইও বা আইটি স্কিল থাকার কারণে ঘরে বসেই প্রতি মাসে সম্মানজনক অংকের টাকা আয় করছেন। তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। পড়াশোনা অবশ্যই করবেন নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য, কিন্তু ক্যারিয়ার বা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ছাত্রজীবন থেকেই নিজের কোনো একটি দক্ষতাকে (Skill) প্রফেশনাল লেভেলে নিয়ে যেতে হবে।
অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed
সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট ও টিম লিডার
ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিনোদন ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬
বলিউডে সালমান খান কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান। গত তিন দশকে বহু নবাগতকে তিনি যেমন প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি তাঁর বিরাগভাজন হয়ে অনেক জনপ্রিয় তারকাকেও ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত নির্বাসিত হতে হয়েছে। ‘ভাইজান’-এর সাথে পাঙ্গা নেওয়ার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার কিছু কালজয়ী উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. বিবেক ওবেরয়: একটি সংবাদ সম্মেলন ও একটি ক্যারিয়ারের ইতি

সালমান খানের সাথে শত্রুতার তালিকায় সবার উপরে থাকবে বিবেক ওবেরয়-এর নাম। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমে মজে বিবেক ২০০৩ সালে একটি বিস্ফোরক সংবাদ সম্মেলন করেন। যেখানে তিনি সালমানের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকেই বিবেকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে গ্রহণ লাগে। বারবার ক্ষমা চেয়েও আজ পর্যন্ত ভাইজানের ‘গুড বুক’-এ ফিরতে পারেননি তিনি।
২. অরিজিৎ সিং: এক মুহূর্তের রসিকতা ও দীর্ঘস্থায়ী দূরত্ব

পুরস্কার মঞ্চে সালমানের সঞ্চালনা নিয়ে রসিকতা করাটা অরিজিতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। “ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম” বলায় সালমান তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। পরবর্তীতে অরিজিৎ প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বড় পোস্ট দিলেও সালমান তাঁকে ‘সুলতান’ মুভি থেকে বাদ দেন। যদিও অরিজিৎ বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর গায়ক, কিন্তু ভাইজানের সিনেমায় তাঁর প্রবেশাধিকার আজও সীমিত।
৩. সঞ্জয় লীলা বানসালি ও হৃতিক রোশন: ‘গুজারিশ’ বিতর্ক

সঞ্জয় লীলা বানসালি সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিন্তু ‘গুজারিশ’ মুভি নিয়ে সালমানের বিতর্কিত মন্তব্য তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। ছবির অভিনেতা হৃতিক রোশনও এই অপমানে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সালমান বলেছিলেন— “ছবিটি দেখতে কোনো মাছিও যায়নি।” সেই থেকে বানসালি-সালমান জুটিকে আর পর্দায় দেখা যায়নি।
৪. হিমেশ রেশামিয়া: গুরুর অবাধ্য হওয়ার ফল

হিমেশকে বলিউডে ব্রেক দিয়েছিলেন সালমানই। কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাকালীন হিমেশ যখন সালমানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, তখন ভাইজান তাঁর ওপর থেকে হাত তুলে নেন। এরপর হিমেশকে আর বড় কোনো প্রজেক্টে দেখা যায়নি এবং ধীরে ধীরে তিনি গান থেকে দূরে সরে যান।
৫. ঐশ্বরিয়া রাই ও শাহরুখ খান: ‘চালতে চালতে’র সেই কালো রাত

ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সাথে বিচ্ছেদের পর সালমান মারমুখী হয়ে ওঠেন। ‘চালতে চালতে’ মুভির সেটে গিয়ে গোলমাল করায় শাহরুখ খানের সাথেও সালমানের তুমুল ঝগড়া হয়। এর ফলে ঐশ্বরিয়া সিনেমাটি হারান এবং শাহরুখ-সালমান সম্পর্ক দীর্ঘ ৫ বছরের জন্য ‘কোল্ড ওয়ার’-এ রূপ নেয়। যদিও এখন শাহরুখের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ফিরেছে, কিন্তু ঐশ্বরিয়া ও সালমান আজও একে অপরকে এড়িয়ে চলেন।
পরিশেষ
সালমান খান যেমন বড় মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত (বিয়িং হিউম্যান), তেমনি নিজের আত্মসম্মান বা ‘ইগো’র প্রশ্নে তিনি আপোষহীন। তাই তো বলিউডে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে— “ভাইজানকে খ্যাপানোর পরিণতি কখনও সুখকর হয় না।”
তথ্য সংকলনে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ভাইজানের এই ‘পাওয়ার গেম’ নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মত কী? আপনি কি মনে করেন বলিউডে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখাটা সঠিক?
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঢালিউড ইতিহাসের ধূমকেতু, আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের ফ্যাশন আইকন এবং কোটি প্রাণের স্পন্দন চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ওরফে সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি যে উচ্চতা স্পর্শ করেছিলেন, তা গত তিন দশকে আর কেউ করতে পারেনি। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেটগুলো তুলে ধরছি।
১. ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট: হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা

সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এই বিতর্ক ৩০ বছর হতে চললেও এখনো অমীমাংসিত। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী:
- তদন্তের নতুন মোড়: গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৪ মে ২০২৬ তারিখ ধার্য করেছেন।
- আসামিদের অবস্থা: মামলার বাদী (সালমান শাহর পরিবার) অভিযুক্ত ১১ জন আসামির (যার মধ্যে স্ত্রী সামিরা ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই অন্যতম) স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
২. পর্দার পেছনের মানুষ: ইমন থেকে সালমান শাহ
সালমান শাহর চলচ্চিত্রে আসার গল্পটি বেশ নাটকীয়।

- শৈশব ও কৈশোর: ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া ইমনের রক্তে ছিল অভিনয়। তাঁর মাতামহ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম অভিনেতা।
- প্রথম আলোচিত কাজ: ১৯৮৫ সালে হানিফ সংকেতের মিউজিক ভিডিও ‘নামটি ছিল তার অপূর্ব’-তে এক মাদকাসক্ত তরুণের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম নজর কাড়েন।
- নাম পরিবর্তন: ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ করার সময় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান এবং স্ত্রী সামিরার সাথে পরামর্শ করে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সালমান শাহ’।
৩. অসমাপ্ত চলচ্চিত্র ও উত্তরসূরিদের ওপর প্রভাব

১৯৯৬ সালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর সময় বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাজ অসম্পূর্ণ ছিল।
- যেভাবে শেষ হয়েছিল সিনেমাগুলো: সালমানের অকাল প্রয়াণের পর ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ সিনেমায় ডামি ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘শুধু তুমি’ ছবিতে অন্য এক অভিনেতাকে কাস্ট করা হয় এবং ‘প্রেম পিয়াসী’র গল্প আংশিক পরিবর্তন করে সিনেমাগুলো মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
- অনুপ্রেরণার উৎস: বর্তমান সময়ের সুপারস্টার শাকিব খান থেকে শুরু করে হালের সব অভিনেতাই সালমান শাহকে তাঁদের অনুপ্রেরণা হিসেবে মানেন। শাকিব খান একবার জানিয়েছিলেন, তাঁর দেখা প্রথম সিনেমাটি ছিল সালমান শাহ অভিনীত।
৪. কেন তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী? (ইউনিক ফ্যাক্টস)

- বক্স অফিস রেকর্ড: তাঁর অভিনীত ২৭টি চলচ্চিত্রের প্রায় প্রতিটিই ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছিল। ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ এবং ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ঢালিউডের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমার তালিকায় আজও শীর্ষে।
- ফ্যাশন আইকন: আজকের যুগে যা ‘ট্রেন্ড’, সালমান শাহ তা নব্বই দশকেই শুরু করেছিলেন। কানে দুল, চুলে ব্যান্ডেনা, ব্যাক ব্রাশ হেয়ার স্টাইল এবং রঙিন সানগ্লাস দিয়ে তিনি একটি পুরো প্রজন্মকে বদলে দিয়েছিলেন।
- কণ্ঠশিল্পী সালমান: খুব কম মানুষই জানেন যে সালমান শাহ একজন চমৎকার গায়কও ছিলেন। ‘প্রেমযুদ্ধ’ এবং ‘ঋণ শোধ’ সিনেমায় তিনি প্লে-ব্যাক করেছিলেন।
৫. একনজরে পরিসংখ্যান (Quick Facts)
| তথ্য | বিস্তারিত |
| সর্বাধিক জুটি | শাবনূরের সাথে (১৪টি সিনেমা) |
| সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা | বুকের ভেতর আগুন (১৯৯৭ – মরণোত্তর) |
| মৃত্যুর পর আত্মহত্যা | প্রিয় নায়কের শোকে প্রায় ১২ জন তরুণী আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। |
| সর্বশেষ মামলার তারিখ | ১৪ মে ২০২৬ (তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন) |
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: সালমান শাহ কেবল একটি নাম নয়, তিনি ঢালিউডের একটি অধ্যায়। ৩০ বছর পরও যখন তাঁর সিনেমা টেলিভিশনে চলে, তখন মানুষ সব কাজ ফেলে টিভি সেটের সামনে বসে পড়ে। এই ভালোবাসাই প্রমাণ করে যে মহানায়করা মরেও অমর হয়ে থাকেন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



