আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ফিচার ডেস্ক | ১৬ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ঠান্ডা যুদ্ধের (Cold War) ইতিহাসে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের সময়কালকে বলা হয় বৈশ্বিক গোয়েন্দা তৎপরতার সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং জটিল অধ্যায়। এই ১৫ বছরে সোভিয়েত ইউনিয়নের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেজিবি’ (KGB) একদিকে যেমন ওয়াশিংটন থেকে কঙ্গো কিংবা কাবুল পর্যন্ত তাদের গোপন জাল বিস্তার করেছিল, অন্যদিকে তেমনি নিজেদের ঘরের ভেতরের ভাঙন ঠেকাতে লড়েছিল এক চরম অস্তিত্বের লড়াই। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক টকশো এবং অবমুক্ত হওয়া (Declassified) “মিট্রোখিন আর্কাইভ” ও মার্কিন-সোভিয়েত নথিপত্র ফাঁসের জেরে কেজিবির এই অন্ধকার সময়ের নেপথ্য প্রস্তুতি ও নিখুঁত অপারেশনগুলোর চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন করে বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তৈরি করেছে।

১. কেজিবির অভ্যন্তরীণ কাঠামো: ‘ডিরেক্টরেট’ সমাচার

১৯৭৫ সালের পর থেকে কেজিবি তার কার্যপরিধিকে আরও সুনির্দিষ্ট, পেশাদার ও আগ্রাসী করতে কয়েকটি অতি-গোপন ডিরেক্টরেটে বিভক্ত করে কাজ শুরু করে:
- ফার্স্ট চিফ ডিরেক্টরেট (FCD): এটি ছিল কেজিবির সবচেয়ে শক্তিশালী ও এলিট শাখা, যার মূল কাজ ছিল বহির্বিশ্বে গুপ্তচরবৃত্তি (Foreign Espionage) এবং ছদ্মবেশী এজেন্ট বা ‘ইলিজাল এজেন্টস’ (Illegal Agents) নিয়োগ ও পরিচালনা করা।
- ফিফথ ডিরেক্টরেট (Fifth Directorate): ১৯৬৭ সালে গঠিত এই বিশেষ শাখার মূল দায়িত্ব ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে ভিন্নমতাবলম্বী, স্বাধীনচেতা লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং ধর্মীয় প্রচারকদের ওপর কড়া নজরদারি করা এবং যেকোনো বৈপ্লবিক চিন্তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা।
- সিক্সটিন্থ ডিরেক্টরেট (16th Directorate): এটি ছিল সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স বা তারবিহীন যোগাযোগে আড়ি পাতার বিশেষ ডিজিটাল উইং, যা পশ্চিমাদের রেডিও, স্যাটেলাইট ও টেলিফোন যোগাযোগ হ্যাক করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

২. আಂದ್ರোপভ যুগ ও ‘অপারেশন রয়ান’ (RYAN)

১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কেজিবির নেতৃত্বে ছিলেন কুখ্যাত ইউরি আಂದ್ರোপভ। তাঁর আমলেই কেজিবি সোভিয়েত বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধানতম হাতিয়ারে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান সোভিয়েত ইউনিয়নকে “দুষ্ট সাম্রাজ্য” (Evil Empire) হিসেবে ঘোষণা করলে দুই পরাশক্তির ঠান্ডা যুদ্ধ চরম রূপ নেয়।
এরই জবাবে ১৯৮১ সালের মে মাসে আಂದ್ರোপভ শুরু করেন ইতিহাসের বৃহত্তম শান্তিকালীন গোয়েন্দা অপারেশন—“অপারেশন রয়ান” (RYAN)। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকা বা ন্যাটো জোট সোভিয়েতের ওপর কোনো আকস্মিক পারমাণবিক হামলা (Nuclear First Strike) চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, তা আগেভাগে আঁচ করা। কেজিবির হাজার হাজার ছদ্মবেশী এজেন্ট তখন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে দিনরাত নজরদারি বাড়িয়েছিল।
৩. আফগান যুদ্ধ ও ‘অপারেশন স্টর্ম-৩৩৩’

১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের মূল ব্লুপ্রিন্ট ও সামরিক ছক তৈরি করেছিল কেজিবি। কেজিবির বিশেষায়িত কমান্ডো দল ‘আলফা গ্রুপ’ কাবুলের তাজবেগ প্রাসাদে অত্যন্ত গোপনীয় ‘অপারেশন স্টর্ম-৩৩৩’ (Operation Storm-333) পরিচালনা করে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই বিধ্বংসী ও ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অপারেশনে তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট হাফিজুল্লাহ আমিনকে সপরিবারে হত্যা করে সেখানে সোভিয়েতপন্থী বাবরাক কারমালকে ক্ষমতায় বসানো হয়। এই অপারেশনটি কেজিবির নিখুঁত ও নিষ্ঠুর সামরিক সক্ষমতার এক ক্লাসিক উদাহরণ।
৪. মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, ‘অ্যাক্টিভ মেজার্স’ ও তৃতীয় বিশ্বে অনুপ্রবেশ

১৯৮০-এর দশকে কেজিবি সরাসরি সামরিক যুদ্ধের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা “অ্যাক্টিভ মেজার্স” (Active Measures)-কে বেশি প্রাধান্য দেয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা সমাজ ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়া ও অপপ্রচার চালানো।
- অপারেশন ইনফেকশন (Operation Infektion): কেজিবির অন্যতম সফল ডিসইনফরমেশন বা ভুয়া প্রোপাগান্ডা ছিল এটি। ১৯৮৩ সালে ভারতের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে কেজিবি বিশ্বব্যাপী এই ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে ‘এইডস’ (AIDS) ভাইরাস তৈরি করেছে।
- মিট্রোখিন আর্কাইভ ও ফান্ডিং: সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা ভাসিলি মিট্রোখিনের পাচার করা গোপন নথি বা “মিট্রোখিন আর্কাইভ” থেকে জানা যায়, কেজিবি কীভাবে ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর (Third World) শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, আমলা ও নামী সাংবাদিকদের গোপনে বিপুল অর্থায়ন (Funding) করে নিজেদের পক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যবহার করত।
৫. গুগল অ্যানালাইসিস: ২০২৬ সালে কেন এটি আবার আলোচনায়?
গুগল ট্রেন্ডস (Google Trends) এবং গ্লোবাল সার্চ ভলিউম অ্যানালাইসিস করে দেখা গেছে, মে ২০২৬-এ এসে হঠাৎ করেই কেজিবির এই ঐতিহাসিক অধ্যায়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে। সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষ ৩টি ট্রেন্ডিং টপিক হলো:
KGB declassified operations 1975-1990(সম্প্রতি মার্কিন ও রুশ আর্কাইভের কিছু পুরনো গোপন নথি উন্মুক্ত হওয়া নিয়ে অনুসন্ধান)।Mitrokhin Archive Third World Funding(তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে কেজিবির গোপন প্রভাব ও অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে গবেষণা)।Vladimir Putin Dresden 1989(১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের সময় পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে তরুণ কেজিবি কর্মকর্তা হিসেবে পুতিনের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল)।
৬. পতন ও শেষ অধ্যায় (১৯Expiry-১৯৯০)
১৯৮৫ সালে মিখাইল গর্বাচেভ ক্রেমলিনের ক্ষমতায় এসে ‘গ্লাসনস্ত’ (উন্মুক্ততা) ও ‘পেরেস্ত্রৈকা’ (পুনর্গঠন) নীতি চালু করলে কেজিবির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ফাটল ধরে। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের সময় জার্মানির ড্রেসডেনে কর্তব্যরত কেজিবি এজেন্টরা (যার মধ্যে তরুণ ভ্লাদিমির পুতিনও ছিলেন) যখন মস্কোর কোনো সাহায্য বা নির্দেশনা পাননি, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এই বিশাল গোয়েন্দা সাম্রাজ্যের পতন আসন্ন।
অবশেষে ১৯৯০ সালে কেজিবির শেষ কট্টরপন্থী প্রধান ভ্লাদিমির ক্রাইউচকভ গর্বাচেভকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক ব্যর্থ নেপথ্য অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে কেজিবিরও চিরতরে অবসান ঘটায়।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Sources):
১. উইকিপিডিয়া (Wikipedia): KGB History and Directorship of Yuri Andropov.
২. চার্চিল আর্কাইভস সেন্টার (Churchill Archives Centre): The Papers of Vasiliy Mitrokhin and KGB Global Operations.
৩. ইউএস নিউজ (U.S. News): Declassified Documents Reveal KGB Spies in the U.S.
৪. এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (Britannica): KGB – Soviet Security, Intelligence, and Espionage.
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের গণমাধ্যম, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম ইলিয়াস হোসেন। তিনি মূলত একুশে টেলিভিশনের (ETV) জনপ্রিয় অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’-এর প্রধান উপস্থাপক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে দেশে রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মুখে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে কন্টেন্ট তৈরি করা প্রভাবশালী ‘নিউজফ্লুয়েন্সার’ (Newsfluencer)।
তার জীবনের বিভিন্ন দিক, পারিবারিক প্রেক্ষাপট, পেশাজীবন, আয়ের উৎস, বিতর্ক এবং সমালোচনা নিচে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো:
১. ব্যক্তিগত পরিচয় ও পারিবারিক জীবন

ইলিয়াস হোসেনের জন্ম বাংলাদেশের এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে। তার পারিবারিক জীবনের বিশদ তথ্য সাধারণ পাবলিক ডোমেইনে অত্যন্ত সীমিত ও গোপন রাখা হয়েছে:
- বাবা-মা ও ভাইবোন: তার ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা এবং দেশে অবস্থানরত পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে ইলিয়াস হোসেন নিজের মা, বাবা, ভাইবোনদের পরিচয় প্রকাশ্য মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন।
- পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: পারিবারিকভাবে মধ্যবিত্ত ব্যাকগ্রাউন্ডের হলেও ছাত্রজীবনেই তিনি মিডিয়া ও সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহী হন এবং দেশে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
২. পেশাজীবন ও একুশে টেলিভিশন (ETV) অধ্যায়

ইলিয়াস হোসেন বাংলাদেশে মূলত একুশে টেলিভিশনের (ETV) অপরাধবিষয়ক বিশেষ অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’-এর মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
- অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ক্যামেরার সামনে সোজাসাপ্টা ও তীব্র ভঙ্গিতে গিয়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেট, ভেজাল কারবারি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও অপরাধ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করতেন।
- পরিচিতি: তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো সাধারণ দর্শকদের মাঝে বেশ সমাদৃত হয় এবং খুব দ্রুত তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
৩. দেশত্যাগ ও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় (২০১৫ – বর্তমান)
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
- দেশ ত্যাগের মূল কারণ: তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অনিয়ম, সরকারের প্রতি সমালোচনা এবং স্পর্শকাতর অনুসন্ধানী রিপোর্টের কারণে একাধিক প্রভাবশালী মহল তার ওপর বিরাগভাজন হয়। গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি এবং জীবনের নিরাপত্তার শংকায় ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
- রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Political Asylum) আবেদন করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
৪. আয়-ব্যয় ও আয়ের প্রধান উৎস
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন সময়ে ইলিয়াস হোসেন মূলধারার চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট সৃষ্টিকে নিজের প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।
আয়ের উৎস:
১. ইউটিউব মনিটাইজেশন (YouTube Revenue): তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ২ মিলিয়নেরও বেশি (২০ লাখ+) সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। তার অধিকাংশ ভিডিও লাখ লাখ ভিউ পায়, যা মার্কিন ভিত্তিক ইউটিউব মনিটাইজেশন থেকে মোটা অঙ্কের আয়ের উৎস।
২. ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন: ফেসবুক পেজেও দীর্ঘ সময় তার ব্যাপক ফলোয়ারশিপ ছিল, যেখান থেকে ওয়াচ-টাইম ও ভিউ-ভিত্তিক ইনকাম আসতো (সম্প্রতি মেটা কর্তৃক পেজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত)।
৩. স্পন্সরশিপ ও বিজ্ঞাপন: প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রচারণা ও লাইভ শো স্পন্সরশিপ থেকেও ইনকাম হয়।
৪. সুপার চ্যাট ও ফ্যান ফান্ডিং: ইউটিউব লাইভ টকশো চলাকালীন বিভিন্ন অনুসারীদের পাঠানো ‘সুপার চ্যাট’ ও ডোনেশনের মাধ্যমে আয়।
ব্যয় ও জীবনযাপন:
আমেরিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যন্ত বেশি। স্টুডিও সেটিং, ডিজিটাল স্ট্রিম ইক্যুইপমেন্ট, গবেষণা দল এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ মূলত তার এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর আয় দিয়েই পরিচালিত হয়।
৫. সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব (সমর্থন বনাম সমালোচনা)
ইলিয়াস হোসেনকে ঘিরে বাংলাদেশের নেটিজেন ও রাজনীতির মাঠে স্পষ্ট দুটি চরমপন্থী ধারা লক্ষ করা যায়:
১. সমর্থকদের চোখে (ইতিবাচক মূল্যায়ন)
- সাহসী ও বিকল্প কণ্ঠস্বর: দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সেন্সরশিপের মুখে যেখানে মূলধারার গণমাধ্যম সংবেদনশীল বিষয়গুলো এড়িয়ে যায়, সেখানে ইলিয়াস হোসেন বিকল্প ও সংবেদনশীল তথ্য তুলে ধরেন।
- ক্ষমতার জবাবদিহিতা: বিভিন্ন অরাজকতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সোজাসাপ্টা সোচ্চার হওয়ায় এক বিরাট অংশ তাকে সাহসের প্রতীক মনে করে।
২. সমালোচক ও বিশ্লেষকদের চোখে (নেটিবাচক মূল্যায়ন)
- তথ্য প্রমাণের ঘাটতি ও চমকপ্রদ শিরোনাম: তার ভিডিওগুলোতে অনেক সময় তথ্যপ্রমাণের অভাব, সেনসেশনালিজম (Sensationalism) বা সস্তা ভিউ বাড়ানোর ‘ক্লিকবেইট’ (Clickbait) কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
- উগ্র ভাষা ও গালাগালি: উপস্থাপনায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, তীর্যক, কদর্য ভাষা প্রয়োগ ও কুরুচিপূর্ণ ভঙ্গিমা ব্যবহারের জন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত।
- ধর্মীয় ও আকিদাগত বিতর্ক: অতি সম্প্রতি বিভিন্ন আলেম সমাজ, ধর্মীয় দল এবং নবীদের মানবিক বৈশিষ্ট্য/আকিদাগত বিষয়ে সংবেদনশীল বক্তব্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সিংহভাগ আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
- প্রোপাগান্ডা ও উসকানি: উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার কারণে মেটা (Meta) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ বন্ধ করে দেয়।
৬. দেশে-বিদেশে আইনি বিতর্ক ও মামলার চিত্র
ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে একাধিক আলোচিত আইনি ঘটনা ঘটেছে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ইলিয়াস হোসেনের প্রধান আইনি ঘটনাবলী │
├──────────────────────┬──────────────────────────────────────────────────────┤
│ বিচারিক বিষয় │ বর্তমান অবস্থা / বিবরণ │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────────┤
│ সিডিএ/ডিজিটাল মামলা │ সাবেক PBI প্রধানের করা মামলায় ২০২৫ সালে খালাস পান। │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────────┤
│ NYPD নিউইয়র্ক ঘটনা │ ২০২৪ সালে প্রবাসীর করা অভিযোগে সাময়িক আইনি জটিলতা। │
├──────────────────────┼──────────────────────────────────────────────────────┤
│ মেটা (Meta) অ্যাকশন │ উসকানিমূলক পোস্টের দায়ে ২০২৫ সালে ফেসবুক পেজ বন্ধ। │
└──────────────────────┴──────────────────────────────────────────────────────┘
সারসংক্ষেপ
ইলিয়াস হোসেন মূলত একজন সফল সাবেক টেলিভিশন রিপোর্টার, যিনি রাজনৈতিক আশ্রয় ও নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ব্যক্তিগত প্রতিভা ও সোজাসাপ্টা কথা বলার কৌশলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করলেও—অতিরঞ্জিত তথ্যপ্রমাণ, কুরুচিপূর্ণ শব্দচয়ন, ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য এবং বিতর্কিত কন্টেন্ট কাঠামোর কারণে বস্তুনিষ্ঠ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার নিরিখে তিনি এক চরম বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিবেচিত।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ এভিয়েশন ও প্রতিরক্ষা সামরিক বিশ্লেষণ
উপস্থাপনায়: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আকাশজয়ের গল্প মানবসভ্যতার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়গুলোর একটি। কাঠের ফ্রেমের প্রাথমিক বিমান থেকে শুরু করে আজকের হাইপারসনিক ইঞ্জিন এবং চতুর্থ/পঁচিশ প্রজন্মের আধুনিক ফাইটার জেট—এভিয়েশন প্রযুক্তির এই দ্রুত বিবর্তন বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

নিচে বিমানের আবিষ্কার, জেট ইঞ্জিনের বৈজ্ঞানিক রূপরেখা, বিভিন্ন ইঞ্জিনের প্রকারভেদ এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (BAF) বিদ্যমান সক্ষমতা ও প্রযুক্তির একটি বিস্তারিত তথ্যকোষ তুলে ধরা হলো।
১. বিমানের আবিষ্কার ও সূচনালগ্ন

বিশ্বের প্রথম সফল মোটরচালিত ও নিয়ন্ত্রিত বিমান আবিষ্কার করেন আমেরিকান দুই ভাই—উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইট (Wright Brothers)।
- ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর।
- স্থান: কিটি হক, উত্তর ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র (Kitty Hawk, North Carolina)।
- প্রথম উড্ডয়ন: তাদের নির্মিত ঐতিহাসিক বিমান ‘রাইট ফ্লাইয়ার’ (Wright Flyer) মাত্র ১২ সেকেন্ডে ১২০ ফুট পথ পাড়ি দিয়েছিল। বিমানের প্রথম পাইলট ছিলেন অরভিল রাইট।
২. জেট ইঞ্জিনের আবিষ্কার ও জেট এজের (Jet Age) সূচনা
প্রপেলার ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিমানের গতি দ্বিগুণ করতে আগমন ঘটে জেট ইঞ্জিনের।
- উদ্ভাবক: ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার ফ্রাঙ্ক হুইটল (Sir Frank Whittle) ১৯৩০ সালে প্রথম জেট ইঞ্জিনের পেটেন্ট করেন। অন্যদিকে, জার্মানির বিজ্ঞানী হ্যান্স ভন ওহাইন (Hans von Ohain) স্বাধীনভাবে আরেকটি সফল ডিজাইন তৈরি করেন।
- প্রথম জেট বিমান: হ্যান্স ভন ওহাইনের ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে ১৯৩৯ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্বের প্রথম জেট চালিত বিমান ‘হেইঙ্কেল হি ১৭৮’ (Heinkel He 178) সফলভাবে আকাশে ওড়ে।
- সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োগ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৪৪) জার্মানির Messerschmitt Me 262 প্রথম ফাইটার জেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু হয় যাত্রীবাহী বিমানে জেট ইঞ্জিনের ব্যবহার, যা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে বিপ্লব ঘটায়।
৩. জেট ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে?

জেট ইঞ্জিন মূলত স্যার আইজ্যাক নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র—“প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে” (Action and Reaction)—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ জেট ইঞ্জিনের ৪টি প্রধান ধাপ │
├──────────────┬──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ধাপ │ কার্যপদ্ধতি │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ১. Intake │ সামনের পাখা দিয়ে প্রচুর বাতাস ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। │
│ ২. Compression│ কম্প্রেসর ব্লেড দিয়ে বাতাসকে তীব্র সংকুচিত করা হয়। │
│ ৩. Combustion│ সংকুচিত বাতাসে জ্বালানি মিশিয়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।│
│ ৪. Exhaust │ পেছনের নজেল দিয়ে তীব্র গতিতে উত্তপ্ত গ্যাস বের হয়ে ধাক্কা তৈরি করে।│
└──────────────┴──────────────────────────────────────────────────────────┘
৪. বিভিন্ন প্রকার জেট ইঞ্জিন ও সেগুলোর ব্যবহার

গঠন ও কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে জেট ইঞ্জিনকে প্রধানত ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়:
| ইঞ্জিনের ধরন | প্রধান বৈশিষ্ট্য | ব্যবহার |
| টার্বোজেট (Turbojet) | প্রাথমিক ও সাধারণ ক্রুড প্রযুক্তি, বেশি শব্দ ও জ্বালানি খরচ। | পুরোনো ফাইটার জেট ও রকেট। |
| টার্বোফ্যান (Turbofan) | সামনে বড় ফ্যান থাকে, বাইপাস এয়ার প্রডিউস করে। কম শব্দ ও অত্যন্ত সাশ্রয়ী। | আধুনিক কমার্শিয়াল বোয়িং/এয়ারবাস ও modern ফাইটার। |
| টার্বোপ্রপ (Turboprop) | জেট শক্তির ৯০% দিয়ে বাইরের প্রপেলার বা পাখা ঘোরানো হয়। | কম দূরত্বের আঞ্চলিক যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান। |
| টার্বোশ্যাফট (Turboshaft) | শক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনাল শ্যাফটের সাহায্যে রোটর ব্লেড ঘোরানো হয়। | প্রধানত হেলিকপ্টার এবং কিছু যুদ্ধজাহাজ/ট্যাংক। |
| র্যামজেট (Ramjet) | কোনো চলন্ত পার্টস নেই; উচ্চগতিতে বাতাস ভেতরে এসে সংকুচিত হয়। | মিসাইল ও সুপারসনিক ড্রোন। |
| স্ক্যামজেট (Scramjet) | শব্দের চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি গতিতে সুপারসনিক কমবাশ্চন ঘটায়। | হাইপারসনিক মিসাইল ও আধুনিক মহাকাশযান। |
৫. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে (BAF) ব্যবহৃত বিমান ও ইঞ্জিন প্রযুক্তি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তাদের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা, পরিবহন এবং অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করতে ৪ ধরণের আধুনিক ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফ্লিট ও ইঞ্জিন │
├──────────────────┬─────────────────────────────┬────────────────────────┤
│ ইঞ্জিনের ধরন │ বিমানের নাম │ উৎস দেশ │
├──────────────────┼─────────────────────────────┼────────────────────────┤
│ ১. টার্বোজেট │ চেংডু এফ-৭ (Chengdu F-7) │ চীন │
│ ২. টার্বোফ্যান │ মিগ-২৯ (MiG-29B/UB) │ রাশিয়া │
│ │ ইয়াক-১ ৩০ (Yak-130) │ রাশিয়া │
│ │ কে-৮ডব্লিউ (K-8W Trainer) │ চীন / পাকিস্তান │
│ ৩. টার্বোপ্রপ │ সি-১৩০জে (C-130J Hercules) │ আমেরিকা │
│ │ অ্যান্টনভ অ্যান-৩২ (An-32) │ রাশিয়া │
│ ৪. টার্বোশ্যাফট │ এমআই-১৭/১৭১ (MiG Mi-171SH) │ রাশিয়া │
│ │ বেল-২১২ (Bell 212) │ আমেরিকা │
│ │ এডব্লিউ-১৩৯ (AW139) │ ইতালি │
└──────────────────┴─────────────────────────────┴────────────────────────┘
বিশেষ সংযোজন: প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিজস্ব ইউনিটে UAV বা ড্রোন অ্যাসেম্বলি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।
৬. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও ফোর্সেস গোল (Forces Goal)
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আকাশ সুরক্ষার মূল চালিকাশক্তি হলো এর মাল্টিরোল ফাইটার ও ইন্টারসেপ্টর ফ্লিট:
- মিগ-২৯বিএম (MiG-29BM): এটি রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের অত্যন্ত চটপটে একটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট। বর্তমানে বেলারুশের আধুনিকীকরণের পর এর সার্ভিস লাইফ ও রাডার ক্যাাপাবিলিটি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- এফ-৭ বিজিআই (F-7BGI): এটি চীনে নির্মিত একটি অল-ওয়েদারInterceptor ফাইটার। এর আধুনিক এভিওনিক্স, গ্লাস ককপিট এবং গাইডেড ওয়েপন ক্যাাপাবিলিটি পয়েন্ট ডিফেন্সের জন্য বেশ উপযোগী।
- ভবিষ্যৎ আধুনিকীকরণ: বিমানবাহিনী আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের (4.5 Generation) ফাইটার জেট যুক্ত করার প্রক্রিয়া বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে চীনের Chengdu J-10CE এবং ইউরোপের Eurofighter Typhoon ক্রয়ের আলোচনা ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া অগ্রগতির তালিকায় রয়েছে।
৭. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান মিসাইল ও মারণাস্ত্র
আকাশপথে শত্রু ধ্বংস এবং বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে BAF-এর যুদ্ধবিমানগুলোতে বেশ কিছু লেটেস্ট মিসাইল ও বোমা যুক্ত রয়েছে:
ক) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (Air-to-Air Missiles)
- R-77 (RVV-AE): বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) রাডার-গাইডেড মিসাইল, যা ৮০-১০০ কিমি দূরের শত্রুর বিমান ধ্বংস করতে পারে (মিগ-২৯বিএম)।
- R-73E: বিশ্বখ্যাত শর্ট-রেঞ্জ হিট-সিকিং (Heat-seeking) মিসাইল, যা মুখোমুখি ডগফাইটে শত্রুর ইঞ্জিনের উত্তাপ ট্র্যাক করে আঘাত হানে।
- PL-5E II / PL-9C: চীনের তৈরি আধুনিক ইনফ্রারেড গাইডেড শর্ট-রেঞ্জ মিসাইল (এফ-৭বিজিআই)।
খ) আকাশ থেকে ভূমিতে ও সমুদ্রে আক্রমণের অস্ত্র (Air-to-Surface)
- Kh-31A: রাশিয়ার তৈরি মারাত্মক দ্রুতগতির সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল। সমুদ্রসীমার প্রতিরক্ষায় এটি মিগ-২৯ এর একটি অন্যতম গেম-চেঞ্জার অস্ত্র।
- KAB-500KR: লেজার ও টিভি-গাইডেড স্মার্ট পিন-পয়েন্ট প্রিসিশন বোমা।
- LS-6 (500lb): জিপিএস এবং স্যাটেলাইট গাইডেড গ্লাইড বোমা, যা দূর থেকেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম (এফ-৭বিজিআই)।
সারসংক্ষেপ
রাইট ব্রাদার্সের মাত্র ১২ সেকেন্ডের ঐতিহাসিক যাত্রা থেকে শুরু করে আজকের সুপারসনিক ও হাইপারসনিক যুগ—এভিয়েশন সায়েন্স আধুনিক প্রতিরক্ষার মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও তাদের আধুনিক ফ্লিট, ৪.৫ জেনারেশনের ফাইটার জেট সংযোগ এবং স্যাটেলাইট গাইডেড অস্ত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আধুনিক ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ভূগোল ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক: পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ এশিয়া। আয়তন, জনসংখ্যা, প্রাচীন সভ্যতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক আধিপত্য—সব দিক থেকেই এশিয়া বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র। সাধারণ জ্ঞান অনুরাগী, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে এশিয়া মহাদেশের ৪৯টি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানীগুলোর প্রশাসনিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হলো।
এশিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা. Source: PeterHermesFurian / Getty Images
১. দক্ষিণ এশিয়া (South Asia)
১. বাংলাদেশ — রাজধানী: ঢাকা
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রায় চারশত বছর পূর্বে ১৬০৮ সালে মোগল সুবাদার ইসলাম খান প্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। মোগল আমল থেকে আজ অব্দি এটি তৈরি পোশাক শিল্প, বাণিজ্য এবং সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
২. ভারত — রাজধানী: নতুন দিল্লি
১৯১১ সালে ব্রিটিশ আমলে কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে নতুন দিল্লির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি ভারতের বিচারবিভাগ, শাসনবিভাগ এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু। ঐতিহাসিক প্রাচীন দিল্লি এবং আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর নতুন দিল্লি মিলে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোপলিটন এলাকা।
৩. পাকিস্তান — রাজধানী: ইসলামাবাদ
১৯৬০-এর দশকে একটি সুপরিকল্পিত শহর হিসেবে ইসলামাবাদকে পাকিস্তানের নতুন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হয়; এর পূর্বে করাচি ও রাওয়ালপিন্ডি সাময়িক রাজধানী ছিল। মারগাল্লা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শহরটি পাকিস্তানের সামরিক ও প্রশাসনিক হেডকোয়ার্টার।
৪. আফগানিস্তান — রাজধানী: কাবুল
হিন্দুখুশ পর্বতমালার সংকীর্ণ উপত্যকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত কাবুল দেশটির বৃহত্তম শহর। প্রাচীন রেশম পথের ওপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শহরটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বে়ও আফগান রাজনীতি ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র।
৫. নেপাল — রাজধানী: কাঠমান্ডু
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত কাঠমান্ডু নেপালের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাব। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সমৃদ্ধ এই শহরটি কাঠমান্ডু উপত্যকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং বিশ্বজুড়ে এভারেস্টগামী পর্বত আরোহীদের প্রধান প্রবেশদ্বার।
৬. ভুটান — রাজধানী: থিম্পু
হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পর্বতে অবস্থিত থিম্পু বিশ্বের একমাত্র ট্রাফিক লাইট-বিহীন রাজধানী শহর। ঐতিহ্যবাহী ভুটানি স্থাপত্যশৈলী এবং তিব্বতি বৌদ্ধ সংস্কৃতির স্পর্শে লালিত এই শহরটি ভুটানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রধান কার্যালয়।
৭. শ্রীলঙ্কা — রাজধানী: শ্রী জয়বর্ধনেপুরা কোট্টে (প্রশাসনিক) / কলম্বো (বাণিজ্যিক)
কলম্বোর একটি উপশহর কোট্টে শ্রীলঙ্কার মূল প্রশাসনিক ও আইনসভা রাজধানী, যেখানে দেশটির জাতীয় সংসদ অবস্থিত। তবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যাবলীর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে এখনও কলম্বো শহরই কাজ করে।
৮. মালদ্বীপ — রাজধানী: মালে
ভারত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীর বা অ্যাটলে অবস্থিত মালে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ শহর। মালদ্বীপের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সাথে দেশটির আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের প্রবেশদ্বার হিসেবে মালে কাজ করে।
২. পূর্ব এশিয়া (East Asia)
৯. চীন — রাজধানী: বেইজিং
তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসের শহর বেইজিং বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র। মহাপ্রাচীর (Great Wall) ও নিষিদ্ধ নগরী (Forbidden City)-র মতো ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে ঘেরা এই শহরটি চীনের কমিউনিস্ট সরকার ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল হাব।
১০. জাপান — রাজধানী: টোকিও
টোকিও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও অর্থনৈতিকভাবে অন্যতম শীর্ষ শহর। পূর্বের ছোট মাছ ধরার গ্রাম ‘এদো’ ১৮৬৮ সালে জাপানের রাজধানী হিসেবে পুনর্নামকরণ লাভ করে টোকিও নাম ধারণ করে। এটি উচ্চপ্রযুক্তি, ফ্যাশন ও আধুনিক শিল্পের আন্তর্জাতিক হাব।
১১. উত্তর কোরিয়া — রাজধানী: পিয়ংইয়ং
কোরীয় উপদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন শহর পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সামাজিক অবকাঠামো ও সামরিক প্রদর্শনী কেন্দ্র। তায়েদং নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
১২. দক্ষিণ কোরিয়া — রাজধানী: সিউল
হান নদীর তীরে অবস্থিত সিউল দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক বিশ্বমানের শহর, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কে-পপ সংস্কৃতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেছে। ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ এবং আকাশচুম্বী অট্টালিকার অপূর্ব মিশ্রণ এই সিউল।
১৩. মঙ্গোলিয়া — রাজধানী: উলানবাটোর
তুউল নদী উপত্যকায় অবস্থিত উলানবাটোর মঙ্গোলিয়ার বৃহত্তম শহর এবং বিশ্বের সবচেয়ে শীতলতম রাজধানী। যাযাবর মোঙ্গল ঐতিহ্য ও আধুনিক নগরজীবনের এক মেলবন্ধন ঘটেছে এই ঐতিহাসিক শহরে।
১৪. তাইওয়ান — রাজধানী: তাইপে
তাইওয়ানের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত তাইপে বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বৈশ্বিক কেন্দ্র। ‘তাইপে ১০১’ স্কাইস্ক্র্যাপারের জন্য বিখ্যাত এই শহরটি পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব।
৩. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (Southeast Asia)
১৫. ভিয়েতনাম — রাজধানী: হ্যানয়
রেড রিভারের তীরে অবস্থিত হ্যানয় হাজার বছরেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ ইতিহাসের শহর। ফরাসি স্থাপত্যশৈলী, ঐতিহ্যবাহী চীনা প্রভাব এবং আধুনিক ভিয়েতনামী অর্থনীতির মেলবন্ধনে তৈরি এই শহরটি ভিয়েতনামের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান বিন্দু।
১৬. থাইল্যান্ড — রাজধানী: ব্যাংকক
স্থানীয়ভাবে ‘ক্রুং থেক’ নামে পরিচিত ব্যাংকক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য, অর্থনীতি ও পর্যটনকেন্দ্র। চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি বৌদ্ধ মন্দির, আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বর্ণিল নাইটলাইফের জন্য বিখ্যাত।
১৭. মিয়ানমার — রাজধানী: নেপিডো
২০০৫ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার সুপরিকল্পিতভাবে ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে নেপিডো শহরে রাজধানী স্থানান্তর করে। সুবিশাল রাজপথ, সামরিক কমপ্লেক্স এবং প্রশাসনিক ভবনে ঘেরা এই শহরটি অত্যন্ত সুসংগঠিত।
১৮. ইন্দোনেশিয়া — রাজধানী: নুসানতারা (নতুন পরিকল্পিত) / জাকার্তা (সাবেক)
দীর্ঘদিন ধরে জাভা দ্বীপের জাকার্তা ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলেও ভূ-প্রাকৃতিক ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ঘনবসতির কারণে দেশটির সরকার বোর্নিও দ্বীপে ‘নুসানতারা’ নামে একটি আধুনিক সুপরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব রাজধানী গড়ে তোলার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
১৯. মালয়েশিয়া — রাজধানী: কুয়ালালামপুর (প্রশাসনিক সেন্টার: পুত্রজায়া)
পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের শহর কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ার রাজকীয়, বাণিজ্যিক ও আর্থিক রাজধানী। তবে শহরটির ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে নব্বইয়ের দশকে নিকটবর্তী পুত্রজায়াতে সরকারের প্রশাসনিক ভবন ও দপ্তরগুলো স্থানান্তরিত করা হয়।
২০. সিঙ্গাপুর — রাজধানী: সিঙ্গাপুর সিটি
দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের মূল রাজধানী এর একমাত্র প্রধান শহর সিঙ্গাপুর সিটি। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর, প্রধান আর্থিক লেনদেন কেন্দ্র এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রার সূচকের শহর হিসেবে এটি স্বীকৃত।
২১. ফিলিপাইন — রাজধানী: ম্যানিলা
ম্যানিলা উপসাগরের তীরে অবস্থিত ম্যানিলা ফিলিপাইনের রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র। ফরাসি ও স্পেনীয় উপনিবেশিক স্থাপত্য ঐতিহ্যের মিশ্রণে গড়ে ওঠা এই শহরটি অন্যতম ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক বন্দর।
২২. কম্বোডিয়া — রাজধানী: নমপেন
মেকং, বাসাক ও টনলে সাপ নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত নমপেন শহরটি ‘এশিয়ার মুক্তা’ নামে পরিচিত ছিল। খমের স্থাপত্যশৈলী ও ফরাসি উপনিবেশের সুবাতাস লেগে থাকা এই শহরটি কম্বোডিয়ার রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাণকেন্দ্র।
২৩. লাওস — রাজধানী: ভিয়েনতিয়েন
মেকং নদীর তীরে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত ভিয়েনতিয়েন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে শান্ত পরিবেশের একটি রাজধানী। ফরাসি উপনিবেশের প্রভাব ও বৌদ্ধ ধর্মীয় মনুমেন্ট দিয়ে সাজানো এই শহরটি দেশটির প্রশাসন পরিচালনা করে।
২৪. ব্রুনাই — রাজধানী: বন্দর সেড়ি বেগাওয়ান
ব্রুনাই নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি খনিজ তেল ও গ্যাসে সমৃদ্ধ সম্পদশালী রাষ্ট্র ব্রুনাইয়ের সুলতানের রাজকীয় কেন্দ্র। বর্ণিল মসজিদ ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ সংবলিত এই শহরটি শান্ত জীবনযাত্রার জন্য খ্যাত।
২৫. পূর্ব তিমুর — রাজধানী: দিলি
তিমুর সাগরের উপকূলে स्थित দিলি ২০০২ সালে স্বাধীন হওয়া নতুন রাষ্ট্র পূর্ব তিমুরের প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। পর্তুগিজ উপনিবেশিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে এই উপকূলীয় শহরে।
৪. পশ্চিম এশিয়া / মধ্যপ্রাচ্য (West Asia / Middle East)
২৬. সৌদি আরব — রাজধানী: রিয়াদ
আরব উপদ্বীপের মালভূমি মরুভূমিতে অবস্থিত রিয়াদ আজ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও অবকাঠামোগত শহর। সৌদি আরবের রাজনৈতিক কার্যালয়, রাজপ্রাসাদ এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক কর্পোরেশনের মূল কেন্দ্র এই শহর।
২৭. সংযুক্ত আরব আমিরাত — রাজধানী: আবুধাবি
পারস্য উপসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত আবুধাবি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, ব্যবসা এবং জ্বালানি তেলের ব্যবসার মূল কেন্দ্র। দুবাই পর্যটনের জন্য খ্যাত হলেও আমিরাতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আবুধাবি থেকেই গৃহীত হয়।
২৮. কাতার — রাজধানী: দোহা
পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত দোহা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল আধুনিক শহর। প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবসায় সমৃদ্ধ কাতার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (যেমন ২০২২ বিশ্বকাপ) এবং চ্যানেল আল জাজিরার হেডকোয়ার্টার হিসেবে দোহাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২৯. কুয়েত — রাজধানী: কুয়েত সিটি
পারস্য উপসাগরের শীর্ষ শহর কুয়েত সিটি দেশটির খনিজ তেলনির্ভর অর্থনৈতিক ক্ষমতার প্রধান কার্যালয়। এখানকার কুয়েত টাওয়ার্স এবং বিশাল ব্যাংক অবকাঠামো দেশটির বাণিজ্যিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।
৩০. বাহরাইন — রাজধানী: মানামা
পারস্য উপসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের মানামা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র। ইসলামপূর্ব আমল থেকেই কৌশলগত সমুদ্রপথের অংশ হিসেবে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
৩১. ওমান — রাজধানী: মাস্কাট
ওমান উপসাগর এবং পাথুরে আল হাজার পর্বতমালার মাঝে অবস্থিত মাস্কাট এক ঐতিহাসিক বন্দর নগরী। অন্যান্য আরব শহরের মতো অতিরিক্ত উঁচুদালান না বানিয়ে ঐতিহ্যবাহী আরব স্থাপত্যকলাকে ধরে রেখে শহরটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
৩২. ইয়েমেন — রাজধানী: সানা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত সানা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ধারাবাহিক জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলীর মাল্টি-স্টোরি কাদামাটির ভবনগুলোর জন্য শহরটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষিত।
৩৩. ইরান — রাজধানী: তেহরান
আলবোর্জ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত তেহরান ইরানের অর্থনৈতিক, শিল্প ও রাজনৈতিক হাব। পারস্য ঐতিহ্যের শহর এটি, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি এবং শতবর্ষী সংস্কৃতির এক অনন্য সহাবস্থান দেখা যায়।
৩৪. ইরাক — রাজধানী: বাগদাদ
টাইগ্রিস নদীর তীরে অবস্থিত বাগদাদ ইসলামিক স্বর্ণযুগ (Islamic Golden Age)-এর সময় বিশ্বের সবচেয়ে প্রধান জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পার করে শহরটি বর্তমানে তার প্রাচীন ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
৩৫. সিরিয়া — রাজধানী: দামেস্ক
বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্ন জনবসতিপূর্ণ শহর দামেস্ক। প্রাচ্যের প্রাচীন রেশম পথ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ঐতিহাসিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে রয়েছে।
৩৬. লেবানন — রাজধানী: বৈরুত
ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত বৈরুত দীর্ঘদিন ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্যারিস’ নামে খ্যাত ছিল। ফরাসি সাংস্কৃতিক প্রভাব, ব্যাংকিং খাত এবং ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের জন্য শহরটির বৈশ্বিক খ্যাতি রয়েছে।
৩৭. জর্ডান — রাজধানী: আম্মান
সাতটি পাহাড়ের ওপর মূল ভিত্তি গড়ে ওঠা আম্মান বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শহর। এটি জর্ডানের রাজনৈতিক হাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র।
৩৮. ইসরায়েল — রাজধানী: জেরুজালেম
জেরুজালেম বিশ্বের তিনটি প্রধান একেশ্বরবাদী ধর্ম—ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের পবিত্রতম স্থান। তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এটি দেশটির প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
৩৯. তুরস্ক — রাজধানী: আঙ্কারা
১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ঐতিহ্যবাহী ইস্তাম্বুল থেকে রাজধানী সরিয়ে মধ্য এনাতোলিয়ার আঙ্কারায় রূপান্তর করেন। আঙ্কারা তুরস্কের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ও সামরিক সিদ্ধান্তের প্রাণকেন্দ্র।
৪০. সাইপ্রাস — রাজধানী: নিকোশিয়া
নিকোশিয়া বিশ্বের একমাত্র বিভক্ত রাজধানী, যা গ্রিক সাইপ্রাস ও তুর্কি সাইপ্রাস—দুই অংশের মাঝে গ্রিন লাইন দিয়ে বিভক্ত। এটি ইউরেশিয়ান দ্বীপটির রাজনীতি ও শিক্ষার কেন্দ্র।
৪১. আর্মেনিয়া — রাজধানী: ইয়েরেভান
হাজার হাজার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ইয়েরেভানকে ‘পিঙ্ক সিটি’ বলা হয়, কারণ এখানকার বেশিরভাগ ভবনের নির্মাণকাজে গোলাপী রঙের আগ্নেয়গিরির পাথর ব্যবহৃত হয়েছে। আরারাত পর্বতের ছায়াতলে এটি আর্মেনিয়ার প্রাণকেন্দ্র।
৪২. আজারবাইজান — রাজধানী: বাকু
কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে অবস্থিত বাকু ‘বাতাসের শহর’ নামে পরিচিত। তেল সমৃদ্ধ অর্থনীতি, ‘ফ্লেম টাওয়ার্স’ এবং প্রাচীন সুরক্ষিত আইচেরি শেহেরের (Inner City) জন্য এটি ককশাস অঞ্চলের প্রধান আন্তর্জাতিক কেন্দ্র।
৪৩. জর্জিয়া — রাজধানী: তিবিলিসি
কুরা (এমটকভারি) নদীর উপত্যকায় অবস্থিত তিবিলিসি ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থলে তৈরি এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শহর। সালফার বাথ, পাথুরে দুর্গ এবং ইউরেশীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে এই ভূখণ্ডে।
৫. মধ্য এশিয়া (Central Asia)
৪৪. কাজাখস্তান — রাজধানী: আস্তানা
ইশিম নদীর তীরে অবস্থিত আস্তানা (যা পূর্বে নুর-সুলতান নামেও পরিচিত ছিল) আধুনিক ফিউচারিস্টিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশাল প্রান্তরে অবস্থিত এই শহরটি সেন্ট্রাল এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র।
৪৫. উজবেকিস্তান — রাজধানী: তাসখন্দ
ভূমিকম্প ও সোভিয়েত পুনর্নির্মাণের পর তৈরি তাসখন্দ মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল শহর। রেশম পথের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সুসংগঠিত মেট্রো ব্যবস্থার জন্য এটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৪৬. তাজিকিস্তান — রাজধানী: দুশানবে
তাজিক ভাষার ‘দুশানবে’ শব্দের অর্থ সোমবার। প্রাচীনকালে সোমবারে বসা বড় বাজারের নাম থেকে শহরটির নামকরণ হয়। পামির পর্বতমালার কোলঘেঁষে থাকা এই শহরটি দেশটির প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্র।
৪৭. কিরগিজস্তান — রাজধানী: বিশকেক
তিয়েন শান পর্বতমালার ঠিক উত্তর দিকে চুই উপত্যকায় অবস্থিত বিশকেক সোভিয়েত ধাঁচের চওড়া রাস্তা, সুবিশাল পার্ক এবং পর্বত বেষ্টিত এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর।
৪৮. তুর্কমেনিস্তান — রাজধানী: আশগাবাত
কোপেত দাগ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত আশগাবাত সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি ভবনের ঘনত্বের জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ এই দেশের রাজধানী শহরটি অত্যাধুনিক ও সংরক্ষিত।
৬. উত্তর এশিয়া (North Asia)
৪৯. রাশিয়া — রাজধানী: মস্কো
ইউরেশীয় পরাশক্তি রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ইউরো-এশিয়ান রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রেমলিন, রেড স্কয়ার এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন সমৃদ্ধ এই শহরটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী সেতু হিসেবে কাজ করে



