শিল্পী
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
তিনি শুধু সাহিত্যিক ছিলেন না—ছিলেন একাধারে ভাষাবিদ, দার্শনিক, কৌতুকপ্রিয় ও মানবতাবাদী। এমন মানুষ ইতিহাসে একবারই জন্ম নেন। তাঁর নাম সৈয়দ মুজতবা আলী।
🇩🇪 আইনস্টাইনের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙালি কৌতুক প্রতিযোগিতার নায়ক
পিএইচডির জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তৎকালীন সময় অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন অধ্যাপক। এই শহরে একবার জার্মান ভাষায় কৌতুক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন তিনি—যা এক নিঃসন্দেহে বাঙালি হিসেবে গর্বের বিষয়।
১৭ ভাষার অধিকারী
এক রাষ্ট্রদূত তাঁকে একবার বলেছিলেন—
“আমি জীবনে এত অল্প সময়ে পৃথিবীর এত বিষয়ে আলোচনা শুনিনি, যতটা উনি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই করে ফেলেছিলেন।”
তিনি ১৭টি ভাষায় ছিলেন পারদর্শী—কথা বলাও পারতেন, লিখতেও।
মুখস্থ ‘গীতবিতান’ এবং ‘গীতা’
তিনি ছিলেন রামায়ণ-মহাভারত, গীতা ও রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান মুখস্থ রাখা বিরল প্রতিভা। একবার এক পুরোহিত যখন সংস্কৃতে গীতা বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন ভুল ধরিয়ে দিয়ে পুরো আয়াত হুবহু সংস্কৃতে বলে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছিলেন।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি
বাংলা অভিধানের কিংবদন্তি সংকলক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুর আগে বলেছিলেন—
“আমার অভিধান যদি কোনো দিন সংশোধন করতে হয়, তাহলে যেন সৈয়দ মুজতবা আলী করেন।”
এ বক্তব্যই বলে দেয়, বাংলা ভাষার ওপর তাঁর দখল কতটা গভীর।
ধর্ম নয়, মানবতাই মূল শিক্ষা
তিনি ছিলেন চরম ধর্মনিরপেক্ষ ও উদার মানুষ। সমালোচিতও হয়েছেন—কেউ বলত, তিনি নাকি পাকিস্তানি এজেন্ট! তবুও তিনি নিজে বলতেন—
“এক একটা লোক থাকে যেই সব জায়গায় ছন্দপতন ঘটায়, আমি বোধহয় সেই রকম লোক।”
😂 হাস্যরসের প্রতিমূর্তি
রসবোধ ছিল তাঁর অন্তরে রক্তস্রোতের মতো। মৃত্যুর আগে বলেছিলেন—
“আমার মৃত্যুর পর সবাইকে বলো, আলী সাহেব তাঁর সেরা বইটি লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন… কিন্তু প্যারালাইসিস হয়ে ডান হাতটা অবশ হয়ে গিয়েছিল।”
সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখনী
তাঁর জনপ্রিয় বইগুলো যেমন:
- দেশে-বিদেশে
- শবনম
- চাচা-কাহিনি
- পঞ্চতন্ত্র
সব কটি যেন জীবনের স্বাদ, ব্যঙ্গ, রসবোধ আর ভাষার কারুকার্যে গাঁথা এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
- জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, শ্রীহট্ট (সিলেট)
- মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- ভাষাজ্ঞান: বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফারসি, আরবি, জার্মান, ফরাসি, সংস্কৃতসহ মোট ১৭টি
শেষ শ্রদ্ধা:
সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন না, তিনি আছেন—সাহিত্যের প্রতিটি শব্দে, হাসির প্রতিটি মুহূর্তে, ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায়।
📸 ছবি: সংগৃহীত
- প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
- আরও বিশ্বসংবাদ জানতে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): বিনোদন / বলিউড
প্রকাশের তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া, বলিউড সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট
বলিউডে অভিনেত্রীদের সাফল্য যেমন রঙিন ও জমকালো, তেমনই তাঁদের ক্যারিয়ারে বিতর্কের ছায়াও কম নয়। নব্বইয়ের দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য—বিভিন্ন যুগে একাধিক অভিনেত্রী তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।

মন্দাকিনী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড বিতর্কের কালো ছায়া
নব্বইয়ের দশকে বলিউড এবং মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যকার অন্ধকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হলো ‘মন্দাকিনী-দাউদ ইব্রাহিম বিতর্ক’। ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের কালজয়ী সিনেমা ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি‘ দিয়ে রাতারাতি আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনেত্রী মন্দাকিনীর ক্যারিয়ার এই একটি বিতর্কের কালো ছায়ায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
এই হাই-প্রোফাইল বিতর্কের মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার নির্মম পরিণতি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শারজার সেই একটি ছবি ও তোলপাড় (১৯৯৪-৯৫)
এই চর্চিত বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন। স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসা আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ও ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের ঠিক পাশে বসা মন্দাকিনীর একটি ছবি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
- এই একটি ছবি রাতারাতি ভারতের গণমাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
- চারিদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, দুবাইয়ের রাজকীয় বাংলোয় মন্দাকিনী ও দাউদ একসাথে থাকছেন এবং ডনের ক্ষমতার জোরেই তিনি বলিউডে কাজ পাচ্ছেন। এমনকি তাদের সন্তান হওয়ার গুজবও রটেছিল।
২. আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়ায় ক্যারিয়ারের পতন
ছবিটি ফাঁসের পর বলিউডের সমীকরণ মন্দাকিনীর জন্য পুরোপুরি বদলে যায়।
- প্রযোজক-পরিচালকদের অনাগ্রহ: আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং পুলিশের ঝামেলার ভয়ে প্রথম সারির বড় প্রযোজক ও পরিচালকেরা মন্দাকিনীকে সিনেমায় কাস্ট করা বন্ধ করে দেন।
- সহ-অভিনেতাদের আতঙ্ক: গুঞ্জন ছিল যে, মন্দাকিনীকে সিনেমায় প্রধান চরিত্র না দেওয়ায় দাউদ ইব্রাহিম এক চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হুমকি ও হত্যার ছক কষেছিলেন। এমন এক ভীতি তৈরি হয়েছিল যে, সহ-অভিনেতারাও (যেমন মিঠুন চক্রবর্তী) তাঁর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে ভয় পাচ্ছিলেন।
- ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জোরদার‘ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা, যার পর তিনি রূপালী পর্দা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান।
৩. ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ ও চূড়ান্ত বিচ্ছেদ
১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের মূল মাস্টারমাইন্ড বা সন্দেহভাজন হিসেবে দাউদ ইব্রাহিমের নাম আসার পর এই বিতর্ক আইনি ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে রূপ নেয়। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (সিবিআই) আন্ডারওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেনের খোঁজে মন্দাকিনীকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক তথ্য বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে সামাজিক ও পেশাগতভাবে তাঁর চারপাশের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
৪. মন্দাকিনীর আত্মপক্ষ সমর্থন ও নতুন জীবন
মন্দাকিনী সবসময়ই দাউদের সাথে কোনো রোমান্টিক বা অবৈধ সম্পর্কের কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করে এসেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:
“শুধুমাত্র সামাজিক অনুষ্ঠানেই দাউদের সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং সম্পর্কের দাবিগুলি ভিত্তিহীন। আমি চাই না মানুষ দাউদের সঙ্গে আমার নাম জড়াক।” —
বলিউডের এই কালো অধ্যায় এবং গ্ল্যামারের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালে মন্দাকিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন বেছে নেন। তিনি একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও চিকিৎসক ড. কাগয়ুর রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে তিব্বতি ভেষজ চিকিৎসা কেন্দ্র ও যোগব্যায়াম শিক্ষার মাধ্যমে একটি শান্ত ও সাধারণ জীবন অতিবাহিত করছেন।
আধুনিক বলিউডে শীর্ষ সমালোচিত অভিনেত্রীদের তালিকা

আধুনিক বলিউডে (বিশেষ করে গত এক দশকের প্রেক্ষাপটে) তীব্র সমালোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ট্রোলের মুখোমুখি হওয়া শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকা নিচে তাদের সমালোচিত হওয়ার মূল কারণসহ উল্লেখ করা হলো:
- কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut):
- মূল কারণ: তিনি আধুনিক বলিউডের সবচেয়ে বিতর্কিত অভিনেত্রী। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে “মুভি মাফিয়া” আখ্যা দেওয়া, করণ জোহরকে “স্বজনপোষণের পতাকাবাহী” বলা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক মন্তব্য করার কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন।
- আলিয়া ভাট (Alia Bhatt):
- মূল কারণ: তারকা সন্তান (মহেশ ভাটের মেয়ে) হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি “নেপো কিড” বা স্বজনপোষণের (Nepotism) সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে সমালোচিত হয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর পর এই সমালোচনা তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়, যার ফলে তাঁর ‘সড়ক ২’ সিনেমার ট্রেলারটি ইউটিউবে অন্যতম সর্বোচ্চ ‘ডিজলাইক’ পাওয়া ভিডিওর রেকর্ড গড়ে।
- দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone):
- মূল কারণ: বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু ও পোশাক বিতর্কের কারণে তিনি বারবার বয়কট সংস্কৃতির মুখে পড়েছেন। ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় ঐতিহাসিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা নিয়ে রাজপুত গোষ্ঠীর মৃত্যুর হুমকি এবং ‘পাঠান’ সিনেমার ‘বেশরম রং’ গানে গেরুয়া রঙের পোশাক পরা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভের মুখোমুখি হন তিনি।
- কারিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor Khan):
- মূল কারণ: সাইফ আলী খানকে বিয়ে করার পর তাঁর দুই সন্তানের নাম (তৈমুর ও জাহাঙ্গীর) রাখা নিয়ে তীব্র সামাজিক ও ধর্মীয় ট্রোলিংয়ের শিকার হন। এছাড়া রামায়ণের ‘সীতা’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক দাবি করার গুঞ্জন ছড়ালে নেটিজেনরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করে।
- সানি লিওন (Sunny Leone):
- মূল কারণ: প্রাক্তন পর্ন তারকা হওয়ার অতীত পটভূমির কারণে বলিউডে মূলধারার অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে রক্ষণশীল সমাজ ও দৃষ্টিভঙ্গিগত তীব্র কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে (যেমন ‘মধুবন’ গান) পারফর্ম করার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার বয়কটের ডাক দেওয়া হয়।
- অনন্যা পাণ্ডে ও জাহ্নবী কাপুর (Ananya Panday & Janhvi Kapoor):
- মূল কারণ: এই নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা প্রধানত তাঁদের অভিনয় দক্ষতার ঘাটতি এবং “স্ট্রাগল” সংক্রান্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য করার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রোলিং ও স্বজনপোষণ বিতর্কের মুখোমুখি হন।
সমাপনী মূল্যায়ন
অতীত ও বর্তমানের বিতর্কের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অতীতে মন্দাকিনীর ঘটনা ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড ও ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আজও আলোচনায় আসে। অন্যদিকে বর্তমান যুগে কঙ্গনা, আলিয়া বা দীপিকাদের মুখোমুখি হতে হয় সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং, স্বজনপোষণ বিতর্ক ও সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিভাগ: অপরাধ ও বিচার / চলচ্চিত্র অঙ্গন
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ০১:১৫ (বিএসটি)
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ আদালত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘ ৩০ বছর পর হত্যা মামলায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ভোররাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন-কে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

পরবর্তীতে তাঁকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর বর্তমানে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছে সিআইডি।
১. মামলার চার্ট ও মূল আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ (পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হত্যা) ধারায় দায়ের করা এই হত্যা মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
[ সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের ভূমিকা ]
│
┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ মূল পরিকল্পনাকারী (Masterminds) ] [ পেশাদার আঘাতকারী চক্র ] [ আলামত লোপাট ও সহায়তা ]
• সামিরা হক (স্ত্রী) • আশরাফুল হক ডন (৪ নম্বর আসামি) • লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি/মধ্যস্থ)
• আজিজ মোহাম্মদ ভাই (ব্যবসায়ী) • ডেভিড, জাভেদ ও ফারুক • রাবেয়া সুলতানা রুবি (বিউটি পার্লার)
• রেজভি আহমেদ ফরহাদ • আব্দুস ছাত্তার ও সাজু
প্রধান প্রধান চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ:

- ১২ লাখ টাকার কিলিং কন্ট্রাক্ট: রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ও অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সামিরা হক যৌথভাবে ডন ও তার সহযোগীদের ১২ লাখ টাকার চুক্তি দিয়েছিলেন।
- আক্রোশ ও হোটেল সোনারগাঁও-এর ঘটনা: সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের পাশাপাশি মৃত্যুর কিছুদিন আগে সোনারগাঁও হোটেলের এক পার্টিতে সামিরাকে আড়ালে নেওয়ার চেষ্টা করলে সালমান প্রকাশ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে চড় মারেন। এর জেরেই তীব্র আক্রোশ তৈরি হয়।
- ক্লোরোফর্ম ও বিষাক্ত ইনজেকশন: ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ তারিখে সালমান শাহর বাসায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে খুনিরা প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে তাঁকে অচেতন করে এবং পরবর্তীতে বিশেষ বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
- আত্মহত্যার নাটক ও ফ্যানের সাথে ঝুলানো: মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সিলিং ফ্যানে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয় এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও পরিবারকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
২. আসামিদের অপরাধভিত্তিক ভূমিকার তুলনামূলক তালিকা
| আসামি / পক্ষ | এজাহার অনুযায়ী ভূমিকা | বর্তমান আইনি অবস্থা |
| আশরাফুল হক ডন | শারীরিক শক্তি প্রয়োগ, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও আলামত নষ্ট | গ্রেফতার (৯ আগস্ট ২০২৬), জামিন না মঞ্জুর ও সিআইডি হেফাজতে |
| সামিরা হক ও আজিজ ভাই | প্রধান পরিকল্পনাকারী, চুক্তি প্রদান ও অনৈতিক আক্রোশ | দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সিআইডির রেড অ্যালার্ট ও পলাতক |
| লতিফা হক লুসি | জামাতার প্রতি পারিবারিক আক্রোশ থেকে পেশাদার খুনিদের সাথে চুক্তি মধ্যস্থতা | পলাতক, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি |
| রাবেয়া সুলতানা রুবি | হত্যা সংঘটনে সহায়তা, ঘরের ভেতর থেকে আলামত দ্রুত সরিয়ে ফেলা | অভিযুক্ত আসামি (সাবেক লাইভ ভিডিওতে খুনের দাবি করেছিলেন) |
| রেজভি, ডেভিড ও ফারুক | জোরপূর্বক চেপে ধরা, বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ ও পাহারা দেওয়া | ১৬৪ ধারায় পূর্বে স্বীকারোক্তি ও আসামি |
৩. সিআইডি (CID)-র বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া ও সময়রেখা
[ সিআইডির বর্তমান পদক্ষেপসমূহ ]
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ডনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ] [ সীমান্তে রেড অ্যালার্ট ] [ ৩০ আগস্টের ডেডলাইন ]
• জামিন নামঞ্জুরের পর ডনকে • সামিরা ও আজিজ ভাইসহ বাকি • আদালতের নির্দেশে আগামী ৩০ আগস্টের
মুখোমুখি করে তথ্য যাচাই। ১০ জনের দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা। মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট পেশ।
৪. লন্ডন থেকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর ক্ষোভ ও দাবি

অভিনেতা ডন গ্রেফতারের খবরে লন্ডন থেকে গভীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী:
- “প্রকৃতির নিয়মে ডন ধরা পড়েছে”: নীলা চৌধুরী বলেন, “সালমানকে আত্মহত্যা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডন আমার ছেলের মৃত্যুর পর তার নামে অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করেছিল, আজ স্রষ্টার বিচারে সে ধরা পড়েছে।”
- সরকারের প্রতি আলটিমেটাম: ১৫ আগস্ট লন্ডনে ভক্তদের মানববন্ধনে যুক্ত হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ডন গ্রেফতার কেবল শুরু; সামিরা হক বা আজিজ মোহাম্মদ ভাই যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। তাঁরা পালালে তার পুরো দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে।
- ৩০ আগস্ট নিরপেক্ষ চার্জশিটের দাবি: তিনি আকুতি জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে তিনি একমাত্র বিচারের আশায় বেঁচে আছেন। সিআইডি যেন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পেশ করে।
শেষ কথা:
১৯৯৭ সালের সিআইডি রিপোর্ট, ২০১৪ সালের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ২০২০ সালের পিবিআই রিপোর্ট—তিনটি সংস্থাই পূর্বে যেটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলে দাবি করেছিল, আদালত তা বাতিল করে মামলাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা মামলা’ (৩০২ ধারা) হিসেবে চালুর নির্দেশ দেওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ৩০ আগস্ট সিআইডি আদালতে কী রিপোর্ট পেশ করে, সেদিকেই এখন পুরো দেশের নজর।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাক
“বিদ্রোহী” কিংবা “সাম্যবাদী” পরিচয়ের বাইরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এতটাই বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় যে, সাধারণ কোনো ফ্রেমে তাঁকে বন্দি করা অসম্ভব। আমরা তাঁকে চিনি আমাদের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে, অনুধাবন করি তাঁর অগ্নিঝরা কবিতার শক্তি। কিন্তু পর্দার নেপথ্যে নারদমুনির বেশে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়, ফুটবল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে উল্লাস কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একদিনের নীরব মৌনব্রতের কথা কজনই বা জানেন?
ইতিহাসের পাতা ও নজরুল গবেষকদের অনুসন্ধানে বিদ্রোহী কবির জীবনের এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা সাধারণ পাঠকের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে।
১. আইনি জটিলতার অবসান: এখন তিনি দাপ্তরিকভাবেও ‘জাতীয় কবি’
দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে গণমানুষের হৃদয়ে ও পাঠ্যপুস্তকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট ছিল না। অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
উক্ত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের ২৪ মে (কবির সপরিবারে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনের দিন) থেকেই এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাটি ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নজরুলের জাতীয় কবির খেতাব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাপ্তরিক অস্পষ্টতার চিরসংগ্রাম শেষ হয়।
২. রূপালি পর্দায় অল-রাউন্ডার নজরুল: পরিচালক, অভিনেতা ও ‘সুর ভাণ্ডারি’

১৯৩১ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কলকাতার চলচ্চিত্রে নজরুল একাধারে সফল অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন:
[ নজরুল: টকি সিনেমার স্বর্ণযুগ (১৯৩১-১৯৪২) ]
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ অভিনয় ] [ পরিচালনা ] [ সংগীত ]
• 'ধ্রুব' (১৯৩৪): নারদ চরিত্র • সত্যেন্দ্রনাথের সাথে যৌথভাবে • 'জামাই ষষ্ঠী'-তে সুর ভাণ্ডারি
• 'পাতালপুরী': খনি শ্রমিক 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র পরিচালনা • 'গোরা', 'বিদ্যাপতি', 'সাপুড়ে'
• 'হাল বাংলা': রসাত্মক চরিত্র • 'বেঙ্গল টাইগার পিকচার্স'-এর প্রধান ছবিতে বিখ্যাত কালজয়ী সুর
- দেবর্ষি নারদ চরিত্রে আত্মপ্রকাশ: ১৯৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল স্বয়ং ‘নারদ’ চরিত্রে অভিনয় করেন। কেবল অভিনয়ই নয়, এই ছবির ১৮টির মধ্যে ১৭টি গান তাঁর লেখা ছিল এবং তিনি নিজে ৪টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
- সুর ভাণ্ডারি: ১৯৩১ সালে নির্মিত প্রথম বাংলা সবাক ছবি ‘জামাই ষষ্ঠী’-তে সুরকার ও গায়কদের উচ্চারণ শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে সেসময় চলচ্চিত্র পাড়ায় ‘সুর ভাণ্ডারি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘গোরা’ (১৯৩৮) সিনেমার সংগীতেও তাঁর সুরের জাদুকরী ছোঁয়া ছিল।
৩. লাল-হলুদ ব্রিগেডের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক
আজকের ফুটবল উন্মাদনার বহু আগেই কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’-এর অন্ধ ভক্ত। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি ১৯৩৪ সালে ইস্টবেঙ্গল দল যখন আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ওঠে, তখন প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি একটি উদ্দীপনামূলক গানও রচনা করেছিলেন।
৪. সুস্থ অবস্থাতেও বৃহস্পতিবারের ‘মৌনব্রত’
জীবনের শেষ ৩৪টি বছর নজরুল ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick’s Disease) নামের স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক কাটিয়েছেন। তবে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী ও কবি পরিবারের স্মৃতি থেকে জানা যায়—নজরুল যখন শতভাগ সুস্থ ও চঞ্চল ছিলেন, তখনও তিনি আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) সম্পূর্ণ নীরব বা মৌনব্রত পালন করতেন। এই দিনটিতে তিনি কারো সাথে কথা বলতেন না।
৫. আসানসোলের রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের স্কুল

আমাদের জাতীয় কবির প্রতিভা বিকাশের নেপথ্যে অন্যতম অবদান ছিল এক পুলিশ অফিসারের। আসানসোলের রুটির দোকানে কাজ করা কিশোর নজরুলের অসাধারণ মেধা লক্ষ্য করে দারোগা কাজী রফিজ উদ্দিন তাঁকে নিজ দায়িত্বে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে ১৯১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নজরুল ‘৪৯তম বাঙালি ব্যাটালিয়ন’-এর সৈনিক হিসেবে করাচি সেনানিবাসে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে ‘হাবিলেদার’ পদে উন্নীত হন।
৬. রবীন্দ্রনাথের সেই ঐতিহাসিক অনশন ভাঙার বার্তা
১৯২৩ সালে রাজনৈতিক কারণে হুগলি জেলে বন্দী থাকাকালীন ব্রিটিশদের অন্যায়ের প্রতিবাদে নজরুল টানা ৩৯ দিন আমরণ অনশন করেন। কবির সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন:
“GIVE UP HUNGER STRIKE. OUR LITERATURE CLAIMS YOU.”
ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ চরম হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়ে টেলিগ্রামটির গায়ে “Addressee not found” লিখে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে মাতৃসম বিরজাসুন্দরী দেবী জেলে গিয়ে লেবুর রস খাইয়ে কবির অনশন ভাঙান।
৭. অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক
১৯২৮ সালে রচিত তাঁর ‘চল চল চল’ গানটি স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর অফিশিয়াল রণসঙ্গীত (National Marching Song) হিসেবে সংরক্ষিত। তিনি একদিকে যেমন লিখেছিলেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে’, তেমনি অন্য হাতে সৃষ্টি করেছিলেন ৫০০-র বেশি কালজয়ী ‘শ্যামাসঙ্গীত’ ও ভজন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালন করতেই তিনি নিজের সন্তানদের নাম রেখেছিলেন দুই ধর্মের সংস্কৃতির সমন্বয়ে—’কাজী কৃষ্ণ মোহাম্মদ’ এবং ‘কাজী অনিরুদ্ধ’।
সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
- সরকারি প্রজ্ঞাপন দাপ্তরিক কপি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট (২৪ ডিসেম্বর ২০২৪)।
- জাতীয় আর্কাইভ ও নজরুল ইনস্টিটিউট: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য কর্মসংকলন।
- চলচ্চিত্র ইতিহাস গ্রন্থ: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিবৃত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম (বাংলা একাডেমি প্রকাশনা)।
- স্মৃতিগ্রন্থ: মোস্তফা জামান আব্বাসী লিখিত নজরুলের স্মৃতিকথা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



