বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি

শিলং রহস্য: বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের অন্তর্ধান ও পুনরাবির্ভাবের পূর্ণচিত্র
সালাহউদ্দিন আহমেদের শিলং রহস্য

নিউজ ডেস্ক

October 8, 2025

শেয়ার করুন

রিপোর্ট: রাজনৈতিক ডেস্ক | অক্টোবর ২০২5


রহস্যময় অন্তর্ধান

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।
পরিবারের অভিযোগ ছিল, সেদিন রাত ১০টার দিকে কিছু লোক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁর বাসায় প্রবেশ করে এবং তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তী ৬২ দিন তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বিএনপি অভিযোগ তোলে যে এটি ছিল একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত গুমের ঘটনা, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবি সবসময়ই অস্বীকার করা হয়।

শিলংয়ে হঠাৎ উপস্থিতি

নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর, ২০১৫ সালের ১১ মে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলং-এ পুলিশ এক বাংলাদেশি নাগরিককে পায়, যিনি পরে নিজের পরিচয় দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ হিসেবে।
তাকে প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান শিলংয়ের গলফ লিংক রোড এলাকায় হাঁটতে। পুলিশ তাঁকে আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়।

শিলং থানার রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ইলিগ্যাল এন্ট্রি অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা হয়।

সূত্র:


শিলংয়ে দিনযাপন ও শারীরিক অবস্থা

শিলংয়ে থাকাকালীন সালাহউদ্দিনকে রাখা হয় ‘সানরাইজ গেস্ট হাউস’-এ। স্থানীয় গণমাধ্যম ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিনি তখন মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল—

  • বাম কিডনি কাজ করা বন্ধের পথে,
  • হার্টে স্টেন্ট,
  • হাইড্রোনেফ্রোসিস (কিডনির ফোলা) রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

মেঘালয়ের পুলিশ তাঁকে জামিনে মুক্তি দিলেও শর্ত ছিল, তিনি শিলংয়ের বাইরে যেতে পারবেন না যতক্ষণ না আদালতের রায় হয়।
তিনি নিয়মিত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং বাংলাদেশি দূতাবাস ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

সূত্র:

আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের রায়

২০১৫ সালের জুনে শিলং আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় Foreigners Act, 1946 এর আওতায়।
মামলা চলাকালীন সময়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি অপহৃত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে এসেছি; আমার কোনো জ্ঞানে এটি ঘটেনি।”

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে, ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ, মেঘালয়ের আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দেয় এবং দেশে ফেরার অনুমতি দেয়। তবে চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি আরও কিছু মাস শিলংয়ে অবস্থান করেন।

সূত্র:

দেশে প্রত্যাবর্তন ও বর্তমান রাজনীতি

প্রায় নয় বছর বিদেশে থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে, তিনি দেশে ফেরেন এবং আবারও বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তিনি দলীয় অভ্যন্তরীণ মিটিং ও টেলিভিশন আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন এবং গণভোট ইস্যু নিয়ে দলীয় কৌশল তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।

একাধিক সূত্র বলছে, তিনি এখনো বিএনপি–র অন্যতম কৌশল প্রণেতা, এবং তার বক্তব্যে প্রায়ই দেখা যায়

  • বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচনা,
  • জাতীয়তাবাদ ও গণআন্দোলনের প্রতি সমর্থন,
  • গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের আহ্বান।

সূত্র:

রহস্য এখনো অব্যাহত

যদিও সালাহউদ্দিন নিরাপদে ফিরে এসেছেন, তবুও তাঁর অন্তর্ধান ও শিলং পৌঁছানোর পথ আজও রহস্যে ঢাকা।
বাংলাদেশি ও ভারতীয় উভয় তদন্ত সংস্থা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারেনি, তিনি কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন।
মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, এই ঘটনা “গুমের শিকারদের আন্তর্জাতিক নথি সংরক্ষণের একটি দৃষ্টান্ত” হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে।

উপসংহার

সালাহউদ্দিন আহমেদের গল্প বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ—
একজন রাজনীতিকের রহস্যময় গুম, আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে পুনরাবির্ভাব, আর শেষে ন্যায়বিচারের প্রত্যাবর্তন।
তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু রাজনীতিক নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার প্রতিচ্ছবিও তুলে ধরে।


মূল সূত্রসমূহ:

  1. BBC Bangla, 2015–2024
  2. Benar News, 2015
  3. Bangla Tribune, 2015
  4. The Hindu, 2018
  5. Prothom Alo, 2024
  6. Wikipedia (বাংলা সংস্করণ)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভারতীয় সংবিধান

নিউজ ডেস্ক

August 5, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক আইনি ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট শত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতের শক্তি হলো এর সুসংগঠিত সংবিধান। ভারতীয় সংবিধান দেশের নাগরিকদের কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতাই দেয়নি, বরং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বাঁধনেও আবদ্ধ করেছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভারতীয় নাগরিকেরা সংবিধানের অধীনে কী কী অধিকার ভোগ করেন এবং তাঁদের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো কী, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সংবিধানে স্বীকৃত ৬টি মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)

ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় খণ্ডে (Part III) নাগরিকদের ৬টি প্রধান মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তি কেড়ে নিতে পারে না:

মৌলিক অধিকারসংবিধানের অনুচ্ছেদপ্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
১. সাম্যের অধিকারঅনুচ্ছেদ ১৪ – ১৮আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
২. স্বাধীনতার অধিকারঅনুচ্ছেদ ১৯ – ২২বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন তৈরি, দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াত এবং জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১)
৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকারঅনুচ্ছেদ ২৩ – ২৪মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম (বেগার খাটা) এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারঅনুচ্ছেদ ২৫ – ২৮প্রত্যেক নাগরিক পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ধর্ম পালন, চর্চা এবং প্রচার করার পূর্ণ স্বাধীনতা পান।
৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকারঅনুচ্ছেদ ২৯ – ৩০যেকোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি রক্ষা এবং নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে।
৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকারঅনুচ্ছেদ ৩২কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে আপিল করে আইনি সুরক্ষার আদেশ (Writ) পেতে পারেন।

২. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার

  • সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার: ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক স্বাধীনভাবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
  • নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগঠন গঠন: সংবিধানে প্রদত্ত অনুচ্ছেদ ১৯(১)(c) অনুসারে নাগরিকেরা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন এবং পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
  • তথ্য জানার অধিকার (RTI Act, 2005): ২০০৫ সালে পাস হওয়া ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ আইনের মাধ্যমে নাগরিকেরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তথ্য, খরচ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিবরণ জানতে চাইতে পারেন, যা প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনে।

৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদসমূহ

নাগরিক অধিকার যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের দ্বারা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ভারতের বিচার বিভাগকে (সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টসমূহ) সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখা হয়েছে।

ভারতের প্রধান সাংবিধানিক পদসমূহ:

  • রাষ্ট্রপতি: ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
  • প্রধানমন্ত্রী: দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান।
  • প্রধান বিচারপতি (CJI): বিচার বিভাগের প্রধান ও সংবিধানের রক্ষক।

৪. সংবিধানের চতুর্থ খণ্ড: নাগরিকদের ১০টি মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties)

সংবিধানের অংশ IV (Part IV-A) এর অনুচ্ছেদ ৫১A (Article 51A)-তে দেশের নাগরিক হিসেবে কিছু মৌলিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে:

  • রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য (51A-a): জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
  • দেশপ্রেম ও অখণ্ডতা (51A-b/c): ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।
  • জনসেবা ও প্রতিরক্ষা (51A-d): প্রয়োজনে দেশের জন্য জনসেবায় উৎসর্গ হওয়া।
  • নৈতিকতা ও ভাতৃত্ববোধ (51A-e): ধর্মীয় ও ভাষাগত বিভেদ ভুলে ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
  • সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা (51A-f): দেশের ঐতিহ্য ও মিশ্র সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো।
  • পরিবেশ রক্ষা (51A-g): বোন, নদী, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা।
  • বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও মানবিকতা (51A-h): বিজ্ঞানমনস্কতা ও সংস্কারমুখী চিন্তা বিকাশ করা।
  • সম্পদের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও জনসম্পত্তি রক্ষা (51A-i): সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং সহিংসতা ত্যাগ করা।
  • উৎকর্ষতার চেষ্টা (51A-j): ব্যক্তিগত ও যৌথ কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া।
  • শিক্ষার প্রতি আগ্রহ: ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।

শেষ কথা

ভারতীয় সংবিধান কেবল একটি শাসন পরিচালনাকারী দলিল নয়; এটি নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। অধিকার ভোগ এবং কর্তব্যের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আজ ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং গতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে টিকে রয়েছে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

কলকাতা থেকে দিল্লি রাজধানী স্থানান্তর

নিউজ ডেস্ক

August 5, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতি ফিচার | পালস বাংলাদেশ

১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর—এই তিনটি গ্রাম কিনে যে আধুনিক কলকাতা নগরের গোড়াপত্তন করেছিল, পরবর্তীতে তা হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রাণকেন্দ্র। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার হাতে নিলে কলকাতাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হয়।

লন্ডনের আদলে গড়ে ওঠা এই শহরে একে একে তৈরি হয় রাজকীয় লাটভবন, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ। বিদ্যাচর্চা, চিকিৎসা ও সংস্কৃতিতে কলকাতা তখন গোটা এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ স্থানে। কিন্তু এত ঐতিহ্য ও প্রাচুর্য সত্ত্বেও ১৯১১ সালে ব্রিটিশরা কেন তাদের প্রিয় রাজধানী কলকাতা ছেড়ে প্রাচীন মোগলদের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতে স্থানান্তর করেছিল? এবং ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতই বা কেন সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখল?

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এর নেপথ্যে ছিল ভৌগোলিক কৌশল, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য বিপ্লবী অধ্যায়।

১. রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণসমূহ

১.১ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান (Geographical Advantage)

কলকাতা ছিল ভারতের পূর্ব প্রান্তের এক কোণে অবস্থিত। বিশাল ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চল শাসন করা এবং সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এটি ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক ছিল না। পক্ষান্তরে, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত দিল্লি থেকে পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারত সরকারও দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এই কেন্দ্রীয় অবস্থানকেই বহাল রাখে।

১.২ বেয়াড়া কলকাতা ও স্বদেশী আন্দোলনের উত্তাপ

ব্রিটিশদের আসল বিপদ শুরু হয় ‘বাংলা নবজাগরণ’-এর পর। অনুগত কেরানি তৈরি করতে গিয়ে ব্রিটিশরা উল্টো উপহার পেল একঝাঁক শিক্ষিত ও মেরুদণ্ডী বাঙালি বুদ্ধিজীবী। ১৯০৫ সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) করলে রাজপথে নেমে আসে বাঙালি। বয়কট ও স্বদেশী আন্দোলনে ব্রিটিশ অর্থনীতি কেঁপে ওঠে। কলকাতা পরিণত হয় সশস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের শক্ত ঘাঁটিতে। ফলে নিরাপদ স্থানে প্রশাসনিক কাজ চালানোর তাগিদ অনুভব করে ব্রিটিশ রাজ।

১.৩ দিল্লির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা

শতাব্দী ধরে দিল্লি ছিল মোগল সাম্রাজ্যসহ বিভিন্ন পরাশক্তি রাজবংশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় জনগণের মনস্তত্ত্ব জয় করতে এবং নিজেদের মোগলদের প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে জাহির করতে ব্রিটিশরা দিল্লিতে রাজধানী সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

২. ১৯১১ সালের রাজকীয় দিল্লি দরবার ও গোপন ঘোষণা

১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির ‘কিংসওয়ে ক্যাম্প’ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক ঐতিহাসিক রাজকীয় দরবার। এটিই ছিল একমাত্র দিল্লি দরবার যেখানে ব্রিটেনের তৎকালীন সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং সম্রাজ্ঞী কুইন মেরি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

দরবারের একেবারে শেষ মুহূর্তে রাজা পঞ্চম জর্জ আকস্মিকভাবে জোড়া ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন: ১. তীব্র গণআন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ (বাতিল) করা হলো। ২. ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী চিরতরে কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

বাঙালিকে শান্ত করতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলেও, রাজধানী কেড়ে নিয়ে কলকাতার প্রশাসনিক গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়।

৩. চাঁদনি চক ষড়যন্ত্র: ভাইসরয়ের ওপর দুঃসাহসিক হামলা (১৯১২)

বাঙালি বিপ্লবীরা এই অপমান সহজে মেনে নেননি। রাজধানী স্থানান্তরের ঠিক এক বছর পূর্তিতে ২৩ ডিসেম্বর, ১৯১২ তারিখে ঘটে এক রোমাঞ্চকর ঘটনা।

নতুন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ (Lord Hardinge) যখন বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে হাতির পিঠে চড়ে দিল্লির ঐতিহাসিক চাঁদনি চকে প্রবেশ করছিলেন, তখন নারীদের ভিড়ে মিশে থাকা তরুণ বিপ্লবী বসন্ত কুমার বিশ্বাস তাঁর দিকে শক্তিশালী একটি বোমা ছুঁড়ে মারেন।

বোমার বিস্ফোরণে হাতির চালক (মহাবত) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এই সশস্ত্র হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসুশচীন সান্যাল

৪. মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু: লর্ড হার্ডিঞ্জ হামলা থেকে ‘পি. এন. ঠাকুর’ ছদ্মবেশ

হামলার পরপরই পুরো দিল্লি পুলিশ তোলপাড় শুরু করলেও রাসবিহারী বসু অত্যন্ত চতুরতার সাথে ট্রেনে চেপে দেরাদুনে নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসেন। পরদিন অফিসে গিয়ে উল্টো সহকর্মীদের নিয়ে ভাইসরয়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসভা করেন! ফলে পুলিশ শুরুতে তাঁকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেনি।

  • গদর বিপ্লবের ছক (১৯১৫): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গদর পার্টি’র সহায়তায় ভারতজুড়ে সেনা অভ্যুত্থানের ছক আঁকেন তিনি। কিন্তু ভেতরে থাকা গোয়েন্দার বিশ্বাসঘাতকতায় তথ্য ফাঁস হলে ১৯১৫ সালে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দূরসম্পর্কের আত্মীয় ‘পি. এন. ঠাকুর’ (P. N. Tagore) ছদ্ম নাম নিয়ে জাহাজে করে জাপানে পালিয়ে যান।
  • জাপানে রাজনৈতিক আশ্রয়: জাপানেও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা পিছু ছাড়েনি। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি প্রভাবশালী নেতা তোয়ামা মিৎসুরুর আশ্রয়ে থেকে এবং জাপানি নারী তোশিকো সোমাকে বিয়ে করে ১৯২৩ সালে জাপানের নাগরিকত্ব পান রাসবিহারী বসু।

৫. আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে মেলবন্ধন (১৯৪৩–১৯৪৫)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালে জাপানে বন্দী ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে রাসবিহারী বসু গঠন করেন ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ (INA) বা আজাদ হিন্দ ফৌজ

  • ঐতিহাসিক দায়িত্ব হস্তান্তর: দূরদর্শী রাসবিহারী বসু বুঝতে পেরেছিলেন এই বিশাল আন্দোলন পরিচালনার জন্য সুভাষচন্দ্র বসুর মতো আপসহীন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ১৯৪৩ সালের ৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি সানন্দে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে তুলে দেন। নেতাজি তাঁকে আন্দোলনের ‘সর্বোচ্চ উপদেষ্টা’ পদে সম্মান জানান।
  • শেষ বিদায় (১৯৪৪–১৯৪৫): দীর্ঘদিন যক্ষ্মা ও হাঁপানিতে ভোগা রাসবিহারী বসুর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতেন নেতাজি নিজে। ১৯৪৪ সালের শেষদিকে টোকিওতে মৃত্যুশয্যায় শায়িত রাসবিহারী বসুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন নেতাজি। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি এই মহান বিপ্লবী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে নেতাজি তাঁকে “পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের জনক” হিসেবে অভিহিত করেন।

৬. স্বাধীন ভারতের নতুন দিল্লি ও শিমলার ভূমিকা

দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের ঘোষণা ১৯১১ সালে হলেও, প্রখ্যাত স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স এবং হারবার্ট বেকার-এর নকশায় পরিকল্পিত আধুনিক ‘নতুন দিল্লি’ (Lutyens’ Delhi) শহর তৈরি হতে ২০ বছর সময় লাগে। ১৯৩১ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই দীর্ঘ সময়টাতে ব্রিটিশরা গ্রীষ্মকালে পাহাড়ি শহর শিমলা (Simla) থেকে তাদের প্রশাসনিক কাজ চালাত।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর স্বাধীন ভারতের হাতে আসে তৈরি করা রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন ও সচিবালয়ের মতো সুবিশাল পরিকাঠামো। একটি সদ্য স্বাধীন ও অর্থ সংকটে থাকা দেশের জন্য নতুন করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নতুন কোনো শহরে রাজধানী তৈরি করা সম্ভব ছিল না। তাই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধার্থে নতুন দিল্লিই থেকে যায় স্বাধীন ভারতের রাজধানী হিসেবে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শাহরুখ খান

নিউজ ডেস্ক

August 1, 2026

শেয়ার করুন

শাহরুখ খানকে বলিউডের “বাদশা” বা “কিং খান” বলা হয় তাঁর অসাধারণ অভিনয়জীবন, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর তাঁর বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে।

১. বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা

  • গ্লোবাল আইকন: কেবল ভারত বা এশিয়ায় নয়; মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাতেও তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: খ্যাতনামা মার্কিন মিডিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাঁকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুভি স্টার” হিসেবে অভিহিত করেছিল।

২. বক্স অফিস রেকর্ড ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

  • আইকনিক রোমান্টিক রাজত্ব: ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায় এবং কাভি খুশি কাভি গাম-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি একক অধিপত্য বিস্তার করেন।
  • ঐতিহাসিক ব্যাক-টু-ব্যাক হিটস: চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে তিনি পরপর দুটি ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি আয়ের ব্লকবাস্টার (পাঠানজওয়ান) উপহার দিয়ে নিজের বক্স অফিস শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করেন।

৩. চলচ্চিত্রের বাইরে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

  • রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট: তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ও সফল ভিএফএক্স (VFX) স্টুডিও এবং প্রোডাকশন হাউসের মালিক।
  • আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লিগ আইপিএলের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী।

৪. শূন্য থেকে শীর্ষের গল্প

বলিউডে কোনো পারিবারিক পরিচিতি বা ‘গডফাদার’ ছাড়া, দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে কেবল নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে পৌঁছানোর গল্পটি কোটি মানুষের কাছে এক পরম অনুপ্রেরণা।

২০২৬ সালের মেগা প্রজেক্ট: ‘কিং’ (King)

শাহরুখ খানের সবচেয়ে বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’ (King) নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

মূল তথ্যসমূহ:

  • মুক্তির তারিখ: ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস উৎসব)।
  • পরিচালনা ও প্রযোজনা: পরিচালনা করছেন বিখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ আনন্দ। প্রযোজনায় রয়েছে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স।
  • কাস্টিং চমক: বড় পর্দায় এই প্রথম শাহরুখ খানের সাথে দেখা যাবে তাঁর মেয়ে সুহানা খান-কে। এছাড়া প্রধান খলনায়কের ভূমিকায় রয়েছেন অভিষেক বচ্চন এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন
  • চরিত্র ও লুক: হলিউড ক্লাসিক ‘লিয়ন: দ্য প্রফেশনাল’-এর আদলে তৈরি এই অ্যাকশন-থ্রিলারে শাহরুখকে এক ঝানু আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন বা অ্যাসাসিনের চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে তাঁর লুকে থাকবে হালকা পাকা চুল-দাড়ির স্টাইলিশ সংমিশ্রণ।

বাজেট, মিউজিক ডিল ও সম্ভাব্য পারিশ্রমিক

১. বাজেট (₹৩৫০ কোটি – ₹৪৫০ কোটি)

  • স্কেল ও ভিএফএক্স: আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউটর ও ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, ৬টি বিশাল অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও হাই-এন্ড ভিএফএক্স-এর কারণে সিনেমাটির আনুমানিক বাজেট ₹৩৫০ কোটি থেকে ₹৪৫০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
  • পরিচালকের বক্তব্য: ৪৫০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কিছু মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ালে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়িয়ে দেন; তবে এটি যে শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্ট তা নিশ্চিত।

২. রেকর্ড মিউজিক ডিল (₹৫০ কোটি)

  • অডিও বা মিউজিক রাইটস বিক্রির জন্য জি মিউজিক (Zee Music)-এর সাথে রেকর্ড ₹৫০ কোটি টাকার চুক্তি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
  • সিনেমাটির গান কম্পোজ করছেন শচীন-জিগার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM)-এর দায়িত্বে আছেন রকস্টার মিউজিক ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রবিচন্দের

৩. তারকাদের আনুমানিক পারিশ্রমিক (এক নজরে)

তারকার নামচলচ্চিত্রে ভূমিকাআনুমানিক পারিশ্রমিক (রুপি)
শাহরুখ খানপ্রধান লিড (ডন/মেন্টর)₹১৫০ কোটি – ₹২৫০ কোটি (প্রফিট শেয়ারিং)
দীপিকা পাড়ুকোনবিশেষ চরিত্র₹১৫ কোটি – ₹২০ কোটি
অভিষেক বচ্চনপ্রধান খলনায়ক (Villain)₹১০ কোটি
অনিল কাপুরগুরুত্বপূর্ণ চরিত্র₹৮ কোটি
সুহানা খানসমান্তরাল লিড/শিষ্য₹১ কোটি
অন্যান্য (জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি)সহকারী চরিত্র₹২ কোটি – ₹৫ কোটি

(দ্রষ্টব্য: পারিশ্রমিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো ভারতীয় ট্রেড অ্যানালিস্টদের সূত্রে প্রাপ্ত, যা প্রযোজনা সংস্থা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়ে থাকে)।

২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ