শিল্পী
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
শ্বেতী রোগ (Vitiligo) এবং স্কেবিস (Scabies) ত্বক সংক্রান্ত দুটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেক সময় অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। আপনি যে সমস্যাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে, টিকা গ্রহণের পর থেকে ত্বকে কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে স্কেবিস এবং দাদ। এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। চলুন, বিস্তারিতভাবে জানি কীভাবে আপনি এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন।
স্কেবিস (Scabies) – কী এবং কিভাবে চিকিৎসা করবেন?
স্কেবিস এক ধরনের ত্বক সংক্রমণ যা সারের মাধ্যমে হয়। সাধারণত Sarcoptes scabiei নামে একটি ক্ষুদ্র প্যারাসাইট ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করে এবং চুলকানি সৃষ্টি করে। এটি বিশেষত এমন জায়গায় বেশি হয় যেখানে ত্বকের ঘর্ষণ হয়, যেমন হাঁটু, পেটের নিচে, বগল ও আঙ্গুলে।
স্কেবিসের চিকিৎসা:
- টপিক্যাল অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ক্রিম:
স্কেবিসের চিকিৎসার জন্য সাধারণত পাইমেক্রলিমাস বা কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহৃত হয়। এটি ত্বকের সংক্রমণ দূর করে এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। - অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট:
চুলকানির তীব্রতা কমানোর জন্য Cenik-Z বা VoriAid 200 ট্যাবলেট ব্যবহৃত হতে পারে। - নিয়মিত স্নান ও পরিচ্ছন্নতা:
ত্বককে পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে, যাতে মাইটস (Scabies Mites) পুনরায় সংক্রমণ না ঘটায়। - গরম পানি এবং তেল ব্যবহার:
রোগীর শরীরের অংশগুলো তেল দিয়ে ময়শ্চারাইজ করতে হবে এবং গরম পানিতে নিয়মিত স্নান করতে হবে। এতে ত্বক শিথিল হয়ে যাবে এবং চুলকানি কমবে।
দাদ (Fungal Infection) – চিকিৎসা এবং প্রতিকার
দাদ (Fungal Infection) হলো ত্বকের এক প্রকার সংক্রমণ যা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে হয়। এটি সাধারণত দেহের এমন জায়গায় দেখা যায় যেখানে ঘাম বেশি হয়, যেমন পেট, হাঁটু, এবং মুখের আশেপাশে।
দাদ থেকে মুক্তির উপায়:
- অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম:
দাদ থেকে মুক্তি পেতে মাইকোনাজল, কেটোকোনাজল, অথবা টার্বেনাফিন ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। - ওষুধ:
কিছু ক্ষেত্রে, চিকিৎসক অ্যান্টিফাঙ্গাল ট্যাবলেট যেমন Fluconazole বা Itraconazole প্রেসক্রাইব করতে পারেন। এটি ত্বকে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। - ভিটামিন সি ও বি সমৃদ্ধ খাবার:
দাদ এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন সি ও বি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ছোলা, বিট, কমলা, টমেটো ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে।
টিকা গ্রহণের পর ত্বকে সমস্যা: কীভাবে মোকাবেলা করবেন?
আপনি যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয়েছেন, বিশেষত টিকা গ্রহণের পর ত্বকে দাদ ও স্কেবিসের সমস্যা সৃষ্টি, তা সাধারণত শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। যেহেতু এটি একটি অস্থায়ী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে সঠিক চিকিৎসা ও মনোযোগী যত্ন গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
পরামর্শ:
- ঔষধ ব্যবহারের কোর্স শেষ করুন:
আপনি চিকিৎসা শুরু করলেও মাঝে মাঝে ঔষধ ব্যবহারের গ্যাপ দেওয়ার কারণে সমস্যা ফিরে আসে। তাই ঔষধের কোর্স শেষ করুন এবং ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ ব্যবহার করুন। - প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
- নিয়মিত ত্বক পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
- ত্বককে অতিরিক্ত গরম বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে রক্ষা করুন।
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
- মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রপার নিউট্রিশন এবং পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন।
- ঘামাচি বা স্কেবিসের জন্য ধূলাবালি এবং গরমে ত্বকে ঘাম বেশি হওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
যেহেতু এই রোগগুলো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং চিকিৎসা অনুযায়ী মাঝে মাঝে সমস্যা ফিরে আসে, তাই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (Dermatologist) এর কাছে নিয়মিত পরামর্শ নেয়া জরুরি। বিশেষত যদি আপনি একাধিক সমস্যা যেমন দাদ, স্কেবিস, এবং চুলকানির সম্মুখীন হন, তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আপনার ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারবেন।
সুত্র:
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): বিনোদন / বলিউড
প্রকাশের তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া, বলিউড সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট
বলিউডে অভিনেত্রীদের সাফল্য যেমন রঙিন ও জমকালো, তেমনই তাঁদের ক্যারিয়ারে বিতর্কের ছায়াও কম নয়। নব্বইয়ের দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য—বিভিন্ন যুগে একাধিক অভিনেত্রী তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।

মন্দাকিনী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড বিতর্কের কালো ছায়া
নব্বইয়ের দশকে বলিউড এবং মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যকার অন্ধকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হলো ‘মন্দাকিনী-দাউদ ইব্রাহিম বিতর্ক’। ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের কালজয়ী সিনেমা ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি‘ দিয়ে রাতারাতি আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনেত্রী মন্দাকিনীর ক্যারিয়ার এই একটি বিতর্কের কালো ছায়ায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
এই হাই-প্রোফাইল বিতর্কের মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার নির্মম পরিণতি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শারজার সেই একটি ছবি ও তোলপাড় (১৯৯৪-৯৫)
এই চর্চিত বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন। স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসা আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ও ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের ঠিক পাশে বসা মন্দাকিনীর একটি ছবি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
- এই একটি ছবি রাতারাতি ভারতের গণমাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
- চারিদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, দুবাইয়ের রাজকীয় বাংলোয় মন্দাকিনী ও দাউদ একসাথে থাকছেন এবং ডনের ক্ষমতার জোরেই তিনি বলিউডে কাজ পাচ্ছেন। এমনকি তাদের সন্তান হওয়ার গুজবও রটেছিল।
২. আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়ায় ক্যারিয়ারের পতন
ছবিটি ফাঁসের পর বলিউডের সমীকরণ মন্দাকিনীর জন্য পুরোপুরি বদলে যায়।
- প্রযোজক-পরিচালকদের অনাগ্রহ: আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং পুলিশের ঝামেলার ভয়ে প্রথম সারির বড় প্রযোজক ও পরিচালকেরা মন্দাকিনীকে সিনেমায় কাস্ট করা বন্ধ করে দেন।
- সহ-অভিনেতাদের আতঙ্ক: গুঞ্জন ছিল যে, মন্দাকিনীকে সিনেমায় প্রধান চরিত্র না দেওয়ায় দাউদ ইব্রাহিম এক চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হুমকি ও হত্যার ছক কষেছিলেন। এমন এক ভীতি তৈরি হয়েছিল যে, সহ-অভিনেতারাও (যেমন মিঠুন চক্রবর্তী) তাঁর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে ভয় পাচ্ছিলেন।
- ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জোরদার‘ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা, যার পর তিনি রূপালী পর্দা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান।
৩. ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ ও চূড়ান্ত বিচ্ছেদ
১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের মূল মাস্টারমাইন্ড বা সন্দেহভাজন হিসেবে দাউদ ইব্রাহিমের নাম আসার পর এই বিতর্ক আইনি ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে রূপ নেয়। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (সিবিআই) আন্ডারওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেনের খোঁজে মন্দাকিনীকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক তথ্য বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে সামাজিক ও পেশাগতভাবে তাঁর চারপাশের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
৪. মন্দাকিনীর আত্মপক্ষ সমর্থন ও নতুন জীবন
মন্দাকিনী সবসময়ই দাউদের সাথে কোনো রোমান্টিক বা অবৈধ সম্পর্কের কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করে এসেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:
“শুধুমাত্র সামাজিক অনুষ্ঠানেই দাউদের সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং সম্পর্কের দাবিগুলি ভিত্তিহীন। আমি চাই না মানুষ দাউদের সঙ্গে আমার নাম জড়াক।” —
বলিউডের এই কালো অধ্যায় এবং গ্ল্যামারের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালে মন্দাকিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন বেছে নেন। তিনি একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও চিকিৎসক ড. কাগয়ুর রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে তিব্বতি ভেষজ চিকিৎসা কেন্দ্র ও যোগব্যায়াম শিক্ষার মাধ্যমে একটি শান্ত ও সাধারণ জীবন অতিবাহিত করছেন।
আধুনিক বলিউডে শীর্ষ সমালোচিত অভিনেত্রীদের তালিকা

আধুনিক বলিউডে (বিশেষ করে গত এক দশকের প্রেক্ষাপটে) তীব্র সমালোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ট্রোলের মুখোমুখি হওয়া শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকা নিচে তাদের সমালোচিত হওয়ার মূল কারণসহ উল্লেখ করা হলো:
- কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut):
- মূল কারণ: তিনি আধুনিক বলিউডের সবচেয়ে বিতর্কিত অভিনেত্রী। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে “মুভি মাফিয়া” আখ্যা দেওয়া, করণ জোহরকে “স্বজনপোষণের পতাকাবাহী” বলা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক মন্তব্য করার কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন।
- আলিয়া ভাট (Alia Bhatt):
- মূল কারণ: তারকা সন্তান (মহেশ ভাটের মেয়ে) হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি “নেপো কিড” বা স্বজনপোষণের (Nepotism) সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে সমালোচিত হয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর পর এই সমালোচনা তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়, যার ফলে তাঁর ‘সড়ক ২’ সিনেমার ট্রেলারটি ইউটিউবে অন্যতম সর্বোচ্চ ‘ডিজলাইক’ পাওয়া ভিডিওর রেকর্ড গড়ে।
- দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone):
- মূল কারণ: বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু ও পোশাক বিতর্কের কারণে তিনি বারবার বয়কট সংস্কৃতির মুখে পড়েছেন। ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় ঐতিহাসিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা নিয়ে রাজপুত গোষ্ঠীর মৃত্যুর হুমকি এবং ‘পাঠান’ সিনেমার ‘বেশরম রং’ গানে গেরুয়া রঙের পোশাক পরা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভের মুখোমুখি হন তিনি।
- কারিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor Khan):
- মূল কারণ: সাইফ আলী খানকে বিয়ে করার পর তাঁর দুই সন্তানের নাম (তৈমুর ও জাহাঙ্গীর) রাখা নিয়ে তীব্র সামাজিক ও ধর্মীয় ট্রোলিংয়ের শিকার হন। এছাড়া রামায়ণের ‘সীতা’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক দাবি করার গুঞ্জন ছড়ালে নেটিজেনরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করে।
- সানি লিওন (Sunny Leone):
- মূল কারণ: প্রাক্তন পর্ন তারকা হওয়ার অতীত পটভূমির কারণে বলিউডে মূলধারার অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে রক্ষণশীল সমাজ ও দৃষ্টিভঙ্গিগত তীব্র কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে (যেমন ‘মধুবন’ গান) পারফর্ম করার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার বয়কটের ডাক দেওয়া হয়।
- অনন্যা পাণ্ডে ও জাহ্নবী কাপুর (Ananya Panday & Janhvi Kapoor):
- মূল কারণ: এই নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা প্রধানত তাঁদের অভিনয় দক্ষতার ঘাটতি এবং “স্ট্রাগল” সংক্রান্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য করার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রোলিং ও স্বজনপোষণ বিতর্কের মুখোমুখি হন।
সমাপনী মূল্যায়ন
অতীত ও বর্তমানের বিতর্কের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অতীতে মন্দাকিনীর ঘটনা ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড ও ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আজও আলোচনায় আসে। অন্যদিকে বর্তমান যুগে কঙ্গনা, আলিয়া বা দীপিকাদের মুখোমুখি হতে হয় সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং, স্বজনপোষণ বিতর্ক ও সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাক
“বিদ্রোহী” কিংবা “সাম্যবাদী” পরিচয়ের বাইরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এতটাই বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় যে, সাধারণ কোনো ফ্রেমে তাঁকে বন্দি করা অসম্ভব। আমরা তাঁকে চিনি আমাদের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে, অনুধাবন করি তাঁর অগ্নিঝরা কবিতার শক্তি। কিন্তু পর্দার নেপথ্যে নারদমুনির বেশে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়, ফুটবল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে উল্লাস কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একদিনের নীরব মৌনব্রতের কথা কজনই বা জানেন?
ইতিহাসের পাতা ও নজরুল গবেষকদের অনুসন্ধানে বিদ্রোহী কবির জীবনের এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা সাধারণ পাঠকের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে।
১. আইনি জটিলতার অবসান: এখন তিনি দাপ্তরিকভাবেও ‘জাতীয় কবি’
দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে গণমানুষের হৃদয়ে ও পাঠ্যপুস্তকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট ছিল না। অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
উক্ত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের ২৪ মে (কবির সপরিবারে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনের দিন) থেকেই এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাটি ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নজরুলের জাতীয় কবির খেতাব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাপ্তরিক অস্পষ্টতার চিরসংগ্রাম শেষ হয়।
২. রূপালি পর্দায় অল-রাউন্ডার নজরুল: পরিচালক, অভিনেতা ও ‘সুর ভাণ্ডারি’

১৯৩১ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কলকাতার চলচ্চিত্রে নজরুল একাধারে সফল অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন:
[ নজরুল: টকি সিনেমার স্বর্ণযুগ (১৯৩১-১৯৪২) ]
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ অভিনয় ] [ পরিচালনা ] [ সংগীত ]
• 'ধ্রুব' (১৯৩৪): নারদ চরিত্র • সত্যেন্দ্রনাথের সাথে যৌথভাবে • 'জামাই ষষ্ঠী'-তে সুর ভাণ্ডারি
• 'পাতালপুরী': খনি শ্রমিক 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র পরিচালনা • 'গোরা', 'বিদ্যাপতি', 'সাপুড়ে'
• 'হাল বাংলা': রসাত্মক চরিত্র • 'বেঙ্গল টাইগার পিকচার্স'-এর প্রধান ছবিতে বিখ্যাত কালজয়ী সুর
- দেবর্ষি নারদ চরিত্রে আত্মপ্রকাশ: ১৯৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল স্বয়ং ‘নারদ’ চরিত্রে অভিনয় করেন। কেবল অভিনয়ই নয়, এই ছবির ১৮টির মধ্যে ১৭টি গান তাঁর লেখা ছিল এবং তিনি নিজে ৪টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
- সুর ভাণ্ডারি: ১৯৩১ সালে নির্মিত প্রথম বাংলা সবাক ছবি ‘জামাই ষষ্ঠী’-তে সুরকার ও গায়কদের উচ্চারণ শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে সেসময় চলচ্চিত্র পাড়ায় ‘সুর ভাণ্ডারি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘গোরা’ (১৯৩৮) সিনেমার সংগীতেও তাঁর সুরের জাদুকরী ছোঁয়া ছিল।
৩. লাল-হলুদ ব্রিগেডের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক
আজকের ফুটবল উন্মাদনার বহু আগেই কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’-এর অন্ধ ভক্ত। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি ১৯৩৪ সালে ইস্টবেঙ্গল দল যখন আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ওঠে, তখন প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি একটি উদ্দীপনামূলক গানও রচনা করেছিলেন।
৪. সুস্থ অবস্থাতেও বৃহস্পতিবারের ‘মৌনব্রত’
জীবনের শেষ ৩৪টি বছর নজরুল ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick’s Disease) নামের স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক কাটিয়েছেন। তবে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী ও কবি পরিবারের স্মৃতি থেকে জানা যায়—নজরুল যখন শতভাগ সুস্থ ও চঞ্চল ছিলেন, তখনও তিনি আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) সম্পূর্ণ নীরব বা মৌনব্রত পালন করতেন। এই দিনটিতে তিনি কারো সাথে কথা বলতেন না।
৫. আসানসোলের রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের স্কুল

আমাদের জাতীয় কবির প্রতিভা বিকাশের নেপথ্যে অন্যতম অবদান ছিল এক পুলিশ অফিসারের। আসানসোলের রুটির দোকানে কাজ করা কিশোর নজরুলের অসাধারণ মেধা লক্ষ্য করে দারোগা কাজী রফিজ উদ্দিন তাঁকে নিজ দায়িত্বে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে ১৯১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নজরুল ‘৪৯তম বাঙালি ব্যাটালিয়ন’-এর সৈনিক হিসেবে করাচি সেনানিবাসে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে ‘হাবিলেদার’ পদে উন্নীত হন।
৬. রবীন্দ্রনাথের সেই ঐতিহাসিক অনশন ভাঙার বার্তা
১৯২৩ সালে রাজনৈতিক কারণে হুগলি জেলে বন্দী থাকাকালীন ব্রিটিশদের অন্যায়ের প্রতিবাদে নজরুল টানা ৩৯ দিন আমরণ অনশন করেন। কবির সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন:
“GIVE UP HUNGER STRIKE. OUR LITERATURE CLAIMS YOU.”
ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ চরম হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়ে টেলিগ্রামটির গায়ে “Addressee not found” লিখে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে মাতৃসম বিরজাসুন্দরী দেবী জেলে গিয়ে লেবুর রস খাইয়ে কবির অনশন ভাঙান।
৭. অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক
১৯২৮ সালে রচিত তাঁর ‘চল চল চল’ গানটি স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর অফিশিয়াল রণসঙ্গীত (National Marching Song) হিসেবে সংরক্ষিত। তিনি একদিকে যেমন লিখেছিলেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে’, তেমনি অন্য হাতে সৃষ্টি করেছিলেন ৫০০-র বেশি কালজয়ী ‘শ্যামাসঙ্গীত’ ও ভজন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালন করতেই তিনি নিজের সন্তানদের নাম রেখেছিলেন দুই ধর্মের সংস্কৃতির সমন্বয়ে—’কাজী কৃষ্ণ মোহাম্মদ’ এবং ‘কাজী অনিরুদ্ধ’।
সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
- সরকারি প্রজ্ঞাপন দাপ্তরিক কপি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট (২৪ ডিসেম্বর ২০২৪)।
- জাতীয় আর্কাইভ ও নজরুল ইনস্টিটিউট: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য কর্মসংকলন।
- চলচ্চিত্র ইতিহাস গ্রন্থ: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিবৃত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম (বাংলা একাডেমি প্রকাশনা)।
- স্মৃতিগ্রন্থ: মোস্তফা জামান আব্বাসী লিখিত নজরুলের স্মৃতিকথা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আমাদের সমাজে যুগ যুগ ধরে একটা গৎবাঁধা ধারণা প্রচলিত আছে— “আগে পড়ালেখা শেষ করো, ভালো সার্টিফিকেট নাও, তারপর ভালো চাকরি পাবে।” কিন্তু বর্তমান যুগের বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলুন সাবিলা নূর এবং সাকিব আল হাসানের মতো সফল ব্যক্তিত্বদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক:
সাবিলা নূর (Sabila Nur): সাবিলা নূর তাঁর অভিনয় প্রতিভাকে আঁকড়ে না ধরে কেবল গতানুগতিক পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হয়তো সাধারণ দশজনের মতো একটি চাকরি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। তবে তিনি তাঁর প্যাশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং পাশাপাশি পড়াশোনাতেও নিজেকে অনন্য প্রমাণ করেছেন।

সাবিলা নূরের শিক্ষাজীবন ও অন্যান্য অর্জন:
অনন্য ফলাফল: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
গৌরবোজ্জ্বল সিজিপিএ: তিনি সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে অবিশ্বাস্য ৩.৯৭ পয়েন্ট অর্জন করেছেন।
স্বীকৃতি: পড়াশোনায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘ড. আনোয়ারুল আবেদিন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।
সামঞ্জস্য রক্ষা: তিনি শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করে পড়াশোনা ও অভিনয়—দুটোতেই অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
তাঁর এই জীবন থেকে এটি স্পষ্ট যে, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভালো লাগা বা প্যাশনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে জীবনের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলা সম্ভব।
সাবিলা নূরের ক্যারিয়ারের এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা এবং তাঁর অভিনয়ের দক্ষতার পেছনের গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে:
সাকিব আল হাসান (Sakib Al-Hasan): সাকিব আল হাসান যদি ক্রিকেটের চেয়ে শুধু গতানুগতিক পড়াশোনাকে প্রাধান্য দিতেন, তবে বাংলাদেশ আজ একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে পেত না। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর একাগ্রতাই তাঁকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

সাকিব আল হাসানের শিক্ষাজীবন ও সাফল্যের কিছু মূল দিক:
দীর্ঘ ১৪ বছরের লড়াই: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তীব্র ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা পুরোপুরি ছেড়ে দেননি এবং দীর্ঘ ১৪ বছর পর বিবিএ (BBA) সম্পন্ন করেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB): এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি তাঁর গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন।
সমাবর্তনে অংশ গ্রহণ: ২০২৩ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম সমাবর্তনে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।
ক্যারিয়ার ও স্কিলের ভারসাম্য: খেলার মাঠে শতভাগ মনোযোগ ধরে রেখেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সদিচ্ছা থাকলে দুই ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
সাকিবের এই যাত্রা তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা—নিজের মূল প্রতিভা বা স্কিলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েও কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য পূরণ করা যায়।
এই দুটি উদাহরণ প্রমাণ করে যে, টাকা বা ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বেছে নেওয়া বর্তমান যুগে একটি ভুল ইনভেস্টমেন্ট (Bad Investment)। কারণ, বর্তমান গ্লোবাল মার্কেট চলে স্কিল বা দক্ষতার ওপর, কোনো কাগজের সার্টিফিকেটের ওপর নয়।
পড়ালেখা কি তবে প্রয়োজন নেই?
পড়াশোনা অবশ্যই প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। সাবিলা নূর বা সাকিব আল হাসানের উদাহরণ এটি প্রমাণ করে না যে পড়ালেখা অপ্রয়োজনীয়, বরং এটি দেখায় যে পড়াশোনা ও মেধার সঠিক সমন্বয় কীভাবে মানুষকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যায়।

পড়াশোনা কেন প্রয়োজন এবং এটি কীভাবে আমাদের সাহায্য করে, তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনার বিকাশ
- পড়াশোনা মানুষের জ্ঞান ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করে।
- এটি সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়।
- যেকোনো পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক সক্ষমতা তৈরি করে।
২. সংকটে ব্যাকআপ বা বিকল্প পথ
- মানুষের ক্যারিয়ারে যেকোনো সময় চোট, দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় আসতে পারে।
- এমন পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একটি শক্তিশালী বিকল্প বা ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।
- সাকিব বা সাবিলা উভয়েই কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এই দূরদর্শিতা থেকেই।
৩. সামাজিক মর্যাদা ও নেটওয়ার্কিং
- উচ্চশিক্ষা সমাজে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
- বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন মানুষকে বিভিন্ন গুণী মানুষের সাথে পরিচিত হতে এবং বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সাহায্য করে।
৪. মেধা ও প্রতিভাকে শাণিত করা
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে আরও সুশৃঙ্খল ও পেশাদার রূপ দিতে সাহায্য করে।
- যেমন, সাবিলা নূরের ইংরেজি সাহিত্যের পড়াশোনা তাঁর চরিত্রের গভীরতা বুঝতে এবং অভিনয়ে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, পড়ালেখা হলো একটি শক্তিশালী ভিত্তি। শুধু পড়ালেখা করে জবের পেছনে না ছুটে, শিক্ষার আলো বুকে নিয়ে নিজের ভেতরের বিশেষ প্রতিভা বা স্কিলকে (যেমন: খেলাধুলা, অভিনয়, ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যবসা) জাগিয়ে তোলাই হলো আসল সফলতা।
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের করণীয়: পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা বা স্কিল অর্জন করা। শুধু সনাতন সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করে এখনকার প্রতিযোগিতামূলক জব মার্কেটে টিকে থাকা কঠিন।

পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনে বর্তমান যুগে একজন শিক্ষার্থীর করণীয় পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ডিমান্ডিং টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতা অর্জন
- যেকোনো একটি বিষয় বেছে নেওয়া: নিজের আগ্রহ অনুযায়ী গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিটিক্স বা কন্টেন্ট রাইটিং শিখুন।
- অনলাইন রিসোর্সের ব্যবহার: ইউটিউব, কোর্সেরা, উডেমি বা বিভিন্ন দেশীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে ফ্রি বা পেইড কোর্স করে নিজেকে দক্ষ করুন।
- এআই (AI) টুলের ব্যবহার: চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নির মতো আধুনিক এআই টুলগুলো কীভাবে নিজের কাজে ব্যবহার করতে হয় তা শিখুন। []
২. একাডেমিক পড়াশোনায় ভারসাম্য বজায় রাখা
- সিজিপিএ ঠিক রাখা: পড়াশোনা একদম ছেড়ে দেওয়া যাবে না; অন্তত একটি স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ (যেমন ৩.০০+) বজায় রাখুন।
- সময় ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিনের রুটিনে পড়াশোনা এবং স্কিল চর্চার জন্য নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে নিন।
৩. প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ দক্ষতা
- লিঙ্কডইন (LinkedIn) প্রোফাইল: ছাত্রাবস্থাতেই একটি প্রফেশনাল লিঙ্কডইন প্রোফাইল খুলুন এবং নিজের কাজের স্যাম্পল সেখানে শেয়ার করুন।
- যোগাযোগের ভাষা: বাংলা লেখার পাশাপাশি ইংরেজিতে কথা বলা এবং লেখার দক্ষতা (Communication Skill) দারুণভাবে বাড়াতে হবে।
৪. ফ্রিল্যান্সিং বা পার্ট-টাইম জব
- মার্কেটপ্লেসে কাজ: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আপওয়ার্ক (Upwork) বা ফাইভারের (Fiverr) মতো প্ল্যাটফর্মে ছোটখাটো কাজ বা ইন্টার্নশিপ করার চেষ্টা করুন।
- বাস্তব অভিজ্ঞতা: এটি পড়াশোনা শেষ করার আগেই আপনাকে কর্পোরেট বা কাজের দুনিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেবে।
৫. মেন্টর এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব: বিতর্ক ক্লাব, বিজনেস ক্লাব বা আইটি ক্লাবের সাথে যুক্ত হোন। এটি লিডারশিপ স্কিল বাড়ায়।
- মেন্টর খোঁজা: নিজের সেক্টরের অভিজ্ঞ বড় ভাই বা বিশেষজ্ঞদের অনুসরণ করুন এবং তাঁদের থেকে পরামর্শ নিন।
পড়াশোনা আপনাকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেবে, আর আপনার বাড়তি স্কিল বা দক্ষতা আপনাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
এক নজরে সার্টিফিকেট বনাম প্রাকটিক্যাল স্কিল ম্যাট্রিক্স

সার্টিফিকেট এবং প্রাকটিক্যাল স্কিল (ব্যবহারিক দক্ষতা)—দুটোরই ক্যারিয়ারে নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। নিচে একটি তুলনামূলক ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমে এক নজরে এদের পার্থক্য ও গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
| পরিমাপক (Criteria) | প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট (Degree/Certificate) | প্রাকটিক্যাল স্কিল (Practical Skill) |
|---|---|---|
| মূল সংজ্ঞা | প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পরীক্ষা পাসের প্রমাণপত্র। | বাস্তবে কোনো কাজ নিখুঁতভাবে করার যোগ্যতা। |
| ভূমিকা | চাকরির ইন্টারভিউয়ের দরজা খোলার চাবিকাঠি। | চাকরিতে টিকে থাকা এবং প্রমোশন পাওয়ার মূল হাতিয়ার। |
| অর্জনের মাধ্যম | স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় (দীর্ঘমেয়াদি)। | কোর্স, ইন্টার্নশিপ, ফ্রিল্যান্সিং ও বাস্তব কাজ (স্বল্পমেয়াদি)। |
| মূল্যায়ন পদ্ধতি | সিজিপিএ (CGPA), গ্রেড এবং পরীক্ষার নম্বর। | পোর্টফোলিও, কাজের স্যাম্পল এবং লাইভ ডেমো। |
| স্থায়িত্ব | একবার অর্জন করলে আজীবন অপরিবর্তিত থাকে। | প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হয়। |
| কর্পোরেট ভ্যালু | এন্ট্রি-লেভেল বা ফ্রেশার হিসেবে চাকরিতে ঢোকার সুযোগ বাড়ায়। | দ্রুত ক্যারিয়ার গ্রোথ এবং উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা দেয়। |
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত (The Verdict)
- সার্টিফিকেট হলো আপনার যোগ্যতার প্রাথমিক পরিচয়পত্র, যা আপনাকে লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।
- প্রাকটিক্যাল স্কিল হলো আপনার আসল শক্তি, যা আপনাকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী করে।
বর্তমান যুগের সেরা ফর্মুলা হলো: সার্টিফিকেটের শক্ত ভিত্তি + প্রাকটিক্যাল স্কিলের ধারালো অস্ত্র।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও (SEO) ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ২৫০টিরও বেশি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোতে আমি একটা বিষয় খুব স্পষ্ট দেখেছি— অনেক মাস্টার্স পাস করা তরুণ ২০-৩০ হাজার টাকার একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন, আবার ১৮-২০ বছরের একজন কলেজ পড়ুয়া তরুণ শুধুমাত্র ভালো এসইও বা আইটি স্কিল থাকার কারণে ঘরে বসেই প্রতি মাসে সম্মানজনক অংকের টাকা আয় করছেন। তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। পড়াশোনা অবশ্যই করবেন নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য, কিন্তু ক্যারিয়ার বা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ছাত্রজীবন থেকেই নিজের কোনো একটি দক্ষতাকে (Skill) প্রফেশনাল লেভেলে নিয়ে যেতে হবে।
অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed
সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট ও টিম লিডার
ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ



