অপরাধ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ওয়ান-ইলেভেন (১/১১)।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে এটিকে ওয়ান ইলেভেন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।
১১ জানুয়ারী ২০০৭ এ সেনাবাহিনী সমর্থিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। এইদিনটিকে ওয়ান-ইলেভেন বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো প্রধান দু’টি দলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় দেশ যখন স্থবির হয়ে পড়ে তখন ওয়ান-ইলেভেন আসে।
রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ সাধারণ জনগন প্রথমে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা স্বস্তি পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনী প্রথম বারের মতো সংবিধান স্থগিত করে সেনা শাসন জারি না করে দেশের সুশীল ব্যক্তিদের দিয়ে অরাজনৈতিক সরকার গঠন করে দেয়। স্বচ্ছ রাজনীতিবিদরা মনে করেছিলেন, ওয়ান-ইলেভেন দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং সংস্কারের নামে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে পারষ্পরিক অনাস্থা, সন্দেহ, অবিশ্বাসের জন্ম হয়। যার রেশ এখনও কাটেনি।
ওয়ান-ইলেভেনের ফখরুদ্দিন -মইন ইউ সরকার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছিলো। নেতাদের বিভক্ত করার পাশাপাশি ওয়ান-ইলেভেনের সরকার দলের নেতাদের মধ্যে পারষ্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি করেছিলো। সে সময় দুই দলের নেতাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে নির্যাতন থেকে বাঁচতে নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেন নেতারা। শুধু তাই নয়, কারাবন্দি নেতারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি যে সব বিষোদগার করতেন তা আবার সংবাদ মাধ্যমে চলে আসতো।
(বাংলাদেশে এক-এগারোর পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পটভূমিতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান রাজনীতিতে আরও সংহত হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।)
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে দলীয় সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের সরকার। তাদের ভাষায় রাজনীতি ক্লিন বা পরিষ্কার রাখার জন্যই ছিল সে চেষ্টা। এ জন্য দল দুইটির কিছু সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবও দেয়া হয়। তথাকথিত রাজনৈতিক সংস্কার চেষ্টা ব্যর্থ হবার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং দলের ভেতরে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান আরও সংহত হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর দল দুইটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের ভেতরে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করে। শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় এর মাধ্যমে।
ওয়ান-ইলেভেনের সমাপ্তি ঘটে ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় যাওয়ার কারণে সংস্কারপন্থী নামে পরিচিত নেতারা আওয়ামী লীগের খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ক্ষমতাবঞ্চিত বিএনপির মধ্যে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে দলটির ব্যাপক ক্ষতি করেছে।এখনও খালেদা জিয়া পন্থী ও সংস্কারপন্থী বিভেদ অটুট রয়েছে। সে কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ কোন কর্মসূচিতেই সফলতা দেখাতে পারেনি দলটি। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ নেতাদের দিয়ে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়ায়। এতে করে তাদের প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব, অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগে দলের মধ্যে দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা নেতাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারি ও তৃণমূলের নেতারা সামনে চলে আসে।
(২০০৬ সালের ২৯শে অক্টোবর প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।)
(প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনাব ফখরউদ্দিন আহমেদকে শপথ বাক্য পাঠ করান।)
ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) ঘটনা প্রবাহঃ
দিনভরই চারদিকে ছিল নানা গুজব, গুঞ্জন। সার্বিক পরিস্থিতি ছিল থমথমে। এই অবস্থায় বিকেল চারটার দিকে আওয়ামী লীগের তত্কালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফর উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল যোগ দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠকে ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার ডগলাস ফসকেট, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইনোওয়ে মাসাইয়েকি, ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফান ফ্রোইন ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনাটা ডেজালিয়েন। বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক শেষে অনেকটা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তারা। কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসা থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি চলে যান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসায়।আওয়ামী লীগ নেতারা বের হওয়ার আধাঘণ্টা পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির তত্কালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। বৈঠক শেষে তারাও মুখ খোলেননি। সোজা চলে যান গুলশানের হাওয়া ভবনে। সেখানে তারা বৈঠক করেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এর আগে দুপুর পৌনে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান দু’টি দলের বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দুপুর বারোটায় বৈঠক করেন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে। এতে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের পরপরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে চারটায় উপদেষ্টা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়। দু’-একজন ছাড়া উপদেষ্টাদের প্রায় সবাই বঙ্গভবনে গিয়ে বৈঠক বাতিলের খবরে ফিরে আসেন।বঙ্গভবনের বৈঠক শেষে বিমান বাহিনী প্রধান, নৌ বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাব, বিডিআরসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনাসদরে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ।রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে পুনরায় ডাকা হয় উপদেষ্টাদের। কোনো বৈঠক ছাড়াই উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অবহিত করা হয়। এসময় উপদেষ্টাদের সবাইকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে উপদেষ্টারাও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ডক্টর ফকরুদ্দিন আহমদকে। তিনি নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।এসব নাটকীয় ঘটনা ও টানটান উত্তেজনা-উদ্বেগের মধ্যেই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন এবং বিপদের সম্মুখীন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন’। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়— বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে। একইসঙ্গে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সকল মহানগর এবং জেলা শহরে কারফিউ বলবত্ থাকার ঘোষণাও দেয়া হয়।এরপর নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রাত সাড়ে এগারোটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ভাষণে তিনি বলেন, একইসঙ্গে দু’টি দায়িত্ব নেয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। এই অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথকে সুগম করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাতে সরকারের তথ্য অধিদফতর থেকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে রাজনৈতিক সংবাদ ও সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় টিভি চ্যানেলের খবর ও টকশো।
সূত্রঃ -উইকিপিডিয়া
–ওয়ান ইলেভেনের অজানা কথা Dhakapress24.
১১ সেপ্টেম্বরের হামলা (যা নাইন/ইলেভেন নামেও পরিচিত) ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের উপর আল কায়েদার একইসাথে চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা।
আক্রমনের ২,৯৯৭ জন নিহত এবং ৬,০০০ এর অধিক মানুষ আহত হয়, এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ।
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সকালে ১৯ জন ছিনতাইকারী চারটি বাণিজ্যিক বিমানের (দুটি বোয়িং ৭৫৭ ও দুটি বোয়িং ৭৬৭) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বিমান চারটি ম্যাসাচুসেট্স অঙ্গরাজ্যের বস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিওয়ার্কের নিওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লাউডেন কাউন্টি ও ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির ওয়াশিংটন ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ল্যাক্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সান ফ্রান্সিস্কোর এসএফও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল।ছিনতাইয়ের জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রমকারী বৃহৎ বিমানগুলো বাছাই করা হয়েছিল, কারণ সেগুলো জ্বালানিতে পূর্ণ থাকে।
- (উপরের সারি:ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর দ্যা টুইন টাওয়ার জ্বলছে
- ২য় সারি, বাম হতে ডান: পেন্টাগনের ধ্বসে পড়া অংশ;
ফ্লাইট ১৭৫ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে; - ৩য় সারি, বাম হতে ডান:ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তুপের মাঝে
একজন অগ্নিনির্বাপণ কর্মী সহায়তার অনুরোধ জানাচ্ছেন;
গ্রাউন্ড জিরো; থেকে ফ্লাইট ৯৩ এর একটি ইঞ্জিন উদ্ধারকৃত হয় - নিচের সারি:ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার বিরতিহীন তিনটি ফ্রেমে ধারণকৃত
এএ৭৭ এর পেন্টাগনের উপর আঘাত হানার দৃশ্য)
ওসামা বিন লাদেন এই হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে ধারণা করা হয় এবং শুরুতে তিনি তার জড়িত থাকার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালেও পরে তিনি তার মিথ্যা বক্তব্যকে অমূলক বলে উল্লেখ করেন। আল জাজিরা ২০০১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে বিন লাদেনের এক বক্তব্য প্রচার করে, যেখানে তিনি বলেন, “আমি জোড় দিয়ে বলছি যে আমি এই কাজ করিনি, মনে হয় কেউ তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছেন।” ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে একটি ভিডিওটেপ উদ্ধার করেন। ভিডিওতে দেখা যায় বিন লাদেন খালেদ আল-হারবির সাথে কথা বলছেন এবং এই হামলার সম্পর্কে তার জানার বিষয়টি স্বীকার করছেন।
(৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন খালিদ শেখ মোহাম্মদ বা সংক্ষেপে কেএসএম।)
২০০২ সালে আল জাজিরার সাংবাদিক ইয়োরসি ফুয়োদা, এই জঙ্গি নেতা খালিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। খালিদ সে সাক্ষাৎকারে জানান, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়ার কোথাও আমেরিকার বিমান উড়িয়ে দেওযার স্বপ্ন ছিল তার। সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ওসামা বিন লাদেনর সঙ্গে দেখা হলে খালিদ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পান।
হামলা চালাতে আল কায়দা সৈন্য, অর্থ ও আনুষাঙ্গিক সাহায্য দেবে বলে খালিদকে জানান লাদেন। সেই সঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে লাদেনের পছন্দ হয় নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন শহর দু’টিকে।
হামলার মাধ্যমে লাদেন ও খালিদের ইচ্ছা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা। সেই সঙ্গে হামলার মাধ্যমে বিশ্বে আল কায়দার সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে প্রকাশ করারও সুযোগ পায় তারা।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ঘটনা:
মঙ্গলবার, সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিট। নিউইয়র্কের আকাশে সেদিন ঝকঝকে রোদ। ১১০ তলা উঁচু ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারের আশি তলায় আছড়ে পড়ে ছিনতাইকৃত কুড়ি হাজার গ্যালন জ্বালানী বোঝাই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমান। বিমানটি যেখানে টাওয়ারটিকে আঘাত করে সেখানে মুহূর্তেই বিশাল অগ্নিকুণ্ডময় গর্ত সৃষ্টি হয়। চোখের পলকে মৃত্যু হয় ওই ফ্লোরগুলোতে থাকা প্রত্যেকর।
টেলিভিশন ক্যামেরাগুলো তখন ঘটনার সরাসরি ছবি সরবরাহ করে যাচ্ছিলো। উত্তর ও দক্ষিণ – দুটি টাওয়ার থেকেই মানুষদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছিলো। এমন সময় প্রথম হামলার ঠিক আঠারো মিনিট বাদে অন্য একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান এসে হাজির হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রবল বেগে সাউথ টাওয়ারের ৬০তম তলায় আঘাত করল। পুরো টাওয়ারটিকে যেন দুভাগ করে ফেললো বিমানটি। প্রথম বিমানটি অতর্কিত হামলা করায় সেটির বেশি ফুটেজ পাওয়া যায় নি, তবে দ্বিতীয় বিমানটি যখন আঘাত করে তখন অনেকেরই ক্যামেরা তাক করা ছিলো টুইন টাওয়ারের দিকে; তারা প্রথম আক্রমণের ভয়াবহতা রেকর্ড করছিলেন তখন মূলত। দ্বিতীয় আঘাতটি ছিলো আরো ভয়াবহ। রাস্তার পাশাপাশি পাশের দালানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছিলো জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। প্রথম আক্রমণে অনেকে ভেবেছিলেন বিমানের পাইলট হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় হামলার পর আসল উদ্দেশ্য সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো। কারো বুঝতে বাকি রইলো না যে, আমেরিকা আন্ডার অ্যাটাক!
কারা করেছিলো আক্রমণ?
মার্কিন তদন্ত বলছে, আত্মঘাতী হামলাকারীরা ছিলো সৌদিসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশের নাগরিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ছিল এই আক্রমণের পৃষ্ঠপোষক। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন তখন পলাতক।
এত বড় একটি পরিকল্পিত হামলার পেছনে আল-কায়েদার প্রধান কারণ ছিলো তিনটি –
১। ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার বাড়াবাড়ি রকমের সমর্থন।
২। পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ।
৩। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখা।
হামলাকারীদের কেউ কেউ হামলার এক বছর আগে থেকেই আমেরিকায় বসবাস করে আসছিলো। তারা আমেরিকাতেই বিভিন্ন বেসরকারি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক বছর যাবত বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো বলে জানা যায়। বাকিরা হামলার মাসখানেক আগে আমেরিকায় আসে ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করে।
ঘটনার দিন জঙ্গিদের ১৯ জনের দলটি তিন ভাগ হয়ে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের তিনটি বিমান বন্দরের খুব সকালের ফ্লাইট ধরার জন্য রওনা দেয়। যে বিমানগুলো ক্যালিফোর্নিয়াগামী, সেগুলোকেই তারা ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেয়, কারণ তারা জানত, দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে যাওয়া বিমানগুলো থাকবে জ্বালানী ভরতি। নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গিরা সহজেই তাদের সঙ্গে ছুঁড়ি ও বক্স-কাটার নিয়ে বিমানে উঠতে সফল হয়। বিমান চারটি টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিরা ভয় দেখিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানকে তারা পরিণত করে লক্ষ্যভেদী মিসাইলে।
পেন্টাগন আক্রমণ:
আমেরিকান প্রশাসনের নিরাপত্তা বিভাগের সদয়র দফতর হচ্ছে পেন্টাগন। এটি ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলীতে অবস্থিত। টুইন টাওয়ারের ঘটনায় যখন সারা বিশ্বের চোখ নিউ ইয়র্কে নিবদ্ধ তখনই সবার অগোচরে পেন্টাগনের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলো জঙ্গি হামলার তিন নম্বর বিমান – আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭। ঠিক সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে পেন্টাগনের পশ্চিম পার্শ্বে আঘাত হানে বিমানটি। বোয়িং ৭৫৭ মডেলের বিমানটির জেট ফুয়েল মুহূর্তেই কংক্রিটের দৈত্যাকার দালানটিকে একখণ্ড নরকে পরিণত করে। পেন্টাগনের বিশাল একটি অংশ ধ্বসে পড়ে। বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। পেন্টাগনে মারা যান ১২৫ জন, আহতের সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একদম কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হেনে জঙ্গিরা জানান দেয়, তাদের শক্তি কতটুকু! বিশ্ব মোড়লদের সিংহাসন যেন খানিক সময়ের জন্য হলেও কেঁপে ওঠে।
পেন্টাগনে হামলার মিনিট ১৫ বাদে টুইন টাওয়ারের আতঙ্ক মারাত্মক রূপ ধারণ করে। প্রচণ্ড ধূলি ও ধোঁয়ায় আকাশ ভরে দিয়ে ধ্বসে পড়ে এর সাউথ টাওয়ার। জ্বলন্ত জেট ফুয়েলের সামনে সব প্রতিরোধই যেনো ছিলো অসহায়। সকাল সাড়ে দশটায় টুইন টাওয়ারের উত্তরের টাওয়ারটিও ধ্বসে যায়। ভবন দুইটি ধ্বসে যাওয়ার সময় তাতে থাকা ১৭ হাজার ৪০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে বের করে আনা সক্ষম হয়, যার মধ্যে ৬ জন নিজেদের অক্ষত রাখতে সমর্থ হন।
ফ্লাইট ৯৩
ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ নামে ক্যালিফোর্নিয়াগামী অন্য একটি বিমান নিউ জার্সির নেওয়ারক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের ৪০ মিনিটের মাথায় ছিনতাই হয়। বিমানটি টেক অফে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় বিমানের যাত্রীরা ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলো। তাই তারা যখন দেখতে পেলো তাদের বিমানটিও ছিনতাই হয়েছে, বুঝতে আর বাকি রইলো না কোন উদ্দেশ্য চরিতার্থের বলি হতে যাচ্ছে তারা।
বিমানের যাত্রীরাও বসে থাকেননি। চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সবাই মিলে চার ছিনতাইকারীকে আক্রমণ করেন। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মাধ্যমে বিমানের ককপিটে হামলা চালিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণকারী জঙ্গিকে বিপাকে ফেলে দেন। যে বিমানটি হামলা করার কথা ছিলো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে, সেটি গিয়ে আছড়ে পড়ল পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা মাঠে। বিমানের ৪৪ আরোহীর সবাই প্রাণ হারালেন। কিন্তু তাতে কি! ছিনতাইয়ের পর তারা তো জানতেনই তাদের জীবন সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। অসহায়ের মতো না মরে তারা জঙ্গিদের উদ্দেশ্যের বলি না হয়ে বীরের মতো জীবন দিলেন !
হামলার পরিকল্পনা:
নিখুঁত পরিকল্পনায় হামলার ছক কষেছিল আল কায়দা ও তার মিত্ররা। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপন বৈঠক করা হয়। মূল পরিকল্পনা সাজাতে বৈঠক হয় মালয়েশিয়ায়। হামলাকারীরা মার্কিন ফ্লাইটগুলোর পর্যাপ্ত খোঁজখবর নিতে থাকেন। এছাড়া জার্মানির হামবুর্গে আল কায়দার একটি সমন্বয়কারী দল ছিল। এই হামলার টাকা এসেছে দুবাই থেকে। আত্মঘাতী হামলাকারীদের সংগ্রহ করা হয়েছিল সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সবকিছুর পর্যবেক্ষণে ছিলেন আফগানিস্তান থেকে আলকায়দা নেতারা। সর্বোপরি ওসামা বিন লাদেন।
জার্মানির, হার্মবুগ থেকে চারজন প্রধান জঙ্গি বৈমানিক ও পরিকল্পনাকারী ছিলো এই হামলায়। তাদের বলা হতো হামবুর্গ সেল। হামলা পরিচালনায় এরাই ছিল মূল নেতৃত্বে। হার্মবুগ সেলের প্রধান হাইজ্যাকারের নাম মোহাম্মদ আতা। তিনি ও তার হামবুর্গ গ্রুপের অন্য সদস্যরা আফগানিস্তানে আসেন ১৯৯৯ সালে।
বিন লাদেন ও তার সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ আতেফ প্রথম সাক্ষাতেই বুঝতে পারেন অপরেশন পরিচালনার জন্য আতার নেতৃত্বে পশ্চিমা জিহাদি গ্রুপটি তাদের আফগান জিহাদিদের চেয়ে বেশি চতুর ও প্রশিক্ষিত। তাই মোহাম্মদ আতাকে প্রধান করে পুরো অপারেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনামাফিক হাইজাক্যাররা হামলার আগ থেকে ছোট ছোট গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করে রেকি করে ও বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেয়। আতা যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে হামলার বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে নিয়মিত তার সহযোগী ও কামান্ডারদের সাথে ইমেইলে আপডেট পাঠাত ও যোগাযোগ রাখত।
আতা সাংকেতিক ভাষায় বার্তাগুলো তার ‘গার্লফ্রেন্ড জেনি’কে উদ্দেশ্যে করে লিখত। যেমন— একটি ইমেইল বার্তায় বলা হয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সেমিস্টার শুরু হবে। প্রাইভেট শিক্ষার জন্য চারটি পরীক্ষা ও ১৯টি সনদপত্র। লাগবে এখানে ‘১৯টি সনদ’ বলতে ‘১৯ জন আল কায়দা হাইজাক্যার’ ও ‘চারটি পরীক্ষা’ বলতে ‘চারটি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু’র কথা বলা হয়েছে।
২৯ অগাস্ট ২০০১ সালে আতা (atta) আরেকটি ইমেলই বার্তায় বলেন, দু’টি লাঠি, একটি ড্যাশ ও একটি কেক লাঠি ঝুলানো। অর্থ্যাৎ দুই সপ্তাহের মধ্যে হামলাটি ঘটবে। দুটি লাঠি মানে ১১। পরের অংশটিতে ৯ বুঝানো হয়েছে। এখানে ১১-৯ বা ৯-১১ দু’ভাবেই হামলার সম্ভাবনার কথা বিন লাদেন জানানো হয়েছে।
বিমান হাইজ্যাক ও আক্রমণ:
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মহ আতা ও তার সহযোগী আক্রমণকারীরা আমেরিকার চারটি অভ্যন্তরীণ বিমান হাইজ্যাক করে। অস্ত্রের মুখে তারা বিমান ক্রু ও যাত্রীদের নিষ্ক্রিয় করে রাখে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বোস্টন থেকে উড়ে আসা ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১’ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ভবনটিতে প্রথম হামলে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ভেবেছিল, এটি ছোটখাট কম্পিউটারচালিত খেলনা বিমান। কিন্তু ১৭ মিনিট পরে বোস্টন থেকে উড়া আসা দ্বিতীয় বিমান ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫’ যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারটিতে হামলে পড়ে, তখন আর কারোরই সন্দেহের অবকাশ ছিল না এটি সন্ত্রসী হামলা। তখন টাওয়ার দু’টির ভেতরে আটকা পড়া কেউ কেউ দুঃসহ মৃত্যু থেকে বাঁচতে লাফ টাওয়ার থেকে লাফও দিয়েছিলেন।
এদিকে, ডালাস এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে আসা তৃতীয় বিমান ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭’ হামলে পড়ে হয় পেন্টাগণের দক্ষিণ-পশ্চিমে, সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। আর চতুর্থ বিমান ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩’ নিউজার্সি থেকে উড়েছিল। ১০টা ৩ মিনিটে এটি পেনসিলভ্যানিয়ার স্নেকসভাইলে বিধ্বস্ত হয়।
মোট কত লোকের প্রাণহানি হয়?
৯/১১ হামলায় সর্বমোট ২৯৯৬ জন মানুষ প্রাণ হারান। এদের মধ্যে হামলাকারী বিমানগুলোতে থাকা ১৯ জঙ্গিও ছিলো। জঙ্গিরাও জানতো সফল হলেও তাদের কেউ আর বেঁচে ফিরবে না। নিউ ইয়র্ক বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রেই কেবল ২,৭৬৩ জন মানুষ মারা যান। এদের মধ্যে ৩৪৩ জন ছিলেন দমকল বাহিনীর কর্মী ও চিকিৎসক এবং ২৩ জন নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কর্মকর্তা ও ৩৭ জন বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৭১ জন পুলিশ কর্মকর্তা। টাওয়ারে আটকে পড়াদের বের করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
(ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার দুটির শূন্য স্থানে আলোর স্মারক স্তম্ভ)
(নিউইয়র্কে ৯/১১র মেমোরিয়াল)
সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ। উইকিপিডিয়া, বিবিসি বাংলা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ভবিষ্যৎ ও প্রযুক্তি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
২০২৬ সালের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসার (যেমন: বাংলা কিউআর ও ডিজিটাল ব্যাংক) এবং মেগাপ্রজেক্টগুলোর দ্রুত অগ্রগতির ধারা বিশ্লেষণ করলে আগামী ২০ বছর পরের বাংলাদেশের এক রোমাঞ্চকর ও বৈপ্লবিক রূপরেখা দৃশ্যমান হয়। ২০৪৬ সালের বাংলাদেশ হবে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা এক দূরদর্শী ও হাই-টেক রাষ্ট্র।
স্মার্ট অবকাঠামো, ক্যাশলেস অর্থনীতি, রোবোটিক চিকিৎসা এবং আধুনিক আবাসন শিল্পের ওপর ভিত্তি করে ২০৪৬ সালের বাংলাদেশের একটি বাস্তবসম্মত পূর্বাভাস নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. স্মার্ট অবকাঠামো ও এআই-নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা

আগামী ২০ বছরে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক আমূল ও পরিবেশবান্ধব পরিবর্তন আসবে:
- উচ্চগতির রেলওয়ে নেটওয়ার্ক (High-Speed Rail): ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-যশোর রুটে ৩০০+ কিমি গতির বুলেট ট্রেন চালু হবে। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে মাটির নিচ দিয়ে বিস্তৃত হবে আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়ে বা পাতালরেল।
- এআই ট্রাফিক ও চালকবিহীন যানবাহন: ঢাকার চিরচেনা যানজট দূর করতে এআই ক্যামেরা রিয়েল-টাইম ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবে। নির্দিষ্ট লেনে চলবে চালকবিহীন বাস ও মালবাহী ট্রাক। জরুরি ওষুধ ও ই-কমার্স পণ্য ডেলিভারির জন্য আকাশে ড্রোনের আলাদা হাইওয়ে বা রুট তৈরি হবে।
- গ্রিন মোবিলিটি ও স্মার্ট হাইওয়ে: পেট্রোল-ডিজেলের গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা সীমিত হয়ে রাস্তায় শুধু ১০০% বৈদ্যুতিক (EV) এবং হাইড্রোজেন-চলতি যানবাহন চলবে। স্মার্ট হাইওয়ের পিযোইলেকট্রিক (Piezoelectric) প্রযুক্তির কারণে গাড়ি চলার সময় রাস্তার ঘর্ষণ থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে গাড়ি চার্জ হতে থাকবে।
২. শতভাগ ক্যাশলেস ও ডাটা-চালিত ডিজিটাল অর্থনীতি

২০৪৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ কাগজের টাকামুক্ত হয়ে উঠবে:
- কাগজের টাকার অবসান ও সিবিডিসি (CBDC): বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি বা ‘ডিজিটাল টাকা’ চালু করবে। লেনদেনের জন্য কোনো মোবাইল বা মানিব্যাগ লাগবে না; ফেস স্ক্যান (Face ID) বা বায়োমেট্রিক হাতের ছাপের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট কেটে নেওয়া হবে।
- ব্লকচেইন ও অদৃশ্য ব্যাংকিং: কোনো ফিজিক্যাল ব্যাংক ব্রাঞ্চ থাকবে না। এআই ব্যাংকিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকেন্ডের মধ্যে লোন অনুমোদন করবে। ব্লকচেইন ও স্মার্ট কন্ট্রাক্টের কারণে জমি-জমা বা ফ্ল্যাট কেনাবেচায় কোনো দালালের প্রয়োজন হবে না; ডিজিটাল দলিলের মাধ্যমে মুহূর্তেই মালিকানা বদল সম্পন্ন হবে।
- গ্লোবাল এআই কর্মসংস্থান: প্রচলিত আইটি খাতের জায়গা নেবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও রোবোটিক্স। দেশের তরুণরা ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো কোম্পানিতে কাজ করে সরাসরি ক্রিপ্টো বা ডিজিটাল কারেন্সিতে রেমিট্যান্স আনবে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত ডাটা শেয়ার করার বিনিময়ে মানুষ অর্থ উপার্জন (Data Monetization) করবে।
৩. হাই-টেক জীবনযাত্রা, হলোগ্রাফিক শিক্ষা ও চিকিৎসা

মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আসবে আমূল পরিবর্তন:
- রোবোটিক ও প্রিভেন্টিভ চিকিৎসা: মানুষের ত্বকের নিচে ন্যানো-সেন্সর থাকবে, যা রোগ হওয়ার আগেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পূর্বাভাস দেবে। ঢাকার ল্যাবে বসেই সার্জনরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোবোটিক হাত নিয়ন্ত্রণ করে জটিল সার্জারি সম্পন্ন করবেন।
- মেটাভার্স ও হলোগ্রাফিক ক্লাসরুম: প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলের ধারণা বদলে যাবে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ভিআর (VR) এবং হলোগ্রাম প্রযুক্তির মাধ্যমে মেটাভার্স ক্লাসরুমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সেরা শিক্ষকদের ক্লাসে সশরীরে উপস্থিত থাকার মতো বাস্তবসম্মত শিক্ষা লাভ করবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে নিজস্ব এআই পার্সোনাল টিউটর।
৪. স্মার্ট আর্কিটেকচার ও আবাসন শিল্প (টাইলস ও ফ্লোরিংয়ের ভবিষ্যৎ)

ভূমির সংকট দূর করতে ২০৪৬ সালের বাংলাদেশ বহুতল ও সুউচ্চ সব ভার্টিক্যাল মেগাসিটি বা গ্রিন বিল্ডিংয়ে ছেয়ে যাবে, যেখানে এক একটি ভবনেই থাকবে বাজার, পার্ক ও অফিস। এই আবাসন বিপ্লবে টাইলস ও ফ্লোরিংয়ের ক্ষেত্রে যুক্ত হবে অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি:
- মেটাভার্স শোরুম: কাস্টমাররা টাইলস কিনতে সশরীরে শোরুমে না এসে ঘরে বসেই ভিআর (VR) গগলস পরে আপনার ডিজিটাল শোরুম ঘুরে ডিজাইন পছন্দ করবেন এবং অটো-পেমেন্টের পর রোবোটিক ডেলিভারিতে পণ্য বাড়ি পৌঁছে যাবে।
- স্মার্ট ইন্টারেক্টিভ ও সোলার ফ্লোরিং: সাধারণ টাইলসের জায়গা নেবে “স্মার্ট ফ্লোরিং“। দেয়ালের রঙ বা ফ্লোরের টাইলস ডিজাইন মুড অনুযায়ী এক ক্লিকেই বদলে ফেলা যাবে। এই মেঝেগুলো ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে, সোলার প্যানেলের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং মেঝেতে কোনো ময়লা পড়লে সেলফ-ক্লিনিং (Self-cleaning) সেন্সরের মাধ্যমে নিজেই তা পরিষ্কার করে নেবে।
- ৫. পরিবেশ, সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা
৫. পরিবেশ, সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা

- গ্রিন এনার্জি: দেশের মোট বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি আসবে সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ এবং পরমাণু শক্তি (রূপপুর ও দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) থেকে।
- ভাসমান শহর: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ও উপকূলীয় এলাকায় গড়ে উঠবে জলবায়ু-সহনশীল ভাসমান বাড়িঘর ও আধুনিক ভাসমান শহর। সেই সাথে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে লবণাক্ততা-সহনশীল আধুনিক হাইব্রিড কৃষি প্রযুক্তি।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
২০৪৬ সালের বাংলাদেশ হবে এক জাদুকরী ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র। আজ আমরা যে প্রযুক্তিগুলোকে সায়েন্স ফিকশন বা কাল্পনিক মনে করছি, ২০ বছর পর তা-ই হবে এদেশের মানুষের অতি সাধারণ জীবনযাত্রার অংশ। এই আসন্ন ডিজিটাল ও স্মার্ট বিপ্লবের সাথে নিজেদের ব্যবসাকে খাপ খাইয়ে নিতে দূরদর্শী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের সমসাময়িক অর্থনীতি, ভবিষ্যৎ মেগাপ্রজেক্ট, স্মার্ট এআই প্রযুক্তি এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইনের যেকোনো নিখুঁত ও সহজ বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।
টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রযুক্তি ও গ্যাজেট ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
আপনি বা আমি যখন কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করি, তখন কিন্তু কখনোই গভীরভাবে ভেবে দেখি না যে এই জটিল যন্ত্রটি আসলে কীভাবে কাজ করছে। আমরা শুধু মাউস দিয়ে ক্লিক করি, স্ক্রিনে টাচ করি বা কি-বোর্ডে কমান্ড দিয়ে যাই, আর ডিভাইসটি পলকের মধ্যে আমাদের সেই কাজ সম্পূর্ণ করে দেয়। কিন্তু এই জড়ো করা যন্ত্রাংশগুলো নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। এদের সুশৃঙ্খলভাবে চালানোর জন্য ব্যাকএন্ডে একজন অত্যন্ত দক্ষ পরিচালকের প্রয়োজন হয়, যাকে প্রযুক্তিবিদরা বলেন অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) বা সংক্ষেপে ওএস (OS)।

উইন্ডোজ (Windows), অ্যান্ড্রয়েড (Android), ম্যাক ওএস (macOS) বা আইওএস (iOS) হলো অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে পরিচিত কিছু উদাহরণ।
সহজ ভাষায় কম্পিউটারের ‘ম্যানেজার’-এর গল্প

অপারেটিং সিস্টেমের কাজটিকে সহজে বোঝার জন্য আপনার কম্পিউটারকে একটি বিশাল কর্পোরেট অফিস বা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল হিসেবে কল্পনা করুন। আর অপারেটিং সিস্টেম হলো সেই অফিসের একমাত্র “ম্যানেজার”।
আপনি যখন বাজার থেকে একটি কম্পিউটার কেনেন, তখন আপনি আসলে একটি অফিস ঘর, কিছু টেবিল-চেয়ার (কীবোর্ড, মাউস), লাইট-ফ্যান (প্রসেসর, র্যাম) আর একটি বড় পর্দা (মনিটর) কিনলেন। চলুন দেখি এই ম্যানেজার কীভাবে পুরো অফিসটি একাই চালায়:
- কর্মীদের কাজ ভাগ করে দেওয়া (Resource Management): অফিসে একজন নতুন কর্মচারী (যেমন: ফটোশপ বা কোনো গেম) এলো। ম্যানেজার তাকে একটি বসার টেবিল (RAM) এবং কাজ করার জন্য ফাইলপত্র (Hard Disk) বুঝিয়ে দিল। যখন সেই কর্মচারীর কাজ শেষ, ম্যানেজার তাকে টেবিল খালি করার নির্দেশ দেয় যাতে অন্য কেউ বসতে পারে।
- গ্রাহকের অর্ডার নেওয়া (User Interface): আপনি যখন মাউস দিয়ে কোনো ফোল্ডারে ক্লিক করেন, আপনি আসলে ম্যানেজারের কেবিনে গিয়ে বলেন, “আমাকে ওই ফাইলটা এনে দিন।” ম্যানেজার তখন আপনার মুখের ভাষা (বা ক্লিক) বুঝে অফিসের পিয়নকে ফাইলটি আনতে পাঠায়।
- নিরাপত্তা প্রহরী (Security): অফিসে কোনো অপরিচিত বা ক্ষতিকর লোক (ভাইরাস/হ্যাকার) ঢুকতে গেলে ম্যানেজার সিকিউরিটি গার্ডকে (ফায়ারওয়্যাল/অ্যান্টিভাইরাস) ডেকে তাকে আটকে দেয়।
- যন্ত্রপাতির যত্ন নেওয়া (Device Driver Management): অফিসে নতুন একটি প্রিন্টার কেনা হলো। ম্যানেজার নিজে গিয়ে প্রিন্টারের সাথে কথা বলে বুঝে নেয় সেটি কীভাবে কাজ করে, যাতে অফিসের অন্য কর্মীরা সহজেই প্রিন্ট করতে পারে।
💡গল্পের মূল কথা: এই ম্যানেজার (অপারেটিং সিস্টেম) যদি একদিন অফিসে না আসে, তবে পুরো অফিসের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মীরা একে অপরের সাথে মারামারি করবে (সফটওয়্যার ক্র্যাশ করবে) এবং পুরো অফিস অচল হয়ে পড়বে। ঠিক একইভাবে, অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার কেবলই একটা লোহার বাক্স।
অ্যাপ্লিকেশন বনাম অপারেটিং সিস্টেম (App vs OS)

অ্যাপ্লিকেশন এবং অপারেটিং সিস্টেম—উভয়ই সফটওয়্যার হলেও কম্পিউটারে এদের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা। সহজ কথায়, অপারেটিং সিস্টেম হলো ঘরের “ভিত্তি বা কাঠামো”, আর অ্যাপ্লিকেশন হলো সেই ঘরে সাজানো “আসবাবপত্র”।
নিচে এদের মূল কারিগরি পার্থক্যগুলো ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | অপারেটিং সিস্টেম (OS) | অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (App) |
| মূল ভূমিকা | এটি কম্পিউটারের পুরো সিস্টেম এবং হার্ডওয়্যার পরিচালনা করে। | এটি ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো কাজ (যেমন: টাইপিং, গেম খেলা) সম্পন্ন করে। |
| নির্ভরশীলতা | এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন। নিজে চলার জন্য অন্য কোনো সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয় না। | এটি সম্পূর্ণ ওএস-এর ওপর নির্ভরশীল। ওএস ছাড়া অ্যাপ্লিকেশন চলতে পারে না। |
| ইনস্টলেশন | কম্পিউটার চালু করার জন্য এটি সবার আগে ইনস্টল করতে হয়। | ওএস ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারী তাঁর প্রয়োজনমতো এটি ইনস্টল করেন। |
| চলতি সংখ্যা | একটি কম্পিউটারে সাধারণত একটি সময়ে একটিই মূল ওএস সচল থাকে। | একটি ওএস-এর অধীনে একসাথে শত শত অ্যাপ্লিকেশন চলতে পারে। |
| ইউজার ইন্টারঅ্যাকশন | এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে হার্ডওয়্যারের সাথে ব্যবহারকারীর সংযোগ ঘটায়। | ব্যবহারকারী সরাসরি এগুলোর স্ক্রিনে কাজ বা ইন্টারঅ্যাক্ট করেন। |
| জনপ্রিয় উদাহরণ | Windows, Android, macOS, Linux, iOS | WhatsApp, Google Chrome, MS Word, Photoshop, PUBG |
একটি সহজ উদাহরণ: “স্মার্টফোন ও পাবজি (PUBG) গেম”
ধরুন, আপনার কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে। এখানে অ্যান্ড্রয়েড (Android) হলো অপারেটিং সিস্টেম। এটি ফোনটির স্ক্রিন, ব্যাটারি, প্রসেসর এবং ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করছে। অ্যান্ড্রয়েড না থাকলে ফোনটি চালুও হতো না। আর আপনি যে পাবজি (PUBG) গেমটি খেলছেন, সেটি হলো একটি অ্যাপ্লিকেশন। এটি কেবল আপনার বিনোদনের জন্য তৈরি। আপনি চাইলে গেমটি মুছে (Uninstall) দিতে পারেন, তাতে আপনার ফোনের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ওএস মুছে দিলে ফোনটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাবে।
অপারেটিং সিস্টেমের ৪টি মূল স্তম্ভ বা প্রধান কাজ
একটি অপারেটিং সিস্টেম (OS) কম্পিউটারের প্রধান ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যানেজার হিসেবে মূলত ৪টি মূল বিভাগে কাজ সম্পন্ন করে:
১. প্রসেস ম্যানেজমেন্ট (Process Management)
কম্পিউটারে একসাথে যখন অনেকগুলো কাজ (যেমন: গান শোনা, ব্রাউজার চালানো ও টাইপ করা) চলে, তখন প্রসেসর (CPU) কোন কাজটি আগে করবে এবং কতক্ষণ করবে, ওএস তা নির্ধারণ করে। একে কারিগরি ভাষায় সিপিইউ সিডিউলিং (CPU Scheduling) বলা হয়।
২. মেমোরি ম্যানেজমেন্ট (Memory Management)
কোন অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার কতটুকু র্যাম (RAM) ব্যবহার করবে, ওএস তা বন্টন করে। কোনো অ্যাপ চালু হলে তাকে র্যামে জায়গা দেয় এবং অ্যাপটি বন্ধ করে দিলে ওএস সেই মেমোরি খালি করে দেয়, যাতে অন্য অ্যাপ তা ব্যবহার করতে পারে।
৩. ফাইল ম্যানেজমেন্ট (File Management)
কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বা এসএসডি-তে (SSD) ডাটা কীভাবে জমা থাকবে, তা ওএস নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, ডিলিট এবং কপি করার সুবিধা দেয় এবং কোন ফাইলটি কোথায় সংরক্ষিত আছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট ‘ডিরেক্টরি’ বা ইনডেক্স তৈরি করে রাখে।
৪. ডিভাইস বা ইনপুট-আউটপুট ম্যানেজমেন্ট (Device Management)
কম্পিউটারের সাথে যুক্ত সমস্ত বাহ্যিক যন্ত্রপাতি যেমন—কীবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, মনিটর বা পেনড্রাইভের সাথে সফটওয়্যারের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। এটি ডিভাইস ড্রাইভার (Device Driver) ব্যবহার করে এই কাজ পরিচালনা করে।
- অন্যান্য কাজ: এছাড়া ওএস আমাদের স্ক্রিনে আইকন ও গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ইউজার ইন্টারফেস (UI) প্রদর্শন করে এবং হার্ডওয়্যারে কোনো সমস্যা হলে (যেমন: মেমোরি ফুল বা প্রিন্টারে কাগজ না থাকা) স্ক্রিনে সতর্কবার্তা বা ভুল সনাক্তকরণ (Error Detection) মেসেজ দেখায়।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
অপারেটিং সিস্টেম হলো যেকোনো আধুনিক কম্পিউটিং ডিভাইসের প্রাণ। এটি ছাড়া আমাদের ডিভাইসগুলো কেবলই কিছু প্লাস্টিক আর লোহার জড় বস্তু। এটি মূলত ইউজার (ব্যবহারকারী), অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার এবং কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত সেতু হিসেবে কাজ করে।
আইটি শিক্ষা, কম্পিউটিং ট্রিকস, সাইবার সিকিউরিটি এবং তথ্যপ্রযুক্তির যেকোনো নিখুঁত ও সহজ গাইডলাইন সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। কম্পিউটিং নিয়ে এই ধরনের আরও তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়তে আপনারা চাইলে আমাদের সহযোগী ব্লগ ওয়্যারবিডি-ও চেক করতে পারেন।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
খেলার দুনিয়া ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় (GOAT) লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে চলেছেন। বর্তমানে চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসর খেলতে নেমে একের পর এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিচ্ছেন তিনি। মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মেসির ব্যক্তিজীবন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন ট্যাটু, বিশেষ করে ডানহাতের রহস্যময় ‘চোখ’ ভক্তদের মাঝে সবসময়ই এক বড় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

চলমান বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান গোল পরিসংখ্যান, নতুন ইতিহাস এবং তাঁর আবেগঘন ট্যাটুগুলোর আসল অর্থ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান অবস্থা ও রেকর্ডের খতিয়ান
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনি যে তাণ্ডব শুরু করেছেন, তা ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে:
- প্রথম দুই ম্যাচেই ৫ গোল: আর্জেন্টিনার হয়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে টুর্নামেন্ট মাতিয়ে রেখেছেন মেসি।
- বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি। এর ফলে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) টপকে পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
- ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপের বিশ্বরেকর্ড: বিশ্বের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এবং সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে।
- মাঠের কৌশল: ৩৯ বছর বয়সে এসে মেসি মাঠে অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ না করে বুদ্ধিমত্তার সাথে খেলছেন। ফিফার অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হেঁটেছেন (গড়ে ৪.৩৭ কিমি) এবং সবচেয়ে কম দৌড়েছেন, যা তাঁর এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
জুনের পরিসংখ্যান: মেসির ক্যারিয়ারের মোট ৯১৬ গোল
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসির মোট অফিশিয়াল গোল সংখ্যা এখন ৯১৬টি। গোলগুলোর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- আর্জেন্টিনা জাতীয় দল: ১২২টি গোল (যার মধ্যে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেই ৫টি)।
- বার্সেলোনা (স্পেন): ৬৭২টি গোল (ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ে জেতা ৩৫টি ট্রফিসহ)।
- প্যারিস সেন্ট জার্মেই – PSG (ফ্রান্স): ৩২টি গোল।
- ইন্টার মায়ামি (যুক্তরাষ্ট্র): ৯০টি গোল।
মেসির ডানহাতে আঁকা চোখের ট্যাটু: কী এই রহস্যময় ছবির অর্থ?

মেসির ডানহাতের বাইসেপে (কনুইয়ের ঠিক ওপরে) আঁকা বড় চোখের ট্যাটুটি প্রায়শই ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় বা কোনো গোপন প্রতীক মনে করলেও এর পেছনের কারণটি অত্যন্ত রোমান্টিক।
আন্তোনেলার চোখ (Antonela’s Eye)

এই ট্যাটুটি মূলত মেসির শৈশবের প্রেমিকা এবং বর্তমান স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো (Antonela Roccuzzo)-র চোখের হুবহু আদলে তৈরি করা হয়েছে। মেসি যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর স্ত্রীর ভালোবাসার দৃষ্টি যেন সবসময় তাঁর সাথে ছায়ার মতো থাকে—এই গভীর অনুভূতি থেকেই তিনি আন্তোনেলার চোখের নিখুঁত ট্যাটুটি নিজের ডানহাতে ধারণ করেছেন।
পরিবারপ্রেমী মেসি: শরীরের অন্যান্য আবেগঘন ট্যাটু

পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দিতে মেসি শরীরের আরও কয়েকটি অংশে বিশেষ ট্যাটু করিয়েছেন:
- মায়ের ছবি (পিঠে): তাঁর জীবনে মা ‘সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি’-র অবদানকে স্মরণে রাখতে নিজের পিঠের বাম পাশে মায়ের মুখাবয়বের একটি চমৎকার ট্যাটু করিয়েছেন।

- ছেলে থিয়াগোর হাত (পায়ে): প্রথম সন্তান থিয়াগোর জন্মের পর নিজের বাম পায়ের কাফ মাসলে (পায়ের ডিম) থিয়াগোর দুটি ছোট্ট হাতের ছাপ এবং ছেলের নাম ‘Thiago’ খোদাই করিয়েছেন।
- যীশু খ্রিস্টের প্রতিকৃতি (ডান কাঁধে): তাঁর ডান কাঁধের ওপর যীশু খ্রিস্টের একটি ট্যাটু রয়েছে, যা তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
৮টি ব্যালন ডি’অর, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড—লিওনেল মেসি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যা ছোঁয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্য অসম্ভব। মাঠের ভেতরে তিনি যেমন ইতিহাসের সেরা, মাঠের বাইরেও নিজের পরিবার ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিরিখে তিনি অনন্য।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট, মেসির গোল সংখ্যা, পয়েন্ট টেবিল এবং খেলার দুনিয়ার যেকোনো ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।



