ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলমানের কিবলা, পবিত্র কাবা শরিফ। এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং ইসলামের তৌহিদী আদর্শের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আরবের মরু উপত্যকায় ১৯০০ সালের সেই ধূলিধূসরিত মক্কা থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের সর্বাধুনিক মেগা-সিটি মক্কা—সময়ের বিবর্তনে কাবা ঘরের মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক জৌলুস এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। কাবার এই রহস্যময় ও পবিত্র ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই মহান ত্যাগের কথা, যা কয়েক হাজার বছর আগে মক্কার জনহীন উপত্যকায় শুরু হয়েছিল।
ভিত্তি স্থাপন ও ইব্রাহিমি বিপ্লব
ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, কাবা ঘরের প্রথম নির্মাতা ছিলেন আদি পিতা আদম (আ.)। তবে এর পূর্ণাঙ্গ ও সুশৃঙ্খল নির্মাণ সম্পন্ন হয় হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর হাতে। মহান আল্লাহর নির্দেশে জনমানবহীন মরুভূমিতে তাঁরা যে ঘর নির্মাণ করেছিলেন, আজ ২০২৬ সালেও সেটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পদচারণামুখর স্থান।
- হাজরে আসওয়াদ ও জমজম: জান্নাতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’ এবং অলৌকিক পানির উৎস ‘যমজম’—এই দুটি নিদর্শন মক্কাকে একটি বরকতময় নগরীতে পরিণত করেছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকের অনেক পর্যটক তাঁদের ডায়েরিতে মক্কার এই বিস্ময়কর কূপের কথা উল্লেখ করেছেন, যা আজও কোটি কোটি মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।
কুশাই ইবনে কিলাব ও কোরাইশদের ব্যবস্থাপনা (১৯০০-২০২৬ প্রেক্ষাপট)
হুজুর (সা.)-এর পঞ্চম ঊর্ধ্বতন পুরুষ কুশাই ইবনে কিলাব মক্কার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী নাম। তিনি বিচ্ছিন্ন আরব গোত্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে কাবার রক্ষণাবেক্ষণ, হাজিদের আপ্যায়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামোর প্রবর্তন করেন।
- ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: ১৯০০ সালের দিকে অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে কাবার যে সংস্কার হয়েছিল, তার অনেক চিহ্ন এখনো সংরক্ষিত। পরবর্তীতে সৌদি শাসনের অধীনে ২০২৪-২০২৫ সালে কাবার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ প্রকল্প সম্পন্ন হয়।
- ২০২৬-এর বর্তমান চিত্র: আজ ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। মক্কার আকাশচুম্বী স্থাপত্য আর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কাবাকে বিশ্ব পর্যটনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
হজের রীতিনীতি ও বিশ্বাসের দর্শন
সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সায়ি করা, আরাফাতের বিশাল প্রান্তরে সমবেত হওয়া এবং মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ—এই প্রতিটি কাজই মূলত হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পরিবারের মহান ত্যাগের স্মৃতিচারণ। এটি কোনো সাধারণ প্রথা নয়, বরং এক আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের ঘোষণা।
- বক্তাদের ভাষ্য ও ধর্মীয় ঐক্য: ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ওলামা সম্মেলনে বক্তারা বলেছিলেন, “কাবা হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর হৃৎপিণ্ড। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মুসলিম যখন কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ায়, তখন তাদের ভাষা ও বর্ণ ভিন্ন হলেও আত্মা মিলেমিশে এক হয়ে যায়।”
- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও নতুন বাংলাদেশ: ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মানুষ যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতা উপভোগ করছে, তেমনি ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা কাবার এই পবিত্র ইতিহাস থেকে ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে নতুন সমাজ গড়ার প্রেরণা পাচ্ছে।
উপসংহার: শাশ্বত এক গন্তব্য
মক্কার সেই জনহীন উপত্যকা থেকে আজকের জৌলুসপূর্ণ মক্কা—কাবা ঘর সবসময়ই সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক ছিল। হযরত ইসমাইল (আ.)-এর সেই কোরবানির ইতিহাস আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগেও কাবার প্রতিটি পাথর যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—”আল্লাহুমা লাব্বাঈক, হে আল্লাহ আমি উপস্থিত।”
বিশ্লেষণ: কাবার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান এবং মানবিক আবেগ মক্কাকে একটি অপরাজেয় আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় কাবার প্রতি মানুষের ভক্তি প্রমাণ করে যে, সত্যের শক্তি চিরকাল অম্লান থাকে।
সূত্র: সীরাতে ইবনে হিশাম, তারিখ-উল-উম্মাহ, মক্কা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (২০২৫-২৬ রিপোর্ট), এবং গুগল অ্যানালিটিক্স ট্রেন্ডস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘বাকশাল’ বা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়। কেউ একে দেখেন ‘একদলীয় শাসন’ হিসেবে, আবার কেউ দেখেন ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বা শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে। ১৯০০ সালের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান সমৃদ্ধ বাংলাদেশের দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে—যদি ১৯৭৫ সালে বাকশাল সফল হতো, তবে আজ আমাদের অবস্থান কোথায় থাকতো?
বঙ্গবন্ধুর ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ ও সাম্যবাদের স্বপ্ন

(উপরের ছবিকে দেখা যাচ্ছে, জিয়াউর রহমানও বাকশালের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।)
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি যখন বাকশাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর লক্ষ্য ছিল আমলাতন্ত্রের জটিলতা কমিয়ে সরাসরি কৃষক-শ্রমিকের হাতে ক্ষমতা পৌঁছে দেওয়া।
- একটি হাইপোথিসিস: বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুনলে বোঝা যায়, তিনি বুর্জোয়া গোষ্ঠীর বদলে খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।
- রাজনৈতিক ঐক্য: সে সময় জিয়াউর রহমানসহ তৎকালীন ৯০ শতাংশের বেশি রাজনীতিবিদ এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে একটি ক্রান্তিকালে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করেছিলেন।
মালয়েশিয়ার উদাহরণ ও মাহাথির মডেল
অনেকেই বাকশালকে মাহাথির মোহাম্মদের মালয়েশিয়া মডেলের সাথে তুলনা করেন।
- অর্থনৈতিক সংস্কার: ১৯৮০-এর দশকে মাহাথির যখন ক্ষমতা নেন, তখন মালয়েশিয়ার মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১৩০ ডলার। তিনি কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করেও দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেন।
- স্বজনপ্রীতি বনাম যোগ্যতা: মাহাথিরের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠলেও তিনি মূলত যোগ্য লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বাকশালও কি পারতো বাংলাদেশকে একটি ‘এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে গড়ে তুলতে? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, আমলাতন্ত্রের রাশ টানতে সে সময় বাকশালের মতো একটি কাঠামোর প্রয়োজন ছিল।
গণতন্ত্র বনাম উন্নয়ন: ১৯০০-২০২৬ প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে আমলাতন্ত্রই এদেশকে শাসন করেছে। বঙ্গবন্ধু যখন দেখলেন নিজের দলের লোক এবং আমলাদের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তখনই তিনি বাকশালের পথে হাঁটেন।
- বক্তাদের ভাষ্য: সমালোচকরা একে একনায়কতন্ত্র বললেও বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের মতে, এটি ছিল শোষিত মানুষের গণতন্ত্র। ২০২৫-২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অনেক তরুণ গবেষক বলছেন, “একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্র গঠনে সাময়িক কঠোর পদক্ষেপ অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনে।”
- বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৪ সালের বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই সময়েও আমরা দেখছি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য কঠোর সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা। ড. ইউনূসের সরকারও এখন আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, যা প্রকারান্তরে বঙ্গবন্ধুর সেই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের স্বপ্নেরই প্রতিফলন।
উপসংহার: ইতিহাসের কাঠগড়ায় বাকশাল
বঙ্গবন্ধু যদি ক্ষমতা উপভোগ করতে চাইতেন, তবে তিনি পাকিস্তানের সাথে আপস করতে পারতেন। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন শোষণমুক্ত সোনার বাংলা। বাকশাল সফল হলে বাংলাদেশ হয়তো অনেক আগেই মালয়েশিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশে পরিণত হতো। আবার কেউ মনে করেন, এতে দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হতো। তবে সত্য এই যে, বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল কেবলই দেশের মানুষের মুক্তি।
বিশ্লেষণ: বাকশাল নিয়ে কেবল একনায়কতন্ত্রের বিতর্ক না করে এর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। ১৯০০ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় দেখা গেছে, শাসনকাঠামো যাই হোক, দুর্নীতির অবসান এবং আমলাতন্ত্রের সংস্কার ছাড়া প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু হয়তো সেই সত্যটিই ১৯৭৫ সালে বুঝেছিলেন।
সূত্র: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ (ইউটিউব আর্কাইভ), মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস (মাহাথির মোহাম্মদ মডেল), বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, এবং গুগল নিউজের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা—আফ্রিকা মহাদেশের মুক্তি ও ঐক্যের লড়াইয়ে মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি একটি অবিস্মরণীয় নাম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে একটি শক্তিশালী ‘আফ্রিকান ইউনিয়ন’ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আজ এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বরাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি লিবিয়া ও আফ্রিকার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গাদ্দাফির সেই হারিয়ে যাওয়া আদর্শের গুরুত্ব নতুন করে অনুভূত হচ্ছে।
গাদ্দাফির আদর্শ: একটি সমৃদ্ধ ও একক আফ্রিকা
মুয়াম্মার গাদ্দাফির মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমকক্ষ একটি কেন্দ্রীভূত আফ্রিকান সরকার ব্যবস্থা। তিনি চেয়েছিলেন:
- একক আফ্রিকান মুদ্রা: ডলার বা ইউরোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আফ্রিকার নিজস্ব স্বর্ণ-নির্ভর মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করা।
- অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব: বিদেশি সাহায্যের নামে “সাহায্য ও উন্নয়ন” এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক শোষণ বন্ধ করে সত্যিকারের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা।
- একক সামরিক শক্তি: সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশকে রক্ষার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ সেনাবাহিনী গঠন।
বিভাজন ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি (১৯০০-২০২৬)
ব্রিটিশদের সেই পুরনো “Divide and Rule” নীতি—যা ভারত বা ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করেছিল—আফ্রিকার ক্ষেত্রেও একই কৌশলে প্রয়োগ করা হয়েছে। গাদ্দাফি খুব ভালো করেই জানতেন যে, প্যারিস, লন্ডন বা ওয়াশিংটন কেউই চায়নি আফ্রিকা মহাদেশ জেগে উঠুক। কারণ একটি শক্তিশালী আফ্রিকা মানেই পশ্চিমাদের কাঁচামালের একচেটিয়া বাজার হারানো।
- চীন ও পশ্চিমাদের লড়াই: বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখছি, আফ্রিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগকে পশ্চিমারা হুমকি হিসেবে দেখছে। গাদ্দাফি কয়েক দশক আগেই এই বিদেশি প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
- ২০২৪-২০২৬ এর প্রেক্ষাপট: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আফ্রিকার অনেক দেশ আবারও গাদ্দাফির সেই “প্যান-আফ্রিকানিজম” বা আফ্রিকান ঐক্যের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছে। ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান যেমন বাংলাদেশে পরিবর্তনের হাওয়া এনেছে, আফ্রিকার তরুণ সমাজও এখন তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সোচ্চার।
কেন চলে যেতে হলো গাদ্দাফিকে?
গাদ্দাফি লিবিয়ার জন্য যা করেছিলেন, তা অনেক ক্ষেত্রে ছিল নজিরবিহীন। কিন্তু তাঁর অপরাধ ছিল তিনি কোনো বড় শক্তির কাছে মাথা নত করেননি।
- বক্তাদের ভাষ্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “গাদ্দাফিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি বিশ্বের প্রচলিত অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।”
- ২০২৫ এর এক সেমিনারে আলোচনা: গত বছর একটি আন্তর্জাতিক সংলাপে বলা হয়েছিল, “গাদ্দাফির পতন লিবিয়াকে গণতন্ত্র দেয়নি, বরং দেশটিকে গৃহযুদ্ধের অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।”
উপসংহার: গাদ্দাফি ও আগামীর আফ্রিকা
মুয়াম্মার গাদ্দাফি ছিলেন ‘আফ্রিকার হীরা’। তিনি চেয়েছিলেন আফ্রিকা নিজের পায়ে দাঁড়াক। ১৯০০ সালের সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার যে চেষ্টা তিনি করেছিলেন, তা আজ ২০২৬ সালেও একটি অপূর্ণ স্বপ্ন হয়ে রয়েছে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতা প্রমাণ করে যে, গাদ্দাফির আদর্শ মুছে দিলেও তাঁর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি।
বিশ্লেষণ: গাদ্দাফির রাজনৈতিক দর্শন কেবল লিবিয়ার সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল মূলত বিশ্বায়ন ও নব্য-ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী অবস্থান। বর্তমান ২০২৬ সালের বহুমুখী বিশ্বে (Multipolar World) গাদ্দাফির সেই একক মুদ্রার প্রস্তাবটি আবারও ‘ব্রিকস’ (BRICS) এর মতো জোটগুলোর আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সাস্থ্যের কথা (ব্লগ আর্কাইভ), আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন, আল জাজিরা ও রয়টার্স আর্কাইভ, এবং গ্লোবাল পলিটিক্যাল অ্যানালিটিক্স ২০২৬।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি অংশগ্রহণ করছে। ফ্যাসিবাদী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বাদেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে এক নতুন গণতান্ত্রিক আমেজ।
এক নজরে বিগত ১২টি নির্বাচন ও ক্ষমতার সমীকরণ
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দীর্ঘ পরিক্রমায় আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার সরকার গঠন করেছে। তবে আওয়ামী লীগের শেষ তিনটি (দশম, একাদশ ও দ্বাদশ) নির্বাচন নিয়ে ইতিহাসের পাতায় চরম বিতর্ক ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
| সংসদ | নির্বাচনের তারিখ | বিজয়ী দল | ভোট সংগ্রহের হার | স্থায়িত্ব/মন্তব্য |
| প্রথম | ৭ মার্চ ১৯৭৩ | আওয়ামী লীগ | ৫৫.৬১% | ২ বছর ৬ মাস |
| দ্বিতীয় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ | বিএনপি | ৫১.২৯% | ৩ বছর |
| তৃতীয় | ৭ মে ১৯৮৬ | জাতীয় পার্টি | ৬৬.৩১% | ১৭ মাস |
| চতুর্থ | ৩ মার্চ ১৯৮৮ | জাতীয় পার্টি | ৫১.৮১% | ২ বছর ৭ মাস |
| পঞ্চম | ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ | বিএনপি | ৫৫.৪৫% | ৪ বছর ৮ মাস (গণতান্ত্রিক সূচনা) |
| ষষ্ঠ | ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ | বিএনপি | ২৬.৫৪% | মাত্র ১১ দিন (তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস) |
| সপ্তম | ১২ জুন ১৯৯৬ | আওয়ামী লীগ | ৭৪.৯৬% | ৫ বছর |
| অষ্টম | ১ অক্টোবর ২০০১ | বিএনপি | ৭৫.৫৯% | ৫ বছর |
| নবম | ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ | আওয়ামী লীগ | ৮৭.১৩% | সর্বোচ্চ ভোট ও বিতর্কিত শুরু |
| দশম | ৫ জানুয়ারি ২০১৪ | আওয়ামী লীগ | ৪০.০৪% | ১৫৩ আসনে বিনা ভোট |
| একাদশ | ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ | আওয়ামী লীগ | ৮০.২০% | ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত |
| দ্বাদশ | ৭ জানুয়ারি ২০২৪ | আওয়ামী লীগ | ৪১.৮০% | একতরফা ডামি নির্বাচন (৭ মাস পর পতন) |
রাজনৈতিক বিবর্তনের প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬
বাংলাদেশের এই নির্বাচনি ইতিহাসের শেকড় অনেক গভীরে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক জাগরণ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশ—প্রতিটি মোড়ে রয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস।
- ১৯০০-১৯৪৭: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন এবং ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ছিল এই অঞ্চলের সংসদীয় রাজনীতির ভিত্তি।
- ১৯৫২-১৯৭০: ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ছিল বাঙালির চূড়ান্ত স্বাধিকারের রায়।
- ১৯৭৩-২০২৪: স্বাধীন দেশে প্রথম নির্বাচনের জয়জয়কার থেকে শুরু করে দীর্ঘ সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং পরবর্তীতে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিকে পঙ্কিলমুক্ত করার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
- ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন মূলত ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা।
বিতর্কিত নির্বাচন ও পতনের ইতিহাস
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত হিসেবে দেখা হয় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে। ২০১৪ সালে ১৫৩ আসনে বিনা ভোটে নির্বাচন, ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালে ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। এই ভোটাধিকার হরণের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ২০২৪ সালের আগস্টে, যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
১২ ফেব্রুয়ারির প্রত্যাশা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো নতুনভাবে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তা মানুষের সামনে পেশ করছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে অন্যান্য জোটের প্রার্থীরাও একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইসি সচিবের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবার ফলাফল প্রকাশে কোনো বিলম্ব হবে না।
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিগত ১২টি নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় এটি পরিষ্কার যে—যখনই জনমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে, তখনই রাষ্ট্র অস্থিরতার মুখে পড়েছে। ১৯০০ সাল থেকে এদেশের মানুষ বারবার বুক পেতে দিয়ে গণতন্ত্র এনেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি ৫ আগস্টের শহীদের রক্তের ঋন শোধ করে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের সুযোগ।
সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, ঐতিহাসিক তথ্যভাণ্ডার এবং যুগান্তর অনলাইন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



