টেক

বিশ্বের আলোচিত ‘নন-ফ্লাই জোন’ ও বাংলাদেশ-ভারতের ড্রোন উড্ডয়ন আইন
ফ্লাই জোন

নিউজ ডেস্ক

July 31, 2026

শেয়ার করুন

নিরাপত্তা, ধর্মীয় অনুভূতির সম্মান, ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা এবং সামরিক গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ‘নন-ফ্লাই জোন’ (No-Fly Zone) বা বিমান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার ওপর দিয়ে কমার্শিয়াল বা সাধারণ বিমান উড্ডয়ন সম্পূর্ণ বেআইনি।

একইভাবে বর্তমানে ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কর্তৃপক্ষগুলো ড্রোন চলাচলেও এনেছে কঠোর বিধিনিষেধ।

১. বিশ্বের প্রধান ‘নন-ফ্লাই জোন’ বা নিষিদ্ধ আকাশসীমা

ক. ধর্মীয় ও পবিত্র স্থান

  • মক্কা ও মদিনা (সৌদি আরব): পবিত্র কাবা শরিফ এবং মদিনার মসজিদে নববীর ওপর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক বা সামরিক বিমান উড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মক্কা শহরে কোনো বিমানবন্দরও নেই।

খ. ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা

  • তাজমহল (ভারত): আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহলের সুরক্ষার জন্য এর চারপাশের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকা বিমান চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • মাচু পিচু (পেরু): প্রাচীন ইনকা সভ্যতার এই নিদর্শনের ক্ষতি রোধ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় এর ওপর বিমান উড়ানো নিষেধ।
  • পার্থেনন (গ্রিস): এথেন্সের এই প্রাচীন স্থাপত্যের সুরক্ষায় ৫,০০০ ফুটের নিচে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ।

গ. রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কেন্দ্র

  • ওয়াশিংটন ডিসি ও ক্যাম্প ডেভিড (যুক্তরাষ্ট্র): হোয়াইট হাউস, ক্যাপিটল হিল এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতির অবকাশ কেন্দ্র ‘ক্যাম্প ডেভিড’ (P-40) অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা।
  • বাকিংহাম প্যালেস ও উইন্ডসর ক্যাসেল (যুক্তরাজ্য): ব্রিটিশ রাজপরিবারের সুরক্ষায় এই রাজপ্রাসাদগুলোর ওপর দিয়ে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।
  • ইসলামাবাদ (পাকিস্তান): কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউস্থিত সংসদ ভবন ও রাষ্ট্রপতির বাসভবন এলাকা সম্পূর্ণ নো-ফ্লাই জোন।

ঘ. সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা

  • এরিয়া ৫১ (যুক্তরাষ্ট্র): নেভাদার অতি-গোপনীয় Groom Lake সামরিক ঘাঁটির ওপর দিয়ে বেসামরিক ও সাধারণ সামরিক বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।
  • কাহুটা ও খুশাব (পাকিস্তান): পাকিস্তানের প্রধান পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র কাহুটা ল্যাবরেটরিজ ও খুশাব নিউক্লিয়ার কমপ্লেক্সের আকাশসীমা সংরক্ষিত।

ঙ. বিনোদন পার্ক ও ভৌগোলিক অঞ্চল

  • ডিজনি পার্ক (যুক্তরাষ্ট্র): ২০০৩ সাল থেকে ফ্লোরিডার Disneyland ও Walt Disney World-এর ৩ মাইলের মধ্যে ৩,০০০ ফুটের নিচে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।
  • তিব্বত (চীন): ভৌগোলিক কারণে এটি একটি প্রাকৃতিক নন-ফ্লাই জোন। অতিরিক্ত উচ্চতা ও জরুরি অবতরণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাণিজ্যিক বিমানগুলো তিব্বত মালভূমি এড়িয়ে চলে।

২. বাংলাদেশে ড্রোন উড্ডয়নের আইনি নিয়মাবলী (CAAB)

বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)-এর “ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা” অনুযায়ী ড্রোন পরিচালনা নিয়ন্ত্রিত হয়।

[CAAB পূর্বানুমতি] ➔ [প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় NOC] ➔ [সর্বোচ্চ ২০০ ফুট উচ্চতা] ➔ [দিনের আলোতে উড্ডয়ন]

প্রধান উড্ডয়ন শর্তসমূহ:

  1. অনুমোদন বাধ্যতামূলক: সাধারণ ২৫০ গ্রামের কম ওজনের ড্রোনসহ (যেমন: DJI Mini) যেকোনো ড্রোনের জন্য CAAB-এর অনুমতি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (MOD) থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC) নেওয়া বাধ্যতামূলক।
  2. সর্বোচ্চ উচ্চতা ও সময়: অনুমতি থাকলেও ড্রোন সর্বোচ্চ ২০০ ফুট (৬০ মিটার) উঁচুতে এবং শুধুমাত্র দিনের আলোতে (Daylight) অপারেটরের দৃষ্টিসীমার মধ্যে রেখে ওড়াতে হবে। রাতে ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশে ড্রোন উড্ডয়নের ‘রেড জোন’ (সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ):

  • বিমানবন্দর এলাকা: যেকোনো সচল বিমানবন্দরের ১০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৮.৫ কিলোমিটার) ব্যাসার্ধের মধ্যে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ।
  • সরকারি ও সামরিক কেপিআই (KPI): সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গভবন, সেনানিবাস, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ।
  • বিশেষ অঞ্চল: ভিভিআইপি জোন এবং বিশেষ অনুমতি ছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির।

৩. ভারতে ড্রোনের শ্রেণিবিন্যাস (Digital Sky)

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA) আকাশসীমাকে ৩টি জোনে ভাগ করেছে:

  • গ্রিন জোন (Green Zone): ৪০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়াতে আগাম অনুমতির প্রয়োজন নেই (তবে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকতে হবে)।
  • ইয়েলো জোন (Yellow Zone): বিমানবন্দর সংলগ্ন নিয়ন্ত্রিত এলাকা, যেখানে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর অনুমতি লাগে।
  • রেড জোন (Red Zone): আন্তর্জাতিক সীমান্ত, সামরিক ঘাঁটি, দিল্লির বিজয় চক ও রাষ্ট্রপতি ভবন—যেখানে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৪. আন্তর্জাতিক সাধারণ ড্রোন নিয়ম

বিশ্বের যেকোনো দেশে ড্রোন ওড়ানোর ক্ষেত্রে জনাকীর্ণ স্থান (কনসার্ট, স্টেডিয়াম) এবং জাতীয় উদ্যান (যেমন: আমেরিকার ইয়োলোস্টোন)-এর ওপর ড্রোন ওড়ানো আইনিভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

মনে রাখবেন: অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল বা নো-ফ্লাই জোনে ড্রোন ওড়ানো এভিয়েশন আইন অনুযায়ী গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ড. আল ইমরান নাসা

নিউজ ডেস্ক

September 16, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতি ও দর্শন
  • প্রকাশের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, বিবিসি (BBC), দ্য সেন্ট্রাল তিব্বতান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CTA) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আর্কাইভ।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (GPA-5) না পেলে কিংবা দেশের শীর্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে জীবন বুঝি সেখানেই থমকে যায়। কিন্তু এই চেনা ধারণার বাইরে গিয়ে জিপিএ-৩.৫৭ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন এক বাঙালি তরুণ। তিনি আর কেউ নন, নরসিংদীর মনোহরদীর ছেলে ড. আল ইমরান (Al Emran)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে প্রথমে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

আজকের এই কন্টেন্টে আমরা জানবো কীভাবে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি মুছে একজন সাধারণ ছাত্র থেকে তিনি আজকের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন।

১. শৈশবের স্বপ্ন এবং শুরুর ধাক্কা

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আল ইমরানের। বাবা ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই জোছনা রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ইমরান ভাবতেন, মানুষ কীভাবে চাঁদে গেল? আমিও কি কোনোদিন পারবো?

কিন্তু তার এই বড় স্বপ্নের পথে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৪ সালে খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাত্র জিপিএ ৩.৫৭ পেয়ে এসএসসি এবং ২০০৬ সালে জিপিএ ৪.৪ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। রেজাল্ট কম থাকার কারণে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে (BUET) ভর্তি পরীক্ষাই দিতে পারেননি তিনি।

২. অনার্সে এসে নিজেকে বদলে ফেলা

বুয়েটে পরীক্ষা দিতে না পেরে ইমরান ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। তবে সেখানেও এক বছর পড়ার পর নিজের মূল ভালো লাগার জায়গা খুঁজে পেতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে

বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন ইমরান। যে ছেলেটি স্কুল-কলেজে সাধারণ মানের ছাত্র ছিলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন! অনার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৬৯ এবং মাস্টার্সে ৩.৯৭।

৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিল, কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখেছিল

মাস্টার্স শেষ করার পর আল ইমরানের তীব্র ইচ্ছা ছিল নিজের বিভাগেই (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার। এজন্য তিনি একাধিকবার আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়নি।

এই প্রত্যাখ্যান ইমরানকে মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত করেছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। দেশে সুযোগ না পেয়ে তিনি চোখ ফেরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির চেয়ে গবেষণার বাস্তব যোগ্যতা অনেক বেশি শক্তিশালী।

৪. পিএইচডি এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি

২০১৭ সালে ইমরান পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। Auburn University থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস (University of Arkansas) থেকে স্পেস অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স-এ সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল স্যাটেলাইট ডাটা, মেশিন লার্নিং এবং ল্যাবরেটরি এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহ (Mars) ও প্লুটোর (Pluto) পৃষ্ঠের গঠন উন্মোচন করা। তার এই অসাধারণ গবেষণাপত্রগুলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।

৫. নাসার দরজা জয় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ড. আল ইমরান বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে (JPL) পোস্টডক্টরাল ফেলো (Planetary Astronomer) হিসেবে যোগ দেন। যে তরুণকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি তখন নাসায় বসে বুধ, মঙ্গল, ইউরোপা এবং শনির উপগ্রহের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন!

সর্বশেষ ২০২৬ সালের আপডেট:
নাসায় ৩ বছর সফলভাবে কাজ করার পর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ড. আল ইমরান আরও একধাপ এগিয়ে যান। তিনি বর্তমানে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ Aerospace Systems Engineer III এবং Planetary Scientist হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি চাঁদের মাটিতে স্পেস রিসোর্স বা খনিজ সম্পদের অবস্থান মূল্যায়ন করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লুনার মিশনে (Lunar Mission) কাজ করছেন।

ড. আল ইমরানের জীবন থেকে আমাদের কী শেখার আছে?

ড. আল ইমরানের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্পটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য কয়েকটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা দেয়:

  1. জিপিএ বা ভর্তি পরীক্ষা জীবনের শেষ কথা নয়: স্কুল-কলেজের রেজাল্ট খারাপ মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
  2. প্রত্যাখ্যানই নতুন পথের জন্ম দেয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে শিক্ষক হিসেবে না নেওয়ায় সেদিন হয়তো তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানই আজ তাকে নাসা ও ব্লু অরিজিনের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
  3. দক্ষতা ও গবেষণার শক্তি: সার্টিফিকেট বা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করা এবং একাগ্রচিত্তে নিজের লক্ষ্যে লেগে থাকাটাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।

উপসংহার

ড. আল ইমরান প্রমাণ করেছেন যে, সততা, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে নরসিংদীর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্ব কাঁপানো মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব। তার এই গল্প আমাদের প্রতিটি হতাশ তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ভিডিও কলে বিয়ে

নিউজ ডেস্ক

September 15, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ: নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশের সময় ও তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

স্থান: ঢাকা

ঢাকা: তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বৈশ্বিক প্রবাস জীবনের বিস্তারে দূর থেকে ভিডিও কল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহ (Online Marriage) সম্পাদনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) করে বিয়ে সম্পন্ন করা ইসলামী শরীয়াহ এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী কতটা বৈধ?

ইসলামী ফিকহ বিশারদ ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি ভিডিও কলে ইজাব-কবুল করে বিয়ে করা অধিকাংশ আলেমের মতে বৈধ নয়। তবে ইসলামী শরীয়াহতে এর একটি সম্পূর্ণ সুন্নাহসম্মত ও শতভাগ বৈধ বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে, যাকে ‘ওকালতি’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ পদ্ধতি বলা হয়।

১. ভিডিও কলে সরাসরি বিয়ে বৈধ না হওয়ার কারণ (জমহুর ওলামাদের মত)

ইসলামী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য ‘ইত্তিহাদুল মজলিস’ বা উভয় পক্ষ এবং সাক্ষীদের একই স্থানে বা মজলিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। ভিডিও কলে সরাসরি বিয়ে না হওয়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক ও শরঈ কারণসমূহ:

  • মজলিস ভিন্ন হওয়া: বর ও কনে দুটি ভিন্ন স্থানে থাকেন, যা একই মজলিসে উপস্থিত থাকার শর্তটি সরাসরি লঙ্ঘন করে।
  • ডিজিটাল প্রপঞ্চ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: এআই প্রসেসিং, ভয়েস চেঞ্জিং প্রযুক্তি বা ডিপফেক (Deepfake)-এর মতো প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঝুঁকি থেকে যায়।
  • সাক্ষীদের সশরীরে অনুপস্থিতি: বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর সামনে সরাসরি ইজাব-কবুল হতে হয়, যা স্ক্রিনের ওপার থেকে নিশ্চিত করা কঠিন।

(উল্লেখ্য, কয়েকজন আধুনিক আলেম পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে শিথিলতার কথা বললেও সিংহভাগ ফতোয়া বোর্ড এবং আলেম সতর্কতাস্বরূপ এটিকে অবৈধ বলেছেন)।

২. প্রবাসীদের বিয়ের সঠিক ও বৈধ পদ্ধতি: ওকালতি (Proxy Marriage)

কোনো পাত্র বা পাত্রী বিদেশে বা দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করলে, সরাসরি ভিডিও কলে বিয়ে না করে ‘ওয়াকিল’ বা প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করাই শরীয়াহসম্মত নিয়ম।

ধাপসমূহ:

১. উকিল নিযুক্তকরণ: দূরে থাকা পাত্র (বা পাত্রী) তার পরিচিত কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে (যেমন: ভাই, বন্ধু বা আত্মীয়) ফোন বা ভিডিও কলে স্পষ্ট ভাষায় বলবেন—“আমি তোমাকে অমুক কনের সাথে আমার বিয়ের জন্য আমার ‘উকিল’ বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম।”

২. মজলিসে ইজাব-কবুল: নিযুক্ত উকিল বিয়ের মূল মজলিসে কাজি, কনের ওলি (অভিভাবক) এবং অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীর সামনে সশরীরে উপস্থিত হবেন।

৩. আকদ সম্পাদন: কনের পক্ষ থেকে বিয়ে দেওয়া হলে, প্রবাসীর নিযুক্ত উকিল সবার সামনে বলবেন—“আমি আমার মক্কেল (বরের নাম)-এর পক্ষে এই বিয়ে কবুল করলাম।”

[প্রবাসে থাকা পাত্র] ──► প্রতিনিধি (উকিল) নিয়োগ ──► বিয়ের মূল মজলিস ──► কাজি ও সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুল ──► বৈধ বিয়ে

এই প্রক্রিয়ায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সময় দূরে থাকা পাত্র-পাত্রী চাইলে ভিডিও কলে যুক্ত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখতে পারেন, এতে শরীয়াতে কোনো বাধা নেই।

৩. দূর থেকে বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামা ও আইনি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী (মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯৭৪) বিয়ের পর কাজি অফিসে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। তবে অনলাইনে সম্পূর্ণ “অনলাইন-অনলি” বা ইন্টারনেটে ডিজিটালি সই করে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ নেই। সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে বালাম বইয়ে স্বাক্ষর করতে হয়।

  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ওকালতনামা: প্রবাসে থাকা পাত্র বা পাত্রী সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে মনোনীত প্রতিনিধির নামে একটি লিগ্যাল “ওকালতনামা” বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করিয়ে দেশে পাঠাবেন।
  • নথিপত্র ও বয়সের প্রমাণ: বর (ন্যূনতম ২১ বছর) ও কনের (ন্যূনতম ১৮ বছর) জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)/পাসপোর্ট ও ছবি কাজি অফিসে জমা দিতে হবে।
  • রেজিস্ট্রেশন ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট: নিযুক্ত উকিল এবং সাক্ষীরা কাজি অফিসে গিয়ে বালাম বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। কাজি সাহেব তথ্যগুলো সিভিল রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে (CRVS) আপলোড করার পর বর-কনে কিউআর (QR) কোড সম্বলিত ডিজিটাল কাবিননামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।

৪. বিয়ের ক্ষেত্রে ওলি (কনের অভিভাবক)-এর প্রয়োজনীয়তা

ইসলামে কনের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ওলি’ (Wali) বা অভিভাবকত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক স্তম্ভ।

  • ওলির ক্রম: কনের প্রধান ওলি হলেন তার পিতা। পিতা না থাকলে দাদা, আপন ভাই, সৎ ভাই, ও চাচা পর্যায়ক্রমে ওলি হবেন।
  • ওলি ছাড়া বিয়ের বিধান:
    • জমহুর ওলামা (শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী): ওলি ছাড়া বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল বা অসিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ওলি (অভিভাবক) ছাড়া কোনো বিবাহ সংঘটিত হয় না” (আবু দাউদ)।
    • হানাফী মাযহাব: কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমতি নারী ওলি ছাড়া উপযুক্ত (কুফু) পাত্রের সাথে দুজন সাক্ষীর সামনে বিয়ে করলে তা সহীহ হয়ে যাবে। তবে ওলির অনুমতি ছাড়া বিয়ে করাকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে অনুচিত মনে করা হয়।

অতএব, দূরে থেকে বিয়ে সম্পন্ন করতে চাইলে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রত্যয়িত ওকালতনামা এবং বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করাই ধর্মীয় ও আইনি উভয় দিক থেকেই নিরাপদ সমাধান।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ডিএনএ

নিউজ ডেস্ক

September 14, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant & Science Content Analyst) বিভাগ (Category): বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আইন প্রকাশের তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তথ্যসূত্র (Sources): বৈজ্ঞানিক ইতিহাস সংকলন, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক বিজ্ঞান বিষয়ক প্রকাশনা।

ঢাকা: ১৮৬৯ সালে সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণাগারে ব্যান্ডেজের পুঁজ থেকে এক অজানা রাসায়নিক পদার্থ আলাদা করেছিলেন রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ মিশার। তখন তিনি নিজেও জানতেন না, তাঁর হাতে যে পদার্থটি এসেছে—যাকে তিনি “নিউক্লিন” নাম দিয়েছিলেন—তা একদিন মানব সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোর একটি হয়ে উঠবে, এবং এক শতাব্দীর বেশি সময় পর তা হয়ে উঠবে আদালতে অপরাধী শনাক্তকরণ ও পিতৃত্ব নির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ।

১৮৬৯ থেকে ১৯৫৩: একটি অণুর রহস্য উদ্ঘাটন

মিশারের আবিষ্কারের পর প্রায় ৮৪ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এই পদার্থের গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে ১৯৫৩ সালে, যখন গবেষক জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক প্রমাণ করেন যে এই অণুটি একটি পেঁচানো সিঁড়ির মতো দ্বি-সূত্রক গঠন ধারণ করে, যা বিজ্ঞানের ভাষায় “ডাবল হেলিক্স” নামে পরিচিত। এই আবিষ্কার ছিল বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান জগতের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত—কারণ এর মাধ্যমেই প্রথমবার স্পষ্ট হয় যে কীভাবে জীবের বংশগত তথ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত ও স্থানান্তরিত হয়। চারটি নাইট্রোজেন বেস—অ্যাডিনিন, থাইমিন, সাইটোসিন ও গুয়ানিন—নির্দিষ্ট নিয়মে জোড়ায় জোড়ায় মিলিত হয়ে যে জেনেটিক কোড তৈরি করে, তা-ই নির্ধারণ করে একটি জীবের সব শারীরিক বৈশিষ্ট্য।

বিজ্ঞান থেকে ফরেনসিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর

১৯৫৩ সালের আবিষ্কারের পর কয়েক দশকের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, প্রতিটি মানুষের ডিএনএ গঠন—অভিন্ন যমজ ছাড়া—সম্পূর্ণ অনন্য। এই আবিষ্কারই পরবর্তীতে ফরেনসিক বিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। বিশ্বজুড়ে ডিএনএ প্রযুক্তি এখন তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়—পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণ, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং বংশগত রোগের পূর্বাভাস। লালা, রক্ত, চুলের গোড়া বা এমনকি ব্যবহৃত টুথব্রাশ থেকেও সংগৃহীত নমুনা দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রায় নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়।

বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্টের আইনি কাঠামো

বাংলাদেশে সাধারণ ডিএনএ টেস্ট ও আদালতে গ্রহণযোগ্য আইনি ডিএনএ টেস্টের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রণীত ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের মাধ্যমে এই পুরো প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়। এই আইনি কাঠামোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিম্নরূপ:

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলায় পর্যাপ্ত আইনগত ভিত্তি না থাকলে কাউকে জোরপূর্বক ডিএনএ পরীক্ষায় বাধ্য করা যায় না—আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স ছাড়া এই পরীক্ষা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না। এছাড়া নমুনা সংগ্রহ থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত নথি সংরক্ষণ করতে হয়, যাতে কোনো পক্ষ প্রমাণ পরিবর্তনের সুযোগ না পায়—ফরেনসিক বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “চেইন অব কাস্টডি”। সাধারণ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদন আদালতে সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয়; বরং আইনি প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয় নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে, যেমন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবরেটরি বা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে।

কোথায় কোথায় প্রয়োগ হয় আইনি ডিএনএ টেস্ট

বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ সাধারণত তিন ধরনের মামলায় দেখা যায়—সন্তানের বাবা-মা নির্ধারণ সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার মামলায়, ধর্ষণ বা হত্যার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে অপরাধী শনাক্ত বা নিরপরাধ ব্যক্তিকে অভিযোগমুক্ত করার ক্ষেত্রে, এবং যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে অভিবাসনের সময় পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণের প্রয়োজনে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতি বা অপ্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে অভিভাবকের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।

বিজ্ঞান ও ন্যায়বিচারের মিলনবিন্দু

ডিএনএর এই যাত্রা একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়—কোনো মৌলিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার কখনো কখনো তার নিজের সময়ের চেয়ে অনেক দূরের ভবিষ্যতের সমাজ ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে। ফ্রেডরিখ মিশার যখন ১৮৬৯ সালে পুঁজকোষ থেকে এক অজানা পদার্থ পৃথক করেছিলেন, তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে দেড়শ বছর পর এই আবিষ্কারই বাংলাদেশের মতো দেশের আদালতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

উপসংহার

ডিএনএর বৈজ্ঞানিক ইতিহাস এবং বাংলাদেশে এর আইনি প্রয়োগ—দুটোই দেখায় কীভাবে বিজ্ঞান ধীরে ধীরে সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ হয়ে ওঠে। তবে প্রযুক্তির এই ক্ষমতা যতটা শক্তিশালী, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ এর সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার—যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের আইনি কাঠামো প্রতিনিয়ত পরিমার্জিত হচ্ছে, যাতে বিজ্ঞানের এই শক্তিশালী হাতিয়ার ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে, কোনো পক্ষের অপব্যবহারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ