অপরাধ

এরশাদ শিকদার: বাংলাদেশের ইতিহাসের কুখ্যাততম সিরিয়াল কিলারের উত্থান-পতন
এরশাদ শিকদারের দেহরক্ষী নূরে আলম কেন রাজসাক্ষী হয়েছিলেন

নিউজ ডেস্ক

September 14, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): অপরাধ ও আইন-আদালত
প্রকাশের তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): বিবিসি বাংলা, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, বিডিনিউজ২৪, সমকাল, ইত্তেফাক, উইকিপিডিয়া, আদালতের রায়সংক্রান্ত প্রতিবেদন


খুলনা: বাংলাদেশের অপরাধ ইতিহাসে যে নামটি আজও আতঙ্কের প্রতীক হয়ে আছে, তা হলো এরশাদ শিকদার। নব্বইয়ের দশকে খুলনা অঞ্চলে একচ্ছত্র সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এই ব্যক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতার সুরক্ষায় বছরের পর বছর আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২০০৪ সালের ১০ মে মধ্যরাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সাধারণ কুলি থেকে সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যের অধিপতি

ঝালকাঠি জেলায় জন্ম নেওয়া এরশাদ শিকদার ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে খুলনায় চলে আসেন এবং খুলনা ডকইয়ার্ডে সাধারণ কুলি হিসেবে জীবন শুরু করেন। ঘাট এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ধীরে ধীরে তিনি কুলি সর্দার হয়ে ওঠেন এবং এরপর পুরো ঘাটের চাঁদাবাজি ও অপরাধ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার বিস্তার

এরশাদ শিকদারের উত্থানের অন্যতম বড় কারণ ছিল তাঁর রাজনৈতিক অভিযোজন ক্ষমতা। জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ — যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তিনি সেই দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন। এমনকি তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবেও নির্বাচিত হন — যা তাঁকে দীর্ঘদিন আইনি জবাবদিহিতার বাইরে রাখতে সহায়তা করে।

নৃশংস অপরাধের বিবরণ

তাঁর বিরুদ্ধে ২৪ থেকে ৬০ জনের মতো মানুষ হত্যার অভিযোগ ছিল। তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী নূরে আলম পরবর্তীতে রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে যে জবানবন্দি দেন, তাতে উঠে আসে ভয়াবহ নৃশংসতার বিবরণ। উল্লেখ্য, তাঁর বাসভবন ‘স্বর্ণকমল’ নিয়ে জনশ্রুতিতে নির্যাতন-কক্ষ বা গোপন বাঙ্কারের কথা প্রচলিত থাকলেও এসব দাবি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায়ে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি — তাই এগুলোকে লোকমুখে প্রচলিত জনশ্রুতি হিসেবেই বিবেচনা করা সমীচীন।

গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া

১৯৯৯ সালে যুবলীগ নেতা খালিদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর এরশাদ শিকদারের ওপর থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়া সরে যায় এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়। রাজসাক্ষী নূরে আলমের জবানবন্দি প্রসিকিউশনের মামলা জেতার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখে।

নিম্ন আদালত মোট ৭টি হত্যা মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪টি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খালিদ হোসেন হত্যা মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর ২০০৪ সালের ১০ মে মধ্যরাতে খুলনা জেলা কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

‘স্বর্ণকমল’: আতঙ্কের প্রতীক থেকে ধ্বংসস্তূপে

খুলনার সোনাডাঙ্গায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বিলাসবহুল বাসভবন ‘স্বর্ণকমল’ দীর্ঘদিন ধরে এরশাদ শিকদারের নিষ্ঠুরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। ফাঁসির পর থেকেই কৌতূহলী মানুষ দেশ-বিদেশ থেকে বাড়িটি দেখতে আসতেন, আর ফাঁসির কিছুদিন পরই উৎসুক জনতা বাড়ির নামফলক খুলে ফেলে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এরশাদ শিকদারের সন্তানেরা (জামাল, কামাল ও হেলাল শিকদার) নিজেরাই বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করেন এবং ভাঙা জমিতে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেন। এর মধ্য দিয়ে খুলনার অন্যতম কুখ্যাত এক স্থাপনার অস্তিত্ব কার্যত মুছে যায়।

বিচারব্যবস্থার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত

এরশাদ শিকদারের বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় — এটি প্রমাণ করে যে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী অপরাধীও শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে, যদিও এ ধরনের বিচার প্রায়ই দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

রাজসাক্ষী নূরে আলমের জবানবন্দি ও এরশাদ শিকদারের মামলার ওপর এর বিচারিক প্রভাব

খুলনার কুখ্যাত অপরাধী ও ধারাবাহিক খুনি এরশাদ শিকদারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ বিচারিক প্রমাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আইনি অস্ত্র ছিল তার অন্যতম সহযোগী ও ব্যক্তিগত দেহরক্ষী নূরে আলমের ‘রাজসাক্ষী’ (State Witness) হওয়া। এরশাদ শিকদারের গুম, খুন ও ত্রাসের রাজত্ব প্রমাণের আড়ালে থাকা সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি মেটাতে নূরে আলমের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

১. নূরে আলম কেন এবং কীভাবে ‘রাজসাক্ষী’ হলেন?

নূরে আলম দীর্ঘদিন এরশাদ শিকদারের বডিগার্ড ও গানম্যান হিসেবে কাজ করেছিলেন। ফলে এরশাদ শিকদারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, লাশ গুম করার কৌশল ও গোপন আস্তানার প্রতিটি গোপন তথ্য নূরে আলমের জানা ছিল।

  • আইনি সুযোগ (Section 337 CrPC): ১৯৯৯ সালে এরশাদ শিকদার গ্রেপ্তার হওয়ার পর নূরে আলমও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। মামলার তদন্ত এবং প্রমাণের জটিলতায় সাক্ষীদের জীবননাশের ভয় থাকার দরুন রাষ্ট্রপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ধারা অনুযায়ী নূরে আলমকে ‘রাজসাক্ষী’ করার প্রস্তাব দেয়।
  • শর্তাধীন ক্ষমা (Pardon): নূরে আলম আদালতে শর্ত দেন যে তিনি সত্য ঘটনা প্রকাশ করবেন, যার বিনিময়ে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে মামলাগুলো থেকে শর্তসাপেক্ষ দায়মুক্তি এবং নিরাপত্তা প্রদান করবে।

২. জবানবন্দির মূল বিষয়বস্তু ও চাঞ্চল্যকর প্রকাশ

আদালতে দেওয়া নূরে আলমের সাক্ষ্য কেবল একটি সাধারণ ঘটনাপ্রবাহ ছিল না; এটি ছিল প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের গাণিতিক বিশ্লেষণ ও বর্ণনা। তিনি একের পর এক নৃশংসতার রূপরেখা তুলে ধরেন:

  • ২৪টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য ও লাশ গুমের কৌশল: নূরে আলম আদালতে দাঁড়িয়ে সরাসরি জানান যে কীভাবে অন্তত ২৪টি হত্যাকাণ্ডে তিনি প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত ছিলেন বা তথ্য জানতেন।
  • ভয়াবহ বরফকল ও নদীর ব্যবহার: কীভাবে মানুষকে পিটিয়ে বা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বরফকলে লাশ সংরক্ষণ কিংবা কেটে বস্তাবন্দি করে রূপসা নদীতে ফেলে দেওয়া হতো, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন নূরে আলম।
  • ‘স্বর্ণকমল’-এর নির্যাতন সেল: এরশাদ শিকদারের গোপন ডেরা ‘স্বর্ণকমল’ প্রাসাদ কীভাবে একটি নিরবচ্ছিন্ন নির্যাতন কক্ষে রূপ নিত, তা বিচারকের সামনে তুলে ধরেন নূরে আলম।

৩. ফাঁসির রায়ে নূরে আলমের জবানবন্দির সরাসরি প্রভাব

সাধারণত শক্তিশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। কিন্তু নূরে আলমের জবানবন্দি প্রসিকিউশনের কেস সম্পূর্ণ মজবুত করে তুলেছিল:

আইনি ক্ষেত্রসাধারণ সাক্ষীর সীমাবদ্ধতানূরে আলমের রাজসাক্ষ্যের ভূমিকা ও প্রভাব
সাক্ষ্যের ধরনপারিপার্শ্বিক বা অনুমানভিত্তিক সাক্ষ্য।আইউইটনেস (Eye-witness): অপরাধের ঘটনা ও স্থানে উপস্থিত থেকে দেওয়া প্রত্যক্ষ বিবরণ।
আলামত উদ্ধারলাশ বা হত্যার অস্ত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল।নূরে আলমের দেখানো জায়গা ও জবানবন্দির ভিত্তিতেই গোপন স্থান থেকে আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়।
খালিদ হত্যা মামলারাজনৈতিক চাপের কারণে প্রমাণ লোপাটের ঝুঁকি।খালিদ হত্যায় এরশাদ শিকদারের সরাসরি অংশগ্রহণের তথ্য প্রমাণ করে চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে।

৪. বিচারিক পরিণতি ও আইনগত প্রভাব

নূরে আলমের রাজসাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত প্রসিকিউশন পক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে এরশাদ শিকদার একজন অভ্যস্ত খুনি।

যদিও পরবর্তীতে আইনগত সুবিধা পাওয়ার কারণে নূরে আলম অপরাধের সরাসরি শাস্তি থেকে মুক্ত হন, তবুও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো সুসংগঠিত গ্যাংস্টার ও প্রভাবশালী অপরাধীর অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে ‘রাজসাক্ষী’ ব্যবস্থা যে কতটা কার্যকর—বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে নূরে আলমের এ ঘটনাটি একটি ক্লাসিক নজির হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপসংহার

সাধারণ কুলি থেকে সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়ে ওঠা, এরপর ফাঁসিকাষ্ঠে জীবনাবসান — এরশাদ শিকদারের কাহিনি বাংলাদেশে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধচক্রের একটি সতর্কবার্তা হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর বাসভবনের ধ্বংসপ্রাপ্তি প্রতীকীভাবে হলেও একটি নৃশংস অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আধুনিক ও জটিল সমাজে মানসিক শান্তি ও সঠিক পথের সন্ধানে নবী-রাসূলদের আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। জেনে নিন নবী রাসূলদের জীবনী থেকে শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ। 

বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। 

১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)। 

আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি। 

২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া। 

৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে। 


নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সংবিধান দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা। 

আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়। 

পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। 

২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 

কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে। 

৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। 

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়। 

৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।” 

এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ। 


একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আজকের ডলার রেট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা। 

বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো: 

  • মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। 
  • ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। 
  • মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। 

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন: 

  • Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা। 
  • Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা। 
  • Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা। 
  • Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা। 

৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)। 

  • রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন। 
  • হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ