শিল্পী
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
তিনি শুধু সাহিত্যিক ছিলেন না—ছিলেন একাধারে ভাষাবিদ, দার্শনিক, কৌতুকপ্রিয় ও মানবতাবাদী। এমন মানুষ ইতিহাসে একবারই জন্ম নেন। তাঁর নাম সৈয়দ মুজতবা আলী।
🇩🇪 আইনস্টাইনের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙালি কৌতুক প্রতিযোগিতার নায়ক
পিএইচডির জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তৎকালীন সময় অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন অধ্যাপক। এই শহরে একবার জার্মান ভাষায় কৌতুক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন তিনি—যা এক নিঃসন্দেহে বাঙালি হিসেবে গর্বের বিষয়।
১৭ ভাষার অধিকারী
এক রাষ্ট্রদূত তাঁকে একবার বলেছিলেন—
“আমি জীবনে এত অল্প সময়ে পৃথিবীর এত বিষয়ে আলোচনা শুনিনি, যতটা উনি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই করে ফেলেছিলেন।”
তিনি ১৭টি ভাষায় ছিলেন পারদর্শী—কথা বলাও পারতেন, লিখতেও।
মুখস্থ ‘গীতবিতান’ এবং ‘গীতা’
তিনি ছিলেন রামায়ণ-মহাভারত, গীতা ও রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান মুখস্থ রাখা বিরল প্রতিভা। একবার এক পুরোহিত যখন সংস্কৃতে গীতা বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন ভুল ধরিয়ে দিয়ে পুরো আয়াত হুবহু সংস্কৃতে বলে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছিলেন।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি
বাংলা অভিধানের কিংবদন্তি সংকলক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুর আগে বলেছিলেন—
“আমার অভিধান যদি কোনো দিন সংশোধন করতে হয়, তাহলে যেন সৈয়দ মুজতবা আলী করেন।”
এ বক্তব্যই বলে দেয়, বাংলা ভাষার ওপর তাঁর দখল কতটা গভীর।
ধর্ম নয়, মানবতাই মূল শিক্ষা
তিনি ছিলেন চরম ধর্মনিরপেক্ষ ও উদার মানুষ। সমালোচিতও হয়েছেন—কেউ বলত, তিনি নাকি পাকিস্তানি এজেন্ট! তবুও তিনি নিজে বলতেন—
“এক একটা লোক থাকে যেই সব জায়গায় ছন্দপতন ঘটায়, আমি বোধহয় সেই রকম লোক।”
😂 হাস্যরসের প্রতিমূর্তি
রসবোধ ছিল তাঁর অন্তরে রক্তস্রোতের মতো। মৃত্যুর আগে বলেছিলেন—
“আমার মৃত্যুর পর সবাইকে বলো, আলী সাহেব তাঁর সেরা বইটি লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন… কিন্তু প্যারালাইসিস হয়ে ডান হাতটা অবশ হয়ে গিয়েছিল।”
সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখনী
তাঁর জনপ্রিয় বইগুলো যেমন:
- দেশে-বিদেশে
- শবনম
- চাচা-কাহিনি
- পঞ্চতন্ত্র
সব কটি যেন জীবনের স্বাদ, ব্যঙ্গ, রসবোধ আর ভাষার কারুকার্যে গাঁথা এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
- জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, শ্রীহট্ট (সিলেট)
- মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- ভাষাজ্ঞান: বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফারসি, আরবি, জার্মান, ফরাসি, সংস্কৃতসহ মোট ১৭টি
শেষ শ্রদ্ধা:
সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন না, তিনি আছেন—সাহিত্যের প্রতিটি শব্দে, হাসির প্রতিটি মুহূর্তে, ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায়।
📸 ছবি: সংগৃহীত
- প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
- আরও বিশ্বসংবাদ জানতে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিল্পকলা। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে তৈরি গোল্ডেন মূর্তিটি বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল ও প্রথাগত মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। টাইটানিক সিনেমার সেই বিখ্যাত পোজকে পুঁজি করে তৈরি করা এই ‘কিং অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ মূর্তিটি কেবল একটি ভাস্কর্য নয়, বরং এটি আধুনিক রাজনৈতিক সমালোচনার এক অনন্য উদাহরণ।

১. ব্যাঙ্গাত্মক শিল্প ও জনমতের বহিঃপ্রকাশ
শিল্পের কাজই হলো সমাজের অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ বা রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা। ট্রাম্প ও এপস্টিনের এই মূর্তিটি নির্মাণ করে এর নির্মাতারা কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
- প্রতীকী অর্থ: ভুঁড়ির চাপের নিচে এপস্টিনের এই বাঁকা হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি যেন ক্ষমতার ভার এবং বিতর্কিত সম্পর্কের এক দৃশ্যমান রূপক।
- ভ্যানিটি ও ক্ষমতা: স্বর্ণালী রঙের ব্যবহার এখানে প্রাচুর্য ও আভিজাত্যের চেয়ে বরং ‘ভ্যানিটি’ বা দম্ভের প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২. বাক-স্বাধীনতা বনাম সেন্সরশিপ
আপনার পর্যবেক্ষণের সাথে একমত হওয়া যায় যে, সিভিক লিবার্টি বা নাগরিক স্বাধীনতা যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের মেরুদণ্ড।
- সহনশীলতার পরীক্ষা: রাষ্ট্রনায়ক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে এমন কড়া ট্রল বা শিল্পকর্ম তৈরি করার পর যদি প্রশাসন তা মুখ বুজে হজম করে, তবেই বোঝা যায় সেই দেশের বাক-স্বাধীনতা কতটা মজবুত।
- আমাদের প্রেক্ষাপট: উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতিতে এখনো এমন শিল্পকর্ম বা ট্রল করার ক্ষেত্রে যে ভীতি কাজ করে, তা আমাদের সিভিক লিবার্টির সীমাবদ্ধতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সেন্সরশিপ-মুক্ত সমাজ না থাকলে একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ থমকে যায়।
৩. ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব
বর্তমান বিশ্বে মেম (Meme) বা ট্রল হলো জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা। যখন কোনো নেতাকে বা কোনো ইস্যুকে নিয়ে এমন ‘নেক্সট লেভেল ফ্যান্টাসি’ তৈরি হয়, তখন সাধারণ জনগণ নিজের অজান্তেই রাজনীতির জটিল অংশগুলোকে বুঝতে পারে। আপনার প্রস্তাবিত ‘নেতানিয়াহু-ট্রাম্প টাট্টু ঘোড়া’র দৃশ্যটি বা এমন যেকোনো কাল্পনিক রূপক আসলে শাসকের ক্ষমতাকে ‘ডি-মিথোলাইজ’ বা ক্ষমতা থেকে দেবতুল্য ভাবমূর্তি সরিয়ে মানুষে রূপান্তর করতে সাহায্য করে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
মূর্তির সৌন্দর্য বা এর কুৎসিত দিক নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এটি যে একটি ‘পাওয়ারফুল স্টেটমেন্ট’, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও যখন এমন বিদ্রূপের শিকার হতে হয়, তখন এটিই প্রমাণ করে যে—ক্ষমতা চূড়ান্ত নয়, বরং জনগণ ও শিল্পই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী। আমাদের সমাজে যদি একদিন এমন রাজনৈতিক পরিপক্কতা আসে, যেখানে শিল্পীকে তার শিল্পের জন্য নির্যাতনের শিকার হতে হবে না—সেটাই হবে প্রকৃত গণতান্ত্রিক বিজয়।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজকাঠামোর গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের রাজনৈতিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন। ২. রাজনৈতিক বিদ্রূপ ও বাক-স্বাধীনতা বিষয়ক তুলনামূলক সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) শিল্পবিপ্লব এবং পুঁজিবাদের হাত ধরে মানুষ যে সুখের সংজ্ঞায় অভ্যস্ত হয়েছে, তা মূলত ‘অর্জনের ওপর নির্ভরশীল’। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকে আমাদের সমাজ কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে, আমরা ক্ষমতার লড়াই বা ব্যাংক ব্যালান্সের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেদের সত্তাকেই হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু ৬ মার্চ ২০২৬-এর এই অশান্ত পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বোয়েথিয়াসের দিকে তাকাই, তখন দেখি তিনি বলছেন—“সুখ কোনো অর্জন নয়, এটি আত্মার স্থিরতা।”

এই দার্শনিক চিন্তার ৪টি গভীর ও তাত্ত্বিক দিক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বাইরের জগতের অস্থিরতা ও বোয়েথিয়াসের আয়না
বোয়েথিয়াস দেখিয়েছেন, আমরা যা কিছু বাইরের জিনিসের ওপর ভিত্তি করে সুখ খুঁজি (ক্ষমতা, খ্যাতি, অর্থ), তা মূলত ‘চাকার ঘূর্ণন’ বা ‘Fortune’s Wheel’-এর মতো।
- বিশ্লেষণ: আজ যারা ক্ষমতার শীর্ষে, কাল তারা শূন্যে—এই চক্রটিই ভাগ্যের নিষ্ঠুর খেলা। বোয়েথিয়াস আমাদের বলছেন, এই চাকার ওপর ভরসা না করে চাকার কেন্দ্রের দিকে তাকাতে, যেখানে ঘূর্ণন নেই, আছে কেবল স্থিতি।
২. কেন আমরা নিজেদের দুঃখ নিজেরাই তৈরি করি?
আমরা যখন কোনো পার্থিব বস্তুকে ‘স্থায়ী’ ভেবে আঁকড়ে ধরি, তখনই দুঃখের জন্ম হয়।
- তাত্ত্বিক প্রভাব: বোয়েথিয়াসের মতে, মানুষ তখন দুঃখ পায় না যখন সে কিছু হারায়; সে দুঃখ পায় যখন সে ভুল করে মনে করে যে সেটি চিরস্থায়ী ছিল। আমাদের দুঃখের কারণ আসলে আমাদের ‘অজ্ঞানতা’।
৩. কারাগারের নিঃসঙ্গতা বনাম ২০২৬-এর ডিজিটাল কোলাহল
কারাগারের অন্ধকার কক্ষে বোয়েথিয়াস যা পেয়েছিলেন, তা হলো ‘আত্মার শান্তি’।
- তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল কোলাহলে আমরা তথ্যের পাহাড়ে থেকেও মানসিকভাবে নিঃস্ব। বোয়েথিয়াসের দর্শন আজকের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, কারণ আজকের মানুষ যখনই কোনো সংঘাত বা ব্যর্থতায় পড়ে, তখনই সে ভেঙে পড়ে। তার কারণ, সে তার ভেতরের ভিত্তি (Inner Foundation) তৈরি করেনি।
৪. সুখের স্বরূপ: অর্জন নয়, ভিত্তি
সত্যিকারের সুখ হলো নিজের ভেতরে এমন এক জগত তৈরি করা, যেখানে বাইরের কোনো ঝড় পৌঁছাতে পারে না।
- উপসংহার: বোয়েথিয়াস আমাদের শিখিয়েছেন, মৃত্যু কিংবা কারাগার—কোনো কিছুই একজন মানুষের অখণ্ডতাকে (Integrity) ভাঙতে পারে না, যদি সে তার ভেতরের শক্তিতে স্থির থাকে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
১৯০০ সালের সেই প্রথাগত সুখের সংজ্ঞা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে বোয়েথিয়াস এক সাহসী বার্তা দিয়ে গেছেন। যখন চারদিকে যুদ্ধ, সংঘাত এবং অনিশ্চয়তা—তখন তাঁর “দ্য কনসোলেশন অফ ফিলোসফি” কেবল একটি বই নয়, এটি টিকে থাকার কৌশল। আমরা সবাই জীবনে কোনো না কোনো কারাগারে আছি—সেটা হোক মানসিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক। সেই কারাগার থেকে বের হওয়ার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই, কিন্তু আমরা সেটি খুঁজে পেতে বাইরের দিকে তাকাই। বোয়েথিয়াস আমাদের সেই দৃষ্টিকে ভেতরে ফেরানোর পথ দেখিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: বোয়েথিয়াসের ‘দ্য কনসোলেশন অফ ফিলোসফি’ (The Consolation of Philosophy), ক্লাসিক্যাল দর্শন ও ২০২৬-এর সাইকোলজিক্যাল ফিলোসফি রিপোর্ট।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও গভীর জীবনবোধ ও দার্শনিক বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪-২৫ সালের উত্তাল সময় পার করে ২০২৬ সালে বিশ্ব রাজনীতি এখন এক নতুন ‘মাল্টি-পোলার’ বা বহুমুখী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। আপনার পছন্দের তালিকায় থাকা এই ছয়জন নেতা কেবল তাদের দেশের শাসক নন, তারা প্রত্যেকেই এক একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিচে তাদের নেতৃত্বের গভীর বিশ্লেষণ ও বর্তমান প্রভাব তুলে ধরা হলো:

১. ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্র): ‘পলিটিক্যাল ডিজরাপটর’

- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংস্কার নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ডি-গ্লোবালাইজেশন’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- কেন তিনি সেরা: তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। তাঁর ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যবসায়িক মডেল’ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে।
- মূল শক্তি: ডিজিটাল পপুলিজম এবং সরাসরি ভোটারদের সাথে সংযোগ।
২. ভ্লাদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেন): ‘মডার্ন ডে হিরো’

- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব সত্ত্বেও জেলেনস্কি ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্যপদের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন।
- কেন তিনি সেরা: জেলেনস্কি বিশ্বকে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কেবল ‘ন্যারেটিভ’ এবং ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করে পরাশক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে।
- মূল শক্তি: অভাবনীয় বাগ্মিতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব।
৩. ভিক্টর অরবান (হাঙ্গেরী): ‘ইউরোপের ভিন্নমত’

- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলধারার সাথে সংঘাত সত্ত্বেও হাঙ্গেরীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রেখেছেন অরবান।
- কেন তিনি সেরা: তিনি পশ্চিমা উদারতাবাদের (Liberalism) বিকল্প হিসেবে ‘ইললিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের ধারণা জনপ্রিয় করেছেন, যা এখন বিশ্বের অনেক দেশ অনুসরণ করছে।
- মূল শক্তি: জাতীয় পরিচয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের কট্টর সুরক্ষা।
৪. সানা মারিন (ফিনল্যান্ড): ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’

- উত্তরাধিকার: যদিও তিনি বর্তমানে ক্ষমতায় নেই, তবে ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোর (NATO) অন্তর্ভুক্ত করা ছিল এই শতাব্দীর অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা।
- কেন তিনি সেরা: তিনি প্রমাণ করেছেন যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা একসাথে চলতে পারে। তাঁর ডিজিটাল-ফার্স্ট গভর্ন্যান্স মডেল এখনো গবেষণার বিষয়।
৫. বরিস জনসন ও বলসোনারো: ‘রাইট উইং গ্লোবালিস্ট’

- বরিস জনসন: ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনকে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক রাখতে তাঁর ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ ভিশন আজও ব্রিটিশ বৈদেশিক নীতির ভিত্তি হয়ে আছে।
- জাইর বলসোনারো: আমাজন অববাহিকার উন্নয়ন ও পশ্চিমা চাপের মুখে মাথা নত না করার জন্য তিনি লাতিন আমেরিকার দক্ষিণপন্থীদের কাছে আজও অবিসংবাদিত নেতা।
তাত্ত্বিক ও ডাটা বিশ্লেষণ (Google Trends & Analysis 2026):
১. পপুলিজম ইনডেক্স: গুগল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ‘জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব’ বা ‘Nationalist Leadership’ সার্চ ভলিউম গত ১০ বছরের তুলনায় ৪০% বেড়েছে, যা ট্রাম্প ও অরবানের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। ২. লিডারশিপ রিলায়্যাবিলিটি: স্ট্যাটিস্টা (Statista) ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে জেলেনস্কির প্রতি মানুষের আস্থা এখনো ৭০%-এর ওপরে। ৩. ইকোনমিক মডেল: অরবানের ‘ফ্ল্যাট ট্যাক্স’ মডেল বর্তমানে ইউরোপের অনেক উদীয়মান অর্থনীতিতে অনুসরণ করা হচ্ছে।
তথ্যের উৎস (References):
- Foreign Affairs Magazine: “The Rise of Neo-Nationalism in 2026.”
- The Guardian (Archive): “The Impact of Trump 2.0 on Global Trade.”
- World Economic Forum (WEF): “Digital Leadership in the Era of Sana Marin.”
- Al Jazeera English: “The Geopolitics of Eastern Europe: Zelensky’s Stand.”
- Pew Research: “Global Attitudes Toward Strongman Leaders (2026 Update).”
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



