অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS), যুগান্তর অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, এবং প্রবাসীর দিগন্ত বাজারদর গাইড।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনার (পাকা সোনা) সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। টানা কয়েক দফা দাম বাড়ার পর সাম্প্রতিক সংশোধনীতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ক্যারেটভেদে পাকা সোনা এবং রুপার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ও প্রতি গ্রামের অফিশিয়াল বাজারদর নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. একনজরে আজকের স্বর্ণের বাজারদর (BAJUS Gold Price)
আজকের নতুন দর অনুযায়ী ভ্যাটসহ দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পাকা স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য নিম্নরূপ:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): প্রতি ভরি ২,২৬,৯২৩ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৯,৪৫৫ টাকা)। (পূর্বের তুলনায় ভরিতে ২,৭৪১ টাকা কমানো হয়েছে)।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৭১৭ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৬,০৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,৫২,০৪০ টাকা

২. একনজরে আজকের রুপার বাজারদর (Latest Silver Price)
স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলেও দেশের বাজারে রুপা বা রৌপ্যের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাজুস নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী আজ রুপার প্রতি ভরির বাজারদর নিচে দেওয়া হলো:
- ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩,৪৯৯ টাকা।
- ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩,৩৮৩ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ২,৯১৬ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ২,২১৬ টাকা।
৩. গহনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ (ভ্যাট ও মজুরি)
বাজুস নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপরোক্ত মূল্যটি কেবল পাকা বা খাঁটি ধাতুটির মূল দাম। আপনি যদি শোরুম বা দোকান থেকে তৈরি করা কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা রৌপলঙ্কার কিনতে চান, তবে ফাইনাল বিলের সাথে নিচের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি যুক্ত হবে
- সরকারি ভ্যাট: বিক্রয়মূল্যের ওপর বাধ্যতামূলক ৫% ভ্যাট (VAT) যুক্ত হবে।
- মেকিং চার্জ বা মজুরি: অলঙ্কারের ডিজাইন ও ক্যালিবারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ভরিতে সর্বনিম্ন ৬% থেকে ১৫% পর্যন্ত (কিংবা ডিজাইনভেদে নির্দিষ্ট মজুরি) মেকিং চার্জ যোগ হবে।
- পুরাতন সোনা বিক্রয়: আপনি যদি আপনার পুরাতন স্বর্ণালঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা বিক্রি করতে চান, তবে বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী মূল দাম থেকে ১৫% থেকে ১৭% পর্যন্ত বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করা হবে।
সোনার বাজার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খবরের ওপর ভিত্তি করে এর দাম যেকোনো সময় পুনর্নির্ধারণ হতে পারে। তাই অলঙ্কার তৈরি কিংবা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দোকানে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাজুসের অফিশিয়াল লাইভ আপডেট বা নির্ভরযোগ্য জুয়েলারি মার্চেন্টদের কাছ থেকে রেটটি পুনরায় যাচাই করে নিন। সবসময় হলমার্ক ও ক্যারেট সিল (যেমন ২২ ক্যারেটের জন্য ৯১৬) যুক্ত সার্টিফাইড পাকা সোনা ক্রয়ের মাধ্যমে আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad) এবং রকেট (Rocket-DBBL)-এর অফিশিয়াল ট্যারিফ চার্ট ও কাস্টমার কেয়ার পলিসি নির্দেশিকা।
বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন এবং দৈনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার সিংহভাগই এখন নিয়ন্ত্রিত হয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। বিকাশ, নগদ এবং রকেট আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও, অনেক ব্যবহারকারীই এদের বিভিন্ন লেনদেন চার্জ এবং হিডেন কস্ট (গোপন খরচ) সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। কোন মাধ্যমে টাকা কাটলে আপনার খরচ সবচেয়ে কম হবে এবং কোথায় কী ধরণের অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়, তা গুগলের ২০২৬ সালের ফিন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি গাইডলাইন অনুযায়ী নিচে বিস্তারিত ও স্বচ্ছভাবে তুলনা করা হলো।
১. ক্যাশ আউট চার্জের তুলনা (Cash Out Charge Comparison)
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় খরচ হলো ‘ক্যাশ আউট’ বা এজেন্ট থেকে টাকা তোলার চার্জ। অ্যাপ (App) এবং বাটন ফোনের ইউএসএসডি (USSD) কোড ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে চার্জের তারতম্য নিচে দেওয়া হলো:
- বিকাশ (bKash):
- অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা।
- ইউএসএসডি কোড (
*247#) দিয়ে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা। - তবে বিকাশের ১টি ‘প্রিয় এজেন্ট’ নম্বর সেট করলে প্রতি হাজারে ১৪.৯০ টাকা রেটে (মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) ক্যাশ আউট করা যায়।
- নগদ (Nagad):
- অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১২.৫০ টাকা (ভ্যাটসহ ১৪.৯৭ টাকা)।
- ইউএসএসডি কোড (
*167#) ব্যবহার করলে চার্জ প্রতি হাজারে ১৪.৯৪ টাকা (ভ্যাটসহ ১৮.৫০ টাকা)।
- রকেট (Rocket):
- অ্যাপ এবং ইউএসএসডি (
*322#) উভয় মাধ্যমেই সাধারণ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১৫.০০ টাকা (ভ্যাটসহ প্রায় ১৮.০০ টাকা)। - তবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম (ATM) বুথ থেকে রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে মাত্র ৯.০০ টাকা চার্জ কাটে।
- অ্যাপ এবং ইউএসএসডি (
২. সেন্ড মানি ও পিটুপি চার্জ (Send Money Charges)
এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম:
- বিকাশ: অ্যাপের মাধ্যমে ৫টি ‘প্রিয় নম্বর’ (Prize Numbers) সেট করলে ১০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রিয় নম্বর ছাড়া অ্যাপ বা ইউএসএসডি-তে ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাট ফি কাটে।
- নগদ: নগদ অ্যাপ থেকে যেকোনো নম্বরে সেন্ড মানি করা সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে বাটন ফোনে ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে সেন্ড মানি করলে প্রতি লেনদেনে ৪.০০ টাকা প্লাস ভ্যাট চার্জ কাটে।
- রকেট: রকেটে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেন্ড মানি চার্জ প্রতি লেনদেনে ৫.০০ টাকা।
৩. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের “হিডেন কস্ট” বা গোপন খরচসমূহ

অফিশিয়াল ট্যারিফ চার্টের বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অজান্তেই টাকা কেটে নেওয়া হয়, যা নিচে উন্মোচন করা হলো:
- অ্যাপ বনাম ইউএসএসডি জালিয়াতি (নগদ): নগদের বিজ্ঞাপনে “হাজারে ১১.৪৯ টাকা” বা “১২.৫০ টাকা” ক্যাশ আউটের কথা বলা হলেও, এটি কেবল অ্যাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাটন ফোনের সাধারণ গ্রাহকেরা যখন ইউএসএসডি কোড দিয়ে টাকা তোলেন, তখন তাদের কাছ থেকে পুরো ১৮.৫০ টাকাই কেটে নেওয়া হয়, যা অনেক সাধারণ গ্রাহকই খেয়াল করেন না।
- ভ্যাট এবং ফ্র্যাকশন কস্ট (Fraction Cost): অনেক অপারেটর মূল চার্জের সাথে ১৫% সরকারি ভ্যাট আলাদাভাবে যোগ করে। যেমন নগদের ১২.৫০ টাকার সাথে ভ্যাট যুক্ত হয়ে সেটি প্রকৃতপক্ষে ১৪.৯৭ টাকা দাঁড়ায়।
- লিমিট ক্রস পেনাল্টি: বিকাশ বা রকেটে নির্দিষ্ট মাসিক লেনদেনের লিমিট (যেমন ক্যাশ আউট বা সেন্ড মানি কাউন্ট) পার হয়ে গেলে পরবর্তী লেনদেনগুলোর জন্য অতিরিক্ত পেনাল্টি চার্জ বা উচ্চতর ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
- ব্যাংক টু এমএফএস ট্রান্সফার ফি: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা আনার (Add Money) সময় বেশিরভাগ ব্যাংক ফ্রি দিলেও, কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংক কার্ড থেকে টাকা লোড করার সময় ১% থেকে ২% পর্যন্ত প্রসেসিং ফি বা হিডেন ইনভয়েস চার্জ কেটে রাখে।
৪. একনজরে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জের তুলনামূলক ছক (১,০০০ টাকার হিসাবে)
| লেনদেনের ধরণ | বিকাশ (bKash) | নগদ (Nagad) | রকেট (Rocket) |
|---|---|---|---|
| অ্যাপ ক্যাশ আউট | ৳১৮.৫০ (প্রিয় এজেন্টে ৳১৪.৯০) | ৳১৪.৯৭ (ভ্যাটসহ) | ৳১৮.০০ (ATM বুথে ৳৯.০০) |
| USSD ক্যাশ আউট | ৳১৮.৫০ | ৳১৮.৫০ (ভ্যাটসহ) | ৳১৮.০০ |
| অ্যাপ সেন্ড মানি | ফ্রি (৫টি প্রিয় নম্বরে) | সম্পূর্ণ ফ্রি | ৳৫.০০ |
| বিল পে (Bill Pay) | প্রতিষ্ঠানভেদে ৳৫ – ৳৩০ | ফ্রি থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট ফি | প্রতিষ্ঠানভেদে চার্জ প্রযোজ্য |
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ক্যাশ আউট করার ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। আপনি যদি বিকাশের নিয়মিত গ্রাহক হন, তবে আপনার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিশ্বস্ত এজেন্ট নম্বরটিকে অবশ্যই ‘প্রিয় এজেন্ট’ হিসেবে সেট করে রাখুন, এতে আপনার প্রতি হাজারে ৩.৬০ টাকা সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, আপনার আসেপাশে যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থাকে, তবে রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে বুথ থেকে টাকা তোলাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এখানে খরচ অর্ধেকেরও কম (মাত্র ৯ টাকা)। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত কাউন্টার বা লিংকে আপনার পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) শেয়ার করবেন না।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank Monthly FX), বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS), ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ রেট এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং চ্যানেল।
নভেম্বর ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের সংশোধন এবং দেশের অভ্যন্তরে রেমিট্যান্সের অফিসিয়াল রেটের কিছুটা ওঠানামা এই সপ্তাহের প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো এবং স্থানীয় বাজারে কেনাকাটার সুবিধার্থে চলতি সপ্তাহের (৮ নভেম্বর ২০২৬-এ শেষ হওয়া সপ্তাহ) ডলার, ইউরো, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং পাকা স্বর্ণের বাজারদরের একটি পূর্ণাঙ্গ সাপ্তাহিক রাউন্ডআপ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. বৈদেশিক মুদ্রার সাপ্তাহিক রাউন্ডআপ (ডলার, ইউরো ও রিঙ্গিত)
চলতি সপ্তাহে ব্যাংকিং চ্যানেল ও খোলা বাজারে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর গড় লেনদেন হার ছিল নিম্নরূপ:
- মার্কিন ডলার (USD): এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের রেট তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রলিং পেগ ও অফিশিয়াল মিড-রেট অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ক্রয়ের ক্ষেত্রে গড় রেট দিয়েছে ১২৩.৩০ – ১২৩.৫০ টাকা এবং সাধারণ আমদানিকারক ও গ্রাহকদের কাছে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪.৮০ টাকা পর্যন্ত।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম এই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ওঠানামা করেছে। বাংলাদেশি টাকায় চলতি সপ্তাহে ১ ইউরোর গড় মিড-মার্কেট রেট ছিল প্রায় ১৪০.১১ টাকা, যা ব্যাংকভেদে সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ সেলিং রেটে কেনাবেচা হয়েছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য চলতি সপ্তাহের রিঙ্গিত রেট বেশ সন্তোষজনক ছিল। ৪ থেকে ৮ নভেম্বরের লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও মোবাইল ব্যাংকিং পার্টনারদের মাধ্যমে এটি প্রবাসীরা সর্বোচ্চ ৩০.৬৬ টাকা পর্যন্ত রেটে পাঠাতে পেরেছেন।
২. পাকা স্বর্ণ ও রুপার সাপ্তাহিক বাজারদর (Gold & Silver Price)
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক এই সপ্তাহে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২,৭৪১ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ বাজারদর:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): প্রতি ভরি ২,২৬,৯২৩ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৯,৪৫৫ টাকা)।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৭১৭ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৬,০৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,৫২,০৪০ টাকা।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৩,৪৯৯ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৩,৩৮৩ টাকাতেই স্থিতিশীল রয়েছে।
৩. প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজের রেট তুলনা (১০০০ MYR হিসেবে)
এই সপ্তাহে মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীরা ১০০০ রিঙ্গিত দেশে পাঠালে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে আনুমানিক যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): গড় রেট ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,NT৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: গড় রেট ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: গড় রেট ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৪৪০ টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): গড় রেট ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৩৯০ টাকা।
বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল। যেকোনো ভূ-political বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এই রেটগুলো প্রতিদিন এমনকি প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা মূল্যবান ধাতু ক্রয়ের আগে সর্বদা সরকার অনুমোদিত ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা বাজুস-এর অফিসিয়াল লাইভ ডাটা চেক করে নিন। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা নিশ্চিত করুন এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash) সিকিউরিটি গাইডলাইন, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ)
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে অনলাইন শপিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিনব সব সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণা। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন লোভনীয় অফার বা চতুর ফিশিংয়ের ফাঁদে পড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। গুগলের ২০২৬ সালের সর্বশেষ ইউজার সেফটি ও সিকিউরিটি গাইডলাইন অনুযায়ী, অনলাইন শপিং ও বিকাশ ব্যবহার করার সময় জালিয়াতি চক্রকে ধরার ৭টি পাকা ও প্রমাণিত উপায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. অস্বাভাবিক মূল্যছাড় এবং “অবাস্তব” অফার (Too Good to be True)
প্রতারক চক্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো লোভ। বাজারে যে প্রোডাক্টটির আসল দাম ৫,০০০ টাকা, কোনো পেজ বা ওয়েবসাইটে যদি সেটি মাত্র ১,৫০০ টাকায় ‘অফারের’ নামে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেখেন, তবে শুরুতেই সতর্ক হন। আইফোন, প্রিমিয়াম গ্যাজেট বা ব্র্যন্ডেড পোশাকের ক্ষেত্রে এই ধরনের অবাস্তব ছাড় মূলত ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলার প্রথম ধাপ।

২. শুধু ‘অ্যাডভান্স ফুল পেমেন্ট’ বা অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া
বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) বা কন্ডিশনাল ডেলিভারির সুবিধা দেয়। কিন্তু কোনো নতুন বা স্বল্প পরিচিত পেজ যদি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার আগেই বিকাশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা বা অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম পরিশোধ করার জন্য অনবরত চাপ দিতে থাকে, তবে বুঝতে হবে এখানে বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে। নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান কাস্টমারকে পেমেন্টের জন্য বারবার তাগাদা দেয় না।
৩. ভুয়া বিকাশ কল এবং পিন/ওটিপি (PIN/OTP) চাওয়া
বিকাশ প্রতারণার অন্যতম সাধারণ পদ্ধতি হলো গ্রাহককে ফোন করে বলা যে, “আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি, আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে গেছে” অথবা “ভুল করে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে, ওটিপি (OTP) কোডটি বলুন।” মনে রাখবেন, বিকাশের কোনো কর্মকর্তা বা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি কখনোই আপনার ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কিংবা ৪ বা ৫ ডিজিটের গোপন পিন (PIN) নম্বর জানতে চাইবে না। কেউ এটি চাইলেই নিশ্চিতভাবে সে একজন প্রতারক।

৪. ভুয়া এসএমএস (Fake SMS) ও স্পুফিং লিংকের ব্যবহার
অনেক সময় প্রতারকেরা হুবহু বিকাশের মেসেজ ফরম্যাট নকল করে আপনার ফোনে বার্তা পাঠায়, যাতে লেখা থাকে “You have received TK. 5,000″। এই মেসেজগুলো কিন্তু আপনার আসল বিকাশ অ্যাপের ব্যালেন্স বাড়ায় না। এছাড়া ‘বিকাশ বোনাস’ বা ‘সরকারি অনুদান’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ফিশিং লিংক পাঠানো হয়। কোনো লিংকে ক্লিক করে আপনার বিকাশ নম্বর এবং পিন সাবমিট করার আগে অবশ্যই ওয়েবসাইটের ইউআরএল (URL) চেক করুন। বিকাশের আসল ওয়েবসাইট লিংক সবসময় https://www.bkash.com/ দিয়ে শুরু হয়।
৫. ফেসবুক পেজের লাইক, কমেন্ট ও রিভিউ সেকশন হাইড বা অফ থাকা
অনলাইন শপিং পেজটি আসল নাকি নকল তা চেনার একটি সহজ উপায় হলো তাদের রিভিউ সেকশন। প্রতারক চক্রের পেজগুলোতে সাধারণত কাস্টমার রিভিউ অপশন বন্ধ থাকে এবং পোস্টের কমেন্ট সেকশন হাইড (Hide) বা লিমিটেড করা থাকে, যাতে প্রতারিত হওয়া অন্য ভুক্তভোগীরা সেখানে নেতিবাচক মন্তব্য করতে না পারেন। এছাড়া পেজের ‘Page Transparency’ অপশনে গিয়ে পেজটি কবে তৈরি হয়েছে এবং এর আগে কতবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তা দেখে এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা যায়।
৬. ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে (Personal Number) ‘সেন্ড মানি’ করার তাগিদ
যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রফেশনাল অনলাইন শপের নিজস্ব ‘বিকাশ মার্চেন্ট’ (Merchant Account) অ্যাকাউন্ট থাকে, যেখানে গ্রাহক ‘মেক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন। কিন্তু বিক্রেতা যদি কোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট না দেখিয়ে আপনাকে বারবার পার্সোনাল নম্বরে ‘সেন্ড মানি’ বা ‘ক্যাশ ইন’ করতে বলে, তবে সাবধান হোন। পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হলেও সেই টাকা ট্র্যাক করা বা রিফান্ড পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
৭. লাইভ চ্যাটে ফেসবুক আইডির সত্যতা এবং ট্র্যাকিং আইডি না দেওয়া
পণ্য অর্ডার করার পর যদি তারা কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের (যেমন- সুন্দরবন, স্টিডফাস্ট, পাথao) মেমো বা ট্র্যাকিং আইডি দিতে টালবাহানা করে অথবা বারবার কুরিয়ারে বুকিং দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত ‘প্রসেসিং ফি’ দাবি করে, তবে ধরে নেবেন আপনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জালিয়াতি চক্র সাধারণত টাকা পাওয়ার পরপরই গ্রাহকের ফেসবুক আইডি বা ফোন নম্বর ব্লক করে দেয়।
প্রতারিত হলে তাৎক্ষণিক করণীয় ও আইনি প্রতিকার:
১. বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭: যদি ভুলবশত কোনো প্রতারককে টাকা পাঠিয়ে দেন বা ওটিপি শেয়ার করে ফেলেন, তবে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে সরাসরি বিকাশের হটলাইন নম্বর ১৬২৪৭-এ কল করে আপনার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে লক করুন এবং যে নম্বরে টাকা গেছে সেটি রিপোর্ট করুন।
২. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP): অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে মেমো, চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং পেমেন্ট প্রুফসহ ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
৩. সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন: বিকাশ বা অনলাইন শপিং জালিয়াতির শিকার হলে নিকটস্থ থানায় জিডি (GD) করুন এবং ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজে বা সরাসরি হ্যালো সিটি (Hello CT) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সাইবার ক্রাইম টিম এই ধরনের অপরাধীদের আইপি ও লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



