অনলাইনে আয়

ছোট ব্যবসা শুরু করার সহজ উপায়: আপনার উদ্যোগের সফল যাত্রা
ছোট ব্যবসা

নিউজ ডেস্ক

November 14, 2025

শেয়ার করুন

নতুন ব্যবসা শুরু করা অনেকের জন্য একটি দুঃসাহসিক কাজ মনে হতে পারে। ব্যবসার ধারণা, প্রডাক্ট নির্বাচন, বিক্রি করার পদ্ধতি, দাম নির্ধারণ এবং কাস্টমার আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। তবে, যদি আপনি একটু পরিকল্পনা করেন এবং সঠিক পথ অনুসরণ করেন, তাহলে মাত্র কিছু বিনিয়োগে আপনি একটি সফল ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এখানে আমি একটি সহজ পদ্ধতি শেয়ার করবো, যা দিয়ে আপনি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

১. পণ্য নির্বাচন করুন: Buy 1 & Get 1 Free

ব্যবসা শুরু করতে প্রথমে আপনাকে একটি জনপ্রিয় পণ্য নির্বাচন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, “Buy 1 & Get 1 Free” ধরনের অফার একটি আকর্ষণীয় বিক্রির কৌশল। এই ধরনের অফার অনেক মানুষকে আকৃষ্ট করে, এবং একবার যদি কাস্টমার আকৃষ্ট করতে পারেন, তবে তাদের কাছে পুনরায় বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়।

২. ব্যবসা স্থাপন করুন: সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার

আপনার ব্যবসা শুরু করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি করা। সোশ্যাল মিডিয়া এখন সবচেয়ে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহার করে আপনি আপনার পণ্য দ্রুত প্রচার করতে পারবেন। এজন্য আপনি একজন ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট নিয়োগ করতে পারেন যারা আপনার পণ্যের প্রচারের জন্য সঠিক অ্যাড কপি তৈরি করবে এবং বিজ্ঞাপন চালাবে।

৩. বিজ্ঞাপন এবং মার্কেটিং:

একবার আপনার ফেসবুক পেজ তৈরি হয়ে গেলে, আপনি 1000 টাকার বিজ্ঞাপন চালিয়ে শুরু করতে পারেন। ফেসবুক বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে আপনি খুব সহজেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে আপনার পণ্যের কথা জানাতে পারবেন। আপনি Buy 1 & Get 1 Free অফারটি খুব আকর্ষণীয়ভাবে প্রচার করতে পারেন, যা কাস্টমারদের নজর কাড়বে।

৪. সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন:

আপনার ব্যবসা শুরু করার জন্য খুব বেশি ইনভেস্টমেন্ট প্রয়োজন নেই। আপনাকে শুধু একটি সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে হবে যিনি আপনার পণ্য সরবরাহ করবেন। আপনি সরাসরি সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারেন এবং তারা আপনাকে হোম ডেলিভারি করতে সাহায্য করবে। এতে আপনার ইনভেন্টরি বা ম্যানপাওয়ার খরচ কমে যাবে।

৫. কাস্টমার সার্ভিস এবং রিপিট কাস্টমার তৈরি করা:

কাস্টমার সেবার ক্ষেত্রে সফল হলে আপনার ব্যবসা দ্রুত বেড়ে যাবে। কাস্টমারদের কাছ থেকে রিভিউ নিতে হবে এবং তাদের জন্য ভালো সেবা প্রদান করতে হবে যাতে তারা আপনাকে আবারও অর্ডার দেয়। “Customer is king, customer is everything” – এই মূলমন্ত্র অনুসরণ করতে হবে।

৬. নির্দিষ্ট জায়গায় ফোকাস করুন:

আপনি যে শহরে আছেন, সেখানে কমপক্ষে ৫ লাখ লোক থাকা প্রয়োজন। কারণ, বড় শহরগুলোতে অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকে। যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী—এগুলোতে ব্যবসার জন্য ভালো বাজার পেতে পারেন।

৭. কস্ট এবং লাভের হিসাব:

আপনার প্রথম বিনিয়োগ ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। যদি আপনি কম্পিউটার বা ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে জানেন, তাহলে এই ব্যবসা খুব সহজে শুরু করতে পারেন। ব্যবসায়িক দক্ষতা তৈরি করার জন্য আপনাকে স্কিলস রাইডার প্ল্যাটফর্মের মতো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এখান থেকে আপনি আপনার ব্যবসা সফলভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

৮. পণ্যের পজিশনিং ও টিম তৈরি:

একটি সেরা পণ্য তৈরি করতে হলে আপনাকে বাজারের চাহিদা বুঝে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। কিভাবে পণ্যটি মার্কেটে পজিশন করবেন, কিভাবে টিম তৈরি করবেন এবং কিভাবে ইনোভেশন নিয়ে আসবেন—এসব সম্পর্কে জানাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আপনি এই ব্যবসা শুরু করার জন্য যা যা করতে হবে:

  • একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি করুন।
  • ফেসবুক বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য একজন এক্সপার্টের সাহায্য নিন।
  • সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, যারা হোম ডেলিভারি করবে।
  • কাস্টমারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদেরকে রিপিট কাস্টমার তৈরি করার কৌশল শিখুন।
  • ৫-১৫ হাজার টাকার বিনিয়োগ দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

এভাবে আপনি কম বিনিয়োগে একটি সফল ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে তা বড় করে তুলতে পারবেন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

What is the Dark Web?

নিউজ ডেস্ক

March 24, 2026

শেয়ার করুন


বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র এসইও ও ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)

হলিউড সিনেমা ‘হ্যাকার’ বা সাই-ফাই মুভিগুলোতে আমরা প্রায়ই দেখি এক রহস্যময় নেটওয়ার্কের কথা, যেখানে অপরাধীরা পুলিশের চোখের আড়ালে তাদের কার্যক্রম চালায়। আপনার কি মনে হয় এগুলো শুধুই গল্প? মোটেও না! আমাদের পরিচিত ইন্টারনেটের আড়ালে রয়েছে এক বিশাল অন্ধকার জগত, যাকে বলা হয় ডার্ক ওয়েব (Dark Web)

আজকের এই ব্লগে আমরা উন্মোচন করবো ডার্ক ওয়েবের সেই অজানা রহস্য এবং জানবো কেন গুগল এই জগতের মাত্র ১০% তথ্য আমাদের দেখায়।

১. ইন্টারনেটের বিশালতা: আমরা কতটুকু দেখি?

আপনি কি জানেন, আপনি যখন গুগলে কিছু সার্চ করেন, তখন গুগল আপনাকে ইন্টারনেটের মোট তথ্যের মাত্র ১০ শতাংশ ফলাফল দেখায়? বাকি ৯০ শতাংশ তথ্যই সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইন্টারনেটের এই গঠনকে একটি হিমবাহের (Iceberg) সাথে তুলনা করা হয়:

  • সারফেস ওয়েব (Surface Web): ফেসবুক, ইউটিউব বা আপনার প্রিয় নিউজ সাইটগুলো।
  • ডিপ ওয়েব (Deep Web): পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত ডাটাবেজ, আপনার ইমেইল বা ব্যাংকিং তথ্য।
  • ডার্ক ওয়েব (Dark Web): ইন্টারনেটের গভীরতম অংশ, যা সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে খোলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:বাংলাদেশে বিওয়াইডি (BYD) গাড়ি উৎপাদন করবে রানার: শেয়ারবাজারে ১০% লম্ফম কী?

২. কেন গুগল ডার্ক ওয়েব খুঁজে পায় না?

গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো Crawler নামক ভার্চুয়াল রোবট ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে। ডার্ক ওয়েবের সাইটগুলো Robot Exclusion Protocol ব্যবহার করে এই রোবটগুলোকে আটকে দেয়। এছাড়া এই সাইটগুলোর ইউআরএল (URL) হয় অত্যন্ত অদ্ভুত (যেমন: sdjsdhsjhs...onion), যা সাধারণ মানুষের পক্ষে মনে রাখা বা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

৩. ডার্ক ওয়েবে কী কী পাওয়া যায়? (ভয়ংকর কিছু সত্য)

এই জগতটি যেমন রহস্যময়, তেমনই বিপজ্জনক। ডার্ক ওয়েবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে:

  1. ব্ল্যাক মার্কেট: এখানে বিটকয়েনের মাধ্যমে মাদক, অস্ত্র এবং চোরাই ক্রেডিট কার্ডের তথ্য কেনাবেচা হয়।
  2. কিলার সার্ভিস: ডার্ক ওয়েবে এমন কিছু সাইট রয়েছে যেখানে টাকার বিনিময়ে প্রফেশনাল কিলার বা হিটম্যান ভাড়া পাওয়া যায়!
  3. গোপন তথ্য: উইকিলিকসের মতো অনেক বড় বড় ফাঁস হওয়া তথ্য সারফেস ওয়েবে আসার অনেক আগে থেকেই এখানে আদান-প্রদান হয়।

বিশেষ টিপস: আপনি কি জানেন ডার্ক ওয়েবের হ্যাকারদের থেকে আপনার ওয়াই-ফাই সুরক্ষিত আছে কি না?

৪. টর (Tor) ব্রাউজার ও অনিয়ন নেটওয়ার্ক

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে হলে সাধারণ ক্রোম বা ফায়ারফক্স কাজ করবে না। এজন্য প্রয়োজন হয় Tor (The Onion Router) ব্রাউজার। এটি আপনার পরিচয় এবং লোকেশন সম্পূর্ণ লুকিয়ে ফেলে। মূলত মার্কিন নেভির গোপন যোগাযোগের জন্য এটি তৈরি করা হলেও এখন এটি ছদ্মবেশী অপরাধীদের প্রথম পছন্দ।

সতর্কবার্তা: কেন আপনার ডার্ক ওয়েব থেকে দূরে থাকা উচিত?

ডার্ক ওয়েব যতটা আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে হ্যাকিং এবং ম্যালওয়্যার সংক্রমণের ভয়। আপনার সামান্য একটি ভুল ক্লিকেই আপনার সম্পূর্ণ ডিভাইস হ্যাক হতে পারে। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় এই নেটওয়ার্কে নজরদারি চালায়।

উপসংহার

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে জানা থাকা ভালো, কিন্তু সেখানে প্রবেশ করা মোটেও নিরাপদ নয়। ইন্টারনেটের এই মহাসমুদ্রে নিরাপদে বিচরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

হাজার কোটি টাকা পাচারের তালিকা

নিউজ ডেস্ক

March 23, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বা ‘মানি লন্ডারিং’ (Money Laundering) বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগের বিষয়। সম্প্রতি একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারত ও কানাডায় কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। পি কে হালদার থেকে শুরু করে ওসি প্রদীপ—এই নামগুলো কেবল দুর্নীতির চিত্র নয়, বরং একটি ভেঙে পড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংকেত।

১. পি কে হালদার: আর্থিক খাতের ‘মাস্টারমাইন্ড’?

তালিকায় সবচেয়ে উপরে থাকা পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশের মাটিতে পাচার হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের শেষ নেই। তার পাচারকৃত অর্থের গন্তব্য মূলত ভারত এবং কানাডার সেই কথিত ‘বেগম পাড়া’।

২. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও অর্থ পাচারের যোগসূত্র

তালিকায় থাকা অন্য নামগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তারা প্রশাসনের অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে ছিলেন:

  • এস. কে সুর: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর হিসেবে ১০০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ।
  • সুধাংশু শেখর ভদ্র: ডাক বিভাগের মতো সাধারণ মানুষের সেবা খাতের শীর্ষ পদে থেকে ৫০০ কোটি টাকার অভিযোগ।
  • ওসি প্রদীপ কুমার: পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য হয়েও ৩০০ কোটি টাকা পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আরও পড়ুন:২০২৬ সালের জ্বালানি সংকট ও তেলের বাজার নিয়ে ট্রাম্পের আলটিমেটাম: আমাদের করণীয় কী?

৩. পাচারকৃত অর্থের গন্তব্য: ভারত বনাম কানাডা

অনেকে প্রশ্ন তোলেন, টাকা পাচারের গন্তব্য হিসেবে ভারত ও কানাডাকে কেন বেছে নেওয়া হয়? বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং আইনি শিথিলতার সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধী ভারতে অর্থ ও সম্পত্তি গড়ে তোলেন। অন্যদিকে, কানাডাকে বেছে নেওয়া হয় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য। তবে ২০২৬ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এই পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের ওপর ব্যাপক জনচাপ রয়েছে।

৪. আনুগত্যের প্রশ্ন ও জাতীয় নিরাপত্তা

এই তালিকাটি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি বিতর্ককেও উসকে দিয়েছে। অনেকের মতে, যারা পার্শ্ববর্তী দেশে বিপুল অর্থ পাচার করে এবং সেখানে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে, তাদের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটি কেবল আর্থিক অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি।

বিশেষ বিশ্লেষণ:বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা কেমন? প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে ২০২৬ সালের নতুন সমীকরণ

৫. উত্তরণের পথ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা

২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষ চায় একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন। টাকা পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কেবল ব্যক্তি নয়, বরং যে ‘সিস্টেম’ বা ব্যবস্থার কারণে এই পাচার সম্ভব হয়েছে, সেই সিস্টেমকে সংস্কার করাই হবে জুলাই বিপ্লবের সার্থকতা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

পারমাণবিক বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 23, 2026

শেয়ার করুন


লিখেছেন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)

বাংলাদেশ কি কখনো পারমাণবিক অস্ত্রধারী (Nuclear-Armed) দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে আবির্ভূত হতে পারবে? রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সফল কার্যক্রমের পর এই প্রশ্নটি এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু একটি উন্নয়নশীল এবং শান্তিকামী দেশের জন্য এই পথটি কতটা কণ্টকাকীর্ণ? আজ আমরা ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করব সেই গোপন সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণগুলো।

১. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: এটি কি কেবল বিদ্যুতের জন্য?

অনেকেই মনে করেন, রূপপুর কেবল দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর একটি প্রকল্প। কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর বাংলাদেশকে একটি ‘নিউক্লিয়ার ইকোসিস্টেম’ প্রদান করেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম (৫% সমৃদ্ধ) এবং পরমাণু অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম (৯০% সমৃদ্ধ) এর মধ্যে বিশাল পার্থক্য থাকলেও, এর প্রাথমিক অবকাঠামোগত ভিত্তিটি কিন্তু একই।

আরও পড়ুন:২০২৬ সালের জ্বালানি তেলের সরবরাহ: দেশে পর্যাপ্ত মজুত ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান

২. ৫% বনাম ৯০%: প্রযুক্তিগত সেই দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ

অসামরিক কাজের ইউরেনিয়ামকে অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করাটাই বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ। এর জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের সেন্ট্রিফিউজ প্রযুক্তি এবং অত্যন্ত গোপন গবেষণাগার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ‘একলা চলো’ নীতিতে বাংলাদেশ কি পারবে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এই প্রযুক্তিতে সফল হতে? এই ঝক্কি সামলানো কি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে?

৩. হাইপোথেটিক্যাল সিনারিও: বাংলাদেশ যদি গোপনে পরমাণু অস্ত্র বানাত?

কল্পনা করুন, বাংলাদেশ মাটির গভীরে এমন এক গবেষণাগার তৈরি করল যা শক্তিশালী সামরিক স্যাটেলাইটও শনাক্ত করতে পারবে না। এক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণগুলো কেমন হবে?

  • প্রতিবেশী দেশ: ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের এমন প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করবে।
  • পাকিস্তান ও ইরান: নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে তারা হয়তো গোপনে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
  • যুক্তরাষ্ট্র: কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।

বিশেষ কন্টেন্ট:যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ২০২৬: ট্রাম্পের ৫ দিনের আলটিমেটাম ও বিশ্ববাজারের প্রভাব

৪. অর্থনৈতিক ঝুঁকি বনাম আন্তর্জাতিক মর্যাদা

পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়া মানেই কি কেবল ক্ষমতা? না, এর রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। গোপন কর্মসূচির গোমর ফাঁস হলে বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় এবং রেমিট্যান্সে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তবে একবার যদি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ‘নিউক্লিয়ার ডিপ্লোম্যাসি’ বা পরমাণু কূটনীতিতে এক নতুন শক্তি তৈরি হবে।

৫. ভাবমূর্তি বনাম শক্তি: আমাদের গন্তব্য কোথায়?

পরমাণু অস্ত্রধারী দেশের তকমা কি আমাদের শান্তিকামী ভাবমূর্তির চেয়েও বড়? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ আমাদের বিশ্বদরবারে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের এই সংকুল বিশ্ব পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষই কি আমাদের বড় অস্ত্র হওয়া উচিত নয়?

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ