আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: হাদী উল ইসলাম
মুয়াম্মার গাদ্দাফি: ভালো ও খারাপ কাজের অদ্ভুত মিশেল
মুয়াম্মার গাদ্দাফি, লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক, ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে পরিচিত। তার শাসনামলে তিনি যেমন দেশটির উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন, তেমনি একই সময়ে তার শাসন ছিল স্বৈরাশাসন, নির্যাতন, এবং অগণিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পরিপূর্ণ। গাদ্দাফির শাসনে খুব ভালো কাজ এবং খুব খারাপ কাজ একইভাবে সমান্তরালভাবে চলেছিল।
গাদ্দাফির ভালো কাজসমূহ
- লিবিয়ার পুনর্গঠন: গাদ্দাফি তার শাসনামলে লিবিয়াকে অত্যন্ত উন্নত একটি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। তার সময়েই লিবিয়ার শিক্ষিত নাগরিকের হার ২৫% থেকে বেড়ে ৮৩% হয়ে যায়।
- বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা: তিনি বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করতেন। এছাড়া, কৃষি খামারিদের জন্য সরকারিভাবে ভূমি ও বীজ সহ সব ধরনের উপকরণ দেয়া হতো।
- স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা: বিদেশে পড়াশোনা করতে গেলে, তার সরকার সব খরচ বহন করত এবং ২,৫০০ ইউএস ডলার বৃত্তি প্রদান করা হতো।
- সামাজিক নিরাপত্তা: লিবিয়ার প্রত্যেক নবদম্পত্তিকে ৫০ হাজার ডলার প্রদান করা হতো, যাতে তারা বাড়ি কিনতে পারে। এছাড়া, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তেল বিক্রির অংশ জমা হতো।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ: তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ২,৫০০ ইউএস ডলার বৃত্তি এবং গাড়ি ও আবাসন ভাতা প্রদান করতেন। এছাড়া, গাড়ি উৎপাদন মূল্যে প্রদান করা হতো।
গাদ্দাফির খারাপ কাজসমূহ
- নারী নির্যাতন ও যৌন অত্যাচার: গাদ্দাফি নারী দেহরক্ষী দ্বারা বেষ্টিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রাসাদে অনেক নারীকে আটকে রাখতেন এবং তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করতেন।
- রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন: তার শাসনামলে, বিপ্লব বিরোধীদের হত্যার পাশাপাশি তিনি ১৯৮৮ সালের প্যান আমেরিকান ফ্লাইট ১০৩ এর বিস্ফোরণের দায়ে অভিযুক্ত হন, যার ফলে ২৫৯ জন যাত্রী নিহত হয়।
- স্বৈরাশাসন: গাদ্দাফির শাসন ছিল অত্যন্ত একনায়কতান্ত্রিক। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি বিরোধিতা করতেন এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতালম্বীদের বর্বরভাবে দমন করতেন।
- বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন: গাদ্দাফি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে লিবিয়ার কোনো ঋণ ছিল না, যা তাকে বিশ্বের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতি অগ্রসর করেছে।
- ফুটবল ও সিনেমা বন্ধ: তার শাসনে, সিনেমা, থিয়েটার ও ফুটবল খেলা বন্ধ ছিল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচীও ছিল সীমিত।
গাদ্দাফির লিবিয়া: এক সোনালী যুগ বা এক দুর্বিষহ শাসন?
গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়া যদি একদিকে তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রসর হয়ে থাকে, তবে অন্যদিকে তার স্বৈরাশাসন, নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমনমূলক কার্যক্রম তাকে পৃথিবীজুড়ে বিতর্কিত করেছে। তিনি একই সময়ে ভালো এবং খারাপ কাজ করে গেছেন, যার ফলে তাকে নেতা না হয়ে অনেকের কাছে খলনায়ক হিসেবে মনে হয়।
সূত্র:
- DW, 02.10.2019
- বাংলাদেশ প্রতিদিন, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসন
- Roar Media, গাদ্দাফির জীবন এবং শাসন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [আপনার নাম/BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: ইসলাম ও জীবন
আমাদের মনে অনেক সময় একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়—আল্লাহ তো পবিত্র ও সুন্দর, তবে তিনি কেন পৃথিবীতে নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত বা অপবিত্র জিনিস সৃষ্টি করলেন? এই প্রশ্নটি যতটা না আধ্যাত্মিক, তার চেয়ে বেশি আমাদের সংজ্ঞাগত বোঝার অভাব।
আসলে আমরা আবিষ্কার, উদ্ভাবন এবং সৃষ্টি—এই তিনটি শব্দের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলি। চলুন আজকের ব্লগে বিষয়টি পানির মতো পরিষ্কার করে নেওয়া যাক।
১. আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন: যা আমরা করি

মানুষ কোনো কিছু শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে না। আমরা যা করি তা হলো:
- আবিষ্কার (Discover): কোনো জিনিস আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিল, আমরা শুধু তা খুঁজে বের করি। যেমন: কলম্বাস আমেরিকা খুঁজে পেয়েছেন কিংবা জগদীশ চন্দ্র বসু গাছের প্রাণ আবিষ্কার করেছেন।
- উদ্ভাবন (Invent): আগে থেকেই আছে এমন কিছু যন্ত্রপাতি বা উপাদান জোড়া দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা। যেমন: গ্রাহাম বেল টেলিফোন বানিয়েছেন বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে কারিগরকে সেই বস্তুগুলো স্পর্শ করতে হয়।
২. সৃষ্টি (Creation): যা কেবল আল্লাহ পারেন

সৃষ্টি হলো এমন কিছু যা আগে ছিল না এবং যা তৈরি করতে কোনো কাঁচামাল বা স্পর্শের প্রয়োজন হয় না। একটি ছোট ফলের বীজের কথা ভাবুন। এর ভেতরে ডাল, পাতা বা ফুল কি দেখা যায়? না। কিন্তু মাটিতে পুঁতলেই সেখান থেকে বিশাল গাছ হয়।
আল্লাহ যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করেন, তাকে তা স্পর্শ করতে হয় না। তিনি কেবল হুকুম দেন (কুন-ফায়াকুন), আর তা সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই অপবিত্র কিছু সৃষ্টি করার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাতে লিপ্ত। তিনি পবিত্রতা ও মহিমার সাথে কেবল হুকুমের মাধ্যমেই তা অস্তিত্বে আনেন।
৩. অপবিত্র জিনিস সৃষ্টির পেছনে রহস্য কী?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে—এসব নোংরা বা দুর্গন্ধময় জিনিস তৈরির দরকার ছিল কি? এর উত্তর লুকিয়ে আছে স্বয়ংক্রিয় রিসাইকেল (Automatic Recycle) প্রক্রিয়ায়।
পৃথিবীতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য পচনশীলতা জরুরি। কোনো কিছু নষ্ট হওয়া, পচে যাওয়া এবং পুনরায় মাটিতে মিশে যাওয়া—এই জটিল রাসায়নিক চক্রের মাধ্যমেই পৃথিবী টিকে আছে। এখন ভাবুন, যদি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পচা জিনিসগুলো দেখতে সুন্দর হতো বা সুগন্ধি ছড়াতো, তবে মানুষ কি তা থেকে দূরে থাকতো? অবশ্যই না।
আল্লাহর দয়া: তিনি ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা করে দিয়েছেন যাতে আমরা সহজাতভাবেই ওসব থেকে দূরে থাকি এবং সুস্থ থাকতে পারি। এটি মূলত মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।
উপসংহার: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)
পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত আছে। যা আমাদের চোখে অপবিত্র, তাও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই নিপুণ ও অর্থবহ।
আপনার মতামত: এই গভীর বিষয়টি কি আপনার আগে এভাবে ভেবেছিলেন? কমেন্টে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টেবিলে বাংলাদেশ এখন এক কুশলী খেলোয়াড়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী দর্শন—‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—নীতিকে পুঁজি করে ২০২৬ সালের জটিল বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ রাষ্ট্র আসলে কে?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাংলাদেশ সেই মানুষটির মতো, যে গ্রুপের সবার সাথেই সুসম্পর্ক রাখে। কারণ সে জানে, জীবনে কে কখন কাজে লাগবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।
১. ভারত: নাড়ির টানে বাঁধা পুরোনো বন্ধু

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কটা সেই পুরোনো দিনের। ১৯৭১ সালের কঠিন সময়ে ভারতের অবদান এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে। সীমান্ত ইস্যু বা পানি বণ্টন নিয়ে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হলেও, দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কটি সবসময়ই একটি ‘স্পেশাল’ মর্যাদা পায়। ২০২৬-এর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই ঐতিহাসিক টান অটুট রয়েছে।

২. চীন: উন্নয়নের ‘ক্যাশ-রিচ’ পার্টনার

যখনই বড় কোনো অবকাঠামো, ব্রিজ বা টানেলের কথা আসে, তখনই বাংলাদেশের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চীনের মুখ। এই বন্ধুটি বেশ হেল্পফুল এবং বড় বড় প্রজেক্টে অর্থায়নে কার্পণ্য করে না। বাংলাদেশ জানে, দেশের উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই।
৩. জাপান: নিঃস্বার্থ ও নীরব কর্মবীর

জাপান হচ্ছে সেই বন্ধু, যে খুব বেশি কথা বলে না কিন্তু একদম কাজের মানুষ। মেট্রো রেল থেকে শুরু করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর—বাংলাদেশের রূপান্তরের পেছনে জাপানের অবদান অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন। কোনো ভূ-রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে।
৪. যুক্তরাষ্ট্র: নিয়মের কড়াকড়ি ও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্র সেই বন্ধু, যে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেয় কিন্তু সাথে একগাদা ‘রুল বুক’ বা নিয়ম ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ওয়াশিংটন সবসময়ই একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (BDS Analysis):
২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশ যেভাবে সবার সাথে ব্যালেন্স করছে, তা অসাধারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি, চীন-জাপান থেকে বিনিয়োগ এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রপ্তানি সুবিধা—সবগুলোকেই বাংলাদেশ সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সোজা কথায়, বাংলাদেশ এখন ‘স্মার্ট ডিপ্লোম্যাসি’র এক সফল উদাহরণ।
তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা (Sources):
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ): বৈদেশিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেস রিলিজ।
- ডয়েচে ভেলে ও রয়টার্স: দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদন (এপ্রিল ২০২৬)।
- মহাসাগরীয় ও কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বিডিএস ডিজিটাল এজেন্সি জিওপলিটিক্যাল ডাটা ব্যাংক।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
আজ ১২ মার্চ ২০২৬। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদের চলে যাওয়ার দিন। যিনি কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন এক বিশাল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মশিউর রহমান যাদু মিয়া—যাঁর নাম শুনলে ভেসে ওঠে এক আপসহীন নেতার ছবি, যিনি রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত সর্বত্র ছিলেন সমান তেজস্বী।

১. ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে উত্থান
১৯২৪ সালে নীলফামারীর ডিমলায় জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ছাত্রজীবনেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৬-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ—সবখানেই যাদু মিয়ার উপস্থিতি ছিল অনন্য। তিনি ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পরবর্তীকালে মওলানা ভাসানীর হাত ধরে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২. মজলুম জননেতার সুযোগ্য উত্তরসূরি
মওলানা ভাসানীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন যাদু মিয়া। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা থাকাকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা এবং ইয়াহিয়া খানকে ‘গাদ্দার’ বলার দুঃসাহস তাঁকে গণমানুষের নায়কে পরিণত করেছিল।
৩. ফারাক্কা লং মার্চ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি
১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের মূল সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল যাদু মিয়ার কাঁধে। ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি ন্যাপের হাল ধরেন। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হন।
৪. বিএনপি গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় ‘সিনিয়র মন্ত্রী’
যাদু মিয়া ছিলেন আধুনিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম স্থপতি। ন্যাপের কার্যক্রম স্থগিত করে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৫. এক ঐতিহাসিক প্রস্থান
১২ মার্চ ১৯৭৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর চিকিৎসায় ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনা হলেও নিয়তির অমোঘ লিখন পাল্টানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন সময়ে এক বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: যাদু মিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি কেবল দল গঠন করেননি, দিয়েছেন এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দর্শন। আজকের ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটেও তাঁর সেই ‘দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি’র ঐক্যের ডাক সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন উত্তরের চরাঞ্চলের মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ, যাঁর নামানুসারে আজও টিকে আছে ‘যাদুর চর’।
মশিউর রহমান যাদু মিয়া: এক নজরে (১৯২৪-১৯৭৯)
| পর্যায় | রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান |
| জন্ম | ৯ জুলাই ১৯২৪, ডিমলা, নীলফামারী। |
| আন্দোলন | তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন। |
| উপাধি | ‘যাদু মিয়া’ নামে সমধিক পরিচিত। |
| সাফল্য | পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা (১৯৬২)। |
| অবদান | ফারাক্কা লং মার্চের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান (১৯৭৬)। |
| রাষ্ট্রীয় পদ | সিনিয়র মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায়), জিয়াউর রহমান সরকার। |
| জীবনাবসান | ১২ মার্চ ১৯৭৯, ঢাকা। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



