আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।
এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি
চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”
সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশে তার ভাবমূর্তি নিয়ে কট্টর ও নমনীয়—উভয় ধরণের মতবাদই প্রচলিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে ‘মুসলিম বিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, পর্দার আড়ালে তার সাথে মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভারতের প্রভাবশালী মুসলিম নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠতা এক ভিন্ন বার্তা দেয়।

জাফর সরেশওয়ালা: মোদী-মুসলিম সেতুবন্ধনের নায়ক নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত আহমেদাবাদ-ভিত্তিক মুসলিম ব্যবসায়ী জাফর সরেশওয়ালা। তিনি কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং ইসলামের কঠোর অনুসারী ‘তাবলিগী জামাত’-এর একজন সক্রিয় সদস্য। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকেই তিনি মোদীর অন্যতম সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হন।

সরেশওয়ালা আহমেদাবাদ-ভিত্তিক একটি মুসলিম পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আধুনিক বিশ্বের মধ্যে ব্যবধান ঘুচিয়ে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে একটি ‘মুসলিম উপদেষ্টা গ্রুপ’ গঠন করেন, সরেশওয়ালা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি সাচার কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং শিশুদের বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার (RTE) আইনের একজন প্রধান প্রবক্তা।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও জিএসটি সরেশওয়ালা ভারতের গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)-এর অন্যতম সমর্থক ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই কর ব্যবস্থা ব্যবসায়িক খরচ কমিয়ে ভারতীয় ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। জিএসটি কাউন্সিলের মিটিংগুলোতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন ভারতের ব্যবসায়িক মহলে সমাদৃত হয়েছে।

বিদ্বেষ নাকি কূটনীতি? সমালোচকরা প্রায়ই দাবি করেন মোদী মসজিদে যান না। তবে ইতিহাস ভিন্ন কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী কেবল ভারতের ভেতরেই নয়, রাষ্ট্রীয় সফরে বিভিন্ন মুসলিম দেশে গিয়ে মসজিদে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মিসরের আল-হাকিম মসজিদ থেকে শুরু করে ওমানের সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ—সর্বত্রই তার পদচারণা ছিল। এমনকি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলো তাকে তাদের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করেছে।
তথ্য ও বিশ্লেষণের অভাব বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের একটি বড় অংশ নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে কেবলমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধারণা পোষণ করে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘ব্যাবাম (Vyapam) কেলেঙ্কারি’র মতো বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা দুর্নীতির খবর অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। ফলে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে কেবল ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ তকমা দিয়েই অনেক আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে।
উপসংহার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে জাফর সরেশওয়ালার এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ইমেজ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালনার নীতি সব সময় এক নয়। সরেশওয়ালা বর্তমানে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন, যা অনেকের কাছে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোদীর উদ্যোগগুলোর প্রতি তার সমর্থন আগামী দিনগুলোতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আরও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: জাফর সরেশওয়ালা আর্কাইভ, উইকিপিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংবাদ।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মার্শাল আর্ট শব্দটি শুনলেই বিশ্বজুড়ে যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন ব্রুস লি (Bruce Lee)। তিনি কেবল একজন অভিনেতা বা ফাইটার ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, লেখক এবং আধুনিক ফিটনেস বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক। মাত্র ৩২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি বিশ্বকে যা দিয়ে গেছেন, তা আজও কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস।

১. জন্ম ও শৈশব: হংকং থেকে আমেরিকার যাত্রা
ব্রুস লির জন্ম ২৭ নভেম্বর ১৯৪০ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে, ড্রাগন বছরে এবং ড্রাগন ঘন্টায়। তার বাবা ছিলেন একজন অপেরা শিল্পী। জন্মের কয়েক মাস পর তারা হংকংয়ে ফিরে যান। হংকংয়ের রাস্তায় বেড়ে ওঠার সময় তিনি প্রায়ই মারামারি বা গ্যাং ফাইটে জড়িয়ে পড়তেন। এই বিশৃঙ্খল জীবন থেকে নিজেকে বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষা শিখতে তিনি কিংবদন্তি ওস্তাদ আইপি ম্যান (Ip Man)-এর কাছে ‘উইং চুন’ (Wing Chun) শেখা শুরু করেন।
১৮ বছর বয়সে ব্রুস লি পুনরায় আমেরিকা ফিরে আসেন এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে (Philosophy) পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে তিনি কেবল মার্শাল আর্ট শেখানোই শুরু করেননি, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে যুদ্ধের কৌশলকে মিলিয়ে এক অনন্য দর্শন তৈরি করেন।
২. ‘জিত কুনে দো’ (Jeet Kune Do): প্রথা ভাঙার দর্শন

ব্রুস লি প্রচলিত মার্শাল আর্টের কঠিন এবং অকেজো নিয়মগুলো পছন্দ করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, লড়াই হওয়া উচিত পানির মতো—সহজ এবং অভিযোজনযোগ্য। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার নিজস্ব শৈলী ‘জিত কুনে দো’। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল:
“Be water, my friend. Empty your mind, be formless, shapeless — like water.”
তিনি বিশ্বাস করতেন, যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচ নেই। পরিস্থিতির সাথে নিজেকে বদলে ফেলাই হলো প্রকৃত যোদ্ধার পরিচয়।
৩. কিংবদন্তি হয়ে ওঠা: হলিউড এবং হংকং

হলিউডে ‘দ্য গ্রিন হর্নেট’ সিরিয়ালে কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন এশিয়ানদের জন্য সেখানে মূল চরিত্রে সুযোগ কম। এরপর তিনি হংকং ফিরে গিয়ে ‘দ্য বিগ বস’, ‘ফিস্ট অফ ফিউরি’ এবং ‘দ্য ওয়ে অফ দ্য ড্রাগন’ সিনেমাগুলো করেন। তার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতা এবং অ্যাকশন স্টাইল সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার শেষ এবং সবচেয়ে সফল সিনেমা ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ মুক্তির মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
৪. রহস্যময় মৃত্যু: ‘সেরিব্রাল এডিমা’ না অন্য কিছু?

২০ জুলাই ১৯৭৩ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে ব্রুস লির মৃত্যু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, তার মৃত্যুর কারণ ছিল ‘সেরিব্রাল এডিমা’ (মস্তিষ্কে অতিরিক্ত পানি জমে ফুলে যাওয়া)। তবে তার মৃত্যু নিয়ে আজও অনেক রহস্য রয়েছে। কেউ মনে করেন অতিরিক্ত পরিশ্রম, কেউ বলেন ড্রাগ রিয়েকশন, আবার অনেক ভক্ত মনে করেন এটি ছিল কোনো ষড়যন্ত্র। তবে তার আকস্মিক বিদায় মার্শাল আর্টের ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
৫. ব্রুস লির দর্শনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: নিউরোপ্লাস্টিসিটি

ব্রুস লির একটি বিখ্যাত স্লোগান ছিল—“He was right”। ব্রুস লি বিশ্বাস করতেন, জীবন বদলাতে শুধু পরিকল্পনা নয়, দরকার প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের ধারাবাহিকতা। আধুনিক নিউরোসায়েন্স একে বলে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)।
- মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন: বিজ্ঞান বলে, আমরা যখন প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ (যেমন পাঞ্চিং প্র্যাকটিস বা পড়াশোনা) করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে নতুন ‘নিউরাল পাথওয়ে’ তৈরি হয়।
- দক্ষতা অর্জন: ব্রুস লি বলেছিলেন, “আমি সেই ব্যক্তিকে ভয় পাই না যে ১০ হাজার কিক একবার অনুশীলন করেছে, আমি তাকে ভয় পাই যে একটি কিক ১০ হাজার বার অনুশীলন করেছে।” এটিই নিউরোসায়েন্সের ভাষায় ‘মাসল মেমোরি’ এবং নিউরাল কানেকশন মজবুত করার শ্রেষ্ঠ উপায়।
৬. ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে ব্রুস লির প্রাসঙ্গিকতা
আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে এবং স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন হচ্ছে, তখন ব্রুস লির ‘গতিশীল থাকা’ (In Motion) দর্শন অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত জীবনে কর্মতৎপরতা এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা—উভয়ই ব্রুস লির সততার দর্শনের সাথে মিলে যায়।
উপসংহার
ব্রুস লি খুব অল্প সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি প্রমান করে গেছেন যে আপনার জীবনের মান নির্ভর করে আপনি প্রতিদিন বাস্তবে কী কাজ করছেন তার ওপর। তিনি আজ কেবল একজন মার্শাল আর্টিস্ট নন, বরং সফলতার একটি বৈজ্ঞানিক ফর্মুলা।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ট্যাটু বা উল্কি আঁকা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি জনপ্রিয় ফ্যাশন। তবে বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার আগে আপনার শরীরের এই শিল্পকর্মটি কোনো দেশে আপনার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে কি না, তা জানা জরুরি। সাধারণভাবে ‘ট্যাটু করা সরাসরি নিষিদ্ধ’ এমন কোনো দেশ না থাকলেও, বেশ কিছু দেশে এর ওপর ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিধিনিষেধ রয়েছে।
১. থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা: বুদ্ধের ট্যাটুতে সতর্কতা

শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডে ট্যাটু নিষিদ্ধ নয়। তবে যেহেতু এই দেশগুলোর সিংহভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, তাই শরীরে গৌতম বুদ্ধের ছবি ট্যাটু করাকে তারা চরম অবমাননাকর মনে করে। ২০১৪ সালে ব্রিটিশ পর্যটক নাওমি কোলম্যানকে শরীরে বুদ্ধের ট্যাটু থাকার কারণে শ্রীলঙ্কা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আইনত ট্যাটু নিষিদ্ধ না হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে আপনি বড় আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
২. ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য: আইন বনাম ধর্মীয় বাধা

ইরান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্যাটু করা আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে ইরানে ফুটবলার আশকান দেজাগাহ যখন ট্যাটু প্রদর্শনের জন্য সমালোচিত হন, তখন বিষয়টি বিশ্ব গণমাধ্যমে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে (সৌদি আরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া) ট্যাটু আইনত বৈধ হলেও সামাজিকভাবে একে ভালো নজরে দেখা হয় না। বিশেষ করে অশ্লীল ছবি বা পবিত্র কোনো ধর্মগ্রন্থের আয়াত ট্যাটু করানো সেখানে বিপজ্জনক হতে পারে।
৩. উত্তর কোরিয়া: রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন
কিম জং উনের দেশে ট্যাটু করানো যায়, তবে সেখানে আপনার পছন্দ নয়, বরং রাষ্ট্রের পছন্দই শেষ কথা। কিম পরিবার বা সাম্যবাদী দলের গুণকীর্তনমূলক ট্যাটু করাতে কোনো বাধা নেই। তবে ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ প্রতীকের ট্যাটু করাতে গেলে আপনাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
৪. জাপান: সামাজিক বয়কটের ভয়
জাপানে ট্যাটু করা বৈধ। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে জাপানি অপরাধী চক্র ‘ইয়াকুজা’র সদস্যরা সারা শরীরে ট্যাটু করায়, সাধারণ জাপানিরা একে ভয়ের চোখে দেখে। এ কারণে জাপানের অনেক পাবলিক বাথ (অন্সন), জিম বা পুলে ট্যাটু থাকলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং একটি সামাজিক রীতি।
৫. দক্ষিণ কোরিয়া: কেবল ডাক্তাররাই শিল্পী
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনটি বেশ অদ্ভুত। সেখানে ট্যাটু করা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু ট্যাটু আর্টিস্ট হওয়া কঠিন। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনায় সেখানে কেবল সনদপ্রাপ্ত ডাক্তারদেরই ট্যাটু করার অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণ আর্ট স্টুডিওতে ট্যাটু করানো সেখানে অনেক সময় ‘অবৈধ চিকিৎসা সেবা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
৬. অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস: বয়সের কড়াকড়ি
উন্নত দেশগুলোতে মূলত বয়সের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া বা নেদারল্যান্ডসে ১৮ বছরের নিচে কারো ট্যাটু করাতে চাইলে বাবা-মায়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ১৮ বছর হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো বিধিনিষেধ নেই।
৭. চীন ও জার্মানি: রাজনৈতিক প্রতীকে নিষেধাজ্ঞা
জার্মানি বা ফ্রান্সে নাৎসিদের কোনো প্রতীক (যেমন: স্বস্তিকা) ট্যাটু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। চীনেও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বা ধর্মীয় কোনো ট্যাটু করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ কাজ করে।
উপসংহার: ট্যাটু করানোর আগে সেই দেশের স্থানীয় সংস্কৃতি ও আইন সম্পর্কে অবগত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্যাটু আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও, তা যেন অন্য কারো ধর্মীয় বা জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানে—সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, ডয়চে ভেলে (DW), কোরা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা। তারিখ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



