অর্থনীতি

গৌতম আদানি: বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী, তার ব্যবসায়িক উত্থান ও সাম্রাজ্য
গৌতম আদানি

নিউজ ডেস্ক

November 5, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


গৌতম আদানি: বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ও ভারতীয় অর্থনীতির দিকনির্দেশক

গৌতম আদানি, ভারতের ব্যবসায়িক দুনিয়ার একজন শীর্ষ নেতা এবং বর্তমানে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী হিসেবে পরিচিত। গত দুই বছরে, তার সম্পত্তি প্রায় ৬০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তাকে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তার উত্থানের পেছনে রয়েছে ব্যবসায়িক প্রজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ এবং ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের কৌশল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তিনি মুকেশ আম্বানি-কে পিছনে ফেলে ভারতের দ্বিতীয় ধনী হিসেবে স্থান করেন। এর পর চলতি বছর, বিল গেটস-এর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টপকে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী হয়ে উঠেছেন।

আদানি গ্রুপের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

গৌতম আদানি বর্তমানে আদানি গ্রুপ নামক একটি বিশাল কর্পোরেশন পরিচালনা করছেন, যা কয়লা খনি, বন্দর অপারেশন, বিমানবন্দর ও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সহ প্রায় ৭টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করছে। আদানি গ্রুপ ভারতে সবচেয়ে বড় বেসরকারি বন্দর অপারেটর এবং বিমানবন্দর অপারেটর।

গ্রুপটির সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ডেটা সেন্টার, সিমেন্ট, মিডিয়া এবং অ্যালুমিনিয়াম খাতেও ব্যাপকভাবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আদানি ভারতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং গ্লোবাল বাণিজ্যেও তার উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২২ সালের পরের বিপুল উত্থান

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুকেশ আম্বানি-কে পেছনে ফেলার পর, গৌতম আদানির সম্পত্তি বেড়ে যায় বিশাল পরিমাণে। বিশেষ করে, বিল গেটসকে পরাজিত করে তিনি নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য আরও শক্তিশালী করেছেন। এলন মাস্ক ছাড়া অন্য সব ধনী ব্যক্তিদের পেছনে ফেলেছেন, এটি তার ব্যবসায়ের অনন্য সফলতা তুলে ধরে।

এছাড়া, আদানির ব্যবসায়িক দক্ষতা শুধু কয়লা বা বন্দর ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি শিল্প, পরিবহন এবং প্রযুক্তি খাতেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এই কৌশল তার ব্যবসাকে বহুমাত্রিক করেছে এবং বিভিন্ন নতুন ব্যবসা সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

আদানির সাথে নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তার সহায়তার গুরুত্ব মেনে নিয়েছেন। আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠেছে, এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে বিশেষভাবে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখেন।

এই দৃঢ় সম্পর্কের ফলে আদানি ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে তার অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তবে এটি কিছু রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে, কিন্তু আদানির ব্যবসা অব্যাহতভাবে প্রসারিত হচ্ছে।

ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ

গৌতম আদানি আগামীদিনে আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আদানি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী অপারেশন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে, যা তার সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী দশকে, তিনি হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাবেন।

এই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির কারণে, তাঁর ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভারতের জন্য আরও অনেক নতুন সুযোগ তৈরি করবে।


সূত্র

  1. ব্লুমবার্গ – ২০২৫
  2. ফোর্বস – ২০২৫
  3. ইকোনমিক টাইমস – ২০২৫

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এফডিআর

নিউজ ডেস্ক

October 26, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সঞ্চয় ও নিশ্চিত রিটার্নের জন্য এফডিআর (Fixed Deposit Receipt), ডিপিএস (Deposit Pension Scheme) এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ। এর সাথে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জীবন ও সাধারণ বীমা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

আপনার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সহজ করতে সরকারি ও ব্যাংক খাতের হার, ফিচার এবং বীমা নির্বাচনের মূল নীতি নিচে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো।

১. এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও বৈশিষ্ট্যের তুলনা

সেভিংস অপশনগড় মুনাফা/সুদের হার (%)মেয়ার ও তারল্য (Liquidity)বিশেষ সুবিধা ও উৎস কর
জাতীয় সঞ্চয়পত্র (পরিবার, পেনশনার, ৩ মাস অন্তর)১১.৫২% – ১১.৯৮% (স্ল্যাব ও ধরনভেদে)৩ থেকে ৫ বছর। সময়পূর্তির আগে ভাঙালে মুনাফা কমে যায়।সবচেয়ে নিরাপদ এবং নির্দিষ্ট সীমার ওপর কর রেয়াত সুবিধা রয়েছে। উৎস কর ৫% থেকে ১০%।
ব্যাংক এফডিআর (FDR)৭.০০% – ৮.৫০% (ব্যাংকভেদে ভিন্ন)১ মাস থেকে ৫ বছর। জরুরি প্রয়োজনে লিয়েন রেখে ঋণ নেওয়া যায়।চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের সুযোগ থাকে। টিআইএন (TIN) থাকলে উৎস কর ১০%-১৫%।
ব্যাংক ডিপিএস (DPS)৭.৫০% – ৯.০০% (নিয়মিত কিস্তি)১ থেকে ১০ বছর মেয়াদী ছোট ছোট মাসিক সঞ্চয়।মধ্যবিত্ত বা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য মাসিক সঞ্চয় গড়ে তোলার সেরা মাধ্যম।
[সঞ্চয়পত্র: সর্বোচ্চ রিটার্ন ও সরকারি নিরাপত্তা] vs [ব্যাংক এফডিআর/ডিপিএস: উচ্চ তারল্য ও ঋণ সুবিধা]

২. সঠিক বীমা (Insurance Policy) বেছে নেওয়ার ৫টি ধাপ

বীমা কেবল কোনো সঞ্চয় বা মুনাফা তৈরির মাধ্যম নয়; এটি মূলত অনিশ্চিত ঝুঁকি মোকাবেলার নিরাপত্তা কবচ। একটি সঠিক পলিসি বেছে নিতে নিচের ধাপগুলো মেনে চলুন:

  1. বীমার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করুন: পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলে টার্ম লাইফ ইন্স্যুরেন্স (Term Life Insurance) বেছে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, যেখানে কম প্রিমিয়ামে সর্বোচ্চ আর্থিক ঝুঁকি কাভার পাওয়া যায়।
  2. আইডিআরএ (IDRA) নিবন্ধিত কোম্পানি যাচাই: বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) দ্বারা অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বীমা কোম্পানি নির্বাচন করুন IDRA Portal।
  3. ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিও (Claim Settlement Ratio) দেখুন: গত ৩-৫ বছরে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিটি তাদের মোট দাবিকৃত বীমা দাবির শতকরা কতভাগ সফলভাবে পরিশোধ করেছে তা যাচাই করুন।
  4. পলিসির শর্ত ও এক্সক্লুশন (Exclusions) পড়ুন: কোন কোন পরিস্থিতিতে বীমার দাবি প্রযোজ্য হবে না (যেমন: নির্দিষ্ট পূর্ব অসুস্থতা বা বিশেষ দুর্ঘটনাকালীন শর্ত) তা চুক্তিপত্রে ভালোভাবে পড়ে নিন।
  5. প্রিমিয়াম পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা: আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করুন যেন মাঝপথে পলিসি ল্যাপস বা বাতিল না হয়ে যায়।

তথ্যগত সাধারণ সতর্কতা (Important Notice)

সাধারণ সচেতনতা বিজ্ঞপ্তি: এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য কেবল পাঠক ও বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এটি কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ পরামর্শ (Investment Advice) নয়। যেকোনো আর্থিক স্কিম, এফডিআর, ডিপিএস বা বীমা পলিসিতে অর্থ বিনিয়োগের পূর্বে নিজ দায়িত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ সার্কুলার যাচাই করুন।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন নিশ্চিত আয়ের জন্য সঞ্চয়পত্র সেরা পছন্দ হলেও, জরুরি প্রয়োজন ও ব্যাংক ঋণের সুবিধার জন্য এফডিআর বা ডিপিএস কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী পারিবারিক সুরক্ষায় সঠিক বীমা পলিসি যুক্ত করা হলে পুরো ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও সুরক্ষিত থাকে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

স্বর্ণের আজকের দাম

নিউজ ডেস্ক

October 26, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): বাজারদর, অর্থনীতি ও জুয়েলারি গাইডলাইন
  • প্রকাশের তারিখ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) অফিশিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও বাজার মূল্য তালিকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ অফিসিয়াল স্বর্ণের বাজারদর স্থানীয় বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কার্যকর করা হয়েছে। প্রতি ভরি এবং প্রতি গ্রাম স্বর্ণের বর্তমান মূল্য এবং পুরোনো সোনা এক্সচেঞ্জ বা বিক্রির সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বাজুস নির্ধারিত স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর (আজকের মূল্য)

প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের বর্তমান ক্যারেটভিত্তিক মূল্য এবং এক্সচেঞ্জ রেট নিচে দেওয়া হলো:

স্বর্ণের মান (Purity)প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম)প্রতি গ্রামপুরাতন সোনা (এক্সচেঞ্জ রেট)
২২ ক্যারেট (Hallmark)৳ ২,২০,৮৫৮৳ ১৮,৯৩৫৳ ১,৮১,১০৩
২১ ক্যারেট (Hallmark)৳ ২,১০,৯৪৩৳ ১৮,০৮৫৳ ১,৫০,০০০
১৮ ক্যারেট (Hallmark)৳ ১,৮১,২০০৳ ১৫,৫০০৳ ১২,৮৯৪
সনাতন পদ্ধতি (Traditional)৳ ১,৩৬,০০০৳ ১২,৬৯০৳ ১০,৫৩৩

জরুরি দ্রষ্টব্য: ১ ভরি = ১৬ আনা = ৯৬ রতি = ১১.৬৬৪ গ্রাম। গহনা ক্রয়ের সময় মোট মূল্যের ওপর ন্যূনতম ৬% মজুরি চার্জ এবং ৫% সরকারি ভ্যাট বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হবে।

২. পুরাতন সোনা পরিবর্তন (Exchange) ও বিক্রির নিয়মাবলি

গ্রাহকদের সুরক্ষা ও দেশজুড়ে জুয়েলারি দোকানে অভিন্ন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাজুস পুরোনো সোনা কেনাবেচার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে:

[আসল ক্যাশ মেমো উপস্থাপন] ➔ [ক্যারেট ও পাথর বাদ দিয়ে নিট ওজন নির্ধারণ] ➔ [এক্সচেঞ্জে ১০% কর্তন অথবা বিক্রিতে ১৫% কর্তন]

ক) পুরাতন সোনা পরিবর্তন করার নিয়ম (Gold Exchange)

পুরোনো গহনা জমা দিয়ে যদি নতুন কোনো গহনা নিতে চান:

  • ১০% কর্তন (Deduction): আপনার পুরোনো গহনার তৎকালীন বাজারমূল্য থেকে ১০% বাদ দিয়ে বাকি ৯০% মূল্যের নতুন স্বর্ণ বা গহনা দেওয়া হবে।
  • উদাহরণ: পুরোনো সোনার বর্তমান বাজারমূল্য ১,০০,০০০ টাকা হলে, ১০% (১০,০০০ টাকা) কেটে রেখে আপনাকে ৯০,০০০ টাকার সমমূল্যের নতুন সোনা দেওয়া হবে।

খ) পুরাতন সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা নেওয়ার নিয়ম (Gold Cash Sell)

নতুন গহনা না কিনে সরাসরি পুরোনো সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা নিতে চাইলে:

  • ১৫% কর্তন (Deduction): গহনার তৎকালীন মোট বাজারমূল্য থেকে ১৫% বাদ দিয়ে বাকি ৮৫% টাকা নগদ পরিশোধ করা হবে।
  • উদাহরণ: পুরোনো সোনার বাজারমূল্য ১,০০,০০০ টাকা হলে, ১৫% (১৫,০০০ টাকা) কেটে রেখে আপনাকে ৮৫,০০০ টাকা নগদ দেওয়া হবে।

৩. স্বর্ণ পরিবর্তনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী

  1. আসল ক্যাশ মেমো (Cash Memo): সোনা পরিবর্তন বা বিক্রির সময় ক্রয়ের মূল ক্যাশ মেমো থাকা বাধ্যতামূলক। মেমো না থাকলে দোকানদার সোনা কিনতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে অথবা কর্তনের হার ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত হতে পারে।
  2. হলমার্ক ও ক্যারেট যাচাই: অ্যাসিড বা আধুনিক ক্যারেট টেস্টিং মেশিনের মাধ্যমে গহনার মান ও লেজার সিল যাচাই করা হবে।
  3. পাথর বা মালের ওজন বাদ: গহনায় দামি পাথর, মুক্তা বা এনামেলের কাজ থাকলে, সোনা মাপার আগে সেই পাথরের ওজন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র খাঁটি সোনার নিট ওজন হিসাব করা হবে।
  4. সনাতন পদ্ধতির সোনা: বাজুসের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী বাজারে সনাতন পদ্ধতির নতুন গহনা তৈরি বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে গ্রাহকদের পুরোনো সনাতন সোনা সরাসরি কেনার বা এক্সচেঞ্জ করার অনুমতি রয়েছে।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

স্বর্ণ কেনার সময় বাজুসের নির্ধারিত রেট, মজুরি ও ভ্যাট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা যেমন জরুরি, তেমনি পুরোনো সোনা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ১০% বা ১৫% কর্তনের নিয়মগুলো জানা থাকলে যেকোনো ধরনের আর্থিক প্রতারণা এড়ানো সম্ভব।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

নতুন শ্রমবাজার আপডেট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

October 23, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ:BDS Bulbul AHmed

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশের সময় ও তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন

স্থান: অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে এশিয়ার শীর্ষ চার অর্থনৈতিক পরাশক্তি—মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার নিয়ে একযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারগুলোর পাশাপাশি বিকল্প ও উচ্চ আয়ের গন্তব্য হিসেবে এই দেশগুলোর সাথে একের পর এক যুগান্তকারী চুক্তি ও সরকারি নীতিগত পরিবর্তন প্রবাসীদের জন্য দক্ষ ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী চার দেশের শ্রমবাজারের সুনির্দিষ্ট আপডেট নিচে তুলে ধরা হলো:

মালয়েশিয়া: উন্মুক্ত হলো শ্রমবাজার, ১০ হাজার কর্মী যাচ্ছেন শূন্য খরচে

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অফিশিয়ালি পুনরায় চালু হয়েছে।

  • সর্বশেষ আপডেট: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত (Enlisted) করেছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’ (BOESL) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • শূন্য অভিবাসন ব্যয় (Zero Cost): বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১০,০০০ বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ ‘শূন্য খরচে’ (Free of Cost) নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
  • পরিকল্পনা: আগামী ৬ মাসে ধাপে ধাপে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ২,০০,০০০ কর্মী নিয়োগের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। মূলত উৎপাদন, কনস্ট্রাকশন ও সেবা খাতে এই কর্মীরা কাজ পাবেন।

জাপান: ঐতিহাসিক চুক্তি, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে সরাসরি কর্মী নিয়োগ

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসী সুরক্ষায় জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি যুগান্তকারী মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন (MoC) সম্পাদন করেছে।

  • সর্বশেষ আপডেট: গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এ দুই দেশের মধ্যে ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (ESDP-MOC – Memorandum of Cooperation on Employment Skills Development) চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির প্রথম মেয়াদ ৫ বছর, যা পরবর্তীতে আরও ৫ বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে (মোট ১০ বছর)।
  • নিয়োগের সময়কাল: এই নতুন কাঠামোর অধীনে আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে জাপান।
  • সুযোগ ও অধিকার: চুক্তির শর্তানুযায়ী, জাপানে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় নাগরিকদের সমপরিমাণ আইনি সুরক্ষা, বেতন-ভাতা এবং নারী-পুরুষের সমান কর্মক্ষেত্রের অধিকার পাবেন। ৫ বছরে ১ লক্ষাধিক দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া: নির্মাণ ও মৌসুমি খাতে সুযোগ বৃদ্ধির জোর প্রচেষ্টা

ইপিএস (Employment Permit System) বা সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।

  • সর্বশেষ আপডেট: ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ (NESA) এবং ‘কন্সট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (CAK) এর সাথে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • নতুন কাজের ক্ষেত্র: প্রথাগত ম্যানুফ্যাকচারিং ও কৃষি খাতের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় নির্মাণশিল্প (Construction Sector) এবং স্বল্পমেয়াদি মৌসুমি কর্মসংস্থানে (Seasonal Jobs) বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের যুক্ত করার বিষয়ে কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
  • পূর্বশর্ত: কোরিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহারিক কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা (EPS-TOPIK) এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক।

৪. থাইল্যান্ড: কারিগরি ও ট্যুরিজম খাতে নতুন উইন্ডো

সাধারণত থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার সেভাবে পরিচিত না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারিভাবে এই বাজার উন্মোচনের বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

  • সর্বশেষ আপডেট: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে থাইল্যান্ডের সেবা খাত, বিশেষ করে ট্যুরিজম, হসপিটালিটি এবং নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চার দেশের শ্রমবাজারের তুলনামূলক চিত্র

দেশনিয়োগের মূল মাধ্যমপ্রধান চাহিদাসম্পন্ন খাতসমূহমূল যোগ্যতা/প্রয়োজনীয়তা
মালয়েশিয়া৩৩৮টি অনুমোদিত বেসরকারি ও সরকারি এজেন্সিউৎপাদন (Manufacturing), নির্মাণ ও প্ল্যান্টেশনমেডিকেল ফিটনেস এবং সাধারণ কাজের অভিজ্ঞতা
জাপাননতুন ESDP-MOC চুক্তির আওতাভুক্ত প্রক্রিয়াকেয়ারগিভিং, নির্মাণ, এভিয়েশন ও গার্মেন্টসজাপানি ভাষা দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কাজের টেকনিক্যাল জ্ঞান
দক্ষিণ কোরিয়াসরাসরি সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’ (BOESL)ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণশিল্প এবং কৃষিকোরীয় ভাষা (EPS-TOPIK) এবং পেশাভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ
থাইল্যান্ডজি-টু-জি (G2G) ও অনুমোদিত সরকারি কাঠামোহসপিটালিটি, সেবা শিল্প এবং টেকনিক্যাল কাজইংরেজি বা থাই ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে কেয়ারগিভার, নির্মাণকর্মী এবং আইটি প্রফেশনাল হিসেবে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম (সিস্টেম) অনুসরণ করতে হয়। নিচে প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং সঠিক সিস্টেমের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

কেয়ারগিভার (Caregiver) বা সেবামূলক পেশা

জাপানে বয়স্কদের সেবা করার জন্য বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর কেয়ারগিভার নেওয়া হচ্ছে।

  • প্রধান সিস্টেম: জাপানের ক্ষেত্রে এটি মূলত দুটি সিস্টেমে হয়—SSW (Specified Skilled Worker) এবং TITP (Technical Intern Training Program)। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL) মাঝে মাঝে বিশেষ সার্কুলার দেয়।
  • প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:
    • ভাষা দক্ষতা: জাপানি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা JLPT N4 অথবা JFT-Basic A2 পাস করতে হবে।
    • কারিগরি দক্ষতা: নার্সিং বা সেবামূলক কাজের ওপর Caregiving Skills Evaluation Test পাস করতে হবে (SSW-এর জন্য)।
  • আবেদন প্রক্রিয়া: ভাষা ও দক্ষতার সার্টিফিকেট অর্জনের পর জাপানের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি (যেমন বোয়েসেল বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত বৈধ এজেন্সি) এর মাধ্যমে জাপানি কোম্পানির সাথে ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা প্রসেস করতে হয়।

নির্মাণকর্মী (Construction Worker)

মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কনস্ট্রাকশন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের বিশাল চাহিদা রয়েছে।

  • প্রধান সিস্টেম:
    • দক্ষিণ কোরিয়া: সম্পূর্ণ সরকারি EPS (Employment Permit System) এর মাধ্যমে।
    • মালয়েশিয়া: সরকারের অনুমোদিত ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে (যার মধ্যে বোয়েসেলও অন্তর্ভুক্ত)।
  • প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:
    • দক্ষিণ কোরিয়া: কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা EPS-TOPIK পাস করতে হবে এবং নির্মাণকাজের বেসিক ট্রেনিং থাকতে হবে।
    • মালয়েশিয়া: শারীরিক সক্ষমতা, মেডিকেল ফিটনেস এবং বিএমইটি (BMET) ডাটাবেজে নাম নিবন্ধন থাকতে হবে।
  • আবেদন প্রক্রিয়া: কোরিয়ার জন্য বোয়েসেলের (BOESL) ওয়েবসাইটে যখন কনস্ট্রাকশন খাতের সার্কুলার দেবে, তখন আবেদন করে লটারি বা ভাষা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মালয়েশিয়ার জন্য অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বা সরকারি জিরো-কস্ট পুলে নাম নিবন্ধন করে অগ্রসর হতে হবে।

আইটি প্রফেশনাল (IT Professional / Engineer)

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আইটি খাতের চাকরিগুলো উচ্চ বেতনের এবং এটি সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক।

  • প্রধান সিস্টেম: এটি মূলত সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ (Direct Corporate Hiring) এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL)-এর বিশেষ টেকনিক্যাল রিক্রুটমেন্ট ড্রাইভের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
  • প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:
    • শিক্ষাগত যোগ্যতা: কম্পিউটার সায়েন্স (CSE), আইটি বা রিলেটেড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি।
    • দক্ষতা: সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি বা নেটওয়ার্কিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা।
    • ভাষা: জাপানের জন্য সাধারণত JLPT N3 বা N2 লেভেল খোঁজা হয়। তবে কিছু গ্লোবাল কোম্পানিতে শুধু ইংরেজি (TOEFL/IELTS) জানলেও সুযোগ মেলে।
  • আবেদন প্রক্রিয়া: বোয়েসেল প্রতি বছর জাপান ও কোরিয়ার আইটি কোম্পানির জন্য সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এছাড়া Daijob, Wantedly, LinkedIn-এর মতো আন্তর্জাতিক জব পোর্টাল ব্যবহার করে সরাসরি জাপানি বা কোরিয়ান কোম্পানিতে স্পন্সরশিপ ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।

তিনটি বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক ছক

পেশামূল গন্তব্য দেশপ্রধান মাধ্যম (System)ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব
কেয়ারগিভারজাপানSSW / TITP (সরকারি ও বৈধ প্রাইভেট এজেন্সি)খুবই উচ্চ (N4 বা সমমান আবশ্যক)
নির্মাণকর্মীদক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াEPS (কোরিয়া) / অনুমোদিত এজেন্সি (মালয়েশিয়া)মাঝারি থেকে উচ্চ (কোরিয়ার জন্য বাধ্যতামূলক)
আইটি প্রফেশনালজাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসরাসরি কোম্পানি ইন্টারভিউ / BOESL সার্কুলারমাঝারি (ইংরেজি বা বেসিক ভাষা জানলে অগ্রাধিকার)

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশে আইটি প্রফেশনাল (Software Engineer, Web Developer, Data Scientist, Cyber Security Expert ইত্যাদি) হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত চমৎকার এবং দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। এই খাতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে কোনো লটারি বা শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেই; সম্পূর্ণ মেধা ও কারিগরি দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ভিসা পাওয়া যায়।

একজন আইটি প্রফেশনাল হিসেবে বিদেশ যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রধানত ২টি অফিশিয়াল সিস্টেম অনুসরণ করতে হবে:

সরকারি মাধ্যম: বোয়েসেল (BOESL) আইটি রিক্রুটমেন্ট

বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান BOESL (Bangladesh Overseas Employment and Services Limited) প্রতি বছর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন নামী আইটি কোম্পানির সাথে যৌথভাবে “Direct Hiring Drive” বা সরাসরি নিয়োগ মেলার আয়োজন করে।

  • পদ্ধতি: বোয়েসেল তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (boesl.gov.bd) সার্কুলার দেয়। সেখানে দেওয়া লিংকে আপনার রিজিউমি/সিভি (Resume) জমা দিতে হয়।
  • বাছাই প্রক্রিয়া: কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রাথমিক সিভি শর্টলিস্ট করে সরাসরি বা অনলাইনের মাধ্যমে টেকনিক্যাল ইন্টারভিউ এবং কোডিং টেস্ট নেন।
  • সুবিধা: সরকারি মাধ্যমে হওয়ায় কোনো বাড়তি এজেন্সির খরচ বা প্রতারিত হওয়ার ভয় থাকে না। ভিসা প্রসেসিং খুব দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম: সরাসরি আন্তর্জাতিক জব পোর্টাল (Direct Hiring)

জাপান ও কোরিয়ার অনেক গ্লোবাল কোম্পানি এখন বিশ্বজুড়ে দক্ষ কর্মী খুঁজছে, যারা সরাসরি স্পন্সরশিপ ভিসা (যেমন জাপানের জন্য Engineer/Specialist in Humanities/International Services Visa) দিয়ে কর্মী নিয়ে যায়।

  • পদ্ধতি: আপনাকে আন্তর্জাতিক জব পোর্টালগুলোতে নিয়মিত চোখ রাখতে হবে এবং আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
  • সেরা কিছু প্ল্যাটফর্ম:
    • জাপানের জন্য: Daijob.com, Wantedly, TokyoDev, Japan Dev, এবং LinkedIn.
    • দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য: Seoul Startups, Wanted.co.kr, এবং LinkedIn.

সফলভাবে যাওয়ার জন্য ৩টি মূল প্রস্তুতি (Action Plan)

যদি আপনি ২০২৭ সালের মধ্যে একজন আইটি প্রফেশনাল হিসেবে বিদেশে যেতে চান, তবে আজ থেকেই এই ৩টি বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করুন:

  • ক. শক্তিশালী টেকনিক্যাল পোর্টফোলিও: আপনার GitHub প্রোফাইল অত্যন্ত চমৎকার হতে হবে। আপনি যে প্রযুক্তিতে (যেমন: Python, JavaScript, Java, DevOps, Multi-Cloud) দক্ষ, তার প্রাক্টিক্যাল প্রজেক্টগুলো পোর্টফোলিওতে প্রদর্শন করুন।
  • খ. গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড সিভি (Resume): জাপানি বা কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর জন্য সিভি হতে হবে এক বা সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার, যা হবে সম্পূর্ণ অ্যাকশন-অরিয়েন্টেড (আপনি কোন প্রজেক্টে কী ভূমিকা রেখেছেন এবং তার আউটপুট কী ছিল)।
  • গ. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা:
    • জাপান: কিছু কোম্পানি শুধু ইংরেজিতে কর্মী নিলেও, আপনি যদি JLPT N3 বা N2 লেভেলের জাপানি ভাষা শিখে রাখেন, তবে আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ৯০% বেড়ে যাবে এবং বেতনও অনেক বেশি হবে।
    • দক্ষিণ কোরিয়া: ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক, পাশাপাশি কোরিয়ান ভাষার বেসিক (TOPIK Level 2/3) জানা থাকলে ইন্টারভিউতে বিশাল অ্যাডভান্টেজ পাওয়া যায়।
  • আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ