অপরাধ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ওয়ান-ইলেভেন (১/১১)।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে এটিকে ওয়ান ইলেভেন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।
১১ জানুয়ারী ২০০৭ এ সেনাবাহিনী সমর্থিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। এইদিনটিকে ওয়ান-ইলেভেন বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো প্রধান দু’টি দলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় দেশ যখন স্থবির হয়ে পড়ে তখন ওয়ান-ইলেভেন আসে।
রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ সাধারণ জনগন প্রথমে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা স্বস্তি পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনী প্রথম বারের মতো সংবিধান স্থগিত করে সেনা শাসন জারি না করে দেশের সুশীল ব্যক্তিদের দিয়ে অরাজনৈতিক সরকার গঠন করে দেয়। স্বচ্ছ রাজনীতিবিদরা মনে করেছিলেন, ওয়ান-ইলেভেন দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং সংস্কারের নামে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে পারষ্পরিক অনাস্থা, সন্দেহ, অবিশ্বাসের জন্ম হয়। যার রেশ এখনও কাটেনি।
ওয়ান-ইলেভেনের ফখরুদ্দিন -মইন ইউ সরকার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছিলো। নেতাদের বিভক্ত করার পাশাপাশি ওয়ান-ইলেভেনের সরকার দলের নেতাদের মধ্যে পারষ্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি করেছিলো। সে সময় দুই দলের নেতাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে নির্যাতন থেকে বাঁচতে নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেন নেতারা। শুধু তাই নয়, কারাবন্দি নেতারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি যে সব বিষোদগার করতেন তা আবার সংবাদ মাধ্যমে চলে আসতো।
(বাংলাদেশে এক-এগারোর পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পটভূমিতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান রাজনীতিতে আরও সংহত হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।)
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে দলীয় সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের সরকার। তাদের ভাষায় রাজনীতি ক্লিন বা পরিষ্কার রাখার জন্যই ছিল সে চেষ্টা। এ জন্য দল দুইটির কিছু সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবও দেয়া হয়। তথাকথিত রাজনৈতিক সংস্কার চেষ্টা ব্যর্থ হবার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং দলের ভেতরে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান আরও সংহত হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর দল দুইটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের ভেতরে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করে। শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় এর মাধ্যমে।
ওয়ান-ইলেভেনের সমাপ্তি ঘটে ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় যাওয়ার কারণে সংস্কারপন্থী নামে পরিচিত নেতারা আওয়ামী লীগের খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ক্ষমতাবঞ্চিত বিএনপির মধ্যে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে দলটির ব্যাপক ক্ষতি করেছে।এখনও খালেদা জিয়া পন্থী ও সংস্কারপন্থী বিভেদ অটুট রয়েছে। সে কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ কোন কর্মসূচিতেই সফলতা দেখাতে পারেনি দলটি। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ নেতাদের দিয়ে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়ায়। এতে করে তাদের প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব, অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগে দলের মধ্যে দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা নেতাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারি ও তৃণমূলের নেতারা সামনে চলে আসে।
(২০০৬ সালের ২৯শে অক্টোবর প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।)
(প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনাব ফখরউদ্দিন আহমেদকে শপথ বাক্য পাঠ করান।)
ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) ঘটনা প্রবাহঃ
দিনভরই চারদিকে ছিল নানা গুজব, গুঞ্জন। সার্বিক পরিস্থিতি ছিল থমথমে। এই অবস্থায় বিকেল চারটার দিকে আওয়ামী লীগের তত্কালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফর উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল যোগ দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠকে ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার ডগলাস ফসকেট, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইনোওয়ে মাসাইয়েকি, ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফান ফ্রোইন ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনাটা ডেজালিয়েন। বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক শেষে অনেকটা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তারা। কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসা থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি চলে যান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসায়।আওয়ামী লীগ নেতারা বের হওয়ার আধাঘণ্টা পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির তত্কালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। বৈঠক শেষে তারাও মুখ খোলেননি। সোজা চলে যান গুলশানের হাওয়া ভবনে। সেখানে তারা বৈঠক করেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এর আগে দুপুর পৌনে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান দু’টি দলের বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দুপুর বারোটায় বৈঠক করেন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে। এতে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের পরপরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে চারটায় উপদেষ্টা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়। দু’-একজন ছাড়া উপদেষ্টাদের প্রায় সবাই বঙ্গভবনে গিয়ে বৈঠক বাতিলের খবরে ফিরে আসেন।বঙ্গভবনের বৈঠক শেষে বিমান বাহিনী প্রধান, নৌ বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাব, বিডিআরসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনাসদরে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ।রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে পুনরায় ডাকা হয় উপদেষ্টাদের। কোনো বৈঠক ছাড়াই উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অবহিত করা হয়। এসময় উপদেষ্টাদের সবাইকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে উপদেষ্টারাও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ডক্টর ফকরুদ্দিন আহমদকে। তিনি নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।এসব নাটকীয় ঘটনা ও টানটান উত্তেজনা-উদ্বেগের মধ্যেই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন এবং বিপদের সম্মুখীন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন’। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়— বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে। একইসঙ্গে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সকল মহানগর এবং জেলা শহরে কারফিউ বলবত্ থাকার ঘোষণাও দেয়া হয়।এরপর নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রাত সাড়ে এগারোটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ভাষণে তিনি বলেন, একইসঙ্গে দু’টি দায়িত্ব নেয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। এই অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথকে সুগম করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাতে সরকারের তথ্য অধিদফতর থেকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে রাজনৈতিক সংবাদ ও সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় টিভি চ্যানেলের খবর ও টকশো।
সূত্রঃ -উইকিপিডিয়া
–ওয়ান ইলেভেনের অজানা কথা Dhakapress24.
১১ সেপ্টেম্বরের হামলা (যা নাইন/ইলেভেন নামেও পরিচিত) ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের উপর আল কায়েদার একইসাথে চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা।
আক্রমনের ২,৯৯৭ জন নিহত এবং ৬,০০০ এর অধিক মানুষ আহত হয়, এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ।
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সকালে ১৯ জন ছিনতাইকারী চারটি বাণিজ্যিক বিমানের (দুটি বোয়িং ৭৫৭ ও দুটি বোয়িং ৭৬৭) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বিমান চারটি ম্যাসাচুসেট্স অঙ্গরাজ্যের বস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিওয়ার্কের নিওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লাউডেন কাউন্টি ও ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির ওয়াশিংটন ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ল্যাক্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সান ফ্রান্সিস্কোর এসএফও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল।ছিনতাইয়ের জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রমকারী বৃহৎ বিমানগুলো বাছাই করা হয়েছিল, কারণ সেগুলো জ্বালানিতে পূর্ণ থাকে।
- (উপরের সারি:ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর দ্যা টুইন টাওয়ার জ্বলছে
- ২য় সারি, বাম হতে ডান: পেন্টাগনের ধ্বসে পড়া অংশ;
ফ্লাইট ১৭৫ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে; - ৩য় সারি, বাম হতে ডান:ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তুপের মাঝে
একজন অগ্নিনির্বাপণ কর্মী সহায়তার অনুরোধ জানাচ্ছেন;
গ্রাউন্ড জিরো; থেকে ফ্লাইট ৯৩ এর একটি ইঞ্জিন উদ্ধারকৃত হয় - নিচের সারি:ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার বিরতিহীন তিনটি ফ্রেমে ধারণকৃত
এএ৭৭ এর পেন্টাগনের উপর আঘাত হানার দৃশ্য)
ওসামা বিন লাদেন এই হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে ধারণা করা হয় এবং শুরুতে তিনি তার জড়িত থাকার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালেও পরে তিনি তার মিথ্যা বক্তব্যকে অমূলক বলে উল্লেখ করেন। আল জাজিরা ২০০১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে বিন লাদেনের এক বক্তব্য প্রচার করে, যেখানে তিনি বলেন, “আমি জোড় দিয়ে বলছি যে আমি এই কাজ করিনি, মনে হয় কেউ তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছেন।” ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে একটি ভিডিওটেপ উদ্ধার করেন। ভিডিওতে দেখা যায় বিন লাদেন খালেদ আল-হারবির সাথে কথা বলছেন এবং এই হামলার সম্পর্কে তার জানার বিষয়টি স্বীকার করছেন।
(৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন খালিদ শেখ মোহাম্মদ বা সংক্ষেপে কেএসএম।)
২০০২ সালে আল জাজিরার সাংবাদিক ইয়োরসি ফুয়োদা, এই জঙ্গি নেতা খালিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। খালিদ সে সাক্ষাৎকারে জানান, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়ার কোথাও আমেরিকার বিমান উড়িয়ে দেওযার স্বপ্ন ছিল তার। সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ওসামা বিন লাদেনর সঙ্গে দেখা হলে খালিদ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পান।
হামলা চালাতে আল কায়দা সৈন্য, অর্থ ও আনুষাঙ্গিক সাহায্য দেবে বলে খালিদকে জানান লাদেন। সেই সঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে লাদেনের পছন্দ হয় নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন শহর দু’টিকে।
হামলার মাধ্যমে লাদেন ও খালিদের ইচ্ছা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা। সেই সঙ্গে হামলার মাধ্যমে বিশ্বে আল কায়দার সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে প্রকাশ করারও সুযোগ পায় তারা।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ঘটনা:
মঙ্গলবার, সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিট। নিউইয়র্কের আকাশে সেদিন ঝকঝকে রোদ। ১১০ তলা উঁচু ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারের আশি তলায় আছড়ে পড়ে ছিনতাইকৃত কুড়ি হাজার গ্যালন জ্বালানী বোঝাই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমান। বিমানটি যেখানে টাওয়ারটিকে আঘাত করে সেখানে মুহূর্তেই বিশাল অগ্নিকুণ্ডময় গর্ত সৃষ্টি হয়। চোখের পলকে মৃত্যু হয় ওই ফ্লোরগুলোতে থাকা প্রত্যেকর।
টেলিভিশন ক্যামেরাগুলো তখন ঘটনার সরাসরি ছবি সরবরাহ করে যাচ্ছিলো। উত্তর ও দক্ষিণ – দুটি টাওয়ার থেকেই মানুষদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছিলো। এমন সময় প্রথম হামলার ঠিক আঠারো মিনিট বাদে অন্য একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান এসে হাজির হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রবল বেগে সাউথ টাওয়ারের ৬০তম তলায় আঘাত করল। পুরো টাওয়ারটিকে যেন দুভাগ করে ফেললো বিমানটি। প্রথম বিমানটি অতর্কিত হামলা করায় সেটির বেশি ফুটেজ পাওয়া যায় নি, তবে দ্বিতীয় বিমানটি যখন আঘাত করে তখন অনেকেরই ক্যামেরা তাক করা ছিলো টুইন টাওয়ারের দিকে; তারা প্রথম আক্রমণের ভয়াবহতা রেকর্ড করছিলেন তখন মূলত। দ্বিতীয় আঘাতটি ছিলো আরো ভয়াবহ। রাস্তার পাশাপাশি পাশের দালানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছিলো জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। প্রথম আক্রমণে অনেকে ভেবেছিলেন বিমানের পাইলট হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় হামলার পর আসল উদ্দেশ্য সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো। কারো বুঝতে বাকি রইলো না যে, আমেরিকা আন্ডার অ্যাটাক!
কারা করেছিলো আক্রমণ?
মার্কিন তদন্ত বলছে, আত্মঘাতী হামলাকারীরা ছিলো সৌদিসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশের নাগরিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ছিল এই আক্রমণের পৃষ্ঠপোষক। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন তখন পলাতক।
এত বড় একটি পরিকল্পিত হামলার পেছনে আল-কায়েদার প্রধান কারণ ছিলো তিনটি –
১। ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার বাড়াবাড়ি রকমের সমর্থন।
২। পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ।
৩। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখা।
হামলাকারীদের কেউ কেউ হামলার এক বছর আগে থেকেই আমেরিকায় বসবাস করে আসছিলো। তারা আমেরিকাতেই বিভিন্ন বেসরকারি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক বছর যাবত বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো বলে জানা যায়। বাকিরা হামলার মাসখানেক আগে আমেরিকায় আসে ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করে।
ঘটনার দিন জঙ্গিদের ১৯ জনের দলটি তিন ভাগ হয়ে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের তিনটি বিমান বন্দরের খুব সকালের ফ্লাইট ধরার জন্য রওনা দেয়। যে বিমানগুলো ক্যালিফোর্নিয়াগামী, সেগুলোকেই তারা ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেয়, কারণ তারা জানত, দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে যাওয়া বিমানগুলো থাকবে জ্বালানী ভরতি। নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গিরা সহজেই তাদের সঙ্গে ছুঁড়ি ও বক্স-কাটার নিয়ে বিমানে উঠতে সফল হয়। বিমান চারটি টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিরা ভয় দেখিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানকে তারা পরিণত করে লক্ষ্যভেদী মিসাইলে।
পেন্টাগন আক্রমণ:
আমেরিকান প্রশাসনের নিরাপত্তা বিভাগের সদয়র দফতর হচ্ছে পেন্টাগন। এটি ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলীতে অবস্থিত। টুইন টাওয়ারের ঘটনায় যখন সারা বিশ্বের চোখ নিউ ইয়র্কে নিবদ্ধ তখনই সবার অগোচরে পেন্টাগনের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলো জঙ্গি হামলার তিন নম্বর বিমান – আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭। ঠিক সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে পেন্টাগনের পশ্চিম পার্শ্বে আঘাত হানে বিমানটি। বোয়িং ৭৫৭ মডেলের বিমানটির জেট ফুয়েল মুহূর্তেই কংক্রিটের দৈত্যাকার দালানটিকে একখণ্ড নরকে পরিণত করে। পেন্টাগনের বিশাল একটি অংশ ধ্বসে পড়ে। বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। পেন্টাগনে মারা যান ১২৫ জন, আহতের সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একদম কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হেনে জঙ্গিরা জানান দেয়, তাদের শক্তি কতটুকু! বিশ্ব মোড়লদের সিংহাসন যেন খানিক সময়ের জন্য হলেও কেঁপে ওঠে।
পেন্টাগনে হামলার মিনিট ১৫ বাদে টুইন টাওয়ারের আতঙ্ক মারাত্মক রূপ ধারণ করে। প্রচণ্ড ধূলি ও ধোঁয়ায় আকাশ ভরে দিয়ে ধ্বসে পড়ে এর সাউথ টাওয়ার। জ্বলন্ত জেট ফুয়েলের সামনে সব প্রতিরোধই যেনো ছিলো অসহায়। সকাল সাড়ে দশটায় টুইন টাওয়ারের উত্তরের টাওয়ারটিও ধ্বসে যায়। ভবন দুইটি ধ্বসে যাওয়ার সময় তাতে থাকা ১৭ হাজার ৪০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে বের করে আনা সক্ষম হয়, যার মধ্যে ৬ জন নিজেদের অক্ষত রাখতে সমর্থ হন।
ফ্লাইট ৯৩
ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ নামে ক্যালিফোর্নিয়াগামী অন্য একটি বিমান নিউ জার্সির নেওয়ারক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের ৪০ মিনিটের মাথায় ছিনতাই হয়। বিমানটি টেক অফে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় বিমানের যাত্রীরা ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলো। তাই তারা যখন দেখতে পেলো তাদের বিমানটিও ছিনতাই হয়েছে, বুঝতে আর বাকি রইলো না কোন উদ্দেশ্য চরিতার্থের বলি হতে যাচ্ছে তারা।
বিমানের যাত্রীরাও বসে থাকেননি। চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সবাই মিলে চার ছিনতাইকারীকে আক্রমণ করেন। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মাধ্যমে বিমানের ককপিটে হামলা চালিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণকারী জঙ্গিকে বিপাকে ফেলে দেন। যে বিমানটি হামলা করার কথা ছিলো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে, সেটি গিয়ে আছড়ে পড়ল পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা মাঠে। বিমানের ৪৪ আরোহীর সবাই প্রাণ হারালেন। কিন্তু তাতে কি! ছিনতাইয়ের পর তারা তো জানতেনই তাদের জীবন সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। অসহায়ের মতো না মরে তারা জঙ্গিদের উদ্দেশ্যের বলি না হয়ে বীরের মতো জীবন দিলেন !
হামলার পরিকল্পনা:
নিখুঁত পরিকল্পনায় হামলার ছক কষেছিল আল কায়দা ও তার মিত্ররা। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপন বৈঠক করা হয়। মূল পরিকল্পনা সাজাতে বৈঠক হয় মালয়েশিয়ায়। হামলাকারীরা মার্কিন ফ্লাইটগুলোর পর্যাপ্ত খোঁজখবর নিতে থাকেন। এছাড়া জার্মানির হামবুর্গে আল কায়দার একটি সমন্বয়কারী দল ছিল। এই হামলার টাকা এসেছে দুবাই থেকে। আত্মঘাতী হামলাকারীদের সংগ্রহ করা হয়েছিল সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সবকিছুর পর্যবেক্ষণে ছিলেন আফগানিস্তান থেকে আলকায়দা নেতারা। সর্বোপরি ওসামা বিন লাদেন।
জার্মানির, হার্মবুগ থেকে চারজন প্রধান জঙ্গি বৈমানিক ও পরিকল্পনাকারী ছিলো এই হামলায়। তাদের বলা হতো হামবুর্গ সেল। হামলা পরিচালনায় এরাই ছিল মূল নেতৃত্বে। হার্মবুগ সেলের প্রধান হাইজ্যাকারের নাম মোহাম্মদ আতা। তিনি ও তার হামবুর্গ গ্রুপের অন্য সদস্যরা আফগানিস্তানে আসেন ১৯৯৯ সালে।
বিন লাদেন ও তার সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ আতেফ প্রথম সাক্ষাতেই বুঝতে পারেন অপরেশন পরিচালনার জন্য আতার নেতৃত্বে পশ্চিমা জিহাদি গ্রুপটি তাদের আফগান জিহাদিদের চেয়ে বেশি চতুর ও প্রশিক্ষিত। তাই মোহাম্মদ আতাকে প্রধান করে পুরো অপারেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনামাফিক হাইজাক্যাররা হামলার আগ থেকে ছোট ছোট গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করে রেকি করে ও বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেয়। আতা যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে হামলার বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে নিয়মিত তার সহযোগী ও কামান্ডারদের সাথে ইমেইলে আপডেট পাঠাত ও যোগাযোগ রাখত।
আতা সাংকেতিক ভাষায় বার্তাগুলো তার ‘গার্লফ্রেন্ড জেনি’কে উদ্দেশ্যে করে লিখত। যেমন— একটি ইমেইল বার্তায় বলা হয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সেমিস্টার শুরু হবে। প্রাইভেট শিক্ষার জন্য চারটি পরীক্ষা ও ১৯টি সনদপত্র। লাগবে এখানে ‘১৯টি সনদ’ বলতে ‘১৯ জন আল কায়দা হাইজাক্যার’ ও ‘চারটি পরীক্ষা’ বলতে ‘চারটি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু’র কথা বলা হয়েছে।
২৯ অগাস্ট ২০০১ সালে আতা (atta) আরেকটি ইমেলই বার্তায় বলেন, দু’টি লাঠি, একটি ড্যাশ ও একটি কেক লাঠি ঝুলানো। অর্থ্যাৎ দুই সপ্তাহের মধ্যে হামলাটি ঘটবে। দুটি লাঠি মানে ১১। পরের অংশটিতে ৯ বুঝানো হয়েছে। এখানে ১১-৯ বা ৯-১১ দু’ভাবেই হামলার সম্ভাবনার কথা বিন লাদেন জানানো হয়েছে।
বিমান হাইজ্যাক ও আক্রমণ:
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মহ আতা ও তার সহযোগী আক্রমণকারীরা আমেরিকার চারটি অভ্যন্তরীণ বিমান হাইজ্যাক করে। অস্ত্রের মুখে তারা বিমান ক্রু ও যাত্রীদের নিষ্ক্রিয় করে রাখে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বোস্টন থেকে উড়ে আসা ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১’ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ভবনটিতে প্রথম হামলে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ভেবেছিল, এটি ছোটখাট কম্পিউটারচালিত খেলনা বিমান। কিন্তু ১৭ মিনিট পরে বোস্টন থেকে উড়া আসা দ্বিতীয় বিমান ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫’ যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারটিতে হামলে পড়ে, তখন আর কারোরই সন্দেহের অবকাশ ছিল না এটি সন্ত্রসী হামলা। তখন টাওয়ার দু’টির ভেতরে আটকা পড়া কেউ কেউ দুঃসহ মৃত্যু থেকে বাঁচতে লাফ টাওয়ার থেকে লাফও দিয়েছিলেন।
এদিকে, ডালাস এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে আসা তৃতীয় বিমান ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭’ হামলে পড়ে হয় পেন্টাগণের দক্ষিণ-পশ্চিমে, সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। আর চতুর্থ বিমান ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩’ নিউজার্সি থেকে উড়েছিল। ১০টা ৩ মিনিটে এটি পেনসিলভ্যানিয়ার স্নেকসভাইলে বিধ্বস্ত হয়।
মোট কত লোকের প্রাণহানি হয়?
৯/১১ হামলায় সর্বমোট ২৯৯৬ জন মানুষ প্রাণ হারান। এদের মধ্যে হামলাকারী বিমানগুলোতে থাকা ১৯ জঙ্গিও ছিলো। জঙ্গিরাও জানতো সফল হলেও তাদের কেউ আর বেঁচে ফিরবে না। নিউ ইয়র্ক বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রেই কেবল ২,৭৬৩ জন মানুষ মারা যান। এদের মধ্যে ৩৪৩ জন ছিলেন দমকল বাহিনীর কর্মী ও চিকিৎসক এবং ২৩ জন নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কর্মকর্তা ও ৩৭ জন বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৭১ জন পুলিশ কর্মকর্তা। টাওয়ারে আটকে পড়াদের বের করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
(ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার দুটির শূন্য স্থানে আলোর স্মারক স্তম্ভ)
(নিউইয়র্কে ৯/১১র মেমোরিয়াল)
সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ। উইকিপিডিয়া, বিবিসি বাংলা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষণে: BDS Bulbul Ahmed
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর নেপথ্য কারিগরদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের শেষ নেই। তবে প্রথাবিরোধী লেখক ও বুদ্ধিজীবী ড. হুমায়ুন আজাদ তাঁর ‘আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম’ গ্রন্থে এই বিতর্ককে এক নতুন দার্শনিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, কেবল একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করে ‘ঘোষক’ হওয়া যায়, কিন্তু একটি জাতির ‘মহাস্থপতি’ হওয়া যায় না।

১. বন্দী মুজিব: ঘোষণার চেয়েও শক্তিশালী এক প্রেরণা

হুমায়ুন আজাদ মনে করেন, ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ধরা না দিয়ে যদি পালিয়ে গিয়ে ঘোষণা দিতেন, তবে তিনি হতেন একজন ‘সামান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী’। কিন্তু তাঁর বন্দীত্ব তাঁকে করে তুলেছিল এক অপরাজেয় ও অদম্য ভাবপ্রতিমা।
তিনি লিখেছেন, “যোদ্ধা মুজিবের থেকে বন্দী মুজিব ছিলেন অনেক শক্তিশালী ও প্রেরণাদায়ক। তিনি তখন হয়ে উঠেছিলেন মহানায়ক, ঘোষকের অনেক ওপরে যাঁর স্থান।” ১৯৭১ সালে প্রতিটি বাঙালির মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— ‘মুজিব কোথায়?’ তাঁর বেঁচে থাকার সংবাদই ছিল মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় শক্তি।
২. মেজর জিয়া: এক ঐতিহাসিক আকস্মিকতা

২৭শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণা পাঠ সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ অত্যন্ত নির্মোহ বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তিনি জিয়াউর রহমানকে একটি ‘আকস্মিক কিংবদন্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুযোগ ও আকস্মিকতা: লেখক মনে করেন, কালুরঘাটের বেতারযন্ত্রীরা একজন মেজরকে খুঁজছিলেন একটি জোরালো ঘোষণার জন্য। সেই মুহূর্তে অন্য কোনো মেজর থাকলেও তিনি কিংবদন্তি হয়ে উঠতেন।
- উত্তেজনা ও স্বস্তি: জিয়ার সেই কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ সাধারণ মানুষকে আলোড়িত করেছিল মূলত এই কারণে যে, তারা জানতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন এবং তাঁর নামেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
হুমায়ুন আজাদের ভাষায়, “রবীন্দ্রনাথ বা মুজিব বা আইনস্টাইন হওয়ার জন্য লাগে দীর্ঘ সাধনা, কিন্তু কেউ কেউ হঠাৎ মেজর জিয়া হয়ে উঠে সারা দেশকে আলোড়িত করতে পারেন।”
৩. কেন মুজিবই মহাস্থপতি?

আজাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি সেকেন্ডে, প্রতিটি গুলিতে এবং প্রতিটি আত্মত্যাগে কেবল একটি নামই কাজ করেছে—তা হলো মুজিব। বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কেউ হাজারবার ঘোষণা দিলেও বিশ্ব জনমত আমাদের পক্ষে আসত না এবং সাধারণ মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “মুজিব বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে পৌঁছে দিয়েছিলেন, বন্দী থেকেও তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন মুক্তিযুদ্ধকে। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, মহাস্থপতি; তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের কথা ভাবাই যায় না।”
৪. ‘শহীদ’ বনাম ‘নিহত-অমর’
প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ ধর্মীয় পরিভাষার চেয়ে ইহলৌকিক শব্দকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান হয়তো মুজিবকে হত্যা করতে পারত, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব হতেন আরও বেশি শক্তিশালী। যারা দেশের জন্য প্রাণ দেন, তারা মূলত ‘নিহত-অমর’ হয়ে ইতিহাসের পাতায় টিকে থাকেন।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: হুমায়ুন আজাদের এই লেখাটি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক মেরুকরণের উর্ধ্বে উঠে ইতিহাসের সত্যকে খুঁজতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, ঘোষণা কে দিয়েছেন সেই তর্কের চেয়ে বড় সত্য হলো—কার নেতৃত্বে এবং কার নামে একটি জাতি সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু সেই একক নেতৃত্বের নাম, যিনি একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রকে মানচিত্রে রূপ দিয়েছিলেন।
এক নজরে লেখকের মূল বক্তব্য:
| বিষয় | হুমায়ুন আজাদের মত |
| বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব | বাংলাদেশের মহাস্থপতি, যাঁর স্থান ঘোষকের অনেক ওপরে। |
| মেজর জিয়া | ঐতিহাসিক আকস্মিকতায় উদ্ভূত একজন ট্র্যাজিক নায়ক ও কিংবদন্তি। |
| মুক্তিযুদ্ধের চালিকাশক্তি | বঙ্গবন্ধুর নাম ও ভাবপ্রতিমা। |
| বন্দীত্বের গুরুত্ব | পালিয়ে গিয়ে ঘোষণা দেওয়ার চেয়ে বঙ্গবন্ধুর বন্দীত্ব ছিল বেশি মর্যাদাপূর্ণ। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
বর্তমান বিশ্বে সমরাস্ত্র প্রযুক্তির অন্যতম বিস্ময় হলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’। ফিলিস্তিনের গাজা বা লেবানন থেকে ছোড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়ে এটি ইসরায়েলের প্রধান সামরিক শক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট, মর্টার এবং ড্রোন থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতেই এই ব্যবস্থার উদ্ভব।

১. প্রেক্ষাপট ও উদ্ভাবন
২০০৬ সালে লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষের পর ইসরায়েল এ ধরনের একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ইসরায়েলি সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ইসরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এটি তৈরি করে। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল গাজা থেকে আসা একটি রকেট সফলভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। এই প্রজেক্টে ইসরায়েল ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে।
২. আয়রন ডোম কীভাবে কাজ করে?

এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এটি মূলত তিনটি ধাপের মাধ্যমে কাজ করে:
- সনাক্তকরণ (Detection): একটি শক্তিশালী রাডার সিস্টেম সব সময় আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। কোনো রকেট বা বস্তু ছোড়া হলেই রাডার দ্রুত সেটিকে সনাক্ত করে তার গতিপথ ট্র্যাক করে।
- বিশ্লেষণ (Analysis): রাডার থেকে পাওয়া তথ্য চলে যায় একটি ‘কন্ট্রোল সিস্টেমে’। সেখানে কম্পিউটার হিসাব করে দেখে রকেটটি কোথায় আঘাত করতে পারে। যদি দেখা যায় রকেটটি কোনো জনবসতি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করবে, তবেই এটি ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেয়। আর যদি রকেটটি কোনো ফাঁকা জায়গায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য সেটিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
- প্রতিরোধ (Interception): ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হলে সিস্টেমের ‘লঞ্চার’ থেকে একটি তামির (Tamir) ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছোড়া হয়। এটি বাতাসের মধ্যেই আগত রকেটটির কাছে গিয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং রকেটটিকে চুরমার করে দেয়।
৩. বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা
- সাফল্যের হার: এটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার পরিসীমায় ৯০ শতাংশেরও বেশি রকেট রুখতে সক্ষম।
- আবহাওয়া: ঝড়, বৃষ্টি বা কুয়াশা—যেকোনো পরিস্থিতিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এটি কাজ করে।
- একযোগে একাধিক টার্গেট: যদি একসাথে শত শত রকেট ছোড়া হয়, তবে আয়রন ডোমের বিভিন্ন ইউনিট জালের মতো একে অপরের সাথে সমন্বয় করে গুরুত্ব অনুসারে রকেটগুলো ধ্বংস করতে পারে।
- পাল্টা আক্রমণ: যেখান থেকে রকেট ছোড়া হয়েছে, তার সঠিক অবস্থান এটি কয়েক সেকেন্ডে বের করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল সিস্টেমে পাঠিয়ে দেয়, ফলে দ্রুত সেখানে পাল্টা বিমান হামলা চালানো সম্ভব হয়।
৪. বর্তমান সক্ষমতা

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ১০টি আয়রন ডোম ব্যাটারি মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটারিতে ৩ থেকে ৪টি লঞ্চার থাকে এবং প্রতিটি লঞ্চারে ২০টি করে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল থাকে। এছাড়াও মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার রকেটের জন্য ইসরায়েল ‘ডেভিডস স্লিং’ নামক আরেকটি উন্নত ব্যবস্থা ব্যবহার করে। সম্প্রতি আমেরিকাও তাদের নিজস্ব সুরক্ষার জন্য ইসরায়েল থেকে এই আয়রন ডোম প্রযুক্তি ক্রয় করেছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: আয়রন ডোম কোনো জাদু নয়, বরং নিখুঁত গণিত ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে হামাস একসাথে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে এই সিস্টেমের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে, যা আধুনিক সমরাস্ত্র বিজ্ঞানে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এক নজরে আয়রন ডোম:
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
| তৈরি কারক | রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। |
| কার্যকর শুরু | ২০১১ সাল। |
| সাফল্যের হার | ৯০% এর বেশি। |
| কভারেজ রেঞ্জ | ৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার। |
| ইন্টারসেপ্টর মিসাইল | তামির (Tamir)। |
তথ্যসূত্র (Source):
- আইডিএফ (IDF): ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রযুক্তিগত রিপোর্ট।
- রাফায়েল ডিফেন্স: অফিসিয়াল সিস্টেম স্পেসিফিকেশন।
- বিবিসি ও টাইমস: প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত ও ব্যর্থ মনে হয়। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা আজ যে সংকটের মুখোমুখি, তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

বর্তমানে ইসলামকে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ‘একাধিক বিবাহ’ নিয়ে যেভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত বিব্রতকর। ইসলামে চার বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠিন শর্ত ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে অমুসলিম বিশ্ব ও নওমুসলিমদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে, মুসলিম পুরুষ মানেই কেবল একাধিক বিয়ে।
২. আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ভার ও ‘ইসলামোফোবিয়া’

বিশ্বের কোথাও কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর এসে পড়ে। অনলাইনে বা অফলাইনে একজন মুসলিমকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে সে ‘জঙ্গি’ নয়। হিজাব পরিধান করা যে একজন নারীর স্বাধীন ইচ্ছা হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকুও আমরা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। নিজেদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে না পারা আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।
৩. অনৈক্য ও পরশ্রীকাতরতা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব আজ প্রকট। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো বড় মানবিক সংকটে যখন কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশ নয়, বরং গাম্বিয়ার মতো একটি ছোট দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করে, তখন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে যতটা পটু, নিজেদের সংশোধনে ততটাই উদাসীন।
৪. ভূ-রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা

মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অনেক সময় সাধারণ মুসলমানদের ব্যথিত করে। ইয়েমেনের মানবিক বিপর্যয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রহস্যজনক নীরবতা কিংবা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়া—আমাদের লজ্জিত করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনছে।
৫. দেশপ্রেম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা

‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’—এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে অনেক মুসলিম দেশ আজ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এছাড়া সোনালী অতীতে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে মুসলিম মনীষীদের যে কালজয়ী অবদান ছিল, তা আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের আবিষ্কার ও অবদান সম্পর্কে নিজেরাই জানি না, ফলে পশ্চিমাদের চোখে আমরা আজ একটি ‘পিছিয়ে পড়া’ জাতিতে পরিণত হয়েছি।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামের সৌন্দর্য তখনই বিকশিত হবে যখন আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকবে। আমরা যদি অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের চরিত্র ও জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারি, তবেই আমাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেবল ধর্মের গান গেয়ে নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
এক নজরে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:
| চ্যালেঞ্জ | বর্তমান অবস্থা |
| সামাজিক | ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার অভাব। |
| রাজনৈতিক | মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি। |
| সাংস্কৃতিক | মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় ব্যর্থতা। |
| শিক্ষাগত | আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা। |
তথ্যসূত্র (Source):
- আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংক্রান্ত বিধান।
- আল জাজিরা ও রয়টার্স: ইয়েমেন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন।
- বিডিনিউজ২৪: মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



